দূর্নীতি এবং সন্ত্রাস [চলচিত্র ও ইয়াহুদীবাদ-২]
০৩ রা আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৩৪
প্রায় আশি বছর আগে, হেনরী ফোর্ড আমেরিকানদেরকে সে দেশে নৈতিক ও আর্থিক দুর্নীতি জনিত বিপর্যয়ের ব্যাপারে সচেতন হবার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমপ্রদায় গুলোর নৈতিক বাঁধন শিথিল করার লক্ষ্যে সুচারুরূপে পরিচালিত পরিকল্পিত তৎপরতার ব্যাপারে আমেরিকাবাসীদেরকে সতর্ক হতে বলে ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ফোর্ড স্বীয় দেশ আমেরিকার অভ্যন-রে ইয়াহুদীদের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক রাজত্ব কায়েমের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চেয়ে ছিলেন। তিনি এটা সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, ইয়াহুদীরা আমেরিকার অর্থনীতি ও রাজনীতিকে লক্ষ্য করে এগুচ্ছে এবং সে জন্য তারা সে দেশের সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ব্যাপক অনুপ্রবেশের ব্যাপারে সচেষ্ট তিনি জানতেন আমেরিকান সিনেমা ইয়াহুদীদের হাতে চলে গিয়েছিল এবং এটাই ছিল ইয়াহুদীদের সর্বাধিক কার্যকর প্রপাগান্ডার মাধ্যম। আমেরিকার সমাজকে তার সনাতন মূল্যবোধের অবস'ান থেকে দূরে সরিয়ে নিতে ইয়াহুদীদের নিরালস চেষ্টার ব্যাপারটি তিনি অনুধাবনে সক্ষম হয়েছিলেন।
তাঁর লেখা অন্যতম বিক্ষ্যাত বই ‘আমার বীবন এবং আমার বড় হবার কাহিনী’ ( মাই লাইফ আ্যান্ড মাই ক্যারিয়ার)। এই গ্রনে' শিল্পপতি ফোর্ড বলেন, “পরিচিত একটি প্রভাবশালী মহল আমেরিকার সমাজ জীবনে দূর্ণীতির প্রসার ঘটানোর কাজে যত্নবান হয়েছে। জনগণ ক্রমশঃ তাদের নৈতিক মূল্যবোধ গুলোর লালন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আমরা আমেরিকান ইয়াহুদীদের অবমূল্যায়ন করি না; কিন' আমেরিকার জনগণের ধর্মবিশ্বাসে নাগা দেয়ার কাজে বিরুদ্ধাচারণ করি।... ”
দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, প্রেসিডেন্ট ফোর্ডের অধিকাংশ আশঙ্কাই আজ সত্যে পরিণত হয়েছে। ইসরাইলীরা ফিলিসি-নী ভুখন্ড জবরদখল করে নিয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে নীতি নির্ধারক মহলে ইসরাইলের রয়েছে দুর্দমনীয় প্রভাব। প্রকৃতপক্ষে আজকের যুক্তরাষ্টষ্ট্র হচ্ছে ইয়াহুদীবাদের শক্তির উৎস। আমেরিকান সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাদের ধর্ম ও সমাজতত্ত্ববিদগণ এই সমাজের ভবিষ্যত নিয়ে পুরোমাত্রায় হতাশ এবং শঙ্কিত। মাত্র চার দশক আগে পাশ্চত্যে গড়ে ওঠে জাজ এবং রক ব্যান্ড নতুন সংগীত ধারা, যার পুরোধা হলেন লভিস প্রিসলি এবং রিংগো স্টারের মত ইয়াহুদী তারকা শিল্পীবৃন্দ। আমেরিকান যুব সমাজের কাছে মাইকেল জ্যাকসনের খ্যাতি, জনপ্রিয়তা ও ভাবমূর্তি সে দেশের শ্রেষ্ঠ চার্চ শুরু ধর্মীয় ব্যক্তিত্ববৃন্দের চেয়েও বেশী। বিগত শতাব্দীর ৬০-এর দশকে বিট্ল্স্ নিজদেরকে খোদার চেয়েও বেশী খ্যাতিমান বলে ভাবতে শুরু করে ( নাউজুবিলাহ)। আর আজ শয়তানের পূজারী এসব ব্যাক্তি খোদার সাথে যেন প্রত্যক্ষ যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছে।
রক সঙ্গীতের শহর হিসাবে খ্যাত ডেট্রিয়টে গেলে ব্যান্ড সঙ্গীতের উন্মাদনায় আসক্ত নতুন প্রজন্মের আমেরিকানদের ক্ষ্যাপাটে আচরণ প্রত্যক্ষ করা যাবে। বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত উন্মত্ততা প্রতিরোধে পিতামাতা বা অন্য সবাই যেন নির্বিকার বা নির্লিপ্ত ও অসহায়।
হলিউডের প্রযোজিত কয়েক দশক পূর্বেকার ছবির সাথে তাদের এখনকার অবমুক্ত ছবিগুলোর তুলনা করলেই বোঝা যাবে যে, নৈতিক জগতে কতটা বিপুলায়তন বিপর্যয় সব কিছুকে গ্র্রাস করেছে। হলিউডের ইয়াহুদীবাদী কর্তৃত্ব কোন কিছুতে শ্রদ্ধাশীল নয় বরং তারা সমাজের অধিকাংশ ইতিবাচক মূল্যবোধের বিরূদ্ধে ঘৃণা ছড়ায়-এমন কি ধর্মীয় বিশ্বাস ও চেতনার বিরুদ্ধেও তারা তৎপর। একসময় অর্থ সম্পদকে পাশ্চাত্য মূল্যবোধের প্রথম উপাদান গণ্য করা হতো, হলিউড এখন এটার মোকাবিলায় অন্য সকল কিছুকে উপেক্ষা করতে শিখিয়েছে। হলিউডের কাছে এখন সেই চলচ্চিত্রই গুরুত্বের দাবীদার যার অর্থ রোজগারের সামর্থ্য বেশী। আর এ জন্য যে ধরণের ছবি প্রয়োজন সেটা হলো দর্শকের দুর্বল চিত্তে চাপ সৃষ্টি করা এবং পশ্চিমা মানুষের চরিত্রের সর্বনিম্ন কদর্য পরিচয়কে ব্যাপকভাবে উপস'াপন করা। হলিউড নিজে অর্থের নেশায় মত্ত তেমনি সে তার দর্শকদেরকেও অর্থলিপ্সু বানিয়ে ছাড়ছে।
ইয়াহুদীবাদের ৮ম প্রটোকলে উল্লেখ রয়েছে, আমাদের উপনিবেশ অর্থনীতিবিদদের দ্বারা সমৃদ্ধ। আর তাই ইয়াহুদীরা অর্থনীতির বিষয়টিকে খুব গুরুত্বের সাথে অধ্যয়নে সক্ষম হয়েছে। আমাদের রয়েছে বিপুল সংখ্যক ব্যাংকার, শিল্পপতি, কোম্পানী মালিক, পুঁজিপতি এবং বিশেষ করে বহু কোটিপতি। বাস-বতার দাবী হলো, সব কিছু নিয়ন্ত্রিত হয় অর্থের অঙ্কের জোরে। উপরের এই কয়েকটি বাক্য খেকেই প্রতীয়মান হয় যে, পুঁজিবাদী ভোগ-প্রবণতা এবং অর্থনৈতিক ধ্যান-ধারণা গড়ে তুলতে চলচ্চিত্র কেন একটি নিয়ামক ভূমিকা পালন করছে।
হলিউড নির্মিত মুভি সমূহের বিরাট অংশ জুড়ে আছে আর একটা মাত্রা নিবিড় ও সাবলীল নিপুণতায় উপস'াপিত সন্ত্রাস। শিশুদের জন্য নির্মিত ছবিগুলোতেও এর অবাধ অনুপ্রবেশ বিদ্যমান। উগ্র ইয়াহুদীবাদী গোষ্ঠী আমাদের শিশুদের ব্যাপারেও কোন বাছ-বিচারের ধার ধারে না।
বেশীর ভাগ সন্ত্রাস সম্পৃক্ত চলচ্চিত্রই রাজনৈতিক পটভুমিকে ভিত্তি করে নির্মিত হয়ে থাকে এবং একটি সূক্ষ্ম প্রচারণা কৌমল অনুসরণ করে। যেমন, ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ শীর্ষক ছবিতে একজন ইয়াহুদী অভিনেতা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে অভিনয় করেছেন। একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ বিমান ছিনতাই করে অন্যান্য যাত্রীদের সাথে প্রেসিডেন্টের পরিবারকেও জিম্মী করে ফেলে। প্রেসিডেন্ট নিজেকে বাঁচানোর সুযোগ পেয়েও সন্ত্রাসীদেরকে পরাজিত করার মানসে সেখানে থেকে গেলেন। ছবির শেষ দর্শকরা আমেরিকার প্রেসিডেন্টের অকুন্ঠ প্রশংসায় মেতে উঠলেন যেন তিনিই হলেন আধুনিক বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা। অপর একটি ছবিতে দেখানো হয়েছে যে, একদল মুসলিম সন্ত্রাসী আমেরিকান এয়ারলাইন্স-এর একটি বিমান ছিনতাই পূর্বক বিমানটিতে একটি পারমাণবিক বোমা স'াপন করে সেটা নিয়ে আমেরিকার উদ্দেশে অগ্রসর হচ্ছে আমেরিকার সরকারকে ধ্বংস করে দেয়ার উদ্দেশ্যে। সন্ত্রাসীরা বিমানের যাত্রীদের সাথে অত্যন- রূঢ় ও আক্রমণাত্মক আচরণে লিপ্ত। যাত্রীদের আকুতি-মিনতির প্রতি কোন উদারতা তো নয়ই অধিকন- তুচ্ছ কারণেও বুলেট ব্যবহার করা হচ্ছে নিরীহ যাত্রীদের ওপর। মানবদরদী আমেরিকান রাজনীতিবিদগণ বিমান ও যাত্রীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হলেন। সতর্কতার সাথে বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত কমান্ডো বাহিনীকে বিমানে প্রেরণ করা হলো। এই বাহিনীর নেতৃত্বে অভিনয় করেন দু’জন বিখ্যাত ইয়াহুদী অভিনেতা। কমান্ডো বাহিনী ঝটিকা আক্রমণ চালিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনীকে কাবু করে ফেলে এবং বোমাটিকে নিস্ক্রিয় করে দিকে সক্ষম হয়। মুসলিম ছিনতাইকারীরা নিহত হয় এবং বিমানের নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করা হয়। দর্শকদের মনে যা গেঁথে থাকলো সেটা হলো আমেরিকানদের সন্ত্রাসবিরোধী মানবিক ভূমিকা এবং কমান্ডো বাহিনীর বীরত্বপূর্ন কর্মকান্ড। আজকাল পারিবারিক বিনোদন ও শিশু-কিশোরদের বিনোদন সূচক কর্মসূচীতেও যৌনতা, সন্ত্রাস এবং অর্থলিপ্সা প্রতিফলিত হচ্ছে। অবস'াদৃষ্টে প্রতীয়মান হয় যে, নৈতিকতার প্রশ্নে হলিউড স্টুডিও গুলোর যেন কোন রকমের দায়বদ্ধতা নেই বরং তারা যেন সকল প্রকার অনৈতিকতার বিশ্বায়ন কর্মসূচী বাস-বায়নে ব্রতী হয়েছে।
এভাবে আনর্-জাতিক ইয়াহুদীবাদ মানুষের ত্রৈয়ী শক্তি যৌন কামনা, সন্ত্রাস এবং কল্পনা বিলাসকে প্ররোচিত করে বিশ্বব্যাপী অনৈতিকতা, শোষণ, অর্থলিপ্সা, সন্ত্রাস ইত্যাদিকে উস্কে দিচ্ছে এবং এসবের মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট রয়েছে।
অবশেষে ২১ শতাব্দীতে এসে এই চক্রান- চূড়ান- পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। প্রায় এক শতাব্দী পূর্বেকার ইয়াহুদীবাদী প্রটোকলকে বিশ্লেষণ করলে সহজেই এই উপসংহারে উপণীত হওয়া যায় যে, আজকের বিশ্বে মানুষও সভ্যতা যে সীমাবদ্ধতা ও বিপর্যয়ের সম্মুখীন তা মূলতঃ ইয়াহুদী তাত্ত্বিকদের পরিকল্পনার ফসল।
যাই হোক, মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে জাগৃতি আসছে এবং তাদের নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করে সুন্দর ভবিষ্যত বিনির্মাণে মনোযোগী হতে শুরু করেছে।
চলচিত্র ও ইয়াহুদীবাদ-১ Click This Link
নার্ভাস নাইনটিজ বলেছেন:
ঘোষণাসহকারে মাইনাস।
লেখক বলেছেন: বিষয়টি কি পড়েছেন ? এখানে কি বলতে চাওযা হয়েছে তা বুঝতে পেরেছেন ?
ধন্যবাদ
উলুবনে মুক্তো দিতে এসেছেন.. ওই যে ঘোষনা শুরু হয়ে গেছে..
হা হা হা ...
এরা কি নব্য ইয়াহুদী অনুচর.. না বোকা সমর্থক যারা না বুঝেই আত্মহত্যায় মগ্ন.. অজানিতেই..
++
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
শিট সুজি বলেছেন:
আফসোস ! প্রেসিডেন্ট ফোর্ড কালে কালে আসে না।আমেরিকার সম্ভ্যাব্য প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সকল ধর্মের প্রতি সহনশীল বলে নিজেকে দাবী করেও কোন ইসলামী নেতাদের সাথে সাক্ষাতকার করেন নি অথচ জেরুজালেমর সিংহাসন কুর্ণিশ করে এসেছেন । তিনি ফিলিস্তিনে ছিলেন মাত্র কয়েক ঘন্টা । এবং ইসরাইল কে আরো নিরাপদ করার জন্য যা যা দরকার করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সকল স্তর ইহুদী বলয়ের নিয়ন্ত্রনে । আপনার পোষ্ট ভাল লেগেছে ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

















.jpg)
