আমার প্রিয় পোস্ট

একটি রক্তাক্ত ভুখন্ডের লাল ইতিহাস[/sb -[৩]

১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:৫৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

এক ও দুই নম্বর দেখুন বিংশ শতাব্দীতে বায়তুল মুকাদ্দাস ও ফিলিস্তিন


শিল্প বিপ্লবের পর দিন দিন ইউরোপের চেহারা দ্রুত বদলে যেতে থাকে। ইউরোপীয়রা জ্ঞান্তবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলমানদের ছাড়িয়ে যায়। এ সময় ইসলামী জাহান দীর্ঘ অজ্ঞতার ঘুমে নিম্মজিত হয়। কিন্তু শিল্প বিপ্লবের ফলে ইউরোপ বিপুল পরিমান উৎপাদন ও পণ্য সামগ্রী দিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজার ছেয়ে ফেলে। এরপর তাদের বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত পণ্য গুদামে গুদামে পড়ে থাকে। এসব পণ্য সামগ্রী বিক্রি ও প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানীর জন্য বিদেশী বাজারে আবশ্যকতা দেখা দেয়। তখন থেকেই উপনিবেশবাদী যুগের সূচনা ঘটে এবং ইউরোপীয় উপনিবেশবাদীরা বাইরের জগতের বাজার দখলের জন্যে লড়াই শুরু করে।
ইসরাইল সরকার প্রতিষ্ঠার পটভূমি এবং ফিলিস্তিনী ও আরবদের প্রতিক্রিয়া
ঊনবিংশ শতকের শেষদিকে ফিলিস্থিনে কতিপয় বিদ্রোহ দেখা দেয়। এ যাবত উসমানীদের সমর্থক বৃটেন তার নীতি বদলায় এবং বিদ্রোহীদের প্রতি সমর্থন দান করে। কেননা সে সময় বৃটেনের গুরুত্বপূর্ণ উপনিবেশ এবং বৃটেনের শক্তি ও সম্পদের উৎস ছিল ভারতবর্ষ। তাই ভারতবর্ষকে নিজ হাতে রাখার লক্ষ্যে বৃটেন এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তার আধিপত্য সংরক্ষণ করে এবং দুই ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে ভারতে হামলা ঠেকানোর জন্য সুয়েজ খালের উপর দখল প্রতিষ্ঠা করা জরুরী হয়ে পড়ে। ঐ সময় সুয়েজ খাল উসমানীদের হাতে ছিল।
বৃটিশ সরকার আরবদেরকে তুর্কী উসমানীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার উস্কানি দিতে থাকে। যেমন মক্কায় আমীর হিসাবে উসমানীদের প্রতিনিধি ছিল শরীফ হুসাইন। সে খুবই ক্ষমতালিপ্সু ছিল। ইংরেজরা তাকে উস্কানি দিয়ে উসমানীদের থেকে আলাদা করে। ১৯১৬ খৃস্টাব্দে (১৩৩৪ হিঃ) ইউরোপের তিন প্রধান শক্তি রাশিয়া, ফ্রান্স ও বৃটেনের মধ্যে ‘‘সাইকস-পাইকো’’ ও ‘‘সাজোনোভ’’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির কথা ছিল উসমানী সাম্রাজ্যের যেসব এলাকা বিচ্ছিন্ন করা হবে সে সবকে এ তিন শক্তির ভেতর সমানভাবে বন্টন করে দিতে হবে। কিন্তু কিছুকাল পর বৃটেন এই চুক্তিকে সুয়েজ খালে স্বীয় আধিপত্যের বিরোধী হিসাবে দেখতে পায়। তাই ১৯১৭ সনে রাশিয়ার দুর্বলতা ও সেখানে সংঘটিত বিপ্লবের সুযোগ নিয়ে বৃটেন চুক্তি মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ফিলিসি-কে নিজের তত্ত্বাবধানে গ্রহণ করে নেয়।
এসব পদক্ষেপ এমনি এক অবস্থায় গৃহীত হয় যখন উসমানী সাম্রাজ্যকে ছত্রভঙ্গ ও দুর্বল করার পথ হিসাবে সাম্রাজ্যবাদী বৃটেনের পক্ষ থেকে তীব্রভাবে জাতীয়তাবাদী চিন্তা প্রচলন ও শক্তিশালী করা হয়। ফলে বেশীর ভাগ ইসলামী দেশেই ক্রমশ জাতীয়তাবাদী চিন্তা দর্শন ইসলামী ঐতিহ্য ও আদর্শের স্থান দখল করে নেয়। আর এ জাতীয়তাবাদই তৎকালীন উপনিবেশবাদীদের নেতা বৃটেনের উপনিবেশবাদী নীতি অবস্থানের স্বার্থ মেটানোর মূল হাতিয়ারে পরিণত হয়। ফলে অনৈক্য সৃষ্টি এবং ইসলামী দেশসমূহ, বিশেষ করে উসমানী সাম্রাজ্যকে ভেঙ্গে তছনছ করার সামপ্রদায়িক ও বর্ণবাদী আন্দোলনসমূহের জন্ম হয়।
অথচ ঠিক এমনি সময় বৃটেনে বিশ্বের ইয়াহুদী জাতির ঐক্যের কুহেলিকাপূর্ণ আহবানের সূত্রপাত ঘটে যা কিনা ঐতিহাসিকভাবে ছিলো অসঙ্গতি পূর্ণ ও ভিত্তিহীন। বৃটিশ সরকার ইয়াহুদী বর্ণবাদী জাতীয়তার প্রচারণা শুরু করে। এতে করে কিছু সংখ্যক ইয়াহুদী একটি একক ইয়াহুদী জাতির চিন্তা ও তাদের জন্য একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার তৎপরতা শুরু করে। আর এহেন অপতৎপরতার প্রতি সাংঘাতিক শক্তি ও মদদ যোগায় বৃটিশ সরকার।
ওই ইয়াহুদী গোষ্ঠীটি ধনাট্য ইয়াহুদীদের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য সংগ্রহ শুরু করে দেয় এবং নিজেদের লক্ষ্য হাসিলের জন্য একটি দল গঠন করে। এরা ফিলিস্তিনের একটি পাহাড়ের নামে দেশটির নাম রাখে যায়ন (ুরড়হ)। এ যায়ন পাহাড়ের উপরই রয়েছে হযরত দাউদ ও হযরত সুলায়মান আলাইহিমুস সালামসহ বনি ইসরাইলের অনেক নবীর মাজার। ঊনবিংশ শতকের শেষ দিকে (১৮৯২-১৮৯৮ খৃঃ) জাতীয়তাবাদী ইয়াহুদীরা বিভিন্ন দেশের ইয়াহুদীদের ফিলিস্থিনে গমন ও অভিভাসন দানে তৎপরত হয়ে ওঠে। তবে ইয়াহুদী আলেমরা এ তৎপরতার হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যাবলী এবং উপনিবেশবাদীদের সাথে এ তৎপরতার যোগসূত্র আবিস্কার করতে পেরে বিরোধিতা করায় এ যায়নবাদী আন্দোলন ব্যর্থ হয়ে যায়। কিন্তু বিশ শতকের প্রথমদিকে ফিলিস্তিনের ওপর বৃটিশ উপনিবেশবাদীদের প্রভুত্বের সুযোগে বিশ্ব জুড়ে ইয়াহুদীদের সাথে বিরোধিতা ও এদের নিপীড়নের সমাধান হিসাবে সামনে একটি ইয়াহুদী রাস্ট্র প্রতিষ্ঠার ধুয়া তোলা হয়। কেননা যায়নবাদের লক্ষ্যই ছিল প্রাচীন ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস-বায়ন করা। বৃটেনও এ সময় এলাকাতে তার আধিপত্য অব্যাহত রাখার জন্য একটি ঘাটির অভাব বোধ করছিল।
যায়ন পার্টি এ পরিকল্পনার ব্যাপারে অন্যান্য ইয়াহুদী সংস্থার বিরোধিতার সম্মুখীন হলেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে বসেছিল যারা বিরুদ্ধবাদী ওসব সংস্থার মুকাবিলা শুরু করে। এ দলটি প্রথম মহাযুদ্ধের সময় বৃটেন ও আমেরিকার কাছ থেকে এ প্রতিশ্রুতি আদায় করে যে, যুদ্ধ শেষে জার্মানীর মিত্র উসমানী সরকারের পরাজয় ঘটলে ফিলিস্তিনকে ইয়াহুদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। কেননা প্রথম যুদ্ধের আগ পর্যন্ত বায়তুল মুকাদ্দাস সরকারীভাবে উসমানীদের হাতে ছিল। যায়নবাদীদের চেষ্টা ফলবতী হলো এবং এরা বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড বেলফোরের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। এরা আমেরিকাতে সেদেশের ব্যক্তিত্ববর্গের মনোযোগ আদায় করতে সক্ষম হয়।
শেষ পর্যন্ত ১৯১৭ খৃস্টাব্দে ফিলিস্তিন ভূখন্ডে ‘‘ইয়াহুদী জাতির কেন্দ্র’’ স্থাপনের বিষয়টি বৃটিশ মন্ত্রিসভায় স্থান পায়। ইংরেজদের অনুচর এবং মক্কা শরীফের গর্ভনর শরীফ হুসাইন এ ব্যাপারে বৃটিশ সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবী করেন। বৃটিশ সরকারও জবাব দেয়, ফিলিস্থিনে ইয়াহুদীদের প্রত্যাগমনের সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনী জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার সাথে বিরোধপূর্ণ নয়। এ জবাবে ইসরাইল সরকার গঠনের কোন কথাই ওঠেনি। যুদ্ধের শেষ দিকে যায়নবাদী সংগঠনের অনুচরবাহিনী ফিলিস্তিনের কিছু অংশ দখল করে নিলে আরবদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর আগে থেকেই ফিলিস্থিনে ছোট ছোট গ্রুপে কলোনীবাসী হিসাবে ইয়াহুদীদের বসবাস করার সুযোগ দেয়া হয়। এরা স্থানীয় আরবদের কাছ থেকে ভূমি কেনা শুরু করে ও ইয়াহুদী কৃষি খামারের পত্তন ঘটায়।
১৯২০ সালে মিত্র শক্তি ও আন্তর্জাতিক সমাজ ফিলিস্তিনের অভিভাবকত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃটিশ সরকারের হাতে ছেড়ে দেয় এবং সেখানে ইয়াহুদী জাতীয় কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে বেলফোর ঘোষণা বাস-বায়নে সহায়তা করার দায়িত্ব অর্পণ করে। সে সময় ফিলিস্থিনে মাত্র পঞ্চাশ হাজার ইয়াহুদী ছিল। কিন্তু ইংরেজরা ফিলিস্তিনের শাসনভার একজন ইয়াহুদীর হাতে অর্পণ করায় তাঁর সরকারের অধীনে সেখানে ইয়াহুদীদের আগমনের দরজা খুলে যায়। কিছুকালের মধ্যেই ইয়াহুদীদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তা আরবদের বিরোধিতা ও বিদ্রোহের কারণ ঘটায়। বৃটিশ উপনিবেশ মন্ত্রী চার্চিল তখন বিদ্রোহ ঠেকানোর জন্যে ঘোষণা দেন যে, সমগ্র ফিলিস্তিনকে একটি ইয়াহুদী দেশে পরিণত করার ইচ্ছা বৃটেনের নেই। আর ইয়াহুদী জাতীয় কেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজন অনুপাতে এবং ফিলিস্তিনের অর্থনৈতিক শক্তির আওতায়ই কেবল ইয়াহুদী অভিভাসন অব্যাহত থাকবে।
ইংরেজদের সহায়তায় অতি দ্রুত ফিলিস্থিনে ইয়াহুদীদের বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, এমন কি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন তৈরী হতে থাকে। সারা বিশ্বের ইয়াহুদী পুঁজিপতিরা এদের আর্থিক সাহায্য দিতে থাকে। সে সময় আরবরা ছিল ছত্রভঙ্গ, অসংহত ও বিচ্ছিন্ন। কেবল শ্লোগান ব্যতীত এরা ফিলিস্তিনীদের কোন সাহায্যই করেনি। ফিলিস্তিনের আরব ও খৃস্টান জনতা পারস্পরিক বিভেদ ভুলে গিয়ে অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হলো। ১৯২৯ সালের গ্রীস্মকালে একপক্ষে ফিলিস্তিনের আরব ও খৃস্টান জনতা এবং অন্যপক্ষে ইয়াহুদী মুজাহিরদের মাঝে প্রথম রক্তাক্ত সংঘর্ষ বাঁধে। ইয়াহুদী যায়নবাদীরা ও ইংরেজ সৈন্যরা মিলে ফিলিস্তিনের দিকে গুলী বর্ষণ করলে প্রায় ৩৫১ জন ফিলিস্তিনী শাহাদত বরণ করে এবং কিছু সংখ্যক আহত ও বন্দী হয়। এক প্রহসনমূলক বিচারে একদল ফিলিস্তিনীকে আজীবন কারাদন্ড কিংবা ফাঁসি দেয়া হয়। বিশের দশকের শেষ দিক থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত সময়ে শেখ ইযযাদ্দিন কাসসামের সশস্ত্র অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। তিনি বৃটিশ ও ইয়াহুদী বর্ণবাদী সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ও তাঁর বেশীর ভাগ সাথী শাহাদত বরণ করেন ও অবশিষ্টরা কারারুদ্ধ হন।
১৯৩৭ সালে আব্দুল কাদের হুসাইনী সংগ্রামের নেতৃত্ব হাতে নেন। তিনি বহু যুদ্ধের পর শেষ পর্যন্ত সঙ্গীসাথীসহ শাহাদত বরণ করেন। ১৯৪৪ সালে হাসান সালামা বৃটিশ ও যায়নবাদী যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের নেতৃত্ব দান করেন এবং কিছুকাল পর তিনি শাহাদত বরণ করেন। চল্লিশের দশক থেকে ফিলিস্তিন ইস্যু একটি আরব ইস্যুতে পরিণত হয় এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াদির শীর্ষে স্থান লাভ করে। এ ধরনের একের পর এক সংগ্রাম ও আরবদের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মুখে বৃটিশ সরকার বেপরোয়া ইয়াহুদী অভিভাসন সীমিত করতে বাধ্য হলে তা যায়নবাদীদের তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হয়। ইয়াহুদী বর্ণবাদীরা এমন কি সন্ত্রাসবাদী কাজেও হাত দেয়।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়ে ফিলিস্থিনে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে। কিন্তু ১৯৪৮ সনের ১৪ই মে তারিখে বৃটিশ সরকার ফিলিস্থিনে তার অভিভাবকত্বের অসান ঘটিয়ে সৈন্যদের বের করে নিলে সেদিনই তেলআবীব শহরে ইয়াহুদী জাতীয় পরিষদ গঠিত হয় এবং ইসরাইল নামক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা দেয়। পূর্ব যোগাযোগ অনুসারে এর কয়েক ঘন্টা পরই আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান নয়া ইসরাইল সরকারকে স্বীকৃতি দান করে। ইংরেজরাও সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় তাদের যাবতীয় সাজসরঞ্জাম ইয়াহুদী যায়নবাদীদের হাতে তুলে দেয়। তখন থেকেই ফিলিস্তিনের ব্যাপারে জাতিসংঘ হস-ক্ষেপ শুরু করে। ফলে ফিলিসি-নিদের উপর ইয়াহুদীদের আগ্রাসন ঠেকানোর যাবতীয় প্রচেষ্টা নিস্ফল হয়।
দখলদার যায়নবাদী একের পর এক ফিলিস্তিনী শহর, গঞ্জ ও গ্রাম দখল এবং নিরস্ত্র অসহায় ফিলিস্তিনীদের ঘরবাড়ী থেকে উচ্ছেদ করা শুরু করে। দরিদ্র অসহায় ফিলিস্তিনী মুসলমানরা যায়নবাদীদের বাঁধা দিলে এই হায়েনার দল ১৯৪৮ সনের এপ্রিল মাসে দেইর ইয়াসিন ও কাফার কাসেম গ্রামে গণহত্যার তান্ডবলীলা চালায়। এতে নিরাশ্রয়ী বাস'হারা ফিলিস্তিনীদের ভেতর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং এরা প্রাণের ভয়ে জর্দান সীমানে-র ওপাড়ে পালিয়ে যায়। সে সময় আরবদেশগুলোর সৈন্য বাহিনী ময়দানে নামে। কিন্তু ইসরাইল, ইউরোপ ও আমেরিকার সরাসরি সমর্থন পেয়ে এবং সেখান থেকে বিরামহীনভাবে জঙ্গী বিমান ও সমরাষ্ট্র লাভ করে আরবদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
এ যুদ্ধে দশ লাখের অধিক আরব ফিলিস্তিনী বাস'হারা হয়। জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে তখন আরব ও ইয়াহুদী অঞ্চলে ভাগ করে দেয় এবং জেরুজালেমকে সরাসরি আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। কিন্তু ইসরাইল এ পরিকল্পনা মানেনি। অন্যদিকে ফিলিস্তিনীদের মাঝে বিভিন্ন গেরিলা গ্রুপ ও সংগঠন জন্ম নেয়। এরা ফিলিস্তিনীদের ন্যায়সঙ্গত স্বাভাবিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য গেরিলা যুদ্ধে নামে। ১৯৬৪ সালের ২৮ শে মে আল কুদস শহরে (বায়তুল মুকাদ্দাস) ফিলিস্তিন কংগ্রেস বসে এবং ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থায় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়া হয়। সাথে সাথে ফিলিস্তিন মুক্তিবাহিনীও গঠিত হয়। ফলে সংগ্রাম এক নয়া মোড় গ্রহন করে। এরপর থেকে হাজার হাজার ফিলিস্তিনী স্বদেশের মুক্তির পথে শাহাদত বরণ করতে থাকে। উল্লেখ করা আবশ্যক যে, তখনো পর্যন্ত বেপরোয়া ও বিরামহীন ইয়াহুদী আগমন ও অভিভাসন সত্ত্বেও আরব ও মুসলমানদের তুলনায় ইয়াহুদীরা ছিলো সংখ্যালঘু।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ফিলিস্তিন/ইসলাম ;

 

  • ৮ টি মন্তব্য
  • ১১৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ৪ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:৫৬
comment by: বুলবুল আহমেদ পান্না বলেছেন: 'জাগারণ' মানে কি?
১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:০৩

লেখক বলেছেন: একটু চিন্তা করুন পেয়ে যােবন।ধন্যবাদ

২. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৪২
comment by: হুদাই বলেছেন: "১৯৭১ :: বাংলাদেশের রক্তাক্ত ইতিহাস" এই শিরোনামে একটা লেখা দেন
১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:২০

লেখক বলেছেন: অবশ্যই আমার সোনার বাংলার ইতিহাস দেয়া হবে অপেক্ষা করুন। ধন্যবাদ

৩. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৯
comment by: ফয়সাল খালিদ বলেছেন: ধন্যবাদ, তথ্যবহুল লেখা। আপনি কোথায় পড়াশোনা করছেন ?
১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:২৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:০৪
comment by: প্রবাস কন্ঠ বলেছেন: আমাদের একটা দোষ হইয়া গেছে, কিছু না পারলে ইয়াহুদী ও খ্রীস্টানদের উপর দোষ চাপাইয়া দেই।

ইরাক ও আফগানিস্থানে যে মার্কিনীরা হামলা করল এর জন্য দায়ী কে ?

তখনতো আরব নেতারাই মার্কিনীদের আহালান সাহালান জানিয়েছিল, তাই নয় কি ?

সূতরাং অন্যদের দোষারোপ না করে আরবদের ভালো হতে বলুন।
২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৩২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

 



 


আমি সুস্থবুদ্ধি র্চচা করেত ভালবাসি। আর যারা যুক্তিভিত্তিক মানুষ এবং অপযুক্তির আশ্রয় নেন না তাদেরকে আমি অন্তর দিয়ে ভালোবাসি, তারা...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ১৯৮১৪