একটি রক্তাক্ত ভুখন্ডের লাল ইতিহাস -৫
২৭ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:১৬
ইসলামী জাগরণেরই আকারে অংশ ইন্তিফাদা
১৯৮৭ সালে এপ্রিলে আম্মানে আরব শীর্ষ সম্মেলন বসে এবং নজীর-বিহীনভাবে এ সম্মেলন যায়নবাদী সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালানোর ক্ষেত্রে ন্যূনতম নীতি-অবস্থানও গ্রহণ করেনি। সম্মেলনের সকল মনোযোগই নিবদ্ধ ছিল ইরান ও ইরাকের যুদ্ধের দিকে এবং সামগ্রিকভাবে এ সম্মেলন ক্যাম্প ডেভিড লাইন ধরে এগিয়ে যায়।এদিকে ফিলিস্তিনী জাতি বছরের পর বছর অপেক্ষা করছিল যে, আরব জগত তাদেরকে বাস'হারা অবস্থা থেকে নাজাত দেবে । বিশেষত অধিকৃত ফিলিস্থিনে বসবাসরত ফিলিস্তিনী জনগণ তাকিয়ে ছিল আরব সরকারগুলোর দিকে।
এই মজলুম জাতি ফিলিস্তিনী দল,গ্রুপ ও সংগঠনগুলোর আত্মবিস্মৃতি, ভোগ বিলাস, বিভেদ, অনৈক্য ও দল ভাঙ্গাভাঙ্গির পরিপ্রেক্ষিতে এবং ফিলিস্তিনী জনতার দুর্দশাগ্রস্থ অবস্থার প্রতি আরব সরকারগুলোর প্রকাশ্য উদাসীনতা ও অবহেলা প্রত্যক্ষ করে আরব জাতীয়তাবাদী চিন্তাদর্শনের কার্যকারিতা এবং সরকারগুলোর পৃষ্ঠাপোষকতা ও সর্মথন সম্পর্কে একেবারে সকল আশা-ভরসার অবসান ঘটায়। অন্যদিকে ইসলামের উপর আশা-ভরসা স্থাপন ও আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে ওঠে, বিশেষত ইরানে ইসলামী বিপ্লবের বিজয় থেকে তারা শিক্ষা গ্রহন করে।
আর এ ঠিক এসময়ই মক্কা শরীফে বায়তুল্লাহ আল হারামের মেহমান ইরানী হাজীদের পাইকারী হারে হত্যা করে সউদী শাসকগোষ্ঠী। এ রক্তাক্ত পাশবিক ঘটনায় চার শতাধিক হাজী মুশরিকদের সাথে বারায়াত ঘোষণা (সম্পর্কচ্ছেদের) এবং আমেরিকা ও ইসরাইল মুর্দাবাদ শ্লোগান দানের অপরাধে শাহাদত বরণ করেন। এদের ভেতর প্রায় দশজনের মতো হাজী ছিলেন অধিকৃত অঞ্চলের ফিলিস্তিনী। এই শহীদের জানাযা মিছিল ও শোকানুষ্ঠান অধিকৃত ফিলিস্তিনের রামাল্লাহ ও আলখলিল শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। এ সমস- ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৭ সালের হেমন্তকালে অধিকৃত ফিলিস্তিনের অধিবাসীরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে সংগ্রামের নয়া ধারা ও গণঅভ্যুাত্থানের সূচনা ঘটায় -যার নাম দেয়া হয় ইন্তিফাদা। ইন্তিফাদার অর্থ নাড়া দেয়া, নড়ে ওঠা, ঝাঁকুনি দেয়া। পাখীরা যেমন গোসল সেরে ভেজা শরীররটাকে হালকা করা ও আকাশে ওড়ার জন্য পাখা ঝাঁপটায় তেমনি এ ধরণের নাড়াকে বলে ইন্তিফাদা । ইন্তিফাদা ভেজালকে দূর করে খাঁটি হওয়ার গণঅভ্যুত্থান যাতে বিজয়ের আকাশপানে জনগণ পাখা মেলতে পারে। ইন্তিফাদার আগপর্যন্ত সকল আন্দোলন ও অভ্যুত্থানই ছিল বিশেষ কোন দল বা গ্রুপের সাথে সংশ্লিষ্ট । যেমন ‘ফাতাহ’ আন্দোলন’ যা ১৯৮৩ সালের মে মাসে আরাফাতের নেতৃত্বোধীন আল্ ফাতাহ থেকে আলাদা হয়ে যায় । কিন্তু এবার (১৯৮৭) এই ইন্তিফাদার আগে বা পরে কোন বিশেষণ যুক্ত হয়নি। এই ইন্তিফাদা আন্দোলন ছিল গণপ্রতিবাদ বা গণঅভ্যুত্থান । ফিলিস্তিন দখলদারী অব্যাহত রাখার প্রতিবাদ এই ইন্তিফাদার লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও ফলাফল হচ্ছে এরূপ ঃ
১. বিস্মৃতির আঁস্তাকুড় থেকে ফিলিস্তিন ইস্যুকে বের করা।
২. বিশ্ব জনমতের দৃষ্টি আকর্ষণ।
৩. এলাকাব্যাপী ইসলামী আন্দোলনের উত্তাল তরঙ্গের সাথে ইন্তিফাদাকে সমম্বিত করা যা ইন্তিফাদার চেহারাই সবিশেষ রূপ দান করে।
৪. ফিসি-ন সমস্যা সমাধানকে জরুরী পরিকল্পনা হিসাবে উপস্থান।
৫. ফিলিস্তিন ইস্যুর সাথে পশ্চিম ইউরোপকে ঘনিষ্ঠ করা।
৬. এমন কি আমেরিকা ও ইয়াহুদীদের মনেও ইসরাইলের রাজনৈতিক সঠিকতা সম্পর্কে সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি করা। এর ফলে অনেক ইয়াহুদী এ মতে বিশ্বাসী হয় যে, ইসরাইলের চেহারাকে আরো নিন্দনীয় (গণআন্দোলন ও যায়নবাদী সৈন্যদের গণনির্যাতন ও দমনাভিযান) হওয়া থেকে ফিরিয়ে রাখতে হলে ফিলিস্তিনীদের কিছু সুযোগ -সুবিধা দেয়া আবশ্যক।
৭. যায়নবাদীদের অস্তিত্বের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে হুমকিপূর্ণ করা।
৮. ফিলিস্তিনীগ্রুপগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মতভেদকে ম্লান করে দেয়া এবং সরকারগুলো ও আন্তর্জাতিক সমাজকে জনমতের অনুসারী করা -যারা এতোদিন নিজ নিজ স্বার্থে ফিলিস্তিন ইস্যুকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে আসছিল। ফিলিস্তিন জবর দখল এবং যায়নবাদী ইয়াহুদী সরকার প্রতিষ্ঠার চল্লিশ বছরেরও বেশী পর ইন্তিফাদার ফলে এই প্রথম ফিলিস্তিনী জনগন আক্রমণাত্মক ও ইসরাইলীরা আত্মরক্ষামূলক ভূমিকায় নামে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): পিলিস্তিন/ ইসলাম ;
লালন অনিক বলেছেন:
অশেষ ধন্যবাদ....ইন্তিফদার ব্যপারটা পরিষ্কার করে দেয়ার জন্য
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

















.jpg)
