somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... পরিবর্তনের শ্লোগান থেকে ওবামা ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছেন ২ ডিসেম্বর: নব নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদে যেসব ব্যক্তির নাম ঘোষণা করেছেন তা থেকে নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি পরিবর্তনের যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়িত না হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। বারাক ওবামা শিকাগোতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিচারমন্ত্রী, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও জাতিসঙ্ঘে মার্কিন দূতের নাম ঘোষণা করেছেন। সিনেট যদি অনুমোদন দেয় তাহলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে হিলারি ক্লিন্টন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রী জানিত নাপোলিতানো, বিচারমন্ত্রী এরিক হোল্ড, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেমস জন্স ও জাতিসঙ্ঘে মার্কিন দূত হিসাবে সুযান রাইসকে নিয়োগ দেয়া হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন মন্ত্রীসভায় রিপাবলিকান দলের রবার্ট গেসকে নিয়োগ দেয়া থেকে বোঝা যায় ওবামা তার মন্ত্রীসভায় বিরোধীদেরকেও জায়গা করে দিয়েছে। ওবামা নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যদি ক্ষমতায় যেতে পারেন তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নয়া যুগের সূচনা হবে। তাছাড়া তিনি ইরাক যুদ্ধের নিন্দা করার পাশাপাশি হিলারী ক্লিন্টনের নীতিরও ভর্তসনা করেছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় যুদ্ধের বিরোধীতা করার কারণেই ওবামা জয়ী হয়েছিলেন এবং সে সময় যদি ইরাক যুদ্ধের সমর্থক হিলারী ক্লিন্টন বিজয়ী হতেন তাহলে প্রমাণিত হত মার্কিনীরা যাদ্ধ চায়। অথচ এখন ওবামার কার্যকলাপ দেখে মনে হয় তিনি নির্বাচনের সময় ইরাক যুদ্ধের বিরুদ্ধে যেসব কথা বলতেন তা মেমালুম ভুলে গেছেন এবং হিলারীকে তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন সহযোগি হিসাবে মনোনিত করেছেন। এ কারণে নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে ওবামা তার প্রতিশ্রুতি থেকে অনেকটাই সরে এসেছেন বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। তবে হিলারী ক্লিন্টন তার স্বামী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের মত রক্ষণশীল হিসাবে পরিচিত নন এবং এজন্য হিলারীকে রক্ষণশীলদের থেকে আলাদা মনে করেন অনেকে। কিন্তু ওবামা সম্প্রতি বহুবার বলেছেন, হিলারীর এ অবস্থান বজায় থাকলে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হবে। ইরাক যুদ্ধের ব্যাপারে ওবামার সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে বোঝা যায় যুদ্ধ পরিচালনার বিষয়টি তিনি রিপাবলিকানদের হাতেই ছেড়ে দিবেন।
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28877679 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28877679 2008-12-03 14:10:52
আমাদের সর্তক হওয়া উচিত মুলত: এই সন্ত্রাসী ঘটনা থেকে কারা লাভবান হচ্ছেন ? সন্ত্রাসী যেই হোক না কেন নিশ্চয় তাদের লাভের জন্য একাজ ঘটিয়েছে। আজো টুইন টাওয়ারের সন্ত্রাসী ঘটনার তদন্ত ও তার ফলাফল বিশ্বজনের সম্মুখে উপস্থান করা হয়নি । কেন হয়নি ?
কিছু দিন আগে পাকিস্থানে একটি সন্ত্রাসী হামলায় হোটেল জ্বালিয়ে দেয়া হল। এ ঘটনায় যে বিষ্ফোড়ক ব্যবহার করা হয়েছিল তা একটি তাদের অভ্যন্তরিন সন্ত্রাসী দলগুলোর দ্বারা সম্ভব নয় বলে তারা জানিয়েছিল। তাহলে কারা এঘটনা গুলো ঘটাচ্ছে?
পাশ্চাত্য সমাজই বিশেষ করে আমেরিকা ও বৃটেন এই বা তাদের জোটেরা এসব ঘটনা থেকে বেশী লাভবান হচ্ছে। তার কারণ হল আগামী দশেক বিশ্বের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসাবে ভারত ও চীন উঠে দাঁড়াচ্ছে। তারা এটা কখেনাই সহ্য করতেই পারেছ না যে আগামী বিশ্ব এশিয়ানেদর হাতে যাক।
তােদর এ পতন থেকে মাথা উচু করে দঁাড়ানোর তাগিদে তারা এশিয়ার দেশগুলোতে নাশকতা মুলক কর্মকান্ড ঘটােচ্ছ। আর দু'চারজন পাকিস্থানী ও ভখারতীয় নাগরীক ভাড়া করা তো কোন ব্যাপারই না। অন্য বর্তমান ফিলিস্থিনে তাদের নোংড়া হত্যাযজ্ঞকে ঢেকে রাখা পাশাপাশি এশিয়া মহাদেশের উন্নয়নমুখী যাত্রাকে তছনছ করার জন্য তারা পরিকিল্পত ভাবে একাজ করছে। আর এ সমস্ত কাজের মাধ্যমে তারা তাদের মিথ্যা শ্লোগান সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে এই সমস্ত দেশগুলোকে শরিক করাতে চাচ্ছে।
তাদের সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে শরিক হলে আজ পাকিস্থানের যে অবস্থা তাদের ভাগ্যেও তাই হবে।
সবশেষ কথা হল আমাদের সোনার দেশকে এখন থেকেই সর্তক হতে হবে। কেননা সাম্রাজ্যবাদী সন্ত্যাসীরা বর্তমানে এশিয়া মহাদেশ লক্ষ্য করে কাজ করছে। থাইল্যান্ডও অন্যভাবে এর স্বীকার হচ্ছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28876396 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28876396 2008-11-30 19:12:43
যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্টের প্রতি অ্যামেনেস্টি : গুয়ান্টানামো শিবির বন্ধ করে দিন ৩১ অক্টোবর : অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গুয়ান্টানামো নির্যাতন শিবির বন্ধ করে দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্টের প্রতি আহবান জানিয়েছে। অ্যামেনেস্টি মার্কিন ডেমোক্রাটিক দলের প্রার্থী বারাক ওবামা এবং রিপাবলিকান দলের প্রার্থী জন ম্যাককেইনের প্রতি এই আহবান জানিয়েছে। অ্যামেনেস্টি প্রধান আইরিন খানের বরাত দিয়ে ইরানের স্যাটেলাইট নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভি জানিয়েছে, উভয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বলেছেন, তারা গুয়ান্টানামো নির্যাতন শিবির বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টা খতিয়ে দেখবেন। তাই নতুন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা গ্রহণের একশ দিনের মধ্যেই এই নির্যাতন শিবির বন্ধ করে দেয়া হবে বলে অ্যামেনেস্টি প্রত্যাশা করছে। এ ছাড়া একই সাথে অ্যামেনেস্টির পক্ষ থেকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে যে সব ভুল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে তা শোধরানোর এবং গোপনে আটক রাখার সমগ্র বিষয় প্রকাশ করার ও নির্যাতন চালানোর ব্যাপারে নিন্দা জানানোর আহবান জানানো হয়েছিলো। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত সংস্থা সমূহের পক্ষ থেকে বারবার আহবান জানানো সত্ত্বেও বুশ প্রশাসন গুয়ান্টানামো কারাগার বন্ধ করে দেয়নি।#
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28862973 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28862973 2008-11-01 14:09:26
পাশ্চাত্যের দেশগুলো অধিক অস্ত্র-সম্ভার বিক্রির জন্য মধ্যপ্রাচ্যে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালাচ্ছে ২২ অক্টোবর: বাহরাইন সফরকারী ইরানের সংসদের স্পীকার ড. আলি লারিজানি বলেছেন, পাশ্চাত্যের কোনো কোনো দেশ আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে অধিক অস্ত্র-সম্ভার বিক্রির জন্য মধ্যপ্রাচ্যে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালাচ্ছে। বাহরাইনের সংসদের উচ্চ কক্ষের চেয়ারম্যান আলি বিন সালেহ আস সালেহের সাথে রাজধানী মানামায় বৈঠকের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বাহরাইনের সংসদের স্পীকার খলিফা বিন আহমেদ আজ জাহরানির আমন্ত্রণে সরকারী ভাবে বাহরাইন সফর করছেন। জনাব লারিজানি আরো বলেন, পাশ্চাত্যের সরকারগুলো অধিক হারে অস্ত্র বিক্রি করে চলমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তিনি মুসলিম দেশগুলোকে অর্থনৈতিক সংকটের বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রতিহত করার ব্যাপারে তৎপর হওয়ার আহবান জানান। পরে তিনি বাহরাইনের সংসদের স্পীকারের সম্মানে দেয়া ভোজ সভায় অংশ গ্রহণ করেন।#
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28858573 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28858573 2008-10-23 12:10:50
বৃটেন ও আমেরিকা নিরাপত্তা পরিষদকে হুমকীর হাতিয়ারে পরিণত করেছে : আহমাদিনেজাদ
আহমাদিনেজাদ বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ লেবাননী জনগণের বিরুদ্ধে নৃশংস আগ্রাসনের সময় বহু দিন ধরে নীরব থেকেছে। তিনি প্রশ্ন করেন, যখন নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোই শত্রুতা বা বিরোধের সাথে জড়িত থাকে তখন এ পরিষদ কিভাবে তার দায়িত্ব পালন করবে? যখন নিরপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে আমেরিকা ও বৃটেন দখলদারিত্বে, আগ্রাসনে ও আন্তর্জাতিক আইন লংঘনে নিয়োজিত হয় তখন জাতিসংঘের কোন্ সংস্থা তাদের বিচার করবে? তিনি নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন সাধনের আহ্বান জানান। আহমাদিনেজাদ ইসলামী সম্মেলন সংস্থা, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন ও আফ্রিকা মহাদেশের জন্যে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের দাবী জানান। ইরাক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরাকে বিজাতীয় সেনাদের উপস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী করার জন্যেই সংঘাত ও সন্ত্রাস তীব্রতর করা হচ্ছে।

আহমাদিনেজাদ বলেন, দখলদাররা ইরাক সরকারের হাতে আটক অসংখ্য সন্ত্রাসীকে বিভিন্ন অজুহাতে ছেড়ে দিয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো ইহুদিবাদী ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের বিরুদ্ধে হুমকী, মতভেদ ও চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন । তিনি বলেন, ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের জন্যে নিরাপত্তাহীনতা ও হুমকীর লাগাতার উৎস। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, হলোকাস্টের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া ইহুদিদের রক্ষার অজুহাতে আগ্রাসন ও যুদ্ধের মাধ্যমে এবং কয়েক মিলিয়ন ফিলিস্তিনীকে শরণার্থীতে পরিণত করে ইসরাইল সৃষ্টি করা হয়েছে। এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের সাথে এক সাক্ষাতে বলেছেন, ইরান বিশ্বের সমস্যাগুলো সমাধানে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরান সব সময়ই আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং শান্তির এই পথকেই পরমাণু বিষয়সহ আন্তর্জাতিক সমস্যাগুলো সমাধানের সবচেয়ে ন্যায়সঙ্গত পন্থা বলে মনে করে।
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28853454 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28853454 2008-10-11 16:48:35
যার ধর্ম তার কাছে নিশ্চিত ভাবে আমরা বলতে পারি যে মানব জাতিকে সভ্য প্রানীতে রূপান্তর করতে একমাত্র ধর্মই মৌলিক ভুমিকা রেখেছে। তাই আজ প্রতিটি সভ্যতার অস্তিত্বগত ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে আমরা ধর্মকে তার জীবনি শক্তি হিসেবে দেখতে পাই। মানুষ থেকে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করলে সে নিছক একটি বুদ্ধিমান পশু বৈ ভিন্ন কিছু নয়। যেখানে সভ্যতার ছোয়া ও উন্নয়নের আলোক ছটা দেখা যায় নিঃসন্দেহে সেখানে ধর্মের ভুমিকা রয়েছে। প্রতিটি ধর্মই যুগে যুগে মানুষকে আলো ও সভ্যতার পথে আহ্বান করেছে।
পবিত্র কুরআনের একটি অতি প্রশিদ্ধ আয়াত যার অসম্পূর্ণ একটি অংশ আমরা সচারচার ব্যবহার করে একটি অপূর্ণ অর্থ বিশেষ লক্ষ্যে ব্যবহার করে থাকি। ফলে পবিত্র কুরআনের এই প্রশিদ্ধ আয়াতটির যথার্থ অর্থ থেকে আমরা বঞ্চিত হই। মহান স্রষ্টা বলেন ঃ ধর্ম গ্রহণের ক্ষেত্রে জবরদস্তি নেই কেননা এখানে পাশবিক অবস্থা থেকে সভ্যতা ও উন্নয়নের পথকে সুস্পষ্ট করে উপস্থাপন করা হয়েছে। আয়াতটি হল সুরা বাকারার ১৫৬ আয়াত। উক্ত আয়াতটিকে আমরা অনেক সময় এমন প্রসঙ্গে ব্যবহার করে থাকি যা প্রকৃত পক্ষে পবিত্র আয়াতটির অপব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। যেমন ঃ অনেক সময় অন্যের ধর্ম বিরোধী কর্ম দেখে আমরা বলে থাকি ‘ছেড়ে দাও যে যা পারে করুক’ অথবা ‘বাদ দাও যার ধর্ম তার কাছে’ ধর্মের দৃষ্টিতে এজাতিয় মানসিকতা বা নীতি একটি ভ্রান্ত নীতি হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। পবিত্র কুরআনের উক্ত আয়াতে ‘ধর্ম গ্রহণের ক্ষেত্রে জবরদস্তি নেই’ বলার পূর্বে তাদের কাছে উন্নতি ও অধঃপতনের পথকে সুষ্পষ্ট করে উপস্থাপন করা হয়েছে। অতপর বলা হয়েছে এই আলো ও আধাঁর তার কাছে স্পষ্ট হওয়ার পরও যদি সত্যকে গ্রহণ না করে তাহলে কোন জবরদস্তি নেই। কেননা সুরা বাকারার এই আয়াতটির পূর্বের আয়াতে উন্নত আদর্শের পরিচিতি তুলে ধরা হয়া হয়েছে। আর উক্ত আয়াতের পরবর্তি আয়াতে কেউ যদি এই আলোর পথে নিজ ইচ্ছায় না আসে তাহলে তার পরিণতির কথাও উল্লেখ করে তাকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
সুতরাং ‘ধর্ম গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন জবরদস্তি নেই’ কথাটি তখনই অর্থপূর্ণ হবে যখন তার সম্মুখে সত্য মিথ্যাকে উপস্থাপন করে পাশবিক পথের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়া হবে। নতুবা এটা হবে ধর্মের একটি ভুল ব্যাখ্যা।
মহান আল্লাহ ফিরআউনের কাছে হযরত মুসা (আ.)-কে এই বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন ‘অত:পর তুমি বল ঃ তুমি কি পবিত্র হতে চাও ? [নাযিয়াত -১৮ নম্বর আয়াত।] ফিরআউন যে প্রভুত্বের দাবী করে ছিল তাকেও কিন্তু ছেড়ে দেয়া হয়নি। তাকে বলা হয়নি ‘যার ধর্ম তার কাছে’ বা ‘ধর্ম গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন জবরদস্তি নেই’ বরং তার কাছে মুসাকে পাঠানো হয়েছে সভ্যতার পথের বার্তা নিয়ে। তিনি তার সম্মুখে আলোর পথের প্রমাণ সমূহ উপস্থাপন করেন। এমনকি তিনি এই সত্যপথ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বা মহান দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে সকল হুমকী ও বিপদসমূহ সহ্য করেছেন।
তাহলে কিভাবে এরকম একটি ভ্রান্ত ধারণা আমাদের সমাজে প্রবাদ হয়ে চলছে ? যে প্রবাদের সাথে ইসলামী আদর্শের কোন মিল নেই। এরকম আরো অনেক প্রবাদ মিষ্টার হিম্পারের মত খ্রীষ্ট সভ্যতা সমপ্রসারণের লক্ষ্যে যে সকল হাজার হাজার গোয়েন্দা মুসলিম বিশ্বে চক্রান্তের জাল বিস্তার করতে এসে ছিল এগুলো তাদেরই প্রচারিত হয়েছে যা পরিকল্পিত ফাঁদ।
ইসলাম ধর্মে ‘সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ’ নামের একটি মহান ভিত্তি রয়েছে যা সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে যুগে যুগে ভুমিকা রেখেছে এবং আজও ভুমিকা রাখছে। ‘সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ’ এর এক পর্যায়ে শক্তি প্রয়োগে বাঁধা প্রদানের নির্দেশ রয়েছে। অতএব সমাজ সংস্কারে প্রতিটি ব্যক্তির দায়িত্ব রয়েছে। এ দায়িত্ব একটি ঐশী দায়িত্ব যা পালন না করলে তাকে পরকারে কৈফিয়ত দিতে হবে।
মিশনারীরা তাদের পথকে মুসলিম বিশ্বে সুগম করার ক্ষেত্রে উক্ত নীতিকে একটি বড় অন্তরায় হিসাবে অনুভব করে। তারা মুসলিম বিশ্বের তাদের কাংঙ্খিত রাষ্ট্রপ্রধান নির্ধারণ করতে এবং রাষ্ট্রনায়কের দ্বারা যা ইচ্ছা তাই প্রচার করতে উক্ত নীতির দ্বারা বাঁধা প্রাপ্ত হয়।
আর এজন্যই তারা মুসলিম বিশ্বের পারস্যে যে প্রবাদটি তৈরী করে সেটি হল ‘ইসা বে দ্বীনে খোদ ওয়া মুসা বে দ্বীনে খোদ’ অথাৎ ইসার ধর্ম ইসার কাছে, আর মুসার ধর্ম মুসার কাছে, তোমার কি? অতএব যে যা ইচ্ছাখুশী তাই করুক তাতে কোন বাঁধা দিয়ো না। আগামী কাল যদি ইষ্ট ইন্ডিয়ার কোম্পানী তোমাদের দেশ দখল করে করুক তোমার পেটে ভাত জুটলেই হলো।
একমাত্র উন্নত আর্দশই মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সত্যের পক্ষগ্রহণের নীতিশিক্ষা দিয়ে থাকে। আর এই উন্নত আদর্শ হল মানবধর্ম। আর পাশবিক আর্দশই হলো বন্য ও অসভ্যধর্ম। মহান আল্লাহ মাবনধর্মকে খোদার ফিতরাত বা সত্তার উপর প্রতিষ্ঠিত বলে আখ্যা দিয়েছেন। অতএব সুসংবাদ দিন আমার বান্দাদেরকে যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ্‌ সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান। [ সুরা যুমার ১৭-১৮ নম্বর আয়াত]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28853043 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28853043 2008-10-10 15:16:10
শ্রম লন্ডপন্ড ভালো কিছু লিখুন যা সবার উপকারে আসে এবং আপনার জীবনের এই অমুল্য রত্নের বিনিময়ে সমপর্যায়ের কিছু অর্জন করুন। আর বুদ্ধিবৃত্তিক মন্তব্যের মাধ্যমে সকলকে সাহায্য করুন।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28848521 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28848521 2008-09-27 13:38:21 পরমাণু বোমার যুগ শেষ হয়ে গেছে, রাজনৈতিক জ্ঞানে অনগ্রসররাই তা চায়ঃ প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ ২৪ সেপ্টেম্বরঃ ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, পরমাণু বোমার যুগ শেষ হয়ে গেছে, যারা এ অস্ত্র পাবার চেষ্টা করছে তারা রাজনৈতিক দিক থেকে বোকা বা পশ্চাদপদ। তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন। ডক্টর মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেন, যারা পরমাণু অস্ত্র পাবার চেষ্টা করছে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে । ইরানের প্রেসিডেন্ট বর্তমানে যারা পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী তাদের ব্যাপারে রিপোর্ট দিতে জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা বা আই.এ. ই.এ'র প্রতি চ্যালেঞ্জ করেন এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মজুদ গড়ে তোলার জন্য বৃহৎ শক্তিগুলোর সমালোচনা করেন। আহমাদিনেজাদ বলেন, আমরা মনে করি পরমাণু বিষয় বা ইস্যুটির নিষ্পত্তি হয়ে গেছে এবং এ বিষয়ে চলমান হৈ-চৈ নেতিবাচক প্রচারণা মাত্র ।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মাহমুদ আহমাদিনেজাদ জাতিসংঘের ৬৩ তম অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার সময় মার্কিন সরকারের চাপের মুখে দখলদার ইসরাইলকে সমর্থন দেয়ার জন্য এবং ইরাকে মার্কিন দখলদারিত্ব অবসানে ব্যর্থতার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কঠোর সমালোচনা করেন ।
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28847432 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28847432 2008-09-24 16:30:06
পুঁজীবাদী সমাজের পতন শুরু হয়েছে লেম্যান দেউলিয়া হওয়ার পর এশিয়ায় তার বিরূপ প্রভাব পড়েছে
১৬ সেপ্টেম্বর : যুক্তরাষ্ট্রের ৪র্থ শীর্ষ বিনিয়োগ ব্যাংক লেম্যান ব্রাদার্স দেউলিয়া ঘোষণা করার আবেদন করার পর এশিয়ার শেয়ার বাজারে তার বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বন্ধকী ব্যাংক লেম্যান ইতোমধ্যেই কয়েক কোটি ডলারের লোকসান গুনেছে। হংকংয়ের শেয়ার বাজারের সূচক সাড়ে ৬ শতাংশ কম নিয়ে শুরু হয়েছে অন্যদিকে টোকিওর শেয়ার বাজারের সূচক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সমগ্র এশিয়া জুড়ে শেয়ার বাজারে বিপদ সংকেত দেখা দিয়েছে এবং সেপ্টেম্বর ১১এর সন্ত্রাসী হামলার পর একদিনে মার্কিন শেয়ারের দাম এতোটা পড়ে যায় নি। এ ছাড়া বন্ধকী বাজারে ব্যাপক লোকসানের ফলে বিপর্যস্ত আরেক বিনিয়োগ ব্যাংক মেরিল লিঞ্চকে ৫ হাজার কোটি ডলার দিয়ে কিনে নিতে যাচ্ছে ব্যাংক অফ আমেরিকা। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি শীর্ষ বিনিয়োগ ব্যাংকের মধ্যে তিনটিই বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের শিকার হল।
এদিকে গতকালই ছিল পশ্চিমের শেয়ার বাজারের সবচেয়ে ভয়াবহতম দিন। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকার অর্থনৈতিক সংকটের বিস্তৃতি রোধ করার জন্য জরুরী বৈঠকে বসেছে। সরকারী কর্মকর্তারা বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরার আহবান জানিয়েছেন। তারা জনমনে যেনো আতংক না ছড়িয়ে পড়ে সে চেষ্টা করছেন এবং শেয়ার বাজারের মূল্য পতনের ব্যাপার নিয়ে বিনিয়োগকারীরা যেন অতিরিক্ত তৎপরতা গ্রহণ না করে সে জন্যও তারা আহবান জানাচ্ছেন। ১৯২৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে মারাত্মকভাবে ধ্বস নেমেছিলো এবং এই ধ্বসকে গ্রেট ডিপ্রেসন বলা হয়। লেম্যান ব্রাদার্স সে ধকল কাটিয়ে উঠতে পেরেছিলো। কিন্তু লেম্যান ব্রাদার্স দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহঋণ নিয়ে যে উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে তা আরো গভীর হলো। এই গৃহঋণ ঘিরে আরো অন্তহীন সংকট দেখা দিতে পারে বলে যে আশংকা করা হচ্ছিল তা ঘনীভূত হলো। হংকংয়ের ফিলিপ এ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের কর্মকর্তা ওয়াই কে চান বলেছেন, আমরা একটি সংকটের মাঝপথে রয়েছি। মার্কিন অর্থ মন্ত্রী হেনরি পলসন গতকাল দেশে এবং বিদেশে স্থিতিশীলতা এবং শৃংখলা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন। তবে লেম্যানকে ধার দিয়েছে জাপানের দুইটি ব্যাংক এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কিন অর্থমন্ত্রীর সান্ত্বনা বাক্য কোনো আশার আলো দেখাতে পারেনি। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর একে জাপানের অর্থনীতির দ্বিতীয় বৃহত্তম বিপর্যয় বলে মনে করা হচ্ছে। জাপানে লেম্যান ব্রাদার্সের দেনার পরিমাণ ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রয়েছে। এর আগে ২০০০ সালে কিউই লাইফ ইনস্যুরেন্সের বিপর্যয়কে বৃহত্তম বলে মনে করা হয়। এদিকে ইয়েনের বিপরীতে ডলারের দাম গত দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে এসেছে।#
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28844393 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28844393 2008-09-17 16:10:41
বাংলাদেশ ভারতের কাছে সমুদ্র সীমার ন্যায্য হিসাব দাবি করেছে ১৫ সেপ্টেম্বরঃ বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতের কাছ থেকে সমুদ্র সীমার ন্যায্য হিস্যা দাবি করেছে। ঢাকায় আজ থেকে শুরু হওয়া তিনদিন ব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত তার ইচ্ছা অনুযায়ী সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সমুদ্র উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল বাংলাদেশের অধিকারের থাকার কথা থাকলেও তা নেই। অনেকটা অংশ ভারতের দখলে চলে গেছে। এ বিষয়ে ১৯৮২ সালে ভারত ও ১৯৮৬ সালে মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল। দীর্ঘ ২৮ বছর পর ভারত ও মিয়ানমার সাথে দ্বিতীয় দফা আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘ মিয়ানমারের সাথে ২০০৯ সালের জুন ও ভারতের সাথে ২০১১ সালের জুলাই মাসের মধ্যে বাংলাদেশের সমুদ্র সংক্রান্ত মতবিরোধ মিটিয়ে ফেলতে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত নির্ধারণ নিয়ে সংকট নিরসনে অনেক দেরিতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারা বলছেন, সমুদ্রসীমা নির্ধারণের উপরই নির্ভর করছে এদেশের সার্বভৌমত্ব ও খনিজ সম্পদের মালিকানা। তারা বলছেন, ভারত ও মিয়ানমার অনেক দিন ধরেই অবৈধভাবে আমাদের সমুদ্রসীমার বেশ কিছু অংশ দখল করে রেখেছে। মিয়ানমার ও ভারত বর্তমানে সমুদ্র দূরত্ব ইকোডিসট্যাল পদ্ধতিতে পূর্ব-পশ্চিমে সমুদ্রসীমা টানতে চাইছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ চাইছে সমতার ভিত্তিতে উত্তর-দক্ষিণে এ রেখা টানতে। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপিকা ডক্টর দিলারা জামান বলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ড তিন দিক থেকে ভারত দ্বারা বেষ্ঠিত। ভারত যদি ইকোডিস্ট্যটাল পদ্ধতিতে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেয় তবে চতর্দিক দিয়েই ভারত দ্বারা বেষ্ঠিত হয়ে পড়বে বাংলাদেশ। তিনি আরো বলেন, সমুদ্র সীমায় বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদ, তেল, গ্যাস ও মৎস সম্পদ রয়েছে। এই আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যর্থতার পরিচয় দিলে তা দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেন ডক্টর দিলারা জামান। বিশিষ্ট ভূগোল ও পরিবেশবিদ অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ আব্দুর রব বলেন, আমাদের সমুদ্র বিশেষজ্ঞ গড়ে উঠেনি। ফলে আমাদেরকে এখনও বিদেশী বিশেষজ্ঞদের উপর নির্ভর করতে হয়। তিনি বলেন,সমুদ্রসীমা নির্ধারণের সহায়তার জন্য কয়েকটি বিদেশী সংস্থার কাছে সরকারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনায় ভারতের পক্ষে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রিয়ার এডমিরাল বিকে রাও। আর বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এম এ কে মাহমুদ। সমুদ্রসীমা নির্ধারণে বাংলাদেশের পক্ষে কতখানি দক্ষতার সাথে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেন সে দিকেই তাকিয়ে আছে দেশবাসী।
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28843584 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28843584 2008-09-15 18:41:08
সার্নে সফলভাবে শেষ হয়েছে বিগ ব্যাং তত্ত্বের পরীক্ষা http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28841616 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28841616 2008-09-11 14:18:18 একটি রক্তাক্ত ভুখন্ডের লাল ইতিহাস-৭ ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সাথে ইন্তিফাদার তুলনা

ইন্তিফাদা আন্দোলন অনেক দিক দিয়েই ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, বিশেষত কোন গ্রুপ বা সংগঠনের উপরই নির্ভরশীল নয়। ইরানের ইসলামী বিপ্লবের একটি বৈশিষ্ট্য এই ছিল যে, বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ইসলামী, অনৈসলামী, ও জাতীয়তাবাদী বহু দল ও গ্রুপ এবং া বিভিন্ন চিন্তা -দর্শনের লোকেরা আলাদা ভাবে শাহের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতো এবং সবাই ভবিষ্যত বিপ্লবকে নিজ নিজ সংগঠনের বলে মনে করতো। ১৯৭৭ সালের ৭ জানুয়ারী দৈনিক ইত্তেলায়াত পত্রিকায় ইমাম খোমেনী সম্পর্কে অবমাননাকর নিবদ্ধ ছাপা হলে এর প্রতিবাদে কোম শহরের একদল লোক শাহাদতবরণ করে। শহীদের স্মরণে তেহরান, তাবরিজ ও অন্যান্য শহরে সাত দিনের ও চল্লিশার অনুষ্ঠানাদি একের পর এক অনুষ্ঠিত হতে থাকে।
এসবের প্রতিটি অনুষ্ঠানেই সংঘর্ষ ও কিছু লোকের শাহাদতবরণ এবং পুনরায় তাঁদের চল্লিশা পালন একের পর এক অব্যাহত থাকে। ১৯৮৭ সালের শেষ পাঁচ মাসে ইরানের জনগণের অভ্যুত্থান সর্বব্যাপী রূপ ধারণ করে। তখন সকল রাজনৈতিক দল তথা মার্ক্সবাদী, জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী গ্রুপ-সংগঠন পর পর মতাদর্শ ও পথ ছেড়ে গণ আন্দোলন ও অভ্যুত্থানকে অনুসরণ করতে থাকে। কেননা কোন সংগঠনই কখনো সাংগঠনিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এ ধরণের গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা করেনি।
সকল দল ও গ্রুপ জনগণের কাতারে এসে যোগ দেয়। বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের ছবি ও প্রতিকৃতি গণমিছিলে শোভা পেতে থাকে। কিন্তু সে সময় যে বিষয়টি জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং যা সকল জনতাকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ করে তা হলো একক লক্ষ্য অর্থাৎ শাহ ও তার উচ্ছেদ ঘটানো। জনগণের সকল শ্লোগানই ছিলো ইসলামমুখী ও ইসলামের জন্য আন্দোলন। কেননা ইসলামই ইরানের বেশীর ভাগ মানুষের ধর্ম। ইন্তিফাদা আন্দোলনও ঠিক একই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
বর্তমানে ইন্তিফাদা সম্পর্কে নানা ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি বিরাজমান। তবে যে বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলা যায় তা হচ্ছে এই যে, ইন্তিফাদার গণমুখিতাও স্বতঃসফ'র্ততা ।আর ইসলাম হচ্ছে এর প্রাণশক্তি। এ বিষয়টিকেই ইসরাইল ভয় পাচ্ছে।
এ ধারণার ফলশ্রুতিই হচ্ছে ইন্তিফাদার প্রথম দিকে শেখ আহম্মদ ইয়াসিনকে গ্রেফতার ও কারারুদ্ধকরণ । ইন্তিফাদাকে নির্মূল করার জন্যই ১৯৯২ সালে নভেম্বরে চার’শ পনেরো (৪১৫) জন ফিলিস্তিনী সংগ্রামীকে অধিকৃত এলাকা থেকে বহিষকৃত করা হয়। এরা সবাই নিষ্ঠাবান মুসলমান ও হামাস সংগঠনের সমর্থক । এত্মাই একদিকে প্রমাণ করে যে, ইন্তিফাদার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ইসলামী এবং অন্যদিকে গণমুখী যা কোন বিশেষ দল বা সংগঠন, এমন কি হামাসেরও সদস্য নয়। এর প্রমাণ হলো এই যে, যায়নবাদী সরকার এদেরকে গণঅভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি হিসাবে বহিষকৃত করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইন্তিফাদা স'গিত থাকেনি। এর কিছুদিন পরই অধিকৃত অঞ্চলের তিন শতাধিক অধিবাসী যায়নবাদী সৈন্যদের সাথে সংর্ঘর্ষে শহীদ ও আহত হয়। এ বিষয়টি প্রমাণ করে যে, ইন্তিফাদা আন্দোলন বিশেষ কোন দলের বা সংগঠনের নয়, বরং এর নেতৃত্ব ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইন্তিফাদা গণঅভ্যুত্থানের হঠাৎ করে উদ্ভভ এবং এ পর্যন্ত অব্যাহত থাকা প্রমাণ দিচ্ছে যে, যদিও বা ব্যক্তিবর্গ বা সংগঠন বিশেষ এই গণঅভ্যুত্থানের সূচনায় ভূমিকা পালন করেছে, তথাপি আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততায় এতে কোন ক্ষতি হয়নি। ইন্তিফাদার কোন কেন্দ্রিীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব নেই এবং কোন বিশেষ সংগঠনই এর স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ করে না, বরং সকল সংগঠনই এর অনুসরণকারী ও সমর্থক এবং সবারই চেষ্টা ইন্তিফাদায় সাধ্যানুসারে অংশ নেয়া ও পরিকল্পনা দেয়া।
ফিলিস্তিনী সংগঠনগুলোর প্রতি এমনভাবে কথা বলে যেনো ইন্তিফাদার নেতৃত্ব তাদেরই হাতে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, এসব সংগঠনের বেশীর ভাগই ফিলিস্তিনের বাইরে তিউনেশিয়ায়, সিরিয়ায়, জর্দানে বা অন্যত্র অবস্থান করছে। ফিলিস্তিনের বাশিন্দারা ওসব সংগঠনের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং অভিন্ন উদ্দেশ্যে তথা অধিকৃত এলাকাগুলোর মুক্তির জন্য কাজ করে যায়। কিন্তু এমন নয় যে, যদি এসব সংগঠনের সকলেও যদি হাত গুটিয়ে নেয় তাহলে ইন্তিফাদাও শেষ হয়ে যাবে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সাথে ইন্তিফাদার আরেকটি সাদৃশ্য [পাশ্চাত্য বিশেষ করে আমেরিকার এই বাড়াবাড়িপূর্ণ প্রচারণা যে, ইন্তিফাদা ইরানের ইসলামী বিপ্লবকেই আদর্শ হিসাবে অনুসরণ করেছে এবং উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য বিরাজমান, তা অবশ্য ওদের নোংরামী উদ্দেশ্য প্রণোদিত বৈ অন্য কিছু নয়। ওরা ইন্তিফাদার মৌলিকত্বকে বিকৃত করে দেখানো ছাড়াও ইসলামী ঝোঁকপ্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর আচারণ প্রদর্শনের বাহানা খোঁজ করছে। বিশেষতঃ এ কারনে যে, বিশ্ব ও ইউরোপীয় জনমত যায়নবাদীদের এতোসব নিষ্ঠুরতাকে মেনে নিতে তৈরী নয় বলেই এ ধরনের প্রচরণা চালিয়ে ইন্তিফাদাকে দমনের জন্যে ইসরাইলীদের হাতে সুযোগ তুলে দিচ্ছে যাতে পশ্চিমারা বলতে পারে যে, যদি ফিলিস্তিনীদের দমন না করি তাহলে সেখানে ইসলামী মৌলবাদ বিকাশের ঘাঁটি তৈরী হবে এবং আন্দালুসিয়ায় (স্পেনে) বিপর্যয়েরই (মুসলমানদের বিজয়) পুনরাবৃত্তি ঘটবে। আমেরিকা ও ইসরাইল এভাবেই ফিলিস্থিনে (ইউরোপের ফটক) ইসলামপন্থীদের ঘাঁটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিপদ সম্পর্কে প্রতিবেশী ইউরোপীয়দের ভীতসন্ত্রস- করে তুলতে চাচ্ছে যাতে সহজে ফিলিস্তিনীগণ অভ্যুত্থানকে দমনে আত্মনিয়োগ করতে পারে।] হচ্ছে এই যে, ফিলিস্তিনী সংগ্রামের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মত বিক্ষোভ মিছিলের জন্য মসজিদ ও নামাযে জুমাকে কাজে লাগানো হয়। এর আগ পর্যন্ত ফিলিস্তিনী সংগ্রাম সব সময়ই গেরিলা যুদ্ধ, অস্ত্র ও সংগঠননির্ভর ছিল। কিন্তু এবার খালি মুষ্ঠি, পাথর টুকরো ও লাঠি এসে গুলীর মুখোমুখি দাঁড়ায়। ফিলিস্তিনী নারী ও শিশুরা পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য ভাবে এ আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে। এবার সংগ্রামের নামকরণ করা হচ্ছে ইটপাটকেলের বিপ্লব কিংবা পাথর হতে তরুন ও কিশোরদের বিপ্লব। ইন্তিফাদা আন্দোলনের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো শাহাদতকামিতা ও আত্মবলিদান যে অস্ত্রের কোন বিকল্পই নেই। এতোসব নিষ্ঠুরতাকে মেনে নিতে তৈরী নয় বলেই এ ধরনের প্রচারণা চালিয়ে ইন্তিফাদাকে দমনের জন্য ইসরাইলীদের হাতে সুযোগ তুলে দিচ্ছে যাতে পশ্চিমারা বলতে পারে যে, যদি ফিলিস্তিনীদের দমন না করি তাহলে সেখানে ইসলামী মৌলবাদ বিকাশের ঘাঁটি তৈরী হবে এবং আন্দালুসিয়ার (স্পেনে) বিপর্যয়েরই (মুসলমানদের বিজয়) পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
আরেকটি লক্ষণীয় দিক হচ্ছে ইন্তিফাদা হচ্ছে জাতীয়তাবাদসহ যাবতীয় সংগ্রামের ব্যর্থতায় গণপ্রতিক্রিয়া। জামাল আব্দুন নাসেরের সময় ওই জাতীয়তাবাদিতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে ছিল। গত কয়েক বছরে আরব জাতীয়তাবাদ ও গোত্রবাদ চরমভাবে পরাজিত হয় এবং অবশেষে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কম্যুনিষ্ট মার্কা বামপন্থী আন্দোলন ও মতগুলোবাদও চূড়ান্ত পরাজয় বরণ করে।
আমেরিকা ও ইসরাইল এভাবেই ফিলিস্থিনে (ইউরোপের ফটক) ইসলামপন্থীদের ঘাঁটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিপদ সম্পর্কে প্রতিবেশী ইউরোপীয়দের ভীতসন্ত্রস- করে তুলেছে যাতে সহজে ফিলিস্তিনী গণঅভ্যুত্থানকে দমনে আত্মনিয়োগ করতে পারে।
ফিলিস্তিন আন্দোলন এসব নানামুখী ও বিভিন্নধর্মী মত ও পথে অচলাবস্থা ও পরাজয় প্রত্যক্ষ করে অবশেষে এ সিদ্ধানে- উপনীত হয় যে, ইসলামই একমাত্র সমাধান, যে সমাধান অন্য কোন রাজনৈতিক দর্শনে খুঁজে পেতে পারেনি, বরং পরাজয়, আত্মসমর্পণ ও আপোষকামিতার কানাগলিতে গিয়েই অপমৃত্যু বরণ করতে বাধ্য হয়েছে। আজ ফিলিস্তিন আন্দোলন ইসলামের মাঝেই তার মুক্তির খোঁজ করছে। আর এটাই হলো আত্মনিয়োগ ও আত্মচেতনায় প্রত্যাবর্তন যা শুধু ফিলিস্থিনেই নয়, বরং সকল ইসলামী দেশ ও আরব জাহানে উত্তাল তরঙ্গমালার সৃষ্টি করে চলেছে। অতীতে ইসলামের কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক তৎপরতাই প্রমাণ ছিল। কিন্তু একজন আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় নেতা হিসাবে ইমাম খোমেনীর নেতৃত্বে ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয় লাভের পর ইসলামী তৎপরতাসমূহ রাজনৈতিক ও কার্যকরী দিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে ওঠে। ফিলিস্তিনী আন্দোলন এতকাল যেখানে জাতীয়তাবাদী ধ্যান্তধারণা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামরিক বৈশিষ্ট্যর অধিকারী ছিল সেখানে আজ ইসলামী চরিত্র বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এক আকিদায় পরিণত হয়েছে। ফিলিস্তিন জেহাদে ইসলামীর মহাসম্পাদক ডঃ ফাতহী শাকাকীর ভাষায় ইসলামী বিপ্লবের বিজয় সমগ্র বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মাঝে জীবনাদর্শ স্বরূপ দীনের প্রতি অটল বিশ্বাস এনে দেয় এবং প্রমাণ করে যে, ইসলাম এক অপরাজেয় শক্তি এবং ইসলাম ফিলিস্তিনী জনগণের মাঝে আন্দোলন ও অভুত্থানের শক্তি [ডঃ ফাতহী শাকাকী ১৯৫১ সালে গাজা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে ইমাম খোমেনী ও নয়া ইসলামী পরিকল্পনা নামক পুস-ক প্রনয়ণ করেন এবং ১৯৮৮ সালে অধিকৃত ফিলিস্তিন থেকে বহিস্কৃত হন।] ফিলিস্থিনে ইন্তিফাদা গণঅভ্যুত্থানে শুরুর ফলে যারা এখনো পর্যন্ত আরব জাতীয়তাবাদী মন্ত্রে বিশ্বাসী তারা পর্যন্ত ইসলামকে ফিলিস্তিন মুক্তির জন্যে মুক্তির এক উৎস ও আরবদের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হিসাবে মেনে নিয়েছে এমন কি অনেককে আন্তরিক ভাবেই নিজেদের চিন্তাদর্শন পুনবিবেচনা করছেন। [প্রখ্যাত ফিলিস্তিনী ব্যক্তিত্ব আহমাদ জিব্রাইল ১৯৯২ সালে তেহরানে এক সম্মেলনে বলেনঃ আমরা কেনো বলছি যে, সকল মুসলমানের কাছে আমাদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে? এজন্যেই যে, আমরা জানি, ফিলিস্তিনীরা একাকী ফিলিস্তিনকে মুক্ত করতে সক্ষম নয় এবং এটাও জানি যে, আরব বিশ্ব ও আরব জাতীয়তাবাদ একাকী ফিলিস্তিনকে মুক্ত করতে সক্ষম নয়। তিনি আরো বলেন, অতীতে আমার চিন্তাদর্শনের মূল বৈশিষ্ট্যই ছিল দেশ, সমপ্রদায় ও জাতীয়তা। কিন্তু ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের পর বিপ্লবী ইসলামের দিকে আমার মনোযোগ আকৃষ্ট হয়। যখন শুনতে পেলাম যে, ইসলামী বিপ্লবের বয়োবৃদ্ধ নেতা ইমাম খোমেনী আমেরিকা ও পাশ্চাত্যের নাম দিচ্ছেন শয়তানে বুযুর্গ তখন তা আমার মাঝে খুবই প্রভাব ফেলে।]
ফিলিস্থিনে ইয়াহুদীদের অভিবাসন দেয়ার লক্ষ্য কেবল জমি দখলই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদের রাজনেতিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছাড়াও ফিলিস্তিন ইস্যুর ভেতর লুকিয়ে থাকা ইসলামী উম্মার বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের নয়া ক্রুসেড যুদ্ধের অশুভ উদ্দেশ্য এবং ১০৯৫ থেকে ১২৪৯ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত ক্রুসেড যুদ্ধে খৃস্টান জগৎ ও পাশ্চাত্যের পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণের স্পৃহা। তাছাড়া ১৪৫৩ খৃস্টাব্দে উসমানী সাম্রাজ্যের হাতে কনস্ট্যান্টিনোপলের (ইস্থাম্বুল) পতনে পাশ্চাত্য ও খৃস্ট জগৎ যে, অবমাননার শিকার হয় তার গ্লানি থেকেও বের হয়ে আসা। [আহমদ জিব্রাইল বলেনঃ ভাই ও বোনেরা! আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি যে, বিভিন্ন পোশাক ও আকারে ক্রুসেড যুদ্ধের অবতারণা করা ছাড়া ইস্যু অন্য কিছু নয়। পশ্চিমাও ইউরোপীয় সরকারগুলো ইসলামের কাছে অতীত পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ করতে চাচ্ছে। (ফিলিস্তিন বিষয়ক প্রথম ইসলামী সম্মেলনের রচনাবলী, যামিল সাঈদী, ৪৭ পৃষ্ঠা।)
একইভাবে মুনীর শফিক বলেনঃ ফিলিস্তিন ইস্যু আসলে ইসলামের ইস্যু আর এ বিষয়টির সাথে দেশপ্রেম ও আরব জাতীয়তার কোন বিরোধ নেই। যেহেতু ফিলিস্তিন ইস্যুর মূল ভিত্তি ও সারবত্তা হচ্ছে ইসলামী, সেহেতু এ ভিত্তি অনুসারেই এ সমস্যার (ফিলিস্তিন) চিকিৎসা করা উচিত এবং এর ভিত্তিতেই সমাধান পেতে হবে। ফিলিস্তিন ইস্যু ইসলামী উম্মত ও তার দুশমনদের মাঝে লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একই ভাবেই আমাদের দুশমন তথা যায়নবাদী গোষ্ঠী ও পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের যাবতীয় পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রীয় বিষয়ও হয়ে দাঁড়িয়েছে অধিকৃত ফিলিস্তিন ইস্যু। আর তাই সকল ইসলামী দেশের ইসলামী স্ট্র্যাটেজী প্রণয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিলিস্তিন ইস্যুকে স্থান না দেয়া পর্যন্ত জাতীয় গণঅভ্যুত্থান, স্বাধনতা, একতা ও লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু কলেমার পতাকা উত্তোলন অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। (ফিলিস্তিন বিষয়ক প্রথম ইসলামী সম্মেলনের রচনাবলী, ১০৯ পৃঃ)]
ফিলিস্তিন আন্দোলনের বিভিন্ন মুখী সংগ্রামের অচলাবস্থা ও ব্যর্থতার পরই এ নয়া চিন্তা-দর্শনের জন্ম হয়। আরো সঠিক অর্থে বলা যায় এ চিন্তা-দর্শন তখনি শক্তি লাভ করে। এভাবে বলা যেতে পারে, ইন্তিফাদা ইসলামী বিপ্লবের সাথে ইসলামী ঝোঁক-প্রবণতার দিক দিয়ে বহু নৈকট্য ও সাদৃশ্যের অধিকারী এবং ইমাম খোমেনী ফিলিস্তিনী জনগণের কাছে চিহ্নিত আদর্শ হিসাবে গণ্য ও সম্মানের পাত্র। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও পথনির্দেশ ফিলিস্তিনী জনতার মনোযোগের বিষয়। আর একারণেই ইমাম খোমেনীর সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তা-দর্শনের প্রতি ফিলিস্তিনের ইন্তিফাদা আন্দোলন যথাযথ মর্যাদা দান করছে। কেননা ফিলিস্তিনী মুসলমানগণ ইমামকে ইসলামী আন্দোলনের পুনরুজ্জীবনকারী বলে গ্রহন করে নিয়েছেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28839531 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28839531 2008-09-06 15:41:52
একটি রক্তাক্ত ভুখন্ডের লাল ইতিহাস-৬ গাজা-আরিহা আপোষদফা

ইন্তিফাদা আন্দোলন জন্ম নেয়াটা একদিকে শরণার্থী ফিলিস্তিনীদের মাঝে আশা-ভরসার আলোকচ্ছটা দেখা দেয় এবং অন্যদিকে ইসরাইল গুরুতরভাবে বিপদ অনুভব করে। একারণেই দখলদার সরকার বেকায়দায় পড়ে গিয়ে আপোষের জন্য তৈরী হয়। অথচ এতোদিন যাবত ফিলিস্তিনীদের ন্যূনতম ও নামকা ওয়াসে- স্বীকৃত অধিকারসম্বলিত যাবতীয় ইশতেহার ও পরিকল্পনাকেও ইসরাইলী যায়নবাদীরা শক্ত হাতে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং নিরাপত্তা পরিষদের ২৪২ ও ৩৩৮ নম্বর ইশতেহারকে অস্বীকার করেছে। রিগান শান্তি পরিকল্পনাসহ এ ধরনের বহু পরিকল্পনাকেই ইসরাইল পদতলে পিষ্ট করেছে। মূলত যে কোন রাজনৈতিক সমাধান প্রত্যাখানের পেছনে যে কারণটি নিহিত ছিল তা হচ্ছে যায়নবাদী ইয়াহুদীরা ফিলিস্তিন নামক কোন জাতির ঐতিহাসিক পরিচয়কেই ভিত্তিহীন বলে মনে করতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইন্তিফাদার আতঙ্কে আমেরিকা ও ইসরাইল ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা পিএলও’র সাথে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়। সোভিয়েত রাশিয়ার পতন এবং একমুখী বিশ্ব ব্লক সৃষ্টি হওয়ার কারণেও আমেরিকা চাচ্ছিল যত দ্রুত সম্ভব সঙ্কটের কেন্দ্রগুলো বিশেষ করে বৈশ্বিক বিপদাপদের উৎস মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তি ও সংকটের আগুনকে নিয়ন্ত্রণ করতে ও নিভিয়ে ফেলতে। কেননা এতে করে ইউরোপ ও জাপানের প্রভাব, এমন কি ইসলামপন্থী আন্দোলনকে ঠেকাতে ও নিশিহ্ন করতে পারবে।
এদিকে ফিলিস্তিনী আপোষকামী মহলও ইন্তিফাদাকে নিজেদের হাতে আলোচনায় দরকষাকষি ও সুবিধা আদায়ের ধারালো অস্ত্র মনে করে ফল ভোগের জন্যে আপোষের আলোচনায় অবতীর্ণ হয়।
১৯৯৩ খৃস্টাব্দের নয়ই সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার চেয়ারম্যান হিসাবে ইয়াসের আরাফাত আইজাক রাবিনের কাছে লিখিত এক পত্রে ইসরাইলের অসি-ত্ব স্বীকার করে নেয় এবং ইসরাইলকে স্বীকৃতি দানমূলক সকল আন্তর্জাতিক ইশতেহার ও বিধি মেনে নেয়বার ঘোষণা দান করে। এছাড়া পিএলও সনদের যে অংশে ইসরাইলের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়েছিল তা বাতিল বলে ঘোষণা দেয়া হয়। আইজাক রবিনও একই দিনে জবাবী পত্রে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থাকে ফিলিস্তিনী জনতার প্রতিনিধি হিসাবে স্বীকৃতি দেয় এবং এর সাথে আলোচনার বিষয়টি ইসরাইলী ক্যাবিনেটে অনুমোদন করিয়ে নেয়। ইয়াসির আরাফাত ও আইজাক রাবিন কতিপয় আলোচনার পর সতেরো দফাবিশিষ্ট এক খসড়া সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করে। এ সমঝোতায় জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের কিছু এলাকা (আরিহা) ও গাজা অঞ্চলের উপর ফিলিস্তিনীদের স্বায়ওশাসনকে মেনে নেয়া হয়।
আমেরিকা ও ইসরাইল কর্তৃক এ চুক্তি মেনে নেয়ার আসল মতলব ছিল ফিলিস্তিনীদের ভেতর ফাটল ধরানো এবং ইন্তিফাদার বিপ্লবী আগুনকে ফিলিস্তিনীদের দিয়েই নিভিয়ে দেয়া। এ আপোষ সমঝোতার আরেকটি ফল এই হয়েছে যে, প্রতিক্রিয়াশীল আরব সরকারগুলো কর্তৃক ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার পথে বিদ্যমান সকল বাধা-বিঘ্ন সরিয়ে রাস্তা মসৃন করা। এরা ইসরাইলকে এলাকায় একটি আইনানুগ ঘাঁটি হিসাবে গ্রহণ করে নিয়েিছল। ইসরাইলের পক্ষ থেকে এ চুক্তি মেনে নেয়াটা এক ধরনের পশ্চাদপসারণই ছিল। এর আসল কারণ ইন্তিফাদার বিপদ সম্পর্কে ইসরাইলীদের ভীষণ ভয় ও উদ্বেগ। তবে নিশ্চিত করেই বলা যায়, এ সমঝোতা ফিলিস্তিনী জাতির সংগ্রামের সুমহান লক্ষ্য-আদর্শ থেকে অনেক ব্যবধান রয়েছে।
ইসরাইলকে স্বীকৃতি দান ভবিষ্যত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ও মুসলিম উম্মার জন্যে দারুন বিপর্যয় ডেকে আনবে। এ অপরাধের দায়-দায়িত্ব কেবল আরাফাত ও পিএলও’র ঘাড়েই বর্তাবে না। যখন এ সমঝোতার প্রতি ব্যাপক ও গভীর দৃষ্টিকোণ থেকে তাকাবো এবং ইমাম খোমেনীর চিন্তা-দর্শনের আলোকে বিচার করবো তখন দেখতে পাবো যে, এ গুনাহ ও অপরাধের দায়-দায়িত্ব সকল ইসলামী সরকারের ঘাড়েই বর্তিয়েছে। কেননা এরা সবাই এ ধরনের যিল্লতিপূর্ণ পরিসি'তি সৃষ্টির জন্যে দায়ী।
যা হোক এই আপোষকামী নয়া তৎপরতার ফলাফল ও ভাগ্য সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যদিও অনেক সময়ের দরকার এবং আগামী বছরগুলোই বাস-বতাকে তুলে ধরবে, তথাপি একথা বলা যায় যে, ফিলিস্থিনে প্রতিরোধের লীজ তার ইসলামী আকিদা বিশ্বাসগত উর্বর ক্ষেত্র খুঁজে পেয়েছে এবং ফিলিস্তিনী সাধারণ মুসলমান জনতার ঈমান ও আদর্শ এমনি এক ফল ধারায় পরিণত হয়েছে যে, তা প্রতিরোধের বীজ ও অঙ্কুরকে অবারিত পানি দিয়ে বড় করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আর তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা করা যায় যে, প্রতিরোধ ও আন্দোলনের এক বিশালদেহী চিরসবুজ বৃক্ষ তার জটাজাল বিস্তার করে মাথা তুলে চিরন্তন হয়ে দাঁড়াবে। এর সুস্পষ্ট লক্ষন ও নমুনা অত্যন্ত পরিস্কার। আর এটাই সেই ভবিষ্যত ইমাম খোমেনী যার প্রতীক্ষা করে গেছেন এবং তাঁর সমগ্র জীবন ও সংগ্রামব্যাপী এর বাস্তবায়ন দেখার জন্যে দুঃখ-কষ্ট সয়ে গেছেন এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28837927 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28837927 2008-09-02 19:40:01
যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র খুঁজছে : রাশিয়া জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিন বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলো ককেশাস সংঘাতের মূল কারণ উপেক্ষা করার চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে রাশিয়া কর্তৃক দক্ষিণ ওসেটিয়া ও আবখাযিয়ার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়ার নিন্দা জানানোর পর মিস্টার চুরকিন ঐ মন্তব্য করেন। ঐ বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দাবি করেন, একটি স্বাধীন দেশ জর্জিয়ায় হামলা চালানো রাশিয়ার উচিত হয় নি। এর জবাবে রুশ প্রতিনিধি ইরাকে ইঙ্গোমার্কিন আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "আমি যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানিত প্রতিনিধিকে এই প্রশ্ন করতে চাই যে, আপনাদের গণবিধ্বংসী অস্ত্রের কী হলো? ইরাকে কী তা খুঁজে পেয়েছেন, নাকি এখনো খুঁজছেন?" জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ প্রতিনিধি বলেন, আন্তর্জাতিক সমাজ দক্ষিণ ওসেটিয়ায় জর্জিয়ার আগ্রাসনের ব্যাপারে নীরব ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু ইউরোপীয় দেশ এখন জর্জিয়াকে সমরাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে, যা স্পষ্ট উস্কানির শামিল।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28836652 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28836652 2008-08-30 13:47:02 একটি রক্তাক্ত ভুখন্ডের লাল ইতিহাস -৫ ইসলামী জাগরণেরই আকারে অংশ ইন্তিফাদা
১৯৮৭ সালে এপ্রিলে আম্মানে আরব শীর্ষ সম্মেলন বসে এবং নজীর-বিহীনভাবে এ সম্মেলন যায়নবাদী সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালানোর ক্ষেত্রে ন্যূনতম নীতি-অবস্থানও গ্রহণ করেনি। সম্মেলনের সকল মনোযোগই নিবদ্ধ ছিল ইরান ও ইরাকের যুদ্ধের দিকে এবং সামগ্রিকভাবে এ সম্মেলন ক্যাম্প ডেভিড লাইন ধরে এগিয়ে যায়।এদিকে ফিলিস্তিনী জাতি বছরের পর বছর অপেক্ষা করছিল যে, আরব জগত তাদেরকে বাস'হারা অবস্থা থেকে নাজাত দেবে । বিশেষত অধিকৃত ফিলিস্থিনে বসবাসরত ফিলিস্তিনী জনগণ তাকিয়ে ছিল আরব সরকারগুলোর দিকে।
এই মজলুম জাতি ফিলিস্তিনী দল,গ্রুপ ও সংগঠনগুলোর আত্মবিস্মৃতি, ভোগ বিলাস, বিভেদ, অনৈক্য ও দল ভাঙ্গাভাঙ্গির পরিপ্রেক্ষিতে এবং ফিলিস্তিনী জনতার দুর্দশাগ্রস্থ অবস্থার প্রতি আরব সরকারগুলোর প্রকাশ্য উদাসীনতা ও অবহেলা প্রত্যক্ষ করে আরব জাতীয়তাবাদী চিন্তাদর্শনের কার্যকারিতা এবং সরকারগুলোর পৃষ্ঠাপোষকতা ও সর্মথন সম্পর্কে একেবারে সকল আশা-ভরসার অবসান ঘটায়। অন্যদিকে ইসলামের উপর আশা-ভরসা স্থাপন ও আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে ওঠে, বিশেষত ইরানে ইসলামী বিপ্লবের বিজয় থেকে তারা শিক্ষা গ্রহন করে।
আর এ ঠিক এসময়ই মক্কা শরীফে বায়তুল্লাহ আল হারামের মেহমান ইরানী হাজীদের পাইকারী হারে হত্যা করে সউদী শাসকগোষ্ঠী। এ রক্তাক্ত পাশবিক ঘটনায় চার শতাধিক হাজী মুশরিকদের সাথে বারায়াত ঘোষণা (সম্পর্কচ্ছেদের) এবং আমেরিকা ও ইসরাইল মুর্দাবাদ শ্লোগান দানের অপরাধে শাহাদত বরণ করেন। এদের ভেতর প্রায় দশজনের মতো হাজী ছিলেন অধিকৃত অঞ্চলের ফিলিস্তিনী। এই শহীদের জানাযা মিছিল ও শোকানুষ্ঠান অধিকৃত ফিলিস্তিনের রামাল্লাহ ও আলখলিল শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। এ সমস- ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৭ সালের হেমন্তকালে অধিকৃত ফিলিস্তিনের অধিবাসীরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে সংগ্রামের নয়া ধারা ও গণঅভ্যুাত্থানের সূচনা ঘটায় -যার নাম দেয়া হয় ইন্তিফাদা। ইন্তিফাদার অর্থ নাড়া দেয়া, নড়ে ওঠা, ঝাঁকুনি দেয়া। পাখীরা যেমন গোসল সেরে ভেজা শরীররটাকে হালকা করা ও আকাশে ওড়ার জন্য পাখা ঝাঁপটায় তেমনি এ ধরণের নাড়াকে বলে ইন্তিফাদা । ইন্তিফাদা ভেজালকে দূর করে খাঁটি হওয়ার গণঅভ্যুত্থান যাতে বিজয়ের আকাশপানে জনগণ পাখা মেলতে পারে। ইন্তিফাদার আগপর্যন্ত সকল আন্দোলন ও অভ্যুত্থানই ছিল বিশেষ কোন দল বা গ্রুপের সাথে সংশ্লিষ্ট । যেমন ‘ফাতাহ’ আন্দোলন’ যা ১৯৮৩ সালের মে মাসে আরাফাতের নেতৃত্বোধীন আল্‌ ফাতাহ থেকে আলাদা হয়ে যায় । কিন্তু এবার (১৯৮৭) এই ইন্তিফাদার আগে বা পরে কোন বিশেষণ যুক্ত হয়নি। এই ইন্তিফাদা আন্দোলন ছিল গণপ্রতিবাদ বা গণঅভ্যুত্থান । ফিলিস্তিন দখলদারী অব্যাহত রাখার প্রতিবাদ এই ইন্তিফাদার লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও ফলাফল হচ্ছে এরূপ ঃ
১. বিস্মৃতির আঁস্তাকুড় থেকে ফিলিস্তিন ইস্যুকে বের করা।
২. বিশ্ব জনমতের দৃষ্টি আকর্ষণ।
৩. এলাকাব্যাপী ইসলামী আন্দোলনের উত্তাল তরঙ্গের সাথে ইন্তিফাদাকে সমম্বিত করা যা ইন্তিফাদার চেহারাই সবিশেষ রূপ দান করে।
৪. ফিসি-ন সমস্যা সমাধানকে জরুরী পরিকল্পনা হিসাবে উপস্থান।
৫. ফিলিস্তিন ইস্যুর সাথে পশ্চিম ইউরোপকে ঘনিষ্ঠ করা।
৬. এমন কি আমেরিকা ও ইয়াহুদীদের মনেও ইসরাইলের রাজনৈতিক সঠিকতা সম্পর্কে সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি করা। এর ফলে অনেক ইয়াহুদী এ মতে বিশ্বাসী হয় যে, ইসরাইলের চেহারাকে আরো নিন্দনীয় (গণআন্দোলন ও যায়নবাদী সৈন্যদের গণনির্যাতন ও দমনাভিযান) হওয়া থেকে ফিরিয়ে রাখতে হলে ফিলিস্তিনীদের কিছু সুযোগ -সুবিধা দেয়া আবশ্যক।
৭. যায়নবাদীদের অস্তিত্বের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে হুমকিপূর্ণ করা।
৮. ফিলিস্তিনীগ্রুপগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মতভেদকে ম্লান করে দেয়া এবং সরকারগুলো ও আন্তর্জাতিক সমাজকে জনমতের অনুসারী করা -যারা এতোদিন নিজ নিজ স্বার্থে ফিলিস্তিন ইস্যুকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে আসছিল। ফিলিস্তিন জবর দখল এবং যায়নবাদী ইয়াহুদী সরকার প্রতিষ্ঠার চল্লিশ বছরেরও বেশী পর ইন্তিফাদার ফলে এই প্রথম ফিলিস্তিনী জনগন আক্রমণাত্মক ও ইসরাইলীরা আত্মরক্ষামূলক ভূমিকায় নামে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28835618 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28835618 2008-08-27 15:16:48
ইরান 'কায়েম' নামের নতুন ডুবোজাহাজ তৈরি শুরু করেছে ২৫ আগস্ট : ইরান 'কায়েম' নামে নতুন ডুবোজাহাজ তৈরি শুরু করেছে। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোস্তফা মোহাম্মদ নাজ্জার আজ এই ডুবোজাহাজ তৈরির কাজ উদ্বোধন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের যুদ্ধ জাহাজের বহর পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা হবে বলে খবর প্রচারিত হওয়ার পর এই ডুবোজাহাজ তৈরির ঘোষণা দেয়া হলো। সেমি হেভি সাবমেরিন 'কায়েম' নানা ধরণের টর্পেডো এবং পানির নিচ থেকে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে ও ছুঁড়তে পারবে। এই ডুবোজাহাজ নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জনাব নাজ্জার বলেছেন, ইরান সকল ধরণের সামরিক যান নির্মাণের ক্ষেত্রে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ভূমি বা পানির নিচ থেকে নিক্ষেপণ যোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মত নতুন রণ-সম্ভার তৈরির মাধ্যমে ইরানের নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, রণ-কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে উপস্থিতির মাধ্যমে ইরানের বাহিনী পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করছে। তিনি বলেন, বিদেশী বাহিনীর উপস্থিতি পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এই সব বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়া হলে এই অঞ্চলে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে।#
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28835230 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28835230 2008-08-26 16:21:42
ঘোড়া একবারই একটি ডিম পেড়েছিল একইভাবে আমরা এই বিশাল সৃষ্টিজগতের একটি সৃষ্টজীব যে নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করিনি বরং তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আমি যদি নিজেকে সৃষ্টি করতাম তাহলে অবশ্যই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি রূপে তৈরী হতাম। শুধু তাই-ই নয় আমার বর্তমান অস্তিত্বকে আমিই যদি সৃষ্টি করে থাকবো তাহলে আমার এই সৃষ্টির পূর্বে আমার অস্তিত্ব অনিবার্যবশত থাকতে হবে; যা সম্পূর্ণ রূপে একটি অসম্ভব কল্পনা।
এমনকি আমরা যদি মনে করি আমাদের মত কোন সৃষ্টি আমাকে অস্তিত্ব দান করেছে সেক্ষেত্রেও ঐ একই প্রশ্নের সম্মুখীন হব। যে সত্তা আপন অস্তিত্ব লাভে অন্যের মুখাপেক্ষী সে কিভাবে তার মত অন্য একটি অস্তিত্বকে সৃষ্টি করবে ? আর যদি এমনটি ধারণাও করি যে অন্য একটি সৃষ্টি তাকে অস্তিত্ব দান করেছে; এভাবে সৃষ্টি পরম্পরায় অপর সৃষ্টিকে অস্তিত্ব দান করে আসছে। তাহলে প্রথম সৃষ্টিকে কে অস্তিত্ব দান করলো? এভাবে এই সৃষ্টিচক্র একটি পর্যায়ে যেয়ে অবশ্যই পরিসমাপ্ত হতে হবে নতুবা এটা হবে একটি দুষ্ট চক্র যা দর্শনে বাতিল যুক্তি বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আর এছাড়া সৃষ্টি অর্থই হচ্ছে যা এক সময় ছিল না এবং এক সময় আবার থাকবে না। তাই এ জাতিয় সত্তার অস্তিত্ব প্রদানে এমন এক শক্তির প্রয়োজন যে এই সৃষ্টি সমূহের পূর্বে থাকবে এবং সৃষ্টি সমুহের স্থায়ীত্ব কালব্যাপী তাকে থাকতে হবে।
এমন কি যদি বস্তুবাদীদের মত ধারণাও করি যে মানুষ প্রকৃতির সৃষ্টি। তাহলে আমরা যে প্রশ্নগুলোর সম্মুখীন হব তাহল প্রকৃতিকে কে অস্তিত্ব দান করলো? আরও একটি প্রশ্ন সৃষ্টির বৈশিষ্ট্যগুলো স্রষ্টার মধ্যে অবশ্যই পূর্ণরূপে অবস্থান করতে হবে। অথচ মানুষের মধ্যে যে বৈশিষ্ট্যগুলো আছে তার অধিকাংশই প্রকৃতির মধ্যে নেই। প্রকৃতি হল সম্পূর্ণরূপে বস্তুসত্তা আর মানব প্রকৃতিতে বস'সত্তা বর্হিভূত বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। প্রকৃতি বা বস্তু অর্থ আধাঁর/ আড়াল তাই বস্তুর বৈশিষ্ট্য হল সে তার নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত নয়। আর এক্ষেত্রে মানুষকে বলা হয় স্বজ্ঞেয় সত্তা যে তার নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত বা জ্ঞান রাখে।
বিরাট বিস্ফোড়নের সূত্রও আরেকটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক গল্প বৈ কিছু নয়। এটা বস্তুবাদী জ্ঞানের চুড়ান্ত ফল হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। এবিষয়টি এমন একটি তথাকথিত বুদ্ধিমান মানুষদের ধরণা যারা নিজেদেরকে বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারক বলে মনে করেন। তাদের সূত্রের সংক্ষিপ্ত রূপ হল বিশ্বে কোন কিছুই ছিল না হঠাৎ মহা বিস্ফোড়ন ঘটে এই মহা জগতের সৃষ্টি হয়েছে। এধরণের যুক্তিশুন্য কথা রাজার নতুন পোষাকের মত জ্ঞানীদেরও বোকা বানিয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথম প্রশ্ন হল, মহাশুন্যের কোন অসি-ত্ব আছে কি ? বস'জগতে [বস'বাদী চিন্তায়] কোন মহাশুন্য কল্পনা করা সম্ভব কি ? আদৌ সম্ভব নয়। আর এধারণা অনুযায়ী ‘কিছুই ছিল না’ থেকে ‘সব কিছু হয়েছে’ এটা ঘোড়ার ডিমের মত কিছু যে ঘোড়া কখনো ডিম পাড়ে না; কিন' একবারই একটা ডিম পেড়েছে।
আরো মজার ব্যাপার হলো তাদের কথা অনুযায়ী কোন কারণ ছাড়া কার্য সংঘটিত হয় না। অথচ এক্ষেত্রে তারা বোকার মত গ্রহণ করে নিয়েছেন যে এই একটি ঘটনায় কোন কারণের প্রয়োজন পড়েনি।
অতএব বস্তুবাদীদের বস্তুর সীমানায় সৃষ্টিজগতের সূত্র নিয়ে এর বেশী ব্যাখ্যা আদৌ সম্ভব নয়। এমনকি যদি ধরেও নেই যে বর্তমান বিশ্ব একটি বিরাট বিস্ফোড়নের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে তাতে ইসলামী ধারণার কোন অসুবিধা নেই। কেননা ইসলামী চিন-ায় যে বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয় সেটি হল বিষ্ফোড়ন হোক আর যাই হোক না কেন এর পিছনে স্রষ্টার পরিকল্পিত শক্তি কাজ করেছে। যে শক্তি এই বিস্ফোড়নের পূর্বে ছিল এবং সবশেষেও এই মহাশক্তি অবশিষ্ট থাকবে ।
তাই একটি বিষয় আমাদের কাছে স্পষ্ট থাকতে হবে যে এই বিস্ফোড়ন সৃষ্টির পূর্বে এমন কোন অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকতে হবে যে অস্তিত্ব তার বিজ্ঞবান পরিকল্পনার ভিত্তিতে এ বিস্ফোড়ন ঘটিয়েছেন।
শেষের এই ধারণাটুকু উপরের ধারণার সাথে সংযোগ করলে বিষয়টি সম্পূর্ণ যুক্তির ছকে দাড় করানো সম্ভব। নতুনা বিষ্ফোড়নের সূত্র রাজার নতুন পোষাক গল্পে ছোট শিশুর মতো ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের মানুষরাও এই সূত্রের তথাকথিত জ্ঞানীদের মুখোশ উন্মোচন করতে সক্ষম। অবশ্য শেষোক্ত ধারণাটুকু তাদের কাছে প্রত্যাশা করা চলে না। কেননা এটা সম্পূর্ণ বস্তুবাদী বিশ্বের বাইরের কথা তাই এই কথায় তাদের আসতে হলে বস্তুর সীমানা পাড়ী দিতে হবে।
একথাগুলো উল্লেখ করার একমাত্র উদ্দেশ্য হল মহান স্রষ্টা অতি সুন্দর পরিকল্পনায় এ বিশ্বকে সাজিয়েছেন । আর এই বিশ্বের রাজমুকুট স্বরূপ সৃষ্টি করেছেন মানুষকে। এজন্য আল্লাহ বলেছেন আমি ভূ-পৃষ্ঠে আমার প্রতিনিধি পাঠাতে চাই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28832899 http://www.somewhereinblog.net/blog/Jagaronblog/28832899 2008-08-20 20:34:47
একটি রক্তাক্ত ভুখন্ডের লাল ইতিহাস [৪] Click This Link
ছয় দিনের যুদ্ধ

১৯৬৭ সালের পাঁচই জুন ইসরাইল অতকির্তে মিশর, সিরিয়া ও জর্দানের বিমানবন্দগুলোতে হামলা চালিয়ে আরবদের সাথে যুদ্ধ শুরু করে। এ যুদ্ধে জর্দান নদীর পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা, সিরিয়ার গোলান পার্বত্যাঞ্চল ও মিশরের সিনাই মরু এলাকা ইসরাইলের দখলে চলে যায়। আরব-ইসরাইলের এ যুদ্ধ ছয় দিনের যুদ্ধ বলে পরিচিত। এ যুদ্ধের পরাজয় থেকে আরবরা যে প্রত্যক্ষ শিক্ষা গ্রহন করলো তা হচ্ছে এরা ক্লাসিক যুদ্ধে ইসরাইলকে পরাজিত করতে পারবে না। কেননা ইসরাইলের হাতে রয়েছে ইউরোপ ও আমেরিকার অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র। তাই তারা গেরিলা গ্রুপগুলোকে শক্তিশালী করে সংগ্রামের সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে জাতিসংঘ ইশতেহার পাশ করে ইসরাইলকে অধিকৃত এলাকাসমূহ হতে পিছিয়ে আসার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ইসরাইল তাতে মোটেও কর্ণপাত করেনি। উল্টো জর্দানের পরিচালনাধীনে ন্যস- বায়তুল মুকাদ্দাস শহর, বেথেলহাম (বায়তুল লাহম) এবং ২৭টি গ্রামকে জবরদখল পূর্বক ইসরাইলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে ঘোষণা দেয়। ইসরাইল বায়তুল মুকাদ্দাসের তিন হাজার সংখ্যক ইয়াহুদী জনতাকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেয়ার লক্ষ্যে এদের সংখ্যা এক লাখ নব্বই হাজারে পৌঁছায়। ১৯৬৯ স