স্বয়ংক্রিয় কর ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে এখন করদাতারা নিজেই আয়করের পরিমাণ নিরূপণ করতে পারবেন।
গত বছর কর ক্যালকুলেটর চালু করা হলেও প্রচার-প্রচারণার অভাবে এর ব্যবহার খুব একটা হয়নি। তবে এবারের আয়কর মেলায় অনেক করদাতাকেই কর ক্যালকুলেটর ব্যবহারে আগ্রহী হতে দেখা গেছে। আর এ কাজে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সহায়তা বুথের কর্মকর্তারা সহায়তা দেন।
মেলার তৃতীয় দিনে গতকাল সোমবারও করদাতাদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
কর ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে করদাতা নিজের মোট আয় নির্দিষ্ট ঘরে বসিয়ে দিলে তাঁর করযোগ্য আয়করের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানতে পারেন।
যেভাবে ব্যবহার করবেন: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইটে কর ক্যালকুলেটরটি সন্নিবেশিত রয়েছে। এনবিআরের ওয়েবসাইটের ঠিকানা হলো: http://www.nbr-bd.org। কর ক্যালকুলেটরের ছকে আয়ের নয়টি খাত রয়েছে। খাতগুলো হলো: বেতন, সিকিউরিটিজের সুদ, বাড়িভাড়া, ব্যবসায়, কৃষি, ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের লভ্যাংশ, স্ত্রী ও সন্তানের আয়, মূলধনি মুনাফা ও অন্যান্য খাতের আয়। তবে এসব উপখাতের মধ্যে বেতন ও বাড়িভাড়ার আয়ের বিস্তারিত উল্লেখ করতে হবে। আবার এসব আয়ের কোন অংশ বিনিয়োগ করা হলো, তা-ও বিস্তারিত থাকতে হবে।
সর্বোপরি এসব আয়ের মধ্যে কোনো কর রেয়াত থাকলে তার পরিমাণ মোট আয় থেকে বাদ দিতে হবে। এরপর মোট আয়ের পরিমাণ লিখলেই আরোপযোগ্য আয়করের পরিমাণ জানা যাবে। আর কর ক্যালকুলেটরে যেকোনো আয়ের পরিমাণ করবর্ষ অর্থাত্ ১২ মাসের মোট আয় লিখতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কোনো চাকরিজীবীর যদি বেতন ছাড়া আর কোনো আয়ের উত্স না থাকে এবং তাঁর যদি বার্ষিক আয় দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা হয়। তবে কর ক্যালকুলেটরের বেতন খাতে বার্ষিক বেতনের পরিমাণ লিখলেই দেখা যাবে, তাঁর আয়করের পরিমাণ সাত হাজার টাকা হবে।
এ প্রসঙ্গে মেলা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি এম এ কাদের সরকার প্রথম আলোকে জানান, এবারের কর মেলায় ক্যালকুলেটর ব্যবহারে করদাতাদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। তবে যে কেউ চাইলে বাসায় বসেই এই কর ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে নির্ধারিত বার্ষিক আয়কর বিবরণী প্রস্তুত করতে পারেন।
মেলায় আসা একজন করদাতা বলেন, ‘কর ক্যালকুলেটরের কথা আগে জানতাম না। আগে জানলে বাসায় বসেই আয়করের হিসাব-নিকাশ করা যেত। এবার মেলায় এসে কর ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে আয়করের পরিমাণ হিসাব করেছি।’
রাজধানীতে আয়কর মেলার তৃতীয় দিন গতকাল সোমবার পর্যন্ত নতুন কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নিয়েছেন মোট এক হাজার ৪৩৯ জন। আর বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দিয়েছেন নয় হাজার ৮৯৩ জন করদাতা। এতে রাজস্ব পাওয়া গেছে ২৪ কোটি ৩২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
ঢাকাসহ সাতটি বিভাগীয় শহরের আয়কর মেলা থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত মোট দুই হাজার ৩১১ জন নতুন টিআইএন নিয়েছেন। আর বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা পড়েছে ১৫ হাজার ৯৫০ জন করদাতার। এতে রাজস্ব পাওয়া গেছে ২৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
সূত্রঃ প্রথম আলো।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


