ঈশ্বর খুব অবাক হইয়া জানতে চাইলেন,‘তোর আবার মামলা কী? তুই নিজেই তো হাজার মামলার আসামী?’
হোসেইন মাথা চুলকাইয়া মিটিমিটি হাসে।ঈশ্বরকে এখন প্রসন্ন মনে হইতেচে।তিনি মামলা চালাইতে অনুমতি দিবেন,কারন উকিল মাকুন্দারে দেইখা তিনি বড়োই প্রীত।একটা লাইভ কার্টুন।এ ছাড়া দুই পা বিশিষ্ঠ ছাগল আছে একটা,উইকিপিডিয়ার ডাস্টবিন থাইকা কাগজটুকাইয়া নিজের জীবনী লেইখা নিজেই বিলি করতেছে মঘা ইউনানীর লিফলেটের মতোন।
এই ঝামেলার দিনে এই সব বিনোদন কাচে থাকলে ঈশ্বরের কিছু কাজের চাপ কম মনে হয়,কিচুটা রিলাক্স থাকন যায়।
হোসেইন তার মামলার আর্জি জানাইলো:
‘হুজুরে আলা,আমি হোসেইন।মানুষ খারাপ সেইডা স্বীকার করি।তয় আমার লগে অবিচার করছে আচুলের দল।’
ঈশ্বর জিগাইলেন,‘ আচুল জিনিষটা কী?’
:আচুল হইলো গিয়া আচুল।আবাল কইতে নিষেদ আচে,তাই সেইডারে বাংলা কইরালাইচি’।
ঈশ্বর মুচকি হাইসা কইলেন,‘ঠিক আচে, প্রসিড।’
হোসেইন কইতে থাকলো,‘হুজুরে আলা,আমার একখান মাত্র নিক,হাজার নিকের স্কৃপ্ট লেখার ক্ষমতা আমার নাই।তো আমার একখান নিক নিয়াই আমি ব্লগাই।গালি দেই আর ভালা কথা কই,একখান নিক নিয়াই কই।
এখন কিছু মাইনষে কয়,হোসেইন তুমি তো লেখালেখিতে ফাকি দিলা সবসমুয়।এইডা ঠিক না,কিছু লেখালেখি করো।আর কতো ছাগল নিয়া লেখবা,এখন অন্য কিছু নিয়া লেখো।তো আমি ভালা ভালা জিনিষ লেকা শুরু করলাম।এই ধরেন গিয়া কিচু কবিতা লিকচি,পাবলিক পইড়া মন্দ কয় নাই।দুইটা গল্প লিখার প্লট যোগাড় কইরা রাখছি,সেই সমুয় আমারে দিসে ব্যান কইরা।যখন গালিবাজ আচিলাম,তখন ব্যান করলে কতা চিল না,মাগার যকন ভালা লিখা শুরু করলাম,তকন ব্যান করলো,এইডা কি নায্য হইলো? এইটা হইলো আমার বিচার।আমি সুবিচার প্রার্থী।’
ঈশ্বর আচুলদের উকিল ,উকিল মাকুন্দার দিকে তাকাইলেন।মাকুন্দা হা কইরা মামলা গিলতাচে,তার
আলজ্বীব বাইরাই পড়ছে।ঈশ্বর কইলেন,‘মাকুন্দা,তুমি কি কিচু কইবা?’
মাকুন্দা কইলো,‘হুজুর,এই মামলা আমি জিতুম।এই মামলার পয়েন্ট আমার কাচে আচে।’
ঈশ্বর কইলেন,‘প্রসিড।’
মাকুন্দা তার টাই নাচাইয়া লেকচার দিতে লাগলো,‘হুজুর,আমাদের হুজুরে আলা সাহেব ছাগল পুষে।এইডা কি অন্যায়?’
ঈশ্বর কইলেন,‘ না,ছাগল পুষা অন্যায় হইব কেন?অন্যায় নয়।’
মাকুন্দা কইতে থাকলো,‘এই ছাগলদের আবার একটা সমস্যা হইলো গিয়া তাগো ব্যাকসাইড রেস্টে থাকলে আরাম পায় না।’
ঈশ্বর এই বার জিগাইলেন না,ব্যকসাইড কী জিনিষ।তিনি বুজতে পারচেন যে আইন কানুন ঠিক রাকার জন্য আচুল যেমন তৈরী হইচে, ুটি ’র তেমন ইংরেজী করা হইচে।
মাকুন্দা প্রসীড করতে থাকলো,‘ তো একন এই চাগলরা বহুদিন ব্যাকসাইডে হোসেইনের হামলায় বিশাল আনন্দ পাইতো।এডিরে কয় মর্ষকামীতা।কারন হোসেইনের লাঠি বিশাল এবং শক্ত।’
ঈশ্বর জিগাইলেন,‘ এই জন্য কি তারা হোসেইনের বিরুদ্ধে বলপূর্বক ক্রিয়াদি সম্পন্ন হইবার কুনু মামলা তাগো পিতার কাছে তুলিয়াছিল?’
মাকুন্দা হাইসা কয়,‘জ্বিনা,এইডাতো তাগো অভ্যাস হয়া গেচিল।’
‘তাইলে সমইস্যাটা কী?’ঈশ্বরের কোশ্চেন।
মাকুন্দা কইলো,‘ হোসেইন ভালো লেখালেখিতে মন দিচে এইডাই হইলো সমুস্যা।এইডাই কমপ্লেন।হোসেইন আর এ-টিমের বেবাকতে যুদি ভালো লেখালেখি করে তাইলে ছাগুর পাছায় মরিচ ডলবো কে?আমগো মালিক কি তার পেয়ারের ছাগলের এই কষ্ট সইতে পারে?
হোসেইন আত্মপক্ষ সমর্থন করতে লাগলো,`হুজুরে আলা,আমি তো শেষমেষ গাইল দিচি বাধ্য হইয়া।আমি তো চুতিয়া কইছি।'
মাকুন্দা কয়,`চুতিয়া কুনু গাইল হইলো?চুতিয়ারে চুতিয়া কইলে গাইল হয় সেইডা?'
ঈশ্বর হাসিয়া রুলিং প্রকাশ করিলেন:
‘হোসেইনের ভালো লেখালেখি একটা অপরাধ।হোসেইন ভালো লিখিতে পারিবে না।হোসেইনের কাজ হইলো ছাগুর ব্যকসাইড মারা।তাকে এই কাজে নিয়োজিত কইরা পুনরায় দুনিয়ায় প্রত্যাবর্তন করার আদেশ দেয়া হইলো।তারে নতুন নতুন গাইল শিখিতে হুকুম দেয়া হইলো।মামলা ডিসমিস।’
বেচারা হোসেইন আর কী করে?
ভালো লেখালেখির ইচ্ছা বাদ দিয়া,ছাগুর ব্যাকসাইড মারার মহান ব্রত লইয়া পুনরায় সামহোয়্যারে ফিরিয়া আসিল।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৯:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



