ব্লগে ব্যান খাইয়া মনটা খুবই খারাপ হইছিল।আমি এমন কুনু জিনিষ লিখি না যে ব্যান খাইয়া ফালামু।কমেন্ট যা-ই দেই ,পোস্টে আমি আইনের ফাক দিয়া লিখি(ফাক আমার খুব পছন্দ)।
তারপর একটা রি-একশন পোস্ট দিলাম।সেই পোস্টে কইলাম ব্লগ যারা এখনতারি ছাড়ে নাই,তাগোরে ধইরা রাখতে চাইলে মুটামুটি দুই একটা বাংলা বইটই পড়ছে,কমসে কম হুমায়ূন আর মিলনের নাম জানে,এই রুম কাউরে দিয়া যেন মডারেশন করা হয়।কাশেম বিন আবু বকর ছাড়াও দেশে আরো অনেক লেখক আছে,তারা ভালো মন্দ লেখে,তাগোটাও পড়ছে,না পড়লেও অন্তত:তাগো নাম পেপার পত্রিকায় দেখছে এরুম পাবলিক দিয়া যেন মডারেশন করা হয়।
তারপর কইলাম,ব্যান করছেন ভালো কথা,কারনটা কইয়া ব্যান করেন।সেইডা কওনের হ্যাডম কাউরো নাই,বরং এই সব কথা কওনের অপরাধে আমার দুইটা নিকের দুইটাই ব্যন করলো,এমুনকি আমারে আই.পি শুদ্ধা ব্যান কইরালাইল।নতুন নিক নিতে পারি না।
তারপর ভাবলাম এই বালের ব্লগ জীবন আর না।বহুত হইছে।লেখালেখি কইরা আমি রবীন্দ্রনাথের মতোন নোবেলও পামু না,হুমায়ূনের মতোন বুড়া বয়েসে ছুড়ি বউও পামু না।তাইলে কিয়ের এই বেহুদা লেখালেকি।
কিন্তু আমার পার্সোনাল ইমেইল একাউন্ট খুইলা তো এক্কেরে মাথায় হাত দিবার যোগাঢ়।বহুত পাবলিক আমারে তাগো সেকেন্ড নিক পাঠাইছেন।কয়েকজন পাঠাইছেন কয়েকটা প্রক্সি সাইটের ঠিকানা,যে গুলান দিয়া আমি আই.পি লুকাইয়া ব্লগ চালাইয়া যাইতে পারব।
এমন অনেকে মেইল দিসেন,ব্লগে যাগো লগে আমার কোন
ইন্টারেকশনই নাই।তারা আমারে সাহস দিছেন,আমার পাশে আছেন জানাইছেন,আমারে উৎসাহ দিয়া ভালো ভালো লেখায় মনোযোগ দিতে কইছেন।কেউ কেউ আমারে তাগো সাইটে নিমন্ত্রন জানাইছেন,তাগো গ্র“পে এড করছেন।
আর এ-টিম তো রাইত হইতে এক্কেরে ঝাপাইয়া পড়লো।ডাক্তার আঈজুদ্দিন আমার পোস্টখানি পরথম তার ব্লগে প্রকাশ করলো।(হোসেইনের পার্সোনাল নীতিমালা)তারপর কমসে কম ২০/৩০ জন পাবলিক সেই একই পোস্ট বারবার পোস্টাইল।সাধের নোটিশ বোর্ড কতোজনরে ব্যান করবা কও?
ব্লগ জীবনের যোগাযোগরে আমি সবসময় ব্লগেই রাখতে চাই।তার বাইরে আমি সাধারনত:কারো সাথে ইমেইল বা চ্যাটে আসি না।আর বইমেলায় দল বাইন্ধা যাওয়া,আজিজে আড্ডা কিম্বা খিচুড়ি খাওয়ার মতো বিষয়ে তো আমি নাইই।(আমার থিওরি অনেকটা হিমু ভাইয়ের মতো,শুনছি তিনিও একটু দূরে দূরে থাকেন।)কারন ব্লগে আমি থাকতে চাই একলা আমার মতোন করে।কার সাথে কখন নীতির প্রশ্নে লাইগা যাইব,তারপর ব্যক্তিগত পরিচয়ের কারনে তার বিরুদ্ধে কথা কইতে পারবো না,এই সমস্যায় আমি পড়তে চাই না।আমি ত্রিভুজের মতুন নীতিবান না,এক সাথে আড্ডা মাইরা পরের সপ্তাহে তার কাপড় খুলবার ঘুষনা দিবার মতোন চশমখোর আমি হইতে পারব না।এর থেকে সবার লগে কিছু দূরে দূরে থাকাই মঙ্গল।এই ব্লগের দুই একজনের সাথে আমার পুর্ব পরিচয় আছে,তাগো ছাড়া আর কারো সাথে আমার নতুন পরিচয় তাই আর হয় নাই।
আমি কতোদিন মনে মনে ভাবি,হয়তো ডাক্তার আঈজুদ্দিন আর আমি পাশাপাশি বাসায় থাকতাম কুনু এককালে,হয়তো পাড়ার বড়ো ভাই হিসাবে তারে কতো সালাম আদাব দিছি।হয়তো রাস্তায় হঠাৎ সিগারেট ধরাইতে গিয়া যে অপরিচিত মানুষটার কাছ থেকে দেশলাই নিলাম,সেই মানুষটাই শমশের।হয়তো যে বাসে চইড়া আমি রোজ অফিস যাই,সেই বাসে করেই অচেনা বাঙালি অফিসে যান।হয়তো আমেরিকার যে স্টোরে আমি কাজ করতাম সেই একই স্টোরে কাজ করতেন দ্রোহী নামের মানুষটা।পৃথিবী আসলে তো খুব ছোট জায়গা।হয়তো ভার্চুয়াল দুনিয়ার বাইরেও আমাদের আরো কোথাও দেখা হইছে।
এই সব মানুষগুলার সাথে আমার কোনদিন সামনা সামনি দেখা হইব না।তবু আমরা সকলে মিলে কী সুন্দর একটা ফ্যামিলি বানাইছিলাম ভার্চুয়াল দুনিয়ায়।কতো একে অন্যের বিপদে পাশাপাশি দাড়াইছি।সেই দিন মনে কইরা,আইজ হইতে দশ বিশ বছর পরে হয়তো আমরা দুনিয়ার কোন আনাচে কানাচে মুচকি হাসবো,হয়তো দুই ফোটা চোখের জলও ফেলব।
ইমেইলের পাহাড় দেইখা আমার বড়ো মন খারাপ হইলো।আমি মন খারাপ হওনের মতো ছেলে না,তবু আমার মনটা আসলেই খারাপ হইলো।
কে কইছে লেখালেখি কইরা কিছু পাইলা না হোসেইন?
এই যে এতোগুলা লোকের ভালোবাসা পাইলা,এই যে এতোগুলা লোক তোমারে ভাই ডাকলো,সেইডা কি কম পাওয়া?
কাঙাল জীবনে তুমি এর চেয়ে বেশি কবে কী পাইছ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



