ঝামেলামানুষ
১০ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৯
ছেলেটা আমার হাত ধরে। আমি একটু ভয় পেয়ে যাই। তার ফাইল পড়া হয়নি এখনো। শুনেছি শুধু তাকে দেখার জন্যই লোক লাগবে একজন।
দ্রুত দেখে নেই আশপাশের অবস্থা আর আ্যলার্ম। খুব স্বাভাবিক গলা রেখে জিেগ্গস করি, তুমি ঠিক আছো? সে আমার হাত ধরে নিয়ে যায় দরজার কাছে। আমি বলি দরজা এখন খোলা যাবেনা। সে তবু হাত ধরে রাখে। খারাপ কিছুর জন্য প্রস্তুত হই। খোলা হাত কে শক্ত করে রাখি নিজেকে রক্ষার প্রয়োজনে। রেগে গেলে ওরা ভয়ংকর শক্তিশালি হয়ে ওঠে। সে কিছু বলে না। আস্তে করে হাত ছেড়ে দৌড়ে অন্য দিকে চলে যায়।
এবার সে আগের থেকে শান্ত অনেক। এখন তার শান্তনা কেই ভয় পেয়ে যাই আমি। শরীর খারাপ? কিংবা বড় কোন ঝামেলা বাধাবে এবার?
ডাক্তার কে ফোন করি। জানা হয় তার ঔষধ বদলে গেছে। খুব শক্ত ঔষধ খাচ্ছে এখন। কারন এতো বেশী চন্চল সে। ক্ষতিকর তার নিজের বা আশপাশের সবার জন্য। ঔষধ খুব ভালো কাজ করছে। তাই সে দরজা খুলে গাড়ির সামনে পড়ে যাচ্ছেনা। ক্লান্ত করে দিচ্ছেনা অন্যান্য দের।
আমি বোকার মতো জিগগেশ করি, ওতো কিছু খেতেও পারছেনা। খেতে গিয়ে আমার কাধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ছে। ঔষধের সাইড এফেক্ট নাতো?
ডাক্তার আমাকে বোঝাতে গিয়ে হাসেন। বলেন ওহে তরুন, ভাগ্য ভালো তুমি ডাক্তার নও। নাহলে এখুনি বুঝিয়ে দিতাম চিকিতসা বিগগান কাকে বলে।
সে মহা আনন্দে ছুটে বেড়াচ্ছে এখান থেকে ওখানে। আমিও ছুটছি সাথে সাথে। চেষ্টা করছি যেন গাছের পাতা খেয়ে না নেয়। লুকিয়ে কিছু মুখে দিয়ে দেয় একটা। ধরা পড়ে হেসে দৌড় দেয় অন্য দিকে।
যেন বাচ্চা খেলা করছে এক। বাচ্চাই তো। আঠারো হয়েছে শুধু। খুব সুন্দর সে। হাসলে মনে হয় দেবশিশু।
হঠাৎ এক হাত কামড়ে অন্য হাত ঢুকিয়ে দেয় ট্রাউজারের পকেটে। আরো সুন্দর করে হাসতে থাকে। প্রচন্ড বিরক্ত হই আমি। এ সমস্যা টা নতুন। তার মা লিখে দিয়েছেন সে প্রতি সন্ধায় এমন করবে। তাকে যেন এই সময় তার রুমে নিয়ে শুইয়ে রাখা হয়।
আমি তাকে ভেতরে নিতে চাইছি। পারছিনা। সে মাঝে মাঝে পকেট থেকে হাত বের করে আমার হাত ধরছে। কিছু একটা দেখাতে চাইছে। গা ঘিনঘিন করছে আমার। একা রেখেও যেতে পারছিনা। সে ক্ষতিকর নিজের বা আশপাশের সবার জন্য।
কদিন আগে তার এবং বাকি সবার নিরাপত্তা নিশ্চি্ত করা হয়েছে। পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে পাঠিয়ে দেয়া হবে দুরে কোথাও। এরকম অন্য ছেলে মেয়ে দের সাথে।
সব জায়গা থেকে মত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে আমি লিখলাম, তার শারীরিক অবস্থা পরিবার জন্য খুবই দুশ্চিনতা এবং দী্রঘ অসুবিধার কারণ হতে পারে।
সত্যি কথাই লিখলাম। সবরকম সুবিধা থাকার পরও তাকে দেখাশোনা করা সত্যিই কষ্টের। শুধু তার জন্ম তারিখ লেখার সময় লেখা ধীর হয়ে গেলো। আঠারো মাতরো আঠারো সে। অনেক ছোট। এ সময়টায় পরিবারের সাথে থাকা খুব দরকার তার।
দেবশিশু আমাদের এখানে আর আসেনা। এরকম নিরাপদ ব্যাবস্থা রেখে আসার কোন দরকার ও নেই। আমরা মাঝে মাঝে ঝামেলার কথা বলতে গেলে তার উদাহরন দেই। একটা বাচ্চা ছেলে তার সমস্ত ঝামেলা নিয়ে আমাদের নিরাপদ করে গেছে। স্বস্তি দিয়ে গেছে।
কদিন আগে অন্য একটা ফাইল খুজতে দেখি তার ফাইল টা নেই। একজন জানালো সে যেহেতু আসছেনা আর তার তথ্যের কোন দরকার ও নেই। সে ও তার ফাইল আরকাইভে চলে গেছে। আমরা এখন নিরাপদে কাজ করি
হোসেইন বলেছেন:
ভালো লেখা।
অর্জুন মান্না বলেছেন:
... Your summer wine is really made for all this things?
জানালা বলেছেন:
ধন্যবাদ হোসেইন
জানালা বলেছেন:
Arjun, Thnx. A lttle hard for me though
অর্জুন মান্না বলেছেন:
V read it
কেমিকেল আলী বলেছেন:
সুন্দর লেখা, লিখতে থাকেন
দ্রোহী বলেছেন:
সুন্দর লেখা................
অর্জুন মান্না বলেছেন:
ও ধিহঃবফ ঃড় ংঃধহফ ঁঢ়; নঁঃ ও পড়ঁষফহ'ঃ ভরহফ সু ভববঃ
অর্জুন মান্না বলেছেন:
I wanted to stand up; but I couldn't find my feet
জানালা বলেছেন:
হোসেইন - আর কেউ তো নতুন ব্লগার দের লেখা পড়ে না। অরজুন "ভাই" ভদরোলোক পড়ছেন। আপনি এমন বলে বেচারা কে বিপদে ফেলছেন কেন?
জানালা বলেছেন:
কেমিকেল এবং দ্রোহী - অসংখ্য ধন্যবাদ
অর্জুন মান্না বলেছেন:
Janala, dont stop writting
হযবরল বলেছেন:
দারুণ।
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
কাল কমেন্ট করেছিলাম বলেই মনে আছে! (শক খাইছি)ছেলেটা কি অটিজম রোগী? আরেকটু ডিটেইলস বললে আরও ভাল লাগত
আমার বান্ধবীর ছোট ভাইয়ের অটিজম। এখন পনের বছর বয়স। শুধু অটিজম না, পা টেনে টেনে হাটে। জন্মের পর থেকেই একটা পা ছোট এবং বাকানো। বাসায় নতুন কেউ গেলে সহ্য করতে পারে না। আমি যাব সে জন্যে অনেক আগে থেকে তৈরি করছিল ওকে। তবু, শাড়ি পড়ে ছিলাম সেদিন। আমার সামনে এসে হঠাৎই শাড়ির আঁচল ধরে হেচকা টান। আমি ভীষণ চমকে উঠেছিলাম। ওর মা, বোন সবাই খুব লজ্জিত। এত চেষ্টা করছিলাম লজ্জাটা ভুলিয়ে দেয়ার, ভুলতে পারছিল না। এরপরের পুরাটা সময় ওকে আমার সামনে আসতে দেয় নি।
পরের পোস্টটাও পড়েছি। কিছু বলতে পারি নি। ভ্যালরিদের কত দরকার, সেটা বুঝতে পারছি আর নিরব কান্নায় ডুকরে উঠছি। ভ্যালরিদের মত মানুষেরা হয়তো চমকাতো না। ওর সামনে থাকা অবস্থায় 'নাউ হোয়াট' ভেবে প্রমাদ গুণত না...
ভাল থাকবেন অনেক।
জানালা বলেছেন:
হযবরল - ধন্যবাদ
জানালা বলেছেন:
জ্বিনের বাদশা - ছেলেটার অটিজম আছে। তবে ততটা নয়। সেমি অটিজম বলতে পারেন। সন্ধাবাতি যার কথা বলেছেন সে সম্ভবত পুরোপুরি অটোজমিক। ডাক্তার নই তো। খুব ভালো বলতে পারবোনা
জানালা বলেছেন:
সন্ধাবাতি - ওর কথা ভেবেই প্রথম অবস্থায় ওর খুব সামনে না যাওয়াই ভালো। নতুন কোন কিছু সামনে আনার আগে, সে মানুষ হোক বা পোষাক, তার ছবি দেখালে মাঝে মাঝে কাজ দেয়। আপনার লেখা পড়ে খারাপ লাগছে
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
এরকম দারুন দারুন লেখা খুব দরকার আমাদের। আপনার লেখা পড়ে খুব লজ্জা হচ্ছে নিজের লেখা নিয়ে।

















