আমার প্রিয় পোস্ট

আবার পাহাড় গড়ার পালা

১৪ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:১৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

খুব চমতকার একজন মানুষের সাথে পরিচয় আছে আমার। আমার অনেক অযাচিত অনুরোধ তিনি মেনে নেন অক্লান্তে।
কেউ আমাকে একটু লাই দিলেই আমি মাথায় উঠে যাই, নামার নাম করিনা। তারাও আর কোথাও যাবার জায়গা নেই, তাই থাকুক, ভেবে কষ্ট হলেও বয়ে বেড়ান। এ ভদ্রলোক তেমনি একজন।

ফোনে জানলেন কিছু টাকা তৈরী রাখতে হবে। যেতেই পুরো নোট ধরিয়ে দিলেন আগে তারপর প্রশ্ন, কী করবি টাকা দিয়ে? আমি কৃতগ্গ জানালাম, ঐ যে চিটাগাং এর জন্য টাকা যোগাড় করছে তো সবাই...

উনি বললেন, টাকা ফেরত দে। আমি আমার শহর হলে দিতাম। চিটাগাং এর জন্য দেবোনা। আমি উনার ঠাট্টায় হেসে ফেললাম। নোট হাত থেকে নিয়ে নিতে চাইলেন। আমি মজার খেলা ভেবে আরো শক্ত করে ধরে থাকলাম। তারপর জিগ্গেষ করলেন, কোন চ্যারিটিতে যাচ্ছে? আমি পড়ে গেলাম বিপদে। ঝোকের মাথায় বেরিয়ে গেছি। শুধু জানি খুব বিশ্বাস করা একজন কে দেবো। সে যেভাবেই হোক নিয়ে যাবে জায়গা মতো।

তিনি বললেন, আমি এইসব চ্যারিটিতে টাকা দেইনা। আগে জানলে দিতামই না। আমি আরো মজা পেলাম। এতো হাসাতে পারে মানুষ। হঠাত হেসে আমার হাত থেকে টাকা টা ছিনিয়ে নিলেন তিনি। তার বদলে অরধেক একটা নোট তুলে দিলেন হাতে। নে এইটা নে। তুই বলে দিলাম।

জানতে চাইলেন কোথায় যাবো। আরো হেসে বললেন, এই পাচ দশটা টাকার জন্য ঘুরে বেড়াবি। দোকান ভরতি লোকজন। তুমল লজ্ঝা ঢাকার জন্য তাদের সবার সাথে তুমুল আড্ডা দিলাম। নিজের প্রতি তীব্র বিবমিষা নিয়ে বেরিয়ে এলাম।

একজন স্বল্প পরিচিত লোকের অফিসে তারপর। এমনিতে যেতাম না হয়তো। কাছাকাছি বলে চেষ্টা। কিছু টাকা হাতে তুলে দিলেন তিনি। আমি অবাক। এতো তো চাইনি। তিনি বললেন, আরে সব আমার নয়। চাদা তুলেছি কলিগদের কাছ থেকে। দুমুঠো ভরে গেলো আমার।

একটা বন্ধুর সাথে দেখা করার কথা ছিলো আজ। ইচ্ছে করে জানাইনি তাকে। চাইলেও কিছু করতে পারবেনা। কী লাভ তার মন খারাপ করে। সে জানলো। মন না। মেজাজ খারাপ করলো। গালাগালি করে জোর করে টাকা গুজে দিল হাতে। আমি জানি এই টাকা দিলে সে ভয়ংকর বিপদে পড়বে। হয়তো থাকতে হবে না খেয়েই। সে শুনলোনা। এই পাগলগুলো কিছুতেই শোনেনা।

আরো একটা চমতকার বন্ধু আছে আমার। ধরমের সব নিয়ম না মানলেও সে যাকাত দেয় প্রচুর। তার স্বামী একটা ঝকঝকে ল্যাপটপ কিনেছে কদিন আগে।
আমি তার বাসায় গেলাম। আমরা বেরুলাম। আমি তাড়া দিলাম। সে বললো দিচ্ছি। সে দু ঘন্টা ঘুরলো। হাজার দুয়েক টাকার অপ্রয়োজনীয় শপিং করলো। চলে এলো তার গাড়ী। যাবার আগে সে ছোট একটা নোট আমার হাতে তুলে দিলো। তার দোষ না। আমি এই অংকই বলেছিলাম। জিনিষ কেনায় অপরিমিত হওয়া যেতে পারে। সাহায্যে নয়।

আমি অতি দরিদ্র একজন মানুষ। ধনী বন্ধু ছাড়া আমার আরথিক কোন ক্ষমতা নেই। গত বছর পরযন্ত লোকে আমাকে পানি কিনে দিয়ে পয়সা নিতোনা।
আমি সবকিছুর ওয়ারকিং পারটনার হতে পারি। ফিনান্সিয়াল পারটনার নই।
এবছর একটা ভালো কাজ পেয়েছি। কিন্তু অনেক ধার বাজারে। তাই বেতন পাই আর সব টাকা চলে যায় দেনা শুধতে। তার ওপর এমাস টা শুরু থেকেই এতো বাজে অবস্থা।

সব মিলিয়ে আমি একটা বাচাল - একটা অক্ষম মানুষ। পাহাড়ের মতো একটা সুন্দর জিনিস ধ্বসে সব কিছু অসুন্দর করে গেলো। আমি কিছু করতে পারিনি। কখনো পারবোনা।

কিন্তু বাকিরা?

আমি জানি আমার একটা বন্ধুর বিয়ে শীগগীর। সে কি পারবেনা তার উতসব একটু কম ঝলমলে করতে?
এই যে ব্লগের এতো এতো প্রবাসী পড়ুয়া তারা কি পারবেনা ১৩৬ টাকা দিয়ে একটা পাউন্ড, ৯০ টাকা দিয়ে একটা ইউরো, ৬০ টাকা দিয়ে একটা ডলার বিক্রি করতে? কেউ কি তার দু হাত বাড়িয়ে কিছু মানুষকে তুলে আনবেনা?

কারো হাত - কারো টাকা মিলিয়ে বাংলাদেশ কি পারবেনা একটা ধ্বসে পড়া পাহাড় আবার দাড়া করাতে?

..............................................................

আমি শুধু সামনের মাসের বেতন পেলে ঐ ভদ্রলোকের কাছে যাবো। তার টাকাটা ফেরত দিয়ে বলবো, খেতে পাইনা বলে আমরা ভিক্ষা নেই ঠিকই। কিন্তু আমরা ভিখারি নই।


 

 

  • ১৫ টি মন্তব্য
  • ৪০৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ২ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৪ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:৩১
comment by: ঝড়ো হাওয়া বলেছেন: পারবে সবাই পরবে, ইনশাআল্লাহ।
২. ১৪ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৬
comment by: অর্জুন মান্না বলেছেন: জানালা আপনার ঐ বন্ধু আর পরিচিত লোকদের মত আমিও। একেবারেই নিজের কিছু ছাড়তে রাজি নই। অন্যের জন্য পারতে রাজি নই। শুধু আপনি, আপনাদের মতো কাউকে দেখলে-শুনলে ভাল লাগে। লিখাটা যাই হোক উদ্দেশ্যের জন্য ভাল লাগল।
৩. ১৪ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৪
comment by: নজমুল আলবাব বলেছেন: মান্না সাহেবের এই লেখাটা খারাপ লাগছে নাকী?...

অসাধারন লিখা হইছে। ভালো লাগছে... এই ভাবনাগুলো মর্মে পৌছে যাক সকলের।


(মাননীয় জানালা পারলে একটা মেইল দিয়েন। জিমেইলটা কি আপনে এই জীবনে এক্টিভ করবেননা? )
* তরে কি ধইরা পিটাইতে হইব?
৪. ১৪ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:৫৬
comment by: অর্জুন মান্না বলেছেন: হুম আলবাব, খারাপ লাগে নাই। উদ্দেশ্য নিয়ে বলেছি। তোর চোখ নস্ট হলে আমার বর বেদনা হবে...
৫. ১৪ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৫:০৩
comment by: নজমুল আলবাব বলেছেন: 'লিখাটা যাই হোক উদ্দেশ্যের জন্য ভাল লাগল।'

আপনার এই কথা দেখেতো মনেই হতে পারে লেখাটা আপনার কেমন লাগছে... @ মান্নাদা
৬. ১৪ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৫:১৯
comment by: আলী বলেছেন: আমি আমার শহর হলে দিতাম। চিটাগাং এর জন্য দেবোনা।
৭. ১৭ ই জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৯
comment by: পলাশ777 বলেছেন: খুব ভাল, দিয়েন না। জানালা ভাই, এদের কাছে হাত পেতে না পেলে কি করা উচিত জানেন? কষে থাপ্পর...
৮. ১৮ ই জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৩৩
comment by: জানালা বলেছেন: অরজুন স্যার - ধন্যবাদ। সত্যিই আপনি এমন??
আলবাব - গিদড়
আলী - আরো বেশী ধন্যবাদ।
পলাশ - আরেকবার গেলে আপনাকে নিয়ে যাবো
৯. ১৯ শে জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৪
comment by: অর্জুন মান্না বলেছেন: সত্যিই
১০. ২৮ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৭
comment by: অর্জুন মান্না বলেছেন: লেখা নাই কেন?
১১. ০২ রা জুলাই, ২০০৭ দুপুর ১:৫৯
comment by: রাগ ইমন বলেছেন:

আপনার সথে যোগাযোগের ইচ্ছে ।
আপত্তি না থাকলে একটা মেইল দেবেন?

১২. ০২ রা জুলাই, ২০০৭ দুপুর ২:১৮
comment by: হোসেইন বলেছেন: জানালা ভাই,নিয়মিত না লিখলে কিন্তুক গাইল দিমু।
১৩. ১০ ই জুলাই, ২০০৭ ভোর ৬:৫২
comment by: কেমিকেল আলী বলেছেন: প্প্বক্ষ্মপ্প্ব্ত্রপ্প্বুপ্প্মপ্প্ব্যে প্প্বমপ্প্ম্ক প্প্বৃপ্প্ব্যপ্প্মপ্প্বেঙ্ প্প্বগুপ্প্ম প্প্ব্যপ্প্ম প্প্ব্বপ্প্বক্ক প্প্বঙ্প্প্ব্ত্রপ্প্ব্যপ্প্ম প্প্বমপ্প্ম প্প্ব প্প্বম প্প্বঙ্প্প্বষ প্প্বঙ্প্প্মপ্প্ব্যে?
----------------------------------------------
১৪. ১৯ শে জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৪:২৬
comment by: অর্জুন মান্না বলেছেন: কই?
১৫. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১:৪৩
comment by: ঠোটকাটা ব্লগার বলেছেন: গেলেন কই?

 



 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১০৬১৭