১.
এমন সকালে প্রত্যেকবারই মনসুর সাহেবের মনটা খুব খারাপ থাকে। আজও তেমন। সকালে ফজরের নামাজ শেষে তিনি মোনাজাতে আল্লাহর সাথে কাঁদলেন অনেকক্ষণ। দুহাত তুলে রাখলেন ক্ষমার আশায়। অবশেষে কোন এক সময়ে হাত নামিয়ে বললেন আমিন। দীর্ঘ মোনাজেতে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেছেন কি না তা না বুঝলেও তার মনে এক ধরনের নিশ্চয়তা বোধ এ মোনাজাতের সমাপ্তি এনেছে। আজ তিনি একাই নামাজ পড়েছেন। এতিম ছেলেগুলোর সাথে মসজিদে যাননি। নিজের গোপন পাপের জন্য তিনি আর কারও সাহায্য চান না, নিজেই নিজের পাপ মোছনের জন্য আলাদা ইবাদত করেন এমন প্রতি সকালে।
তবে সকালের খাবার টেবিলে তিনি বসলেন সবার সাথে। খাবারের আগে তিনি সবার সামনে ডেকে আনলেন আব্দুল করিমকে। করিম অনেক ভালো ছেলে। অন্য সবার মত করিমকেও তিনি তুলে এনেছিলেন রাস্তা থেকে খুব ছোট বয়সেই। এখানের সবাই সুখেই থাকে। মনসুর সাহেব ওদের সবার খাওয়া পড়ার কোন অভাব রাখেন নি, চেষ্টা করেছেন সব শিশুদের স্বাধ, শখগুলো মেটানোর। ওরাও অনেক খুশি থাকে সবসময়। করিমের জন্যও আজকের দিনটি একই সাথে আনন্দের আর দুঃখের। আজ তার এতিম নামটা ঘুচে যাচ্ছে। কোন এক পরিবার করিমকে তাদের পরিবারে নিয়ে যাবে, হয়তো নতুন কোন নামে বড় হবে সে। কিন্তু করিমের মনটা খুব খারাপ লাগছে। নতুন পরিবারে তার বাবা-মা কেমন হবে সে বুঝতে পারছে না। মাঝে একদিন দুজন মানুষ এসে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। নানা রকমের পরীক্ষা করালো। মানুষগুলোকে ভালো লাগেনি করিমের। আর তাছাড়া এখানে তার বন্ধুদের সে দেখতে পবে না আর। খেলতে পারবে না আর সবার সাথে প্রান খুলে। মনসুর সাহেব বোঝেন বিদায় বেলায় ওদের মন খারাপের কথা। তাই করিমের জন্য গতকাল ওর বেশ কিছু প্রিয় জিনিস কিনে নিয়ে এসেছেন। তাই তুলে দিলেন করিমের হাতে। ছেলেটার মুখে হাসি ফুটলো খানিকটা এ বিদায় বেলাতেও।
২.
মানুষটা হঠাৎ করেই এত বেশি অসুস্থ হয়ে পরবে ভাবেনি পরিবারের কেউই। ডাক্তারের কাছে নেয়ার পর জানা গেল দুইটা কিডনীই নষ্ট হয়ে গেছে তার। কিডনী বদল ছাড়া কোন উপায় নেই। মানুষটার বড়ভাই বেশ করিৎকর্মা লোক। প্রথমে খানিকটা দুঃচিন্তায় পড়লেও পরদিন হাসিমুখে সবাইকে খবর দিলো, কিডনী পাওয়া গেছে, ১০ লাখ টাকা লাগবে। টাকাটা তাদের পরিবারের জন্য কোন সমস্যা না, কিন্তু ৩ বাচ্চার এ পরিবারটাকে বাঁচাতে হলে মানুষটাকে বাঁচাতে হবে সবার আগে। সুতরাং একদিন তার কিডনী বদল করা হলো। ডাক্তার অপরেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে বললেন, অপরেশন সাকসেসফুল। হেসে উঠলো পুরা একটা পরিবার।
(আমি গল্প লিখতে পারি না কেন জানি। কিন্তু এ গল্পটা মাথায় এমনভাবে ঘুরছিলো, তাড়াহুড়ো করে লিখে ফেললাম। আমি নিশ্চিত অন্য কেউ লিখলে গল্পটা আরও সুন্দর হতো।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

