গুণী মেয়ে বলতে যা বুঝায় তার সব গুণই গীতি আপ্পির মধ্যে আছে কিন্তু সমস্যা হলো অন্য জায়গায়। যখন নিজের জামা,শাড়ি কেনাকাটা করে তখন তা বাসায় আনার পর আর পছন্দ হয় না। অন্যরা যা পরে তা- ই খালি আপ্পির ভালো লাগে। এমন হয়েছে যে সুন্দর কোন জামা উনার সামনে পরে যাওয়াটাই রিস্কি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েকদিন আগে ২ জন মিলে মার্কেটে গেলাম। ভালো মাথা উনি পুরোটাই খারাপ করে দিয়েছেন ।উনার চুজি স্বভাব দেখে ঠিক করেছি আর কখনো এর সাথে মার্কেটে যাবো না।এরপর গেলাম দর্জির কাছে। এলাকার সবচেয়ে বোকা ধরণের দর্জি ঐ লোকটা ।যাই বলি না কেন বুঝে,না বুঝে অনবরত খালি মাথা নাড়ে। উনার কাছে যাওয়ার কারণ হাতে সময় কম, ২ দিনের মধ্যেই জামা ডেলিভারী দিতে পারবে এই নিশ্চয়তা দিলেন। যেদিন জামা আনতে গেলাম সেদিন আপ্পি গেল ফুরফুরে মেজাজে বাসায় আসলো মাথা গরম করে।দর্জি জামার তো বারোটা বাজালোই তার উপর বার বার বলছে জামা তো সুন্দর হয়েছে.......। আপ্পি আবার বেশী রেগে গেলে পাঁচ-মিশালী ভাষা বলে। সেদিন উনাদের ডায়লগ গুলো ছিলো এইরকম........।
:এটা কি বানাইলেন? আমি কি এই ডিজাইন আপনেরে দেখাইছি নাকি?
:::আপা ,আপনি যা বলেছেন তার এক চুল ও নড়চড় হয়নি
:জামা কে পরবো আমি না আপনি?বানানো পছন্দ হয় নাই?
:::আপা কি আর করবেন নিয়ে যান। আপনার জামা আপনি না নিলে আমার তো কোন কাজে লাগবো না।নিয়ে যান ,কিছু হবে না ।পরা যাবে তো??আপ্পির মেজাজ আর ঠিক থাকলো না। কারণ দর্জি মানতেই চায় না তার ভুল হয়েছে।
:আমি জামা নিবো না। আপনার এতই যদি ভালো লাগে আপনার বউরে পড়তে দিয়েন।
:::ছিঃ,ছিঃ কি বলেন। আমি তো বিয়েই করি নাই আপা, বউ আসবে কোথকে(লজ্জ্বা পেয়ে)
:তাইলে আর কি করা আপনার নিজের হাতে বানানো জামা যখন ভালো হইছে বললেন তাইলে আপনি নিজেই পরে থাকেন। দর্জিকে পুরো হতভম্ব করে দিয়ে আপ্পি হন হন করে দোকান থেকে বেরিয়ে গেলো।
সেই থেকে যখনই দর্জিকে রাস্তায় সামনে দেখি তখনই কল্পনা করি দর্জি জামা পরে থাকলে কেমন দেখাবে?? হাসি চেপে রাখা দায় হয়ে পড়েছে। শুধু সশব্দেই নয় ইমোটিকনের যত হাসি আছে তা সম্বল করে ও দর্জিকে দেখে হাসতে থাকি.....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



