...মানুষ মাত্রই তার প্রিয় বিষয়গুলো (প্রিয় গান, মুভি ,বই ) সবসময় মনে রাখে। কার এত দায় পড়েছে যে তার প্রিয় বিষয় বাদ দিয়ে অপ্রিয় বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করবো। নিজের দুনিয়ার চিন্তা-চেতনা থেকে শুরু করে সবকিছুই উল্টা ভাবে হয়। আজকাল নিজের অপ্রিয়/অপছন্দের ব্যাপারগুলো নিয়ে ভাবি...আর সেটা ভাবতে গিয়েই অপ্রিয় মানুষদের খুঁজে বের করলাম...যাদেরকে একটা সময় পূর্বদিকে হাটতে দেখলে নিজের পথ পশ্চিমে খুঁজে নিতাম। অসামাজিক এই আমি ততটা মিশুক টাইপের না হলেও যাদেরকে ভালো লাগে তাদের জন্য দুনিয়া একদিকে করে ফেলি....আবার যাদেরকে একবার হলেও জানের দুশমন মনে হয় তাদের হাজারবার কচুকাটা করেও শান্তি মিলে না...পারলে দুনিয়া থেকে ভস্ম করে দিতে চাই। আজব লাগে যে গুটি কয়েকজনকে একটা সময় এত অপছন্দ করতাম তাদের কাছে নিজের জন্য কখনো সেইরকম মনোভাব পাইনি...আজো সেসব মানুষেরা যখন পরিচিতদের কাছে আমার কুশলাদী জানতে চায় নিজের অপরাধের পাল্লাটা অনেক ভারী লাগে। ইগো বেশী থাকার কারণে তাদেরকে হ্য়তো কোনদিনই সরাসরি সরি বলা হবেনা...কিন্তু আমার অবচেতন মন জানে অনেকবার তাদের জন্য সরি ফিল করেছি....
>.>
মায়া'র সাথে সিক্স টু টেন একসাথে পাঁচটা বছর হোষ্টেলে কাটিয়েছি....ওকে দুশমন ভেবেই কুল পেতাম না,দোস্ত ভাবার চিন্তা ও হয়নি। হোষ্টেলের এটাই স্বাভাবিক নিয়ম ছিলো যে সকালে একজনের ক্যাঁচাল হলে বিকেলেই তা মিটমাট করে গলাগালি ধরে গল্প করছি। অথচ এই মায়ার সাথে ছিলো রীতিমতন দা-কুমড়া সর্ম্পক। ওকে কম-বেশী আরো অনেকেই অপছন্দ করত কারণ ও ছিলো প্রচন্ড স্বার্থপর টাইপের মেয়ে.... যে শুধু নিজের ভালোটাই বুঝতো। এমনিতে হোষ্টেলের সবার মধ্যে অনেক মিল থাকত... দেখা গেল ক্লাসমেটদের মধ্যে কেউ কোন দোষ করলো আর সেটা ইনচার্জ জানলে তাকে ভালোই শাস্তি দিবে। সে অবস্হায় কেউ কারো নাম বলতো না...শেষে দেখা গেল একজনের জন্য অনেকেই শাস্তি পেলাম। সেটা নিয়ে আমাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই... অথচ মায়া ঠিক সে সময় নিজেকে বাঁচানোর জন্য নাম বলে দিয়ে ভালো মানুষ সেজে বসে রইলো। এজন্য আমরা ওকে চামচিকা ডাকতাম...আবার সুন্দরী রোবট ও ডাকতাম। মাথাভর্তি বড় চুল ছিলো আর দেখতে যে অসম্ভব সুন্দরী ছিলো সেটা ওর দুশমন হলেও স্বীকার করি। কিন্তু এমনভাবে চলাফেরা করতো যেন একটা চাবি দেওয়া রোবট।মেয়েলী সহজাত স্বভাব হিসেবে যে আস্তে ধীরে ,নম্রভাবে চলাফেরা করে সেটা ওর মধ্যে ছিলোনা।দেখা গেল সবাই স্কুলে যাচ্ছি হঠাৎ পিছন থেকে এসে কয়েকজনকে ধাক্কা দিয়ে সবার আগের সে ধপাধপ করে হেটে যাচ্ছে। মায়ার উপর এতটাই বিরক্ত ছিলাম অনেকদিন এমন শয়তানি ইচ্ছা হয়েছে স্কুলের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় মনে হত দেই এক ধাক্কা দিয়ে নীচে ফেলে ... যাতে করে কয়েকটা দিন হাত-পা ভেংগে বিছানায় পড়ে থেকে চামচিকাপনাটা কমে। এখনো স্পষ্ট মনে আছে এস.এস.সির পর যখন বাসায় চলে আসি তখন সব ক্লাশমেট গলা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করে বিদায় নিলেও মায়াকে ভদ্রতা করেই বাই ও বলিনি। ভেবেছিলাম ওর সাথে আর দেখা হবেনা ।ওদের এলাকায় আমাদের এক আত্মীয় থাকতো সবসময় নাকি উনার কাছে খোঁজখবর নিত,সেটাও বিরক্ত লাগতো।'৯৮তে হোষ্টেল ছেড়ে আসলাম ...মাঝে অনেকদিন কেটে গেছে...'০৮ তে আমার মা হলিক্রশ স্কুলে কি একটা কাজে গেল ফিরে এসে বললো মায়া'র সাথে দেখা হয়েছে ...ওর মেয়ে ও নাকি হলিক্রশে পড়ে।মা আরো বললো তুমি ওর নামে কত বদনাম করতা অথচ ও তোমার কথা আজো মনে রেখেছে। মা'র কাছে ওর কথা শুনে কেন জানি মনে হলো ওর সাথে একটা সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশী মিসবিহেভ করেছি আর সবাই একরকম হয় না,হয়ত তখনকার মায়ার স্বভাব অনেক বদলে গেছে। এরপর একদিন স্কুলের টাইমে আমি সত্যিই মায়ার সাথে দেখা করতে গেলাম। ওর সাথে দেখা করার পর ছোটখাট একটা ধাক্কাও খেলাম কারণ দেখা হবার পর ও এতটা আন্তিরকতা নিয়ে জড়িয়ে ধরলো যে আমি সারাটাক্ষণ আড়ষ্ট হয়ে ওর কথাই শুনে গেলাম। দুইবাচ্চার মা মায়াকে এসএসসির পর পারিবারিক সমস্যার কারনে বিয়ে দিয়েছিলো... অনেক আফসোস করলো পড়াশুনা করতে পারলো না বলে। হোষ্টেলের কথাও উঠার পর ও লজ্জ্বিত হয়ে জানালো কিছুটা অমিশুক প্রকৃতির বলেই ৮০-৯০টা মেয়ের মাঝেও থেকে ও নিজেকে রোবট বানিয়ে রেখেছিলো। মায়াকে দেখে এতদিন পরে মনে হলো ও এতটা অপ্রিয় মানুষ না যতটা আমরা ওকে ভাবতাম....এটা আমাদের মনের দীনতা যে আমরাও ওকে কখনো বুঝার চেষ্টাই করিনি...!
sb]>.>!>.>
ইন্টারে পড়ার সময় শুধু তিথি আর আমি আলাদা কলেজে ছিলাম...আর বাকিটা সময় মানে ক্লাশ সিক্স থেকে শুরু করে এম.কম করা পর্যন্ত আমরা একসাথেই পড়াশুনা করেছি।স্কুলজীবনে দুইজন আলাদা সেকশনে থাকলে সবসময় পড়াশুনা নিয়ে আমাদের মধ্যে কমপিটিশনে চলতো কিন্তু মন খারাপ কিংবা ভালো যা-ই থাকুক না কেন সবসময় ওর ফ্যামিলির সব ব্যাপার ও শেয়ার করতো। আমার দেখা সবচেয়ে কাঠখোট্টা টাইপের মেয়ে তিথি কিন্তু হাসিটা ছিলো অদ্ভূত রকমের সুন্দর ... ও হাসলে আমরা বলতাম যেন কুটকুট শব্দ করে হাসছে। তিথি যখন প্রথমে ওর চেয়ে দুই বছরের জুনিয়র ছেলের প্রেমে পড়লো,সর্ম্পকটা টিকবেনা জেনেও খুশী হয়েছিলাম এটা ভেবে যে যাক কাঠখোট্টা স্বভাব আর থাকবে না। আবার সেই ছেলেই যখন দেশের বাইরে পড়াশুনা করতে গিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো....কয়েকটা মাস ও পুরা পাগল ছিলো... ক্লাশে যেতনা ,মাঝে মাঝে মন খারাপ লাগলে বাসায় এসে খালি চুপচাপ কান্না করতো। সেইসময় ওর কষ্টটা আমাকে এতটাই স্পর্শ করেছিলো রাগ করে বলেছিলাম ঐ ছেলেরে সামনে পাইলে আমি জবাই করবো আবার কাল্লু লাদেন বলে গালি দিতাম( কালো ছিলো বলে)। তারপর ও কেন জানি তিথিকে আমার কখনোই বেস্টফ্রেন্ড মনে হয়নি। অর্নাসে আমরা আলাদা ডিপার্টমেন্টের ছিলাম হুট করে ও সাবজেক্ট চেন্জ করে আমার ডিপার্টমেন্টে চলে আসলো। কয়েকদিন পরে বলে ও নাকি আমার জন্য সাবজেক্ট চেন্জ করে ওর পড়াশুনার বারোটা বাজাইছে। কথাটা ভালো লাগেনি তাই রাগ করে আমি ও দরকার না পড়লে কথা বলতামনা ....আর আমার দুই বেস্ট ফ্রেন্ড কেন জানি তিথিরে একটুও সহ্য করতে পারতো না। ও ফ্যামিলির বড়মেয়ে ছিল ...ছোটবোনটা বেশী সুন্দরী হওয়াতে ছেলেপক্ষ ওকে দেখতে এসে বোনকে পছন্দ করত। আন্টি অনেক আদর করত..বাসায় গেলেই বলতো ওকে বিয়ের জন্য রাজী করাতে ...আন্টির ধারণা ছিলো তিথি আমার সাথে সব শেয়ার করে...আমি ও তাই ভাবতাম ....কিন্তু সেই জানাটা ভুল ছিলো। মাঝে বেশ কয়েকমাস যোগাযোগ ছিলো না...তখন অসুস্হ হয়ে যখন হসপিটালে ভর্তি ছিলাম তিথি ,কণা,কেয়া দেখতে এসে অনেক গল্প করেছে। তখনো বুঝিনি ও যে নিজের জীবনের জন্য সবচেয়ে বড় ডিসিশন একলাই নিয়ে ফেলেছে আর সেটার জন্য ওর ফ্যামিলি থেকে অনেকটা আমাকে দোষ দেওয়া হয়েছে। অর্নাসের পর ও যেখানে জব করতো সেখানকার এক কলিগ (অন্য ধর্মের) ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে গেল। বিয়ে হয়েছে সেটা খুশীর খবর ....কিন্তু ওর বাবা-মা'র অভিযোগ ছিলো আমি নাকি ব্যাপারটা প্রথম থেকেই জানতাম আর তিথিকে হেল্প ও নাকি করেছি। অথচ ওর বিয়ের খবরটা আমি জানলাম আমার বড় ভাইয়ের কাছে ...তা-ও ওর বিয়ের প্রায় ছয় মাস পরে। আন্টিকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করে ও বুঝাতে পারিনি এই ব্যাপারটা ও আমার সাথে কখনোই শেয়ার করেনি। তিথি অবশ্য পরে অনেক সরি বলেছে আর আমার সাথে শেয়ার করেনি কারণ ওর মনে হয়েছিলো মানা করবো। আন্টির ভুল ভাঙ্গাতে পারিনি সেটা নিয়ে আজো আফসোস লাগে। তিথির বাসা কাছাকাছিই কিন্তু কেন জানিনা ওর সাথে আর দেখা করার ইচ্ছা হয়নি। কয়েকদিন আগে শুনলাম ওর নাকি একটা বাবু হয়েছে আর এখন বাবা-মার কাছেই থাকে...তারমানে সব স্বাভাবিক ঠিক হয়ে গেছে ।
আমি যখন নিজের জন্য বড় কোন ডিসিশন নিতে যাই তখন তোর মতন ভালো একজন বন্ধুকে মিস করি...যে আমাকে একটা সময় আগলে রেখেছিলো...অথচ আজ একটা খোঁজ নেবার ও প্রয়োজন মনে করে না ...তাকে সবসময় মিস করি রে প্রায় দেড়বছর পরে আমার জন্মদিনে জন্মদিনে ওর মেসেজটা পড়ে প্রচন্ড মন খারাপ হয়েছিলো। তা-ও কেন জানি একবারও ইচ্ছা হয়নি বন্ধুত্বের পুরানো সম্পর্কটা আবার নতুন করে শুরু করতে ...!
>.>!>.> !>.>
আরেকজন অপ্রিয় মানুষ ছিলেন আমাদের পাশের বাসার এক আন্টি...উনি এতটাই অপ্রিয় ছিলেন যে নামটাও কখনো জানার ইচ্ছা হয়নি। মা যখন প্রথমে ঢাকা আসে তখন আমি হোষ্টেলে ছিলাম তখন এই আন্টিই মা'র সাবক্ষণিক সঙ্গী ছিলো। এমনো হয়েছে বাসায় কাজের লোক নেই আন্টি মা-কে এসে কাজে হেল্প করছে। উনাকে কেন এত অপছন্দ করতাম কারণটা আজো বুঝিনি। উনার কোন মেয়ে ছিলো না বলে মেয়ে মেয়ে করে পাঁচ ছেলের মা হয়ে গেছেন। উনাকে দেখলে ,কথা জিজ্ঞেস করলে আমি এত বিরক্ত হতাম দেখে মা সবসময় বুঝাতো... উনার মেয়ে নেই বলেই তোমারে এত আদর করে,একটু ভালো করে জবাব দিলে কি হয় ? আগে অনেক অসুস্হ থাকতাম...।কলেজে পড়ার সময় একবার গুরুতর অসুস্হ হয়ে যখন হসপিটালে ভর্তি ছিলাম তখন এই আন্টিই প্রায় তিন রাত হসপিটালে থেকে সেবা-যত্ন করেছে আর মা দিনের বেলাতে থাকতো ...এমনিতেই দেখতে পারতাম না তারউপর কলেজে পড়ার সময় আমার অবস্হা এমন ছিলো যে উনারে দেখলেই খালি দৌড়ের উপর থাকতাম। কেউ যদি বিয়ের জন্য কোন মেয়ের খোঁজ চাইতো,উনি আমাকে দেখিয়ে দিত। খালি এটুকু করেই চুপ থাকতো না ... মা-কে লাগাতার বুঝাতো...ছেলে ভালো,মেয়েদের আগেই বিয়ে দেওয়া ভালো,ওমুক...তমুক...হেন-তেন আরো অনেক হাবিজাবি। উনার রাগটা প্রায়ই মা'র সাথে দেখাতাম তা-ও বাসায় এসে মা'র সাথে লাগাতার গুটুর গুটুর করে কথা বলতো। তবে প্রতি ক্রিসমাসে উনি সুন্দর জামা দিতেন এইটাই খালি ভালো লাগতো। সেই আন্টির অনেক বেশী বয়সে একটা মেয়ে হলো.....এরপর থেকে আমার জন্য উনার অতি-আদর একবারেই কমে গেল। একটা সময় যে আমি উনার অতি- আদরে এত বিরক্ত ছিলাম সেই আমি উনার মেয়ে হবার পর থেকে উদাসীনতা মনোভাব দেখে হালকা কষ্ট পেয়েছিলাম...মনে খানিকটা জেলাসী ও কাজ করেছিলো। কারণ মেয়েটা হবার আগে আমি নিজের বাসায় তো দাপিয়ে বেড়াতাম সেই সাথে উনারদের বাসায় ও সমান অধিকার খাটাতাম কারণ উনার বাসায় তাদেরই মেয়ে মনে করতো। যখন আর আগের মতন বাসায় আসতেন না তখন সরাসরি মাকে জিজ্ঞেস করতে ও অস্বস্তি হত...না আসলেও মনে হয় মন খারাপ লাগত । একই এলাকায় থাকি অথচ উনাকে প্রায়ই দূর থেকে রাস্তাঘাটে দেখলে লুকিয়ে থাকতাম। এখন কেন জানি আর আগের মত রাগ নেই বলে কয়েকদিন আগে রাস্তায় দেখে নিজে থেকে কথা বলতে গেলাম...সেদিন এত খুশী হয়েছেন যে আমাকে টানতে টানতে বাসায় নিয়ে গেলেন তারপর অনেকক্ষণ রেখে ছাড়লেন ...আবার একলা ও আসতে দিলো না... কত করে বললাম পাঁচ মিনিটের রাস্তা,যেতে পারবো... তা-ও উনি কথা শুনলেন না। দেরীতে হলেও বুঝলাম এই মানুষটা আমাকে কতটা স্নেহ করত অথচ উনাকে আমি কোনকালেই ভালো চোখে দেখিনি...!
>.>!>.> !>.>!>.>
মামুনভাইয়ের সাথে পরিচয় ইন্টার্নীশীপ করার সময় থেকে। কিছু কিছু লোক থাকে নিজেরে ওমুক...তমুক বলে জাহির করতে ভালোবাসে,উনি অনেকটা এই টাইপের ছিলেন। এই স্বভাবের জন্যই বোধহয় বেশী অপ্রিয় ছিলো। হালকা-পাতলা রাজনীতি করতেন বলে নিজেরে নেতা মামুন বলে পরিচয় দিয়ে কি যে খুশী হতো। একদিন উনি নতুন মোবাইল কিনে সবাইকে নাম্বার দিয়ে বেড়াতে লাগলো....যথরীতি নাম্বার সেভ করে কোন একটা কাজে ডেস্ক ছেড়ে উঠার পর সাথে সাথে উনি কল দিলো....ফটকা/পাতি নেতা মামুন নিজের এই নাম দেখে পুরাই হতভম্ব হয়ে গেল। বেশীরভাগ সময় কাজ বাদ দিয়ে যতসব গাঁজাখুরি গল্প বলত...কম-বেশী সবাই সেসব দেখে মজা পেত।
অফিস শেষে অবন্তী ,নাহিদ আর আমি একসাথে বাসে করে আসতাম...কোনদিন যদি দেখতাম উনি আমাদের সাথে একই বাসে উঠার জন্য আসছে ....তখনই রিক্সা নিয়ে তিনজনে চম্পট দিতাম। উনাকে যে এড়িয়ে চলি সেটাতো বুঝলোই না উল্টা পরেরদিন অফিসে গিয়ে ভাব নিলো উনার ভয়ে নাকি আমরা পালিয়ে বেড়াই। একটা সময় কিভাবে জানি নাহিদের সাথে উনার বেশ ভালো ভাব ও হয়ে গেল....অবাক হয়ে দেখতাম নাহিদ উনার প্রশংসা করতে করতে শেষ। অনেকদিন এমনো হয়েছে ভলবো বাসের উপরের তলায় উঠে উনি বসে আছেন.....বাস শাহবাগ আসার পর উপর থেকে দাঁত কেলিয়ে হাঁসতে হাঁসতে নিচে নেমে ভাব দেখিয়ে বলে পিচকি সাহস থাকে তো এইবার চলন্ত বাস থেকে দৌড় দাও দেখি ....সারাটা রাস্তা উনার হাবিজাবি গল্প শুনে নাহিদের দাঁত কেলানো হাসি দেখলে গা জ্বলে যেত।শেষের দিকে ফাউল কিছু কথার জন্য একদিন চরম মেজাজ খারাপ করে সবার সামনে যা মুখে আসলো বলে দিলাম...রাগ হলে যা তা বলি জন্মগতভাবে বাজে অভ্যাস। পরে সাথের ওরা বলেছিলো কথার চেয়ে বেশী রিএ্যাক্ট করেছিলাম ....এরপর কাজের বাইরে আর তেমন একটা কথা বলা হত না। আরো অবাক হয়েছিলাম পরে উনার যখন একটা ভালো একটা জব হলো সেই খুশীর খবরটা শেয়ার করতে ফোন করে আর আগের ঘটনার জন্য সরি ও বলেছিল। অন্যসবার সাথে যোগাযোগ থাকলে ও কেন জানি উনার সাথে আর কখনোই যোগাযোগ হয়নি। একটা সময় অনেক অস্বস্তি হত এটা ভেবে যে দেখা হলে সরি কিংবা স্বাভাবিক কথাও হয়ত বলা হবে না....তাই হয়তো আর কখনো দেখাও হয়নি...
আমার যদি সাধ্য থাকতো তাহলে এই মেয়েটার হাসি ফটোকপি করে সবাইকে বিলিয়ে দিতাম ....এমন অদ্ভূত আর আজব কমপ্লিমেন্ট মামুনভাই যখন প্রায়ই আমাকে নিয়ে করত সবাই এতটা মজা পেত যে পরবর্তী সময়ে কাজ করতে গিয়ে মন খারাপ থাকলেই কেউ সামনে এটা বললেই হাসাহাসির হিড়িক পড়ে যেত। উল্টা-পাল্টা স্বভাবের হলেও এমনিতে উনি মানুষ হিসেবে নেহাত খারাপ ছিলেন না ....শুভ-কামনা থাকলো সবসময় উনি ভালো থাকুক আর এমন একজন মায়াবতীকে বিয়ে করেন যার হাসি দেখলে মনে হয় এরচেয়ে সুন্দর আর কিছুই হতে পারে না ...!
........................................................................................
অনেকের কাছে হয়ত এমন আত্মকথনটাইপের লেখা অপছন্দনীয়....কিন্তু
ব্লগটাকে আমার ব্যক্ত-অব্যক্ত যা খুশী লেখার পাতা মনে হয় বলেই লেখাটা লিখলাম। অবাক হয়ে দেখি আজকাল প্রিয় মানুষদের সবসময় চিন্তায় রাখি বলেই তারা কষ্ট দিতে কার্পণ্যবোধ করেনা। অথচ যাদেরকে মনে রাখিনি তারা কষ্ট দেওয়া তো দূরের কথা এখনো যে মনে রেখেছে সেটাই আশাতীত। আগের ব্যাপার নিয়ে এখন সরি বললে কতটা লাভ হবে জানিনা....কিন্তু একসময়ের অপ্রিয় মানুষদের সবসময়ের জন্য সর্বাঙ্গীন শুভ-কামনা করি......!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



