তোরে দেইখ্যাই প্রেমে পইর্যা বিয়া করসিলাম ১৯৯৭ সালে।
বিয়ায় খরচ করছি ১৭৫০০ টাকা। তহন তুই ছিলি সবচাইতে মুল্যবান,সুন্দরী।মোহোরানা দিছি ৫০০০টাকা। সব উসুল।কোন বাকী নাই।পোষাক দিছি সবসময় লেটেষ্ট মডেলের।ভরন পোষন দিছি প্রতি মাসে গড়ে ৫০০০ টাকা। কত দিছি ভোলছো তুই ? প্রায় ৮ লাখ টাকা । আর আইজ তোর বাপে মাত্র এক টাকা আশি পয়সার লইগ্যা তোরে কইয়া দিল - "সোনামনি তুমি জিসানের সাথে থেক, কিন্তু কৌশলে আসল কাজটা করতে দিবে না "। আর তুই তোর বাপের কথায় আমার লগে সব কাজ বাদ দিলি ? জা আইজ তোরে তালাক দিলাম। তালাক তালাক বাইন তালাক
ঘর দিয়া বাইরে গেলে- তোরে আমার বন্ধু হেলালেরে দিমু ।হে ভালো ডাউনলোডার।তোরে আইজ হইতে সবাই ইউজ করুম। তুই এহন সবার।তোর এইডাই পরিনতি।তোর চোখের সামনে দেখ- আইজ আমি আর একজনরে তোর পোষাক পরামু। যাতে তুই জইল্লা পুইর্যা শেষ হইয়া যাও।
গ্রামীনে খালি ডাউনলোড
এমনিতেও তোর বাপের উপর আমার মেজাজ খুব খারাপ।কি সুন্দর একখান শালি আছিল আমার।তোর বাপের অপিসে কাম করত। অফিসে গেলে কত হাইস্যা হাইস্যা কতা কইত।আমার প্রানডা জুড়াইয়া যাইত।কিন্তু তোর বাপে,মাইয়াডারে ছাটাই করলো। আহারে কত ব্যাতা লইয়া মাইয়াডা গেল
দেখ তোর সতীনের (বাংলা লিংক) লগে কত মিষ্টি মিষ্টি কতা কই
বাংলালিংক। আমার অপছন্দের এক মোবাইল কোম্পানী।এর বিজ্ঞাপনে পোলারা আর মাইয়ারা যে পরিমান নাচানাচি করে,তা দেখে আমার বিরক্ত লাগে।মোবাইলের সাথে এই নাচের কি সম্পর্ক তা আমি আসলে বুঝতে পারি না। আরো একটা কারন আছে, অপছন্দের।
রিং হচ্ছে আমার মোবাইলে।
জিসান : হ্যালো।
মেয়ে কন্ঠ : স্লামাইকুম। জিসান ইকরাম স্যার বলছেন? (গলাটা খুবই মিস্ট
জিসান :ওয়ালাইকুম আস্সালাম,জি বলছি ।
মেয়ে কন্ঠ : স্যার আমি বাংলা লিংক হতে তানিয়া বলছি।আপনি তো গ্রামীন ফোন ইউজ করেন। আমরা খোজ নিয়েছি , আপনি গড়ে মাসে ৫০০০ টাকা ইউজ করেন।আমরা যদি সেইম সুযোগ দেই , সেইম নাম্বার দেই আপনি কি আমাদের বাংলালিংকের ইউজার হবেন ? আপনি এখন ....... অনুষ্ঠানে আছেন তাও আমরা জানি
মনে পরে গেল পিছনের কথা।একটা খবর পড়ে জেনেছিলাম- ইউজারদের নাম্বার সব এক করা যায়। প্রথম অপারেটরদের নাম্বার শুধু আলাদা। পরের নাম্বার সব এক।
যেমন : ০১৭১১ ০০০০০০ / ০১৯১১ ০০০০০০
(এটা কিন্তু আমার না, কারো না হলেই বাচি
বিষয়টা জানার পর , গেলাম বাংলালিংক সেন্টারে।
বল্লাম আমি: আপনাদের সিম কিনতে চাই।কিন্তু নাম্বার দিতে হবে আমার চাহিদা অনুযায়ী।
আমার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে থাকলো লোকটা।
তাচ্ছিল্য সহকারে বল্লো : সবাই সব নাম্বার পায় না।
খুব অপমানিত ও আশাহত হয়ে ফিরে এসেছিলাম আমি
আজ যখন সুজোগ আসলো আমিও একটু বাজিয়ে নেই
জিসান : চাই, কিন্তু তুমি কে ? তুমি বাংলালিংকে চাকরী করে, আমার নাম্বার , বিলের পরিমান জানলে কিভাবে ? গ্রামীন ফোন আর বাংলা লিংক কি একটা কোম্পানী হয়ে গেছে ? আর তুমি জানলে কিভাবে আমি এখন কোথায় আছি ?
আমার বলার ভংগি ও বলিষ্ঠতায় মেয়েটা একটু ঘাবরে যায়। ভুলে যায় আমাকে কি সম্মোধন করেছিল।
তানিয়া : ভাইয়া , আমি মর্কেটিং এ আছি। দু কোপানী এক হ্য়নি। গ্রামীনে আমাদের স্টাফ আছে। তা গ্রামীন জানে না। আমরা তথ্যগুলো ওখান হতে পেয়েছি। আপনারা এখন যে অনুষ্ঠানে আছেন , ওর বাইরে আমাদের মার্কেটিংয়ের এক্সিকিউটিভরা আছেন। অবস্থান বলেন- আপনার সাথে দেখা করবে। আপনি ওখানে , তা আমরা জেনেছি- গেজেট দেখে।
মেয়েটা অতটা প্রফেশনাল হতে পারেনি। তাহলে ভাইয়া বলতো না। কিন্তু বলে কি মেয়েটা ? আমার পিছনে স্পাইয়ের মত লোক ?
জিসান : না না , এখানে দেখা করার দরকার নেই। কিন্তু তোমাদের কাজের অবস্থা দেখে তো আমার কাছে ভাল মনে হচ্ছে না। আমার ত মনে হচ্ছে তুমি কোন প্রতারক দলের সদস্য।
তানিয়া
মেয়েটার কথায় অভিমান,কিছুটা অপমান ও ছিল।একটু খারাপ লাগছিল তখন আমার।
জিসান: ঠিক আছে।পাঠাও।ইউজ করবো তোমাদের বাংলা লিংক।
তানিয়া : থ্যাংকু ভাইয়া , থ্যাংকু ভাইয়া। খুব খুশি গলা,সাফল্যে
আনন্দিত।
পরে জেনেছিলাম, আমি ছিলাম তানিয়ার প্রথম সাফল্য।
মাঝে মাঝে ফোন করে এখনো।প্রমশনের খবর দেয়।ঈদে কি কি কিনলো বাবা মা ছোট ভাইয়ের জন্য,তা বলে।
জানা হয়নি , ছোট আপু- তুই দেখতে কেমন ? বলা হয়নি- আমি তোর কাছে ভাই ফোটা নেব।হয়ত বলা হবেও না কখনো।
অ:ক: গ্রামীন ফোনের সাথে এ বিষয়টা আমার একান্তই ব্যাক্তগত।
আপনাদের সমস্যা না হলে,আপনারা আপনাদের মত ব্যাবহার করুন।
উৎসর্গ: আমার এক প্রিয় ব্লগারকে।যার লেখার গুনমুদ্ধ একজন পাঠক আমি।যা তিনি নিজেও জানেন না

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

