ভূল পদক্ষেপ
৮ই জানুয়ারি ১৯৭২ সাল সকাল ৯য় টা । বাংলাদেশ স্বাধীন হবার ঠিক ২৩ দিন পর , জুলফিকার আলি ভুট্টো; যিনি মাত্র কিছুদিন আগে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের বদলে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন , তিনি হঠাৎ করে মুজিবুর রহমান এবং তাঁর সাংবিধানিক উপদেষ্টা ডক্টর কামাল হোসেনকে পি.আই.এ-র একটি বিমানে উঠিয়ে লন্ডনের দিকে যাত্রা শুরু করে ।
কিন্তু লন্ডনের দিকে কেন ??? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর তখনও কেউ জানে না । ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে যখন বিমানটি হিথরো বিমান বন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করে তখন একটি কাঙ্খিত প্রত্যাশা পুর্ন হলো ।
দীর্ঘ নয় মাস ধরে মুজিবুর রহমানের জীবনের যে অনিশ্চয়তা ছিলো তার সমাপ্তি ঘটলো । মুক্তি পেলেন শেখ মুজিবুর রহমান সম্পূর্ন জীবিত অবস্থায় ।
যদিও ভ্রমণজনিত কারণে তিনি অনেক ক্লান্ত ছিলেন তবুও পাকিস্থানী কারাগারের নয় মাস অন্ধকার জীবন থেকে বেরিয়ে মুক্তির আনন্দে উজ্জীবিত ছিলেন ।
তবে একটা বিষয় খুব মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল , তা হলো এই মুহুর্তে সব কিছু সম্পর্কে একটা অস্পষ্ট ধারনা নিয়ে মুজিবুর রহমান শুরু করতে যাচ্ছেন এক নতুন খেলা , নিজের হাতে নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের নেতৃত্ব ।
তবে এর মাঝেও জুলফিকার আলি ভুট্টোর বিষয়টা ছিলো ঘোলাটে । উনি মুজিবুর রহমানকে একটি পরিক্ষামুলক সম্পর্কের কথা বলেছিলেন । যা সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মাঝে একটা যোগসূত্র স্থাপন করবে ..
তবে এই বিষয়টা ছিলো সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত বাংলাদেশের মেজাজের পরিপন্থি । কারণ এমন বিষয় বাঙালী জনগণ কখনই মেনে নিতে পারবে না ।
পাকিস্থানি কারাগারে থাকার সময় মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া এই সব হৃদয়বিদারক ঘটনার কিছুই জানতেন না । কারণ তাঁর কাছে কোন রেডিও ছিলো না , বা কোন চিঠি কিংবা পত্রিকাও দেওয়া হত না । এমন কি জেনারেলের সংগে আলাপও নিষিদ্ধ ছিলো । আর এজন্যই পাকিস্তানিরা দেশে কি পরিমান হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তার কিছুই জানতেন না। মুজিব জানতেন না যে , তাঁর দেশে ত্রিশ লক্ষ লোক প্রান হারিয়েছে ।
এমন কি তার স্ত্রী ও ছেলে মেয়েদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তাও জানতেন না ।
মুজিবুর রহমান লন্ডনের হোটেলে বিশ্রাম নেবার সময় নান জায়গা থেকে কল আসতে থাকে টেলিফোনে । লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনের হাইকমিশনার রেজাউল করিম একটি ফোন কল রিসিভ করে বলেন "স্যার বাংলাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ কথা বলতে চান"
এ ভাবেই দিল্লী থেকে ইন্দিরা গান্ধি , বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী এডোয়ার্ড হিথ , আরও অনেক শুভানুধ্যায়ী তাঁর খোজ খবর নিয়েছিলেন . ..
এই সময়ের মধ্যে মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছেন যে তিনি যদি তাড়াতাড়ি দেশে না ফিরে যান তবে নবগঠিত বাংলাদেশ সরকার দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়বে । বাংলাদেশ গৃহযুদ্ধের সম্মুখীন হবে ।কারণ আওয়ামীলীগের মধ্যে ইতিমধ্যে ক্ষমতার জন্য লড়াই শুরু হয়ে গেছে ...
চলবে ..............
চোখ রাখুন আগামী পোস্টে ..........
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১০:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



