( লেখাটি প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য , আর মেয়েদের বলছি আপনারা লেখাটি পড়ার সময় মেয়ে না , নিজেকে মানুষ হিসেবে ভেবে পড়বেন ..)

ইভ টিজিং বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের মানুষের কাছে অতি পরিচিত একটি নাম । প্রতিদিনই এই বিষয়ক নানা ধরণের খবরাখবর আমাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে মিডিয়াগুলো ।
যেখানে খারাপ বা ভালো দুই ধরণের যুবকেরাই হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ । মেয়েরা হচ্ছে ত্যক্ত বিরক্ত । কেউ বা বেচে নিচ্ছে মৃত্যুর পথ ।
কিন্তু এই ইভ টিজিং এর জন্য কি শুধু যুবক ছেলেরাই দায়ী ???
মোটেই তা নয় .। এর জন্য আরও দায়ী ব্যক্তি বস্তু বা উপাদান আছে ।
আসুন আমরা একটা একটা করে সমস্যা বা দায়ী জিনিস গুলো দেখি ..।
১ম এ আসুন সমাজ ব্যবস্থার দিকে নজর দেয়া যাক : ইভ টিজিং এর জন্য আমাদের এই সমাজ ব্যবস্থা অনেকাংশে দায়ী ।
আমাদের দেশকে আমরা পরিচয় দেয় একটি মুসলিম দেশ হিসেবে । কিন্তু এখানে সত্যিকার মুসলিম সমাজ ব্যবস্থার কোন কিছুই পালন করা হয় না । যার সর্বশেষ ফল হিসেবে মেয়েদের বোরকা পরে স্কুল কলেজে যাওয়া বিষয়ে নতুন আইন করার মধ্যমে তা বন্ধ করা ।
সমাজের মাথা বা যারা সমাজ পরিচালনা করে তাদের চারিত্রিক দিকটা খুব একটা উন্নত নয় বর্তমানে । মদ জুয়া ঘুষ গাজা ফেনসিডিল এবং নারী দেহের প্রতি আসক্তি টা বেড়ে গেছে তাদের মাঝে । উদাহরণ দিতে হবে না মনে হয় ,,,, তবুও বলি " বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যেখানে ভক্ষক সেখানে যুবকরা কি ভাবে রক্ষক হবে ?? তাদের উঠতি বয়স একটু তো জ্বিভে জল আসবেই "
প্রশাসনের কথা আর কি বলবো .. পুলিশ সে তো লুচ্চার হেড । আর বিডিআর এর বর্ডারে চোরাই মালের পাশ দেবার কাহিনী যারা জানেন তারা বুঝতেই পাচ্ছেন । আর যারা জানেন না তারা জেনে নেবেন ..। এই ধরনের সমস্যা আর্মিতে সমস্যা একটু কম হলেও এই সব দায়িত্ব তো আর তাদের দেওয়া যায় না ।
পরিবার এর কথা বলতে গেলে আগে একটা কাহিনী বলি ...
." আমাদের গ্রামের স্কুলে ক্লাস সেভেন এ পড়ে একটা মেয়ে কে ক্লাস এইট এ পড়া একটা ছেলে অনেক দিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছে ।
আমরা কয়েক জন স্কুলের মাঠে ঐ ছেলেকে ডেকে নিয়ে একটু উপদেশ দেবের চেষ্টা করলাম ,,,, এবং যদি ভাল না হয়ে যাও তবে বাড়ীতে জানানো হবে বলে ভয় দেখানো হয় " " কিন্তু আমাদের কথা শুনে ছেলেটার হাসি মাখা উত্তর ছিলো "* আমার বাবার চরিত্রেরই ঠিক নেই ,, আর আমার জন্য আপনারা তার কাছে কমপ্লেন দেবেন "!!!*
এই রকম হলে কি সম্ভব ??
রুরাল এরিয়াতে বা মফঃস্বল এলাকায় ছেলেদের ধ্বংসের প্রধান করণ হলো বাবা মায়ের অতিমাত্রায় স্নেহ অথবা অত্যাধিক অনাচার । এবং এই কাজ গুলো তারাই করে যাদের বাবার টাকা পয়সা আছে । গরিবের ছেলে হলে পেট চালাবার চিন্তা থাকতো ।
পরিবারের শিক্ষাটাই সব থেকে বড় শিক্ষা । পরিবার থেকে পাওয়া শিক্ষাটা সারা জীবন একই রকম থাকে ।
আর শহর এর কথা তো অনেক বড় ব্যাপার ,,,, বাবা অফিসে মা পার্টিতে ,,,, ছেলের পালসার , এ্যাপাচি , আর ইয়াহামা মটর সাইকেল নিয়ে সু-সময়ের বন্ধু গুলোকে সাথে নিয়ে মেয়েদের পিছে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে । এই সব শহুরে হাই সোসাইটিতে মানসম্মান কাগজে কলমে থাকলেও এদের কোন মানসম্মান বোধ আদোও আছে কিনা সন্দেহ ।
এদের দ্বারা আমরা ইভ টিজিং কেন ধর্ষনের মত ঘটনাও আশা করতে পারি ।
আরও একটা বিষয় লক্ষ্যনীয় .. মেয়েরা গোধুলী বেলায় বাসার ছাদে উঠে যে সব অঙ্গভঙ্গি করে ও লম্ফঝম্ফ করে বেড়ায় তা সত্যিই দৃষ্টি কটু ..। আর এই দৃশ্য দেখার জন্য সেই বাসগুলোর আশেপাশে নানা ধরনের যুবকদের আনাগোনা বেড়ে যায় । এই সব যুবকদের দেখে উপর থেকে তারা আবার ভুবন ভোলানো হাসি দেয় ।
শিক্ষার জন্য আলাদা কিছু বলার নেই ওপরের গুলোতেই অল্প করে বলেছি ... তবে বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ আসল শিক্ষা বলতে যা বোঝায় তার অনুকূলে নেই ।
আমাদের বা আমরা যারা ইভ টিজিং এর শিকার হচ্ছি সেই মেয়েরাও অনেকাংশে দায়ী তাদের এই পরিনামে জন্য ।
মেয়েদের সম্পর্কে ইসলাম বলে তোমার পর্দা করে চল । এমন ভাবে চলনা যাতে তোমাদের দেখে পুরুষেরা যৌন-উদ্দীপনা অনুভব করে । কারণ এতে তোমাদের পাপ হবে ।
অথচ মেয়েরা চলাচল করে এমন ভাবে যা একটি যুবক কেন ৮০ বছরের বৃদ্ধদেরও ভায়াগ্রা খাবার সখ জন্মাবে ।
নিজেদের কে একটু গর্জিয়াস সেক্সি দেখাবার জন্য মেয়েরা বোরকা ছেড়ে দিয়েছে অনেক আগেই আর লম্বা জামা গুলো কেটে বাতাসে পেটের উপরে উঠে আসে এমন সব জামা কাপড় পরা ধরেছে । আবার যারা বোরকা পরে , সেটাও এত বেশি চাপানো যে দেহের প্রতিটি ভাজ খুব সহজেই চোখে ভাসে । আবার অনেকেই বলে বোরকা পরলে গরম লাগে ।
ইদানিং দেখা যায় মেয়েরা অত্যাধিক পাতলা কোন সেলোয়ার পরে তার ভেতরে শুধু অন্তর্বাস পরেই পুরুষের সামনে ঘুরে বেড়ায় । কালার সিলেকশন টাও চমৎকার । সাদা সালোয়ার হলে কাল অন্তর্বাস যা একটু ঘামলেই বাইরে থেকে স্পস্ট বোঝা যায় ।
চিকন সরু এক ধরনের স্যান্ডেল পরে গোড়ালি থাকে আঙুল থেকে ৫" ইঞ্চি উপরে । যা হাটাঁর সময় পশ্চাৎদেশে যেন স্রোতস্বিনী নদীর ঢেউ খেলে যায় । এই সব দেখলে কার না ইচ্ছে জাগবে বলেন .......
মাত্র ৪/৫ বছর পেছনে তাকিয়ে দেখুন এত সমস্যা কিন্তু ছিলো না । কিন্তু বর্তমানে এই আধুনিকতার নামে নোংরামিতেই সব সমস্যা বয়ে আনছে ।
সমাজ থেকে এই সমস্যা দুর করতে আপনাদের ভুমিকা টা অতি সামান্য নিতে হবে ।
নিজেদের কে আগে প্রস্তুত করুণ । নিজের সম্মান টা যাতে বজায় থাকে সেই ব্যবস্থা করুন । আমরা সব সময় আপনাদের সম্মান করবো , । আপনাদের যে কোন সমস্যায় এগিয়ে আসবো । কারণ আমরাও তো করাও ভাই , চাচা , মামা , বাবা , বর ইত্যাদি ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



