এন জুলফিকার
কোনো কোনো মৃত্যু আমূল নাড়িয়ে দেয় ভিত,
কোনো কোনো মৃত্যু সত্ত্বাকে টান মারে জোরে।
গাঢ় সন্ধ্যায় লম্ফ-র নিভু নিভু আলোয়
আমারই অপত্য কাঁদে,
কঙ্কাল দেহ জুড়ে পেট তার বেড়ে ওঠে ক্রমে।
এখনও রুজির ঘরে তালা।
এখনও ইনকিলাব ধ্বনি কেবলই যে রুটি চায়,
আমানি-র মাঝে খোঁজে শষ্যের কণা।
প্রাণের উৎসব নিয়ে যারা যারা এসেছিল ঘরে
মজদুর দেহ খুঁটে পায়নি কোনোই রস ---
কেবলই স্বপ্নাহত, কেবলই আগুনজ্বলা দেহে
চিৎকৃত দিনেরা শুধু রাত্রিকে কালো করে আরও।
বর্ষা-ফলাটা তাই রোজ রোজ তকতকে হয়।
উদ্যত থাবা-নখে উপোসী সাধেরা জাগে,
বঞ্চিত স্বপ্নের সবটুকু বিষ পান করে
প্রভুদের ঘরে ঘরে তারা আজ 'শিয়রে শমন'। #
চালচিত্র - দুই
এন জুলফিকার
জেগে থাকো,
খরচোখে জ্বেলে নাও তীব্র মশাল।
তোমার ঘরের কোণে লক-আউট খিদেরা আজ
ওই দ্যাখো সারি বেঁধে কীভাবে দাঁড়ায় !
ইচ্ছেরা বহুদিন কেবলই যে ঘরছাড়া
স্পর্শরা দূরতর হিম ক্যানভাস।
ভিন্ন বয়ন খোঁজো,
খুঁজে নাও প্রলাপের আতুর আঁচল।
আর যারা কেবলই পক্ষ খোঁজে
পায়ে পায়ে ঢুকে যায় অন্য মিছিল
তাদের সকল হাত কঙ্কাল দেহ খোঁজে
সুচতুর কৌশলে এনে দেয় বিষ।
এখন তোমার পায়ে বল,
কোন দিকে যাবে তুমি ?
পেটের পাথর সেও ক্রমাগত ক্ষয়ে ক্ষয়ে
ঝান্ডার সব রং করেছে বিলীন। #
বদলের দিন
এন জুলফিকার
আমাদের কোনো শব্দ নেই আর।
যাপনলিপিতে ওঁ-এর মতো জুড়ে আছে
তীব্র ভোঁ-ও-ও-এর দীর্ঘ প্রলম্বিত ডাক।
আর কেবলই এক সকরুণ বারান্দা
বিভ্রমে ঢেকে দেয়,
একটানে নিয়ে যায় নিঝুমডাঙায়।
তামাটে শরীর আর গনগনে আগুনের মাঝে
অবিরল ভেসে ওঠে স্বজনের মুখ।
তখন সকল ক্রোধ, আধছেঁড়া পোষাকের নগ্ন যাপন
গলে গলে জল হয় ---
কেবলই থেঁতলে দেয় উদ্যত ফনা।
ধূসর দিনেরা রোজ তবুও স্বপ্ন আঁকে,
তিরতির আগুনের শিখা জ্বলে ওই;
সেখানে সকল রোদ, রিমঝিম বৃষ্টির মাঝে
বদলের দিন আসে পরিযায়ী পাখির ডানায়। #
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



