![]()
বিশাল পার্কের একদিক ঘেষে বড় যে পুকুরটি তার চারপাশ সমান মসৃন করে বাঁধানো পথ। বানানো হয়েছে আমাদের মত কিছু হাটা প্রেমিকদের জন্য ।
সন্ধ্যার ঘনায়মান আঁধারে আমি সে পথে যখন হাটতে আসি সাথে থাকে বৃদ্ধ থেকে যুবা, বৃদ্ধা থেকে তরুনী।আমি তাদের কাউকেই চিনি না, চেনার চেষ্টাও করি না। আমি শুধু আমার পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে তীক্ষ করে চারিদিকের সেই অলৌকিক সৌন্দর্য্যের স্বাদ নিতে নিতে একাকী হেটে চলি।
![]()
অসহ্য মিষ্টি ঘ্রানে আকুল করা কামনার এক ফুল কামিনী
মাঝ পুকুরে মাছেরা ঘাই দিয়ে ওঠে, পানির উপর গোল হয়ে ভেসে ওঠা ঢেউগুলো আস্তে আস্তে চারিদিকে মিলিয়ে যেতে থাকে। নারিকেলের চিরল পাতার ফাক দিয়ে রাতের আকাশ কখনো বা তারার জাল বোনা, কখনো বা সে মেঘে ঢাকা।
আবার কখনো কখনো যখন দমকা বাতাস ইউক্যালিপটাসের ঝিরি ঝিরি পাতাগুলোকে নাড়িয়ে দিয়ে যায় আচমকা, তখন সেই গাছের পাতার এক চমৎকার অন্যরকম সুগন্ধ ভাসিয়ে নিয়ে যায় চারিদিক। এরই সাথে আছে গন্ধবিহীন ফুলগাছের সারি, যার অপরূপ বর্নিল সৌন্দর্য্য অবলোকন করে করে হাটতে থাকি আমি।
আরো আমার নাম না জানা কি এক বিদেশী ফুল যে কিনা তার গোলাপ গোলাপ রঙ রুপ আর সৌন্দর্য্যে মাতাল করে তোলে চারিদিক।
![]()
সেই নাম না জানা কি এক বিদেশী ফুল যে কিনা তার গোলাপ গোলাপ সৌন্দর্য্যে ঝলমল করে তোলে চারিদিক।
এই রূপ, এই রস, এই সব সুগন্ধে মাখামাখি স্নিগ্ধ মধুর পরশ যখন সমস্ত শরীর জড়িয়ে যেতে থাকে তা কি সেই সব ভাবীদের নিত্য সাংসারিক আলাপে পাওয়া যায়!
পাশ দিয়ে হেটে যাবার সময় তাদের কারো কারো আলাপ কানে ভেসে আসে, কার বাচ্চা স্কুলে কি অসাধারন সাফল্যই না পেয়েছে ? স্কুলের মিসরা যে কি স্বার্থপর! আজকাল বুয়ারা যে ফাঁকিবাজ! বুড়ি শাশুড়ীটাকে আজ কেমন করে দু কথা শুনিয়ে দিল ! তাদের এসব অর্থহীন বস্তাপচা গল্পে আমার মন ভরে না। আমি পাশ কাটিয়ে দ্রুত বেগে হেটে যাই।
![]()
সাদা সাদা টগর আমার দারুন প্রিয়
পুকুর না বলে দিঘী বলাই ভালো । তা সেই দিঘীর চারপাশ জুড়ে সারি সারি সেই গাছ যা কিনা আমার কিশোরী কালের অনেক চেনা জানা। রাতের আঁধারে ফোটা গন্ধরাজ, হাস্নাহেনা, দোলনচাঁপা,আর বেলী ফুলের মৌ মৌ আকুল করা গন্ধ মাতাল করে তোলে চারিদিক।আমি বুক ভরে লম্বা শ্বাস নিতে নিতে সেই কুঞ্জ পথটুকু রোজ হেটে হেটে ফিরি কয়েকবার করে।
![]()
বেলী, আহ সে কেন সারাদিন সারাবছর ফুটে থাকে না
চোখ জুড়িয়ে নেই সবুজ চকচকে পাতা ভরা গাছে তারার মত ফুটে থাকা অজস্র সাদা টগরের দিকে চেয়ে।হাটার চেয়েও সেই সুগন্ধী পথ আমাকে প্রতিদিন নিশিতে পাওয়া মানুষের মত কি এক আকর্ষনে টানতে থাকে।
![]()
রাতের আঁধারে ফোটা রাতের রানী হাস্নাহেনা
দুপাশ থেকে উঠে আসা গাছের মাথাগুলো দুদিক থেকে এসে মিলে গেছে মাঝখানে। ওদের মাঝ দিয়ে হেটে যেতে যেতে শুনি কি যেন ফিস ফিস আলাপ তাদের। তাতেই গন্ধটা যেন আরো তীব্র হয়ে ঊঠে তাদের সেই কথোপকথনে। আমি কান ফেলে বুঝতে চেষ্টা করি সেই ঘ্রানের ভাষা, তাদের প্রানের ভাষা।
![]()
দুপাশে গাছের ঝাড়ের মাঝ দিয়ে হেটে চলা্র পথ
গঝড়, জল, আদ্রতা, তপ্ত চুলো থেকে বের হওয়া আগুনের মত হল্কা বাতাস কিছুই আমাকে নিবৃত্ত করতে পারে না ঐ পথে যেতে...।।
আজকাল ফ্ল্যাট বাড়ীতে থাকে কিছু ক্যাকটাস আর অর্কিড, যা পানি ছাড়াও বেচে থাকবে বিদেশ থেকে মালিকরা যতদিন না ফিরে আসে ততদিন পর্যন্ত।
ঘন্টাখানেক পর ফিরে এসে জলের পাত্র হাতে এগিয়ে চলি পত্রশুন্য, ফুলশুন্য এক চিলতে বারান্দায় কন্টকভরা ক্যাকটাসের কাছে।
![]()
টবে টবে ক্যাকটাস
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০১৪ সকাল ৯:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



