কয়েক মাস ধরে দেশ টিভি খুললেই ''কে হতে চায় কোটিপতি''অনুষ্ঠানের বর্ণিল বিজ্ঞাপন দেখা গেছে। নিয়মিত সংবাদের মধ্যেও এ নিয়ে প্রতিবেদন দেখেছি। প্রথমে কথা ছিল উপস্থাপনায় থাকবেন এক কালের সাড়া জাগানো উপস্থাপক (এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি) আনিসুল হক। এরপর হঠাৎ দেখা গেলো হক আউট আসাদুজ্জামান নূর এমপি ইন।
কাল রাত পৌনে দশটায় এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। শুরু হলো এর প্রথম পর্ব। শুরুতে ররির এসএমএস-এর ভিত্তিতে নির্বাচিত ১০জন এলেন মঞ্চে। বাংলাদেশের শিক্ষার বিভিন্ন ধাপ (প্রাথমিক, মাধ্যমিক ইত্যাদি) সঠিকক্রমানুসারে সাজানোর কাজে দ্রুততম ব্যক্তি হয়ে মেডিক্যালের ছাত্রী সুদীপ্তা সরকার বসলেন হট সিটে। শুরু হল প্রশ্ন।
প্রশ্নের মান দেখে যারপরনাই হতাশ হলাম। এগারোটি সঠিক জবাব দিয়ে ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা জিতে অপরাজিত আছেন সুদীপ্তা। এই ১১টি প্রশ্নের মধ্যে ৯টির জবাব আমার ফাইভে পড়ুয়া ছেলেও দিতে পারলো। জেনুইন প্রশ্ন ছিলো ২টি। এর একটির জবাব দিতেই দুটি লাইফ লাইন ব্যবহার করলেন তিনি। সেই প্রশ্ন ছিলো-কোন রাগটি সকাল বেলায় গাওয়া হয় ? (অপশান অনুযায়ী সঠিক জবাব রাগ ভৈরবী)। আরেকটা জেনুইন প্রশ্ন ছিলো ''সংগ্রাম'' ছবিটি কার আঁকা ? ( শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন)
অন্যান্য প্রশ্নের মধ্যে ছিলো ব্যাচেলর ছবির পরিচালকের নাম কি (এর জবাব দিতেও বহু সময় নিলেন), সাম্পান কোন ধরণের যানবাহন, বাংলাদেশের জাতীয় কবির নাম কি, চাঁদে যেতে হলে কোন ধরনের বাহন ব্যবহার করতে হয় ইত্যাদি।
অতীতে আমাদের টিভিতে সাধারণ জ্ঞানের প্রতিযেগিতায় কোন দিন এত সহজ প্রশ্ন করা হয়নি। অথচ কোটি টাকার আয়োজনের হাল এটা।
আসল কারণ এখানে মেধা গৌন। সহজ প্রশ্ন দিয়ে এএসএস দেওয়ানোর স্বার্থেই এটা করা হয়েছে। একেক এসএমএস-এ ১০/১২টাকা কাটা হয়। এখন আবার শুরু করেছে ঘরে বসে লাখপতি বানাবার ব্যবসা। তাতেও মেধা নাই। আছে এসএমএম-এর সংখ্যার জোর।
তবে উপস্থাপনায় (দেশ টিভির কলকাতার নকল করা শব্দ সঞ্চালক) নূরের সুনামের সাথে মিল পেলাম না। অমিতাভ এটাকে যে উচ্চতায় নিয়েছেন তার সাথে পাল্লা দেয়া কঠিন। ভারত করেছে আমেরিকার নকল। সেটার মান নিয়ে মনে প্রশ্ন জাগেনি অমিতাভের ক্যারিশমার জন্য। আমরা করলাম ভারতের নকল। তবে অতি নিম্নমানের নকল। মন খুব খারাপ হলো। বাংলা প্রবাদটির দারুন নমুনা পেলাম-যত গর্জে তত বর্ষে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

