ময়মনসিংহ শহরে যখনই যাই সবকিছুর পরও এখনও খুঁজে ফিরি তাকে, একটি মেয়েকে। বেশ কয়বার মনে পড়ে মেয়েটির কথা।
প্রায় ২৩ বছর আগের কথা। তখন কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র আমি। বাবার ছিল বইয়ের দোকান। একবার পাইকারি বই কিনতে গেলাম ময়মনসিংহ। ভোর বেলা ট্রেন থেকে নেমে অলকা সিনেমা হল (এখন নির্মাণাধীন অলকা কমপ্লেক্স) পেরিয়ে রহমানিয়া বুক ডিপো (এখনও আছে)। দোকান খোলার আগেই পৌঁছে গেছি তাই অপেক্ষার পালা।
প্রায় উল্টোদিকে মেয়েদের স্কুল বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। সকাল হতে হতে স্কুল শুরুর সময় হয়ে এল। মেয়েরা দলে দলে ঢুকছে স্কুলে। হঠাতই একটা মেয়ের দিকে চোখ গেল। কাঁধ পর্যন্ত ছাঁটা চুল, স্কুল ড্রেস। চৌকো মায়াবি মুখ।
তখন আমার মধ্যে প্রেমের অনুভূতি পুরোটাই জাগ্রত। যদিও প্রেম বলতে যা বোঝায়, তাও স্ফুরন ঘটেনি। মেয়েবন্ধুও তেমন একটা নেই। আবার যৌন চেতনা ভালোই জাগ্রত। তাই সুন্দর কোনো মুখ দেখলেই বুকের মধ্যে কেমন যেন করে। সিনিয়র জুনিয়র বাছ-বিচার নেই (এখনও কি আছে?)।
আহা মেয়েটির সঙ্গে যদি ভাব হতো, কথা হতো! কিন্তু থাকি মফস্বলে, ময়মনসিংহ তখন বছরে একআধ দিনের বেশি যাওয়াও হয় না। তাই নগদ যা পাও হাত পেতে নাও। মেয়েটিকে আবার দেখা যায় কিনা।
আমার ফিরতি ট্রেন আবার রাতে। তাই সারাদিন ব্ইয়ের সেই দোকানেই।
টিফিনের সময় মেয়েটি বেরুলো। আবার দেখলাম। এবার মনে হলো চোখাচোখি হলো। মেয়েটি কি একটু হাসল?
দূর থেকে মেয়েটির পিছু নিলাম, 'কাদের বাড়ির মেয়ে গো তুমি.. কাদের বাড়ির মেয়ে'। কিছু দূর পর মেয়েটি তার বাসার গলিতে ঢুকে পড়ল।
আবার বইয়ের দোকানো ফিরে আসা। টিফিনের পর মেয়েটি ফিরে এল স্কুলে। আবার তাকে দেখলাম। এবার মনে হলো খুব ভালো করে দেখলাম।
বিকেলে ছুটির ঘণ্টা বেজে উঠল স্কুলে। মেয়েটি বেরুলো। আরে এ মেয়ে তো দারুণ সুন্দরী!
আবার দূর থেকে অনুসরণ। যতক্ষন মেয়েটিকে দেখা যায়। আবার সেই গলিতে মেয়েরটির চলে যাওয়া। আরা আমার পর্যবেক্ষণ-দারুণ সুন্দর মেয়ে....
এরপর আর কোনোদিন দেখা হয়নি। আমার ময়মনসিংহ যাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বৈবাহিক সূত্রে বিগত এক দশক অনেক বার গেছি ময়মনসিংহে। প্রতিবারই মেয়েটির কথা মনে হয়েছে। সচতেনভাবেই।
সেই স্কুলের সামনে একবার না একবার আমি যাইই। সেই গলির মুখটাতেও গিয়ে দাঁড়াই। সেই স্কুল ড্রেস, ছোট চুল, মায়াবি মুখ ভেসে ওঠে মানসপটে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

