"ঝিলপাড়ের কোন এক চতুর্থীর বাতায়নে দেখা মোর শত জনমের প্রথম ও শেষ প্রেয়সীরে"

একজন বাবা ; তাঁর ষ্টুপিড ছেলের কাছে

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৩৪

শেয়ার করুন:                   Facebook

আমার বাবা ৫৭'র ঘরে পা দেয়া, কর্মজীবন ইস্তফা দিয়ে ঘরে ফেরা একজন অবসরপ্রাপ্ত মানুষ। তাঁর অবসরগুলো কাটে দৈনিক পত্রিকাগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষন করে, বিভিন্ন চ্যানেলে ক্রিকেট খেলা দেখে আর বাড়ী ও মসজিদের সেতুবন্ধন পাকাপোক্ত করতে। একমাত্র মেয়ের ঘরের একমাত্র নাতনীটা তাঁর ভাল বন্ধু এখন। সময় পেলেই ছুটে যান আড়াই বছরের টুনটুনিটার কাছে।

টু বা থ্রীতে পড়ি তখন। প্রতি রবি ও বুধবার বিকেল ৫টায় বাবার অফিসের সামনে হাজির হতাম। শুকলাল হাটে যেতে হবে। বাবার হাত ধরে রেললাইন দিয়ে হাঁটতাম। বাবা বলতেন, বুলবুল বলতো ব্যাট্টা: মানব দেহে হাড়ের সংখ্যা কত? পৃথিবীতে কয়টি মুসলিম দেশ আছে? অমুক দেশের রাজধানী কোথায় ?........ চলতো শুকলাল হাট পর্যন্ত।

বাবার বড় স্বপ্ন ছিল তাঁর বড় ছেলেকে বিদেশে অনেক বড় ডিগ্রী নিতে পাঠাবেন; উনার সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে হলেও। বাবার সমস্ত সুখস্বপ্নের স্বার্থে পা মাড়িয়ে নিজেকে আবিষ্কার করেছিলাম নেশার রাজ্যে। খুবই কেঁদেছিলেন বাবা। আজ অন্যের স্বার্থ উদ্ধার করতে গিয়ে আমাকে ছুটতে হয়েছে পৃথিবীর কয়েকটা প্রান্তে।

বাবার মেজো ছেলে বায়োমেকানিক্যাল ইন্জিনিয়ার নামক শব্দটার পেছনে হন্যে ছুটছে আর ছোট ছেলে টার্নিং পয়েন্টের টিবিতে উঠে দাঁড়িয়েছে। বাবার লালিত স্বপ্নের বীজ তাদের মাঝে বুনে দেয়ার কঠিন দায়িত্ব আজ আমার হাতে; আমাকে পারতেই হবে। আজ জীবনের সকল সংকটময় সময়ে সহজ সমাধানের প্রশ্নে বারবার অনুভব করি "বাবা" নামক মহামানবের প্রয়োজনীয়তা। তাই এখন বাবার দেয়া মারগুলোকে ঔষধ আর তাঁর বলা প্রতিটি কথাকে "পবিত্র বাণী" বলে মেনে নিয়েছি।

বাবাকে সন্তান হিসেবে গর্ব করার মত কতটুকুন কি দিতে পেরেছি জানিনা। তবে আমরা বাবাকে নিয়ে একবুক গর্ব করি। হয়তোবা আগামী প্রজন্মও করবে, যতদিন লাল-সবুজের পতাকা থাকবে। আমাদের শোকেজে সাজিয়ে রাখা আমার ১৫/২০টা ক্রেষ্ট ও কাপের মধ্যে পিতলের অনেক পুরানো ক্ষয়ে যাওয়া একটি কাপ আমাদের অমূল্য সম্পদ। যেখানে খোদাই করে লিখা আছে - "কক্‌সবাজার গুনীজন সংবর্ধনা পরিষদ। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্বীকৃতি স্বরূপ মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোহাম্মদ হোছাইনকে প্রদান করা হইল - ১৬/১২/১৯৭২ইং"।

 

 

  • ৬ টি মন্তব্য
  • ১২০৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৭৬ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১২ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৩৩
comment by: চিকনমিয়া বলেছেন: ডিং
পুলাডা কি আনব্যান হইবো না?:(
২. ১২ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৩৪
comment by: চিকনমিয়া বলেছেন: পেলাচ
৩. ১৪ ই জুলাই, ২০০৮ ভোর ৪:৪২
comment by: মহাকাল বলেছেন:
না করবেনা ;)
৪. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৮
comment by: হুমায়ূন সাধু বলেছেন: মুক্তিযোদ্ধা। সালাম।

 



 


সব পাখি ঘরে আসে - সব নদী ফুরায় এ - জীবনের সব লেনদেন
probal.dip@gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৩০৩২৫