দ্যা এ টিম
সামহয়্যারইনব্লগ-এ যারা ব্লগিং করেন তাদের অনেকেই কম বেশী অবহিত আছেন এই ব্লগ সাইটে বিশেষ একটা টিম রয়েছে (অনেকে বলে "মাস্তান গ্রুপ") যারা "এ-টিম" নামে পরিচিত। তারা ব্লগিং জগৎ থেকে শুরু করে ভার্চুয়াল জগতের সকল ধরণের কমর্কান্ডে বিশেষ পারদর্শী। এ-টিমের সদস্য যারা আছেন তারা নাকি জ্ঞান-গরিমায়, শিক্ষা-দীক্ষায়, মেধা ও মননে এক একটি রত্ন বিশেষ। মেধা পাচার যদিও দেশের জন্য মোটেও কল্যাণকর নয় তবুও রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী ও জামাত-শিবিরকে শায়েস্তা করার জন্য তাদের অনেকেই খেয়ে না খেয়ে বিদেশের মাটিতে পড়ে আছেন। তারা এই দেশের মঙ্গলের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের অনেকেই মনে করেন নিজের দেশে তাদের অস্তিত্ব বিরাট হুমকির মুখে বিধায় জনস্বার্থে তারা বিদেশের মাটিতে বেশ সুরক্ষিত অবস্থায় আছেন। তারা সহিংসতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে নিজেদের আসল নাম ও পরিচয় গোপন রেখে দেশের স্বার্থে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এরা নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে যথেষ্ট সজাগ।
এই সকল মেধাবী ও পলায়নপর মনোভাবসম্পন্ন কিছু ব্লগার ব্লগে এ-টিম গঠন করে প্রমাণ করতে চাচ্ছেন তারা “জ্যুয়েল অব দ্যা নেশন”। তারা যা করেন সবই নাকি দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য। তারা তাদের সকল মেধা ও মনন (জীবন বা আত্মা নয় যা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা দিয়েছিল) বাংলাদেশের উন্নতি ও মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত যাবতীয় চেতনা উদ্ধারে সমর্পণ করে বসে আছেন। তাদের এই আদর্শগত চিন্তা-চেতনা ও উর্বর মেধা ছিনতাইয়ের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্র থেকে শুরু করে ইসলামী টেররিষ্টরাও নাকি বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা রীতিমত বিষ্মিত এবং হতভম্ব তাদের কর্মকান্ড। তারা ভেবে পাচ্ছেনা এতো দেশপ্রেম তাদের কোথা থেকে এলো! এটা কী করে সম্ভব! যে দেশে কোন গেরিলা যুদ্ধ নেই, যে দেশে রাতদিন মর্টারের হামলা নেই, যে দেশে নিরীহ নারী ও শিশুরা বোমার আঘাতে প্রতিনিয়ত জর্জরিত হচ্ছেনা, যে দেশের মানুষেরা আমেরিকান ও বৃটিশ সেনাদের পায়ের তলায় পিষে মরতে হচ্ছেনা- তাদের এতো দেশপ্রেম কোথা থেকে আসে? নাকি এর সবটাই ভুয়া! নাকি পুরোটাই লোক দেখানো! তারা সন্দীহান, এটা নিছক আই ওয়াশ নয়তো! একদিন হয়তো এই বিষ্ময়ের অবসান ঘটবে। সময় বদলের সাথে সাথে আসল সত্যটাও বের হয়ে আসবে।
এদেশে প্রত্নতত্ত্বের মতো মূল্যবান বস্তু অহরহ নির্বিঘ্নে পাচার হয়ে যাচ্ছে। পাচার হয়ে যাচ্ছে অগুনিত মানুষের মধ্যে থেকে কতিপয় নারী ও শিশু মাত্রাতিরিক্ত কম মূল্যে। তাইতো তাদের মতো মেধা সম্পন্ন দেশ প্রেমিকেরা অন্য দেশের প্রেমে পাচার হয়ে গেছে সামান্য কিছু মুনিফার লোভে। তাই দেশের প্রতি তাদের মূল্যবোধের বিনিময় মূল্যটা মেটাতে চাচ্ছেন বিশিষ্ট দেশ দরদী সেজে। যারা রাতদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে, পেটের জ্বালায় নিজের সম্ভ্রম বিক্রি করে, যারা দুবেলা খেয়ে না খেয়ে দুর্বল শরীরে দেশের মাটি আঁকড়ে ধরে পড়ে আছে, তাদের কী কোনই দেশপ্রেম নেই? তাদের কেউইতো দেশ স্বাধীনের সুফলতা পাচ্ছে না। যুদ্ধ তাদের আজ পর্যন্ত দারিদ্র ও অভাব ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। তাই অভাব আর ক্ষুধার সাথে যুদ্ধ করতে করতে যুদ্ধের বাসনা তাদের চিরতরে মিটে গেছে।
আপনাদের এই ভার্চুয়াল দেশপ্রেম বোধ তাদের জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে কতটুকু রসদের যোগান দেবে? বলতে পারবেন কী? আপনদের বিশ্বাস তাদের বিশ্বাসের ভিতকে কতটা মজবুত করবে সেটা ভেবেছেন কখনো? ব্লগের নিকসর্বস্ব রাজাকাররা হয়তো একদিন গা ঢাকা দেবে- কিন্তু সে তো এই দেশের মাটিতেই ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে, থাকবে। তাকে নির্মূল করবেন কোন অস্ত্রের আঘাতে? আজ আপনারা যারা বিদেশের মাটিতে- তারাতো এদেশে খেটে খাওয়া মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তবে কাকে লেলিয়ে দিচ্ছেন সেই সব আত্মগোপনকারী বর্বরদের পেছনে? সাধারণ জনগোষ্ঠিকে? যারা নিজেদের মুখের ভাত জোটাতেই দিনরাত হিমসিম খাচ্ছে তাদেরকে। যে দেশের ক্ষমতাসীন প্রভুরা নিজেরাই ৩৭ বছরে যার সমাধান দিতে পারেনি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে যারা এখনো ভয় পায় তারাইতো চিরটাকাল নিশ্চুপ, নির্বকার থেকে গেল। তাহলে সাধারণ মানুষের কী দায় পড়েছে এই বিশাল জঞ্জালের বোঝা নিজের ঘাড়ে তুলে নিতে? যে জনগোষ্ঠি নিজেদের জীবনের বোঝা তুলতেই নিজেরা সর্বশান্ত, পেরেশান। তারা তুলবে? ওহ! ভুলেই গেছিলাম- আপনারাতো আবার মেধা ও মননে সর্বেসর্বা- আপনাদের হাতে কী অসি মানায়? আপনারা আছেন কলম (কী-বোর্ড) খোঁচাতে আর অনাবশ্যক গলাবাজি করতে।
দ্যা এ-টিম। আপনাদের ছত্রছায়ায় কতিপয় মাত্রাতিরিক্ত পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবসম্পন্ন ধান্দাবাজ একটা শ্রেণী মদদ পাচ্ছে। এই ব্লগে তাদের উপস্থিতি নিঃশব্দ হায়েনার মতো। দলবেঁধে শিকার করে। সবাই একটু বিষ্মিত হবেন আজ যারা এ-টিম-এর নামে দেশ উদ্ধারের মহান ব্রত নিয়ে মাঠে নেমেছেন তাদের টিমে কোন নারী সদস্য নেই। নারী বর্জিত মনোভাব নিয়ে তারা দেশ উদ্ধার করবেন। অথচ এই দেশের অর্ধেক মানুষ নারী। এই দেশের সকল সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে প্রত্যক্ষ্ ও পরোক্ষভাবে কোন না কোন নারী জড়িত। নারী বিবর্জিত এই টিম সব সময় নারী-বিদ্বেষী হয়ে উঠবে সেতো জানা কথাই। তাদের পরিচিত কিংবা শুভাকাঙ্খী কোন নারী এ-টিমের সদস্য হিসেবে যোগ দেননি? কারণ শেয়ালের কাছে মুরগী কখনই নিরাপদ নয়। আসলে এই ব্লগের সবাই জানে এ-টিম কী। এ-টিমের আদর্শের একটি প্রধান দিক হলো নারীর অবমাননা। বাস্তবে না পারলেও মৌখিক ভাবে নারীকে নাজাহাল করা, বিবস্ত্র করা। এ-টিম সম্পূর্ণ পুরুষতান্ত্রিক টিম। এ-টিম ব্লগের যে কোন কর্মকান্ডে অংশ নিলে প্রতিটি প্রতিযোগিতায় নিজেদেরকে চ্যাম্পিয়ন বলে দাবী করে। আর তাদের এই দাবীর বিরুদ্ধে কেউ গেলে- সে নারী কিংবা পুরুষ হোক তাকে পরিকল্পিতভাবে নাজেহাল বা হেয় করা হয়। তারা নিজেদেরকে ব্লগের মাস্তান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর।
তাই স্বভাবতই অন্য সবার মতো আমারো জানার ইচ্ছা-
১। এ-টিম কী? এর প্রতিষ্ঠাতা কে বা কারা। তাদের নাম (আসল নাম যাদের নেই তাদের নিক)। তাদের মূল উদ্দ্যেশ্য কী?
২। এ-টিম এর বর্তমান সভাপতি কে? সাধারণ সম্পাদক কে? এর কী কোন গঠনতন্ত্র আছে? (হোক তা ভার্চুয়াল)
৩। এ-টিমের প্রকৃত সদস্য কারা? (নিক হলেই চলবে, হোক তা একধিক নিক) তাদের মোট সংখ্যা কত?
৪। এ-টিমের চামচা কারা? (চামচারা রাগ কইরেন না। নিকটা দয়া কইরা জানাইয়েন। মাইনাচ দিয়া হইলেও কইয়েন)
৫। এই পোষ্টে যে নিজেদের এ-টিম-এ সদস্য ঘোষণা করবে তাদেরকেই শুধু এ-টিম সদ্য হিসেবে কাউন্ট করা হবে।
৬। আপনি কী এ-টিমের সদস্য? (সাধারণ ব্লগার যারা মন্তব্য করবেন তারা সব শেষে হ্যাঁ কিংবা না লিখলেই হবে।
৭। লোল-সাহিত্যের প্রবর্তক কি এ-টিম? এর পৃষ্ঠপোষকতায় এ-টিমের ভূমিকা বা উদ্দ্যেশ্য কী?
৮। গালি দেয়া যদি জয়েজ হয় তবে গালি খাওয়া কী নাজায়েজ?
৯। এ-টিম নরী বিবর্জিত কেন? মেয়েদের গালি দিতে সুবিধা হবে এই কারণে?
১০। কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা কিংবা কারো পেছনে লাগা কী এ-টিম-এর নিজস্ব বিনোদনের অংশ?
(এই পোষ্টটা পরবর্তীতে আপডেট করা হতে পারে। অনেক ভুল ভ্রান্তি থাকতে পারে- তাই সবার কাছে আগেই বিনীতভাবে ভুল স্বীকার করে নিচ্ছি)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

