আমার প্রিয় পোস্ট

"পসার বিকিয়ে চলি জগৎ ফুটপাতে, সন্ধ্যাকালে ফিরে আসি প্রিয়ার মালা হাতে"

ছায়াজীবি

২২ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১:০৪

শেয়ার করুন:                   Facebook

ছায়াজীবি

(আমার প্রিয় এক ব্লগারের লেখার সূত্র ধরে)


আলোর নীচে অন্ধকার, প্রদীপের নীচে তার স্পষ্ট আভাষ। আলোর সাথে ছায়ার চিরকাল নির্লিপ্ত বসবাস। আকাশের নীচে বিরাজমান নক্ষত্র, সূর্য, চন্দ্র-তার নীচে মেঘ, তারও নীচে বৃক্ষ, মাটি, পাহাড় আর সমুদ্র। দিনের আলোয় সবাই আলোকিত। নক্ষত্রগুলো শুধু অদৃশ্যমান। সূর্য ডুবলেই আঁধারের কালোছায়া- পৃথিবীর বুকে, সারা আকাশটা জুড়ে। আঁধার নেমে এলেই দূরের জ্বলজ্বলে নক্ষত্রগুলো আকাশের ছায়া থেকে বের হয়ে আসে। ক্রমশঃ উজ্জ্বল।

সূর্যকে আড়াল করে ভাসে মেঘ, মেঘের ছায়া লুটায় মাটির বুকে। মাটিতে শেকড় গেড়ে দাঁড়িয়ে থাকে যে বৃক্ষ, মেঘের ছায়ার নীচে তার'ও ছায়া পড়ে এই মাটির বুকে। জীবনের প্রয়োজনে কেউ দেয় আলো, কেউ দেয় ছায়া। গাছের জীবন আলো- সূর্য তার ভালবাসা; ফসলের জীবন বৃষ্টি- মেঘের কাছে গচ্ছিত সেই ভালবাসা, বৃষ্টি দেয় তা ভরিয়ে; মেঘকে ভালবাসে বাষ্প-তাই সমুদ্রের কাছে সে চিরঋণী। সমুদ্র, সূর্যের ভালবাসায় সদাই উন্মত্ত, উত্তাল- পৃথিবীর সব মোহনায় সেই উচ্ছাসের প্রকাশ।

একই আকাশের নীচে-তুমি, আমি, আমরা সবাই; সৃস্টির সকল কিছু। নিতান্তই ছায়াজীবি হয়ে বেঁচে আছি অদৃশ্য এক ভালবাসার টানে- শেকড় গেড়ে কিংবা শেকড়বিহীনভাবে- কখনো শুন্যে, কখনো মাটিতে। এই মাটির বুকে, ছায়াবৃক্ষের সন্ধানে আমরা কেবল জায়গা বদল করি। আপনা থেকেই বদলে যাই। জীবনের তাগিদে আর নিষ্ঠুর প্রয়োজনে আমরা ক্রমশই ছায়াজীবির খোলশ ছেড়ে পরজীবি হয়ে উঠি। মাটির বুকে লুকানো সুপ্ত রসের সন্ধানে শেকড় গ্রথিত হয় আরও গভীরে। মায়ার বাঁধন খুলে যায়, মাটির মমত্বে সৃষ্টি হয় নতুন কিছু। মাটির বুকে পড়ে থাকা সমান্তরাল ছায়া- শেকড় হয়ে সেঁধিয়ে যায় নরম মাটির বুকে। মাটি হয়ে ওঠে মানবী, মাটির শরীরেই জন্ম নেয় নিষ্পাপ মাটির সন্তান। ছায়াজীবি হয়ে ওঠে মায়ের কোলে।

 

 

  • ২৩ টি মন্তব্য
  • ৩৫৬ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৮ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২২ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১:১৬
comment by: মানবী বলেছেন: কালপুরুষ, কেমন আছেন?

নতুন কবিতা পড়তে এসেছিলাম, কবিতা নেই।
২২ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১:২৭

লেখক বলেছেন: জ্বী, ভাল আছি। আলহামদুলিল্লাহ্। কবিতা লেখা হয়নি। লিখতে হবে আপনার কারণেই। আমার ব্লগে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাবেন সেটাতো আমি কখনোই চাইনা। সুতরাং ... বুঝতেই পারছেন। প্রেরণা যোগানোর জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

আপনি কেমন আছেন? ভাল থাকুন। প্রার্থনা রইলো।

২. ২২ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১:২৯
comment by: রুখসানা তাজীন বলেছেন: কেন যে এত ভালো লাগলো বুঝলাম্না। প্রিয়তে
২২ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ২:৩৩

লেখক বলেছেন: তোর ভাল লেগেছে ভেবে গর্ব বোধ করছি। ভাল লাগানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

৩. ২২ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১:৩৬
comment by: মানবী বলেছেন: কালপুরুষ, ভালো থাকা দুবার পোস্ট হলে তাই অনেক ভালো আছেন বুঝতে পারছি :)

সবসময় অনেক ভালো থাকুন এবং "প্রণমী তোমায়"এর মতো চমৎকার সব কবিতা লিখুন। শুভ কামনা রইলো। :-)

৪. ২২ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১:৫৯
comment by: আইরিন সুলতানা বলেছেন: এটা কবিতার চেয়েও বলিষ্ঠ ।
২২ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ২:৩৬

লেখক বলেছেন: দুর্বলতম প্রচেষ্টায়, বলিষ্ঠতম সাফল্য। ধন্যবাদ।

৫. ২২ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ২:৩৭
comment by: ঊশৃংখল ঝড়কন্যা বলেছেন: অসাধারণ হয়েছে ভাইয়া! আমি কবিতাটা লেখার সময় আপনার কিছু কথা কবিতাটায় বুঝাতে চেয়েছিলাম। জানিনা কতটুকু পেরেছি কিন্তু আপনার লেখাটা পড়ে সত্যি ভাল লাগলো। কবিতাটা আমার খুব প্রিয়। এত সুন্দর করে কথাগুলো বলার জন্য অনেএএএএক ধন্যবাদ !!! আবারো বলি সবাইকে কবিতাটা :

হঠাৎ কেমন অবশ লাগে
ক্লান্ত বিবশ মনটা জাগে
দীর্ঘদিনের ঘুম শেষে-
রোষে উঠি গোপন রাগে।

ঘন-ঠান্ডা ফরাস নিচে
ঘুমগুলো সব ঘনিয়ে বাঁচে।
স্বপ্নগুলো হাল্কা কাঁপে-
বাইরের ঐ গরম আঁচে।
অস্থির সব চিন্তাগুলো-
লুকিয়ে থাকে আপন ছাঁচে।

প্রচন্ড সেই ঘুম শেষে
রাগটা জাগে আপন বেশে
ঘুমের দেশের স্বপ্নগুলো-
শিউড়ে ওঠে আত্মনাশে।


. . .আমি নরম বালুর ওপর নিখুঁত স্বপ্ন আঁকি,
কিন্তু হুরমার ঢেউয়ের তোড়ে তা এলোমেলো হয়ে যায়।
. . .আমি একটু রঙের খোঁজে দূর-দূরে চোখ রাখি,
কিন্তু চারপাশ ঢেকে আসে আবছা কালো ছায়ায় ||

অনেএএএক ভাল থাকুন।
২২ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ২:৫২

লেখক বলেছেন: তোর লেখাটা আমার খুব ভাল লেগেছিল। তোকে বলেছিলাম আমি কিছু লিখে রেখেছি। তোর ব্লগে মন্তব্য আকারে দেয়ার ইচ্ছে ছিল। পরে সেটা না করে লেখাটা পোস্ট আকারে দিয়ে দিলাম, সবার সাথে শেয়ার করার জন্য। ধন্যবাদটা তোর প্রাপ্য, তোর লেখার সূত্র ধরেই লেখা।

ভাল থাকিস। পরীক্ষা কেমন হচ্ছে জানাস। দোয়া রইলো।

৬. ২২ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:১১
comment by: কাল্‌বেলা বলেছেন:
কালপুরুষ'দা,
কি খবর , কেমন আছেন? অনেক অনেক দিন ব্লগে আসতে পারিনি। আপনাদের কত কত লেখা জমে গেছে। এত সব কখন যে পড়ি।

এই লেখাটা পড়লাম। আগেরমতই দারুন।
২২ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:২১

লেখক বলেছেন: আলহামদুলিল্লাহ্। ভাল আছি। আপনাকে দারুন মিস করি। অনেকদিন পর মনে করে এলেন ব্লগে খুব ভাল লাগলো। ব্যস্ততা কাটিয়ে আবারো আসুন নিয়মিত। আপনার লেখা মিস করি। ভাল থাকুন। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৭. ২৩ শে জুন, ২০০৮ রাত ১২:২০
comment by: সাতিয়া মুনতাহা নিশা বলেছেন: দারুণ কালপুরুষ-দা দারুণ!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
৮. ২৩ শে জুন, ২০০৮ রাত ১২:২৩
comment by: মাজুল হাসান বলেছেন: ছায়াবীথি নামের একটি গল্প আছে আবু তাহের সরফরাজের। শূন্যের গল্পকার, ভালই।

শুভেচ্ছা।
৯. ২৩ শে জুন, ২০০৮ রাত ১:৪৫
comment by: শফিউল আলম ইমন বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন।
ভালো লাগল।
ভালো থাকুন।
১০. ২৩ শে জুন, ২০০৮ ভোর ৫:১৭
comment by: উত্তরাধিকার বলেছেন:
কালপুরুষ দা,

মানব সভ্যতা আর তাবৎ প্রকৃতির বিশদ বর্ণণাটুকু এত্ত কম কথায় কেমন সহজে বলে গেলেন ......
আমি অপার বিস্ময় নিয়ে পড়ে গেলাম -
কয়েকবার পড়লাম । আর প্রতিবারেই মুগ্ধতা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে...।
:)



আপনায় স্যালুট কালপুরুষ দা।
২৩ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৮:১৪

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ। এমন মন্তব্য লেখার অনুপ্রেরণা যোগায়। মন ভরে গেল।

১১. ২৩ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৮:১৮
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: আমার কেন যেন মনে হচ্ছে এটা লেখার পর আপনি অন্যরকম কোন আনন্দ পেয়েছেন। সব লেখাই কবির আনন্দ, কিন্তু কিছু বিশেষ তো থাকেই।
আমি হলে অবশ্যই পেতাম।

ভালো থাকবেন।
২৩ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১:১৯

লেখক বলেছেন: সব সৃষ্টির পেছনেই কিছু না কিছু আনন্দ থাকে। এটাতেও তার ব্যতিক্রম নেই। আপনার ভাবনা ও বোধ বেশ গভীর। ধন্যবাদ।

১২. ২৩ শে জুন, ২০০৮ সকাল ১০:৪৮
comment by: আন্দালীব বলেছেন: মুক্তগদ্য....অনেক ভালোলাগা রইলো। আরো চলুক না! শুভেচ্ছা।
২৩ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১:২১

লেখক বলেছেন: চেষ্টা থাকবে অবশ্যই। ধন্যবাদ।

১৩. ২৩ শে জুন, ২০০৮ সকাল ১০:৫২
comment by: চিটি (হামিদা আখতার) বলেছেন: অসাধারণ!! হয়েছে।

প্রতিটি কথার পরতে পরতে ভালোলাগার ছোঁয়া মিশে আছে নিবিড় ভাবে।

ভালো থাকুন
শুভেচ্ছা থাকলো।
২৩ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১:২৯

লেখক বলেছেন: তব প্রশংসায় বিগলিত এ চিত্ত মোর,
সদা সুরভিত পুষ্প পল্লবিত- প্রতিটি ভোর।

১৪. ২৬ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৪১
comment by: সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: কি ভালো যে লাগলো।
এত সুন্দর গুছিয়ে লিখতে কোনদিনও কি পারবো।কিছু লিখতে বসলেই এলোমেলোতায় মিশে যাই।
খুব ভালো লাগলো" ছায়াজীবি"র অনুভবগুলো।

সুস্হ এবং সুন্দর থাকবেন এই প্রত্যাশায়।

 



 


জন্মঃ নারিন্দা, ঢাকা।

পেশাঃ নগর গবেষক।

শখঃ আড্ডা, বিতর্ক, লেখালেখি, ফটোগ্রাফী, রান্না, বই পড়া, গান শোনা ও ছবি আঁকা। এক সময় রাশিফল...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ১২৮২৯৪