ছায়াজীবি
(আমার প্রিয় এক ব্লগারের লেখার সূত্র ধরে)
আলোর নীচে অন্ধকার, প্রদীপের নীচে তার স্পষ্ট আভাষ। আলোর সাথে ছায়ার চিরকাল নির্লিপ্ত বসবাস। আকাশের নীচে বিরাজমান নক্ষত্র, সূর্য, চন্দ্র-তার নীচে মেঘ, তারও নীচে বৃক্ষ, মাটি, পাহাড় আর সমুদ্র। দিনের আলোয় সবাই আলোকিত। নক্ষত্রগুলো শুধু অদৃশ্যমান। সূর্য ডুবলেই আঁধারের কালোছায়া- পৃথিবীর বুকে, সারা আকাশটা জুড়ে। আঁধার নেমে এলেই দূরের জ্বলজ্বলে নক্ষত্রগুলো আকাশের ছায়া থেকে বের হয়ে আসে। ক্রমশঃ উজ্জ্বল।
সূর্যকে আড়াল করে ভাসে মেঘ, মেঘের ছায়া লুটায় মাটির বুকে। মাটিতে শেকড় গেড়ে দাঁড়িয়ে থাকে যে বৃক্ষ, মেঘের ছায়ার নীচে তার'ও ছায়া পড়ে এই মাটির বুকে। জীবনের প্রয়োজনে কেউ দেয় আলো, কেউ দেয় ছায়া। গাছের জীবন আলো- সূর্য তার ভালবাসা; ফসলের জীবন বৃষ্টি- মেঘের কাছে গচ্ছিত সেই ভালবাসা, বৃষ্টি দেয় তা ভরিয়ে; মেঘকে ভালবাসে বাষ্প-তাই সমুদ্রের কাছে সে চিরঋণী। সমুদ্র, সূর্যের ভালবাসায় সদাই উন্মত্ত, উত্তাল- পৃথিবীর সব মোহনায় সেই উচ্ছাসের প্রকাশ।
একই আকাশের নীচে-তুমি, আমি, আমরা সবাই; সৃস্টির সকল কিছু। নিতান্তই ছায়াজীবি হয়ে বেঁচে আছি অদৃশ্য এক ভালবাসার টানে- শেকড় গেড়ে কিংবা শেকড়বিহীনভাবে- কখনো শুন্যে, কখনো মাটিতে। এই মাটির বুকে, ছায়াবৃক্ষের সন্ধানে আমরা কেবল জায়গা বদল করি। আপনা থেকেই বদলে যাই। জীবনের তাগিদে আর নিষ্ঠুর প্রয়োজনে আমরা ক্রমশই ছায়াজীবির খোলশ ছেড়ে পরজীবি হয়ে উঠি। মাটির বুকে লুকানো সুপ্ত রসের সন্ধানে শেকড় গ্রথিত হয় আরও গভীরে। মায়ার বাঁধন খুলে যায়, মাটির মমত্বে সৃষ্টি হয় নতুন কিছু। মাটির বুকে পড়ে থাকা সমান্তরাল ছায়া- শেকড় হয়ে সেঁধিয়ে যায় নরম মাটির বুকে। মাটি হয়ে ওঠে মানবী, মাটির শরীরেই জন্ম নেয় নিষ্পাপ মাটির সন্তান। ছায়াজীবি হয়ে ওঠে মায়ের কোলে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

