একটা চমৎকার কবিতা নির্মাণ করবো বলে
অভিজাত এলাকায় একটুকরো ভাল জায়গা
খুঁজছি। লেকের পাড়ে হলে নিঃসন্দেহে খুব
ভাল হয়, আর যদি হয় দখিন খোলা। দুষণ
নেই এমন কোন লেকের খবর জানা আছে কী?
পচা মাছের গন্ধ আমার একদম অসহ্য, যেমন
সহ্য হয়না হাজারিবাগের দূষণ। উফ্! বুড়িগঙ্গা
কেমন মরতে বসেছে ট্যানারির দাপটে। জমির
দাম নিয়ে ভাবিনা, বিস্তর জমি খালি পড়ে আছে
মনাঞ্চলে, বনাঞ্চল তবু নিরাপদ থাকুক। বর্ষায়
কাদা হয়, জল জমেনা এমনটা হলেও চলবে।
ইট, বালু, সিমেন্ট, রড এসবের প্রয়োজন নেই।
শব্দ, উপমা, বাক্য আর ছন্দে গড়ে নেবো সেই
কবিতা, আমি যেমনটা চাই। এসব খুঁজে পেতে
বাড়তি কোন খরচের ঝামেলা নেই- সুরম্য এক
কবিতা নির্মাণের সফল আর্কিটেক্ট আমি হতে চাই।
ফুরফুরে মেজাজে উড়তে থাকা যতসব উপমা মন
বারান্দার কার্ণিশে এসে ভীড় জমাবে। শান্তির শ্বেত
কপোতেরা হেঁটে বেড়াবে ভাবনার রেলিং ধরে।
কাক প্রহরায় ভোর হবে ঘুমন্ত চেতনার। পূব দুয়ারে
সূর্য হেসে উঠবে আবেগীয় টিনটেড গ্লাসে। মেঘের
আঁচল থেকে অনবরত বৃষ্টি ঝরবে কাব্যময় ছাদের
বুকে। চাঁদের আলোয় ভিজে যাবে মননের শুকনো
চৌকাঠ। ফুলেরা মাতবে সব সুরভিত উপমার ঈর্ষায়।
হঠাৎ! স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়!
নিজেকে প্রবোধ দেই- আমিতো কবি নই; কবিতার
আর্কিটেক্ট হবার মিথ্যে প্রচেষ্টায় মননের ভিত খুঁড়ি।
কবিতার অশুদ্ধ নির্মাণ স্থাপত্যে নিজেকে প্রতিনিয়ত
মমি করে তুলি। দৈন্যতার রং আর তুলিতে কবিতার
কোন প্রাসাদ নয়, জরাজীর্ণ সব পর্ণকুটির এঁকে চলি।
ছবিঃ নিজের তোলা, বান্দরবন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

