আমার প্রিয় পোস্ট

"পসার বিকিয়ে চলি জগৎ ফুটপাতে, সন্ধ্যাকালে ফিরে আসি প্রিয়ার মালা হাতে"

ডায়েরীর পাতায় লেখা চিঠি

০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:১২

শেয়ারঃ
0 0 0

ডায়েরীর পাতায় লেখা চিঠি

অনিন্দিতা,
তোমার কপালে সেদিন কোন টিপ ছিলনা। কালো টিপ আমার ভীষণ পছন্দ ছিল। অথচ তুমি কখনো কালো টিপ পড়তে না। কলঙ্কের দাগ নাকি কালো হয় তাই তুমি সবসময় গাঢ় লাল টিপ পড়তে। তুমি কপালে লাল টিপ পড়লে সেটা আরো বেশী জ্বলজ্বল করতো। তোমাকে ভীষণ মানিয়ে যেত। মাঝে মাঝে আমাকে বলতে তোমার নাকি সিঁদুরের টিপ পড়তে খুব শখ হয়। আমি শুনে তোমাকে একটা ছোট্ট রূপোর সিঁদুরের কৌটো উপহার দিয়েছিলাম। টাঙ্গাইলের কোন এক জমিদার বাড়ীর পুরোনো স্মৃতি হিসেবে নওরোজ আমাকে দিয়েছিল। নওরোজকে তুমি চিনতে। একসময় আমার অফিসেই চাকরী করতো। মগবাজারের বাসায় প্রায়ই আসতো। পরে অন্য অফিসে চাকরী নেয়। জমিদার পরিবারের কেউ একজন সম্পর্কে ওর নানী হতো। সেই নানীই ওকে রূপোর কৌটটা দিয়েছিল। পরে সেটা জানিনা কী কারণে আমার হাতে তুলে দেয়। নওরোজ প্রসঙ্গ এখন থাক। টিপের কথাই বলি।

অনিন্দিতা, তুমি বলছিলে সিঁদুরের টিপ পড়ার ব্যাপারে তোমার মায়ের কড়া নিষেধাজ্ঞা আছে। তাঁর ধারণা কুমারী মেয়েরা কপালে সিঁদুর পড়লে তাতে অমঙ্গল হয়। তিনি নাকি আরও বলতেন মুসলমান মেয়েদের কখনোই কপালে সিঁদুর কিংবা টিপ পড়তে নেই। তিনি মনে করতেন- অজন্তা, ইলোরা, শকুন্তলা, মেনকা, দ্রৌপদী ওরা পুরুষদের মন যোগাতেই অমন খোলামেলা বসন-ভূষণে সজ্জিত হতো, কপালে টিপ পড়তো। আমাদের রক্ষণশীল সমাজে ওসব নিন্দনীয়। মেয়েদের দুর্নাম হয়। লোকে আড়ালে নানা কথা বলে, আড় চোখে তাকায়। তোমার মধ্যে অবশ্য এসব কুসংস্কারের কোন বালাই ছিলনা। তুমি যথেষ্ট উদারমনা ছিলে। তুমি কখনো শাড়ী পড়ে বাইরে বের হলে কপালে একটা টিপ দিতে। লাল টিপ ছাড়া অন্য কোন টিপ খুব একটা চোখে পড়েনি। টিপ পড়ার ব্যাপারে তোমার মা নাকি পরে কোন কিছুই বলতেন না। তবে তোমার মায়ের ঐ একটাই আপত্তি ছিল বলবৎ ছিল- কখনোই সিঁদুরের টিপ পড়া চলবেনা। আমার দেয়া রূপোর কৌটাটা মনে হয় তোমার কোন কাজে লাগেনি।

অনিন্দিতা, মনে আছে- সেদিন তোমার আমার এক বান্ধবীর বাসায় যাবার কথা ছিল। তুমি বেশ সুন্দর বাদামী রঙের জমিনে সাদা বল প্রিন্টেড একটা সূতী শাড়ী পড়ে আমার বাসায় এলে। সোজা আমার ঘরে এসে আমার পাশে দাঁড়ালে। জিজ্ঞেস করলে, এই দেখোতো এই শাড়ীতে আমাকে কেমন লাগছে? আমি বললাম, “অনিন্দ্য সুন্দরী”। মা তখন রান্না ঘরে। লক্ষ্য করলাম তোমার কপালে কোন টিপ নেই। শাড়ী পড়েছো অথচ কপালে টিপ নেই দেখে অবাক হলাম। তোমার কাছে এগিয়ে গেলাম। আশে পাশে কেউ নেই দেখে সেই সুযোগে চট করে তোমার কপালে একটা চুমু দিলাম। চুমু দিতেই তুমি একটু রাগত ভঙ্গিতে বললে- ছিঃ ছিঃ একি করলে! আমার কপালে যে কলঙ্ক লেপে দিলে! আমি হঠাৎ অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। বললাম- “স্যরি, তোমাকে এতোই ভাল লাগছিল যে লোভ সামলাতে পারলাম না। তোমার কপালে টিপ নেই দেখে ভাবলাম শূন্যস্থানটা পূরণ করি। সবসময় তোমার কপালের লাল একটা টিপ ট্রাফিক সিগন্যালের লালবাতি হয়ে আমাকে থামিয়ে দেয়। আজ আর তেমন কোন বাঁধা ছিলনা। নাহ্, কোন কলঙ্ক নয় আমার শুভেচ্ছা ও ভালবাসা তোমার কপালে এঁকে দিলাম। তুমি সৌভাগ্যবতী হবে”।

অনিন্দিতা, কতকাল পর সেদিন তোমার সাথে দেখা। তোমার অনেক গল্প আমি অনেকের মুখে শুনেছি। আজ তোমার গাড়ী, বাড়ী, ঐশ্বর্য সবই আছে- শুধু আমারই তেমন কেউ নেই। তোমার কপালে আজো সেই লাল টিপ জ্বলজ্বল করছে। তোমার গালে তিল ছিলনা বটে, তবে হাসলেই গালে টোল পড়তো; আমি গোল গোল চোখে অবাক তাকিয়ে দেখতাম- বলতাম, তোমার স্বামী ভাগ্য দারুন! তুমি বলতে আমি ভীষণ ঈর্ষাকাতর। সত্যিই কী তাই? একদিন তোমার ঐ চাঁদ কপালে একটা সামান্য চুমু এঁকে বলেছিলাম তুমি সৌভাগ্যবতী হও। আজ তুমি স্বামী সোহাগে রাজ নন্দিনী। সত্যিই তুমি আজ ভাগ্যবতী। তোমার বিয়েতে আমি কিছু দিতে পারিনি। আমার সেই রূপোর কৌটাতে এক চিলতে সিঁদুর ভরে নিও- মনে করো সেটাই আমার আর্শীবাদ, আমার নির্মল ভালবাসা। ভাল থেকো।

--আনন্দ

 

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:০৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:২৪
এন এইচ আর বলেছেন: ডায়েরি ওয়ালার জন্য মন খারাপ
৩. ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:৪১
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন: তোমার কপালে টিপ নেই দেখে ভাবলাম শূন্যস্থানটা পূরণ করি
০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৩৭

লেখক বলেছেন: যে লিখেছে সেই শুধু জানে সত্য-মিথ্যা, কিংবা শুধুই জীবনের গল্প।

৬. ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৯:৩৬
সহেলী বলেছেন: আশা করি শেষ হয়ে যায় নি এ লেখা ।
৭. ০৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৪
পুনর্নভা মৌ বলেছেন: বুক ঢিপ ঢিপ চুমোর টিপ!
৯. ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৪৮
মেঘ বলেছেন: ঘুমাইতাছেন?? Click This Link
এইটা দেখেন নাই? আতিকুল কবির কি কইছে?
খালি প্রেম প্রেম লিখলে চলব? না কি মাঝে মাঝে মানুষও হইতে হইব?
০৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:০৪

লেখক বলেছেন: একটু আগেই দেখলাম। আজ সারাদিন বাদে এইমাত্র ব্লগে ঢুকলাম। ঐ ব্লগ পাড়া ঘুইরা আইলাম। পোস্টটাও পড়লাম। তোমার মস্তব্যগুলান দেখছি। প্রতি মন্তব্যগুলাও পড়লাম। তুমি যেইখানে বারুদের গোলা দাগাইছো সেইখানে আমি মরিচবাতি না জ্বালাইলেও চলবো মনে করলাম। তাই কিছু না কইয়া চইলা আইলাম। তুমি যে একাই একশো আমি আর কি কমু! এই ব্যাপারে তুমি আমার গুরু। আমি তোমার কাছে দীক্ষা নিতাছি। গুরু তুমি আশীর্বাদ করো যেন তোমার মতো মানুষ হইতে পারি।

১০. ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৫১
ভালো-মানুষ বলেছেন: @মেঘ,
আপনেও কম যান না, গালি দিয়া গালি খায়া খালি নালিশ কৈরা বেড়ান। ফাইজলামি পাইসেন?
১১. ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:১৩
শিমুল সালাহ্উদ্দিন বলেছেন: বস,
শুভকামনা। বহুদিন পর কবিতা দিলাম। ঘুরে আসবেন। শুভকামনা।
১২. ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:০৬
অদৃশ্য বলেছেন: কালপুরুষ দা.........................সুন্দর....................




সবসময় ভালো থাকুন। ঘুরে আসবেন।
১৩. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:৩৫
হামোম প্রমোদ বলেছেন:
বাংলাদেশের ভাষা বৈচিত্র এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র রক্ষায় এগিয়ে আসুন .................

Click This Link
১৪. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৯:৪২
শত রুপা বলেছেন: অনিন্দিতা
অনিন্দিতা
অনিন্দিতা
অনিন্দিতা
১৫. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:০৯
আবু সালেহ বলেছেন:
এই রকম কইরা মনের ভাব প্রকাশ করতে পারলে এতদিনে নিশ্চিত কিছু একটা হয়ে যেতো....

ভালো থাকুক আনন্দ আর তার অনিন্দিতা............

০৫ ই মে, ২০০৯ রাত ১:০৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

০৫ ই মে, ২০০৯ রাত ১:০৬

লেখক বলেছেন: একটা কথা বলবো বলবো করে বলা হয়নি। আমার একমাত্র শ্যালিকা'র নাম ঊর্মি। সে পেশায় ব্যাংকার।

১৭. ১৯ শে মে, ২০০৯ রাত ৯:২৫
সুনীল সমুদ্র বলেছেন:
সুন্দর লেখা।
সুন্দর অনুভব।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৬৩৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
জন্মঃ নারিন্দা, ঢাকা।

পেশাঃ নগর গবেষক।

শখঃ আড্ডা, বিতর্ক, লেখালেখি, ফটোগ্রাফী, রান্না, বই পড়া, গান শোনা ও ছবি আঁকা। এক সময় রাশিফল...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই