আমার প্রিয় পোস্ট

"পসার বিকিয়ে চলি জগৎ ফুটপাতে, সন্ধ্যাকালে ফিরে আসি প্রিয়ার মালা হাতে"

লাউয়ের প্রতি ভালবাসা

২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৩

শেয়ারঃ
0 0 0

লাউয়ের প্রতি ভালবাসা

সাধের লাউ আমাকে কখনো বৈরাগী হতে দেয়নি বরং রাগের কারণ হয়েছি। আর এই রাগের পেছনে যিনি থাকতেন তিনি আমার প্রিয়তমা গিন্নী। কতদিন যে এই সবুজাভ ত্বকের লিকলিকে তন্বী অথবা মোটাতাজা নাদুস-নুদুস গোছের লাউয়ের প্রেমে পরে নিজের দুর্গতি ডেকে এনেছি তার হিসেব নেই। স্বামীর অন্তরের খবর গিন্নীরা কী করে যেন টের পেয়ে যায়। বিয়ের পরপরই গিন্নী আমার ঠিকই টের পেয়েছিল লাউয়ের প্রতি আমার একটু বেশী মাত্রার দুর্বলতা। তাই থলে হাতে বাজারে গেলেই থলের ভেতর থেকে বিড়ালের উঁকি দেয়ার মতোই লাউ কেনার বাসনাটা কেমন যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠতো। লাউয়ের প্রতি মনটা ব্যকুল হয়ে উঠতো। কিন্তু বরাবরই লাউ কিনতে আমি ভীষণ ভয় হয়। আমার কেনা সুন্দরী কোন লাউ কচি হয়না। সব পাকনা বুড়ি। বাসায় নেবার পর বুঝতে পারি। গিন্নী নির্দয়ভাবে যখন তার সতীন লাউকে বটির নীচে ফেলে তখন লাউয়ের ধবধবে সাদা বিচিগুলো দাঁত বের করে হাসে। গিন্নী বুঝতে পারে তার সতীন যথেষ্ট পাকাপোক্ত গোছের। সহজে দমেনা। রান্নার সময় সেই লাউ অবিগলিত হাসি দিয়ে বলে তোমার স্বামী একটা আস্ত একটা গবেট- আজ পর্যন্ত কচি লাউ চিনলোনা। গিন্নী দূর থকে কটমট করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি কাছে যেয়ে হাঁড়িতে আদর করে দুই/এক চামচ চিনি ঢালি, বেহায়া লাউ তবুও গলতে চায়না। রান্নার পরে আধাসেদ্ধ বিচিগুলো এতিম পোলাপানের মতো কাতর দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে থাকে। আমার খেতে মায়া হয়, অরুচি লাগে।

আমার গিন্নীর সাথে যুবতি লাউয়ের সম্পর্ক কিছুটা নমনীয় হলেও বুড়ি লাউয়ের সাথে শত্রুতা আজও অব্যাহত। সম্পর্কটা রীতিমত সতীনসুলভ। বিয়ের এতো বছর পরেও বুড়ী লাউয়ের প্রতি আমার প্রগাঢ় মমতা ও প্রেম দেখে বউ শুধু রাগে ফুসতে থাকে। ছোটবেলা থেকেই লজ্জা শরম কম বলেই হয়তো এসব গায়ে মাখিনা। আমি যখন ঘর্মাক্ত শরীরে, গদগদ চিত্তে এক হাতে বাজারের ব্যাগ আর অন্য হাতে একটা লাউ ঝুলিয়ে বাজার থেকে ফিরি- বউ তখন আমার দিকে ফিরেও তাকায় না। কপাল বেয়ে ঘাম ঝরতে থাকে- ভাবি, বউ হয়তো আঁচল দিয়ে মুখটা মুছিয়ে দেবে। বলবে, বাজার করা সত্যিই একটা ঝকমারি কাজ। আর এই কাজটা করে তুমি আমাকে সারাজীবন উদ্ধার করলে। কিন্তু তা নয়! সে আমার হাতে ধরা লাউয়ের দিকে তাকিয়ে বলবে- আজ দুপুরটা আমার মনে হয় উচ্ছন্নে গেল। কারণ এই লাউ গলতে কতক্ষণ সময় লাগবে আল্লাহ্ মালুম। সে ভয়ে অস্থির। আমি মনে মনে ঢোঁক গিলি। অন্য রান্না আজ সে শেষ করতে পারবে কিনা সেই চিন্তায় অস্থির। আমি অভয় দিয়ে বলি- আজকের লাউটা কিন্তু দারুন পেয়েছি! একদম কচি। তুমি যেমন যেমন বলেছো ঠিক সেইভাবেই চিমটি কেটে এনেছি। লাউ বিক্রেতা নিজের হাতে বেছে দিয়ে বললো আজ এই লাউ খাবেন আর আমাকে স্মরণ করবেন (বেটা যে ঠিক বলেছিল বুঝেছিলাম পরে)। গিন্নী তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে বললো- তাহলেই হয়েছে। ঠিক ঐ বেটা হতচ্ছাড়া তোমার ঘাড়ে এবারো বুড়ী লাউ গছিয়েছে। এমন কথা শুনলে কার না আঁতে ঘা লাগে! তবুও আমি চুপ থাকি। উত্তরটা রান্নার পর জমবে ভাল, সেই আশাতেই থাকি। হাতের লাউটা মেঝেতে নামিয়ে বলি- কোন কিছু যাচাই না করে সে সম্পর্কে মন্তব্য করা ঠিক না। বউ বলে- সেতো আমি আজ নতুন দেখলাম না। এই বলেই সে চুপ। আমিও গোছল সেরে রান্না শেষ হবার প্রহর গুনি।

আসলে বউ আমাকে প্রায়ই মনে করিয়ে দেয় লাউ কেনার আগে লাউয়ের গায়ে নখ দিয়ে চিমটি মেরে দেখবে- সেটা কচি নাকি বুড়ী! আমি উত্তরে বলি, তরতাজা লাউয়ের নাজুক গায়ে কেউ কী চিমটি মারে? আমি তো বিয়ের আগে তোমাকে চিমটি মেরে দেখিনি, তুমি কচি ছিলে নাকি বুড়ী! তাহলে বেচারী লাউয়ের দোষটা কোথায়? তাছাড়া তোমার মতো নেইল পলিশ লাগানো, লম্বা ধারালো নখতো আমার নেই। আর কাউকে খোঁচা মারার অভ্যাসও আমার নেই। খোঁচা দিলেই কী সব বোঝা যায়- ভেতরটা কার কেমন! এরপর কথা আর না বাড়িয়ে চুপ করে থাকাই ভাল মনে করি। কারণ এরপর কোন কথা বলে কী বিপদে পরি তার ঠিক নেই। দু’বেলা চুলোর তাপে পুড়ে দু’চারটে ভালমন্দ রান্না করে দিচ্ছে, বেশ খাচ্ছি-দাচ্ছি- এইতো অনেক! আর কী চাই! লাউ কচি হোক আর বুড়ী হোক, সংসারে তেমন কোন বড় ঝামেলা না পাকালেই হলো।

অগত্যা খেতে বসে লাউয়ের সেই চিরন্তন দশা দেখে নিজেই লজ্জা পেলাম। লাউয়ের বিচিগুলোর বিদ্রুপের হাসি দেখে নিজেরই দাঁত খিঁচিয়ে উঠলো। অগত্যা মেজাজ কিছুটা তেতে উঠলো। লাউয়ের টুকরোগুলো আচ্ছামতো ডলা দিতেই গললো বটে- তবে ডলাটা আদরে নয় রাগে। মনে মনে পণ করলাম এবার থেকে লাউয়ের চেহারা দেখে আর কিছুতেই ভুলবোনা। লাউয়ের শরীর দেখতে যতই সর্পিল কিংবা তন্বী-তরুণীর মতো কোমল অথবা যত পেলবই হোকনা কেন- চিমটি আমি একটা দেবোই। লাউয়ের গায়ে চিমটি কাটার জন্য নখ বড় হতে থাকলো। লাউ বিক্রেতার চটকদার মিষ্টি কথায় আর ভুলবো না। তার পছন্দের কোন লাউ আর আমার ঘরে তুলছি না। এবার পছন্দ হবে একান্তই আমার। চিমটিই হবে লাউ যাচাইয়ের নির্ভুল মাপকাঠি। আর এ কারণেই নখ বড় রাখছি। লাউয়ের যতই কষ্ট হোক খোঁচা আমাকে দিতেই হবে- আর নইলে লাউ খাওয়া ছাড়তে হবে। লাউ খাওয়া আমি ছাড়তে পারবোনা আর গিন্নী ছাড়াও আমার চলবে না- তাই লাউয়ের গায়ে চিমটি আমাকে মারতেই হবে! আমি জানি, আমার প্রিয় লাউ আমার চিমটি সইতে পারবে কিন্তু সতীনের অত্যাচারে প্রতিনিয়ত বিদগ্ধ হতে চাইবেনা। নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে হলেও সে আমার রসনা বিলাসে সহায়তা করবে। হে প্রিয়তমা লাউ, তোমার প্রতি আমার অগাধ ও অকৃত্রিম ভালবাসা রইলো।


(রিপোস্ট, পরিমার্জিত)

 

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:২২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৯
চাচামিঞা বলেছেন: কচি মাল(লাউ)....চিমটি কাটলেই ভার্জিনিটি নস্ট হইয়া যাইবো;) ভালু করেন চিমটি না কাইটা.....একদম ভার্জিন লাউ খাওয়ার মজাই আলাদা।
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩০

লেখক বলেছেন: ছিঃ ছিঃ ভাতিজাগো সামনে এমুন ১৮+ কথা কৈতে নাই।

২. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩২
কিরিটি রায় বলেছেন:
সাধের লাউ বানাইল মোরে

নখ ওয়ালা =p~ =p~
৩. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩২
পুরাতন বলেছেন: সুন্দর হইছে...+++
৪. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৪
মন মানে না বলেছেন: চাচামিঞা বলেছেন: কচি মাল(লাউ)....চিমটি কাটলেই ভার্জিনিটি নস্ট হইয়া যাইবো;) ভালু করেন চিমটি না কাইটা.....একদম ভার্জিন লাউ খাওয়ার মজাই আলাদা।
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৭

লেখক বলেছেন: সবুজ মানেইতো ফ্রেশ। লাউ সবুজ।

৫. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৫
মন মানে না বলেছেন: আমিও একটা কচি( :P :P ) লাউ ে চিমটি(? ;) ;) ) কাটতে চাই !
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৮

লেখক বলেছেন: লাউ বিক্রেতা চিমটি দিলে রাগ হয়।

৬. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৪
মন মানে না বলেছেন: আবার আসলাম ।

হঠাঃ করে মনে হলো এই লোক টা ব্লগ আড্ডায় খালি মেয়ে ব্লগারদের সাথে সাথে থাকে ! :P :P :D :D :D B-) B-) :)

{গোপন কথা দিলাম ফাঁস কইরা}

মনে হইল এই পোষ্ট অশ্লীলতা দোষে দুষ্ট ! ;) ;) ;) ;) :) :)

মাইনাস(+) দিতে আসলাম !
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪২

লেখক বলেছেন: লাউয়ের প্রতি অগাধ ভালবাসার কারণেই হয়তো।

এইটা কোন গোপন কথা না। ব্লগের সবাই জানে। এই নিয়ে অনেকে অনেক পোস্ট দিছে আমাকে "লাউছাড়া" করার জন্য।

১৮+ ট্যাগ জুড়তে হইলে কইয়েন।

৭. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৫
মহসিন৭১ বলেছেন: বস অনেক দিন পর আপনার একটা লেখায় মন্তব্য করতে পারছি।
দ্বিতীয় কথা হলো আপনার মতো আমারও অভিজ্ঞতা একই। কিন্তু সমস্যা হলো বাজারে গিয়ে লাউয়ের গায়ে চিমটি কাটার অভ্যাসটা আমার নেই। তাই মাঝে মাঝে গিন্নীর সঙ্গে লাউ নিয়ে কথাকাটাকাটি। কি আর করার। সেদিন বাজারে আমার সামনে এক খালাআম্মা লাউয়ের গায়ে চিমটি কেটেই বললেন একেবার বুড়া। উনি অবশ্য বুড়ি বলেন নী। আমার সুবিধা হলো খালাম্মার কথা শুনে সে দোকানের সামনে থেকে চলে এলাম। সেদিন আর লাউ কিনলাম না।
চমৎকার লেখার জন্য ধন্যবাদ।
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৭

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

৮. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৭
'লেনিন' বলেছেন: বুড়া লাউয়ে নাকি খাট্টা ভালো হয়।
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৮

লেখক বলেছেন: লাউয়ের খাট্টা খাইনি মনে হয়। তবে বউয়ের মুখ খাট্টা হতে দেখেছি।

১০. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৪
আকাশ_পাগলা বলেছেন: বড় বড় নখ ভালু না।

কেউ দেখতে পেলে নেইল্পালিশ বিক্রি করতে চাইতে পারে ;)
উপাদেয় পুস্ট।

কেমন আছেন?
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৭

লেখক বলেছেন: বড় নখ আত্মরক্ষার কাজে লাগে। লাউ বাছতে সব নখ বড় দরকার নেই। একটা কলেই চলবে।

আমি ভাল আছি পাগলা বাবু :)। তুমিও ভাল আছো আশা করি। শুভকামনা রইলো।

১১. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৯
সম্ভব,অসম্ভব বলেছেন: sorry, আমি আসলে বুঝিনি এটা শুধুই রম্য না সতিৎকারের সমস্যা।সতিৎকারের সমস্যা হলে দুইটা tips রইল--- লাউ কেনার সময় যদি সামান্যতম সন্দেহ হয় যে লাউ বুড়ি হতে পারে তাহলে সাথে ১০০ গ্রাম কাচা পেপে কিনে নেবেন। তারপর লাউ যদি সতিৎ বুড়ি হয় তাহলে কাটার সময় বিচির আংশ ফেলে পেপে দিয়ে রান্না করলে তাড়াতাড়ি রান্না হয়ে যাবে
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

টিপসটা জেনে রাখলাম। আমি অবশ্য গরুর মাংশ তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হবার জন্য অনেক সময় পেঁপে বাটা দিই। তবে এই লেখাটা সত্যি ও কিছুটা রম্য হিসেবেই উপস্থাপন করা।

শুভ কামনা রইলো।

১২. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:১৬
হোদল রাজা বলেছেন: আপনি বস কালপুরুষ'দা! আপনি বস!!

পিলাস!!
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:২০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ হোদল রাজা।

১৩. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:২১
চোরকাঁটা বলেছেন: ঝুনা লাউ এর সেমাই মনে হয় মজাক হয় ;)
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:১৯

লেখক বলেছেন: খাই নাই কখনো। রান্না করলে ডাইকেন।

১৪. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:১৪
তমিজ উদ্‌দীন লোদী বলেছেন: রম্য রচনার জন্য যথার্থ ক্ষমতা থাকা চাই।যে ক্ষমতা বিরলপ্রজ হয়।আপনার মধ্যে এই ক্ষমতা বিরল নয় যথার্থই আছে।খুব ভালো লাগলো।আপনার এই ক্ষমতার মাঝে মাঝেই যেন প্রয়োগ দেখতে পাই।

ভালো থাকুন,নিরন্তর।
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:১৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কবি। একটু লজ্জা পেলাম।
(লজ্জা পাওয়ার ইমো হবে)

১৫. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:১১
শয়তান বলেছেন: দুপুরে লাউ চিংড়ি তরকারি ছিল আজ । আমার মায়ের হাতের এই তরকারিটা জোস হয় বরাবরই । খেতে গেলে মনেঈ থাকে না লাউটা আদতে কচি না বয়ষ্ক ছিল। :)
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:১৯

লেখক বলেছেন: আমারে ডাকলেই পারতেন- হাজির হয়া যাইতাম।

১৬. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:২৯
শয়তান বলেছেন: হা হা । ঠিকাছে একদিন লাউ চর্চরি আর কুমড়াশাক এর আয়োজন একসাথে করে আপনারে ফোন দিতেসি । বাংলার আদি ও অকৃত্রিম রান্না । সাথে বোনাস দু তিনটা নানারকম ভর্তা ভাজি :)
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:৩৮

লেখক বলেছেন: ধুর মিয়া সারা রাইত আমার জিহ্বা দিয়া পানি গড়াইবো যে খাওনের লোভ দেখাইলেন। এমনেতেই মাইনসে আমারে "লুল" কয়। আইজ ঘরের বউও ঐকথা কইবো। মহা মসিবত!

১৭. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:৪৯
এস বাসার বলেছেন: সাধের লাউ =p~
কালপুরুষ কে তুই না আবার কাপুরুষ বানিয়ে দিস :-P :-P :-P

( কানে কানে বলি সব পুরুষই কাপুরুষ, অন্তত উনার কাছে> সুতরাং মাইন্ড খাইয়েন না)
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:৫৯

লেখক বলেছেন: "কালপুরুষ" যদি "কাপুরুষ" হয় সমস্যা একটাই "ল"। "ল" মানে আইন। কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুইলা নেয় তাইলে ধইরা নিতে হইবো আইনরক্ষাকারী সংস্থার উপর মানুষের আস্থা কইমা গেছে। কি আর করা!! সংবিধান যেখানে বদলায়া যাইতেছে সেখানে একটা "ল" আর কি ফালাইবো?

১৮. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:৫৩
শয়তান বলেছেন: তাৎক্ষনিক একমাত্র উপায় আমার শেষ কমেন্ট টা মুইছা দেওয়া :(
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:৫৬

লেখক বলেছেন: না থাউক। নিজের বালিশ ভিজবো তাতে মাইসের কী!!!

১৯. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:১৬
১৯৭১স্বাধীনতা বলেছেন: লাউ আমার খুব প্রিয় না

কিন্তু আপ্নার লেখা পড়ে লাউএর প্রতি কিঞ্চিত প্রেম অনুভব করছি।
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৩

লেখক বলেছেন: প্রেম মহানুভব, অকিঞ্চিতকর।

২০. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৯
বেকার বলেছেন: সতীনের কাহিনী শুনে ব্যাপক মজা পাইলাম...

আহারে বাজার থেইক্কা যদি একটা কচি-ডেগি (কেউ এহনো হাত লাগায় নাই) আনবার পারতাম...

সত্যি কইরা কইলাম, আমার বাসায় যাওনের পর- সতীনের হাতে বটির নীচে পরবার কোন ভয় নাই....

একলা মানুষ। উল্টাইয়া আর পাল্টাইয়া যা কিছু (রান্না) সব আমি একলাই করমু।
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪১

লেখক বলেছেন: আমার বাসায় আনলে আপনি নিজেই সমস্যায় পড়বেন, পুরোপুরি বঞ্চিত হবেন। শেষে অভিসম্পাত করবেন। কারণ কচি লাউয়ের প্রতি আমার সবিশেষ দুর্বলতার কারণে রান্না করার পর আপনার কপালে যে জুটবে সেটা আপনি ভাবছেন কি কিভাবে? সতীনের বটির নীচে না পরলেও আমার রসনা বিলাসে কমতি হবে সেটা ভাবা ঠিক নয়। তাই যা করবেন খুব ভেবেচিন্তে খেয়াল করে করবেন। পয়সা খরচ করে লাউ কিনে পরের ঘরে নিয়ে রান্নার চিন্তা করলে জীবনেও আপনার লাউ খাওয়া হবেনা। তবে তলানি যদি কিছু থাকে পেতেও পারেন।

২১. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:২০
পল্লী বাউল বলেছেন: লাউ নিয়ে যে এত চমৎকার লেখা যায় বিশ্বাস হতে চায় না।

দাদা, শয়তান ফোন দিলে আমারে একটু নক কইরেন.....
( শয়তানের ফোনের অপেক্ষা না করে নিজে রান্না করে খেয়ে নেয়াই উত্তম)
২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:৫৬

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে। রেডী থাকবেন। মানুষ হলে বিশ্বাস হতোনা- শয়তান বলে কথা!! বিশ্বাস করতেই হয়।

শুভ কামনা রইলো।

২২. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:১২
শয়তান বলেছেন: বাউলের জ্বলুনীর কারনটা কিছু ধরতে পারলাম B-) । আহারে মাদারীপুর !!!
২৩. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:১০
বড় বিলাই বলেছেন: কচি লাউয়ের প্রতি আপনার ভালোবাসা অটুট থাকুক, কিন্তু যাকে এত ভালোবাসেন, তাকে চিনতেই এত কষ্ট?

নখ বড় হয়েছে?
২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:৫৩

লেখক বলেছেন: লাউ কচি কী বুড়ি বাইরে থেকে কী আর বুঝা যায়? যেমন মেয়েদের মন। তবে এখন লাউ মোটামুটি চিনতে পারি। তবে মেয়েদর মন চিনতে আরো সাধনা প্রয়োজন। এখন আর নখ বড় নেই। যদি তেমন সমস্যা হয় তবে তোমার কাছ থেকে যে কোন একটা নখ ধার নিলেই চলবে।

২৪. ২৮ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:২১
সুরঞ্জনা বলেছেন: উফ!!! দাদা! আপনার এই লেখা পড়ে আমি হাসতে হাসতে
শেষ!!! পারেনও বটে!!!

তবে কথা গুলো কিন্তু একেবারেই খাঁটি।
আপনার গিন্নির কথা শুনে আমার নিজের
কথাই মনে হচ্ছে। আর যথারিতি আপনার
যায়গায় আমার গাধা বরটা। :)
তার লাউ প্রেমে আমিও নাকাল হই।
আর আমার বাক্যবানে সে মাকাল হয়। ;)
২৮ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:৪৪

লেখক বলেছেন: আহা! তোমার কর্তা বেচারা! একদিন দেখা হলে আমরা দুজনে গলাগলি ধরে কাঁদবো আর লাউয়ের নিকুচি করবো। :):):)

২৫. ২৮ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:৫৭
মাহমূদ হাসান বলেছেন: লাউ নিয়েই যে এত সুন্দর একটা লেখা লেখা যায় তা আগে কখনো ভেবে দেখিনি।
২৬. ২৮ শে মার্চ, ২০১০ বিকাল ৩:০০
মাহমূদ হাসান বলেছেন: ও আরেকটা জিনিস এখনই খেয়াল করলাম আগে করিনি। তা রান্না ও আপনার প্রিয় কাজ? কি রকম নিয়মিত না অনিয়মিত? কি রকম রান্নায় সুখ অনুভব করেন? একা একা নাকি গিন্নির কাজে সহযোগী হয়ে।
২৯ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১২:০৫

লেখক বলেছেন: রান্না করা আমার শখ। তবে এই শখের শুরুটা বিয়ের অনেক পরে। সাধারণতঃ ছুটির দিনে কিংবা বাসায় কোন মেহমান এলে বা কোন অনুষ্ঠান থাকলে বেশ কিছু আইটেম আমি নিজেই রান্না করি বিশেষত রিচ ফুড জাতীয় খাবার। তবে সব ধরণের র্রান্নাই আমার জানা আছে। আর রান্না আমি নিজেই করি তবে কাজের ছেলে বা বুয়া পেঁয়াজ কাটা ও আদারসুন বাটার কাজগুলো করে দেয়।

২৭. ২৮ শে মার্চ, ২০১০ বিকাল ৩:০৩
হায়রে দুনিয়া বলেছেন: লাউয়ের প্রতি আমারও ভালবাসা আছে, তবে তার চেয়ে অনেক বেশি আছে লাউ নিয়ে রচিত এই অসাধারন গানটার প্রতি।

আমার মাটির গাছে লাউ ধরেছে
ও লাউ দেখতে বড় সোহাগী
লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী
ও দরদী লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী।

তোমার মাটির গাছে লাউ ধরেছে
ও লাউ দেখতে বড় সোহাগী
লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী
ও দরদী লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী।

হায় হায়, আহ ছাড় না।

দিনে দিনে লাউ যে আমার শুধুই বড় হয়
তাই না দেখে পাড়ার লোকে কত কথা কয়।
লাউ গাছেতে কে দেয় নজর খুইল্লা ক' আমায়
লাথির চোটে ভাঙ্গমু মাজা যাবে সে কোথায়
ও তুই আঁচল দিয়া ঢাইকা দে লাউ
ওরে ভাবিস না তুই অভাগী অভাগী।

লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী
ও দরদী লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী।

লা লা লা লা লা লা লা লা লা লা লা।

আরে যাস কই? ধর ধর ধর।

আরে লাউয়ের মধু করল, খাইতে ইচ্ছা হয়
বলনা কবে সুযোগ দিবি, আর কি দেরী সয়
সব পুরুষের একই স্বভাব, মধু খাইতে চায়
বামন হইয়া চাঁদের পানে শুধুই হাত বাড়ায়
ও তুই তাকাইলে তোর চামড়া দিয়া
আমি বানাইমু যে ডুগডগী ডুগডগী ডুগডগী

লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী
ও দরদী লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী।




২৯ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১২:০৬

লেখক বলেছেন: বেশ মজার গান। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

২৮. ২৯ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ১:০৫
ভাবসাধক বলেছেন: বাদশা ভাই

কেমন আছেন ?
৩০. ২৩ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:২৩
ইকবাল হোসেন শিমূল বলেছেন: দাদা, আপনার অনেক ধৈর্য্য........ধন্যবাদ না দিয়ে পারলাম না.....

আজকে মিটিং টা কেন হলো না জানতে পারি নাই। আমি অপেক্ষো করে চলে আসছি। (শিমূল)

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৫৮৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
জন্মঃ নারিন্দা, ঢাকা।

পেশাঃ নগর গবেষক।

শখঃ আড্ডা, বিতর্ক, লেখালেখি, ফটোগ্রাফী, রান্না, বই পড়া, গান শোনা ও ছবি আঁকা। এক সময় রাশিফল...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই