somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“যুদ্ধ নয়, শান্তি”- এক দুঃস্বপ্ন

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“যুদ্ধ নয়, শান্তি”- এক দুঃস্বপ্ন

একি! আমার পরণে ধর্মযাজকের পোষাক! আমিতো ধর্মযাজক নই। আমি এক সাধারণ বিপ্লবী। বিপ্লবের মন্ত্রে আমি উদ্বুদ্ধ। আমার চেতনায় ন্যায় প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। আমি স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণকারী এক জীবন্ত বোমা। অথচ আজ আমার পরণে সাদা আলখেল্লা। সবার চোখে আমি আজ ধর্মযাজক। আমাকে শান্তির দূত ভেবে আমার হাতে শ্বেত কপোত ধরিয়ে দিলো। অথচ আমার শরীরে লুকানো সময়-নিয়ন্ত্রিত শক্তিশালী বোমা। আমার বুক পকেটে সচল বোমা-ঘড়ি। কাঁটাটা নিঃশব্দে ঘুরে চলেছে নির্দ্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষায়! হাতের পায়রাগুলো কেমন যেন অস্থির! মৃত্যুর অপেক্ষায় ডানা ঝাপটাচ্ছে। শরীরে জড়ানো মরণঘাতি বোমা বিষ্ফোরণের প্রতীক্ষায়। আমার হাত একটুও কাঁপছেনা। পাশের চেয়ারে বসে আছে যুদ্ধবাজ এক নরপিশাচ। মুখে যার তথাকথিত শান্তির বাণী। বিশ্বজয়ের মুকুট তার মাথায় জ্বলজ্বল করছে। অমিত ক্ষমতাধর, প্রচন্ড প্রতাপশালী সে এক যুদ্ধবাজ নেতা। শেষবারের মতো দেখে নিলাম তাকে। বসে আছে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে। তাকিয়ে দেখছে আমার হাতে ধরা পায়রাগুলো কখন উড়বে। “যুদ্ধ নয় শান্তি” এই বার্তা নিয়ে খোলা আকাশে পায়রা উড়বে আর সে ওড়াবে শান্তির পতাকা। আমি ধর্মযাজক, আমার মুখে উচ্চারিত হবে শান্তির বাণী, প্রকম্পিত হবে চারিদিক। আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হবে সেই শান্তির বাণী।

নির্ধারিত সময়ে আমি হাতের পায়রাগুলো উড়িয়ে দিলাম খোলা আকাশে। সাথে সাথে আমার একটা হাত দ্রুত চলে গেল বুক পকেটে লুকিয়ে রাখা একটা গোপন বোতামে। ধীর পায়ে এগিয়ে গেলাম নরপিশাচটার দিকে। কোলাকুলির ছলে জাপটে ধরলাম তাকে। মুহূর্তেই প্রচন্ড বিষ্ফোরণ। মঞ্চ প্রকম্পিত হলো, লন্ডভন্ড হলো চারিদিক। আমি এই প্রথম মৃত্যুর স্বাদ উপলব্ধি করছি। বুঝতে পারছি শক্তিশালী বোমার আঘাতে আমি ছিন্নভিন্ন। দাপাদাপি করছে দেহের টুকরো মাংশপিন্ডগুলো। আত্মাটা এখনো মরেনি হয়তো। বুঝতে পারছি সবই। আমার পাশেই পড়ে আছে সেই যুদ্ধবাজ নরপিশাচের রক্তাক্ত ও বিকৃত ছিন্নভিন্ন লাশ। মনে পড়লো সেইসব অসহায় ও নিষ্পাপ নারী ও শিশুদের। যাদের রক্তে এই যুদ্ধবাজ নেতা বিকৃত উল্লাসে হোলি খেলে আসছিল নিরীহ মানুষের জনপদে। আহ্ কি শান্তি! আজ নিজেই সে আমার পাশে ছিন্নভিন্ন লাশ। আত্মঘাতি এমন এক মৃত্যুর মাঝেও আমি উল্লাসে ফেটে পড়লাম। মৃত ও ছিন্নভিন্ন লাশ হয়েও আমার মাঝে কী এক জীবন্ত অনুভব! আমি ঐ যুদ্ধবাজ নরপিশাচটাকে এভাবেই বধ করবো এমন স্বপ্নই দেখে এসেছি দীর্ঘকাল। আমার মৃত্যুর বিনিময়ে হলেও আমি লাখো মানুষের জীবন ছিনিয়ে আনবো তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। এমন এক স্বপ্ন ছিল আমার চোখে।

আশ্চর্য! মৃত্যুর পরেও আমার বোধ কাজ করছে। যদিও আমার গলা শুকিয়ে আসছে। আমি ক্রমশঃ মৃত্যুর কোলে ঢলে পরছি। ক্ষীণস্বরে অথচ দৃপ্ত প্রত্যয়ে বলে চলেছি- “হে শান্তিকামী বিশ্বের মহান প্রতিনিধিগণ, আমাকে ধর্মযাজক ভেবে যে বিশ্বাসে আপনারা ডেকেছেন আমি সেই বিশ্বাসকেই অন্তরে ধারণ করে কিছু কথা বলতে চাই। স্বাধীনতাকামী মানুষদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে যে অমানবিক আচরণ ও ধ্বংশযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে তা বন্ধের দাবী তুলছি। জাতিতে জাতিতে সংঘের নামে যে সংঘাতে আপনারা মদদ দিচ্ছেন তা এখনই বন্ধ করুন। শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে আর কোথাও যুদ্ধ হবেনা এমন ঘোষণা শুনতে চাই। আজ থেকে বন্ধ হোক তথাকথিত শান্তি মিশনের আড়ালে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। শিশু হত্যার নামে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা বন্ধ হোক চিরতরে"। এই কথাগুলো সবাইকে জানানোই ছিল আমার মিশন। "আমি ধর্মযাজক, আমি জানি আত্মহত্যা মহাপাপ। মানবতাকে যেখানে প্রতিনিয়ত নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে সেই হত্যার কাছে আমার এই আত্মহত্যা অনেক তুচ্ছ একটা ঘটনা। মানবতা বিরোধী এমন বর্বরতার প্রতিবাদে আমি হাজারবার আত্মঘাতি হতে পারে। নিকৃষ্ট ও পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের মাঝে আমার এই আত্মহত্যা কখনোই পাপবিদ্ধ করবেনা"। আমিন”।

আমি মৃত্যুর কোলে ঢলে পরলাম। দূরে ঢং ঢং করে গীর্জার ঘন্টা বেজে চলেছে। আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি দূরে কোন এক মাইক থেকে ভেসে আসছে পবিত্র আযানের ধ্বনি। দুঃস্বপ্নের ঘোর কেটে গেল। সারা শরীর আমার রক্তে নয়, ঘামে ভিজে আছে। উফ্! কী ভয়ানক দুঃস্বপ্ন! আমি কী এখনো বেঁচে আছি! তাইতো! বেঁচেইতো আছি!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৪
১৮টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×