somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... চোখের কালি চোখের কালি

আমার চোখের কোণে কালি- কিছুতেই ঘুম আসেনা।
সারারাত জেগে তোমার কথাই ভাবি।
ক্যামন আছো তুমি? আমায় কি ভুলে গ্যাছো?
আজকাল ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি আর আসেনা-
মায়ের আদরের কোল ছেড়েছি সেই কবে।
এখন শুধু তোমার কথাই ভাবি,
ভাবতে ভাবতেই রাত কেটে যায়।
আমার চোখের কোণে কালি- কিছুতেই ঘুম আসেনা।
আচ্ছা, তুমি কি আমার কথা ভাবো ?
তোমারও কি চোখের কোণে কালি পড়েছে, আমার মতো?
কই! আমি তো বুঝতে পারি না।
তোমার ওই কাজল কালো চোখ সবকিছু ঢেকে রাখে বুঝি?
জানো, আমার মা'ও কাজল পড়তো।
মায়ের গভীর কালো চোখ দুটো ছিল মায়াভরা,
তাতে এতোটুকু কালি ছিলনা।
ছিল আশা, ছিল প্রত্যাশা, আর ছিল ভালোবাসা।
মা আমার স্বপ্ন দেখতো, একদিন আমি বড় হবো,
মায়ের চোখের কাজল হয়ে পৃথিবী দেখবো।
তারপর? তোমাকেও দেখবো।
আমিতো আর মায়ের চোখের কাজল নই-
মা আজকাল চোখে একদম কাজল পড়েনা। কি জানি!
মা বুঝি তার সেই পুরোনো কাজলদানিটা হারিয়ে ফেলেছে!
নাকি অন্য কিছু! মা আমায় কিছুই বলেনা।
আমার চোখের কোণে কালি, কাজল ভেবে ভুল করোনা।
মা আমায় প্রশ্ন করে-
কিরে খোকা, কি হয়েছে তোর? রাতে ঘুমোস না?
মাকে আমি কিছুই বলতে পারিনা।
আমি যে সারারাত জেগে তোমার কথাই ভাবি।
কবে তুমি মায়ের মতো চোখে কাজল পড়বে?
কবে তুমি দু'চোখ মেলে আমার দিকে তাকাবে?
তোমায় যে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করে!
তুমি কি ভাবো আমি স্বপ্ন দেখি? মোটেও না।
মানুষ কি কখনও জেগে জেগে স্বপ্ন দেখে?
আমি একটুও স্বপ্ন দেখিনা।
ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি আমার কাছে আর আসেনা।
সবাই ভুলে গেছে আমায়। তুমিও তাই!
আমিতো তোমায় ভুলিনি, ভুলতে পারিনি।
আমার চোখের কোণে কালি, কিছুতেই ঘুম আসেনা।
কালো মেঘের মতো ছেয়ে আছে আমার ‌দু'চোখ।
আমি এই চোখে মায়ের দিকে তাকাবো কি করে?
আমিতো আর চোখে কাজল পরিনা।
কি করে ঢাকবো আমার চোখের কালি?
তুমি কেন কাজল হয়ে আমার চোখে তাকাও না?
তুমি কেন ঘুম হয়ে আমার চোখে লুটিয়ে পড়োনা?
তবে কি তুমি কান্না হয়ে ঝরবে আমার চোখে?
চোখের জলে মুছিয়ে দেবে আমার চোখের কালি?
বেশতো- তবে আর দেরী কেন?
চলে এসো আমার চোখে, মিশে যাও আমার চোখের পাতায়।
গভীর ঘুম হয়ে ঢেকে দাও আমার দু'চোখ।
আমাকে স্বপ্ন দেখাও- আমি তোমার হয়ে গেছি।
আমার চোখের সমস্ত কালি মুছে গেছে।
আমার চোখে এখন শুধু তোমারই ছায়া-
দু'চোখ জুড়ে শুধু ঘুম আর ঘুম।

(কবিতা নয়, আবেগভরা কিছু পুরোনো কথা)
[মূল লেখাঃ ১০.১০.১৯৮৭, সংশোধন ৮.১০.১৯৯৮]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28837602 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28837602 2008-09-01 23:44:22
আমার ছবি আঁকা (সংশোধিত পোস্ট) আমার ছবি আঁকা (সংশোধিত)

ছোটবেলা থেকেই স্কেচ, জলরং, চিত্রকলা, পেইন্টিং, আলোকচিত্র ও হস্তশিল্পের প্রতি এক ধরণের আকর্ষণ অনুভব করতাম। আমার বাবা নিজেই একসময় তাঁর নিপূণ ও শৈল্পিক হাতে সৌখিনতার বশে বালিশ, চাদর, টেবিল ক্লথ ও রুমালে ফুল তুলতেন। দেখে অবাক হতাম! আমি ভিউ কার্ড, স্ট্যাম্প ও নানা ধরণের ছবি সংগ্রহ করতাম। স্কুল জীবনে নিজেই রঙ বেরঙের প্রচুর ঘুড়ি বানিয়ে উড়িয়েছি। নাহ্, কখনো চিত্রশিল্পী হবো এমন খেয়াল মাথায় একবারের জন্যেও আসেনি।

শিল্পকলার প্রতি আমার প্রচ্ছন্ন অনুরাগটা ছিল বরাবরের। রাজশাহীর বরেন্দ্র যাদুঘর ছিল বাসার কাছেই। অবসর সময়ে সুযোগ পেলেই সেখানে ঢুঁ মারতাম। প্রাচীন আমলে গড়া বিভিন্ন মূর্তি, পুরাকীর্তি, আর পাথর খোদাইয়ের নানা রকম শিল্পকর্ম দেখে অবাক হয়ে ভাবতাম- মানুষ কি না পারে! মনে হতো ইশ্ আমিও যদি অমন করে মূর্তি বানাতে পারতাম। এরপর শুরু হলো ধারালো সব যন্ত্রপাতি দিয়ে মোম আর সাবানের উপর খোদাই চর্চার কাজ। তৈরী করতাম গ্রীক দেব-দেবীর আদলে ছোট ছোট মূর্তি, পশু আর পাখী বানানোর কাজ।

মা আমার এই কাজে খুব উৎসাহ দিতেন আর বাবা দেখলেই বকতেন। বাবার ধারণা ছিলো মূর্তি বানানো গুনাহ্'র কাজ। তিনি মনে করতেন শিল্পীরা অভাবে দিন কাটায়। এসব করলে ভবিষ্যতে না খেয়ে মরতে হবে। তার চেয়েও বেশী ভাবতেন এই শখ মাথা চাড়া দিয়ে উঠলে পড়ালেখা লাটে উঠবে। বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী মানুষ, হিসেব কষতেন সব কিছুতেই। অর্থনৈতিক ভাবনাটা ছিল অনেক স্বচ্ছ। তাইতো অধিক সন্তানের পরিবার সত্ত্বেও কখনো তাঁকে অভাবের মুখ দেখতে হয়নি। বরং অনেক স্বচ্ছলতার মধ্যে দিয়েই দিন কেটেছে। বাবার একদম পছন্দ নয় বলেই শিল্পী হবার ইচ্ছা বা বাসনা মনের মধ্যে কখনো বাসা বাঁধেনি।

আমার বাবার ছিল প্রেস ব্যবসা। সেই সাথে লাইব্রেরী আর ছিমছাম সুন্দর একটা স্টেশনারী শপ। রাজশাহী শহরের অন্যতম পুরোনো প্রেস (দি নিউ প্রেস) ও স্টেশনারী শপ ছিল আমাদেরটা। সেই কারণে ছোট বেলাতেই শ্যাবল্ হেয়ারের তুলি, জলরঙ, তেলরঙ, রঙ পেন্সিল, ক্রেয়ন স্টিক, চারকোল, ড্রইং ইংক এসব কোনকিছুর অভাব ছিলনা। চাইলেই পেয়ে যেতাম। স্কুলে ছবি আঁকায় পুরস্কার পেয়েছি কয়েকবার। বাবা মনে মনে বেশ খুশী হয়েছিলেন। আমার স্কুল জীবনের এক শিক্ষক ("কালাচাঁন" স্যার) বাবাকে একদিন ডেকে বলেছিলেন- "আপনার ছেলে যা করতে চায় করুক, ওকে কোন কিছুতে বাঁধা দেবেননা। ও ভবিষ্যতে ভালই করবে, আপনি কখনো ওকে নিয়ে চিন্তা করবেননা"। স্যারের কথা বাবা রেখেছিলেন। আঁকার অভ্যাসটা অনেকদিন পর্যন্ত চলেছিল। ভার্সিটিতে ঢোকার পর আঁকার ঝোঁকটা দমে গিয়েছিল। তারপর একসময় আঁকাটা ছেড়েই দিলাম। আজ বহুকাল সেই অভ্যাসটা আর খুঁজে পাইনি। এখন আর আঁকতে মন চায়না। পারিওনা আগের মতো।

ছবি আঁকার যাবতীয় কৌশল রপ্ত করেছিলাম ছোটবেলায়, স্কুলে পড়াকালীন সময়ে। আমার শৈশব কেটেছে নানীর বাড়ি, পুরোন ঢাকায়। ঢাকা যদিও তখন রিক্সার শহর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেনি তথাপি অলিতে গলিতে তখন রিক্সার কারখানা গড়ে উঠেছিল। বিশেষত পুরান ঢাকায়। রিক্সার পেছনে টিনের সীটে নানা ধরণের ছবি আঁকা হতো। এছাড়াও টিপু সুলতান রোডে ছিল বেশকিছু সাইনবোর্ডের দোকান। পাশাপাশি ক্যানভাসে সিনেমার নানা দৃশ্য ও নায়ক নায়িকাদের ছবি আঁকানোর বেশ কিছু খুপরি ঘর। ঐ সব ঘরের সামনে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতাম। মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাকিয়ে ঐসব ছবি আঁকা দেখতাম। ছোট বড় বিভিন্ন বয়েসের শিল্পীরা (?) কেমন মনযোগ সহকারে ক্যানভাসে একের পর এক ছবি এঁকে যাচ্ছে। রং আর তুলির কী নিখুঁত টান, টানের পর টান।

ক্যানভাসের গায়ে সিনেমার পরিচিত ও জনপ্রিয় এক একজন নায়ক-নায়িকার বিভিন্ন পোজের ছবি। রঙের ছোঁয়ায় যেন এক একটা জীবন্ত মানুষের প্রতিচ্ছবি। অবাক হয়ে দেখতাম আর ভাবতাম, আহ্ এমন যদি আঁকতে পারতাম। ক্যানভাসের গায়ে গ্রাফ টেনে হুবহু এক একটা মানুষের প্রতিকৃতি এঁকে যাচ্ছে অনায়াসে। কোথাও এতটুকু অমিল বা গড়মিল নেই। আমার কাছে ওরা তখন নামকরা চিত্রশিল্পী। সুযোগ পেলে এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পেলে হয়তো এরাই একদিন এক একজন ভ্যান গগ, লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি, মাইকেল এঞ্জেলো, এস এম সুলতান কিংবা জয়নুল আবেদীন হয়ে যেতে পারতো। আমার কাছে ওরাই তখন বিখ্যাত শিল্পী আর ওদের আঁকা ছবিগুলোই সব শিল্পকর্মের নমুনা।

ছবি আঁকার ব্যপারে ওদের সেই সহজ ও সনাতন পদ্ধতি রপ্ত করা ছাড়া আমি নতুন করে তেমন কিছুই শিখিনি। কোন প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা কোন শিল্পীর কাছে চিত্রকলার নিয়ম কানুন বা কলা-কৌশল কখনো রপ্ত করিনি। মোট কথা ছবি আঁকার কোন নিয়মতান্ত্রক শিক্ষাই আমার ছিলনা। অথচ কি করে যেন ছবি আঁকার আগ্রহটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিলো। প্রথমদিকে কোন ছবি দেখে ভাল লাগলেই সেটাকে নকল করার চেষ্টা করতাম এবং আঁকার পর সবাইকে দেখাতাম, সেটা কেমন হলো! আসল ছবির মতো হয়েছে কিনা! ফলে একসময় ছবি আঁকাটা ভালই রপ্ত করে ফেললাম। আর এই ছবি আঁকার অভ্যাস থাকার কারণেই প্র্যাকটিক্যাল ক্লাশে এবং বিভিন্ন এ্যাসাইনমেন্টে ছবি আঁকার বিষয় থাকলে আমি সেটাতে খুব ভাল করতাম। প্র্যাকটিক্যালে বরাবরই আমি সর্ব্বোচ্চ নম্বর পেতাম।

পোট্রেট আঁকার সখ আমার ছোটবেলা থেকই। আর সেগুলো আঁকতাম ছবি বা ফটোগ্রাফ দেখে। দিনের পর দিন আমি অনুরোধে, উপরোধে বিভিন্ন মানুষ ও আত্মীয়স্বজনের অনেক প্রতিকৃতি এঁকেছি। কোন পয়সার বিনিময়ে নয়। নিজের শখের বশে। পুরোন ঢাকার খুপরি ঘরের সেই সাইনবোর্ড আঁকার পদ্ধতি অনুসরণ করে। সেই পদ্ধতির প্রয়োগ ও কলাকৌশল ভালই রপ্ত করেছিলাম বলেই একদিন ভাল ছবি আঁকা শিখে গেলাম। রঙ ও তুলির ব্যাপারে আমার আগ্রহ তেমন ছিলনা। সাদা-কালোতে মন আটকে গেল। আর এটা সম্ভব ছিল শুধুমাত্র গ্রাফাইট পেন্সিল ব্যবহারের মাধ্যেমই। গ্রে-স্কেল সম্পর্কে বিশদ ধারণা পেয়েছি আরও পরে।

মূলতঃ H থেকে 2H, 3H; B থেকে 6B পর্যন্ত এইসব গ্রেডের পেন্সিল ছিল আমার ছবি আঁকার প্রধান মাধ্যম। জল ও তৈল রং-এ খুব কম ছবি এঁকেছি। চারকোল (কয়লা) ব্যবহার করেছি অনেক বড় ক্যানভাসে ছবি আঁকতে। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত জাতীয় ভুগোল সম্মেলনে "কালচারাল জিওগ্রাফী" বিষয়ের উপর আদিম মানুষদের (নিয়ান্ডাথ্যাল) বেশ কিছু প্রতিকৃতি দর্শক সমাদৃত হয়েছিল। সেইসব ছবিতে পোষ্টার কালার ব্যবহার করেছি। পোষ্টার, ঈদকার্ড ও জন্মদিনের কার্ড বানানোর সময়ও পোস্টার কালার ব্যবহার করেছি। প্রতিকৃতি আঁকতে আমি মূলতঃ ফটোগ্রাফ ব্যবহার করতাম। পাসপোর্ট কিংবা B2 আকারের যে কোন ছবি। ফুল ফিগার ছবিও এঁকেছি। ছবির উপর পেন্সিলের হালকা দাগ টেনে বর্গ বা গ্রাফ এঁকে নিতাম। তারপর ড্রইং পেপার বা সাদা সীটের উপর একইভাবে পেন্সিলের হাল্কা দাগ টেনে হুবহু ঐ ছবির গ্রাফের আনুপাতিক হারে বড় মাপের গ্রাফ এঁকে নিতাম। তারপর ছবির বিভিন্ন উপকরণের প্রতিফলণ ঘটাতাম ড্রইং সিটের উপর পেনসিলের হালকা-গাঢ় শেড-এর মাধ্যমে। ছবি হতো সম্পূর্ণ সাদা-কালো।

এভাবেই শুরু। শুরুটা বেশীদূর পর্যন্ত এগোয়নি। কারণ ছবি আকাঁর চাইতে অন্যকিছু করার তাগিদটা জীবনে বেশী প্রয়োজন ছিল। যে কোন কারণেই হোক আমি কখনো শিল্পী হতে চাইনি। হবার কোন চেষ্টাও করিনি। শিল্পী হবার বাসনা আমার মনে কখনও জাগেনি। শিল্পী হতে গেলে যে আবেগ লাগে, একাগ্রতা লাগে, শিল্পীসুলভ মন লাগে, কল্পনাশক্তি লাগে, অনুভূতি লাগে, দূরদৃষ্টি লাগে এবং সর্বোপরি যেমন দেখার চোখ ও হাতের ছোঁয়া লাগে তা আমার ছিল না। ছবি আঁকতে পারা আর শিল্পী হওয়ার মধ্যে বিস্তর ফারাক। মজার ব্যপার হলো আমার আঁকা প্রতিকৃতি দেখে সবাই প্রশংসা করতো- বলতো আরে এতো দেখছি হুবহু ফটোগ্রাফ। তার কারণ ছবি নকল করার দক্ষতা ও ক্ষমতা দুটোই ভালভাবে রপ্ত করেছিলাম। সেই অর্জন ধরে রাখতে পারিনি। কলেজ জীবনেই তার ক্রমাবনতি। এক সময় পরিসমাপ্তি। নকল করে যুৎসই ছবি আকাঁ সম্ভব হলেও শিল্পী হওয়া সম্ভব নয়। সবাই শিল্পী হতে পারেনা। আমিও পারিনি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28836129 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28836129 2008-08-28 23:51:21
অনুকাব্য-২২ অনুকাব্য-২২

তুমি আমি ঘর বেঁধেছি,
শুকনো মরা গাছের ডালে;
পরশী কুমীর হা করে রয়,
পড়বো কখন দুজন খালে।

প্রবল ঝড়ে দুলতে থাকি,
বাদুর হয়ে আঁকড়ে ধরি;
অভাব পেটে নষ্ট স্বভাব,
বাঁচতে চেয়ে শুধুই মরি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28835369 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28835369 2008-08-26 23:52:18
তোমাকে ছোঁবার জন্য তোমাকে ছোঁবার জন্য

তোমাকে ছোঁবার জন্য বিশ্বস্ত দুটি হাত সবুজ বৃক্ষের শাখা হতে চেয়েছিল। তুমি অলস ছায়ার মতো নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ছিলে সেই বৃক্ষের নীচে। অটল বৃক্ষ নতজানু হতে শেখেনি তাই পল্লব আচ্ছাদিত শাখাসম সেই উদ্ধত হাত তোমাকে কখনোই ছুঁতে পারেনি। মাটি আঁকড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানববৃক্ষের শাখাসর্বস্ব হাত ক্রমশঃ উর্দ্ধমুখী হতে হতে একসময় আকাশ ছোঁবার স্বপ্ন দ্যাখে। মাটিতে পড়ে থাকা অলস ছায়াকে তার কিছুতেই ছুঁতে ইচ্ছে করেনা, ছুঁতে পারেওনা।

তুমি সেই নির্জীব, নিষ্প্রাণ, অলস ছায়া সজীব এক বৃক্ষের নাগালের মধ্যেই। অথচ তোমাকে ছোঁবার জন্য সেই বৃক্ষ এতোটুকু ঝুঁকতে পারেনা। তুমি অলৌলিক কোন ঝড়ের প্রত্যাশা করতেই পারো। প্রবল ঝড়ে এক মানববৃক্ষের সমস্ত শাখা-প্রশাখা ভেঙ্গে তছনছ হয়ে লুটিয়ে পড়ুক সেই বৃক্ষের পদতলে, মাটিতে পড়ে থাকা ছায়ার বুকে, মিশে যাক সেই মাটিতে তোমার সাথে। তোমার নির্জীব ছায়াকে ছুঁয়ে যাক সেই ব্যথাতুর ভেঙ্গে যাওয়া হাত। বেদনায় নীল হয়ে উঠুক মাটির স্পর্শে। তোমাকে ছোঁবার মিথ্যে স্বপ্ন গুড়িয়ে যাক এভাবেই। তোমার ছায়ার পাশে নতজানু হয়ে পড়ে থাকুক শুকনো ডালের মতো ভেঙ্গে যাওয়া অসাড় দুটো হাত। বৃক্ষের অনঢ় দেহটাই হোক শুধু তোমার ছায়ার অতন্দ্র প্রহরী। হাতে নয়, শাখা-প্রশাখায় নয়- শেকড়ে জড়িয়ে থাকুক তোমাকে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28835212 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28835212 2008-08-26 15:43:23
হয়তো তুমি হয়তো তুমি

(নাভার্স নাইনটিজ তার প্রেমিকার উদ্দ্যেশ্যে)

মরুতে মরিচীকা
সাগরে ঢেউ,
নামহীনা তুমিও
হয়তো কেউ।

আকাশে মেঘ ভাসে
পাখীরা উড়ে,
রঙধনু মেয়ে তুমি
থাকো যে দূরে।

বাগানে ফুল ফোটে
সুবাস ছড়ায়,
মৌমাছি মন শুধু
তোমাকে চায়।

বাতাসে চুপি চুপি
লাগে যে দোলা,
তোমার মুখখানি
যায়না ভোলা।

শিওরে দীপ জ্বেলে
ঘুমিয়ে একা,
স্বপ্নের মাঝে তোমার
পাই যে দেখা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28834155 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28834155 2008-08-24 01:05:43
বাবা'র স্মরণে (পুনঃ পোস্ট) বাবা'র স্মরণে (পুনঃ পোস্ট)

আজ ২৩শে আগস্ট। আমার বাবার ২০তম মৃত্যু বার্ষিকী। আমার বাবা সহ যাদের বাবা বেঁচে নেই সবার বাবার জন্য দোয়া প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাঁদের বেহেশত্ নসীব করুন। বাবার স্মরণে আমার দুটো লেখা পুনরায় পোস্ট করলাম।


বাবা


জ্বলছে ঘরে ধূপকাঠি আর গোলাপ জলের মিষ্টি সুবাস,
মাটির কোলে নিথর দেহ- কাফনে জড়ানো বাবার লাশ।
অশ্রুভেজা মায়ের দু’চোখ, শোক জমানো পাথর বুক,
এলোমেলো দৃষ্টি যে তার, খুঁজছে কোথায় হারানো সুখ।
ঘুমিয়ে আছেন বাবা আমার- ভাঙ্গবেনা সেই ঘুম কখনো,
স্বপ্নে দেখি বাবা যে আমার- বলছে খুকী, ঘুমোস এখনো?
বিছানা ছেড়ে লাফিয়ে উঠি, কোথায় গেলো বাবা আমার?
কেউ কোনদিন আসে কী ফিরে, চলেই যদি যায় ওপাড়?
বাবা, তুমি আজ অনেক দূরে- রয়েছো তবুও বুকটা জুড়ে,
পারিনা কেন ভুলতে তোমায়? একবার এসে যাওনা ঘুরে।
কোথায় আছো, কেমন আছো- ইচ্ছে যে হয় জানতে ভারী,
তোমার ঘরে নেই তুমি আজ- তেমনি আছে সাজানো বাড়ী।


বাবা, তুমি কেমন আছো?


বাবা, তুমি কেমন আছো?
বলতে যদি একটিবার,
আমিও নাহয় দিতাম পাড়ি,
দেখতে তোমায় পরপার।
না হয় তুমি ভুলেই গ্যাছো-
কেমন আছি, খাচ্ছি কী?
যখন তুমি ছিলে কাছে-
বুঝিনি ঘরে অভাব কি?
মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে যেদিন-
একলা রেখে গেলে চলে,
দিনের আলো নিভলো সেদিন-
সূর্য হঠাৎ পড়লো ঢলে।
মায়ের মুখের কাড়লে হাসি-
ঘরটা জুড়ে কালো ছায়া,
বুঝিয়ে দিলে এই জগতে-
লুকিয়ে থাকে গভীর মায়া।
পাড়ার মানুষ বলতো মুখে-
ভাগ্য তোদের ভাল বটে,
নইলে কী আর এমন যুগে-
অমন কারো বাবা জোটে!
গর্ব করি তোমায় নিয়ে-
হতে যে চাই তোমার মতো,
আমার ছেলেও বলে যেন,
হয়না মানুষ বাবার মতো ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28833985 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28833985 2008-08-23 16:34:19
নীরবতা, ধ্যান ও মেডিটেশন (পুনঃ প্রকাশ) নীরবতা, ধ্যান ও মেডিটেশন (পুনঃ প্রকাশ)

নীরবতা এক অমূল্য সম্পদ। মানুষের সকল শান্তি ও প্রশান্তির মধ্যেই রয়েছে নীরবতার গভীর ও প্রত্যক্ষ প্রভাব। আদিকাল থেকে মানুষ নীরবতার সাথে সখ্যতা করে আসছে। নীরবতা চলমান জীবন প্রবাহের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। দেহ, মন ও মস্তিষ্কের বিশ্রামের জন্য নীরবতার কোন বিকল্প নেই। নিজের মন ও ইন্দ্রিয়ের শান্তির জন্য কিছু সময়ের জন্য হলেও নীরবতা আবশ্যক। শব্দমুখর পরিবেশ মানুষকে বেশীক্ষণ স্বস্তি দিতে পারে না। নীরবতার উন্নত ও পরিশীলিত রূপ হচ্ছে ধ্যান । ধ্যানের আরেকটি আধুনিক সংস্করণ হচ্ছে মেডিটেশনে। ধ্যান, মেডিটেশন, নীরবতা বা মৌনতা সবই মানুষের মনোসংযোগ ও আত্মনিয়ন্ত্রনের বিভিন্ন কৌশল মাত্র। এগুলো চর্চা, অনুশীলন ও প্রয়োগের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি, প্রক্রিয়া ও ব্যাখ্যা। নীরবতা, ধ্যান বা মেডিটেশন মানুষের মন ও মননের উৎকর্ষতা সাধন করে এ বিষয়ে অনেকের আছে বিশ্বাস, আস্থা ও নির্ভশীলতা। আবার অনেকের আছে, অবিশ্বাস, অনাস্থা ও কুসংস্কার। আছে মতবিরোধ, আছে অবজ্ঞা এবং ব্যপক আলোচনা ও সমালোচনা।

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ আত্মাসচেতনতা ও মনোসংযোগ বৃদ্ধির জন্য ধ্যান বা মেডিটেশনকে বিশেষ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ইদানিংকালে “সিলভা মেথড”, “কোয়ান্টাম মেথড”, “আর্ট অফ লিভিং”, “যোগাসন”, “প্রাণায়ন” ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষ তার মন ও মস্তিষ্কের বিক্ষিপ্ত চিন্তা ও চেতনাকে নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনকে আরও সুসংহত ও সুশৃঙ্খল করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছে। যা মূলতঃ এক ধরণের মেডিটেশন। আজকাল আত্ম উন্নয়নের স্বীকৃত, পরীক্ষিত ও বিজ্ঞানসম্মত পথ হিসেবে মেডিটেশনকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অনেক মহাসাধক ও মহাপুরুষ ঐশ্বরিক জ্ঞানলাভ ও ঈশ্বরের নৈকট্য লাভের জন্য ধ্যান করতেন। মুনি-ঋষি, সাধু-ফকির, আউলিয়া-দরবেশ, পীর-পয়গম্বর অনেকেই নিজের গোত্রের ও আপামর মানুষের মঙ্গলের জন্য বনে-জঙ্গলে, পাহাড়-পর্বতের গুহায় কিংবা নির্জন স্থানে ধ্যানমগ্ন হতেন। আত্মার মুক্তি, ঈশ্বর চিন্তা ও মানব কল্যাণই ছিল তাঁদের ধ্যানের মূল লক্ষ্য। কেউ কেউ আপন উদ্দেশ্য ও ইচ্ছা চরিতার্থ করার জন্যেও এই পথ বেছে নিয়েছিলেন।

ধ্যানে মগ্ন থাকা উচ্চ পর্যায়ের নীরবতাই হলো মেডিটেশন। ধ্যনের মূল উদ্দেশ্য মন ও মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ, বাস্তবতার খোলস ছেড়ে অপরবাস্তবকে উপলব্ধি করা। কেউ কেউ ধ্যনের মাধ্যমে সিদ্ধিলাভেরও চেষ্টা করেন। কেউ আবার সৃষ্টি বা জীবনের রহস্য খুঁজতে থাকেন। যদিও ধ্যান, নীরবতা, মৌনতা ও মেডিটেশন সম্পূর্ণ এক জিনিষ নয় তাই এগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করতে গেলে আরও বেশী গবেষনা ও বিস্তারিত আলোচনা দাবী করে। আমি আমার লেখা ধ্যান ও নীরবতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাই। তাছাড়া এ বিষয়ে নিজের সম্যক জ্ঞানের দৈন্যতাও স্বীকার করে নিচ্ছি।

ধ্যান এক প্রকার মানসিক শক্তি যা মনের অন্তর্নিহীত ইচ্ছা ও ইন্দ্রিয়কে জয় করার ক্ষমতা রাখে। ধ্যানের মাধ্যমে মানুষ মন ও মস্তিষ্কের সকল চিন্তা ও চেতনাকে দেহগত অবস্থান থেকে মনোজাগতিক বা কাল্পনিক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যার উদ্দ্যেশ্য প্রশান্তি লাভ। ধ্যান একপর্যায়ে দেহের যাবতীয় স্বাভাবিক অনুভূতিকে সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় বা অচল করে দেয়। প্রকৃত ধ্যানমগ্ন মানুষ তার আহার, নিদ্রা, কাম, রিপু সবকিছু ভুলে অন্য এক জগতে চলে যায়। পক্ষান্তরে নীরবতা মানুষের ইন্দ্রিয়গত স্থিতিশীলতা ও মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। মস্তিষ্কের এলোমেলো চিন্তা, মনের বিক্ষিপ্ত ভাবনা ও কাল্পনিক জগতে বিচরণের প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রিত করে। দীর্ঘ নীরবতা দেহ, মন ও আত্মার উপলদ্ধিগত শুদ্ধতা আনে, ক্লান্তি দূর করে।

নীরবতা নিঃসন্দেহে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য আবশ্যকীয় উপাদান যেমন বাতাস, পানি ও সূর্যের আলো। নীরবতা অদৃশ্যমান এক নিরেট বাস্তব যা সত্যিকার অর্থে পাশ কাটিয়ে যাওয়া অসম্ভব। নীরবতা আমাদের জীবনের সাথে এমনভাবে মিশে আছে যে সেটাকে আলাদা করে দেখার বা ভাববার বিষয় মাথাতেই আসেনা। নীরবতা এমন এক সক্ষ্ণ আর স্পর্শকাতর বিষয় যাকে বাদ দিয়ে আমাদের জীবন কখনও পূর্ণতা পায় না।

প্রতিনিয়ত আমরা শব্দদূষণের শিকার। নীরবতা আমাদের চারিপাশের শব্দদূষণ কমাতে সাহায্য করে। কথা বলার সময় যে এর মূল্য কত তা আমরা খুব ভাল করে বুঝতে পারি। আমরা সবাই যখন কথা বলি তখন কেউ কারও কথা শুনতে পারলেও বুঝতে পারি না। তাই কারও কথা বুঝতে হলে অন্য সবার নীরব থাকা প্রয়োজন। নীরবতা আমাদের শিক্ষা দেয় কিভাবে কথা বলতে হয়, কখন থামতে হয়। কিভাবে কথা শুরু করতে হয়, শুরুর আগে কথা কিভাবে গোছাতে হয়। নীরবতা কথার ব্যাংক, প্রয়োজনে কথার যোগান দেয়। নীরবতা মানুষকে কথার গভীরে যেতে সাহায্য করে। সাহায্য করে অন্যের কথা বুঝতে এবং সেই কথার সঠিক জবাব দিতে। একজন গানের ওস্তাদ রসিকতা করে তাঁর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, "গলা সাধার আগে জানতে হবে কোথায় গলা ছাড়তে হবে। শুধু গান গাইলেই হবে না, জানতে হবে গানের কোথায় থামতে হবে- সেটা না জানলে গান হবেনা"। শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ মানুষের চিরন্তন কাম্য। এমন নয় যে চারিদিকে পিন পতন শব্দের নীরবতা থাকতে হবে। তবে শান্ত শীতল দিঘীর জলের মতো নীরব নিথর পরিবেশ বিরাজ করুক এটা সকলেই চাইবে।

শুধু শব্দের বিচারে নীরবতাকে মূল্যায়ন করলে এর প্রকৃত ভাব বা ব্যঞ্জনাকে তাচ্ছিল্য করা হবে। নীরবতার নিজস্ব একটা আবেদন বা স্বত্ত্বা আছে আর তা হলো কথা বা বচনের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে বক্তৃতা বা বর্ণনাকে শ্রুতিমধুর করা। কথার মাঝে দম নেয়া এক ধরনের নীরবতা। হঠাৎ আচমকা কিছু একটা ঘটে গেলে নীরবতা আসে। কোন আপনজনের দুঃসংবাদ মানুষকে হঠাৎ নির্বাক বা নীরব করে দিতে পারে। গল্পে, গানে, চলচিত্রে, প্রামান্যচিত্রে, নাটকে, আবৃত্তিতে, ছড়া, কবিতায় সর্বত্রই নীরবতার সরব উপস্থিতি। মূকাভিনয় বা 'মাইম' নীরবতার নান্দনিক উপস্থাপন। আলোকচিত্রে আলো-ছায়ার নীরব খেলা, চিত্রকলায় রং-তুলির নীরব ছোঁয়া, সবই নীরবতার বিমূর্ত উপস্থিতি। প্রকৃতি আর মানুষের মাঝেও অদৃশ্য এক নীরবতার নিবিড় বন্ধন ওয়েছে যাকে আমরা বলি 'ন্যাচারাল ইকো সিস্টেম'। বিশ্বব্রহ্মান্ড আর মহাকাশ জুড়েও রয়েছে অসীম নীরবতা। চন্দ্র, সূর্য ও নক্ষত্রের মাঝেও রয়েছে নীরব পালাবদলের খেলা। মেঘের গর্জনেও আছে নীরবতা। জোনাকির আলোতেও নীরব বিরতি। কোকিলের ডাকেও রয়েছে দুপুরের নির্জন নীরবতা।

নীরবতাকে একটা দীঘির প্রাত্যহিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভাবতে পারি। খুব ভোরে ঐ দীঘির জল দেখতে স্ফটিকের ন্যয় স্বচ্ছ, তলদেশ পর্যন্ত দেখা সম্ভব। রাতভর দীঘি তার জলে এই সাম্য শক্তিটুকু জমা করে। সময় বাড়ার সাথে সাথে মানুষ আসে- গোছল করে, কাপড় কাচে, মাছ ধরে। পশু পাখী আসে- জল খায়, জলকেলি করে। দল বেঁধে ছেলেরা আসে- জলে দাপাদাপি করে, পাথড় ছুঁড়ে মারে। আস্তে আস্তে দিনের কোলাহল বাড়তে থাকে, দীঘির শান্ত রূপ পাল্টে যায়। পুরো এলাকার পরিবেশ এলোমেলো হয়ে যায়। দীঘির জল কাদা মাটিতে ঘোলা হয়। দীঘির নীরবতা ভঙ্গ হয়। দীঘির কিছুই করার থাকে না।

ঠিক একই ভাবে সকালে যখন আমাদের ঘুম ভাঙ্গে মস্তিষ্ক ও মন তখন শান্ত থাকে। সময়ের নিমিত্তে ও প্রয়োজনের তাগিদে মস্তিষ্ক যখন মনকে নির্দেশ দিতে থাকে এটা কর, ওটা কর- এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে তখন মনের রূপ বদলাতে থাকে। তার উপর সংসারের নানা ঝামেলা, অফিসের কাজ, পরিবারিক চাহিদা অন্যান্য সবকিছু মিলিয়ে মনটা স্বাভাবিক কারণেই অশান্ত হয়ে ওঠে। মনের মধ্যে এক ধরনের বিরক্তির উদ্রেক হয়। তখন অবশ্যই মস্তিষ্ক ও মনের নীরবতা ভঙ্গ হয়।

তাহলে কি বলা যায় ঐ দীঘিতে গোছল করা অন্যায়, মাছ ধরা অপরাধ। কিংবা আমরা প্রতিদিন যা যা করছি তা করা অনুচিত। মোটেও না। আসল কথা হলো সবকিছুর মধ্যেই একটা নীরবতা বা বিরতি থাকা দরকার। আর এই নীরবতাই অন্য সব কাজের প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক লয়ে নিয়ে আসে। ঐক্যতান রচনা করে। মস্তিষ্ক ও মনের অতিরিক্ত পীড়া থেকে অব্যাহতি দেয়। আত্মা ও মনের প্রশান্তি এনে দেয়। মানুষ ইচ্ছা করে নীরবতা না ভাঙ্গলেও প্রয়োজন ও তাগিদ নিরন্তন তা ভেঙ্গে দেয়। ফলে পরিবেশ ও পারিপার্শি্বক অবস্থা অস্থির ও অশান্ত হয়ে ওঠে।

কানের যেমন শব্দদূষন থেকে রেহাই দরকার তেমনি মন ও মস্তিষ্কেরও অহেতুক উত্তেজনা ও বিরক্তিকর পরিস্থিতি থেকে বিশ্রাম দরকার। দুটোর জন্যই প্রয়োজন ক্ষণিক নীরবতা। নীরবতা সম্পূর্ন উপলব্ধির ব্যাপার। সকালের সেই দীঘির শান্ত জলের মতো প্রতিটি মানুষের মন ও মস্তিষ্ক নীরবতার আবেশে অটুট থাকতে চায়। চীৎকার চেচামেচি করে নয়, নীরবতা দিয়েই নিজের অবস্থান বোঝানোর চেষ্টা করা প্রয়োজন। অন্যের ও নিজের কথা বলা বা শোনার জন্য নীরবতার চেয়ে ভাল মাধ্যম আর আছে কিনা জানা নেই। সবাই সবাইকে উপলব্ধি করার জন্য একটু নীরবতা ভীষণ প্রয়োজন। কেউ নীরব না থাকলে কারও কথা শুনবো কি করে। আমার আপনার নীরবতা মানেই অন্যকে বলতে সুযোগ দেয়া। অন্যকে বুঝতে পারা। নীরবতা আমাদের পরম মিত্র।

আগের পোস্টের লিংকঃ
Click This Link

(বিবর্তনবাদী'র মেডিটেশন বিষয়ক পোস্টটা পড়ে পুরোনো লেখা পুনরায় পোস্ট করলাম। কিছুটা সংশোধিত)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28832578 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28832578 2008-08-20 00:21:18
রম্য কথোপকথন রম্য কথোপকথন

[পটভূমিঃ "বিশ্বাস" ও "আশা"। স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম নেয়া দুজন মানুষ। একজন পুরুষ, আর একজন নারী। গতানুগতিক শহুরে রাজনৈতিক আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠা দুটো সত্ত্বা। সময়ের সাথে সাথে বদলে যাওয়া রাজনৈতিক ক্ষমতা ও পালা বদলের মতোই বদলে যাওয়া তাদের জীবনের নানা স্তর। শৈশব, কৈশোর, তারুন্য ও যৌবন। একজন মানুষের ভিন্ন ভিন্ন স্তর, ভিন্ন রূপ, ভিন্ন প্রকৃতি, পরিবর্তিত স্তর। সময়ের ব্যবধানে মানুষের স্বভাব, চিন্তা, চেতনা সবই বদলে যায়। মানুষ তার বিবেক, প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে। প্রতিটি স্তর বিন্যাসে যদিও তেমন কোন মিল নেই তবে প্রতিটি স্তরে কোন না কোন লক্ষ্য থাকে। জীবনকে সুন্দর ও সার্থকভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্য।

একসময় দেশে অস্থির, লক্ষ্যহীন ও সহিংস রাজনীতির যে পালা বর্তমান ছিল তা হঠাৎ করেই বদলে গেল। পরিবর্তনের কিছু আভাষ পাওয়া গেল। শুদ্ধতা অভিযান শুরু হলো। এমন এক কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শুভাগমনে "আশা" ও "বিশ্বাস" দুজনেই স্বস্তি পেলো। অতঃপর নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো। সমাজের বিচ্ছিন্ন দুই প্রান্ত থেকে দুজনে এক সংসার বৃত্তে আবদ্ধ হলো। দুজনেই বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ঘর বাঁধলো। কিন্তু হায়! একি হলো! কোথায় যেন ভুল হয়ে গেল! গোল বাঁধলো তাদের আশা ও বিশ্বাসে। এমনতো হবার কথা ছিলনা! সব স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। আবারো সেই হতাশা। আবারো সেই অনিশ্চিত রাজনীতির ঝলকানি। কিন্তু কেন?]

কথপোকথনঃ

বিশ্বাসঃ একটু বিষ দিতে পারো?

আশাঃ কেন?

বিশ্বাসঃ খেতাম।

আশাঃ হঠাৎ বিষ খাওয়ার শখ হলো কেন?

বিশ্বাসঃ বেঁচে থেকে কোন মজা পাচ্ছিনা তাই!

আশাঃ মরে গিয়ে কী কোন মজা পাবে?

বিশ্বাসঃ নাহ্। সেভাবে ভেবে দেখিনি।

আশাঃ তাহলে বিষ খেয়ে লাভ কী? বরং না মরলে পুলিশ কেস হবে। নানারকম জিজ্ঞাসাবাদ হবে। চৌদ্দ রকমের জেরা হবে। আমি ওসব সামলাতে পারবোনা। নিজের ঝামেলা নিয়েই বাঁচিনা, তার উপর উটকো ঝামেলা। মরলে দূরে গিয়ে মরো, যেন কাক পক্ষীও টের না পায়।

বিশ্বাসঃ তাহলে মরার আর দরকার নেই, কি বলো!
আশাঃ সেটা তুমিই ভেবে দেখো। মৃত্যু সম্পর্কে আমার কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।

বিশ্বাসঃ সেতো আমারো নেই।

আশাঃ কে বললো নেই? তুমিতো আজকাল কথায় কথায় বলছো বিয়ে করে মরেছি। আগেই ভাল ছিলাম। আমিতো কখনো বলিনি, আমি বিয়ে করে মরেছি। বরং তুমিই আমাকে জ্বালিয়ে মারছো।

বিশ্বাসঃ তাই নাকি? কি দিয়ে জ্বালাচ্ছি তোমাকে? লাকড়ি, কেরোসিন নাকি এসিডে? জ্বালা কী, সে তুমি বুঝবেনা। আর কেন যে মরার কথা বলি সেটাও বুঝবেনা।

আশাঃ কেন বুঝবো না? আমি কী কচি খুকী? তুমি আমাকে কী ভাবো বলোতো?

বিশ্বাসঃ নাহ্ সেটা না। মানে, আমার জায়গায় তুমি হলে সেটা টের পেতে।

আশাঃ মানে! কী টের পাবো? তোমার কথার প্যাঁচ টের পেতে কী কিছু বাকি আছে! তা এসব কথা এখন বলছো কেন? বিয়ের আগেই সেটা ভাবা উচিৎ ছিল।

বিশ্বাসঃ বিয়ের আগে কী জানতাম, জিনিষপত্রের দাম এমন হু হু করে বেড়ে যাবে। সবকিছু এমন হাতের নাগালের বাইরে চলে যাবে। তুমিই শুধু পুরোনো ফার্নিচারের মতো ঘরে পড়ে আছো। বিয়ের পর হানিমুনে যেতে পারিনি-মানহানীর ভয়ে সেটাও মুখ ফুটে বলতে পারিনা।

আশাঃ কী! কী বললে! আমি পুরেনো ফার্নিচার? আর নিজে! নিজে বুঝি হাতিলের ফার্নিচার! তা দু’বছরেই যখন এতো পুরোনো হলাম, তাহলে ফেলে দিলেইতো পারো। কিন্তু সেই মুরোদতো নেই! আসলে তোমার মনে এখন ঘুণ ধরেছে। ঘুণপোকা’র মতো অসংখ্য হাহাকার তোমার ভেতরটা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। দু’বছর যেতে না যেতেই আমাকে পুরোনো ফার্নিচার মনে হচ্ছে। আসলে তুমি এই সংসারে ঘুনপোকা হয়ে গ্যাছো। আমাকে রাতদিন কুড়ে কুড়ে খাচ্ছো।

বিশ্বাসঃ বাহ্। দারুন বলেছো তো! এভাবে নিজেকে কখনো ভেবে দেখিনি। তুমি আমি দুজনে একই ঘরের বাসিন্দা। অথচ সেই ঘরের ভেতর ঘুণপোকার বসবাস। সেই ঘুণপোকা একটা সংসারকে তিলে তিলে বিনষ্ট করে দিচ্ছে। তাহলেতো সেই ঘুণপোকাকে সমূলে নির্মূল করতে হয়। একটা সংসার কখনোই এভাবে বিনষ্ট হতে পারেনা। সত্যিইতো! আমার ভেতরে হাহাকার, ঘুণপোকার মতো কিলবিল করছে। এগুলোকে নির্মূল করা দরকার। কিন্তু কিভাবে? সবকিছুর দাম দিন দিন হু হু করে বাড়ছে। শুধু অবমূল্যায়ণ হচ্ছে মানুষের। তোমার আমার মতো ছা-পোষাদের। যাদের প্রতিটি ঘরে এখন ঘুণপোকাদের অবাধ বসবাস।

আশাঃ অন্যের ঘারে দোষ দিয়ে লাভ কী? বলো আমরাই আমাদের মূল্য নির্ধারণে ব্যর্থ। আমরা নিজেরাই জানিনা আমাদের কতটুক প্রয়োজন, কতটুকু সামর্থ আর কতটুকুইবা প্রাপ্তি। আমরা প্রতিনিয়ত হিসেবে ভুল করে যাচ্ছি আর দোষ চাপাচ্ছি অন্যের উপর। দূর্নীতিগ্রস্থ রাষ্ট্র তোমার আমার দাম বাড়াতে পারেনা, পারে জিনিষের দাম বাড়াতে। আর যখন স্বল্পআয়ের চাকরিজীবিদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখন মহার্ঘ ভাতার নামে কিছু জড়িবুটি হাতে ধরিয়ে দেয়, অভাব উপশমের জন্য। এমন কৌশলে আমরা অভ্যস্ত নই, বরং বিব্রত। একটা অদৃশ্য সিস্টেম আমাদের মূল্যহীন করে দিচ্ছে, পক্ষান্তরে অন্যান্য সবকিছু দিন দিন মূল্যবান হয়ে যাচ্ছে। আসলে আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের পুরো সিস্টেমটাই আজ ঘুণে আক্রান্ত।

বিশ্বাসঃ ঘুণপোকা দমনের জন্যইতো জরুরী অবস্থা দেয়া হলো। সেই সময় পেস্ট কন্ট্রোল অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ঘুণপোকা কী নির্মূল হলো? এখন মনে হচ্ছে আমাদেরকেও সেই নির্মূল অভিযানে নামতে হবে। তোমার আমার মূল্য বাড়াতে হলে সিস্টেমের ভেতরে লুকানো সব ঘুণপোকা চিরতরে ধ্বংশ করতে হবে। আর একবার যদি সেটা করা সম্ভব হয় তবে তোমার আমার বা আর কারো হাহাকার বলে কিছু থাকবেনা। তোমাকেও পুরোনো ফার্নিচার ভেবে দূরে ঠেলে দিতে হবেনা। তাহলে এবার আমি চাইতেই পারি। একটু বিষ দেবে! প্লীজ!

আশাঃ আবার বিষ! উফ্! অসহ্য! এবার আমাকেই বিষ খেতে হবে দেখছি!

বিশ্বাসঃ আহ্! এতো খেপছো কেন! বিষ চাইছি তাতে রাগের কী হলো! আরে বোকা, সেতো আমার জন্য নয়। ঘুণপোকা মারতে হবে। তাই বিষ দরকার। এবার দেবেতো!

আশাঃ দিতে পারি, এক শর্তে। পুরো সিস্টেমকে সেই বিষ খাওয়াতে হবে। যাতে কোন ঘুণপোকা বেঁচে যেতে না পারে। পারবেতো!

বিশ্বাসঃ এই সেরেছে! সেটা কিভাবে সম্ভব! সিস্টেমের নাগাল পেতে আমাকেও যে সিস্টেমের মধ্যে জড়াতে হবে। সোজা কথা, আমাকে নির্বাচনে দাঁড়াতে হবে। আর যে করেই হোক সেই নির্বাবনে জয়ী হতে হবে। তারপর একটা শুভদিন দেখে সকল নেতাদের বড় কোন হলে দাওয়াত করতে হবে। তারপর সবাইকে একসাথে বিষ খাইয়ে নতুন এক সিস্টেমের গোড়াপত্তন করতে হবে। বিশ্বস্ততা অজর্নের জন্য সেই খাবার যে আমাকেও খেতে হবে। তুমি তখন রাজী হবে তো?

আশাঃ আলবৎ রাজি। এমন মহৎ কাজে আমিও তোমার সাথে মরতে রাজি আছি। কারণ তুমিতো এমনিতেই মরতেই চাও। একটা ভাল কাজ করে মরলে আমার দুঃখ কম হবে।

বিশ্বাসঃ তা, নির্বাচনে দাঁড়ানোর টাকা কোথায় পাবো?

আশাঃ টাকা পার্টি দেবে। পার্টিতে নাম লেখাবে। আর এই মহৎ কাজে আমি তোমার সাথে আছি। তোমার হয়ে আমি গলাবাজি করবো। এবার তুমি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে থাকো। আমি ততক্ষণ একটু ঘুমাই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28832029 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28832029 2008-08-18 00:42:57
ছুঁয়ে যাক মৃত্যু ছুঁয়ে যাক মৃত্যু

হে মৃত্যু, তোমাকে ছোঁব বলে-
জীবনের চোখে কালো কাপড় বেঁধেছি।
হাতের তালুতে আয়ু লুকিয়ে আঙ্গুল উঁচিয়ে
সব ফাঁক ফোকড় পরীক্ষা করেছি, অতঃপর
নিশ্চিত হয়ে ছুটছি তোমার পিছনে।
অক্ষিগোলকে পাঁচ হাজার প্রদীপ জ্বেলে
অন্ধ মাছি, নোংরা আবর্জনায় তোমার
অস্তিত্ব খুঁজে পেতে ব্যর্থ হলেও,
আমার দু’চোখের মণিতে
তোমায় ঠিকই খুঁজে নেবো;
জীবনের সাথে কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলবো
কবরের উঠোনে।
হে মৃত্যু, তোমার আগমন নিশ্চিত জেনেও-
অনিশ্চিত আতঙ্কে কাটে আমার প্রতিটি রাত।
মিথ্যে প্রেমিকের মতো প্রলোভনে
জীবনকে আশ্বস্ত করি কৃত্রিম ভালবাসায়।
শুধু একবারের জন্য তুমি আসবে ভেবে
গতানুগতিক জীবনকে অবলীলায়
তাচ্ছিল্য করি প্রতিনিয়ত।
হে মৃত্যু, তোমার কথা ভেবেই
জীবনকে আগলে রেখেছি এতোটাকাল।
অবজ্ঞায় নয়, প্রগাঢ় প্রজ্ঞায় সঁপে দিতে চাই তা
তোমারই হাতে। মিলনের সন্ধিক্ষণে একবার হাসিমুখে,
আলিঙ্গন করো তোমার প্রিয়তম জীবনকে।
দিগন্তের ওপাড়ে হেলে পড়ুক জ্বলন্ত সূর্য,
দিনশেষে সাগরের হাতছানিতে ডুবে যাক
ঐশ্বরিক যত আলো, অন্ধকার হয়ে যাক
আমার প্রদীপ্ত বেলাভূমি।

ছবিঃ নিজের এ্যলবাম থেকে
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28829479 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28829479 2008-08-10 21:09:11
অনুকাব্য - ২১ অনুকাব্য - ২১

চন্দ্র বলো, সূর্য্য বলো,
দূর আকাশের তারা বলো;
ওদের চেয়ে অনেক বেশী,
তুমি আমার মনে জ্বলো।

নদী বলো, সাগর বলো,
হোকনা গভীর অথৈ জল;
তোমার মনে ডুবি যখন,
পাইনা খুঁজে কোনই তল।

বৃক্ষ বলো, পাহাড় বলো,
দাঁড়িয়ে ঠাঁই মাটির বুকে;
আমিও আছি শেকড় গেড়ে,
তোমার মনে পরম সুখে।

জীবন বলো, মৃত্যু বলো,
এক সূতোতে গাঁথা যখন;
ইচ্ছে হলে পারবো কী আর(?)
ছেড়ে যেতে যখন তখন!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28828298 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28828298 2008-08-07 09:52:18
‌এক সাঁতাল নারীর কথা ‌এক সাঁতাল নারীর কথা

তুকে হামি কত্তো ছুধাই, কহিছনা ক্যানে-
আকাছ ক্যানে দেইখতে অমুন নীল হৈলে?
ছাগর হামি দিখিনি বটেক- তুইতো বুলিছ
হিডাও নাকি নীল হৈছে। বুল দিকিনি, হামার
ল্যাইগা কিনবি কবে নীল ইক্খান তাঁতের ছাড়ী?
ছাইজবো হামি তুহার লাগি, দেইখবি চ্যাইহা গতরে
হামার উইঠছে ঢেউ ছাগর লেহান, ছেই আগের মুথন।
তুইতো বুলিছ মেঘ হৈলে আকাছ যেমুন হয় বেজার,
উইঠলে ঝড় ছাগর কেমুন ফুঁছতে থাখে হামার মুথন।
মিছা কথা(!) কহিছ ক্যানে যখুন তখুন! কুথায় কুথায়
দিছিছ খুটা। বাপেক হামার হাথে পায়ে ধইরেছিলি,
লাই মুনে? বিহা হামাক করবি বুইলে হৈলি পাগল,
কহিছিলি হামাক না পাইল্যে বিছ খাবি! কুততো কথা!!
ছবি হামার মুনে আছে- ভুইলবোক ক্যানে? ছেইযে কবে-
হামাক লিয়ে মেলাত যেতি, যাত্রাপালার নাচ দিখাতি,
রঙিন ফিথা, আলথা-চুড়ি, পাডুয়ার-ছুনো, কুতোকিছু
কিন্যা দিতি- ভুইলে গেছিছ? এখুন হামি পুরান হৈছি,
বয়েছ হৈছে- এখুন কি আর তুহাক হামার ধৈরবেকনা
মুনহে? এখুন তুই নেছার ঘ্যুরে ছবই দেখিছ। আকাশ
দেখিছ, সাগর দেখিছ, মেইছেইলার গথরে জুয়ার দেখিছ।
হামার মুনের জ্বালা তুই কি চ্যাইহা দেখিছ? বুজিছ কী তুই(!),
হামার বুখে কিছের জ্বালা, কেমুন জ্বালা! দিছিছ যে তুই বিছের
জ্বালা। হিডাও যে আইজ তুহার লাগি গাঢ়হ্ নীল হৈছে!

------------------------------------------------------------------------------
(আদিবাসীদের ভাষায় অভ্যস্ত নই। বহুবছর আগে রাজশাহীর উপকন্ঠে (গোদাগাড়ী, তানোর অঞ্চলে) সাঁতাল সম্প্রদায়ের মুখ থেকে শোনা কিছু কিছু কথাকে সাজানোর অপচেষ্টা মাত্র। আশাকরি ভুলত্রুটিগুলো মার্জনা করবেন। কিছু কিছু বানান ইচ্ছাকৃত ভুল রাখা হয়েছে, মূল উচ্চারণগুলো লিখে ঠিকমতো ফোটাতে পারলামনা। 'ছ' এর ব্যবহারটা খুব বেশী। তথাপি বোধগম্যতার কারণে, 'আকাশ(ছ)', 'সা(ছা)গর' এভাবেই লিখলাম। এই লেখাটা ব্লগার মুকুলের একটা আঞ্চলিক ভাষায় লেখা কবিতার পোস্ট থেকে অনুপ্রাণিত।)
---------------------------------------------------------------------------------
সাধারণ ভাষায় রূপান্তরিত--


তোকে আমি কতো শুধাই, বলিসনা কেন-
আকাশ কেন দেখতে এমন নীল হলো?
সাগর আমি দেখিনি তবে- তুইতো বলিস
ওটাও নাকি নীল! বলতো দেখি, আমার জন্য
কিনবি কবে নীল একটা তাঁতের শাড়ী?
সাজবো আমি তোর জন্য, দেখবি চেয়ে শরীরে
আমার উঠছে ঢেউ সাগরে যেমন, আগের মতন।
তুইতো মেঘ জমলে আকাশ যেমন হয় গুমোট,
উঠলে ঝড় সাগর কেমন ফুঁসতে থাকে-আমার মতন।
মিথ্যে কথা(!) বলিস কেন যখন তখন! কথায় কথায়
দিস খোটা ইচ্ছেমতন। হাতে পায়ে ধরেছিলি বাবার,
নাই মনে? বিয়ে আমায় করবি বলে পাগল ছিলি,
আমায় না পেলে বিষ খাবি বলেছিলি ! কত কথা!!
সবি আমার মনে আছে- ভুলবো কেন? সেই যে কবে-
আমায় নিয়ে মেলায় গেলি, যাত্রাগানের নাচ দেখালি,
রঙিন-ফিতা, আলতা-চুড়ি, স্নো-পাউডার, কত কিছু
কিনে দিলি- ভুলে গেছিস? এখন আমি পুরান হয়েছি,
বয়েস হয়েছে- এখন কি আর আগের মতো ধরবে মনে?
এখন তুই নেশার ঘোরে রঙিন দেখিস। আকাশ দেখিস,
সাগর দেখিস, মেয়ে দেখিস। আমার মনের জ্বালা কী
তুই চেয়ে দেখিস? বুজিস কী তুই(!), মনে আমার
কিসের জ্বালা, কেমন জ্বালা! দিয়েছিস শুধু বিষের জ্বালা।
সেটাও যে আজ তোর জন্য হয়েছে কেমন গাঢ় নীল।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28827948 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28827948 2008-08-06 11:54:40
মনে কী পড়ে? মনে কী পড়ে?

আমায় কী আর মনে পড়ে?
হয়তো পড়ে, হয়তো না-
বলতে যদি একটিবার, বর্তে যেতাম।
ভাবনা তোমার মনের ঘরে,
পড়েই ছিল এলোমেলো, অগোছালো।
আসলে কাছে, হাত বাড়িয়ে-
শিশির ভেজা দুর্বঘাসে, পা মাড়িয়ে।
দিনের শেষে, উঠলো কেঁপে হৃদয় আমার,
ফুটলো ফুল বসন্তেরই মিষ্টি হাওয়ায়;
মন ভরানোর পালা বুঝি সেইতো শুরু,
মেললে দু'চোখ আমার দিকে, দৃষ্টি ভীরু।
আজকে তোমায় ভাবছি বসে, নিজের মনে-
এই অবেলায়, অকারণে;
বলতে যদি, আর ভেবোনা আমার কথা,
মিছেই কেন ইচ্ছে করে নিচ্ছো ব্যথা-
যা ছিল সব অবুঝবেলার সবুজ খেয়াল,
ধীরে ধীরে কেমন করে উঠলো জেগে বাঁধার দেয়াল;
ভাঙ্গলো কখন ঢেউয়ের তোড়ে বালুচরের মিথ্যে পণ,
আমি তখন ভালবাসার ঘুর্ণঝড়ে খাচ্ছি দোল;
সময় ছিল বড্ড খারাপ, বুঝেই নিলাম-
অবগাহনে মত্ত তখন প্রেমিক মন,
বেলোয়ারী চুড়ির মতন ভাঙ্গলো বুঝি
আগলে রাখা পরম ধন- এই যৌবন।
হারিয়ে গেলে জলোচ্ছাসে এক নিমিষে,
উপকূলে দাঁড়িয়ে তখন একা আমি-
ডুবলো রবি অস্তাচলে, অন্য পাড়ে-
ভালবেসে ফিরলে না আর এই পাড়ে।
তাইতো আমি একা একা ভাবছি বসে আনমনে,
তুমিও বুঝি আমার মতো ভাবছো ঠিক এমনি করে-
জানতে কী চাও, কে আছে আজ আমার ঘরে(?)-
তুমিই আছো, প্রদীপ হয়ে অন্ধকারে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28827611 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28827611 2008-08-05 13:35:48
বন্ধুরে, তুই কই গেলি! বন্ধুরে, তুই কই গেলি!

পারবি নারে পারবিনা
ভুলতে আমায় পারবিনা,
যত দূরেই যাসনে কেন
ছিঁড়তে বাঁধন পারবিনা।

গলায় গলায় ভাবখানি
ঘর পালানোর হাতছানি,
ভর দুপুরে তাল পুকুরে
কে দেবে আর ডুবখানি?

গোল্লাছুটের দিনগুলি
লুকিয়ে খেলা ডাংগুলি,
পাখীর বাসায় চুপি চুপি
ধরতে যাওয়া বুলবুলি।

গুলতি মেরে হাত নিশানা
গাঁয়ের বধুর কলসি কানা,
পিছন ফিরে দেখলেই কী!
কোথায় পাবে কার ঠিকানা!

মোল্লা চাচার বাগান বাড়ি
খেজুর গাছে রসের হাঁড়ি,
ভোর না হতেই দফা রফা
সুযোগ পেলে আর কী ছাড়ি?

ফিরলে বাড়ি মায়ের বকা
বাপ থাকলে নিষেধ ঢোকা,
ঢেঁকির ঘরে ঘাপটি মেরে
মাদুর পেতে ঘুমিয়ে থাকা।

তাইতো বলি ফিরবেনা আর
অমন সোনার দিনগুলি,
তুই যে আমার বন্ধু ছিলি
বলতো দেখি কেমনে ভুলি?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28826905 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28826905 2008-08-03 14:19:00
মায়াপুরী (স্বপ্নে দেখা) মায়াপুরী (স্বপ্নে দেখা)

সবাই বলে বনের ধারে,
আছে সে এক মায়াপুরী;
রাতেরবেলা হেঁটে বেড়ায়,
প্রদীপ হাতে ডাইনি বুড়ী।

ইচ্ছে আমার সেই বাড়ীটা,
দুপুর বেলায় দেখবো একা;
নির্ঘাত সেই ডাইনি বুড়ির,
হয়তো আমি পাবো দেখা।

মা বলে, যাসনে খোকা,
ওখানে তোর মস্ত বিপদ;
ডাইনি বুড়ি ওৎ পেতে রয়,
পাবিনা তুই ফেরার পথ।

বুকে আমার দারুন সাহস,
মায়ের কথায় দেইনি কান;
দেখবো এবার মায়াপুরী,
কি আর হবে! যাবে প্রাণ!

বাড়ীর ভেতর যেই ঢুকেছি,
অমনি দেখি কালো ছায়া!
সবাই বলে, ভুতুরে বাড়ী!
যা দেখি সব তাতেই মায়া!

দেয়ালজুড়ে মাকড়সা জাল,
ঘসে পড়া চুন সুড়কি;
মস্তবড় কাঠের দরজা,
বিশাল আকার সব খিড়কি।

ধূলোমাখা ঝাড়বাতিটা,
কড়িকাঠে ঝুলছে একা;
জলসা ঘরে নর্তকী নেই,
সবকিছু আজ বেজায় ফাঁকা।

কোথায় গেল ডাইনি বুড়ি,
বাড়িটা আজ নীরব নিথর;
জমেনা আজ জলসা আসর,
উঠেনা সেই নূপুরের ঝড়।

মৃতপ্রায় সেই মায়াপুরীতে,
পাইনি খুঁজে কারো দেখা;
হয়তো কোন ছবির মাঝে,
লুকিয়ে আছে এক “চিত্রলেখা”।

কালের সাক্ষী এই বাড়ীতে
প্রেম হারিয়ে এক ললনা;
খুঁজে বেড়ায় হয়তো আজো,
বিশ্বাসে যার ছিল ছলনা।

মায়াঘেরা সেই বাড়ীটা,
আজো আমার স্বপ্নে ভাসে;
“চিত্রলেখা” নর্তকী এক,
ছবির মাঝে শুধুই হাসে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28826515 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28826515 2008-08-02 12:28:15
অনুকাব্য - ২০ অনুকাব্য - ২০

মন আকাশে পূর্ণিমা আজ
ভাবনা গাঙ্গে জোয়ার,
স্বপ্ন আমার মেলছে ডানা
ইচ্ছে তোমায় ছোঁয়ার।

প্রদীপ হাতে দাঁড়িয়ে ছিলে
বেশতো ছিল অন্ধকার,
দৃষ্টি আলো জ্বালিয়ে দেখি
শুধুই ছায়া তোমার।

হাত বাড়িয়ে ডাকলে কাছে,
বললে হেসে, "ভালবাসি",
তাইতো তোমার ঘুমের মাঝে
স্বপ্ন হয়ে কাছে আসি"।

------------------------------------------------------
শেষ স্তবকটা এভাবে শেষ করলে কেমন হতো?

হাত বাড়িয়ে ডাকলে কাছে,
বললে ছুঁয়ে, "এইতো!
ঘুমের মাঝে থাকবো কাছে,
চোখ মেললে নেইতো"!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28826394 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28826394 2008-08-02 00:40:42
জেরী'র কোবতে নিয়ে চিকনমিয়ার জন্য ছড়া জেরী'র কোবতে নিয়ে চিকনমিয়ার জন্য ছড়া

Click This Link

জেরীর এখন মন ভালনা
টমের সাথে আড়ি,
খাতা কলম নিয়ে জেরী
গেল চিকনার বাড়ী।
বসে বসে লিখলো জেরী
দারুন একটা ছড়া,
চিকনা তখন ঘুমে বেহুশ
হয়নাতো আর পড়া।
ভাবছে জেরী চিকনার কানে
দেবে জোড়ে হাঁক,
চিকনা তখন মনের সুখে
ডাকছে নিজের নাক।
ঘুমের ঘোরে চিকন মিয়া
স্বপ্ন দেখে মজার,
তারই প্রেমে পাগল এখন
কইন্যা সে এক রাজার।
জেরীর মোটে হয়না সাহস
ডাকবে চিকনা বলে,
ভাবছে জেরী ছড়া ফেলে
যাবেই বাড়ী চলে।
এমন সময় হঠাৎ কেশে,
উঠলো চিকন জেগে,
ধরফড়িয়ে বিড়বিড়িয়ে
বলছে কি সে রেগে!
রাজার মেয়ে স্বপন মাঝে
খাইয়ে দিল ঘোল,
তাইতো চিকন বিষম খেয়ে
চোখ যে করে গোল।
স্বপ্নেদেখা রাজার কইন্যা
হারিয়ে গেল শেষে,
ভাবছে চিকন হঠাৎ যদি
আবার ফিরে আসে।
সামলে নিয়ে খাট্টা মেজাজ
বললো চিকন, "জেরী"!
জলদি শোনাও ছড়া তোমার
আর করোনা দেরী।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28825601 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28825601 2008-07-30 13:05:49
ইচ্ছে করে ইচ্ছে করে

ইচ্ছে করে পাখীর মতো ডানা মেলে উড়তে,
ইচ্ছে করে মনের সুখে বনে-বাদারে ঘুরতে।
ইচ্ছে করে রুদ্ধ দুয়ার দু'হাতে আজ খুলতে,
ইচ্ছে করে কষ্টগুলো অনায়াসে আজ ভুলতে।
ইচ্ছে করে ফুলের মতো কারও মনে ফুটতে,
ইচ্ছে করে ভোমর হয়ে ফুল বাগিচায় ছুটতে।
ইচ্ছে করে রঙ মেখে আজ সঙ সেজে বসতে,
ইচ্ছে করে ভুল করা সেই অংকগুলো কষতে।
ইচ্ছে করে মায়ের দেয়া বকুনি খেয়ে হাসতে,
ইচ্ছে করে দাদুর মতো তামাক খেয়ে কাশতে।
ইচ্ছে করে রথের মেলায় নাগরদোলায় চড়তে,
ইচ্ছে করে পাঁপড় ভাজায় শুকনো পেট ভরতে।
ইচ্ছে করে ভর দুপুরে খালের জলে ঝাপ দিতে,
ইচ্ছে করে লাটাই-সূতোয় রঙিন ঘুড়ি ওড়াতে।
ইচ্ছে করে ছিপ নিয়ে যাই পুকুরে মাছ ধরতে,
ইচ্ছে করে লাগাম ছাড়াই ঘোড়ার পিঠে চড়তে।
ইচ্ছে করে নাও ভাসিয়ে নদীর স্রোতে ভাসতে,
ইচ্ছে করে ফোকলা দাঁতে খিলখিলিয়ে হাসতে।
ইচ্ছে করে ঢিল মারি ঐ তেঁতুল গাছের শাখাতে,
ইচ্ছে করে পিড়িতে বসে ভাত খাই কলাপাতাতে।
ইচ্ছে করে ঘর পালিয়ে ভিজবো দারুন বৃষ্টিতে,
ইচ্ছে করে হালখাতাতে পেট ভরাবো মিষ্টিতে।
ইচ্ছে করে ছেলেবেলার দিনগুলোকে ফিরে পেতে,
ইচ্ছে করে খুশীতে নাহয় নতুন করে উঠবো মেতে।

(সংযোজিত)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28824911 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28824911 2008-07-28 11:29:01
ভুলে থাকাঃ কল্পকথা ভুলে থাকাঃ কল্পকথা

তুমি আমি একদিন প্রতীজ্ঞা করেছিলাম-দুজন দুজনকে ভুলে যাবো।
কেউ কাউকে কখনো মনে করবোনা, ভুলেও না। মাঝে মধ্যে ঝালিয়ে
দেখতাম সত্যিই ভুলে গেছি কিনা! আত্মতৃপ্তিতে বিগলিত হতে পারিনি
কখনো। ভুলে যাওয়ার কথা মনে করা মানেই তোমাকে ভুলতে না পারা।
তোমার কথা জানিনা, বলোনি মুখে। একদিন হঠাৎ ফোন করে বলেছিলে-"দেখলেতো কতটা বছর তোমাকে ভুলে আছি। ভুলেও কথা বলিনি। অথচ
একদিন ঘন্টার পর ঘন্টা কথা না বললে আমার সারাটাদিন অসহ্য লাগতো।
রাতটা নির্ঘুম কাটতো। সেই আমি আজ তোমাকে কেমন ভুলে গেছি! তুমি
কিন্তু আমাকে ভুলতে পারোনি। ফোনে আমার কন্ঠস্বর শুনে বুঝে নিয়েছিলে
আমি কে। জিজ্ঞেস করেছিলে, 'অনি কেমন আছো'। আমি জানতাম তুমি
হাজার চেষ্টা করেও আমাকে ভুলতে পারবেনা। আমিতো তোমাকে চিনি।
কী ঠিক বলিনি"? আমি চুপ করে ছিলাম। ভাবতাম মনের শুকনো শাখায়
যে পাখীর বসবাস, সে পাখী সেখানেই নীড় বাঁধে। যে পাখী বসন্তে মুখরিত
হয়, সে পাখী সবুজ অরণ্যের ছোঁয়া দিয়ে যায়। সেই পাখী একসময় শাখা
বদলায়, পুরোনো শাখায় তার ভালবাসার পরশ রেখে যায়। আমি সেই পাখীর
জন্য নিজের মনের ভেতর এক খাঁচা গড়েছিলাম। একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম।
তাকে চিরদিনের মতো ধরে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি। আমার সেই
খাঁচা শুন্যই রয়ে গেল। তুমি আমার সেই পাখী হতে পারোনি, হতে চাওনি।
এক অজানা আকাশের ডাকে তুমি ডানা মেলেছিলে সুদূরে। হয়তো সেখানে
মেঘের আড়ালে ছিল সোনার খাঁচা। একদিন দুজনের হাসি গান ফুরিয়েছিল।
তুমি ডানা ঝাপটাচ্ছিলে অজানা আকাশে ওড়ার জন্য। আমার মনের খাঁচায়
তোমার থাকতে কষ্ট হবে ভেবে মুখ ফুটে কিছু বলোনি। আমি বুঝেছিলাম,
তোমার পায়ে পড়াবার মতো সোনার শিকল আমার নেই। তাই তোমাকে
বেঁধে রাখার সাহস আমার হয়নি কখনো। মনের টান না থাকলে পৃথিবীর
সব শিকলই মানুষের কাছে মাকড়সার জালের মতোই নাজুক। উড়ে যেতে
চাইলে নতুন আকাশের সন্ধানে। যে আকাশে কোন অভাবের মেঘ নেই। যে
আকাশে কোন দৈন্যতার ছায়া নেই। যে আকাশে অবারিত আলোর ঝলকানি,
জ্যোৎস্নাবিধুর ভালবাসা, হাজারো নক্ষত্রের ঔজ্জ্বল্য- সেই আকাশে তোমার
অবাধ বিচরণে আমি বাঁধা দেবার কে? কোন মায়ায় তোমায় বাঁধবো বলো?
ধীরে ধীরে তুমি উল্কার মতো মিলিয়ে গেলে সুদূরের ছায়াপথে। তুমি চাইলে
সব ভুলে যেতে। আমাকেও বললে ভুলে যেতে। আমি রাজী হয়ে গেলাম।
প্রতীজ্ঞায় বাঁধা পড়লাম দুজনে- ভুলে যাব সব অতীত। ভুলে যাবো আমাদের
সব পরিচয়। আমরা দুজন অচেনা হয়ে যাবো। কতটুকু হলাম জানিনা। তবে
এটা জানি আমাদের দুজনের আকাশ আজ ভিন্ন। ইথারের ক্ষীণ তরঙ্গে হয়তো
জুড়ে আছি দুজনে। শুনতে পাই- দেখতে পাইনা। কাছে পাই- ছুঁতে পারিনা।
একটা কথা নিশ্চিত জেনো- কাউকে কাছে না পাওয়া যদি ভুলে থাকা হয়- তবে
আমি তোমাকে কবেই ভুলে গেছি। যেটুকু মনে আছে তা তুমি নও-তোমার স্মৃতি।

(কবিতা নয়, কবিতার আদলে লেখা কল্পকথা)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28823730 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28823730 2008-07-24 16:24:02
বৃষ্টি, আমার ভালবাসা বৃষ্টি, আমার ভালবাসা

আমি বৃষ্টিকে ভালবাসি। বৃষ্টি সেটা বুঝতে পারে। তাই মাঝে মধ্যে আহ্লাদে আটখানা হয়ে হুটহাট আমার গায়ে এসে পড়ে। আমি কখনো নিজেকে আড়াল করি, কখনো মেলে ধরি। সে আমাকে ছুঁয়ে যায়, সে যেমন আমাকে ছুঁতে ভালবাসে আমিও তাকে ছুঁতে ভালবাসি। আমার সাথে সারাবছর তার মান অভিমান লেগেই আছে। তাই সে কখনো আসে, কখনো পালিয়ে বেড়ায়। বছরের বিশেষ একটা সময় তাকে খুউব কাছে পাই। সে সময় সে আমার কাছে আসার জন্য ব্যকুল হয়ে ওঠে। আর দীর্ঘ সময় ধরেই সে আমার কাছে কাছে থাকে। আমার দরজা খোলা পেলে সে হঠাৎ কখনো না বলেই ঢুকে পড়ে। আবার কখনো দরজা বন্ধ পেলে টিনের চালে অবিরত টোকা দিতে থাকে। জানালা খোলা পেলে ক্রমাগত উঁকি দিতে থাকে। আমার ঘর তার খুব প্রিয়। সবসময় ঘরে আসার বাহানা। আমি তাকে ঘরে প্রবেশ করতে দেইনা বলে সে বারান্দায় এসে তুমুল কান্নাকাটি করে ফিরে চলে যায়। মাঝে মাঝে আমি জানালার কাঁচ দিয়ে তার উচ্ছলতা দেখি। তার অভিমানী কান্নাকে দেখি। মাঝে মাঝে আদর করার ছলে জানালার বাইরে হাত রাখি- সে আমাকে ভিজিয়ে দেয়।

বৃষ্টির অভিমানী কান্নার কারণ আমি বুঝতে পারিনা। বৃষ্টির কান্নায় গাছের সবুজ পাতাগুলো ধুয়ে যায়, আরও সজীব হয়ে ওঠে। খাল-বিল-নদী-নালার সাথে বৃষ্টির সখ্যতা দারুন। ওরা বৃষ্টিকে আমার চেয়েও বেশী ভালবাসে। আমার হিংসে হয়। বৃষ্টি সেটা বুঝে। তবুও সে আমার কাছে আসে। সে জানে আমি তাকে নিয়ে দু’কলম লিখতে পারি। ওরা তা পারেনা। ওরা বৃষ্টিকে পেয়ে ফুলে ফেঁপে ওঠে বিনিময়ে কিছুই দিতে পারেনা। ওদের কোন আবেগ নেই, অনভূতি নেই। ওরা নির্জীব। আমার কাছে উষ্ণতা আছে। আমার কাছে কাব্য আছে, কাব্যের উপমা আছে। আমি বৃষ্টিকে সাজাতে পারি নানা রূপে। বৃষ্টি তাতেই ভীষণ খুশী। তাইতো আমি না চাইলেও সে আমার কাছে আসে। আমি ঘুমিয়ে থাকলে সে তার রিমঝিম রিমঝিম সুরে অনবরত গান করে। আমার মনে নিত্য নতুন কাব্যের সঞ্চার করে। বৃষ্টি অবলীলায় আমার প্রিয়তমা হয়ে ওঠে। বর্ষা বুড়ি সূর্যের কপালে কালো টিপ পড়িয়ে তার কুমারি কন্যা বৃষ্টিকে আমার হাতে সঁপে দেয়। আমি তাকে নিয়ে ঘর বাঁধিনা, ঘর বাঁধার স্বপ্ন খুঁজে পাই। আমি তাকে নিয়ে বাসর সাজাইনা, বাসর গড়ার তাগিদ খুঁজে পাই। আমি তাকে নিয়ে সংসার করিনা, সংসার গড়ার বোধ খুঁজে পাই। বৃষ্টি আমার মরুময় জীবনের সমস্ত রুক্ষতা ধূয়ে আমাকে বৃষ্টিস্নাত করে দেয়। তাই আমি অকপটে স্বীকার করি- বৃষ্টি আমি তোমাকে ভীষন ভালবাসি। তোমার কুমারি হৃদয়ে আমার পৌরহিত্যের ছোঁয়া নিষ্পাপ প্রেমের এক নীরব আকুতি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28822900 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28822900 2008-07-22 10:46:19
তোমাকে দেখবো বলে তোমাকে দেখবো বলে

তোমাকে দেখবো বলে চোখ বন্ধ করে বসে থাকি। কেননা চোখ খুললেই চিরাচরিত সেই একই দৃশ্য। চির চেনা পরিবেশ। এক নির্দ্দিষ্ট বলয়ের ভেতর বন্দী আমি। শুধু প্রয়োজনের তাগিদে কখনো ঘরে, আবার কখনো ঘরের বাহিরে। আমার চারপাশে চেনাঅচেনা অসংখ্য মানুষের মুখ। ব্যস্ত শহর, চলন্ত গাড়ী, কালোধোঁয়া, নির্বিকার ল্যাম্পপোস্ট, ঘুমন্ত আইল্যান্ড- সব কিছুই দৃশ্যমান। এসবের মাঝে তুমি নেই। তুমি আমার দৃষ্টির নাগালে কখনোই থাকোনা, তাই তোমাকে দেখতে পাইনা।

একসময় দু'চোখের পাতায় ক্লান্তি ভর করে। ঘুমে আচ্ছন্ন হয় দু'চোখ। তোমাকে আর দেখা হয়ে ওঠেনা। দু'চোখের পাতায় স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরি। একসময় শৈশব, কৈশোর, আমার অবহেলায় ছুঁড়ে ফেলা যৌবন এসে স্বপ্নের মাঝে ভীড় জমায়। আমি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি। তোমাকে হাতড়ে বেড়াই ঘুমের মাঝে। তোমার মুখচ্ছবি, তোমার জন্য দীর্ঘকাল সযতনে আগলে রাখা কিছু দুর্লভ মুহূর্তের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। স্বপ্নের মাঝে সেই স্মৃতি যেন বিদ্যুতের ঝিলিক! এক অশরীরি মানবীর অস্পষ্ট ছায়া মুহূর্তের জন্য দেখা দিয়ে কোথায় যেন মিলিয়ে যায়।

আমি ঘুমের মাঝে চোখ টান টান করে চেয়ে থাকি। সেই মানবীকে নয়- তোমাকে, শুধু তোমাকেই আরও স্পষ্ট করে দেখবো বলে ঘুমের মাঝে স্বপ্নের গুন টেনে চলি। অথচ তোমাকে দেখা হয়না। শুনতে পাই কে যেন দূর থেকে বলছে, "চোখের আলোয় নাইবা দেখলে আমিতো আছি তোমার অন্তরজুড়ে। অন্তরের আলোয় নাহয় দেখে নিও আমাকে"। আমি আজো সেই আলো জ্বেলে বসে আছি-হয়তো তুমি আসবে। স্বপ্নের দুয়ার খুলে মনের পথ ধরে হেঁটে আসবে। আমি পথের দু'ধারে আমার জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া বসন্তের দিনগুলোকে ফুল করে সাজিয়ে দেবো। তুমি আসবে, ফুলে ফুলে তোমার আগমন বার্তা পেয়ে আমি ঘুম ভেঙ্গে চোখ মেলে তাকাবো। দেখবো সেই তোমাকে- যে তুমি এতোটা কাল আমার ঘুমের মাঝেই ছিলে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28822796 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28822796 2008-07-22 00:29:36
অনুকাব্য - ১৯ অনুকাব্য - ১৯

ভালবাসা মোমের মতো
হৃদয় আঁচে গলতে থাকে,
সলতে ছাড়া প্রদীপ হয়ে
আপন মনে জ্বলতে থাকে।

ভালবাসা ফুলের মতো
শুকিয়ে গেলে যায় ঝরে,
পায় যদি সে অবহেলা
আরো দূরে যায় সরে।

ভালবাসা পাখীর মতো
সঙ্গী পেলে বাঁধবে ঘর,
ঝড়, বৃষ্টি, রৌদ্র, তাপে
থাকবে কাছে জীবনভর।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28822053 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28822053 2008-07-20 00:22:38
দেখে এলাম শাশ্বতকেঃ শাশ্বতকে নিয়ে আমাদের কিছু ছবি দেখে এলাম শাশ্বতকেঃ

নাটোর পেড়িয়ে গোপালপুর। ছোট্ট একটা মফস্বল শহর। এই শহরেই অবস্থিত নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল। এই সুগার মিলের অধীনে এক স্কুল। সেই স্কুলের সহকারী শিক্ষক অরুণ সত্য। আমাদের সবার পরিচিত শাশ্বত’র বাবা তিনি। মা গৃহবধু। এই মিলেরই কর্মচারীদের থাকার জন্য আছে স্টাফ কোয়ার্টার। এমনই এক পুরোনো অন্ধাকাচ্ছন্ন ও জরাজীর্ণ স্টাফ কোয়ার্টারেই বসবাস করেন শাশ্বত’র পরিবার। পরিবার বলতে শাশ্বত’র মা-বাবা ও এক বোন।

আমরা কয়েকজন মিলে এসেছিলাম রাজশাহী শহরে। উদ্দেশ্য গোপালপুর শাশ্বত’র বাসায় যাওয়া। রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৪০ মাইল দূরের এই মফস্বল শহরে এসে আমরা শাশ্বত’র সাথে দেখা করলাম। শাশ্বত’র চিকিৎসার জন্য ব্লগারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংগৃহীত টাকার চেক শাশ্বত’র হাতে তুলে দেবার জন্য। এই পোস্টটা আরে আগেই দেয়া উচিৎ ছিল। নানা কারণে দেয়া হয়ে ওঠেনি। ব্লগাররা অনেকেই উন্মুখ হয়েছিলেন শাশ্বত’কে কেমন দেখে এলাম সেটা জানার জন্য। তাদের জন্যই আমার এই পোস্ট। শাশ্বত’র বাসায় তোলা কিছু আবেগঘন মুহূর্তের ছবি।



শাশ্বত: ক্লান্ত, অবসন্ন।


শাশ্বত'র চিকিৎসার রিপোর্ট দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য খরচের একটা হিসেবও আছে সাথে।



শাশ্বত'র পাশে আমরা।



শাশ্বত'র হাতে চেক হস্তান্তর।



চেক হস্তান্তরের পর কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত হয়ে করুণাময়ের কাছে প্রার্থনারত শাশ্বত'র বাবা অরুণ সত্য। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28821385 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28821385 2008-07-17 19:51:23
এক বৃক্ষের আহাজারি এক বৃক্ষের আহাজারি

(সুপ্রিয় ব্লগার "ছন্নছাড়ার পেন্সিল" এর পোস্টে করা মন্তব্যের ভিত্তিতে)

Click This Link

একদিনের এক ছোট্ট লিকলিকে চারাগাছ থেকে দেখতে দেখতে কেমন বড়সড় এক বৃক্ষ হয়ে গেলাম। রোদ-বৃষ্টি-ঝড়-জলোচ্ছাস সবকিছু উপেক্ষা করে সুখেই ছিলাম সবুজ অরণ্যে। শক্ত সমর্থ হয়ে বেড়ে ওঠা বিশাল কান্ড; দুর্বার, সুবিন্যস্ত শাখা-প্রশাখা; সবুজ পত্র-পল্লব; নিতান্তই নির্লোভ, নির্লিপ্ত, শান্ত সবুজ এক বৃক্ষ ছিলাম। পাখীদের কোলাহল, শাখামৃগদের উচ্ছাস, কাঠবিড়ালীর মাতামাতি, মৌমাছিদের বিচরণ আমাকে আনন্দ দিত। সময়ে পাতা ঝরে যাওয়া আবার নতুন পাতা গজানো- এসব নিয়েই আমার দিন কেটে যাচ্ছিল। বনের যত গাছ-পালা, পশু-পাখী, কীট-পতঙ্গ সবাই আমার বিশ্বস্ত বন্ধু। আমার দেহে দেহে বেড়া ওঠা শত পরগাছা নিয়ে আমার কোন আক্ষেপ ছিলনা। আমার পায়ের নীচেই মাটি, জন্ম থেকেই এই মাটির প্রতি আমার গভীর ভালবাসা। আমার পা বলতে কান্ড আর এই কান্ডের উপর ভর করেই আমি মাটি আঁকড়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম দীর্ঘকাল।

একদিন সকালে বনে এলো এক করাতির দল। মহা উল্লাসে ঘুরে ফিরে দেখলো তারা এই সবুজ বনাঞ্চল। তারপর একসময় আমার পাশে এসে দাঁড়ালো। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে দিল। টান টান করে আমায় ওরা বেঁধে ফেললো। আমার কান্ড বরারর ধারালো করাত চালাতে লাগলো সজোড়ে। বুঝলাম ওরা আমাকে কেটে ফেলবে। তাদের চোখে মুখে নির্মম উল্লাস। ক্রমশঃ মাটির বুকে বিছিয়ে দেয়া শেকড় থেকে আমার দেহটা বিচ্ছিন্ন হতে লাগলো। মাটির সাথে আমার নিবিড় সম্পর্কের বাঁধন চিরতরে ঘুচিয়ে দিল। আমি আর নিজের ভর সইতে পারলাম না। মুখ থুবড়ে পড়ে গেলাম আমার প্রিয় মাটির বুকে। দুমরে মুচরে গেল সকল শাখা-প্রশাখা।

করাত অবিরাম চলতেই থাকলো। আমার দেহ থেকে সমস্ত শাখা-প্রশাখা বিচ্ছিন্ন করা হলো। প্রকান্ড কান্ডটা শুধু পড়ে রইলো অনাদরে। একদিন আমার সেই কান্ডটা হাতির পায়ের সাথে শেকল বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হলো বনের বাইরে। পাশের একটা ছোট্ট নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হলো। ভেসে রইলাম সেখানে অনেকদিন। এরপর একদিন আমাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হলো কিছু দূরেই গড়ে ওঠা এক অত্যাধুনিক করাত কলের অভ্যন্তরে। যন্ত্রের বিকট শব্দ চারিদিকে। দেখলাম আমার মতো অসংখ্য কান্ড চোখের নিমিষে ফালি হয়ে যাচ্ছে যন্ত্রের সুনিপূণ কৌশলে। আমার কান্ডটাকেও চিঁড়ে ফেলা হলো। অসংখ্য কাঠের ছোট ছোট টুকরো হয়ে গেলাম অল্প কিছু সময়ের ব্যবধানে।

তারপরেও আমার নিস্তার নেই। কাঠের সেই ছোট ছোট টুকরোগুলো অনবরত চিঁড়তেই থাকলো। একসময় আমি টুকরো কাঠের দন্ড থেকে গোল, গোল থেকে গোলাকার কাঠের চিকন লম্বাটে টুকরো হয়ে গেলাম। আর সেই টুকরোগুলোর ভেতর নানা রঙের ক্ষয়িষ্ণু সব মেরুদন্ড জুড়ে দেয়া হলো। ওদের বেশীর ভাগই ছিল গ্রাফাইটের সরু শলাকা। এর পর আমাকে নানা বর্ণে সাজানো হলো- লাল, নীল, কালো, বেগুনী। তোমরা যাকে বলো পেন্সিল বা রঙ পেন্সিল। আমাকে নানা গ্রেড-এ চিহ্নিত করা হলো। নামকরণ করা হলো। এভাবেই এক বিশাল বৃক্ষ থেকে আমি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পেন্সিলে রূপান্তরিত হয়ে গেলাম। আর তোমরা- ছন্নছাড়া মানুষের দল, আমাকে হাতে নিয়ে আঁকি-বুকি করে যাচ্ছো ইচ্ছেমতো, মনের সুখে।

আমার কষ্টের কথা তোমরা হয়তো অনেকেই জানোনা। তাইতো আমাকে নিয়ে কিছুই লিখছোনা। এক বৃক্ষের কষ্টের ইতিহাস জানা থাকলে তোমরা কখনই আমার মতো বৃক্ষ হতে চাইতে না। বরং তোমাদের সুখ দেখে আমি মনে মনে লোভাতুর হয়ে পড়ি। একটিবারের জন্য হলেও আমার মানুষ হতে ইচ্ছে করে। সভ্যতা সৃষ্টিতে আমার অংশদারিত্ব নয়, তোমাদের মতো সভ্যতার নিয়ন্ত্রক হতে ইচ্ছে করে। মানুষ হলেই যেন পৃথিবীকে ইচ্ছেমতো বদলে দেয়া যায়। ঈশ্বর নন, যেন মানুষের ইচ্ছাতেই সব বদলে যায়। মানুষের প্রয়োজনেই হয়তো ঈশ্বর আমাকে সৃষ্টি করেছেন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28820896 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28820896 2008-07-16 13:29:14
শব্দের খেলা শব্দের খেলা

চুপ! শব্দকে ওভাবে জাগাতে নেই; শব্দেরা ঘুমিয়ে
থাক নিঃশব্দে, ঐ শব্দহীন ঘরে। এসো, তুমি আমি
নৈঃশব্দের প্রহর গুনি; দেখি শব্দেরা কী করে ভীড়
জমায় হৃদয়ের শব্দকোষে। শব্দের পরিভাষা সমৃদ্ধ
হোক শাব্দিক প্রেমালাপে, শব্দে শব্দেই গাঁথা হোক
ভালবাসা, শব্দময় হয়ে উঠুক জীবন। শব্দ ব্যঞ্জনায়
মেতে উঠুক শব্দবান্ধব এই শহর; এসো তুমি আমি
সশব্দে হেসে উঠি, টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙ্গে যাক
শব্দের দেয়াল, অনন্য সব উপমায়। তুমি আমি আর
একবার সরব হই, শব্দেরা খেলা করুক মুখের ভাষায়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28820374 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28820374 2008-07-15 03:12:07
আমার ইচ্ছেরা সব আমার ইচ্ছেরা সব

আমার ইচ্ছেরা সব ঘুমিয়ে থাকে,
তোমার পথের বাঁকে;
তুমি আসবে যদি জানতে পারে-
শিউলি বোঁটায় শিশির মেখে,
স্বপ্ন ছবি আঁকে।
আমার ইচ্ছেরা সব নাচতে থাকে,
তোমার কথাই ভেবে;
বৃষ্টি তালে রিমিঝিমিয়ে ছন্দে নূপুর বাজে-
গানে গানে তুমি আমার,
মন ভরিয়ে দেবে।
আমার ইচ্ছেরা সব ঘুমিয়ে থাকে,
নিত্য সদাই সুখে;
কাঁশবনে ঐ শরৎ রোদে আঁচল তোমার ওড়ে-
ব্যাকুল হৃদয় আকাশ ছোঁবার,
স্বপ্ন শুধুই দেখে।
আমার ইচ্ছেরা সব ঘুমিয়ে থাকে,
তুমি আছো বলে;
কষ্টগুলো মেঘের মতো হাওয়ায় ভেসে চলে-
বরফ হয়ে পাহাড়চূড়ায়,
নীরবে যায় গলে।
আমার ইচ্ছেরা সব ঘুমিয়ে থাকে,
তোমার চোখের পাতায়;
তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখে, তোমায় নিয়ে বাঁচে-
ঘুম ভাঙ্গলেই হাত বাড়িয়ে,
তোমায় কাছে চায়।

ছবিঃ নিজের তোলা]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28816672 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/28816672 2008-07-04 11:01:32
আষাঢ়ে ছড়া আষাঢ়ে ছড়া

বলতে পারো সাতসকালে,
ছেঁদলো কে ঐ আকাশটাকে?
বৃষ্টি কেন অমন করে,
ঝরছে রাগে মুশলধারে।
অফিস যাবো পাইনা গাড়ী,
তার উপরে বসের ঝারি;
বুঝাবে কে বেকুবটাকে,
এইসময় কী আড্ডা মারি?
কাজের বুয়ার খবর নেই,
মোবাইল নেই যে খবর দেই;
নাস্তা খাওয়ার উপায় খুঁজি,
শুকনা বাসি রুটিই পুঁজি।
মুখে পুড়ে ঢোক গিলি তাই,
চা খাবো যে সে উপায় নাই;
মাসের শেষ দুধ চিনি নাই,
বউকে বলেও লজ্জা পাই।
ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে ঠাঁই,
বাসের কোন খবর নাই;
সিএনজি নেব পয়সা নাই,
দিনকাল আজ খারাপ তাই।
বকছি অবুঝ আকাশটাকে,
দুষছি নিজের ভাগ্যটাকে;
বিপদ দেখলেই খোদার পিছু,
ছাপ্পর