somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বিদায় ২০১১, বিদায় সামহয়্যার ইন ব্লগ বিদায় ২০১১, বিদায় সামহয়্যার ইন ব্লগ

২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষদিকে আমার এই সামহয়্যার ইন ব্লগে প্রথম পদার্পণ। বলতে গেলে বাংলা ব্লগিং-এর প্রায় শুরুর দিক থেকেই। ডিসেম্বরের চতুর্থ সপ্তাহে প্রথম লগিন করি স্বনামে। নিজের নামটা মোঘল ঘরানার হওয়ার কারণে কিছু ব্লগার মোঘল সম্রাটদের বিভিন্ন নিক নিয়ে যেমন বাবর, আকবর, শাহজাহান এমন কি শেরশাহ্ নিকে নিছক মজা করার জন্য আমার ব্লগে মন্তব্য করতে থাকে। অবশেষে বিরক্ত হয়ে নিজের আসল নিক (হুমায়ুন বাদশাহ্) বিসর্জন দিয়ে “কালপুরুষ” নিকে ব্লগিং শুরু করি। আর এভাবেই পরবর্তী ৫ বছরের অধিক সময়কাল ধরে এই ব্লগে আমার সক্রিয় বিচরণ। বিগত ছয় (৬) বছর আমার জীবনের বেশীর ভাগ সময় আমি ব্যয় করেছি এই ব্লগিং-এর পিছনে। সত্যি বলতে কি এই ব্লগ আমাকে লিখতে শিখিয়েছে। যা কিছু ছাইপাশ লিখেছি এতদিন ধরে সবই এই ব্লগের কল্যাণে। তাই ব্লগের কাছে কমবেশী আমি অনেকটাই ঋণী। এই ব্লগে সুনাম, দুর্নাম, বদনাম, শ্রদ্ধা, প্রীতি, ভালবাসা, শুভেচ্ছা, গালিগালাজ, হুমকি, ঝাড়ি, সবকিছুই কুড়িয়েছি। অনেক বচসায় নিজেকে জড়িয়েছি, অনেকের বিরাগভাজন হয়েছি। অনেকে আমার উপর বিরক্ত হয়েছেন। মেয়ে ব্লগাদের প্রতি আমার বিশেষ সহানুভূতির কারণে পেয়েছি “লুল” উপাধি। “লুলপুরুষ” বা “লোলপুরুষ” হিসেবে ব্লগে আমার পরিচয়টা একসময় সর্বজনবিদিত ছিল।

অনেক প্রতিকুলতা ও প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেও তেলাপোকা এই প্রকৃতির বুকে আজো বেঁচে আছে। অথচ বিশালাকৃতির ডাইনোসর আজ বিলুপ্ত। সবাই সব পরিবেশে মানিয়ে চলতে পারেনা। সবাই সবকিছু মেনে নিতে পারেনা। ব্লগের এই স্বল্পপরিসরের পথ পরিক্রমায় পেয়েছি চমৎকার কিছু মানুষ, অনেক স্নেহধন্য ব্লগার, অনেক সুপ্রিয় লেখক, অনেক প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব, ভাল কিছু সংগঠক, উদ্যোক্তা ও আত্মনিবেদিত সমাজকর্মী। পেয়েছি অসাধারণ কিছু আইটি ও কারিগরী জ্ঞানসম্পন্ন ক্রিয়েটিভ ব্লগার। আজ ২০১১ সালের বিদায়ের সাথে সাথে “কালপুরুষ” নিকটিও এই ব্লগ হতে নির্বাসিত হলো। এ যাবৎকালে আমার সকল ভুলত্রুটিগুলো আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। মানুষ মাত্রই ভুল করে। আমিও একজন মানুষ। ব্লগিং করতে এসে কাউকে কোন দুঃখ, কষ্ট বা আঘাত দিয়ে থাকলে নিজগুনে ক্ষমা করে দেবেন। কারো প্রতি আমার কোনরূপ আক্রোশ, বিদ্বেষ বা অভিমান নেই। “কালপুরুষ” না থাকলেও কালপুরুষের আড়ালের মানুষটি ব্লগের সাথে কোন না কোনভাবে জড়িত থাকবে। ভার্চুয়াল জগতের বাইরে আমরা রক্তমাংশের মানুষ। একদিন কালপুরুষের বাসার ছাদেই প্রথম ভার্চুয়াল মানুষগুলো এক ক্যান্সার আক্রান্ত ৩ বছরের মেয়ে “প্রাপ্তি”-কে কেন্দ্র করে বাস্তব জগতে মিলে মিশে একাকার হয়েছিল। মানুষে মানুষে সম্পর্ক বা যোগাযোগ একটা স্বাভাবিক ব্যাপার, সেটা আজীবন অব্যাহত থাকবে।

সবাইকে আমার পক্ষ থেকে ২০১২ ইংরেজী নববর্ষের শুভেচ্ছা। সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, মঙ্গলময় থাকুন। নতুন বছর সবার জীবনে কল্যাণ বয়ে আনুক, এই প্রার্থনাই রইলো।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29513747 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29513747 2011-12-31 23:58:52
প্রয়াত ব্লগারদের স্মরণে প্রয়াত ব্লগারদের স্মরণে

ধরো, আজ সকালে ব্লগ খুলতেই একটা দুঃসংবাদ পেলে।
মানুষের মৃত্যুর সংবাদ সচারচর দুঃসংবাদই হয় বটে।
খবরটা এরকম-“ব্লগার কালপুরুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে”।
চমকে উঠলে! চমকে ওঠার তেমন কোন কারণ নেই,
অহরহ এমন দুঃসংবাদ খবরের কাগজে রোজই ছাপা হয়।
কালপুরুষ আর অন্য মানুষের মধ্যে এমন কী তফাৎ!
পরিচয়ের সূত্র ধরে কেউ কাছের, কেউবা দূরের।
মৃত্যু অনেক সময় মানুষকে মহান করে তোলে।
সত্যিই তোলে কি! হয়তো তোলে। তবে ব্যতিক্রমও আছে।
শীর্ষ সন্ত্রাসীর মৃত্যু কিংবা ক্রশ ফায়ারে মৃত্যু
অনেককেই ব্যথিত করেনা, আমাকেও করেনা।
তবে মিথ্যে সন্দেহে গণ পিটুনি কিংবা লাঠি বৈঠা দিয়ে কাউকে পিটিয়ে হত্যা
আমাকে ভীষণ কষ্ট দেয়। কষ্ট দেয় দোররা মেরে নারী হত্যা।
বেঁচে থাকাকালীন আমার বোধোদয় এমনটাই।
তাইতো একদিন যে মানুষটিকে তার মিথ্যাচার ও অসদাচরণের জন্য
মোটেও পছন্দ করতাম না, একদিন তার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ব্যথিত হলাম।
আমার মন থেকে তার প্রতি সকল ঘৃণা-ক্ষোভ মুছে গেল।
বরং মানুষটিকে মৃত ভেবে কষ্ট পেয়েছি-
মৃত্যুর আগে লোকটি উত্তরসূরীদের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারেনি।
ঘরে ছিল তার বৃদ্ধা মা, অসহায় স্ত্রী আর দুই কিশোর সন্তান।
তাদের কষ্টের কথা ভেবে মানুষটির প্রতি আমার এতোটুকু বিদ্বেষ জন্মায়নি।
তার দাফন ক্রিয়াও হয়েছিল প্রতিবেশীদের সহায়তায়।
জানাজার আগে যখন তার কিশোর সন্তান এসে বললো-
“আমার বাবার যদি কারো কাছে কোন ঋণ থাকে বলবেন,
আমি ওয়াদা করছি আমি তা পরিশোধ করে দেবো”।
কেউ তখন মুখ খোলেনি- কেউ কিছু দাবী করেনি।
মানুষ সময়ে অনেক বদলে যায়, ক্ষমাশীল হয়ে ওঠে।
বেচারা ক্ষমা পেয়ে গেলেন অবাঞ্ছিত কিছু ঋণের বোঝা থেকে।
জীবদ্দশায় কিছু কিছু মানুষ বিরক্তিকর হলেও মৃত্যুর পর
তারাও কিছুনা কিছু সহানুভূতি পায়। একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর মা’ও
তার পুত্রের মৃত্যু হলে অশ্রু বিসর্জন করে।
ক্ষমা করবেন, কালপুরুষের মৃত্যু সংবাদ কেবলই একটি উপমা মাত্র।
সাধারণ মানুষের মৃত্যুর কথা মানুষ সহজেই ভুলে যায়,
যেমন আমরাও মাঝে মাঝে ভুলে যাই আমাদের সহব্লগাদের মৃত্যুর কথা।
আবার কেউ কেউ আমারি মতো নস্টালজিকতায় ভুগেন,
স্মরণ করেন প্রয়াত জুবায়ের আহমেদ, মাহবুব মাতিন আর ইবনদের কথা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29358548 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29358548 2011-04-07 11:35:42
হে উর্বশী রমণী হে উর্বশী রমণী

আমার অবাধ্য হাত দুটো
শুধু তোমাকেই ছুঁতে চায়,
আমার বেপরোয়া চোখ দুটো
শুধু তোমাকেই দেখতে চায়।
আমি প্রতারক নই,
এমন প্রতীজ্ঞায় আশ্বস্ত হতে পারো কতটুকু?
বিশ্বস্ত বন্ধুও সময়ে অবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারে,
প্রগলভ্তার সীমা ছাড়িয়ে
অনায়াসে প্রলোভনে জড়াতে পারে।
হে উর্বশী রমণী- বন্ধু আমার,
তোমার সংস্পর্শে আমার চেতনার পৌরুষ
সহসাই জেগে ওঠে গোপনে।
আমি ক্রমশঃই পাপিষ্ঠ হয়ে উঠি একান্ত নিভৃতে।
তুমি ভাবতেই পারো,
আমি বন্ধুত্বের সীমা লঙ্ঘনকারী এক প্রতারক।
আমি নিত্য শাসিত হই বোধের বিচারে,
আমি প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ হই বিবেকের কাঠগড়ায়।
অথচ পাপমুক্তির সহজতম উপায় বেছে নেবো
এমন দুঃসাহস আমার নেই।
আমি কিছুতেই বলতে পারিনা,
হে উর্বশী রমণী-
তুমি মোটেও আমার বন্ধু নও, শুধুই প্রেয়সী।
এবার আমাকে কি শাস্তি দেবে দাও,
তোমায় একছত্র ভালবাসার বিনিময়ে
আজীবন কারাভোগ সইবো হাসিমুখে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29301169 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29301169 2011-01-03 11:07:20
ছড়াকাব্য - ১৯ ছড়াকাব্য - ১৯

তুমি আমি প্রেমময়
দুনিয়াটা তিতা,
যে যা বলে বলুক
তুমি আমি মিতা।

পথচলায় সাথী মোরা
হাতে রেখে হাত,
এভাবেই কেটে যাক
দিন আর রাত।

নিরাশার কালো ছায়া
আলো দিয়ে ঢেকে,
চোখে মুখে প্রত্যাশার
হাসি যাবো রেখে।

প্রেম খাতার হিসেবে
নেই ফাঁকি একআনা,
ভালবাসায় ঋণী মোরা
পুরোপুরি ষোলআনা।

দর দামে কিনে মন
ভাবে যারা সস্তায়,
দিনশেষে ভাঙ্গে মন
নিজ দোষে পস্তায়।

মেঘরোদ আলোছায়া
জীবনেরই প্রতিরূপ,
তুমি আমি প্রেমানলে
জ্বলে ওঠা সেই ধূপ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29300632 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29300632 2011-01-02 11:56:27
প্রবচন - ২ প্রবচন - ২

ভালবাসা এমন এক অনুভূতি যা অপাত্রে ঢাললে ঘৃণার জন্ম হতে পারে, পাত্রে ঢাললে আবার তা কখনোই শেষ হতে চায়না। ভালবাসা এমন এক ছোঁয়াচে রোগ- যা অপরকে ভালবাসতে দেখলে নিজেরও ভালবাসতে ইচ্ছে করে। ভালবাসা এক ধরণের সাইবার টিস্যু- যা অনুকুল প্রতিকুল সব অবস্থাতেই ভালবাসা থেকে ভালবাসার জন্ম দেয়। কেউ ভালবাসায় সম্মতি না জানালে খারাপ লাগে আবার অপছন্দের কেউ ভালবাসার কথা বললে বিরক্ত লাগে। কেউ যদি সময়কালে ভালবাসার কথা না শুনতে পায় জীবনটা পানসে লাগে।

প্রতিটি মানুষের মন কাউকে না কাউকে ভালবাসার অধিকার রাখে, ভালবাসার ইচ্ছে পোষণ করে। ভালবাসার আকর্ষণ যেমন প্রবল তেমনি ভালবাসা না থাকলে ঘৃণার জন্ম হতোনা। আর ঘৃণা আছে বলেই মানুষ বুঝতে পারে ভালবাসার প্রগাঢ় অনুভব। যে ভালবাসার জন্ম ঘৃণা থেকে তার স্থায়িত্বকাল যাই হোকনা কেন তা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই মধুর। কারণ রাগ থেকেই অনুরাগের জন্ম। ভালবাসা ততদিনই প্রলম্বিত হয় যতদিন না সেই ভালবাসায় অন্য কোন ঘৃণা কিংবা সন্দেহের অনুপ্রবেশ ঘটে। সহজভাবে বলা যায় বিশ্বাস ও আস্থায় ফাটল ধরলে ভালবাসার দেয়াল ধ্বসে পড়ে। আর সে কারণেই হয়তো অনেকে বলে থাকে ভালবাসা তাসের ঘর- যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। একটা মানুষের মন বদলে দেয়া বা বদলে যাওয়া তেমন সহজ না হলেও বিচিত্র কিছু নয়, তবে ভালবাসা বা ঘৃণা সেই বদলে যাওয়ার কাজটা অনেক সহজ করে দেয়।

প্রবচন – ১
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29299336 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29299336 2010-12-31 10:46:18
আমি এখনো চোখ কচলাই আমি এখনো চোখ কচলাই

আমি এখনো চোখ কচলাই,
স্মৃতির ধূলোকণা কখন যে চোখে এসে জমে!
মা আঁচলে মুখ ঢেকে গোপনে কান্না লুকায়, শান্তনা দেয়-
বাবা তোর যুদ্ধে যায়- কাঁদিসনে বাবা।
চারিদিকে এখন শত্রুর আনাগোণা।
আমি কি তখন যুদ্ধ বুঝি! বুঝি কী কে শত্রু!
মায়ের মুখে শুধুই উৎকন্ঠার ছাপ।
মনে পড়ে, আমি তখন ঘুম ঘুম চোখে-
বাবা তড়িঘরি করে আলনা থেকে জামা তুলে নিল,
মা হাতের পুঁটলিটা বাবাকে দিয়ে বললো-
সামান্য চিড়া আর গুঁড় আছে, ক্ষিধে লাগলে খেয়ে নিও।
আমি কিছু বুঝে না উঠতেই বাবা আমার গালে
ছোট্ট একটু আদর দিয়ে বললো- তোর মাকে দেখিস।
দরজার খিড়কি খুলে গেল, বাইরে তখনো গাঁঢ় অন্ধকার।
বাবা সেই অন্ধকারে মিশে গেলো।
বাবার যুদ্ধ আমি চোখে দেখিনি- দেখেছি মায়ের যুদ্ধ।
আমাকে আগলে রাখার সে এক কঠিন যুদ্ধ!
নিজের সম্ভ্রম বাঁচানোর অবিশ্বাস্য এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ!
শত্রুর হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার এক অমানবিক যুদ্ধ!
এ কোন শত্রু! মুখোশের আড়ালে সবই যে হায়েনার দল!
বাবার মতো লাখো মুক্তিযোদ্ধার ছুঁড়ে দেয়া লক্ষ্যভেদী বুলেট
আর আমার মায়ের মতো লাখো নারীর মলিন, ছিন্নভিন্ন আর রক্তাক্ত বস্ত্র
একদিন ছিনিয়ে আনলো এদেশের স্বাধীনতা। শত্রুরা পরাভূত হলো।
অথচ আমি এখনো চোখ কচলাই।
বাবা আমার যুদ্ধ থেকে এখনো বাড়ী ফেরেনি।
আমার মায়ের শরীর থেকে এখনো রক্তের দাগ মুছে যায়নি।
আমি অপেক্ষায় আছি, হয়তো কোন এক বিজয়ের মাসে কেউ এসে
আমার সাক্ষাৎকার নেবে, আমাকে শান্তনা দেবে।
কিংবা ইতিহাসের পাতা থেকে আমার মা, বাবা কিংবা
তাদের একমাত্র সন্তানের নাম চিরতরে মুছে যাবে।
আমি এখনো চোখ কচলাই।


(বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে একটি অসমাপ্ত লেখার অসময়োচিত সমাপ্তি)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29297432 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29297432 2010-12-28 10:25:40
এক পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা এক পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা

আপদে বিপদে
আছো বেশ নিরাপদে
দেশটা তোমারি
যতই করো বাটপারি।
আমি এক নির্বোধ
হয়নাতো দেনা শোধ
মুচলেকা দিয়ে ভাবি
আর কোথা পালাবি!

প্রচারে প্রসারে
তুমি জয় জয়কারে
ঘরে কিংবা বাইরে
চামচারা লেজ নাড়ে।
আমি শুধু ধুঁকছি
প্রেসারেতে ভুগছি।
যুদ্ধের ইতিহাস
অনাহারে গিলছি।

তুমি আমি ফ্রন্টে
একই রেজিমেন্টে
পাকসেনা নিধনে
মেতেছিলাম দুজনে।
বোমার আঘাতে
পারেনি থামাতে
লালসবুজ পতাকা
আকাশে ওড়াতে।

রক্তমাখা জামাতে
গুলি খাওয়া হাঁটুতে
বিজয়ের উল্লাসে
ফিরেছিলাম নিজদেশে।
তুমি আমি তারপর
দুজনেই বেখবর
তুমি হলে নেতা আজ
পঙ্গু আমি নেই কাজ।

দিন গেল বদলে
সবই তোমার দখলে
তোমার খবর রোজ পড়ি
নিজের সাথে যুদ্ধ করি।
তোমার আমার এক টিকেট
মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট
তোমার জন্য লাক্সারী কার
আমার জন্য হুইল চেয়ার।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29290068 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29290068 2010-12-15 13:11:53
ছড়াকাব্য - ১৮ ছড়াকাব্য - ১৮

বন্ধ চোখে
অন্ধ হয়ে
তোকে আমি দেখবোনা আর,
তুলো খুঁজে
কানে গুঁজে
তোর কথা শুনবোনা আর।
তোর হাসি
ভালবাসি
এমন কথা বলবোনা আর।
জোছনা রাতে
গোলাপ হাতে
তোর কাছে আসবোনা আর।
তোর সুখে
চাঁদের মুখে
কলঙ্ক দাগ খুঁজবোনা আর।
তোর মনে
আর গোপনে
প্রেমের ঝড় তুলবোনা আর।
চোখের আড়াল
থাক চিরকাল
ভুলেও কাছে ডাকবোনা আর।
ভুলের মাশুল
হয়নি উশুল
এমন হিসেব কষবোনা আর।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29288725 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29288725 2010-12-13 10:13:16
ছড়াকাব্য - ১৭ ছড়াকাব্য - ১৭

পারিস যদি যাসরে দেখে
তোর বিরহে হইনি কাতর,
এখনো সেই উষ্ণ প্রেমের
স্রোত বইছে বুকের ভেতর।

মিথ্যে কথার পাহাড় গড়ে
কপট ছলের মান-অভিমান,
বেশতো পারিস বুঝিনি তা
প্রেমের খেলায় সবই ভাণ।

প্রেম নামের একতারা তুই
বাউল আমি সেই সাধনায়,
সদাই প্রেমের ফুল ফুটে রয়
আমার মনের কুঞ্জ ছায়ায়।

আবার যদি আসিস ফিরে
সেই ফোটাফুল তোকেই দেবো,
তোর প্রেমেরই কাঁটার জ্বালা
বরণ করে আমিই নেবো।


(এক উদাসী প্রেমের স্বপ্নময় জ্বালা)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29286855 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29286855 2010-12-10 10:27:53
ছড়াকাব্য - ১৬ ছড়াকাব্য - ১৬

প্রেমের শামুক হোকনা পচা
পা কাটলে যায়রে বোঝা,
প্রেমের জালে পড়লে ধরা
ছাড়া পাওয়া নয়তো সোজা।

প্রথম প্রেমের প্রথম স্বাদ
খাইতে যেমন মিষ্টি পান,
চিবিয়ে যতই রস ফুরাবে
থাকবেনা আর মনের টান।

প্রেমতো নয় টমেটো সস
মাখিয়ে মনে চাটবে শুধু,
ফুলের মাঝেও আছে কাঁটা
সব ফুলে কি থাকে মধু?

প্রেম যদি হয় বাবুই পাখী
নিপূণ হাতে গড়বে বাসা,
যতই আসুক ঝড়-বৃষ্টি
টলবেনা সেই ভালবাসা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29285739 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29285739 2010-12-08 11:59:54
ব্লগীয় ফটোওয়াকঃ ফুটানিক্যাল গার্ডেন ব্লগীয় ফটোওয়াকঃ ফুটানিক্যাল গার্ডেন

প্রথম অংশঃ পুরোনো কাসুন্দি- না ঘাটলেও কোন ক্ষতি নেই
(যাদের ইচ্ছে হয় পড়বেন)।

অতঃপর মোঘল সাম্রাজ্য পতনের পর ভারতবর্ষে ধূর্ত ও সাম্রাজ্যলোভী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের আগ্রাসন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখে। কিছু বিশ্বাসঘাতক ও সুবিধাভোগী গোষ্ঠির কারণে সমগ্র ভারবর্ষজুড়েই তাদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি বিস্তার লাভ করতে থাকে। বাংলার মাটিতেও তাদের অভিশপ্ত ছায়া পড়ে। এদেশের কৃষকদের ফসলের জমিতে নীল চাষ করতে বাধ্য করে। প্রতিবাদী কৃষকদের উপর অকথ্য অত্যাচার ও নির্যাতন করা হয়। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা ইংরেজদের শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। ইংরেজদের ইন্ধনে উমি চাঁদ, জগৎ শেঠ, ঘসেটি বেগম, বীর বল্লভ এদের মতো অনেক দেশীয় কুচক্রীদের সহায়তা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা বাংলার মসনদ হারায় এবং বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর কর্তৃক প্রাণ হারায়।

সিরাজ-উদ্-দৌলার মৃত্যুর পর বঙ্গভূমিতে ইংরেজরা তাদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির রাজত্ব কায়েম করে এবং খাজনা উসুলের জন্য বাঙলাকে বিভিন্ন জেলা ও পরগণায় বিভক্ত করে। তোষামোদকারী কিছু জমিদার ও নবাব ইংরেজদের এই কাজে সহযোগিতা করে। নবাবদের কিছু উত্তরসূরী ঢাকাতেও ছিল। নবাবেরা ছিলেন অত্যন্ত সৌখিন ও বিলাসী আবার অন্যদিকে ভীষণ রক্ষণশীল। নবাব পরিবারের বেগম ও কন্যারা ধর্মীয় আব্রুর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতেন। এক্কাগাড়ী (ঘোড়ায় টানা গাড়ী) যখন নবাবদের বেগম-কন্যাদের নিয়ে বাইরে যেতো তখন মানুষের নজর এড়াবার জন্য এক্কাগাড়ীতে পর্দা টানানো হতো।

নবাবরা মোঘলদের বদৌলতে শাহী খাবার ও উর্দু ভাষা এবং ইংরেজদের বদৌলতে চোস্ত কায়দা-কানুন ও ইংরেজী ভাষা ভালই রপ্ত করেছিল। তাদের আয়েশী জীবনকে অন্যেরা ব্যাঙ্গ করে বা হিংসা করে "ফুটানি" বলতো। পানি ফুটালে বিশুদ্ধ হলেও নবাবদের ফুটানি তাদের জীবনকে কতটা বিশুদ্ধ রেখেছিল তা রহস্যে ঘেরা। সেসময় অধিকাংশ জমিদার ও নবাব ভোগ বিলাসে অভ্যস্ত ছিল। তাই জমিদারদের ছিল বাগানবাড়ী আর নবাবদের ছিল সুশোভন "বাগ" অর্থাৎ "বাগান" বা "উদ্যান"। নবাবরা খুব ফুলপ্রিয় ছিলেন। বাগ-বাগিচার প্রতি ছিল তাদের ছিল বিশেষ দুর্বলতা। সেকারণেই ঢাকার বহু জায়গার নামকরণ বাগ-বাগিচার নামে। তার প্রমাণ "লালবাগ" থেকে "সবুজবাগ", মাঝে পরী, চামেলী, গোপি, মেহেদি, আরাম, সোবহান আরো কত বাগের ছড়াছড়ি। একসময় এইসব বাগ-বাগিচায় নানারকম ফুল ফুটতো অথচ এখন ফুলের বদলে শুধুই মানুষ নামের "বাগ" (ইংরেজীতে ছাড়পোকা)।

উর্দুতে ফুলকে বলা হয় "গুল""গুলিস্তান"(গুল-ই-স্তান) নামের সূত্রপাত ঠিক একারণেই। বাংলা ভাষায় "গুলিস্তান" "ফুলবাগিচা" বা "ফুলের বাগান" নামেই পরিচিত। এই গুলিস্তান থেকেই এককালে নবাবরা সুগন্ধি মেখে “গুলদাস্তা” (ফুলের তোড়া) নিয়ে এক্কাগাড়ীতে (ঘোড়ায় টানা গাড়ী) করে "কাওরান বাজার" (মূল শব্দ কাঁরওয়াঁ যা বাঈজীদের ঘুংঘুর জাতীয় অলংকার) যেতেন বাঈজীদের "মুজরা" বা "নাচ-গান"দেখতে ও শুনতে। সাথে থাকতো রঙিন পানি আর বাদামের শরবত। এটাও ছিল তাদের ফুটানির একটা অংশ।

দ্বিতীয় অংশঃ নতুন কাসুন্দি- স্বাদ নিলেও নিতে পারেন
(পড়া বাধ্যতামূলক নয়)।

আজ সেই নবাবী আমল নেই। আমরা কেউ নবাব নই। আমাদের ঘোড়ায় টানা এক্কাগাড়ীও নেই। কাওরান বাজারে বাঈজীদের সেই জলসাঘরও নেই। তাই মুজরা দেখার বা শোনার কোন সুযোগ আমাদের নেই। তবে নবাবদের বিলাসিতার একটা অংশ হিসেবে সকলেই যা উপভোগ করতে পারি তাহলো "উদ্যান ভ্রমণ" বা "বাগ-বাগিচার ফুল দর্শন"। তবে আজকাল তরুণ ও যুবাদের কাছে "গাছে ফোটা ফুল"-এর চাইতে "ফুলকলি"দের দেখাতেই আনন্দ বেশী। তাই যে কোন গার্ডেনে অবারিত দৃষ্টি প্রসারের জন্য গার্জিয়ানদের তদারকি করার কোন প্রয়োজন নেই। আমাদের মধ্যে অনেকেই তরুণ ও যুবক হলেও তাদের ইচ্ছে ছিল বাগানে ঘুরে ঘুরে কোন ফুল তোলা নয়, কোন ফুলকলিও নয় বরং মনের আনন্দে কিছু ছবি তোলা। আর ছবি তুলতে হলে দল বেঁধে যাওয়াই বেশী আনন্দের। তাই ঠিক হলো দ্বিতীয় ফটোব্লগ কোন বিশাল উদ্যানে।

আমরা যারা উদ্যানে যাবো তাদের জন্য নবাব আমলের সেই এক্কাগাড়ী নেই। তাই বাস-সিএনজি আর পদযুগলই একমাত্র ভরষা। মোটকথা আনন্দের একটা অংশ হিসেবেই ব্লগীয় ফটোওয়াকের অবতাড়না। যারা এই মিশনে যাবে বলে আগে ঘোষণা দিয়েছিল তারা অনেকেই আসেনি। আবার যারা ঘোষণা দেয়নি তারা এই সুযোগটা হাতছাড়া করেনি। প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন শেষে সকলেই হাতে নানাবিধ ফুল সজ্জিত গুলদাস্তার বদলে নানা ধরণের ক্যামেরা নিয়ে হাজির।

এরপর একত্রে উদ্যানে প্রবেশ। উদ্যানে পৌঁছেই নবাবী ঢংগে সবাই তথাকথিত বাঈজীর বদলে সাবজেক্টের পিছনে দাপাদাপি; মুজরার বদলে প্রজাপতি আর কীট-পতঙ্গের মোহনীয় ভঙ্গিমার পেছতে মাতামাতি; রঙিন পানির বদলে মামের স্বচ্ছ বোতলে প্রেমময় চুমু, বাদামের শরবতের বদলে তারকাখ্যাত (স্টার কাবাবের) ডাইল পুরীর (ফেন্সীর সাথে এর কোন ডিল নেই) বস্ত্রহরণ। নবাবদের আতুরে (আতর মাখার প্রবণতা) ফুটানির বদলে হাতুড়ে (থুক্কু, অভিজ্ঞ) ফটোগ্রাফারদের বোতাম খোলা (শাটার রিলিজ) ও টেপাটিপি (ক্লিক)। আমরা সেই আমলের নবাব না হলেও ফুটানিক্যাল গার্ডেনে সেদিন আমরা নিজেরাই যেন এক একজন স্বেচ্ছাস্বাধীন নবাব, যাদের সঙ্গী ছিল নির্মল আনন্দ, প্রাণঢালা খুশী আর একে অপরের সাথে বন্ধুত্বের নিবিড় হাতছানি। বোটানিকাল গার্ডেন সত্যিই আমাদের জন্য সেদিন ছিল এক "ফুটানিক্যাল গার্ডেন"।

তৃতীয় অংশঃ এবার আর পড়তে হবেনা, দেখলেই চলবে
(কথায় আছে সিইং ইজ বিলিভিং)।

১। ঐ মিয়া, আপনের প্যাচাল বন্ করেন। আমরা আয়া পড়ছি।


২। খাইছে! আমারে ছেলেধরা ভাবছে নাকি! আমার মাইয়াতো কথা কইবার পারেনা। বাপ না ডাকলে বুঝবো কেমনে?


৩। আহাম্মক নাকি গাছে ধরে। মনে হয় পাইছে কোন আহাম্মক রে।


৪। মনে করলাম ছেলেধরা নিয়া একটা রিপোর্ট করুম- মাইয়াটা কলো থিকা নাইমা মায়ের কাছে দৌড়। আফসুস!!


৫। সবাইরে ফাঁকি দিয়া যে মাইয়ার ছবি তুলছি এই সুযোগে একটু দেইখা লই। মুবাইল নম্বরটা চাইতে হইবো।


৬। খাইছে! মাইয়ার লগে দেখি বডিগার্ড বইসা আছে। কেমনে যে নম্বরটা পাই।


৭। সব পাবলিক দেখি গ্যালারিতে বইসা আছে। এইহানে আবার কুনো মুজরা হইবো নিহি? দেখবার মুন চায়।


৮। ভুয়া খবর! সবাই ফুল (বোকা না) না। আল্লাই জানে হেরা কুন ফুল দেখবার লাগছে।


৯। হাচা কইতাছি, ওরা ফুল দেখতাছে। আপনেও দ্যাখেন।


১০। সবাই ফুলের শুভ্রতা শুভেচ্ছা।


১১। বিনা পয়সায় আরো কিছু ছবি দেইখা লন। চোখের ব্যথা কমবো।


১২।


১৩।


১৪।


১৫।


১৬।


১৭।


১৮।


১৯।


২০।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29284216 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29284216 2010-12-05 18:59:12
বাঁচার আশা বাঁচার আশা

নষ্ট হবার এইতো সময়
গড্ডালিকার এই প্রবাহ,
দিলাম এবার গা ভাসিয়ে
আটকে রাখার নেইতো কেহ।

বাবার চাইতে নেতা বড়
সব ক্ষমতার উৎস তিনি,
মায়ের কান্না বিক্রি করে
মিথ্যে সোনার হরিণ কিনি।

রাজনীতির সব চালেতেই
আমিই ঘোড়া আমিই সেনা,
কিস্তি মাতের সব খেলাতেই
আমায় নিয়েই বেচা কেনা।

আম জনতার লেভেল এঁটে
বুঝবো কবে নিজের ভুল,
বাবার আদর মায়ের সোহাগ
কোন মোহে আজ চক্ষুশূল!

নষ্ট হবার এই বাসনা
রুখবে কে আজ নেই ভরষা,
নষ্ট নেতার ভ্রষ্ট চালে
পাইনা খুঁজে বাঁচার আশা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29282270 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29282270 2010-12-02 15:39:32
সময় ঘোড়া সময় ঘোড়া

সময় ঘোড়া
ছুটছে দারুন
তার পেছনে
আমরা তরুণ
ক্লান্তি ভুলে
মৃত্যু ঠেলে
লক্ষ্য ভেদে
এক হয়েছি।

নিষেধ বেড়ী
পথের কাঁটা
সব গুঁড়িয়ে
সামনে হাঁটা
হিংসাক্রোধ
অহংবোধ
আত্মগ্লানি
সব ধুয়েছি।

দেশটা এবার
হোকনা সবার
সব ভেদাভেদ
শিকেয় তুলি
তোমার আমার
এই অহংকার
দেশের স্বার্থে
একটু ভুলি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29281812 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29281812 2010-12-01 20:45:37
ছড়াকাব্য - ১৫ ছড়াকাব্য - ১৫

আমার তখন কলেজ শুরু
তোমার তখন টেন,
আমি তখন উত্তম কুমার
তুমি সুচিত্রা সেন।

আমার বাসা তোমার বাসা
মাঝেই সরু গলি,
বেণী দুলিয়ে হাঁটতে যেন
ফুটন্ত এক কলি।

আমায় দেখে মুখ ঘুরিয়ে
হাসতে মিটি মিটি,
বইয়ের ভাঁজে রাখা ছিল
প্রথম লেখা চিঠি।

রোজই ভাবি দেখা হলেই
দেবো তোমার হাতে,
হয়নি দেয়া কোন কারণে
হিসেব কষি রাতে।

গড়িয়ে গেল একটি বছর
তুমি তখন কলেজ,
আমি সেই আগের মতোই
তুমি আরো সতেজ।

সরু গলি চওড়া হলো
বদলে গেলো বাড়ী,
আমি তখন পায়ে হাঁটি
তুমি তখন গাড়ী।

আর কোনদিন হয়নি দেয়া
চিঠি বইয়ের ভাঁজে,
পাশের বাড়ীর তুমি আমি
গলিটাই ছিল মাঝে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29280686 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29280686 2010-11-30 11:57:05
ছড়াকাব্য - ১৪ ছড়াকাব্য - ১৪

মন আকাশে মেঘ জমেছে
চোখ ধরেছে বৃষ্টি,
অভিমানী সেই মেয়েটির
বরফ কঠিন দৃষ্টি।

প্রথম দেখার একটু আবেশ
লাগছিলোতো বেশ,
হয়নি বলা একটি কথাও
দিন যে হলো শেষ।

প্রেম সাগরে নাও ভাসিয়ে
কূল হারিয়ে একা,
কোন ভরষায় পাড়ি দেবো
নেইতো তার দেখা।

প্রথম প্রেমের হাতছানিতে
মন যে উড়ু উড়ু,
কাকে ডেকে বলবো শোন
এইতো জীবন শুরু।

মুঠোফোনের বোতাম টিপে
বার্তা ছেড়ে ভাবি,
সেই মেয়েটি ভাববে আমায়
উঠতি কোন কবি।

ইনবক্সে নেইকো মেসেজ
মন যে দিশেহারা,
ভারি নিঠুর সেই মেয়েটি
দেয়নি কোন সাড়া।

প্রেম নামের মাদকনেশা
মনটা কুঁড়ে খায়,
নিষেধ-বারণ-অনুশাসন
সব বিফলে যায়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29280240 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29280240 2010-11-29 19:16:24
মায়া মায়া

দিন কাটেনা আগের মতো
সেই তুমি আর নেই পাশে,
চাঁদের আলো আগের মতোই
জানালা গলে তেমনি আসে।

ঘুমের ঘোরে দু’চোখ আমার
একটু যখন আসে বুঁজে,
হাত দুটো তাই মনের ভুলে
তোমার মাথার বালিশ খুঁজে।

শীতের কাঁথা সয়না গায়ে
তোমার ছোঁয়া পাইযে তাতে,
স্বপন দেখি এই ঘরেতেই
হেঁটে বেড়াও প্রতি রাতে।

এমনি করেই যাবে যদি
রাখলে কেন তোমার ছায়া,
অবুঝ আমায় কে বুঝাবে
ভালবাসার কি যে মায়া।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29279342 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29279342 2010-11-28 09:49:49
ব্লগীয় ফটোওয়াকঃ বলধা গার্ডেন ব্লগীয় ফটোওয়াকঃ বলধা গার্ডেন

আমি হুমায়ুন বাদশাহ্ বহু পূর্বেই শেরশাহ নামের এক অখ্যাত পাঠান যোদ্ধার কাছে দিল্লীর সিংহাসন হারিয়ে “কালপুরুষ” সেজে বেশকিছুদিন যাবৎ পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম। অবশেষে একদিন ফেসবুক নামের এক গহীন অরণ্যে গা ঢাকা দিলাম। কিন্তু এখানেও শান্তি নেই। ফেসবুক অরণ্যে তখন এক স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যাপক দাপট। তিনি আমাকে আটক করার জন্য ফেসবুক অরণ্যের আনাচে কানাচে গুপ্তচর মোতায়েন করলেন, আরণ্যক ভাষায় যারা “ব্লগার” নামে পরিচিত।

অগত্যা একদিন এই অরণ্যের এক ঝর্ণার ধারে “লগিন” অর্থাৎ ঘুরে বেড়াতেই আমাকে আটক করা হলো। আমাকে রীতিমতো শূলে চড়ানোর ব্যবস্থা করা হলো। অতঃপর আমাকে বলা হলো এই অরণ্যের অদূরে এক ঐতিহাসিক গার্ডেন আছে যা “বলধা” নামে পরিচিত। শুনেছি সেখানে একসময় আদিম “বাইসন” দের দেখা পাওয়া যেত যারা আচরণে ছিল উগ্র, স্বভাবে উচ্ছৃংখল এবং বেপরোয়া। গাছের ছালের বদলে তারা গাছের আড়ালকেই নিজেদের পর্দার জন্য উপযুক্ত মনে করতো।

অরণ্যদেব তাদের কর্মকান্ডে ভীষণ অতীষ্ট ছিলেন এবং ঈশ্বরের কাছ থেকে এব্যাপারে কোনরকম অভয়বাণী না পেয়ে তিনি সেই “বলধা গার্ডেন”কে তাদের জন্য “অভয়ারণ্য” হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন। বর্তমানে সেই আদিম বাইসনদের উত্তরসূরী এবং আজকের ভদ্র সংস্করণের কিছু বলদ সেই জায়গা দখল করে আছে। রাষ্ট্রপ্রধান আমাকে নির্দেশ দিলেন, আপনি যদি কতিপয় রাখাল সাথে নিয়ে সেই বলদগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন বা একটা উপযুক্ত খোঁয়াড়-এর ব্যবস্থা করতে পারেন তবেই আপনার মুক্তি। আপনি আগামী শুক্রবার ২৬শে নভেম্বর দিনব্যাপী সেখানে এ্যাসাইনমেন্ট করার সুযেগ পাবেন। তবে কথা হচ্ছে আপনার সাথে যে সকল রাখাল যাবে তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে ভবিষ্যতের এক একটি “আ্যসেট” বা “ট্যালেন্টেড পারসন"।

তারা নিজেদের সাথে কিছু যুদ্ধাস্ত্র ও মোহন বাঁশী নিয়ে যাবে আর সেই অস্ত্র বা বাঁশীর ব্যবহারে যদি কোন “বলদ” বা “বান্দরনী” ঘায়েল হয় তবে তার দায়দায়িত্ব পুরোটাই আপনাকে বহন করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে যদি কোন বলদ বা বান্দরনী “উন্নত জীবন ব্যবস্থা” মানে “সংসারী” হতে চায় তবে তাদেরকে রাষ্ট্রীয় খরচে লোকালয়ে থাকার কথা বিবেচনা করা হবে। আর আপনি যদি এই কাজে সফল হয়ে ফিরে আসতে পারেন তবে আপনাকে সসম্মানে ছেড়ে দেয়া হবে। জীবন বাঁচানো ফরজ কাজ। তাই রাষ্ট্রপ্রধানের এমন প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হলাম। আপনারা এবার রাখালদের কর্মকান্ড দেখে বিবেচনা করুন- আমি ক্ষমার যোগ্য কিনা!

১। "বলদ" ও "বান্দরনী" আটকানোর প্রারম্ভিক আলোচনা।


২। যে যার "যুদ্ধাস্ত্র" ও "মোহন বাঁশী" পরীক্ষা করে নিচ্ছে।


৩। এবার যে যার মতো এ্যাসাইনমেন্টে নেমে পড়ার পালা।


৪। সাবজেক্ট পেতেই চললো শ্যুট করার প্রক্রিয়া- কে ঘায়েল হলো কে জানে?


৫। একি! রয়ে সয়ে!! নিজেরাই নিজেদের তাক করা মানেই বিপর্যয়ের সম্ভাবনা। সাবধান!


৬। পাইছিরে পাইছি! এইবার তোমারে পাইছি!! তরতাজা ফিঙ্গার প্রিন্ট! থুক্কু খুঁড়ের ছাপ। কারে ঠেক দিছিল আল্লাহ্ মালুম।


৭। আমিও একটা পাইছি। গাছের পাতায় রঙের ছোপ। সেই যুগে বান্দরনী কোন লিপস্টিক লাগাইতো বাইর করতে হইবো। নতুন এ্যাসাইনমেন্ট!


৮। ও মা!! দেখছো কি কান্ড!! একটা বলদ ভুলে তার মুখের টোনা ফেলে গেছে। যাক ওদের খাবার রুচি সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাবে।


৯। দূরে গাছের আড়ালে কি যেন নড়তেছে। চলেন ঐদিকে যাই- দেখে আসি।


১০। হা হা হা .... আমি কইছিলামনা, বাইসনরা ঘাস খাইতোনা, গাছের পাতা খাইতো। ওরা ফুল ভালবাসতো। হের লাইগাই গাছে একটাও ফুল নাই- সব বান্দরনীগো হাতে ধরায়া দিছে। এইডা আসলেই বলদগো গার্ডেন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29278909 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29278909 2010-11-27 15:09:35
ভবের নদী ভবের নদী

রাত ফুরালেই দিনের দেখা
পাবিরে তুই মন,
জীবন ঘুড়ি বাতাস পেলেই
উড়বেরে তখন।

ভবের নদীর দুই পাড়েতে
জীবন খেয়া বেয়ে,
আর কতকাল কাটাবি তুই
মরণ ফাঁকি দিয়ে।

জোয়ার ভাটার এইযে খেলা
খেলছে তোরে লয়ে,
ভাটির টানে খড়কুটো তুই
একাই যাবি বয়ে।

দিন থাকতে দে পাড়ি তুই
অচিন গাঙের ঢেউ,
নামলে আঁধার কূল হারাবি
থাকবেনাতো কেউ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29277550 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29277550 2010-11-25 09:49:08
বরফ গলবার দিন বরফ গলবার দিন

মনে পড়ে অধরা!
সেই যে মেঘরোদ বিকেলে কিংবা আবছায়া সন্ধ্যায়-
তোর সাথে,না না- ঠিক তোর সাথে নয়, আরো অনেকেই-
বাদামের খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে অন্ধকার তুলে নিতাম উল্লাসে,
সবুঝ ঘাসের বুকে ছড়িয়ে দিতাম তারুণ্যের নিঃশ্বাস।
তোরতো তখন বরফ গলবার দিন।
চোখ মেললেই-পর্বতের রোঁয়া,
উপত্যকা চুঁইয়ে শীতল জলের ধারা,
বেলে পাথর, গ্রানাইট আর ফার্ণের পাতায় কাঁপন তুলে ঝিরঝিরে বাতাস।
তুই কি এখনো বৃষ্টির জল গায়ে পড়লেই কেঁপে উঠিস?
আমরা তখন সহস্র-লক্ষের একজন মাত্র।
ক্যামেলিয়া, প্রিসিলা আর মিতা তখন ছোট পর্দার নায়িকা;
আরো ছিল রিনি ও শম্পা। সুবর্ণা, শমী এসে কেমন জায়গা করে নিল।
তোরতো তখন বরফ গলবার দিন, আর আমরা(?)
আমাদের সংখ্যা দিন দিন কেবলই বাড়ছে।
আমরা হুট্হাট্ সাড়ে সাত থেকে নয়,দশ,এগারো কোটিতে।
আমরা কারফিউ ভেঙ্গে ছুটি চায়ের আড্ডায়;
দেওয়ালে পোষ্টার,চিকা আর বাতাসে শ্লোগান ছড়াই।
আমরা বেকারত্ব বাড়াই,কেউ হয় ছিনতাইকারী,
কচিৎ লুটেরা ডাকাত কিংবা হুলিগান।
গানম্যান? না না তখনও হয়ে উঠিনি।
আমাদের স্বপ্নেরা ডানা মেলে শঙ্খনীল কারাগারে।
সুপ্রভাত রক্তপ্লাবণ, রক্তকরবীর দেশে।
আমি এবং আমরা মার্সেলো’র সাথে সূর্যমুখীর দানা খুঁজি-
স্বপ্নের বাইসাইকেলে রোজ যাই তোর উঠোনে।
তুই হয়তো ভুলে গেছিস-
তোরতো তখন বরফ গলবার দিন।

(সংশোধিত)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29275794 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29275794 2010-11-22 11:33:14
মৃত্যু নামের শত্রু মৃত্যু নামের শত্রু

জন্মের পর থেকেই- মৃত্যু নামের এক শত্রু আমার পিছু হাঁটছে। অনেকবার সেই শত্রুকে ফাঁকি দিয়ে অলিগলি ঘুরে বাঁকা পথে বাড়ী ফিরেছি, ঠিকানা বদলেছি, তবুও হতচ্ছারা কিভাবে যেন বাড়ীতে পৌঁছে যেতো। একবার আমাকে পুকুরে ডুবিয়ে মারতে চেয়েছিল, একবার আমার আটোরিক্সা উল্টে ফেলেছিল। একবার সাপ হয়েও আমাকে তাড়া করেছিল। আমি যখন অবুঝ শিশু, শত্রুকে ভাল করে চেনা হয়নি; একদিন দাদুকে ভুলিয়ে ওপাড়ে নিয়ে চলে গেল। দাদু চলে যেতে বাড়ীর সবাই কাঁদলো। আমি শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলাম, একটুও কাঁদিনি। দাদু আমায় খুব আদর করতো।

শত্রুটা কিন্তু এর পরেও আমার পিছু ছাড়েনি, একদিন ওপাড় থেকে ঠিক ফিরে এলো। তারপর একে একে দাদী, নানা-নানী এবং আরো অনেককেই সে ওপাড়ে নিয়ে গেলো। আমি তখন একটু একটু করে শত্রুকে চিনতে পারলাম। শৈশব থেকে কৈশোরে পা দিলাম- আমার সাহস একটু বাড়লো। মৃত্যু হতচ্ছারাটা দেখি তবুও আমার পিছু হাঁটছেই। কিছুদিনের ব্যবধানে জেঠা-জেঠীকেও সে ওপাড়ে নিয়ে গেল। অতঃপর যৌবনে পা দিয়ে বুঝলাম, মৃত্যু নামের অশরীরি শত্রুটা আমার দাদুর ভিটের অলিখিত অংশীদার।

আমার বাবাকেও সে ভিটে থেকে উচ্ছেদ করতে চায় অথচ আমার সামনে এসে দাঁড়াতে ভয় পায়। বাবা আমার বৃদ্ধ হলেও অতটা দুর্বল ছিলেননা। একদিন ভোররাতে সামান্য বুকে ব্যথা উঠতেই মৃত্যু নামের শত্রুটি বাবাকে জাপটে ধরলো। বাবা ওর সাথে পেরে উঠলোনা। আমি তখন দেশের বাইরে, তাই হয়তো সে এতোটা সাহসী হয়ে উঠেছিল। আমি দেশে ফেরার আগেই বাবাকে নিয়ে সে ওপাড়ে চলে গেল। এরপর থেকে আমি বড্ড বেশী সজাগ, অনেক বেশী সচেতন। কারণ তার নজর এখন আমার মায়ের দিকে।

বৃদ্ধা মা আমার মাঝে মাঝেই বাবার কথা বলে- তাই কখনো তাকে একা রেখে বাইরে কোথাও যাইনা। মৃত্যু নামের শত্রুটা আজো আমার পিছু হাঁটছে-এতোগুলো জীবন ওপাড়ে পাঠিয়েও সে ক্ষান্ত হয়নি। ঘাপটি মেরে বসে আছে ধারে কাছেই, সুযোগ পেলেই সে আমার মাকে নিয়ে ওপাড়ে চলে যাবে। আমিও বুকে সাহস নিয়ে পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছি, মৃত্যু নামের শত্রুটার সাথে একবার পাঞ্জা লড়তে চাই। তার মতো আড়াল থেকে কিংবা পিছন থেকে নয়, সামনে থেকেই তাকে পরাস্ত করতে চাই। দাদুর ভিটের অলিখিত অংশীদারিত্ব থেকে তাকে আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও খারিজ করতে চাই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29271092 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29271092 2010-11-13 01:50:13
মানববন্ধন মানববন্ধন

তুমি চাইলে আমি পিছু হটতে পারি- তবে দেয়ালে পিঠ ঠেকলে আবার আমাকে সামনে এগোতে হবে। তুমি কি তখন পিছু হটবে? কতটা পিছু হটলে তুমি নিজেকে মুক্ত করতে পারবে একবার ভেবেছো কি? তোমার পেছনেও আছে বাঁধার প্রাচীর, আমি ইচ্ছে করলে অনায়াসে তা টপকাতে পারি। অথচ আমার পেছনে যে নিষেধের দেয়াল তা তুমি অনেক চেষ্টা করেও ডিঙ্গাতে পারবেনা। এখানেই তোমার সীমাবব্ধতা। তুমি আমি দৃষ্টির নাগালে থেকেও, মিথ্যে অহঙ্কার আর জৈবিক বৈষম্যকে সামনে রেখে দুজনের মধ্যে একটা অদৃশ্য সীমারেখা টেনে চলেছি। এসো, দুজনে সাহস করে একবার সামনে দিকে এগোতে থাকি- ভুলে যাই আমাদের পেছনে কি আছে। তুমি আমি একবার শক্ত হয়ে দাঁড়ালে, আমাদের পেছনের দেয়ালগুলো প্রবল আক্রোশ আর ক্ষোভে এমনিতেই ধ্বসে যাবে। মানবিকতাকে অবরুদ্ধ করে কোন সভ্যতাই দীর্ঘকাল টিকে থাকেনি। তোমার আমার মানববন্ধন কাঁটাতারের ব্যারিকেডের চাইতেও অনেক বেশী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। একদিন এমনই এক মানববন্ধন বার্লিনের প্রাচীরকে মাটিতে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। একদিন এভারেস্টের বিশাল উচ্চতাও মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সাহসের কাছে হার মেনেছিল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29270132 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29270132 2010-11-11 02:53:53
জল শুভেচ্ছা জল শুভেচ্ছা

পোড়াতে চাইনি আমি, তবু বলো- "পুড়ছি"।
এ পোড়া হৃদয়ে এতো তাপ কবে ধরেছি- জানতেও পারিনি।
সোনা পুড়লে খাঁটি হয় তাই একটু সোহাগা হতে চেয়েছি।
তুমি শুধু পুড়তেই থাকলে- আমি সোনায় সোহাগা হতে পরিনি।
ধোঁয়াবিহীন চিমনিতে দীর্ঘশ্বাস উড়িয়ে বলো-
"বুকে আমার গনগনে চুল্লী"।
আমি চন্দনকাঠ হয়ে তোমার মাঝে সৌরভ ছড়াতে চেয়েছি-
বুঝতে পারিনি কাঠ পুড়লে শুধু কয়লাই হয়-
তবে আমিও কি পুড়েছি!
জলে মাটি ভিজে উর্বর হয়, বৃষ্টি তা জানে।
পলির সঞ্চয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফোটে, নদী তাই পাড় ভাঙ্গে।
রুক্ষ পাহাড়ের বুকে ভালবাসা লুকিয়ে থাকে-
ঝর্ণা নেচে নেচে সেকথাই বলে।
আমার নিজের তেমন কোন জলের উৎস নেই-
কি করে ভেজাবো তোমায়?
যদি চাও, দু’চোখে বর্ষা নামাতে পারি- তাতে তুমি ভিজবে কি?
জলে আগুন নেভে জানি, কতটুকু শীতল হলে তুমি বলবে-
"আরতো পুড়ছিনা"”। হে বৃশ্চিক মেয়ে,
এই নভেম্বরে বৃষ্টি যদি না'ও হয়
তোমাকে এক ফোঁটা “জল শুভেচ্ছা” দেবো জন্মদিনে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29269155 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29269155 2010-11-09 10:29:26
পথ অজানা পথ অজানা

দাঁড়িয়ে ছিলে ব্যলকনিতে
হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে
দেখি তুমি তাকিয়ে আছো সুদূর আকাশপারে;
আমায় দেখে মুখ ফেরালে
ইচ্ছে করেই আড়াল হলে
জানলেনা এই দু’চোখ শুধু তোমায় খুঁজে ফেরে।
প্রতিদিনের একটু দেখা
মন পাথরে গভীর রেখা
কাটলে তুমি সংগোপনে মুছবেনা দাগ আর কিছুতেই;
একটু তুমি অভয় দিলে
দেবো মনের দরজা খুলে
ভয় কি বলো প্রেমের পথে কাঁটা আছে সবখানেতেই।
তোমার আমার এই ব্যবধান
হোকনা যতই পাহাড় সমান
মন আকাশে পাখী হয়ে উড়তেতো আর নেই মানা;
স্বপ্ন সুখে বাঁধবো যে ঘর
আসে যদি দমকা সে ঝড়
দুজন মিলে খুঁজবো নাহয় অন্য কোন পথ অজানা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29269026 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29269026 2010-11-09 01:11:24
দোহাই লাগে, আমাকে ইভ টীজার ভেবোনা দোহাই লাগে, আমাকে "ইভ টীজার" ভেবোনা

তুমি “ইভ” কিনা জানিনা-তবে তোমাকে কিছু বলতে চাই।
কিভাবে বলবো সেটাই ভাবছি। মুখে বলা যদি অপরাধ হয়
তবে আজ নাহয় লিখেই জানাই। এ কথাতো সত্যি-
তোমাতে আমাতে কোন বিরোধ নেই, নেই কোন পূর্ব শত্রুতা।
তুমি আমার পাড়ার মেয়ে, স্কুলে পড়া থেকেই তোমাকে দেখছি।
প্রকারান্তরে তোমার সাথে ভাব জমাতে নিজের ছোট বোনকে বলেছি
তোমার বন্ধু হতে। বিশ্বাস করো, আমি বখাটে কিংবা মাস্তান নই-
বলতে পারো কলেজ পড়ুয়া এক স্মার্ট যুবক। তবে অতটা স্মার্ট নই যে-
তোমার সামনে যেয়ে অবলীলায় বলে বসবো-
“তোমাকে ভাললাগে” কিংবা “তোমাকে ভালবাসি”।
মেয়ে তোমার ভালমন্দ পছন্দ থাকতেই পারে,
এই সমাজে তুমি “ইভ” হবে কেন? জানো-
একদিন আমার দাদা এক মেয়েকে
বাঁশের সাঁকো পাড় হতে দেখে বলেছিল-
“এই খুকী, তুমি কোন বাড়ীর মেয়েগো?”
মেয়েটা লজ্জায় লাল হয়ে বলেছিল-“ভূঁইয়া বাড়ীর”।
দাদা আমার বাবাকেও পাঠিয়েছিল সেই সাঁকোর ধারে।
বলেছিল- ভূঁইয়া বাড়ীর এক মেয়ে রোজ সাঁকো পাড় হয়ে স্কুলে যায়
দেখিসতো মেয়েটা কেমন। বাবা আমার একদিন নয়,
পর পর সাতদিন রোদে পুড়ে দাঁড়িয়েছিল সেই সাঁকোর ধারে,
দেখেছিল সেই মেয়েকে আসতে যেতে। জানো-
আজ সেই মেয়েই আমার মা।
সেই যুগে মেয়েদের কেউ “ইভ” বলতো কিনা জানিনা।
আমার বাবাকে কিন্তু কেউ “ইভ টীজার” বলেনি।
আজ যুগ পাল্টেছে বটে, ভাললাগার চোখতো আর পাল্টায়নি।
প্রেমে পড়লে নাকি ছেলেরা কবিতা লেখে;
সত্যি বলছি, আমি মোটেও কবিতা লিখতে জানিনা,
তবে কবিতার মতো করে আজ যা কিছুই লিখলাম শুধু তোমারই জন্যে।
ভালবাসার শুদ্ধতম প্রকাশ আর কি হতে পারে জানা নেই।
বিশ্বাস করো, আমি তোমাকে কখনোই “ইভ” ভাবিনা,
তোমাকে “টীজ” করবো এমন দুঃসাহসও আমার নেই।
আমার ভাললাগার প্রকাশটুকুই শুধু জানালাম-
দোহাই লাগে, আমাকে “ইভ টীজার” ভেবোনা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29268114 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29268114 2010-11-07 13:12:11
তুমি আজ অন্য শহরে তুমি আজ অন্য শহরে

তুমি আজ অন্য শহরে-
তাইতো আমার শহরে এখন আর স্নিগ্ধ চাঁদ ওঠেনা।
তোমার অবিন্যস্ত খোলা চুল ছুঁয়ে যেতো যে লোভাতুর জোছনা,
সেই জোছনার আড়ালেই আমি আজ ডুবে থাকি অন্ধকারে।

তুমি আজ অন্য শহরে-
তাইতো আমার শহরে এখন আর কদম ফোটেনা।
বৃষ্টিবেলায় যে তুমি কদমফুল হাতে দাঁড়াতে আমার উঠোনে,
সেই উঠোন আজ একটু বৃষ্টিতেই অথৈ জলে ভাসে।

তুমি আজ অন্য শহরে-
তাইতো আমার শহরে রোদে আর কোমলতা নেই।
খোলা আকাশের নীচে ধূপখোলা মাঠের সেই নির্জন দুপুর,
রোদ্দুরময় এক স্মৃতি হয়ে এখন শুধু আমাকেই পোড়ায়।

তুমি আজও অন্য এক শহরে-
মাঝখানে কেটে গেছে অনেক কটা বছর।
আজ হঠাৎ সেই শহরের সীমানা অতিক্রম করে কাছে এলে।
ফেসবুক আর ইয়াহু মেসেঞ্জারে খুঁজে পেলাম সেই তোমাকে।
জোছনা, বৃষ্টি আর রোদ্দুর পারেনি আমাদের সবকিছু বদলাতে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29267131 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29267131 2010-11-05 12:43:24
রম্য ছড়াঃ ইভ টীজার রম্য ছড়াঃ ইভ টীজার

আপনার জুতা
আমার গাল,
যতই মারেন
মিটবেনা ঝাল।
আপনার ঘুষি
আমার মুখ,
যতই মারেন
মিটবেনা সুখ।

আপনার গালি
হজম করেই,
টানবো মেয়ের
ওড়না ধরেই।
থানায় নালিশ
পাড়ায় সালিশ,
এমন রোগের
নেইতো মালিশ।

ওড়না গলায়
ফ্যানেই ঝুলুক,
পুকুরে ঝাঁপ
দিয়েই মরুক,
থোরাই আমি
কেয়ার করি,
সুযোগ পেলেই
জাপটে ধরি।

আমার খুঁটি
শক্ত ভীষণ,
যতই লাগেন
আমার পিছন,
পারবে কি আর
থামাতে আমায়,
ঠাঁই যে আমার
নেতার পা’য়।

দেশজুড়ে আজ
আমার ভয়ে,
আতংকে সব
রয় গুটিয়ে,
জানে সবাই
নামটি আমার,
আমিই সেই
ইভ টীজার।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29265507 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29265507 2010-11-02 11:13:26
ভাবনাগুচ্ছ - ১৩ ভাবনাগুচ্ছ - ১৩


ভালবাসার মোড়কে দুঃখ লুকানো থাকে গোপনে,
এক বুক ভালবাসার সবটুকু উজাড় করে যখন তোমাকে দিলাম-
দেখি শূন্য এই হৃদয়ে শুধু দুঃখেরই ছাই।


ভালবাসার আড়ালে কষ্টেরই বসবাস চিরকাল,
হৃদয়ের খাঁচা খুলে উড়ে যায় যদি যত্নে পোষা পাখী সুদূরে-
হয় যদিগো সোনার খাঁচা তবু সে আসেনা ফিরে।


ভালবাসার বাগানে অবিশ্বাসী আগাছা জন্মে নিভৃতে,
নিবিড়তম পরিচর্যায় দিন দিন বেড়ে ওঠে যে সম্পর্কের বীজ-
তাকে বিনষ্ট করতেই শেকড় ছড়ায় মাটিতে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29263223 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29263223 2010-10-28 19:36:37
মুঠোফোনের অভাবে মুঠোফোনের অভাবে

ছেলেটি পাগলাটে,
উদভ্রান্তের মতো রোজ একই পথে হাঁটে।
মেয়েটি শান্ত বটে,
একটু হাসির ছোঁয়া লেগেই থাকে ঠোঁটে।
রোজ বিকেলে জানালার পর্দা ঠেলে,
মেয়েটি যখন বাইরে দৃষ্টি মেলে-
ছেলেটির চোখের তারায়,
নিমিষে হাজার খুশীর রঙ ছড়ায়।
একসময় পর্দা নেমে যায়,
ছেলেটি যেতে যেতে তবু ফিরে চায়।
এভাবেই ছেলেটি মেয়েটি,
কেউ বলতে পারেনা মনের সেই কথাটি।
রাত জেগে ছেলেটি,
মেয়েটিকে দেবে বলে যত্নে লিখেছিল পত্রটি।
পরদিন বিকেল গড়ায়,
মেয়েটি কিছুতেই জানালার পর্দা না সরায়।
ছেলেটি উদভ্রান্ত,
জানালাটা আজ বন্ধ- বাড়ীটাও কেমন শান্ত।
আজ প্রথম ছেলেটি,
দরজার কড়া নাড়বে বলে বাড়ালো হাতটি।
অজানা শংকায় মন দুলছে,
চেয়ে দেখে বাড়ীর দরজায় তালা ঝুলছে।
ছেলেটি কিংবা মেয়েটি,
এ যুগে জন্মালে শেষ হতে পারতো গল্পটি।
আজ এক প্রৌঢ় বসে ভাবে,
মেয়েটিকে হারিয়েছিল মুঠোফোনের অভাবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29262238 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29262238 2010-10-27 10:55:29
চকলেট চকলেট

ছেলেটি বেশ স্মার্ট পরিপাটি ড্রেস,
সপ্রতিভ ভাব তার হাতে সিগারেট।
হঠাৎ বলে বন্ধুকে আয় লাগি বেট্।
সুন্দরী ঐ মেয়েকে দেবো চকলেট।

ফুটপাতে দাঁড়িয়ে একা সেই মেয়েটি,
তার দিকেই হেঁটে যায় দুষ্টু ছেলেটি।
হাতে তার গুঁজে দিল ‘টবলার ওয়ান’,
বন্ধু ভাবে মেয়েটি করবেই অপমান।

হাসিমুখে হাতে নিয়ে মেয়ে সেই চকলেট,
ডেকে বলে ভাইয়া, আপনিতো ভারি লেট।
ফুলের ঐ দোকানে ফুল যিনি কিনছেন,
চকলেট পেলে তিনি ভীষণ খুশী হবেন।


(ছুটির দিনে হাল্কা কিছু লিখে মজা করলাম)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29256858 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29256858 2010-10-17 21:25:44
সৃষ্টি সৃষ্টি

বিসর্জন দেবে জেনেও এতো যত্নে কেন গড়ো আমায়?
ঈশ্বরও একদিন তোমাকে অমন যত্ন করেই গড়েছিল,
তুমি হয়তো ভুলে গেছো। তোমার হাতের নিপূণ ছোঁয়ায়
সামান্য কাদা-মাটি থেকে আমি যখন প্রতীমা হয়ে উঠি
ভাবি-আহা, ঈশ্বরের কী মহান সৃষ্টি তুমি! আমি তোমার
মাঝেই ঈশ্বরের ছায়া খুঁজে পাই। ভক্তি আর শ্রদ্ধায় আমি
নত হয়ে যাই। কি সৌভাগ্য আমার, তুমি আমাকে মন্ডপে
সাজিয়ে পূজো দাও, ফুল দাও। অথচ কি অথর্ব আমি!
কি নির্বাক আমি! দশভূজা হয়েও আশীর্বাদের তিলক
ছোঁয়াতে পারিনা তোমার ললাটে, দেবীর আসন ছেড়ে
বসতে পারিনা এই মাটির ধরণীতে। হে মানব পুরোহিত,
মনে মনে আমিও তফাৎ খুঁজি। একই মাটিতে গড়া তুমি
আমি দুজনেই- অথচ হাঁড়, মাংশ আর রক্তের বৈভবে তুমি
কত বিত্তশালী। তোমার হৃদয়ে আছে প্রাণের স্পন্দন,
মস্তিষ্কে ক্ষুরধার বুদ্ধি, জ্ঞানের আলোয় তুমি কতো দীপ্তময়।
অথচ আমি! একই মাটিতে গড়া- শুধুই এক প্রতীমা।
ভেবে অবাক হই, কী ভীষণ ক্ষমতা ধরেন তোমার ঐ ঈশ্বর!
সৃষ্টির অপার মহীমায় তিনি অতুলনীয়, পরম পূজোনীয়।
হে আমার কারিগর, আমাকে রঙে-রূপে সাজিয়ে সৃষ্টির
আনন্দে বিভোর হলেও আমি যে মুগ্ধ তোমারই ঈশ্বরে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29253794 http://www.somewhereinblog.net/blog/KaLPurushblog/29253794 2010-10-12 21:41:41