ঈর্ষা ভয়াবহ মানসিক ব্যাধি। এই রোগের বিষক্রিয়া এতই তীব্র, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের মধ্যে বিশাল ফাটল তৈরি করে দিতে পারে। ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে অটুট সম্পর্ক। ঈর্ষা নামক এই বিষাক্ত সাপ এতই নীরব ঘাতক, আপনার মনে এর উপস্থিতি হয়তো টেরই পাবেন না অথচ বিষে নীলে নীলাভ হয়ে যাবেন; জ্বলে-পুড়ে অস্থির হয়ে যাবেন। আপনার কিংবা আপনার প্রিয় কোনো মানুষের মনে এই সাপের উপস্থিতি টের পেলে কীভাবে সামলাবেন তা অনেকেই জানেননা। আর হয়তো জানা থাকলেও মানা হয়না। তাই এ পোস্টটি বিষয়গুলো আরেকবার মনে করিয়ে দেওয়ার প্রয়াস। কেউ উপকৃত হলে প্রয়াসটি সার্থক হবে।
ঈর্ষাপরায়ণ বন্ধুদের সামলানোর উপায়
ঈর্ষাপরায়ণ বন্ধুদের সামলানো খুব সহজ নয়। এ ধরনের ঘটনা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। এমন পরিস্থিতি সামলানোর জন্য সবচেয়ে ভালো পথ হলো বন্ধুর প্রতি এবং নিজের প্রতি সৎ থাকা। আর সম্ভব হলে বন্ধুত্ব অটুট রাখার চেষ্টা করতে হবে। ব্যাপারটা হয়তো সহজ নয়। তাই যথেষ্ট সময় আর ধৈর্যের প্রয়োজন পড়বে।
১. আপনার বন্ধুটি কেন ঈর্ষান্বিত_ প্রথমেই তা খুঁজে বের করুন। আপনার কোনো কথায় বা ব্যবহারে সে এমনটি করছে কি-না জানার চেষ্টা করুন। এমন কোনো বিষয় থাকতে পারে যার ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ নেই কিংবা থাকলেও খুব সামান্য। যেমন শারীরিক সৌন্দর্য বা পারিবারিক মর্যাদা। এসব কারণে বন্ধুটি ঈর্ষান্বিত হতে পারে। আপনার একাডেমিক ফলাফল বা বিশেষ কোনো চারিত্রিক দক্ষতার সমকক্ষ হওয়ার কারণে ঈর্ষার সৃষ্টি হচ্ছে কি-না তাও যাচাই করে দেখুন।
২. ঈর্ষার কারণটি যখন জানা হয়ে যাবে, তখন আপনার বন্ধুর অনুভূতির সঙ্গে একাত্ম হোন। কল্পনা করে দেখুন_ তার জায়গায় আপনি থাকলে আপনার কেমন লাগত।
আপনার বন্ধুটি প্রকৃতপক্ষে কী চাচ্ছে_ সেটাও জানার চেষ্টা করুন। জানা গেলে তাকে সাহায্য করুন। তার প্রতি আপনার অগাধ বিশ্বাসের কথা জানান এবং তাকে সাহায্য করতে আপনি কী করতে পারেন_ সেটা জানতে চান ।
৩. এমন পরিস্থিতিতে দাম্ভিকতা দেখানো কিংবা নিজেকে খুব বেশি জাহির করার চেষ্টা করা উচিত না। এতে হয়তো আপনার বন্ধুটি আরও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে। আর তা কেবল তাকে ঈর্ষার আগুনে পোড়াবে।
৪. আপনি আপনার জীবন নিয়ে সুখী_ এ বিষয়টি প্রকাশ করার পাশাপাশি আপনার বন্ধুর জীবনে ঘটে যাওয়া ব্যাপারগুলো নিয়েও যে আপনি আগ্রহী_ সেটা বোঝানোর চেষ্টা করুন। সময় নিয়ে বন্ধুর অন্তরের অনন্য শক্তি ও চারিত্রিক দক্ষতাকে বের করে আনার চেষ্টা করুন।
৫. কখনও কখনও ঈর্ষার সঙ্গে ক্রোধ মিলে থাকে। আপনার বন্ধুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে ও তাকে উৎসাহিত করেও যদি কাজ না হয়, তাহলে শান্ত হওয়ার জন্য খানিকটা সময় দিন। তার একান্ত ব্যক্তিগত কিছু সময় প্রয়োজন হতে পারে; অথবা ঈর্ষার কারণ নয়_ এমন কারও সঙ্গে সে বিষয়টি শেয়ার করতে চাইতে পারে।
৬. নিজের আশ্রয়ের জন্য আপনার প্রিয় কারও সঙ্গে বিষয়গুলো শেয়ার করতে পারেন। সে হয়তো আপনার অনুভূতিগুলো বুঝবে এবং এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণের ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে সাহায্য করবে।
প্রেমের ঈর্ষাকে সামলাবে যেভাবে
টিনএজদের ঈর্ষান্বিত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ প্রেম বা ভালোবাসার সঙ্গে সম্পর্কিত। আপনার ভালোবাসার মানুষটির প্রতি আপনার বন্ধু কিংবা পরিচিত কারও দৃষ্টি বা চালচলন কি আপনাকে চিন্তিত করছে? আপনার ভালোবাসার মানুষটির সাবেক প্রেমিক-প্রেমিকা আপনাদের আশপাশে থাকলে আপনি কি তা মেনে নিতে পারছেন না? তাহলে বুঝতে হবে, আপনার অজান্তে ঈর্ষা নামক বিষবৃক্ষ আপনার ভেতরেও জন্মে গেছে। আর তা আপনাকে কুরে কুরে খাচ্ছে।
আপনি যদি বোকার মতো এখন আপনার প্রেমিক-প্রেমিকাকে দোষারোপ করেন, তার পুরনো প্রেমিক-প্রেমিকার ওপর চড়াও হন কিংবা মারধর করেন_ তাহলে নিশ্চিত থাকবেন ভালোবাসার মানুষটিকে আপনি হারাতে যাচ্ছেন!
প্রেম সম্পর্কিত ঈর্ষা থেকে দূরে থাকার কয়েকটি বুদ্ধি :
ঈর্ষার কারণ শনাক্ত করুন : ঈর্ষা ব্যাপারটি ভর করলেই প্রথমে চেষ্টা করতে হবে এর কারণটি খুঁজে বের করা। এক্ষেত্রে সাধারণত ইনসিকিউরিটি বা প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয়টাই মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। এক্ষেত্রে আপনি দেখেবেন আপনার ভালোবাসার মানুষটি বা তার আশপাশের মানুষগুলো আদতে আপনার ভেতরে ঈর্ষা জাগানোর মতো কোনো কারণ সৃষ্টি করছে না; সমস্যা আপনার নিজের মধ্যেই। তাই সবার আগে নিজেকে শোধরানোর প্রয়োজন।
গড়ে তুলুন আত্মমর্যাদা : আত্মবিশ্বাসী মানুষ কখনই ঈর্ষাকাতর নয়। কারণ তারা জানে, তাদের ঈর্ষাপরায়ণ হওয়ার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। কেউ এসে আপনার পার্টনারের বিরুদ্ধে কথা লাগালেই বিশ্বাস করে বসবেন না। নিজের প্রতি আর পার্টনারের প্রতি বিশ্বাস ঠিক থাকলে এসবে মাথা না ঘামালেও চরবে। প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য এমন কিছু করা উচিত, যা আপনার ভেতর নিজেকে নিয়ে ভালোবোধ তৈরি করতে সহায়তা করবে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকলেও মাথা থেকে দ্রুত সে চিন্তা বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন। এভাবে ধীরে ধীরে নিজের প্রতি বিশ্বাসটা খুঁজে পাওয়া যাবে। তখন কে কী বলল_ তা আর পাত্তা দেবেন না আপনি।
চলবে না তুলনা : নিজের ব্যাপারে বা পার্টনারের ব্যাপারে কখনও কোনো কিছুতে তুলনায় যাওয়া ঠিক নয়। আপনার ভালোবাসার মানুষটির বিপরীত লিঙ্গের ক'জন বন্ধু রয়েছে, তারা আপনার চেয়ে সুন্দর বা স্মার্ট কিনা_ এসব নিয়ে দুশ্চিন্তিত হওয়ার মানে নেই। তারা যেমনই হোক না কেন, এটা ভুলে গেলে চলবে না যে এদের ভিড়ে সে আপনাকেই ভালোবাসে বলে আপনাদের সম্পর্কটা গড়ে উঠেছে।
নিজেকে অন্যের অবস্থানে নিয়ে চিন্তা করুন : যদি আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে তার সাবেক প্রেমিক-প্রেমিকা ফিরে পেতে চায়, তাহলে তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে গোলমাল করা উচিত নয়। তার জায়গায় নিজেকে বসিয়ে চিন্তা করে দেখুন তার মানসিক অবস্থা। নিশ্চয়ই খুব কষ্ট, হতাশা ও অপরাধবোধের অনুভূতি সেখানে। তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঠাণ্ডা মাথায় বিষয়টি সামলানোর চেষ্টা করা উচিত।
যদি কোনো কিছুতে কিছু না হয়, তাহলে মনোচিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



