সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট টুইটারে লেডি গাগার ভক্ত ১ কোটিরও বেশি। আরেক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুকে তার ভক্তের সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। সারা পৃথিবীতে তাকে নিয়ে উন্মাদনার কমতি নেই। প্রতিনিয়ত এই উন্মাদনা হাজারগুণে বেগবান হচ্ছে। যার জ্বরে বিশ্ব এখন কাবু। তাই বিশ্বসঙ্গীতাঙ্গনে তিনিই এখন নতুন পপসম্রাজ্ঞী।
লেডি গাগার জন্ম ১৯৮৬ সালের ২৮ মার্চ ইতালিয়ান বংশোদ্ভূত এক নিম্নবিত্ত মার্কিন পরিবারে। বাবা-মা তাদের বড় মেয়ের নাম রেখেছিলেন স্টেফানি জোয়ান এঞ্জেলিনা জার্মনোটা যিনি আজ লেডি গাগা নামেই বিশ্ব কাঁপাচ্ছেন। দরিদ্র পরিবারের বড় সন্তান স্টেফানির শৈশব কেটেছে আর্থিক দৈন্যে। স্টেফানির বাবা কাজ করতেন ইন্টারনেট উদ্যোক্তা হিসেবে। আর মা কাজ করতেন টেলিযোগাযোগে।
মাত্র চার বছর বয়সেই স্টেফানির গিটারে হাতেখড়ি হয়। বয়স যখন ১১ তখন তাকে ভর্তি করে দেওয়া হলো রোমান ক্যাথলিকের একটি প্রাইভেট স্কুলে। স্টেফানি ১৩ বছর বয়সে প্রথম গান লিখে ফেলেন। মাত্র ১৪ বছরে নিজের লেখা গান পরিবেশন করে সবাইকে চমকে দেন। ১৭ বছর বয়সে তিনি ভর্তি হন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি টিস্ক স্কুল অব আর্টসে এবং থাকতে শুরু করেন ১১ স্ট্রিট নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ডরমেটরিতে। এখানে তিনি সঙ্গীতে পড়াশোনা করেন। সঙ্গে গান লেখার চর্চাও চলতে থাকে। ১৯ বছর বয়সে স্টেফানি যোগ দেন ডেফাজ্যাম রেকর্ডিং স্টুডিওতে। কিন্তু তিন মাসের বেশি সেখানে টিকতে পারেননি। কিছুদিন পর সৌভাগ্য তার দরজায় কড়া নাড়ে। স্টুডিও কর্তৃপক্ষ রেড ওয়ান নামে এক গীতিকার ও প্রযোজকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন স্টেফানিকে। রেড ওয়ান প্রযোজিত স্টেফানির প্রথম গানটি ছিল 'বয়েজ বয়েজ বয়েজ'। এটি গাওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই হিপ হপ গায়ক গ্রান্ডমাস্টার মিলে মেলের সঙ্গে একটি গানে কণ্ঠ মেলান গাগা। এরই মধ্যে নিজের একটি গানের দল গড়ে তোলেন তিনি। দল গঠনের কয়েক মাসের মাথায় নিউজার্সির একটি স্টুডিওতে প্রথম গান রেকর্ড করেন। এ সময় কৌতূহলবশত তিনি মাদকাসক্তও হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় স্টেফানির বাবা খুবই কষ্ট পান এবং অনেকদিন মেয়ের মুখ পর্যন্ত দেখেননি।
স্টেফানির লেডি গাগা হয়ে ওঠার ঘটনা বেশ চমকপ্রদ। ক্যারিয়ারের উষালগ্নে সঙ্গীত প্রযোজক রব ফুসরির গান লেখায় তাকে সহায়তা করতেন। তার একটি অ্যালবামের গান ছিল 'রেডিও গাগা'। সে সময় স্টেফানিকে রব ফুসরির একটি ম্যাসেজ পাঠান, এতে তিনি লিখেছিলেন লেডি গাগা। সে থেকেই স্টেফানি হয়ে গেলেন লেডি গাগা। তবে নিউইয়র্ক পোস্ট এর ব্যাখ্যা দিয়েছে অন্যভাবে। তাদের মতে, ২০০৭ সালে স্টেফানি লেডি স্টারলাইটের সঙ্গে গান পরিবেশনের পর তার সহায়তায় লেডি গাগা নামটি সৃষ্টি করেন।
ততদিনে সনি ও এটিভির সঙ্গে গাগা মিউজিক পাবলিশিং সই করেন। পাশাপাশি রেড ওয়ানের সঙ্গে যৌথ অ্যালবামের কাজও করেছেন। ২০০৮ সালে বাজারে আসে লেডি গাগার প্রথম অ্যালবাম 'দ্য ফেম'। অ্যালবামটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বব্যাপী হইচই পড়ে যায়। একযোগে অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও কানাডার টপ চার্টে উঠে আসে অ্যালবামটি। অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকায় বিক্রির তালিকায় শীর্ষ পাঁচ অ্যালবামের মধ্যে জায়গা করে নেয়। দ্য ফেমের কপি বিশ্বব্যাপী ১২ মিলিয়নেরও বেশি বিক্রি হয়। এ অ্যালবামের শীর্ষ গানটি ছিল 'জাস্ট ড্যান্স'। ২০০৯ সালে বের হয় গাগার দ্বিতীয় অ্যালবাম 'দ্য ফেম মনস্টার।' এ অ্যালবামের দুটি গান_ 'ব্যাড রোমান্স' আর 'টেলিফোন' তাকে এনে দেয় বিশ্বসঙ্গীতের সবচেয়ে বড় পুরস্কার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড। আর চলতি বছর প্রকাশ হলো গাগার তৃতীয় অ্যালবাম 'বর্ন দিস ওয়ে'। এটি বিলবোর্ড টু হান্ড্রেড চার্টের শীর্ষে আছে তিন সপ্তাহ ধরে। এ পর্যন্ত অ্যালবামটির তিনটি গান_ 'বর্ন দিস ওয়ে', 'জুডাস' আর 'দ্য এজ অব গ্লোরি' সারাবিশ্বে আলোড়ন তুলেছে।
এ পর্যন্ত আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ড, ওয়ার্ল্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড, এমটিভি মিউজিক অ্যাওয়ার্ড, গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসহ ২৪৬টি বিভাগে মনোনয়ন পেয়ে জিতে নিয়েছেন ১১৫টি পুরস্কার। এ পর্যন্ত সঙ্গীত সফর করেছেন দুটি। যার একটি দ্য ফেম বল ট্যুর (২০০৯), অন্যটি দি মনস্টার বল ট্যুর (২০০৯-২০১১)।
ভারতের প্রখ্যাত সেতার বাদক পণ্ডিত রবিশংকর প্রশংসায় ভাসিয়েছেন লেডি গাগাকে। লেডি গাগার গান শুনে ও মিউজিক ভিডিও দেখে তাকে অত্যন্ত মেধাবী শিল্পী হিসেবে অভিহিত করেছেন রবিশংকর।
লেডি গাগা বরাবরই উদ্ভট সব কাণ্ড করে হইচই ফেলে দিতে ওস্তাদ। বিশাল ডিম্বাকৃতির এক বাক্সে চড়ে তিনি এবারের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস বিতরণীতে হাজির হন। গত বছর লেডি গাগা মাংসের তৈরি জামা পরে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। গাগার উল্কি-প্রীতিও তেমনই। ছয়টি উল্কি আছে তার শরীরে। এর একটি জন লেননের, যাকে গাগা নিজের গুরু বলে মানেন।
ভূতকে ভয় পান লেডি গাগা।
(১৬ জুন ২০১১ দৈনিক সমকালে প্রকাশিত)
মিউজিক নিয়ে আরো পোস্ট
লেডি অ্যান্টিবেলাম : তিনিশির তিন গানপাগল
কান্ট্রি মিউজিকের নতুন সম্রাজ্ঞী অ্যাডেল

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

