somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ৫

০৭ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অতঃপর ধণাঢ্য জন এক বলল, তুমি আমাদের দানের বিষয়ে বল
এবং জবাবে সে বলল:
তোমরা আসলে তোমাদের ধনদৌলতের যৎসামান্যই দান কর
তোমরা যখন নিজেদেরকে অকাতরে বিলিয়ে দাও তখনই তোমরা আসলে দান কর।
আগামিকালের দুঃসময়ের আশঙ্কা কিসের তোমাদের? যা জমিয়ে রাখো তা ভিন্ন তোমাদের গচ্ছিত ধন আর কী-ই বা?
এবং আগামিকালের দুঃসময়ের আশঙ্কায় তীর্থনগরচারীদের অনুসরণকারী সুবিচক্ষণ সারমেয় যে মাংসল হাড়গোর লুকিয়ে রাখে পদচিহ্ণহীন বালির গর্ভে, আগামিকাল তার জন্য নিয়ে আসবে আর কী-ই বা?
আদপে অভাবের আশঙ্কা অভাব ছাড়া আর কী-ই বা?
জলভরাট কূপে পিপাসার্তির আতঙ্ক আসলে অপ্রশম্য পিপাসার আর্তি ছাড়া আর কী-ই বা?
যাদের অনেক আছে অথচ দেয় খুব যৎসামান্য তারা দেয় শুধু তাদের সুনাম স্বীকৃতির সংগুপ্ত কামনায়
সেই সংগুপ্ত কামনা তাদের জৌলুস বদান্যতাকে কলুষিত করে যারপরনাই।
এবং অনেকে আছে যাদের সামান্য আছে অথচ সর্ব্বস্ব বিলিয়ে দেয় তারা, তারা বিলিয়ে দেয় অনেক বেশী
তারা জীবনবিশ্বাসী, তাদের বিশ্বাস জীবন ঔদার্য্যে জীবনপ্রত্যাশী
তারা কখনই হয় না কপর্দকশূন্য
তারা পরমানন্দে বিলিয়ে দেয়, বিলিয়ে দেওয়ার আনন্দই তাদের পরম পুণ্য।
আর যারা প্রভূত কষ্টেও সবকিছু বিলিয়ে দেয়, সেই কষ্টকর্ম্মেই তাদের বারিসিঞ্চন দীক্ষালাভ, তাদের কষ্টকর্ম্মের কথা তারা মনেও আনে না
এবং পরমানন্দের প্রার্থী নয় তারা, পুণ্যলাভের কামনাও তারা মনে আনে না
তারা বিলিয়ে দেয় যেমন করে দূর উপত্যকায় মার্টল পুষ্প সৌরভ ছড়ায় বিজন বাতাসে।
তাদেরই করপুটে ঈশ্বর নিজেকে ব্যক্ত করেন, তাদেরই দৃষ্টিচোখে ধরিত্রীর প্রসন্নতায় খলখলিয়ে হেসে ওঠেন তিনি একান্ত অবকাশে।
যাচিত হ’লে বিলিয়ে দেওয়া ভালো, অযাচিত হ’য়ে উপযাচকের দানকর্ম্ম আরও বেশী শ্রেয়
এবং দানদিল মুক্তহস্তের দানগ্রহীর সুলুকসন্ধান দানকর্ম্মের চেয়েও অনেক বেশী আনন্দপুণ্য আরও বেশী প্রেয়।
এমন কী আছে কিছু যা দিয়ে তোমরা থাকতে পারো না অকেশে?
তোমাদের যা কিছু আছে সবকিছুই একদিন তোমাদেরকে দিয়ে যেতে হবে, সেইদিন অবশেষে।
তথাস্তু! এখনই সবকিছু বিলিয়ে দাও। দানগ্রহীর দিনকাল নাই, দানদাক্ষ্যিণের দিনকাল ঋতু সব তোমাদেরই যারা দান কর নির্বিশেষে।

প্রায়শঃই তোমরা বল, ’আমরা দেব, শুধু সৎ পাত্রেই দেব, অপাত্রে না।’
তোমাদের বাগিচার বক্ষৃরা কখনই এমন বলে না, তোমাদের চারণভূমির পশুরাও না
তারা বিলিয়ে দিয়েই বাঁচে, অন্যথায় তা তো অনস্তিত্বে বাঁচা, এমন বাঁচা তো বাঁচা না।
দিবসযামিনীর বরপুত্র যে নির্বিবাদে গ্রহণ করত পারে তোমাদের সবকিছু, সে তো অপাত্র না।
এবং যে জীবনের উথাল পারাবার থেকে তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারে
সে তোমাদের ঝর্ণা থেকে তার পানপেয়ালা ভরে নিতেই পারে।
দানদাক্ষিণ্য গ্রহণে যে বীরত্ব ও সদিচ্ছা তার চেয়ে বৃহত্তর ও মহোত্তর মরুভূমি কি আর দান-বদান্যতায় আছে?
তোমরা কে এমন আছো যে মানুষ বক্ষ বিদীর্ণ করে তার দর্প-অহঙ্কারের আবরণ উন্মোচন করে দেবে আর তোমরা দেখতে পাবে তার অনাবৃত সত্তার স্বরূপে নির্লজ্জ্ব দর্প অহঙ্কার বেআব্র হ'য়ে পড়ে আছে?
তার আগেই নিজেদের যাচাই করে নাও তোমরা বদান্যতার যোগ্য কি না, আসলে তোমরা দান-অনুগ্রহের অনুষঙ্গ ভিন্ন আর কিছু না।
বস্তুতঃ জীবনই জীবনের দয়িতা, বদান্য বলে ভাবলেও আসলে তোমরা বদান্যতার স্বাক্ষর মাত্র, আর কিছু না।

আর তোমরা গ্রহীতা সকল, আসলে সবাই তোমরা গ্রহীতা, তোমরা কৃতজ্ঞতার ভারে শুধু শুধুই ন্যুব্জপৃষ্ঠ হও,
তোমরা নিজেরা ও যে দান-অনুগ্রহী সকলেই তোমরা কেন সেই যূপকাষ্ঠে শুধু শুধুই ন্যুব্জপৃষ্ঠ হও।
তার চেয়ে বরং দাতার দান-দাক্ষিণ্যের ডানায় ভর করে সবাই একসঙ্গে উঠে দাঁড়াও,
কেননা তোমাদের দানগ্রহণের মনস্তাপে তাদের মহানুভবতা শুধুশুধুই সংশায়িত হ’য়ে ওঠে, তাদের মাতা হলেন বিপুলাবক্ষ ধরিত্রীমাতা আর পিতা হলেন পরমপিতা ঈশ্বর পরমেশ্বর, তোমরা বিদিত হও।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×