somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ২৪ কদাচ নগরভ্রমী এক সন্ন্যাসী বলল, আনন্দসুখ বিষয়ে তুমি আমাদের কিছু বল
জবাবে সে বলল ;

আনন্দ হ’ল মুক্তির সঙ্গীত, স্বাধীনতা বা মুক্তি নয়
আনন্দ হ’ল তোমাদের ইচ্ছাফুল, ফলবতী ইচ্ছা নয়
আনন্দ হ’ল গভীরতার সর্ব্বোচ্চতায় আহ্বায়ন, গভীরও নয় বা সু-উচ্চও নয়
আনন্দ হ’ল যেন পিঞ্জরবনদ্ধ আকাশপাখী গগননিস্তারী, মহামণ্ডলে পরিবেষ্টিত হ’য়ে নয়

তোমাদের আনন্দসুখ আসলে তোমাদের মুক্তির সঙ্গীতে

হাদিত বোধ হয় আমার তোমরা যদি হৃদয়ের পূর্ণতায় সেই গান গাইতে পারো, কিন্তু চাই না আমি তোমরা তোমরা তোমাদের হৃদয়মন খুইয়ে ফেলো সেই সঙ্গীতে (অসম্বিতে)

তোমাদের যুবাকিশোররা কেউ কেউ যেন একান্তই আনন্দসন্ধানী, কেনই বা তারা ধিক্কৃত তিরস্কৃত
আমি তাদের অবিচার বা তিরস্কৃত করি না, আমি তাদের আনন্দসন্ধানী হতেই বলি নিয়ত প্রতিনিয়ত
তারা আনন্দের সন্ধান পাবে, তবে তাকে একা পাবে না তারা
তারা সাত সহদরা, কণিষ্ঠজনা আনন্দের চেয়েও শোভনসুন্দরা
তোমরা কি সেই জনের কথা শোননি
যে শিকড়ের খোঁজে মাটী খুঁড়তে খুঁড়তে গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছিল, (তোমরা কি সেই জনের কথা শোননি)?

তোমাদের অগ্রজদের কেউ কেউ আনন্দপ্রমোদকে স্মরণ করেন বীতস্পৃহায়, অনুশোচনা করেন পানোন্মত্ত অবস্থায় দু®কৃত কর্ম্মের মতন
কিন্তু সেই অনুশোচনা মনের মেঘময়তা, তাতে নি®কৃত হয় না তা যথা মতন
তাদের কৃতজ্ঞতায় স্মরণে রাখা উচিত তাদের সেই আনন্দপ্রমোদ, তাতেই তারা গ্রীষ্মের ফসল ঘড়ে তুলবে
তবুও তারা যদি অনুশোচনায় স্বস্তি বোধ করে, তাতেই স্বস্তি বোধ করুক তারা তবে।
এবং তোমরা যারা যুবাকিশোর নও যে আনন্দসন্ধানী হবে, বৃদ্ধও নও যে অনুশোচনায় স্মৃতিদুর্ভার হবে
তারা আনন্দ সন্ধান ও স্মরণের শঙ্কায় আনন্দ পরিহার করে চলে পাছে তাদের জীবাত্মা কশাহত বা রুষ্ঠ হয় (নীরবে)
এই পরিহারেই তাদের আনন্দ
এভাবেই তারাও গুপ্তধনের সন্ধান পায়, শিকড়ের খোঁজে কম্পিত হস্তে মাটী খোঁড়াতেই সেই আনন্দ।
তোমরা বল এমন কে আছে যে তার জীবাত্মাকে আহত করতে চায়?
নাইটেঙ্গল কি নিশীথরাত্রির নৈঃশব্দকে কিংবা জোনাকি কি নত্রকে প্রতিঘাত করতে চায়?
অগুনের শিখা কি ধোঁশাকে নিঃশেষ করতে পারে?
তোমরা কি ভাবো জগতচিদাত্মা অজলচল জলাশয় যে কাষ্ঠদণ্ড তাকে বিপাকে ফেলতে পারে?

তোমরা আত্মসুখকে পরিহার করে অযথা-ই তোমাদের সত্তার অন্তঃপুরে সেই অভিলাষকে সড়িয়ে রাখা
কেবলতে পারে আজ যা বাকী রয়ে গেল আগামিকালের প্রতীায় তার আর কেনই বা পড়ে থাকা?
তোমাদের দেহও জানে তার উত্তরাধিকারীকে, জানে তার ন্যায্য চাহিদা কী - মানে না কোন বঞ্চনা
তোমাদের দেহ তো তোমাদের আত্মার বাদ্যবীণা
তোমাদেরই নিঃসৃত করতে হবে তার সঙ্গীত মধুর অথবা চিতকৃত বেসুরো সুর
তোমাদের অন্তরমনকে তোমরা জিজ্ঞাসা কর, ”আমরা কিভাবেই বা বিচার করব আনন্দে কোনটা মধুর আর কোনটাই বা নয় মধুর?”
তোমরা তোমাদের শস্যেেত্র যাও, বাগিচায় যাও, তাহলেই তোমরা জানতে পারবে যে ফুলে ফুলে মধু আহরণ করাতেই মধুমকিাদের আনন্দসুখ
আর মধুমকিাদের তার মধু উজার করে দেওয়াতেই ফুলের মধুর সুখ
ফুলদল হ’ল মধুমািদের প্রাণঝর্ণা
আর মধুমকিারা ফুলদলের পরম প্রেমের সংবাহক দূত (মধুবর্ণা)
এবং মধুমকিারা আর ফুলদল তারা উভয়েই উভয়ের চাহিদা ও পরিতৃপ্তির আদানপ্রদান পরম আনন্দসুখ।

হে আরফালিজের জনপদবাসীগণ, ফুলদল ও মধুমকিাদের মতনই হউক্ তোমাদের আনন্দসুখ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28840660 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28840660 2008-09-09 11:22:37
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ২৩ অতঃপর যাজিকা এক বলল, আমাদের প্রার্থনা সম্পর্কে তুমি কিছু বল
এবং জবাবে সে বলল :

তোমরা প্রার্থনা কর তোমাদের আপত কালে তোমাদের প্রয়োজনেই
তোমরা প্রার্থনা করবে তোমাদের চরম আনন্দসুখ ও সমৃদ্ধির কালেও (তোমাদের অপ্রয়োজনেই)

প্রার্থনা আর কী-ই বা ঐশী আকাশের অন্তরীতায় তোমাদের আত্মসত্তার স¤প্রসারণ ছাড়া
মহাশূন্য নভোলোকে আঁধারের বৈবর্ণ ঢেলে দেওয়াই যদি তোমাদের ব্যারামের আরাম হয় তবে আনন্দসুখের জন্য তোমাদের হৃদয়ের প্রত্যূষ ঢেলে দিয়েও তোমরা হও (আত্মহারা)
যখন অন্তরাত্মার প্রার্থনার ডাকে না কেঁদে থাকতে পারো তখন অন্তরাত্মা তোমাদের তাড়িত করবে বারংবার যতণ না কাঁদতে কাঁদতে তোমরা হেসে ওঠ পুনর্বার।
যখন তোমরা প্রার্থনা কর তখন তোমরা সেই মুহূর্তে প্রার্থনারত বাতাসে মিলিত হও, প্রার্থনা ভিন্ন তোমরা মিলিত হ’তে পারো না তার সন্নিবেশে
দৃষ্টির অগোচর ওই উপাসনালয়ে তোমাদের পরিদর্শন হোক্ মধুর সান্নিধ্য আর আনন্দ আবেশে
প্রার্থনা ভিন্ন তোমরা পাবে না কিছুই সেই উপাসনালয়ে প্রবেশে
আর নিজেদেরকে অবনমিত করতে যদি তোমরা সেখানে প্রবেশ কর তবে তোমরা উত্তরিত হবে না যেমন
অন্যের মঙ্গল যাঞ্চার উদ্দেশ্যে যদি তোমরা সেখানে প্রবেশ কর তবে তা অশ্র“তই থেকে যাব তেমন
তোমরা যদি উপাসনালয়ে প্রবেশ করতেই চাও একান্ত
তবে প্রবেশ কর অল্য অগোচরে, সেটাই হবে একান্ত সঙ্গত।

(প্রার্থনার ভাষা নাই), কী বলে প্রার্থনা করবে তোমরা তা আমি তোমাদের বলতে পারি না
ঈশ্বর যখন নিজেই তোমাদের ওষ্ঠে কথা বলেন, ঈশ্বর তিনি তোমাদের কোন কথা শোনেন না
তোমাদের কী করে শেখাই আমি জলে জঙ্গলে পর্ব্বতে প্রার্থনার বাণী
জলে জঙ্গলে পর্ব্বতের জন্মজাতক যারা তোমরা, তোমরা নিজেরাই নিজেদের অন্তরাত্মায় প্রার্থনার ভাষা খুঁজে পেতে পারো প্রার্থনার সেই প্রার্থিত বাণী
তোমরা যদি নিশীথরাত্রির মগ্নমৌন মুখরতা শ্রবণ কর তবে
তাদের নীরবতায় শুনতে পাবে :
”আমাদের ঈশ্বর তুমি আমাদের অন্তরীচারী সত্তা, তোমার অভিপ্রায়ই আমাদের অভিপ্রেত
”তোমার আকাঙ্খাতেই আমরা আকাঙ্খিত
”তোমার ইচ্ছাতেই আমাদের নিশীথরাত্রি দিবসসূর্য্যে আলোকিত, সে সবকিছুই তোমারই
”তোমার কাছে আমরা কী প্রার্থনাই বা জানাবো, আমাদের মধ্যে সঞ্জাত হওয়ার পূর্ব্বেই আমাদের সব অভিলাষ তোমার জানা হ’য়ে যায় এমনই
”তুমিই আমাদের (প্রার্থনা) প্রয়োজন, তুমি আমাদের আরও বেশী কিছু দিয়ে তোমার সবকিছু বিলিয়ে দাও আমাদের, (তোমার যা সব সবই তোমারই)।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28836479 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28836479 2008-08-30 00:18:53
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ২২ অতঃপর নগরের অগ্রজ একজন বলল, আমাদের তুমি শুভ ও অশুভ সম্পর্কে কিছু বল
এবং জবাবে সে বলল :

তোমাদের মধ্যে যা কিছু ভালো ও শুভ আমি শুধু তা-ই তোমাদের বলতে পারি, মন্দ ও অশুভ কোন কিছু নয়
নিজের ক্ষুধা-তৃষ্ণায় আর্ত শুভ ভিন্ন অশুভ অন্য কিছু নয়
বস্তুতঃ শুভ ক্ষুধার্ত হ’লে অন্ধকার গুহা থেকেও তার খোরাক সন্ধান করে
আর তৃষ্ণার্ত হ’লে নি®প্রাণ বারিধি থেকেও তার (প্রাণরস) পান করে।

একাত্ম আত্মস্থ যখন তোমরা, তোমরা তখন ভালো ও শুভ হও
একাত্ম আত্মস্থ না হলেও তোমরা কিন্তু মন্দ ও অশুভ নও
পরিত্যক্ত বসতবাটি তস্করদেও (দুষ্কর্মের) ঘাঁটি নয, তা শুধুই পরিত্যক্ত বসতবাটি ভিন্ন আর কী
হালহীণ জলজাহাজও দিগ্ভ্রান্ত হ’য়ে ভেসে বেড়াতে পারে দ্বিপ দ্বিপান্তরে, তবুও অতলান্তে তলিয়ে যায় কি
তোমরা ভালো যখন তোমরা নিজেদের স্বেচ্ছায় বিলিয়ে দাও
তোমরা তখনও মন্দ নও যখন তোমরা স্বার্থপ্রয়াসে নিজেদের বিলিয়ে দাও
তোমরা যখন স্বার্থপ্রয়াসী তখন তোমরা একটা বৃমূল মৃত্তিকাব আঁকড়ে ধরে পান কর তার স্তন্যরস
কিন্তু ফল মূলকে কখনই বলে না, ’আমার মত পরিপক্ব ও পরিপূর্ণ হও, বিলিয়ে দাও তোমার প্রাচুর্য্যের প্রাণরস’
দাক্ষিণ্য নিবেদনের তাগিদ যেমন ফলের
দাক্ষিণ্য গ্রহণের তাগিদ তেমনই মূলের।

তোমরা বাক্যভাষে সহজ সচেতন যখন তখন তোমরা অবশ্যই শুভ ও ভালো
তোমরা নিদ্রায় নিদ্রিত অচেতন যখন তোমাদের জিহ্বা স্খলিত উদ্দেশ্যবিহীণ তখনও তোমরা মন্দ নও, (তোমরা তখনও ভালো)
স্খলিত জিহ্বার বচনও অবল জিহ্বাকে সবল করতে পারে
তোমরা ভালো যখন স্থির ল্েয বলিষ্ঠ পদেেপ হেঁটে বেড়াও, (তখন তা ভালো না হ’য়ে কি পারে)
এমন কি খঞ্জ পদক্ষেপে হেঁটে গেলেও তোমরা মন্দ নও
খঞ্জ যারা তারাও পিছনে হাঁটে না কখনও
তোমরা যারা শক্তসমর্থ ও ক্ষিপ্রগতি, দোহাই তোমাদের, খঞ্জদের সামনে করুণায় খঞ্জগতিতে হেঁটে যেয়ো না কখনও
তোমরা হাজারো ভাবে ভালো, তোমরা মন্দ নও যখন তোমরা ভালোও নও
তবে তোমরা বড়ই স্বভাবকুঁড়ে ও দীর্ঘসূত্রী, (এ কি কখনও ভালো হ’তে পারে)
মৃগ কি কখনও কচ্ছপকে দৌড়ছুট শেখাতে পারে?

তোমাদের বিপুল সত্তার নিমিত্তে যে তুমুল আকাঙ্খা তাতেই তোমাদের শুভত্ব, সেই আকাঙ্খা তোমাদের সবারই
কিন্তু তোমাদের কারুর মধ্যে সেই আকাঙ্খা মূষল ধারায় বয়ে চলেছে সমুদ্রসঙ্গমে, তাতে পর্ব্বতকন্দরের রহস্য ও বনবীথিকার গীতসঙ্গীত বরাবরই
অন্যদের মধ্যে তা নিস্তরঙ্গ প্রবাহে বহু বিভঙ্গে গতিপথ হারিয়ে
সমুদ্রসৈকতে ইতিবৃত্ত হওয়ার মাঝেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে আটকে পড়ে জড়িয়ে
বহু-অভিলাষী যে সে যেন না স্বল্প-অভিলাষীকে বলে, ’কেন তুমি এত ধীরগতি, কেন এত থমকে চল তুমি?’
যথার্থ শুভার্থী যে সে কখনই উলঙ্গকে বলে না, ’কোথায় বস্ত্র তোমার?’ কিংবা কোন গৃহহীণকে বলে না, ’এ কী দশা করেছ তোমার গৃহের তুমি।’
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28832105 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28832105 2008-08-18 10:52:53
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ২১ জ্যোতির্ব্বিদ একজন বলল, প্রভু, সময় কী তুমি আমাদের বল
জবাবে সে বলল :

তোমরা যদি মাপতে চাও অমেয় অপ্রমেয় সময়কে
তবে কালপ্রহর ও ঋতুচক্রের অনুসরণে সংযত কর তোমাদের স্বভাবপ্রকৃতিকে
স্রোতোস্বিনী তটিনীতীরে বসে নিরীক্ষণ কর সময়কালের গতিপ্রবাহকে

নিষ্কাল তোমরা সচেতন যে জীবন কালনিরবধি
আর গতস্যকাল অদ্যকালের স্মরণ মাত্র, অনাগত কাল বর্তমানের স্বপ্ন অবধি
তার ধ্যান সঙ্গীতে এখনও তোমরা মথিত, নভোমণ্ডল ভরা তারায় সৃষ্টির সেই আদিম লগ্নের পরিধি।
তোমরা এমন কে আছো যে অনুভব করতে পারে না তার ভালোবাসা অনন্ত?
তোমরা কে তার অন্তরাত্মায় পরিব্যাপ্ত সেই ভালোবাসাকে আনুভব করতে পারো না দূরান্তে সড়িয়ে রাখো অত্যন্ত
সেই সে ভালোবাসা যা এক প্রেমভাবনা থেকে আর এক প্রেমভাবনায় এক প্রেমলীলা থেকে অন্যতর এক প্রেমলীলায় কখনই ধাবমান নয়?
সেই সে ভালোবাসা কি তেমনই যেমন সময় কখনই অনবচ্ছিন্ন অতন্দ্র স্থির নয়?

তোমরা যদি তোমাদের ভাবনায় সময়কে ঋতুচক্রের ব্যবধানে বিভাজিত কর তবে সব ঋতুই যেন একই ঋতুচক্রে সমাচ্ছন্ন হ’য়ে যায়
চলমান কাল যেন গতস্য কালের স্মরণে স্মৃতিতে অনাগত কালের বাসনায় আলিঙ্গিত হ’য়ে যায়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28828584 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28828584 2008-08-08 01:21:42
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ-২০ বিদ্বজ্জন একজন বলল, বাককলা বিষয়ে তুমি আমাদের কিছু বল
এবং জবাবে সে বলল :

তোমরা কথা বল যখন তোমাদের ভাবনার সঙ্গে তোমাদের সন্ধিচ্ছেদ ঘটে
এবং তোমরা তোমাদের হৃদয়াবাসের বিজন নির্জ্জনতা থেকে নির্ব্বাসিত হও যখন তোমাদের ওষ্ঠাধর তোমাদের প্রবাস হ’য়ে ওঠে
শব্দ হ’ল চিত্তচেতনা, শব্দ হ’ল আনন্দ বিনোদন
অহেতুক বাক্যভাষে ঘটে ভাবনার অপমৃত্যু অর্ধ্ব-নিধন
ভাবনা হ’ল আকাশপাখী, শব্দের পিঁজরায় ডানামুক্তি ঘটে বটে তার
উড়তে পারে না তবুও সে এমনই (উভয়সঙ্কট) যার।

অনেকেই আছে যারা নিঃসঙ্গ একাকীত্বে ও শঙ্কায় শব্দচারীদের সঙ্গ খুঁজে বেড়ায়
নির্জ্জন নীরবতায় তাদের স্বরূপ সত্তা তাদের চোখে বেআবব্রু হ’য়ে পড়ে বলে তারা পালিয়ে বাঁচতে চায় (অজানা কোন জীবন কিনারায়)।
এমনও অনেকেই আছে যারা জ্ঞান বা পূর্ব্বানুমান ছাড়াই এমনই অব্যর্থ সত্য কথা বলে যার অর্থ তারা আদপে বোঝে না নিজেরাই
এমনই অনেকে আছে যারা নিজেদের মধ্যে সত্য ধারণ করে আছে তারা নির্ভাষে বলে সবকিছু অথচ বলে না কিছুই ভাষায়
নির্ভাষ নৈঃশব্দের ছন্দে আনন্দে বহমান সেই চৈতন্য তার চিদাত্মায়।

পথেপ্রবাসে হাটেবাজারে বন্ধুর বন্ধুত্ব লাভ ঘটবে তোমাদের চৈতন্য যেন তোমাদের ওষ্ঠদ্বয়কে সঞ্চালিত করে এবং তোমাদের জিহ্বাকে মুখরিত করে
আর তোমাদের কণ্ঠস্বরের অন্তঃস্থ কণ্ঠে তাদের কর্ণের অন্তঃস্থ কর্ণ কথা শ্রবণ করে
তাদের অন্তরাত্মা মদিরার স্বাদে তোমাদের উপলদ্ধ সত্যকে সততই স্মরণ করে
বর্ণ বিবর্ণ হ’য়ে গেলে সুরাপাত্র খালি থাকে পড়ে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28823653 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28823653 2008-07-24 13:42:22
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ১৯ একজন যুবাকিশোর বলল, সখ্যতা বন্ধুতা প্রসঙ্গে তুমি আমাদের কিছু বল
এবং জবাবে সে বলল :

তোমাদের বন্ধুর বন্ধুতা হ’ল তোমাদের চাহিদার নিবৃত্তিতে
সে হ’ল তোমাদের জঙ্গম জমি যেখানে তোমরা ভালোবাসার বীজ বুনবে আর ফসল আহরণ করবে সকৃতজ্ঞ প্রবৃত্তিতে
সে হ’ল তোমাদের অন্নব্যঞ্জন, তোমাদের পোহানো আগুন
বুভুক্ষা নিয়ে তার কাছে এসো, শান্তির খোঁজে সন্ধান কর (তার অন্তর্গুণ)।

বন্ধু যখন সে প্রাণ খুলে কিছু বলে তখন তোমাদের মনের না-অস্তিকে ভয় পেয়ো না বা অস্তিকে সংবরণ কোরো না
বন্ধু যখন সে নির্ব্বাক নির্ভাষ তখন তোমাদের হৃদয় তার হৃদয় সংবার্তা শুনতে পায় না বলে মনে কোরো না :
কেন না নির্ভাষ ভাবনা কামনা প্রত্যাশা সব পারস্পরিক আনন্দসুখের মূর্ত মূর্চ্ছনা, সে সবকিছুই রয়ে যায় অল্য অন্তরালে কেউ তার সন্ধান করে না।
বন্ধুর কাছ থেকে বিদায় বেলায় যেন কোন অনুশোচনা কোরো না।
বন্ধুর মধ্যে তোমরা সবচেয়ে পছন্দ কর যা তা তার একান্ত অনুপস্থিতিতেই স্পষ্টতর হ’য়ে ওঠে তোমাদের কাছে,
যেমন সমতল থেকেই পর্ব্বতকন্দর আরও বেশী স্পষ্টতর হ’য়ে ওঠে পর্ব্বতারোহীর কাছে।
এবং বন্ধুতায় যেন ভিন্ন আর কোন উদ্দেশ্য না থাকে, বন্ধুতার উদ্দেশ্য শুধু আত্মায় নিবিষ্টতা
কেন না যে ভালোবাসা তার রহস্য খোঁজে সে ভালোবাসা আর ভালোবাসা থাকে না, সে ভালোবাসা নিক্ষিপ্ত নাগপাশ যেন তাতে ধরা পড়ে শুধু অহেতুক অচরিতার্থতা।

তোমাদের সর্ব্বোতকৃষ্ঠ যা তা বন্ধুর জন্য রেখে যাও
সে অবশ্যই জানে তোমাদের জোয়ারের ভাঁটার কথা, তাকে তার মহাপ্লবের কথাও জানাও।
সে তোমাদের কেমনতর বন্ধু যে নিছক আসঙ্গ লিপ্সায় শুধু তোমরা তার কামনা করবে?
তোমাদের জীবনের প্রতি পল-অনুপলে তোমরা তার কামনা করবে।
সে তোমাদের চাহিদাকে পূর্ণতা দেবে, শূন্যতাকে নয়
এবং বন্ধুতার মধুগন্ধে হাসির ফোয়ারা উঠুক, হউক আনন্দসুখের বিনিময়
কেন না অতি ুদ্র শিশিরবিন্দুতেও হৃদয় খুঁজে পায় তার প্রভাতসূর্য্য এবং পরমানন্দে (হৃদয়হারা) হয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28820463 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28820463 2008-07-15 11:40:13
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ১৮ অতঃপর একজন শিক্ষাগুরু বলল, শিক্ষা বিষয়ে তুমি কিছু বল
এবং সে বলল:

তোমাদের জ্ঞানালোক উদয়ে তোমাদের মধ্যে আধোঘুমে উপ্ত কিছুরই রহস্য কেউ প্রকাশ করতে পারে না।
যে মন্ত্রগুরু তাঁর অনুগামী শিষ্যদের নিয়ে জ্ঞানমন্দিরের ছায়ায় হেঁটে বেড়ান তিনি তাঁর বিশ্বাস আর সপ্রেম স্নেহ ভিন্ন তাঁর প্রজ্ঞা বিলিয়ে দেন না
বিলক্ষণ বিচক্ষণ যিনি তিনি তোমাদের মনস্বীতার চৌকাঠে পথ দেখিয়ে নিযে যাবেন, কখনই তিনি তাঁর প্রজ্ঞাপারমিতাবাসে প্রবেশের অনুমতি দেবেন না।
জ্যেতির্বিদ যিনি তিনি তাঁর ভূমণ্ডলের বিষয়ে জ্ঞানোপলদ্ধির কথা তোমাদের বিদিত করতে পারেন কিন্তু কখনই তিনি তাঁর ঋদ্ধিকে তোমাদের উজার করে দেন না।
সঙ্গীতবিদ যিনি তিনি বিপুলা পৃথ্বীর ঋত ছন্দম গেয়ে শোনাতে পারেন কিন্তু সেই সুরধ্বনীকে ধারণ করতে পারে যে কর্ণ তা তিনি দান করতে পারেন না, প্রতিধ্বনীকারী সেই কণ্ঠস্বরকেও তিনি দান করতে পারেন না।
কিংবা সংখ্যাতত্ত্বের বিশারদ যিনি তিনি ওজন ও মাপমাত্রার জগত সম্পর্কে তোমাদের বিদিত করতে পারেন কিন্তু তিনি তার অধিক তিনি কিছু করতে পারেন না।
(জেনে রেখো) কোন একজনের দর্শনাভীক্ষা অন্য কোনজনের ডানায় জুড়ে দেওয়া যায় না
এবং তোমরা প্রত্যেকেই ঐশীজ্ঞানের মুখোমুখি একাকী প্রত্যুতমান যেমন তেমনই ঐশীজ্ঞান ও বিশ্বজ্ঞানের অন্বোষায় তোমরা প্রত্যেকেই নিঃসঙ্গ একাকী, (কেউই তোমাদের সঙ্গী না)।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28818284 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28818284 2008-07-08 23:28:36
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ১৭ একজন পুরুষ বলল, আমাদের আত্মজ্ঞানে আত্মস্থ করে তুমি কিছু বল
এবং জবাবে সে বলল :

তোমাদের নীরব নিভৃতিতে দিবসরাত্রির রহস্য উদ্ঘাটিত হয়
আর তোমাদের হৃদয়লদ্ধ অভিজ্ঞান শুনবে বলে তোমাদের কর্ণ তৃষ্ণায় ব্যাকুলিত হয়
তোমাদের চিন্তামগ্নতায় তোমরা যা বিদিত হও তা মুখর ভাষায় বিদিত হয়
তোমাদের অঙ্গুলিতেই তোমাদের নিরাবরণ স্বপ্ন স্পর্শিত হয়।

এবং সেটাই সমুচিত হবে
তোমাদের আত্মার সুপ্ত নির্ঝরঝর্ণা জেগে উঠে মর্ম্মর ধ্বনিতে সমুদ্রসঙ্গমে মিলিত হবে
এবং তোমাদের অন্তর্গভীরের ঐশ্বর্য্যভাণ্ডার যত তোমাদের দৃষ্টিচোক্ষে উদ্ভাসিত হবে।
কিন্তু সেই অজ্ঞাত সম্পদের পরিমাপের কোন তুলাদণ্ড নাই
তোমরা কখনও কোন কাষ্ঠদণ্ড বা শব্দভেদী লগী দিয়ে তোমাদের জ্ঞানের গভীরতার সন্ধান করবে না তাই
কেন না তোমাদের আত্মা হ’ল অসীম অনন্ত সমুদ্র এক অতলান্ততায়।

বোলো না কখনও ’অনখণ্ড সত্যের সন্ধান পেয়েছি আমি’, বরং বোলো ’এক খণ্ড সত্যের সন্ধান পেয়েছি আমি’
বোলো না ’আত্মার পরিক্রমপথ খুঁজে পেয়েছি আমি’
বরং বোলো ’আমার চলার পথেই আমার আত্মার দেখা পেয়েছি আমি’
কেন না আত্মা সতল পথেই পর্য্যগামী
কেন না আত্মা কখনই সরল পথ বরাবর চলাচল করে না বা সোজা সটান নলখাগড়ার মতন বেড়ে ওঠে না
হাজারো পদ্মপাপড়ি মেলে আত্মা নিজেই উন্মোচিত হয়,(এমনই তার নির্ঘোষণা)।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28814434 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28814434 2008-06-28 01:07:16
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ১৬ একজন রমণী বলল, দুঃখযন্ত্রণা সম্পর্কে আমাদের তুমি কিছু বল
এবং সে বলল :

তোমাদের বোধবুদ্ধি যে কোরকে উপ্ত তাকে নিঙরেই তোমাদের দুঃখযন্ত্রণার প্রকাশ
প্রস্তরকঠিন ফল ভেঙ্গে বীজহৃদয় যেমন সূর্য্যবীর্য্যে নিষিক্ত হয় তেমনই তোমাদের আর্ত যন্ত্রণার আত্মপ্রকাশ।
তোমাদের প্রাত্যহিক জীবনরহস্যে তোমাদের হৃদয় কি বিষ্ময়ে আত্মহারা হয়? ঠিক তেমনই তোমাদের দুঃখযন্ত্রণার আর্তি তোমাদের আনন্দসুখের চেয়ে কেনই বা কম বিষ্ময়কর হবে?
তোমাদের চতুস্পার্শ্বের ভূমিক্ষেত্রের ঋতু আবর্তনের মতন তোমাদের হৃদয়ের ঋতুর অভিবর্তনে তোমরাও তেমনই সহজে আবর্তিত হবে
এবং দুঃখশোকের শীত তেমনই সহজে প্রশমিত হবে ঠিক তোমরা দেখবে।
তোমাদের দুঃখযন্ত্রণার অনেকাংশই তোমাদের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত
তোমাদের অসুস্থ সত্তা হাকিমবৈদ্যর বিষৌধি বিধানেই হয় প্রশমিত
তোমরা তাকে বিশ্বাস করবে, নীরব প্রশস্তিতে তার দ্রব্যগুণ পান করবে।
তার হাত রূঢ় অঙ্কুশ হলেও তা তো সেই অদৃশ্য আলোকেতিশ্বরের সুকোমল করপুটের তলবে
তিনি যে পানভাণ্ডে পান করান তাতে তোমাদের ওষ্ঠ দগ্ধ হলেও
সেই কুম্ভকারের ইচ্ছায় গড়া যার মাটী সিক্ত নিষিক্ত তাঁর পবিত্র অশ্রুজলেও।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28806790 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28806790 2008-06-06 11:58:25
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ১৫ পুনশ্চ যাজিকা সেই তার উদ্দেশ্যে বলল, তুমি আমাদের যুক্তি ও আবেগ সম্পর্কে কিছু বল
জবাবে সে বলল :

তোমাদের চিদাত্মা রণক্ষেত্রে এক, সেই রণক্ষেত্রে তোমাদের যুক্তি ও বিচারবোধ সতত যুযুধান তোমাদের আবেগ ও ক্ষুধাবোধের বিরুদ্ধে, (কেউ কাউকে বরদাস্ত করে না কখনও)
তোমাদের চিদাত্মার শান্তিদূত হতাম যদি আমি, আমি তোমাদের বেতালা স্বভাব প্রবৃত্তির বিরোধ সংঘাতকে সংহত করতাম সুরেলা ঐকতানে, (কোনকিছুই বরদাস্ত করতাম না কখনও)।
কিন্তু কিভাবেই তা করতে পারি আমি তোমরা যদি না নিজেরাই নিজেদের শান্তিদূত হও, তোমাদের (মন্ডূক) প্রকৃতি যদি স্বভাবপ্রেমে প্রেমিক না হয় কখনও?

তোমাদের যুক্তি আর আবেগ হ’ল তোমাদের সমুদ্রপর্য্যগামী চিদাত্মার হাল ও পাল
তোমাদের হাল ও পালের একটা কিছু ভেঙ্গে পড়লে উথাল হাওয়ায় ভেসে যাওয়া ছাড়া তোমাদের আর গতি থাকে না অথবা মাঝ দরিয়ায় গতিরুদ্ধ হ’য়ে তোমরা হও বেসামাল।
একান্ত প্রভুত্বকামী যুক্তি হ’ল অবরুদ্ধ এক শক্তি আর আবেগ বাধাবন্ধহীণ হ’ল এমন এক ষ্ফুলিঙ্গ যা জ্বলে পুড়ে নিজেই খাক্ হ’য়ে যায় অনন্তকাল।
সুতরাং তোমাদের চিদাত্মা যেন তোমাদের যুক্তিকে আবেগের সমুচ্চতায় মহিমান্বিত করে আর জীবনের গান গেয়ে ওঠে
এবং তা যেন তোমাদের আবেগকে যুক্তির সারথি রথে চালিত করে আর তোমাদের আবেগ ণে প্রতক্ষিণে ফিনিক্স পাখীর মতন আত্মদহনের ভস্ম থেকে পুনর্জীবনে বেঁচে ওঠে।

আমি বলি, তোমরা তোমাদের বিচারবোধ ও তোমাদের জীবনতৃষ্ণাকে তোমাদের গৃহে দুই আদরণীয় অতিথির মত গণ্য করবে
এবং তোমরা কখনই একজনকে অন্যজনের ঊর্ধ্বে সমাদর করবে না কেননা একজনের প্রতি অতি-মনস্ক হ’লে তোমরা একই সঙ্গে উভয়ের আস্থা ও শুভেচ্ছা খুইয়ে বসবে
তোমরা যখন পর্ব্বতকন্দরে শুভ্র পপলারের শীতল ছায়ায় বসে দূর মাঠপ্রান্তরের অমোঘ অমল শান্তি উপভোগ করবে তখন তোমরা তোমাদের হৃদয়ে স্বগতোক্তি করবে ’যুক্তিতেই ঈশ্বরের আশ্রয়’
আবার যখন ঝড় ঘনিয়ে আসবে উত্তাল বাতাসে হিন্দোলিত হবে আরণ্যক বন বজ্রবিদ্যুতে নির্ঘোষিত হবে নভোমণ্ডলের রাজসিক ঐশ্বর্য্য, তখন সম্ভ্রম বিষ্মযে তোমাদের হৃদয়ে বলবে ’আবেগ আবেশেই ঈশ্বর সঞ্চরমান, আবেগ আবেশেই ঈশ্বর গতিময়’
এবং জেনে রাখবে ঈশ্বরেই তোমাদের শ্বাসপ্রশ্বাস, ঈশ্বরের বনবিথীকায় তোমাদের জীবন পল্লবময়
সেই কারণেই তাই যুক্তিতেই তোমাদের বিশ্রান্তি আর আবেগ আবেশেই তোমাদের গতি বৈজয়ন্তী প্রতীতি প্রত্যয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28804146 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28804146 2008-05-29 13:53:45
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ১৪ একজন বাগ্মীবক্তা বলল, তুমি আমাদের স্বাধীনতা বিষয়ে বল
এবং জবাবে সে বলল:

নগরের দ্বারে এবং আগুনের পাশে আমি তোমাদের আভূমি প্রণত হ’য়ে স্বাধীনতার আরাধনা করতে দেখেছি
যেমন করে ক্রীতদাসরা তাদের অত্যাচারী প্রভুর সামনে নতজানু হয় আর তার প্রশস্তি করে যে প্রভু তাদের নিত্য নিধন করে, (এমনও তো আমি দেখেছি)।
দেখেছি দেবালয়ের নীপবাসে নগরদূর্গের ছায়া-উপচ্ছায়ায় তোমাদের সবচেয়ে স্বাধীন যারা তারা স্বাধীনতার জোয়ালে বাঁধা আর হাতে তাদের স্বাধীনতার হাতকড়া
হৃদয় আমার তাই বিদীর্ণ হয়েছে রক্তাক্ততায়, একমাত্র তখনই শুধু স্বাধীন হ’তে পারবে তোমরা যখন তোমাদের ইচ্ছালাগাম অদম্য হ’য়ে উঠবে মুক্তির আকাঙ্খায় বাধাবন্ধন হারা
আর যখন লক্ষ্য ও ইচ্ছাপূরণে স্বাধীনতার দস্তুর ভাবনার আবহে তোমরাও হ’য়ে উঠবে বাধাবন্ধন হারা।
তোমরা তখনই যথার্থ স্বাধীন হবে যখন তোমাদের দিবস হবে দুর্ভাবনাহীণ আর যামিনী হবে অভাবহীণ দুঃখভারহীণ
এইসব কিছুই তোমাদের জীবন জুড়ে থাকে হয়ত’ বা নিত্যদিন, তবুও তোমরা উঠে আসবে নিরাবরণ নিরাভরণ বাধাবন্ধহীণ।

এবং কী করেই বা তোমরা দিবসযামিনীর ঊর্ধ্বে উঠে আসবে যদি না তোমরা তোমাদের বোধোদয়ে যে শৃঙ্খলে আবদ্ধ কর তোমাদের দ্বিপ্রহরকে তাকে ভাঙ্গতে পারো অবহেলায়?
বস্তুতঃ তোমরা যাকে স্বাধীনতা বল তা-ই তোমাদের জোরালো শৃঙ্খল যার আংটা ঝলমলে দিবসালোয় তোমাদের চক্ষু ধাঁধিয়ে দিয়ে যায়।
তোমাদের সত্তার ভগ্নাংশসমূহ আর কী-ই বা যা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তোমরা স্বাধীন হ’তে পারো?
যে অন্যায় বিধানকে তোমরা রদ করতে চাও সেই বিধান তোমাদের নিজেদের হাতে ললাটের লিখন বলেই ভাবতে পারো
আইনের বিধান পুড়িয়ে কিংবা সমুদ্রসিন্ধুর জল বিচারকদের ললাটে ঢেলেও তোমরা সেই বিধানকে মুছে সাফ করতে পারো না
এবং যদি কোন স্বৈরাচারীকে তার সিংহাসন থেকে উৎখাত করতে চাও তবে পরখ করে দেখ তোমাদের অভ্যন্তরে গড়ে তোলা সিংহাসনকে তোমরা আগেই ভেঙ্গে ধসিয়ে ধূলিসাৎ করতে পারো কি না
স্বেচ্ছাচারীরা কী করে শাসন করবে স্বাধীন আর আত্মগর্ব্বীদের, স্বেচ্ছাচারীরা নিজেরাই যে নিজেদের স্বাধীনতায় স্বেচ্ছাচারী আর আত্ম-অহমিকায় নিজেরাই নির্লজ্জ্ব অহঙ্কারী?
যে উদ্বেগকে ঝেড়ে ফেলতে চাও তোমরা তা তো তোমাদের স্বেচ্ছারোপিত, তোমাদেরই নিজেদের মনে গড়া মনচারী
এবং যে শঙ্কা যে ভয়কে নিরসন করতে চাও তোমরা সেই ভয়ের সিংহাসন তো তোমাদের অন্তর অন্দরাবাসেই, তা তো ভয়াল ভয়ঙ্করের করতলগত নয়, (বৃথাই তুমি শঙ্কিত ভীতচারী)।
বস্তুতঃ সবকিছুই সতত তোমাদের সত্তায় অর্ধ্ব-আলিঙ্গনে সঞ্চরমান, কাঙ্খা ও শঙ্কা অনুরাগ ও বিরাগ প্রণতি আর যা সবকিছু থেকে তোমরা পালিয়ে যেতে চাও কেনই বা
এই সবকিছুই তোমাদের অন্তরে আলো-ছায়ার মত দোহারবন্ধনে জড়িয়ে আছে (কেমন করে তোমরা পালাবেই বা)
যখন সেই ছায়াসব বিশীর্ণ হ’য়ে সড়ে যায় আলোর রেশ থাকে না আর, সেই ছায়া জেগে ওঠে পুনর্বার অন্যকোন আলোকের ছায়া হ’য়ে
আর তোমাদের স্বাধীনতাও তেমনই তার শৃঙ্খল হারিয়ে আবার স্বাধীনতা হ’য়ে ওঠে অন্যতর কোন মহোত্তর স্বাধীনতার শৃঙ্খলবেড়ী হ’য়ে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28802349 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28802349 2008-05-24 23:41:53
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ১৩ তৎপরে একজন আইনবিদ বলল, আমাদের আইন কী, প্রভু, তুমি আমাদের বল
এবং জবাবে সে বলল:

তোমরা আইন জারি করে আনন্দ পাও
তোমরা আইন ভেঙ্গে তার চেয়েও বেশী আনন্দ পাও
ঠিক যেমন সমুদ্রবেলায় খেলতে খেলতে শিশুরা স্বতোৎসাহে বালির পাহাড় বানায়
তারপর হাসতে হাসতে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দ্যায়
কিন্তু সমুদ্র আরও বালিতে ভরিয়ে দ্যায সমুদ্রবেলা তোমরা যখন বালির পাহাড় বানাও
আর সমুদ্রও তোমাদের সঙ্গে হাসতে থাকে তোমরা যখন সব ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়ে আনন্দ পাও
বস্তুতঃ সমুদ্র সতত অবুঝ অবোধদের দেখে হাসে, (তোমরা কি আর তার ঠাওর পাও)।

জীবন যাদের কাছে সমুদ্র পারাবার নয় আর মানুষের তৈরী বিধিবিধান নয় তাদের কাছে বালির পাহাড় তাই
জীবন যাদের কাছে কঠোর পাথরপাহাড় আর আইনকানুন যাদের কাছে যেন ছেন, তা দিয়ে তারা তা নিজেদের আদলেই খোদাই করতে চায়
তোমরা তাদের কী বলবে অগত্যাই?
পঙ্গু বিকলাঙ্গ যে নাচিয়েদের দেখে ঊষ্মা বোধ করে সে নিজেই বা কী
বলদ যে তার কাঁধের জোয়ালকে গলাগলি ভালোবাসে অথচ অরণ্যের হরিণ আর এল্কেকে ষৃষ্টিছাড়া ভবঘুরে বলে ভাবে সে-ই বা কী
জড়বৃদ্ধ যে সর্প নিজের খোলস নির্ম্মোচন করতে পারে না অথচ অন্য সবাইকে বেশরম বেহায়া উলঙ্গ বলে ভাবে সে-ই বা কী
আর সে-ই বা কী যে বিবাহভোজের পূর্ব্বাহ্ণেই হাজির হয় আর ভরপেট ভোজন করে বলতে বলতে বাড়ি ফিরে যায় যে সমস্ত ভোজই বিধিলঙ্ঘন, সমস্ত ভোজীরাই নিয়মভঙ্গকারী?

তাদের সম্পর্কে কী-ই বা বলি আমি? শুধু বলি তারাও রৌদ্রালোকে দাঁড়িয়ে থাকে, অপিচ সূর্য্যরে দিকে পিছন ফিরে
তারা শুধু তাদের ছায়াই দ্যাখে এবং তাদের আইন তাদের কানুন তাদের ছায়াকেই ঘিরে
আর তাদের কাছে যে শুধুই ছায়াপাত করে সূর্য্য তাদের কাছে আর কী-ই বা
এবং আইনমন্য তাদের কাছে আইনের বশ্যতা স্বীকার আর ভূমিতে নিজেদের ছায়ানুসন্ধান, (আইন তাদের কাছে আর কী-ই বা)?
তোমরা যারা সূর্য্যরে দিকে মুখ ফিরিয়ে হাঁটো মৃত্তিকায় আনত প্রতিবিম্ব তোমাদের ধরে রাখতে পারে কি?
আর তোমরা যারা বাতাসকে সঙ্গে করে চল বায়ুপতাকা তোমাদের পথনির্দ্দেশ করে কি?
তোমরা যদি দাসত্বের জোয়াল ভেঙ্গে ফেলতে চাও তবে মানুষের কোন আইন তোমাদের বেঁধে রাখবে আটকে?
ভেঙ্গে যদি ফেলতেই চাও তবে তা ভাঙ্গো না যেন মানুষের কোন বন্দীশালার ফাটকে।
আইনকে তোমাদের কিসের এত ভয় হেন?
তা থৈ যদি নৃত্যই কর তবে মানুষের শৃঙ্খলবেড়িতে হোঁচট খেয়ে নয় যেন।
মানুষের চলার পথে তোমাদের ছিন্ন বসনকে ফেলে না রাখো যদি তবে তোমাদের বিচারের কাঠগড়ায় তুলবে এমন কে আছে?
হে অরফালিজবাসীগণ! তোমরা মৃদঙ্গডঙ্কার শব্দ রোধ করতে পারো এবং বীণার তন্ত্রীকে শিথিল করতে পারো কিন্তু আকাশচাতকের কুঞ্জন রোধ করার ফরমান জারি করবে এমন কে আছে?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28801108 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28801108 2008-05-22 01:13:46
দরবেশ _ কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ১২ অতঃপর নগরের বিচারপতি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, তুমি আমাদের অপরাধ ও শাস্তির বিষয়ে কিছু বল
জবাবে সে বলল :

তোমাদের সদাত্মা যখন চকিত বাতাসে বেপথুমান হ’য়ে পড়ে
একাকী অরক্ষিত তোমরা তখন অন্যের উপর অনাচার করে বস, আদপে সেই অনাচার তোমাদের নিজেদেরই উপর এসে পড়ে
এবং সংঘটিত সেই অনাচারের প্রায়শ্চিত্তে সাধকপুরুষদের দুয়ারে করাঘাত করেও তোমরা সাড়া পাও না সেই দ্বারে।
তোমাদের ঈশ্বরসত্তা সমুদ্রের মত গভীর গম্ভীর
অনাবিল পবিত্র তা সতত সুনিবিড়
বিনা পক্ষপুটে মেঘবাতাসে উড্ডীয়মান
প্রোজ্জ্বল সূর্য্যের মতই তোমাদের ঈশ্বরসত্তা দীপ্যমান
তা সে গন্ধমুষিকের পথ জানে না বা বিবর সর্পের অন্বেষণে ঢুঁড়ে বেড়ায় না।
কিন্তু তোমাদের ঈশ্বরসত্তার বাস শুধু তোমাদের মনুষ্যসত্তার অন্তঃপুরেই না
তোমাদের অনেকখানিই এখনও মানুষ, আবার অনেকখানি এখনও মানুষ না
সেই মানুষ যেন অবয়বহীন বামন নিদ্রালসতায় হেঁটে বেড়ায় কুয়াশায়, অন্বেষণ করে সুপ্তি থেকে জাগৃতির দিশা
এখন বলি তবে তোমাদের অন্তঃপুরের সেই মানুষটার দশা
তোমাদের ঈশ্বরসত্তা নয় বা নয় সে কুয়াশায়িত বামন সেই সে মানুষ যে জানে অপরাধ কী এবং অপরাধের শাস্তিই বা কী, কীই বা তার মিমাংসা।

আমি তোমাদের অনেক বলতে শুনেছি, যে অন্যায় করে সে তোমাদের কেউ নয়, সে যেন অন্য কেউ তোমাদের জগতে অনাহূত অভ্যাগত
আমি বলি, কোন ধর্ম্মাত্মা বা সাধুপুরুষরাও ঊর্ধ্বতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে না, তারা সবাই-ই তোমাদের সবার অংশতঃ
যেমন কোন দুর্ব্বল দুষ্টও তোমাদের নীচতার নীচে অধঃপতিত হ’তে পারে না
এবং সমগ্র বৃক্ষের অজ্ঞাতে একটি পত্রপল্লবও হলুদ বিবর্ণ হ’য়ে যেতে পারে না
তেমনই কোন অন্যাযকারী তোমাদের সবার গুপ্ত বাসনা ভিন্ন কোন অন্যায়সাধন করতে পারে না
কেন না তোমরা একই শোভাযাত্রায় শামিল হ’য়ে হেঁটে চল তোমাদের ঈশ্বরসত্তার অভিমুখে।
তোমরাই পথ তোমরাই পথিক সেই অভিমুখে।
যখন তোমাদের কেউ ভূপতিত হয় সে ভূপতিত হয় তোমরা কেউ পিছিয়ে পড়লে
সেই তো দুস্তর বন্ধুর পথের ঢ্যালা, সতর্ক হও তোমরা কেউ পিছিয়ে পড়লে
আর সে ভূপতিত হয় এগিয়ে যাওয়া তাদের কারণেও, তারা ক্ষিপ্র ও নিশ্চিতপদগামী
অথচ পথের ঢ্যালাটিকে সড়িয়ে দিতে হয় না সে উদ্যোগী উদ্যমী।

এসব কথায় যদি দুনিয়ার ভারে ব্যথাহত হয় তোমাদের হৃদয়, হায়:
নিহত এড়িয়ে যেতে পারে কি তার নিধনের দায়
লুন্ঠনের দায় থেকে লুন্ঠিতও মুক্ত নয়
সদাচারীও দুষ্কৃতির অপরাধের দায়ে কলুষমুক্ত নয়
এবং দুর্বৃত্তের দুর্বৃত্তি থেকে কোন অপাপবিদ্ধও নিষ্পাপ নিষ্কলুষ নয়।
হ্যাঁ, অন্যায় করে যে অধিকন্তু সে অন্যায়ের শিকার হ’য়ে থাকে
এবং এহ বাহ্য অভিযুক্ত যে নিরপরাধ আর নির্দোষীদের বোঝা বইতে হয় তাকে
ন্যায় অন্যায় আর ভালো মন্দের বিচার তোমরা করবে কোন ফারাকে;
সূর্য্যের সামনে উভয়েই গলাগলি করে দাঁড়িয়ে থাকে, কৃষ্ণ ও শুভ্র তন্তুর বয়নবুনট যেন
কৃষ্ণ সূত্র ছিন্ন হ’লে তন্তুবায় যাচাই করে না শুধু তার বস্ত্রবয়ন, যাচাই করে তার তাঁতযন্ত্রকেও হেন।
তোমাদের কেউ যদি কোন বিশ্বাসঘাতিনীকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়
তবে সে যেন তার পতিপবিত্রর হৃদয়কেও তুলাদণ্ডে চড়ায় আর তাকে আত্মার মাপকাঠিতে মাপ করায়
তোমাদের কেউ যদি অপরাধকারীকে কষাঘাত করে তবে সে যেন অপরাধকৃতের হৃদয়াত্মাকেও যাচাই করে
এবং তোমাদের কেউ যদি ধর্ম্ম ও সদাচারের নামে দণ্ডবিধান করে ও বিষবৃক্ষে কুঠরাঘাত করে, তবে সে যেন সবকিছু তার সমূলে নিরীক্ষণ করে
এবং তবেই সে সদ্ ও অসদের মূল খুঁজে পাবে এবং সে দেখতে পাবে ফল ও নিষ্ফল সবকিছুই ধরিত্রীমাতার পরম হৃদয়ে জড়িয়ে আছে জড়াজড়ি করে।
আর তোমরা যারা ন্যায়পরায়ণ তারাই শুধু বিচার বিধান করবে
যেজন কথায় সৎ সদাচারী অথচ কর্ম্মে দুরাচারী তস্কর তোমরা তার কী দণ্ড বিধান করবে?
তেমরা কী দন্ড দেবে তাকে যেজন শরীরকে নিধন করছে অথচ আত্মায় নিহত হচ্ছে প্রতি নয়ত?
এবং কী নালিশ দায়ের করবে তার আচরণে যেজন প্রবঞ্চক উৎপীড়ক সত্য সতত
অথচ নিজেই সে লাঞ্ছিত উৎপীড়িত গর্হিত সতত?

এবং কী দণ্ড দেবে তাদের যাদের অনুশোচনা তাদের কৃতকর্ম্মের চেয়েও গুরুতর?
অনুশোচনা কি সুবিচার নয়, নয় কি তোমাদের আইনের বিহিত বিধানের চেয়েও মহোত্তর?
তথাপি তোমরা নিরপরাধীর অনুশোচনা জ্ঞাপন করতে পারো না, অপরাধীর হৃদয় হ’তে তা মন্থন করতেও পারো না
অনাহূত সেই অনুশোচনা নিশিযামিনীতে মানুষকে জাগিয়ে দিয়ে যায়, মানুষ জেগে উঠে কি আপন মুকুরে নিজেদের ছায়া চেয়ে দেখে না?
এবং তোমরা যারা বিচারবোধে প্রাজ্ঞ তারা কী করেই বা ন্যায় বিচার করবে যদি না দিগি¦দিগ আলোয় সবকিছুকেই সযত্নে যাচাই কর?
একমাত্র তখনই তোমরা হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে যখন দেখবে সটান মেরুদণ্ড ও ন্যুব্জ দেহকাণ্ড সে একই ব্যক্তি যে রাত্রিকালের বামনসত্তা ও দিবসকালের ঈশ্বরসত্তার গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে থাকে এমনই দস্তুর এক নর।
এবং তোমরা বিদিত থেকো যে দেবালয়ের পরম ভিত্তিস্তম্ভর তার অবম ভিত্তিভূমিকে উঁচিয়ে যেতে পারে না কখনও এমনতর।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28799868 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28799868 2008-05-19 16:05:52
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ১১ এবং একজন বণিক সে বলল, তুমি আমাদরে বেচাকেনার ব্যাপারে বল
এবং জবাবে সে বলল :

তোমাদরে জন্য ধরিত্রীমাতার উজার করে দেওয়া ফল তোমরা কি জানো উজার করে নিতে, না হ’লে তোমাদরে ফল পাওয়ার আকাঙ্খা কেন তবে?
ধরিত্রীমাতার দানসামগ্রী আদানপ্রদানেই তো তোমাদের পরম প্রার্চুয্য ও পরম পরিতৃপ্তির হেতু হবে
আদানপ্রদান হবে ভালোবাসায় সদয় সুবিচারে, অন্যথায় সবকিছু কিছুজনের লোভার্ততা আর অন্য সবজনের ক্ষুর্ধাততার হেতু হবে।

সমুদ্রভূমি র্কষভূমি দ্রাক্ষাভূমির মেহনতি মানুষ তোমরা যখন হাটবোজারে তন্তুবায় কুম্ভকার মশলাব্যাপারীদের সঙ্গে মিলিত হবে
তোমরা তখন ধরিত্রীমাতার পুণ্যাত্মা র্প্রাথনা করবে আর তোমরা তুলাদণ্ডের তুল্যমূল্যে পবিত্র পরিশুদ্ধ হবে।
যারা র্কাপণ্যতায় তোমাদের লেনদেনে সামিল হয় এবং কথা বেচে তোমাদরে মেহনতনত খরিদ করতে চায় তোমরা পরোয়া কোরো না তাদরে, তাতে তোমাদরে যা হওয়ার হবে।
সেইসব মানুষজনদের তোমরা বল :

’এসো, আমাদরে সঙ্গে র্কষভূমিতে, না হয় চল আমাদের মাঝিমাল্লা ভাইবেরাদরদের সঙ্গে সমুদ্রে জাল নিক্ষেপ করবে চল
’আমাদের কাছে সমুদ্র ও ভূমি যেমন উদার ও বদান্যশীল তোমাদের কাছে তেমনই সমান চলাচল।’
এবং গায়ক নর্তক ও বংশীবাদকদের উপাদান উপঢৌকন খরিদ করবে আর সব পসরার মত
তারা ফলফুল ও সৌরভের গুলগুল, তাদরে পসরা সৃষ্টি স্বপ্নের আদলে, সেই পসরা তোমাদের চিদাত্মার আহারখোরাক ও আবরণআভরণ সম্ভার যত।

এবং বাজার থেকে ফেরার সময় পরখ করে দেখো যেন কেউ না ফিরে যায় শূন্য হাতেই
কেন না তোমাদের একজনেরও যদি চাহিদার নিবৃত্তি না ঘটে তবে বাতাসে ভর করেও পুণ্যাত্মা বসুধাপ্রভুর শান্তিতে নিদ্রাযাপন হয় না কিছুতেই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28799030 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28799030 2008-05-17 18:18:09
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ১০

এবং এক তন্তুবায় এসে বলল, তুমি আমাদের পোশাকপরিচ্ছদ সম্পর্কে কিছু বল।
এবং সে বলল:

তোমাদের পোশাকপরিচ্ছদ তোমাদের সৌন্দর্য্যের অনেক কিছুকেই আড়ালে ঢাকা দিয়ে রাখে, অথচ অসৌন্দর্য্য রয়ে যায় অঢাকা
এবং তোমরা পোশাকপরিচ্ছদের আড়ালে একান্ত গোপনীয়তার স্বাধীনতার সন্ধান কর যা তা তো আদপে লাগামবেড়ীর শৃঙ্খলে শরীর ঢাকা।
পোশাকআশাকে কী হবে তোমার? তার চেয়ে বরং অনেক ভালো আদুল গায়ে সূর্য্যদাহে সুসমীরে শরীর স্যাঁকা
সূর্য্যতাপেই প্রাণবায়ু, সুসমীর সুবাতাসেই জীবনের করস্পর্শ, নিছকই তোমাদের শরীর ঢাকা।

কেউ কেউ বলে, ”উত্তুরে হাওয়া-ই আমাদের বস্ত্রের বুনট”।
আমিও বলি, হ্যাঁ, উত্তুরে হাওয়াই তোমাদের বস্ত্রের বয়ন বুনট
লজ্জ্বা হ’ল তার তাঁত, নরম পেশীর তন্তুতে তার সূত্র বয়ন
আর কর্ম্ম সমাপন্তে হাসিতে হাসিতে তার অনুরণন।
বিষ্মৃত হ’য়ো না যেন শালীনতা হ’ল কুশ্রী দৃষ্টি থেকে রেহাই পাওয়ার রক্ষাবর্ম্ম
কদর্য্য কুশ্রীতা থাকবে না যখন তখন শালীনতা আর কী-ই বা শুধুই মনের শৃঙ্খলবেড়ী পুঁতিগন্ধে গলদঘর্ম্ম?
এবং বিষ্মৃত হ’য়ো না কখনও যে ধরিত্রীর স্পর্শেই তোমাদের নগ্ন পদযুগল মহানন্দে মাতোয়ারা আর তোমাদের দীর্ঘ কেশদামে নৃত্যছন্দে আকুল সুশীতল সমীর, সেই তো জীবনের প্রাণধর্ম্ম।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28798672 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28798672 2008-05-16 19:33:12
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ৯ অতঃপর ঘরামি এক এগিয়ে এসে বলল, তুমি আমাদের ঘরবাড়ি নিয়ে কিছু বল।
জবাবে সে বলল:
নগরপ্রাকারে বসতি স্থাপনের আগে তোমাদের কল্পনার নিকুঞ্জবনে তোমরা এক বাড়ি বানাও।
গোধূলিলগ্নে তোমরা যেমন নীড়ে আসো, প্রত্যন্ত একান্তে চিরবাসী তোমাদের আত্মভূত পরিব্রাজক সে তেমনই ফিরে আসে আপন আবাসে, তোমরা যেন বিষ্মৃত না হও।
তোমাদের বৃহত্তর দেহভূমই তোমাদের আবাস, সেখানেই তোমরা চিরবাসী হও।
দিবসসূর্য্যের প্রতাপে তা বেড়ে ওঠে আর নিথর রাত্রিনিশীথে নিদ্রাগত হয়, সেই রাত্রিনিশীথ কখনও স্বপ্নহীন নয়। তোমাদের দেহনিবাস কি স্বপ্ন দেখে না? এবং স্বপ্ন দেখতে দেখতে নগর ছাড়িয়ে নিকুঞ্জবনে পর্ব্বতচূড়ায় কি হ’য়ে যায় না উধাও?

তোমাদের ঘরবাড়ি সব যদি আমার হাতের মুঠোয় কব্জা করতে পারতাম তবে সেসব আমি বীজবপকের মত বনজঙ্গলে মাঠেঘাটে ছড়িয়ে দিতাম, এমন যদি হ’ত কখনও
তোমাদের উপত্যকাগুলো যদি হ’ত তোমাদের চলার পথ আর সবুজ ঘাসঘাসালি হ’ত তোমাদের চলার পথের অলিগলি তবে তোমরা এক অপরকে খুঁজে বেড়াতে আঙুরক্ষেতে আর তোমাদের পোশাক থেকে ছড়িয়ে পড়ত মাটির সোঁদালো গন্ধ, এমন যদি হ’ত কখনও
কিন্তু এমন তো হয় না কখনও।
তোমাদের পূর্ব্বপুরুষগণ কোন অজানা আশঙ্কায় তোমাদেরকে একসঙ্গে বড় কাছাকাছি করে রেখে গেছেন। সেই আশঙ্কা রয়ে যাবে আরও কিছুকাল, আরও কিছুকাল মাঠপ্রান্তর থেকে তোমাদের উনানচুল্লীকে দূর করে রাখবে এই নগরপ্রাকার, আরও কিছুকাল এখনও।

তোমাদের এই ঘরবাড়িতে এমন কী আছে, হে অরফালিজবাসীগণ, তোমরা আমাকে বল। কী সেই জিনিষ তোমরা দুয়ার অর্গলবদ্ধ করে পাহারা দাও?
তোমাদের কি শান্তিস্বস্তি আছে, আছে কি সেই পরম প্রেরণা যাতে তোমরা তোমাদের অন্তর্গত ক্ষমতার সায় পাও?
তোমাদের কি এমন স্মৃতি আছে যে তার প্রোজ্জ্বল খিলান তোমাদের চিত্তগম্বুজকে ব্যাপ্ত করে রাখে সর্ব্বময়?
তোমাদের কি এমন সৌন্দর্য্য আছে যে তা তোমাদের হৃদয়কে কাষ্ঠপ্রস্তরময় বস্তু থেকে পবিত্র পাহাড়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় সবসময়?
আমাকে বল, সত্যই কি এইসব কিছু আছে তোমাদের ঘরবাড়ির আবাসময়?
না কি শুধুই আরাম-আয়াস লালসাবিলাস নিশীথের অতিথির সাজে গৃহকর্তার মত গৃহে প্রবেশ এবং তারপর তার প্রভুর প্রভুত্বে প্রভাস?
হ্যাঁ, তারপর হয়ে ওঠে সে পোষকর্তা, কাঁটাচাবুকের কষায় পোষ মানিয়ে তোমাদের বৃহত্তর কামনা-বাসনার করে পুতুলনাচ অন্তর্নাশ।
কোমল পশম হাত তার, হৃদয় লৌহ কঠিন
তোমাদের ঘুমপাড়ানি গান শুনিয়ে সে শয্যাপাশে দাঁড়িয়ে উপহাসে তোমাদের অস্থিমজ্জার জীবনকে করে কৌলিন্যহীণ।
তোমাদের দৃঢ় বিশ্বাসকে অবহেলায় ঠুনকো ভাঁড়ের মত নিক্ষেপ করে কাঁটাজঙ্গলে।
তোমাদের আরাম-আয়াস লালসাবিলাস প্রকৃতই তোমাদের আবেগঘন অন্তরাত্মাকে হনন করে আর হাসতে হাসতে সামিল হয় তার অন্ত্যেষ্টির অন্তঃসলিলে।
অসীম অনন্তের সন্তান তোমরা, অস্থৈর্য্যেও ধীরস্থির তোমরা কখনই তার ফাঁসবন্দী হবে না, কখনই তার বশ্যতার শিকার হবে না
তোমাদের ঘরবাড়ি হবে মাস্তুলের মত, কখনই তা বন্দরে নোঙর ফেলবে না
তোমাদের ঘরবাড়ি হবে নেত্ররক্ষার নেত্রপল্লব, দেহক্ষত ঢাকার দ্যুতিময় ঝিল্লি হবে না
দরজায় ঢোকার সময় তোমাদের ডানা গোটাবে না তোমরা কিংবা ছাদে মাথা ঠুকলেও তোমরা মাথা নত করবে না, দেওয়াল ফেটে চৌচির হ’য়ে যায় যাক্ তবুও ভয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ করবে না
তোমাদের পূর্ব্বপুরুষেরা জীবিতদের জন্য যে সমাধিক্ষেত্র বানিয়ে রেখে গেছে তোমরা সেখানে বাস করবে না
এবং তোমাদের ঘরবাড়ি যতই শোভনসুন্দর হর্ম্মসৌধ হউক্ সেখানে কোন গোপনীয়তা থাকবে না কিংবা তোমাদের কোন কামনা-বাসনা।
তোমাদের মধ্যে যা অসীম অনন্ত মহাকাশ সৌধে তার বাস, দরজা খোলা তার ভোরের কুয়াশায়, বাতায়ন তার রাত্রির নৈঃশব্দ আর সঙ্গীতের বন্দনা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28798353 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28798353 2008-05-15 18:10:02
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ৮ অতঃপর রমণী এক তাকে বলল, তুমি আমাদের সুখদুঃখের কথা বল।
জবাবে সে বলল:
তোমাদের সুখ হ’ল অনবগুন্ঠিত বেদনা
তোমাদের যে হাসির ফোয়ারা ওঠে সেই কূপেই ঝরতে থাকে তোমাদের অশ্রুজলের ঝর্ণা।
এছাড়া আর কী-ই বা হ’তে পারে তবে?
তোমাদের দুঃখকে যত সত্তার গভীরে খনন করবে ততই গভীরে তার তোমাদের আনন্দসুখ ভরে উঠবে।
তোমাদের সুধাসুরা যে পানভাণ্ডে ভরা থাকে তা কি কুম্ভকারের চুল্লিতে দগ্ধশুদ্ধ নয়?
তোমাদের আর্ত মনকে যে বাদ্যবীণার সুরধ্বনি আমোদিত করে তার শূন্য ছিদ্র কি ছুরিকা দিয়ে গড়া সেই দারুকাষ্ঠ নয়?
তোমরা যখন আনন্দসুখে উৎফুল হও তখন তোমরা তোমাদের হৃদয়ের গভীরে দৃষ্টি নিক্ষেপ কর, তোমরা দেখতে পাবে যে যা তোমাদের দুঃখ দিয়েছিল তা-ই আদপে তোমাদের আনন্দের হেতু
তোমরা যখন ব্যাপ্ত পরতাপে কাতর তখন তোমরা পুনর্বার তোমাদের হৃদয়ের গভীরে দৃষ্টি নিক্ষেপ কর, তোমরা দেখতে পাবে যে তোমরা যার জন্য বিলাপ করছ তা-ই তা-ই আদপে তোমাদের আনন্দের হেতু।
কেউ বলে ’দুঃখের চেয়ে আনন্দ মহান’, কেউ বলে ’না, দুঃখই মহান’
আমি বলি, তারা অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে বিরাজমান।
তারা একই সঙ্গে আসে, একজন যখন তোমাদের সঙ্গে তোমাদের অলিন্দে বসে থাকে অন্যজন তখন তোমাদের শয্যায় থাকে শয়ান।
তোমরা বস্তুতঃ তোমাদের সুখদুঃখের ওলনদণ্ডে আলম্বিত ভাসমান
তোমরা তখনই শুধু নির্ভার নিঃশূন্য যখন তোমরা ধীরস্থির ভারসাম্যতায় সুসমান।
তোমরা তখনই সুখদুঃখে উত্থিত হও পতিত হও যখন তোমরা ধনরক্ষকের স্বর্ণরৌপ্যের তুলাদণ্ডে দণ্ডিত হও অসমান।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28797319 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28797319 2008-05-13 14:31:56
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ৭ অতঃপর হলকর্ষক একজন বলল, তুমি আমাদের কর্ম্মকৃষ্টি সম্পর্কে কিছু বল এবং জবাবে সে বলল:

তোমরা কর্ম্ম কর, এই জগৎদুনিয়ার সান্নিধ্যে এই জগৎদুনিয়ার আত্মার সঙ্গে সঙ্গে একাত্ম হ’য়ে চল।
নিষ্কর্ম্ম অলস হ’য়ে থাকা তো ঋতুপ্রবাহে অধরা অনাবাসী হ’য়ে পড়া
জীবনের রাজসিক মর্য্যাদার পথে জীবনের অনন্তর শোভাযাত্রা থেকে বিচ্ছিন্ন হ’য়ে পড়া এবং সগর্ব্বে সেই অনন্ত অসীমে উৎসর্গিত হওয়া থেকে পিছিয়ে পড়া।

তোমরা যখন কর্ম্ম কর তোমরা যেন সব সুরবংশী যার হৃদতন্ত্রী থেকে নিঃসৃত হ’য়ে চলে কালস্রোতের ফিসফিসানি গুঞ্জনসঙ্গীত।
তোমরা এমন কে আছো যে বেণুবংশের মত নীরব নির্ব্বাক হ’য়ে থাকবে যখন জগৎদুনিয়ার সবকিছু সমবেত ঐকতানে গুঞ্জরিত হ’য়ে চলে বৃন্দসঙ্গীত।

তোমরা সব সময় শুনে এসেছো, কর্ম্ম হ’ল অভিসম্পাত আর শ্রম হ’ল দুর্ভাগ্য দুর্ভার।
আমি তোমাদের বলি, যখন তোমরা শ্রমকর্ম্ম কর তখন তোমরা ধরাভূমের এক দূরান্ত স্বপ্নসাধন কর অপার
সেই স্বপ্ন ভূমিষ্ঠ হওয়ার মুহূর্তেই তোমাদের উপর ন্যস্ত হয়েছে তার ভার।
তোমাদের শ্রমকর্ম্মেই নিহিত হ’য়ে আছে জীবনের প্রতি তোমাদের ভালোবাসা অপার
শ্রমে কর্ম্মে জীবনকে ভালোবাসা তো আসলে জীবনের অন্তরতর রহস্যে প্রগাঢ় অন্তরঙ্গতা হওয়া তার।
নিদারুণ মর্ম্মযন্ত্রনায় তোমরা যদি তোমাদের জীবনজন্মকে বল ললাটলিখন উৎপীড়ণ আর রক্তমাংসের শরীরের ভরণপোষণকে বল ললাটলিখন অভিশাপ, আমি বলব তা কখনই নয়, বরং শ্রমের স্বেদে ওই ললাটলিখনকে ধুয়ে মুছে সাফ করে ফেলার দায়িত্ব তোমাদেরই, আর কার।

তোমরা এমনও শুনেছ, জীবন হ’ল তামসিক। এবং জীবনক্লান্তিতে তোমরাও জীবনক্লান্তদের কথাই আওড়ে চল, জীবন হ’ল তামসিক।
আমি বলি, প্রেরণা ব্যতীত জীবনই আদপে তামসিক
এবং জ্ঞান-অভিজ্ঞান ব্যতীত সমস্ত প্রেরণা-অনুপ্রেরণাই অন্ধ ঐকান্তিক
কর্ম্ম ব্যতীত কোন্ জ্ঞানই বা পরমার্থিক
ভালোবাসা ব্যতীত সমস্ত কর্ম্মই অন্তঃসারশূন্য বাহ্যিক
এবং যখন ভালোবাসায় প্রাণিত হ’য়ে কর্ম্ম কর, তখন তোমরা নিজেদের সঙ্গে একে অপরের সঙ্গে নিবিষ্ট হও এবং নিবিষ্ট হও ঈশ্বরের সঙ্গে পরমার্থিক।
ভালোবাসার সঙ্গে কর্ম্মের সম্পর্ক যেমন
যেন তোমাদের হৃদতন্তু দিয়ে বসন বয়ন আর সেই বসনে তোমাদের প্রেমাষ্পদের আবরণ আভরণ
যেন তোমাদের মমতা দিয়ে সৌধ নির্ম্মান আর সেই সৌধে তোমাদের প্রেমাষ্পদের আবাসন
এ হ’ল যেন তোমাদের সযত্নে জমিতে বীজ বপন এবং মহানন্দে তার ফসল উত্তোলন আর সেই ফসলে তোমাদের প্রেমাষ্পদের প্রাণধারণ।
এ হ’ল তোমাদের অন্তরাত্মার প্রাণবায়ু দিয়ে সবকিছু গড়ে তোলা
তোমাদের প্রতি সকল স্বর্গবাসীদের শুভকামনা ও বরাভয় বিদিত হওয়া, কখনও না ভোলা।
কতবার তোমাদের আমি বলতে শুনেছি যেন তোমরা নিদ্রার ঘোরে বলছ, ’শ্বেতপাথরের যে কারিগর তার নিজের মনেরই আদলে মর্ম্মর মূর্তি গড়ে সে যে ধরিত্রীর বুকে হলকর্ষণ করে তার চেয়ে অনেক বড়,
’যে রামধুনুকে বাগ মানিয়ে মানুষের আদলে পোষাক রঞ্জিত করে সে যে নিজের হাতে আমাদের পাদুকা সেলাই করে তার চেয়ে অনেক বড়।’
নিদ্রার ঘোরে নয় বরং দ্বিপ্রহরের পরম জাগৃতিতে আমি তোমাদের বলি, বাতাস কখনও বিশাল ওকবৃক্ষের প্রতি মধুর প্রবচন ব্যক্ত করে না বড়
বরং মন্দবাতাসে ধ্বনিত ঘাসের চাপরার সঙ্গীত আরও মধুর বড়
এবং যে পরম ভালোবাসায় বাতাসের স্বরধ্বনিকে মধুর সঙ্গীতে ধ্বনিত করে সে-ই শুধু বড়, অনেক বড়।
কর্ম্ম হ’ল সেই সে কিছু যাতে ভালোবাসা মূর্ত হয়ে ওঠে।
যদি তোমরা অপ্রেমে অনিচ্ছায় কর্ম্ম কর তবে তোমাদের কর্ম্ম না করাই শ্রেয়, বরং তার চেয়ে তোমরা দেবালয়ের দ্বারে বসে তাদের ভিক্ষা গ্রহণ করবে যারা পরমানন্দে কর্ম্ম করে, যাদের কর্ম্মে ভালোবাসা মূর্ত হয়ে ওঠে।
যদি তোমরা অপ্রেমে অনিচ্ছায় রুটী সেঁকো তবে তিক্ত বিস্বাদ সেই রুটী মানুষের শুধুই অর্ধ্বেক ক্ষুধা নিবৃত্ত করবে
যদি তোমরা অসন্তোষে অনাগ্রহে আঙ্গুর পেষণ কর তবে সেই অসন্তোষ অনাগ্রহ সুধাসুরাকে বিষময় করে তুলবে
যদি তোমরা গানকে না ভালোবেসে সুরদেবীর কন্ঠে গান গাও তবে দিবসরাত্রির কলধ্বনি মানুষের কর্ণকে শ্রতিরুদ্ধ করবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28796254 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28796254 2008-05-10 18:24:51
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ৬ অতঃপর এল এক সরাইখানার বৃদ্ধ মালিক এবং তাকে বলল, তুমি আমাদের পানভোজনের ব্যাপারে কিছু বল
এবং সে বলল:

তোমরা কি ধরিত্রীর সৌরভে ঘ্রাণ নিয়ে বাঁচতে পারো কিংবা বায়ুবৃক্ষের মত সূর্য্যের আলোকে প্রাণধারণ করতে।
যখন প্রাণ ধারণের জন্য তোমাদের প্রাণ নিধন করতেই হয় কিংবা তৃষ্ণা নিবারণের জন্য তোমাদের নবজাতকের মাতৃদুগ্ধ হরণ করতেই হয়, তবে তা যেন হয় উপাসনা উপচার, তবেই তো পারো তোমরা প্রাণধারণ করতে
তোমাদের ভোজনস্থল হ’য়ে উঠুক সেই উপাসনাবেদী, অরণ্যভূমির নিষ্পাপ পূতপবিত্র প্রাণপশুরা উৎসর্গিত হউক্ সেখানে এবং সেই তারা হ’য়ে উঠুক নিষ্পাপ বিশুদ্ধ মানুষের অন্তরেতে।

যখন কোন প্রাণপশুকে বধ করবে তোমরা যেন বোলো তোমাদের অন্তরেতে:
’যে শক্তি দ্বারা তুমি বধ্য হচ্ছ, আমরাও বধ্য হব আমরাও ভোজ্য হব সেই শক্তিতে।
’যে বিধিবিধানে তোমার সমর্পণ আমাদের হাতে, সেই বিধিবিধানেই আমরাও সমর্পিত হব তাঁর হাতে সেই সর্ব্বময় শক্তিতে
’যে প্রাণবারিতে স্বর্গীয় বৃক্ষ সিঞ্চিত সঞ্জীবিত সে তো তোমার সে তো আমাদেরই রক্তশোণিত, সেই প্রাণরসই আমাদেরই রক্তশোণিতে।’

এবং যখন আপেল ফলকে দন্তদংশিত করবে তোমরা যেন বোলো তোমাদের অন্তরেতে:
’তোমার বীজবৃক্ষের নিবাস হবে আমাদের শরীরেতে
’তোমার অনাগত কালের পুষ্পকুঁড়ি প্রষ্ফুটিত হবে আমাদেরই হৃদয়াবাসে
’তোমার সুরভি সুবাস স্বনিত হবে আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসে
’এবং আমরা বিনন্দিত হব সমস্ত ঋতু কালচক্রে একই সঙ্গে সহবাসে।’
এবং পেষাইয়ের জন্য আঙ্গুর ফল তুলবে যখন শরতে
তখন তোমরা যেন বোলো তোমাদের অন্তরেতে:
’আমরাও এক দ্রাক্ষাকুঞ্জ, আমাদের ফলও আহৃত হব পেষাইয়ের জন্য নিঃশেষে
’নূতন মদিরার মত আমরাও গচ্ছিত হব চিরন্তন কোন আধাররসে।’
এবং শীতে যখন সেই সুরাসুধা পান করবে তোমরা, তোমাদের হৃদয়ে যেন ঝঙ্কৃত হয় প্রতিটি পানপেয়ালার সঙ্গীত সুধাগীতি
এবং সেই সঙ্গীতে যেন ঝঙ্কৃত হয় শরতদিন দ্রাক্ষাক্ষেত আর পেষাইযন্ত্রের স্মরণস্মৃতি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28795890 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28795890 2008-05-09 18:26:03
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ৫ অতঃপর ধণাঢ্য জন এক বলল, তুমি আমাদের দানের বিষয়ে বল
এবং জবাবে সে বলল:
তোমরা আসলে তোমাদের ধনদৌলতের যৎসামান্যই দান কর
তোমরা যখন নিজেদেরকে অকাতরে বিলিয়ে দাও তখনই তোমরা আসলে দান কর।
আগামিকালের দুঃসময়ের আশঙ্কা কিসের তোমাদের? যা জমিয়ে রাখো তা ভিন্ন তোমাদের গচ্ছিত ধন আর কী-ই বা?
এবং আগামিকালের দুঃসময়ের আশঙ্কায় তীর্থনগরচারীদের অনুসরণকারী সুবিচক্ষণ সারমেয় যে মাংসল হাড়গোর লুকিয়ে রাখে পদচিহ্ণহীন বালির গর্ভে, আগামিকাল তার জন্য নিয়ে আসবে আর কী-ই বা?
আদপে অভাবের আশঙ্কা অভাব ছাড়া আর কী-ই বা?
জলভরাট কূপে পিপাসার্তির আতঙ্ক আসলে অপ্রশম্য পিপাসার আর্তি ছাড়া আর কী-ই বা?
যাদের অনেক আছে অথচ দেয় খুব যৎসামান্য তারা দেয় শুধু তাদের সুনাম স্বীকৃতির সংগুপ্ত কামনায়
সেই সংগুপ্ত কামনা তাদের জৌলুস বদান্যতাকে কলুষিত করে যারপরনাই।
এবং অনেকে আছে যাদের সামান্য আছে অথচ সর্ব্বস্ব বিলিয়ে দেয় তারা, তারা বিলিয়ে দেয় অনেক বেশী
তারা জীবনবিশ্বাসী, তাদের বিশ্বাস জীবন ঔদার্য্যে জীবনপ্রত্যাশী
তারা কখনই হয় না কপর্দকশূন্য
তারা পরমানন্দে বিলিয়ে দেয়, বিলিয়ে দেওয়ার আনন্দই তাদের পরম পুণ্য।
আর যারা প্রভূত কষ্টেও সবকিছু বিলিয়ে দেয়, সেই কষ্টকর্ম্মেই তাদের বারিসিঞ্চন দীক্ষালাভ, তাদের কষ্টকর্ম্মের কথা তারা মনেও আনে না
এবং পরমানন্দের প্রার্থী নয় তারা, পুণ্যলাভের কামনাও তারা মনে আনে না
তারা বিলিয়ে দেয় যেমন করে দূর উপত্যকায় মার্টল পুষ্প সৌরভ ছড়ায় বিজন বাতাসে।
তাদেরই করপুটে ঈশ্বর নিজেকে ব্যক্ত করেন, তাদেরই দৃষ্টিচোখে ধরিত্রীর প্রসন্নতায় খলখলিয়ে হেসে ওঠেন তিনি একান্ত অবকাশে।
যাচিত হ’লে বিলিয়ে দেওয়া ভালো, অযাচিত হ’য়ে উপযাচকের দানকর্ম্ম আরও বেশী শ্রেয়
এবং দানদিল মুক্তহস্তের দানগ্রহীর সুলুকসন্ধান দানকর্ম্মের চেয়েও অনেক বেশী আনন্দপুণ্য আরও বেশী প্রেয়।
এমন কী আছে কিছু যা দিয়ে তোমরা থাকতে পারো না অকেশে?
তোমাদের যা কিছু আছে সবকিছুই একদিন তোমাদেরকে দিয়ে যেতে হবে, সেইদিন অবশেষে।
তথাস্তু! এখনই সবকিছু বিলিয়ে দাও। দানগ্রহীর দিনকাল নাই, দানদাক্ষ্যিণের দিনকাল ঋতু সব তোমাদেরই যারা দান কর নির্বিশেষে।

প্রায়শঃই তোমরা বল, ’আমরা দেব, শুধু সৎ পাত্রেই দেব, অপাত্রে না।’
তোমাদের বাগিচার বক্ষৃরা কখনই এমন বলে না, তোমাদের চারণভূমির পশুরাও না
তারা বিলিয়ে দিয়েই বাঁচে, অন্যথায় তা তো অনস্তিত্বে বাঁচা, এমন বাঁচা তো বাঁচা না।
দিবসযামিনীর বরপুত্র যে নির্বিবাদে গ্রহণ করত পারে তোমাদের সবকিছু, সে তো অপাত্র না।
এবং যে জীবনের উথাল পারাবার থেকে তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারে
সে তোমাদের ঝর্ণা থেকে তার পানপেয়ালা ভরে নিতেই পারে।
দানদাক্ষিণ্য গ্রহণে যে বীরত্ব ও সদিচ্ছা তার চেয়ে বৃহত্তর ও মহোত্তর মরুভূমি কি আর দান-বদান্যতায় আছে?
তোমরা কে এমন আছো যে মানুষ বক্ষ বিদীর্ণ করে তার দর্প-অহঙ্কারের আবরণ উন্মোচন করে দেবে আর তোমরা দেখতে পাবে তার অনাবৃত সত্তার স্বরূপে নির্লজ্জ্ব দর্প অহঙ্কার বেআব্র হ'য়ে পড়ে আছে?
তার আগেই নিজেদের যাচাই করে নাও তোমরা বদান্যতার যোগ্য কি না, আসলে তোমরা দান-অনুগ্রহের অনুষঙ্গ ভিন্ন আর কিছু না।
বস্তুতঃ জীবনই জীবনের দয়িতা, বদান্য বলে ভাবলেও আসলে তোমরা বদান্যতার স্বাক্ষর মাত্র, আর কিছু না।

আর তোমরা গ্রহীতা সকল, আসলে সবাই তোমরা গ্রহীতা, তোমরা কৃতজ্ঞতার ভারে শুধু শুধুই ন্যুব্জপৃষ্ঠ হও,
তোমরা নিজেরা ও যে দান-অনুগ্রহী সকলেই তোমরা কেন সেই যূপকাষ্ঠে শুধু শুধুই ন্যুব্জপৃষ্ঠ হও।
তার চেয়ে বরং দাতার দান-দাক্ষিণ্যের ডানায় ভর করে সবাই একসঙ্গে উঠে দাঁড়াও,
কেননা তোমাদের দানগ্রহণের মনস্তাপে তাদের মহানুভবতা শুধুশুধুই সংশায়িত হ’য়ে ওঠে, তাদের মাতা হলেন বিপুলাবক্ষ ধরিত্রীমাতা আর পিতা হলেন পরমপিতা ঈশ্বর পরমেশ্বর, তোমরা বিদিত হও।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28795229 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28795229 2008-05-07 19:24:54
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ৪ বক্ষলগ্ন শিশুকে সঙ্গে নিয়ে এক নারী এসে বলল, তুমি আমাদের শিশুদের কথা বল
এবং জবাবে সে বলল:

তোমাদের শিশুসন্তানরা তোমাদের নয়
জীবনের জন্য জীবনের প্রার্থিত পুত্রকন্যা তারা, তারা তোমাদের নয়
তোমাদের মাধ্যমেই তারা আসে, তোমাদের থেকে নয়
তারা তোমাদেরই সহবাসী, তবুও তারা তোমাদের নয়।

তোমরা তাদের অপত্যস্নেহে লালন করতে পারো, তোমাদের ভাবনা তাদের দিও না
তারা নিজস্ব ভাবনায় নিজেরাই অভিজ্ঞানী, তোমাদের ভাবনায় না।
তোমরা তাদের শরীরকে আবাস দিতে পারো, তাদের আত্মার নিবাসকে না
আত্মার নিবাস তাদের অনাগত কালের আবাসে
স্বপ্নেও চরণ পড়ে না তোমাদের কখনও সেই সেখানে, সেই আবাসে।
তোমরা তাদের মত হ’তে পারো, তাদেরকে গড়তে চেয়ো না তোমরা তোমাদের নিজেদের আদলে।
জীবন কখনও পিছু হাঁটে না, জীবন হিঁচড়ে বয়ে চলে গতস্য কালে।
তোমরা ধনুর্বাণ, তোমাদের শিশুসন্তানেরা জ্যামুক্ত প্রাণবান নিক্ষিপ্ত শর
অসীম অনন্ত পথে লক্ষ্য স্থির করেন তিনিই শক্তিধর সেই ধনুর্ধর, সেই তাঁর শক্তিতেই তোমাদের ধনুর্বাঁকে বজ্রবেগে দূরে বহুদূরে নিক্ষিপ্তি হয় সেই ধনুর্ধরের লক্ষ্যভেদী ধনুঃশর।
সেই ধনুর্ধরের হাতে তোমাদের ধনুর্বাঁক হউক্ চির মঙ্গলময় আনন্দময়
ভালোবাসেন তিনি যেমন উড়ুক্কু শরটিকে, ভালোবাসেন তেমনই তিনি সেই স্থবির ধনুর্বাণটিকেও, এমনই তিনি মহোদয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28794841 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28794841 2008-05-06 15:52:23
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ : ৩ আপনাদের কাছে আমার একটা সনির্বন্ধ নিবেদন রয়েছে। সহৃদয় কেউ যদি আমাকে বাংলাদেশে প্রকাশিত লেখাটার একটা কপি উপহার পাঠান তবে আমি খুব উপকৃত হব এবং তাঁর কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আমার e-mail ID : )


পুনশ্চ আল্ মিৎরা বলল, প্রভু, বিবাহ সম্পর্কে তুমি আমাদের কিছু বল
জবাবে সে বলল:

একই সঙ্গে তোমাদের জন্ম, একই সঙ্গে তোমাদের সহবাস হবে অনন্তর
মৃত্যুর ধবলশুভ্র ডানায় তোমাদের জীবনদিবস ছিন্নবিচ্ছিন্ন হলেও তোমাদের সহবাস হবে নিরবিচ্ছিন্ন, অনন্ত অনন্তর
এমন কি ঈশ্বরের নির্ভাষ স্মৃতিতেও তোমরা অক্ষয় অমর রয়ে যাবে, চির অনন্ত অনন্তর।
তোমাদের সেই নিবিষ্ট নিরবিচ্ছিন্নতা যেন ব্যবধানের অবকাশে
তোমাদের মাঝে তা তা থৈ থৈ নেচে বেড়ায় ঐশী বাতাসে।
তোমাদের পরস্পরের ভালোবাসা যেন আবদ্ধ হয় না কখনও ভালোবাসার বন্ধনে:
তোমাদের অন্তর্সত্তার বেলাভূমে যেন সমুদ্রের তুফানতরঙ্গ এসে আছড়ে পড়ে ভালোবাসার উদ্বোধনে
তোমরা পরস্পর পরস্পরকে পানপেয়ালা ভরে দিও, এক পেয়ালা থেকে সুধা পান কোরো না কখনও একসঙ্গে
তোমরা পরস্পর পরস্পরকে রুটী সম্প্রদান কোরো, এক রুটীখণ্ড থেকে ভোক্ষণ কোরো না কখনও একসঙ্গে
তোমরা একই সঙ্গে নাচো গাও ষ্ফূর্তি কর, তবুও একাকীত্বের নিঃসঙ্গতায় একে অপরের থেকে স্বতন্ত্র হও
বাদ্যবীণার তন্ত্রী যেমন একাকীত্বের নিঃসঙ্গতায় একই সঙ্গীতের ঐকতানে ঝঙ্কৃত হয়, তোমরা তেমনই ভালোবাসার সুরতানে একই সঙ্গে মূর্চ্ছিত হও।

হৃদয়মন সমর্পণ কর একে অপরের কাছে, বিকিয়ে দিয়ো না কেউ কারো কাছে
হৃদয়মন তো জীবনের করপুটেই সমর্পিত হ’য়ে আছে
এবং হাতে হাত মিলিয়ে নিবিষ্ট হও, তবুও ব্যবধান থাকুক আগে পিছে।
দেবালয়ের স্তম্ভশ্রেণী পরস্পর থেকে দূরত্বেই খাড়া হয়েই থাকে
ওক ও সাইপ্রেস বৃক্ষ কখনই একে অপরের ছায়ায় বেড়ে ওঠে না নির্বিপাকে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28794031 http://www.somewhereinblog.net/blog/Kayzzaman/28794031 2008-05-04 11:39:51
দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ : ২

এইসব বলল সে। না বলা যে রয়ে গেল অনেক কিছুই
হায়! কিছুতেই বলা হ’ল না তার অন্তরাত্মার গভীর গোপন অনেক কিছুই।

যখন প্রবেশ করল সে নগরে
তার দর্শনলাভের ব্যাকুলতায় আবালবৃদ্ধবণিতার আকুল আহ্বান ধ্বনিত হ’ল সমস্বরে।
নগর জনপদবাসী বয়োজ্যেষ্ঠজনরা এগিয়ে এল তার সম্মুখে, তার উদ্দেশ্যে বলল:
তুমি এখনই ছেড়ে চলে যাবে না আমাদের, তুমি বল
তুমি সায়াহ্ণকালের মধ্যাহ্ণজোয়ার, তোমার জীবনযৌবনই স্বপ্ন দান করেছে স্বপ্নদর্শনের আমাদের
তুমি অনাত্মীয় নও অজ্ঞাত অতিথিও নও, তুমি পুত্র তুমি প্রিয়তম আমাদের
তুমি আমাদের চোখের জলে ভাসিয়ে যেও না, তোমারই মুখদর্শনের ক্ষুধার্ততা যে আমাদের।

এবং যাজক যাজিকারা তার উদ্দেশ্যে বলল:
আমাদের যেন বিচ্ছিন্ন না করে সমুদ্রের এই তুফানতরঙ্গ। জীবনভোর সম্বৎসরকাল কাটিয়েছ আমাদের মাঝে তুমি, তার স্মৃতি যেন স্মরণে বিস্মরণে রয়ে যায় অমলিন, তুমি বল
আমাদের মধ্যে হেঁটে বেড়িয়েছ তুমি তোমার সর্ব্বাত্মায়
আমাদের মুখাবয়ব উজ্জ্বল উচ্ছল আলোকিত হয়েছে তোমার প্রপতিত সেই ছায়া উপচ্ছায়ায়।
কত ভালোবেসেছি আমরা তোমাকে নির্ব্বাক নির্ভাষ ভালোবাসার উপচার অবগুন্ঠনে
এখন তা চিৎকৃত রোদনে বিলাপ করছে তোমার সম্মুখে নিরাবৃত অনবগুন্ঠনে
বিচ্ছেদক্ষণেই কি ভালোবাসা অতলান্ত গভীরতায় বিদিত হয় চিরন্তন,
অলোখনিরঞ্জন কি সেই ভালোবাসা মন্থন?
এবং আরও কতশত জন এল বিনতি করল তাকে। নিরুত্তর রইল সে কোন জবাব এল না তার কাছ থেকে। শুধু সে আনত করল মস্তক তার, সম্মুখে যারা যারা দাঁড়িয়েছিল তারা শুধু লক্ষ্য করল বক্ষ বেয়ে তার প্রবহমান অশ্রুধারা।
সে এবং সমুদয় মানুষজন অগ্রসর হ’ল দেবালয় চত্বরের দিকে, জনে জনে তারা।

এবং উপাসনার অভয়ারণ্য থেকে বেরিয়ে এল রমণী আল্ মিৎরা, সে ভবিষ্যবাদিনী
পরম করুণার দৃষ্টিতে তার পানে তাকিয়ে দেখল সে। সে-ই প্রথম পরম প্রার্থিতা, নগরের প্রথম দিন থেকেই সে তার একান্ত অনুগামী, সে পরম সম্ভাষিণী
সম্ভাষণ করে সে বলল:

হে পরমপিতার প্রাণিত দরবেশ! সর্ব্বোচ্চ ও স