somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে স্মৃতি আমাকে ভাবায়

১৭ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৩:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুবাইতে প্রবাস জীবনের পার করলাম ১টি বসন্ত। এর মাঝে হারিয়েছি অনেক। পেয়েছি অনেক না পাওয়া কিছু। কিছু স্মৃতিগুলো আমাকে নষ্টালজিয়ায় ঘিরে ফেলে। আবার কিছু পাওয়া আমাকে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখায়। মনে পড়ে দেশে থাকতে সকালবেলায় ঘুম ভেঙে মায়ের মুখ দেখে চোখ খোলা। কাকদের ছন্দের সাথে আহ্বান। সূর্য্যিমামার সাথে সাথে নিজের প্রস্তুতি। অফিসে গিয়ে পত্রিকায় চোখ ভুলানো। নিজের লেখা কোন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে দেখতে অস্থিরতা। আর ছাপা হলে বিশ্বজয় করার আনন্দে উল্লাসিত হওয়া। দুপুরবেলা সাপ্তাহিক নবদ্বীপ অফিসে বাড়ই বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা। কিংবা সন্ধ্যা সাঁঝে নিজের ঠিকানা মাসিক মুকুল অফিসে ঝাল মুড়ির আয়োজন। কখনোবা প্রভাষক জালাল ভাই, প্রভাষক ফয়ছল ভাই, প্রভাষক খালেদ ভাই ও শিক্ষক তুহিন ভাইয়ের কণ্ঠে আমার অফিস সুরের ছোঁয়ার মুখরিত হওয়া। মনে পড়ে ছড়াকার লোকমান আহম্মদ আপন ভাইয়ের সাথে খেলাঘর নিয়ে স্কুলে গিয়ে বাচ্চাদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনানো। কখনো বা জমে যেতো নোটিশহীন সাহিত্য-আড্ডা। কিংবা ক্ষুদে নবদ্বীপ খ্যাত বিয়ানীবাজারের বৌদ্ধিক অভিভাবক আলী আহমদ স্যারের অফিসে ছুটে যাওয়া। ওখানে গেলেই তেলের সাথে সাবান ফ্রি অফারের মতো সর্বজনাব অধ্যক্ষ সুলতান কবীর, প্রধান শিক্ষক জিয়া উদ্দিন, আব্দুল হান্নান সহ উপজেলার সকল শিক্ষাবিদদের সান্নিধ্য লাভ। কিংবা ভ্রমণ প্রেমী ফয়জুল হক স্যারের দেশ ভ্রমনে আগ্রহ। ছুটে যাওয়া সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেটের সকল ঐতিহ্যবাহী স্থানে। ভ্রমণ স্টোরি গুলো যতন করে নেওয়া নিজের সাধের কলস ভরে। এখনো মনে পড়ে সাহিত্য সভার খবর পেলে বিয়ানীবাজার থেকে সিলেট সদরের শহীদ মিনান চত্বর কিংবা কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ এ কবিতাপাঠে ছুটে যাওয়া। বৈকালে সুরমা নদীর ঢেউয়ের খেলা দেখা। শেষ বিকেলে সিলেটের ডাক, জালালাবাদসহ পত্রিকার অফিসসে ঢুঁ মারা। দৈনিক জালালাবাদে গেলে কবি আব্দুল মুকিত অপি ভাইয়ের কাছ থেকে তাগদা পাওয়া বিয়ানীবাজার রোটারেক্ট ক্লাব গঠনের। উনার সেই অসম্ভব তাড়ায় শেষমেষ রোটারেক্ট অঙ্গনে ঢুকা।

সংগঠক ও সাংবাদিক আল-আজাদ এবং সাইদুর রহমান সাঈদ ভাইয়ের কল্যাণে ঢাকায় ছড়া উৎসবে যাওয়া। পরে নিজের ছড়া পাঠ করে দেশের নামকরা ছড়াকারদের প্রশংসা পাওয়া। ভুলা যায়না কবি, লেখক ও গবেষক মোহাম্মদ ফয়জুর রহমানকে। আমার সৃজনশীল অভিভাবকও যাকে বলা যায়। যে স্মৃতি বারবার চলে আসে তা আমাদের হোসাইন ভাই। মুকুলের সাবেক সম্পাদকীয় উপদেষ্ঠা। রঙিন মনের এই মানুষটাকে হাজার মানুষের ভীড়ে খুঁজে ফিরি আজো।

অনেক কিছু আজো আমাকে কাঁদায়। ভাবায় আমি কি আর হৈ-হুল্লুড় করতে পারবো বাড়ির পাশে জমে ওঠা বান্নি বা রথমেলায়। মেলাগুলো হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব হলেও ধর্ম-বর্ণ নির্বেশেষে আমাদের মিলন মেলায় রূপ নিতো। প্রশ্ন করি নিজেকে দেশে গেলে কি পারবো আগের মতো ডাক বাংলোয় সাহিত্য সভার আয়োজন করতে। নাকি ব্রতচারীর আদর্শে নিজেকে ছড়িয়ে দিতে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যাওয়া। এখন কি আর সেই সময় আসবে যে আবারো ঢাকার ছায়ানট থেকে কলকাতায় ব্রতচারী দীক্ষা নিতে ও দিতে যাওয়া।

আকাশছোঁয়র স্বপ্ন দেখায় আমাকে প্রবাসের অনেক কিছু। তার মাঝে ইন্টারনেটে দেশ-বিদেশের বন্ধু-বান্ধব ও সমমনাদের সাথে যোগাযোগ। প্রবাসের হাড়ভাঙা খাটুনির পরও আমার মাসিক মুকুল চালিয়ে যাওয়া। দুবাইতে বিদ্যুতের যন্ত্রণায় ভুগতে হয়না। ভুগতে হয়না তথ্য-প্রযুক্তির অপূর্ণতায়। হাজার অচেনা মুখের ভীড়ে খুঁজে ফিরি নিজের চেনা জনকে। ইট-দেয়ালের এই শহরে মানুষগুলো কেমন যেন নির্দয়। এটা কি প্রবাস জীবন? পাওয়া আরা হারানোর ব্যথায় নিজেই নিজেকে বলি কেউ ভুলে, কেউ ভুলেনা...

৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×