somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমিরাতের বাঙালি সফলজনেরা

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লুৎফুর রহমান

সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব কোণায় সাতটি স্বাধীন রাষ্টের একটি ফেডারেশন। আমিরাতের সাতটি স্টেট আবুধাবী, আজমান, দুবাই, শারজাহ, রাস আল খাইমাহ, ফুজাইরাহ ও উম্ম আল খাইওয়ম এর বুকে প্রায় ৯ লাখ বাঙালি অভিবাসী বাস করছেন। বিভিন্ন পেশার মাধ্যমে নিজেদের কৃষ্টিকে উপস্থাপন করছেন আমিরাতের বুকে। রয়েছে সুসংগঠিত বাঙালি কমিউনিটি। আর প্রবাসী বাঙালি জনগোষ্ঠীর যারা প্রেরণার উৎস, চিন্তার খোরাক তারা আপন ভূবনে আপন আলোয় আলোকিত। এখানে বাঙালি কমিউনিটিতে রয়েছে আঞ্চলিক সংগঠন। আছে রাজনৈতিক সব দল। তার মধ্যে একেক দলের আবার বিভিন্ন গ্রপও রয়েছে। আমিরাতের এমন ক’জন বাঙালি সফলজনের সাতকাহন তুলে ধরবো এই লিখায়। এটা পরিপূর্ণ কোনো লেখা নয়। এখানে অনেকের নাম ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও যথাযথ তথ্যের অভাবে বাকি রয়ে গেছে। আশাকরি ক্রমান্বয়ে উনাদের নাম স্থান পাবে। আর এতে সচেতন পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মুক্তিযুদ্ধে আমিরাতের প্রবাসীরা
যুদ্ধ সময় এসেছে সাগরে। পাল তুলেছে নাবিক ঢেউ তুলা সাগরে। আরব আমিরাতে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার হাওয়া লাগে। আর সেই একি পাল তোলা জাহাজে হাওয়া লেগে বাঙালী পাড়ায়। ১৯৭১ এর পূর্বে যারা এদেশে এসেছেন সবার পাসপোর্ট ছিল পাকিস্তানী। কিন্তু সকলের একটি নতুন স্বপ্নের হাতছানিতে দেশ স্বাধীনের প্রাক্কালে মাটি ও মানুষের পাশে দাঁড়ায় আমিরাতের বাঙালি সমাজ। শুরু হয় অর্থ সংগ্রহ ও প্রেরণের কাজ। সবাই যার যার জায়গা থেকে অর্থ পাঠাতে থাকেন। আবার কেউ দেশে ছুটিতে গেলে মুক্তিযুদ্ধের কারণে আসতে পারেননি তাই রণাঙ্গণে নাম লিখিয়েছেন। অর্থ সংগ্রহ ও যুদ্ধে অংশগ্রহণে আমিরাতে বসবাসরতদের মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেটের বাসিন্দাদের ভূমিকা অনন্য। অন্যান্য এলাকার লোকেরাও বিছ্ন্নিভাবে কাজ করে গেছেন। যুদ্ধ শুরু হলে চট্টগ্রামের বাসিন্দা কবির ট্রেডিং এর মালিক কবির আহমদ ও সিলেট বাসিন্দা আল-আইন শহরস্থ হারুন পারফিউমের আব্দুর রাজ্জাক এর তত্ত্বাবধানে এ মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়। তাছাড়া তখন থেকেই আমিরাতে বসবাসরত পাকিতস্তানীদের সাথে মনোমালিন্য শুরু হয়ে যায় বাঙালিদের। বিচ্ছিন্নভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন ও অর্থ প্রেরণের কাজ অনেকেই করে গেছেন। কিন্তু যথাযথ তথ্য প্রমানের অভাবে আজ সেদিনগুলোর কথা খুব উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

আমিরাতের বাঙালি সফলজনেরা
বাংলার মাটি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন এমন ক’জন লোক-ই এখানকার সফলজন। এরা নিজের সংসারের চাকা সচল করে বাঙালির নামকেও বিশ্বদরবারে উচু করে রেখেছেন। নিজের পেশাগত সেবার পাশাপাশি বাঙালি কমিউনিটির সেবা করে যাওয়া এক সফলজন ডা. আব্দুল মজিদ। বাড়ি সিলেটে। কর্ম নিয়ে আছেন দুবাই হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের আসনে। নাম কুঁড়িয়েছেন অনেক। দিয়েছেন কমিউনিটি সমাজকে ঢেলে। উনার স্ত্রীও একজন নামকরা ডাক্তার। আরেক সফলজন মাটি ও মানুষের অকৃত্রিম স্বজন মাহতাবুর রহমান নাসের। বিশ্বখ্যাত পারফিউম কোম্পানী “আল হারামাইন পারফিউম’’ এর স্বত্ত্বাধিকারী। তাছাড়া ইউনাইটেড এয়ারএয়েজের সফল পরিচালক। প্রবাসী বাঙালির দুর্দিনের সাথী জনাব নাসের সবসময় কমিউনিটির সব অনুষ্ঠান, বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানে দানসহ যার কেউ নাই বা অর্থাভাবে লাশ দেশে পাঠাতে পারছেনা তার লাশ বিনা খরচে দেশে পাঠিয়ে যাচ্ছেন অনেক দিন ধরেই। তাছাড়া বাংলাদেশী স্কুলগুলোতে সিংহভাগ অর্থদান করেই আসছেন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে জনাব নাসের একটি নাম ও ভরসাস্থল। দেশের একসময়কার সরকারী কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম খান। বাঙালি কমিউনিটির একজন আপনজন। কাজ করেন দুবাই সরকারের পানি ও বিদ্যুৎ বিভাগে। সকল ছোট সভা থেকে নিয়ে বড় সভা পর্যন্ত থাকে সালাম খানের সরব বিচরণ। কাজ করে যান নিরবে। বাংলাদেশ কমিউনিটির বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশ সমিতি। এই সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রফিক সিকদার। তিনি আবুধাবীতে বসবাসকারী বাঙালিদের পরমাত্মীয়। কবিতার সাথে বসবাস করেও কমিউনিটিকে ধরে রেখেছেন সুচারুভাবে। কাজ করে যাচ্ছেন রাস আল খাইমাহ বেতারের বাংলা বিভাগের মহা পরিচালক হিসেবেও। দেশের এক সময়কার মানুষ গড়ার কারিগর অধ্যাপক আব্দুস সবুর। আমিরাতে কমিউনিটি সমাজ গড়ার এক বলিষ্ঠ নেতা। সাহিত্য-সংস্কৃতির যে কোনো অনুষ্ঠানে উনার বিশেষ আগ্রহে প্রবাসী সংবাদ ও সাহিত্য কর্মীরা স্বপ্নবুনেন নানারঙে। দুবাই শহরে আছেন সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল করিম ও ফখরুল ইসলাম। দুজনই সফল পুরুষ। বাংলার জন্য আর্থিক কাজ করতে দ্বিদাবোধ করেননা। একি সংগঠনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এম আব্দুল্লাদের নাম ও গর্বভরে চলে আসে। কমিউনিটি পাড়ায় একনিষ্ট এক নেতার নাম আল মামুন সরকার। দুবাই থেকে শারজাহ। আবার শারজাহ থেকে আবুধাবী আমিরাতের এদিক-ওদিককার সমস্যা সমাধানে নিরন্তর পথচলা তাঁর। শারজাহতে আছেন ড. নূর মোহাম্মদ। নূর ক্লিনিকের স্বত্ত্বাধিকারী। নাম করেছেন আপন কর্মে। রয়েছেন বাংলাদেশ সমিতি শারজাহ শাখার সভাপতি হাফেজ আব্দুল হক এবং কমিউনিটি নেতা ব্যবসায়ী শিহাবুল আম্বিয়া। শারজাহ শহরের বাঙালিদের আরেক আপনজন ছিলেন প্রয়াত ড. নূরুন নবী। দুবাই শহরেরও অলি-গলির প্রিয় মানুষ ছিলেন মরহুম আলহাজ্ব মকবুল হোসাইন। আজ উনারা নেই কিন্তু বাঙালি পাড়ায় তাদের স্মৃতি আজো বেঁচে আছে। যতদিন বাঙালি সমাজ থাকবে ততদিন-ই কর্মের মাঝে তারা বেঁচে থাকবেন। রাস আল খাইমার সফলজন পিয়ার মোহাম্মদ। রাস আল খাইমাহ বাংলাদেশ স্কুল থেকে নিয়ে প্রতি ক্ষেত্রে রয়েছে সফল বিচরণ। এছাড়াও আছেন বর্তমানে ইউএই এক্সচেঞ্জে কর্মরত আমিরাতের সাবেক রাষ্টদূত নাজিমুল্লাহ চৌধুরী। বর্তমানে দুবাইতে ইউএই এক্সচেঞ্জে’র বাংলাদেশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার আসনে আছেন। এছাড়া রয়েছেন-দুবাই চিড়িয়াখানার মহাপরিচালক ড. রেজা খান, ইঞ্জিনিয়ার এসোসিয়েশেনের সভাপতি প্রকৌ. মশিউর রহমান, ড. আতিয়ার রহমান, ড. জহিরুল ইসলাম, কমিউনিটি নেতা ইফতেখার হোসেন বাবুল, জাওয়াদুর রহমান ও কাজী মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে আলোকিত নারীরাও অবদান রাখছেন এখানে তাদের মহিলা নেত্রী কাওসার নাজ চৌধুরী ও লেখিকা-শিক্ষিকা মোস্তাকা মৌলা উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া বর্তমানে আমিরিকা প্রবাসী মহিলা নেত্রী ফয়জুন নাহার লীনাও একজন সফল নারী। কাজ করেছেন অনেকদিন দুবাইতে। এখন নিউইয়র্কে বাস করছেন।

বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান সংগঠন আশার আলো
এখানকার বাঙালি প্রতিষ্ঠানদের মধ্যে আবুধাবীতে শেখ খালিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল, বাংলাদেশ ইসলামীয়া স্কুল রাস আলখাইমাহ অন্যতম। দুবাইতে বাংলা স্কুল থাকলেও কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। আবারো দুবাইতে স্কুল স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখানে সামাজিক সংগঠনের মধ্যে বাংলাদেশ সামিতি আবুধাবী ও বাংলাদেশ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রাস আল খাইমাহ বিশাল জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া আঞ্চলিকভাবে সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ আমিরাত শাখা খুবই সচল। এর সাথে পাল্লা দিয়ে জেগে ওঠেছে বরিশাল বিভাগ পরিষদ। কিন্তু চট্টগ্রামের বিশাল জনগোষ্ঠীর কেন্দ্রস্থল আমিরাতে নেই কোন চট্টগ্রামী সংগঠন। তবে তাবলীগ কমিটির নামে ইসলামী অনুষ্ঠান মিলাদ ও দোয়া মাহফিল চলে নিয়মিত।

আমিরাতে বাঙালি সফলজনেরা প্রবাসী বাঙালিদের পরম আপনজনও। এদের বর্ণিল জীবনের বাঁকে রয়েছে নানা কর্মময় ঘটনা। এখানে পরিচয় করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এমন ক’জন সফলজনদের। এদের বাইরেও অনেক থেকে গেছেন। উনাদের জীবন কাহিনী লিখার অপেক্ষায়। এজন্য চাই সকলের অকৃত্রিম সহযোগিতা। নিচের ইমেইলে জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো।

লেখক: সম্পাদক, মাসিক মুকুল, দুবাই। [email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:৪১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×