মানুষ ঘুমানোর জন্য কত হাবিজাবি ঘাসপাতা বড়িটড়ি খায়। মেডিটেশন- এক্সারসাইজ- ডাক্তার কতকিছু করে। কিন্তু আমি অনেক ডাক্তারকে অনেকবার জিজ্ঞেস করেছি- ঘুম কমানোর কোনো ওষুধ নেই?
আমি একেবারে পেটভরে ঘুমাই। এই ঘুম আশেপাশের বহু মানুষকে বহুবার বেক্কল বানালেও গতকাল আমাকে বানিয়ে দিয়েছে রাম বেক্কল
বন্ধের দিন বিষুদবার রাতে ঘুমিয়ে শুক্র- শনি পার করে রোববার সকালে উঠেছি বহুদিন। আশেপাশের লোকজন এটা জানে। এই ক্ষুদ্র ঘুমে আমি বিড়ি খাওয়া এবং ফোনে কথা বলা ছাড়া কিছুই করি না। বিড়িতে কোনো প্রব্লেম এখনও হয়নি কিন্তু ফোনে নাকি বেশ ঝামেলা হয়। আমি নাকি পরে মনে করতে পারি না কার সাথে কী কথা বলেছি। এমনকি কারো কারো সাথে যে আমার কথা হয়েছে সেটাই নাকি বেমালুম ভুলে যাই
সকালে উঠার জন্য দুইটা মোবাইলে তিন মিনিট পরপর ছয়টা এ্যালার্ম দিয়ে রাখি। একটু দূরে রাখি ঘড়ি। কিন্তু ঘুমের মধ্যেই সবগুলো অফ করে দিয়ে এসে আবার ঘুমাই। ...একটা বাইদানি আছে। সকাল বেলা পাঁচ মিনিট পরপর ফোন করে। উঠার প্রমাণ হিসেবে তাকে ফোনে বাথরুমের দরজা খোলার শব্দ না শোনানো পর্যন্ত ফোন করতেই থাকে। কিন্তু তারপরও প্রায় দিন আমি সব ঝামেলা পার করে দিয়ে এসে আবার ঘুমাই। প্রায় দিনই তারপরেও আমি ঘুমাই
ঘুমের মধ্যে আমাকে কেউ টাচ না করলেই হলো। টাচ করার সাথে সাথে ঘুম ভেঙে যায়। এছাড়া আশপাশে দুনিয়া জ্বলে গেলেও আমার কোনো ঝামেলা হয় না। মাত্র কিছুদিন আগে আমার ছোটভাই কলিং বেল টিপতে টিপতে শেষ পর্যন্ত দরজার লক ভেঙে বাসায় ঢুকেছে। আমি শুধু সকাল বেলা উঠে দেখলাম দরজাটা ভাঙা এবং আমার দুই ফোনে তার পঞ্চাশটার মতো মিসকল
আমার ঘুমের একটা বড়ো অংশ কাটাই গাড়িতে। ট্রেনে চড়ে নামব লাকসাম; নেমেছি চিটাগাং। বাসে করে নামব বগুড়া; চলে গেছি দিনাজপুর। ...লং রুটের এইসব ইতিহাসতো আছেই। তার উপর প্রতিদিনের শর্ট রুটের চার- সাড়ে চার ঘণ্টা জার্নির আশি ভাগই আমি কাটাই ঘুমে
গত কয়েক বছর ধরে আমি কামলা খাটি গুলশান এলাকায়। বছর চারেক আগে পর্যন্ত গুলশান থেকে ছোট একটা এসি বাস কমলাপুর পর্যন্ত যেতো। বাসটা দারুণ। বসলে সিটের রেলিং একেবারে ঘাড়ের কাছে এসে ঠেকত এবং বাসের ঝাঁকুুনির সময় রেলিংটা ম্যাসেজারের কাজ করত। প্রায় বিকেলেই এই বাসে আমি ঘুমানোর জন্য উঠতাম। গুলশান থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। লাস্ট স্টপেজে গিয়ে ওরা আমাকে ডেকে তুলত। আর আমি নেমে এক কাপ চা খেয়ে তারপর যেখানে যাওয়া দরকার চলে যেতাম রিকশায়...
সেই বাসটা এখন নেই। তাই অন্য বাস ধরে টানা তিন বছর আমাকে বেইলি রোডে যেতে হতো। ওখানে একটা নাইট ইস্কুলে আমি পড়তাম। কিন্তু ৮০% ক্ষেত্রেই আমি বেইলি রোড নামতে পারিনি। হয় নেমেছি কাকরাইল- না হয় পল্টন- না হয় ফকিরাপুল। না হয় একেবারে মতিঝিলে ওদের লাস্ট স্টপেজে...
কিন্তু গতকালের ঘটনা আরেক কাঠি সরেস। বিকেলের জ্যাম শুরু হবার আগেই বের হয়ে গেলাম। যাব শাহবাগ। এখন গুলশান থেকে শাহবাগ সরাসরি কোনো গাড়ি যায় না। মৎস্য ভবন নেমে হয় হেঁটে; না হয় অন্য বাস ধরে যেতে হয় শাহবাগ
পোনে পাঁচটায় বাসে উঠলাম গুলশান এক নম্বর থেকে। এটা মহাখালি- মগবাজার- বেইলি রোড- কাকরাইল হয়ে প্রেস ক্লাবের দিকে যায়। আমি নামব মৎস্য ভবন। ...একটু পরে তাকিয়ে দেখি গুলশান দুই নম্বর দেখা যায়। এই বাসতো গুলশান দুইয়ে আসার কথা না। তাহলে?
ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা বাজে। তার মানে বাস আমাকে নিয়ে মতিঝিল গিয়ে আবার পেসেঞ্জার নিয়ে ঘুরে চলে এসেছে গুলশান। এবং এই পুরো চক্করের মাত্র কয়েকটা সেকেন্ড আমি ছিলাম ঘুমে....
২০০৮.০৫.১৪ বুধবার

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


