এখানে কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল নেই কিন্তু কী কারণে যেন আজ সিগন্যাল পড়ায় গাড়িটা দাঁড় করাতেই হলো। একেবারে সেই রাস্তাটার সামনে। এর আগে এখান দিয়ে গেলে এদিকে তাকে তাকাতেই হতো। এখানেই রতন থাকতো সারাদিন। রতনকে দেখার জন্যই প্রতিদিন অদরকারেই এই রাস্তা ধরে প্রতিদিন কয়েকবার গাড়ি ঘুরিয়ে চক্কর খেতো নায়লা। নায়লা রতনকে দেখতো। কিন্তু রতন তাকাতোও না। তাকানোর কথাও না। হয় সে মাটির দিকে তাকিয়ে বসে থাকতো নাহলে বসে বসে বই পড়তো একমনে
তারপর আর এদিকে খুব একটা আসা হয়নি নায়লার। রতন আর এ শহরে নেই। কিন্তু ট্রাফিক জামে গাড়িটা থামতেই নায়লা জায়গাটার দিকে তাকিয়ে চমকে উঠল। ইটের স্তূপে হেলান দিয়ে বই পড়ছে রতন। মাথায় উলের ক্যাপ। কালো জ্যাকেট। হাতে বোনা সাদা আর নীল উলের মোটা মাফলার গলায়। পায়ে বুট। নায়লা গাড়িটা রাস্তার পাশে থামিয়ে নামে। গাড়ি নিয়েই তার কাছে যাওয়া যায়। কিন্তু পায়ে হেঁটেই পৌঁছাতে চায় তার কাছে। নায়লা আস্তে আস্তে ইটের স্তূপের কাছে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু এখানে এখন আর কোনো ইট নেই। একটা নতুন সুনশান দালান। চারপাশে কোথাও কোনো ইটের স্তূপ নেই। কিন্তু সে স্পষ্ট দেখেছে রতন বসে আছে ইটের স্তূপের উপর হেলান দিয়ে। হতো রতন দালানের বারান্দায় বসে ছিল। পুরোনো অভ্যাসের কারণে সে দালানের বারান্দাকে ইটের স্তূপ দেখেছে। কিন্তু রতন গেলো কোথায়। তবে কি তাকে আসতে দেখে সে অন্যদিকে চলে গেছে? কিন্তু সে তো রতনের উপর চোখ রেখেই এক পা দু পা করে এগোচ্ছিল
দূরে একটা পিয়ন মতো লোককে দেখে নায়লা এগিয়ে যায়- কালো ক্যাপ আর কালো জ্যাকেট পরা একটা ছেলে এখানে বসা ছিল। কোনদিকে গেলো বলতে পারেন?
- কালো ক্যাপ আর কালো জ্যাকেট?
- গলায় সাদা আর নীল রংয়ের উলের মাফলার
দেখেছে কি দেখেনি সে ব্যাপারে পিয়োন মতো লোকটা কিছু বলে না। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে নায়লার দিকে। নায়লা আবারো রতনের পোশাকের বর্ণনা করে। কিন্তু লোকটা কোনো উত্তর না দিয়ে নায়লার আগা মাথা কয়েকবার তাকায়। উত্তর না পেয়ে যখন নায়লা ঘুরে দাঁড়ায় পেছন থেকে লোকটার গলা শুনতে পায়- ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি আছে। দেবো? একটু ফ্যানের নিচে বসবেন?
নায়লা চমকে উঠে। প্রচণ্ড গরম এখন। বহুদিন বৃষ্টিও হয়নি এখানে। অথচ সে লোকটাকে বলেছে কালো জ্যাকেট আর মাফলার পরা কাউকে দেখেছে কি না। কিন্তু এভাবেই তো সে রতনকে পরিষ্কার দেখল একটু আগেই...
২০০৫.১২.১৬ শুক্রবার

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

