somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আহা-হা গোড়াটা! হুজুরের গোড়া...

০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'অশ্রুনদীর সুদূর পারে ঘাট দেখা যায় তোমার দ্বারে... নিজের হাতে নিজে বাঁধা ঘরে আধা বাইরে আধা...' আবার তিনিই লিখেছেন 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলোরে...'।

রবীন্দ্রনাথ লিখে গেছেন, আমাদের উপলব্ধি করানোর প্রচেষ্টাও করে গেছেন। তবুও আমরা পারিনি। ভয় পাই। আমাদের মেরুদণ্ড কতো ডিগ্রি কোণে বেঁকে গেছে তা উপলব্ধি করতে ভয় পাই। বগলের তলায় বড় বড় ডিগ্রি নিয়ে মেরুদণ্ডহীন আমাদের যাপিত জীবন। শিক্ষা কি আমাদের এই শিক্ষাই দিয়েছে?

নজরুলের সেই কবিতাটার কথা কি মনে আছে?

সাহেব কহেন, “চমৎকার! সে চমৎকার!”
মোসাহেব বলে, “চমৎকার সে হতেই হবে যে!
হুজুরের মতে অমত কার?”

সাহেব কহেন, “কী চমৎকার,
বলতেই দাও, আহা হা!”
মোসাহেব বলে, “হুজুরের কথা শুনেই বুঝেছি,
বাহাহা বাহাহা বাহাহা!”

‘ইয়েস স্যার ইয়েস স্যার’ বলতে বলতে আমরা মুখে ফেণা তুলে ফেলি। ঊর্ধ্বতনের কোনো কথার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করিনা, চন্দ্র-সূর্য যত দিন থাকবে, ততদিন করবোও না!

স্যার হাসেন... আমরা হাসি... স্যার বলেন...। উদ্দেশ্য একটাই নিজের আখের গোছানো, সীমাহীন চাটুকারিতা দ্বারা হাসিল করা নিজ নিজ স্বার্থটুকুন। আমাদের ভালোবাসা বা আনুগত্য এত প্রবল যে ক্ষমতাবানের কোনো ভুল পদক্ষেপই আমাদের চোখে পড়ে না। আমরা কেবল বলে চলি- সাধু সাধু।

জীবনে উন্নতির উপায়, ভালো চাকুরিজীবী হইবার দুইটি সূত্র সেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি। মোসাহেবি সূত্র।

সূত্র ১: নির্ভুলতাই কর্তার ধর্ম।
সূত্র ২: যদি কর্তা কোনো ভুল করেন, তাহলে ১ নম্বর সূত্র দ্রষ্টব্য।

ওই যে বললাম সাহেব হাসেন... আমরা হাসি...। সাহেব বলেন... আমরা শুনি...।
এই একবিংশ শতকে এসেও কী নির্মল চাটুকারিতা। এই উত্তর আধুনিকতায় চাটুকারিতা আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢোকে গেছে। লোহিত কণিকার সঙ্গে মোসাহেবি, তোষামোদ আর হুজুর হুজুর কণিকা নামের হাজারটা কণিকা প্রবাহমান। তোষামোদের নির্মল মাদকতায় উতলা হয়ে যান উপর ওয়ালাও। ইহারা সব সাহেব! ইহারা হুজুর। ইহারা ব্রাহ্মণ। সব কাজের কাজি।

আবার নজরুলের কবিতায় ফিরে আসি।

সাহেব কহেন, “আরে ম’লো! আগে
বলতেই দাও গোড়াটা!”
মোসাহেব বলে, “আহা-হা গোড়াটা! হুজুরের গোড়া!
এই, চুপ, চুপ ছোঁড়াটা!”

সাহেব কহেন, “কি বলছিলাম,
গোলমালে গেল গুলায়ে!”
মোসাহেব বলে, “হুজুরের মাথা! গুলাতেই হবে।
দিব কি হস্ত বুলায়ে?”


আমরা মোসাহেবরা হুজুরদের মাথা গুলিয়ে দেই। গুলিয়ে খাই। উন্নতির সোপান রচনা করি। উন্নতির সোপান! সেখানে আমিই হুজুর। আমিও চাই আসে পাশে হাজারটা মোসাহেব।

আমি হাসবো... অন্যরা হাসবে... আমি বলবো... অন্যরা শুনবে... এই আমাদের নীতি। অন্তর্মুখী নীতি।

সাহেব কহেন, “বসিয়া বসিয়া
পড়েছি কখন ঝিমায়ে!”
মোসাহেব বলে, “এই চুপ সব! হুজুর ঝিমান!
পাখা কর, ডাক নিমাইএ”

সাহেব কহেন, “ঝিমাইনি, কই
এই ত জেগেই রয়েছি!”
মোসাহেব বলে, “হুজুর জেগেই রয়েছেন, তা
আগেই সবারে কয়েছি!”

সাহেব কহেন, “জাগিয়া দেখিনু, জুটিয়াছে যত
হনুমান আর অপদেব!”
“হুজুরের চোখ, যাবে কোথা বাবা?”
প্রণামিয়া কয় মোসাহেব।।


একদিন সত্যিই নজরুলের মতোই হয়তো হুজুর বলবেন- জাগিয়া দেখিনু, জুটিয়াছে যত হনুমান আর অপদেব! তখন এই সমাজের আমার মতো হনুমানরা কোথায় যাবেন? কোথা হবে ঠিকানা?

হয়তো অন্য কোনো হুজুরের সঙ্গে সহবাসের বিছানা খুঁজবো তখন। একটা বিছানা। দশটা বিছানা। অনাদর্শের বিছানা!

লিখতে ইচ্ছে করছে। অনেককিছু। বলতে ইচ্ছে করছে। অনেককিছু। পারছি না। লেখার প্রবল তাড়না। কিন্তু বেরোচ্ছে না কিছুতেই।

মনে আছে না, বুশ সাহেবের কবিতাটা−সেই লরা বুশের ইউরোপ ভ্রমণের সময় জ্যাক শিরাক যখন তার হস্ত চুম্বন করেন, যন্ত্রণাকাতর বুশ লিখলেন−
“Roses are red/Violets are blue/Oh my, lump in the bed/How I”ve missed you,”

বুশ যখন লিখতে পেরেছিলেন, আমিও পারব নিশ্চয়। মনের ভাবটা তো প্রকাশ পেল। সে যতই আবর্জনা হোক না কেন।

আরেকটা কবিতা দিয়ে এই লেখার ইতি টানবো। জাতীয় কবি কাজী নজরুলের লেখা গদ্য কবিতাকে ব্যঙ্গ করে এটি লিখা হয়েছিল।

‘মারলাম তীর
লাগল কলাগাছে,
হাঁটু বেয়ে রক্ত পড়ে
কার বাপের কী?’

পুনশ্চ: লিখাটা রিপোস্ট করার অপরাধ ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×