somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মিথ্যার বেসাতি : নীল আর্মস্ট্রং এর মুসলিম হয়ে ওঠার ইসলামী কল্পকাহিনী মহানবীর ইশারায় দ্বিখণ্ডিত চাঁদ

মক্কায় থাকা অবস্থায় আবু জাহিলসহ অন্য কাফির মুশরিকরা নবী করিম (সা.)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বলল, যদি আপনি আল্লাহর রাসূল হয়ে থাকেন তবে নবুওয়াতের প্রমাণ হিসেবে চাঁদকে দিখণ্ডিত করে দেখান। রাসূল (সা.) বললেন, যদি এই মু’জিযা দেখাই তবে কি তোমরা ইসলাম গ্রহণ করবে? তারা বলল, হ্যাঁ আমরা ইসলাম গ্রহণ করব। রাসূল (সা.) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে স্বীয় পবিত্র আঙুল দ্বারা চাঁদ দিখণ্ডিত করলেন। অর্থাৎ রাসূলের শাহাদাত আঙুল দ্বারা ইশারা করতেই (পূর্ণিমার রাতে) চাঁদের একখণ্ড আবিকুবাইস পাহাড়ে আর অন্য একটি খণ্ড কাইকাআন পাহাড়ে পতিত হয়। আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী পরিমাণ সময় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত অবস্থায় ছিল।

এই দৃশ্য মক্কার কাফির মুশরিকরা স্বচক্ষে দেখেও ঈমান আনার পরিবর্তে বলল, ‘মুহাম্মদ তোমার জাদু দেখি আসমানেও চলে।’ (নাউজুবিল্লাহ) তাদের ধারণা ছিল জাদু যেহেতু জমিনে চলে এবং আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে কোন জাদু চলে না, তাই মহানবী (সা.)-কে অযোগ্য প্রমাণ করার জন্য এবং তাদের হাস্যরসের পাত্র বানাতে আলোচ্য ঘটনার উদ্ভব ঘটায়। কোরআনুল কারিমের সূরাতুল ‘কামার’ এর মধ্যে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

এত বড় বিশাল চাঁদের দিখণ্ডিত হওয়ার অলৌকিক দৃশ্য দেখে তৎকালীন কাফির মুশরিকরা ঈমান গ্রহণ না করলেও আজ দেড় সহস্র বছর পর হলেও গত ১৯৬৭ সালে এক মার্কিন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং নভোযানে গিয়ে চাঁদ দিখণ্ডিত হওয়ার ফাটল দেখে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

লেখক : হাবিবুর রহমান সরকার, দৈনিক যুগান্তর, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ শুক্রবার

নবী চাঁদকে দ্বিখন্ডিত করতে পেরেছিলেন কিনা তা নিয়ে কোন মাথাব্যাথা নেই আমার বরং আপত্তি এই লেখাটির শেষ বাক্য অর্থাৎ নীল আর্মস্টং এর ইসলাম গ্রহণ করার নিকৃষ্ট দাবিটি নিয়ে। কিছুটা কাকতালীয়ভাবে তার ঠিক আগের দিন বৃহস্পতিবার আমার এক ঘনিষ্ট বন্ধু বেশ গর্ব করে নীল আর্মষ্টং এর ইসলাম গ্রহণের খবরটি আমাকে শুনিয়েছিল, তবে তার কথায় “ছোট্ট ও সামান্য” একটি বিচ্যুতি ছিল, সে বলেছিল একজন নয় চাঁদের মাটিতে পা ফেলা দু’জনই অর্থাৎ আর্মস্ট্রং ও অলড্রিন উভয়েই নাকি ইসলাম গ্রহণ করেছিল।

এখন প্রশ্ন হল নীল আর্মস্ট্রং কি সত্যিই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। এর উত্তর হল অবশ্যই ‘না’, এটি সম্পূর্ণ একটি গুজব। মুসলিম ধর্মব্যবসায়ীদের উর্বর মস্তিষ্ক থেকে উৎপন্ন তাদের অন্তঃসারশূণ্য গর্বের নিকৃষ্ট উদাহরণ এটি।

এই গুজবের ডালপালা ছড়াল যেভাবে

এই কাহিনীর দু’টি ভার্সন পাওয়া যায়।

প্রথম কাহিনী: আর্মস্ট্রং যখন চাঁদের মাটিতে হাটছিলেন তখন এক অচেনা ভাষায় অদ্ভুত সুরে তিনি কিছু শব্দমালা শুনতে পান। সেই শব্দমালা সেই সময় তার বোধগম্য হয়নি। পরবর্তীতে পৃথিবীতে ফেরার পর তিনি ইজিপ্টে যান এবং সেখানে আযানের ধ্বনি শোনেন। তিনি বলেন, “আমি যখন চাঁদে গিয়েছিলাম তখন এরকমই কিছু শুনতে পেয়েছিলাম”। তখন তার ইজিপ্সিয়ান বন্ধু এটিকে আযানের ধ্বনি জানালে তিনি তৎক্ষনাৎ ইসলাম গ্রহণ করেন।

দ্বিতীয় কাহিনী: আর্মস্টং যখন চাঁদের মাটিতে তথ্যানুসন্ধান করছিলেন তখন তিনি চাঁদের মাটিতে এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত একটি লম্বা দীর্ঘ ফাটল দেখতে পান। এই ফাটলের সাথে তিনি তিনি মুহাম্মদের চাঁদ দ্বিখন্ডিত করার কাহিনীর যোগসূত্র খুঁজে পান। মুহাম্মদের চাঁদ দ্বিখন্ডিত করার কাহিনীর চাক্ষুস প্রমাণ পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরে এসে দেরি করেননি, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। (এখানে একটু বলা প্রয়োজন, মুসলিম ধর্মব্যবসায়ীদের চাঁদের আকার সম্পর্কে সম্ভবত কোন ধারনাই নেই, নয়তো তারা কিভাবে ভাবলেন, চাঁদের এই বিশাল ফাটল দেখার জন্য আর্মষ্টং সত্যিই এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত চষে বেরিয়েছেন?)

এই গুজবের অসারতার পক্ষে কিছু প্রমাণ

(১) Answering Islam নামক ওয়েবসাইটে নীচের চিঠিটি পাওয়া গেছে।
Click This Link

In the following some statements about this issue, authorized by Mr. Armstrong, to speak on his behalf.

NEIL A. ARMSTRONG
LEBANON, OHIO 45036

July 14, 1983

Mr. Phil Parshall
Director, Asian Research Center
International Christian
Fellowship 29524 Bobrich
Livonia, Michigan 48152

Dear Mr. Parshall:
Mr. Armstrong has asked me to reply to your letter and to thank you for the courtesy of your inquiry. The reports of his conversion to Islam and of hearing the voice of Adzan on the moon and elsewhere are all untrue.
Several publications in Malaysia, Indonesia and other countries have published these reports without verification. We apologize for any inconvenience that this incompetent journalism may have caused you.

Subsequently, Mr. Armstrong agreed to participate in a telephone interview, reiterating his reaction to these stories. I am enclosing copies of the United States State Department's communications prior to and after that interview.

Sincerely
Vivian White
Administrative Aide

এখানে লেবানন শব্দটি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। অনেকেই ভাবেন আর্মস্টং মুসলিম হয়ে লেবাননে থাকেন। হ্যাঁ, আর্মস্টং লেবাননেই থাকেন, তবে এই লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের লেবানন নয়, এটি আমেরিকার মধ্যপশ্চিমের একটি জায়গা।

(২) নীচের বার্তাটি ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট হতে ইসলামিক বিশ্বের সকল দূতাবাসগুলোতে প্রেরিত হয়েছিল। মূল কপির ফটোকপি দেখা যাবে এখানে।
Click This Link

P 04085 0Z MAR 83 ZEX
FM SECSTATE WASHD C
TO ALL DIPLOMATIC AND CONSULAR POSTS PRIORITY
BI
UNCLAS STATE 056309

FOLLOWING REPEAT SENT ACTION ALL EAST ASIAN AND PACIFIC DIPLOMATIC POSTS DID MAR 02.

QUOTE: UNCLAS STATE 056309
E.O. 12356: N/A
TAGS: PREL, PGOV, US, ID
SUBJECT: ALLEGED CONVERSION OF ENIL ARMSTRONG TO ISLAM
---------------------------------------------

REF: JAKARTA 3081 AND 2374 (NOT ..)

1. FORMER ASTRONAUT NEIL ARMSTRONG, NOW IN PRIVATE BUSINESS, HAS BEEN THE SUBJECT OF PRESS REPORTS IN EGYPT, MALAYSIA AND INDONESIA (AND PERHAPS ELSEWHERE) ALLEGING HIS CONVERSION TO ISLAM DURING HIS LANDING ON THE MOON IN 1969. AS A RESULT OF SUCH REPORTS, ARMSTRONG HAS RECEIVED COMMUNICATIONS FROM INDIVIDUALS AND RELIGIOUS ORGANIZATIONS, AND A FEELER FROM AT LEAST ONE GOVERNMENT, ABOUT HIS POSSIBLE PARTICIPATION IN ISLAMIC ACTIVITIES.

2. WHILE STRESSING HIS STRONG DESIRE NOT TO OFFEND ANYONE OR SHOW DISRESPECT FOR ANY RELIGION, ARMSTRONG HAS ADVISED DEPARTMENT THAT REPORTS OF HIS CONVERSION TO ISLAM ARE INACCURATE.

3. IF POST RECEIVE QUERIES ON THIS MATTER, ARMSTRONG REQUESTS THAT THEY POLITELY BUT FIRMLY INFORM QUERYING PARTY THAT HE HAS NOT CONVERTED TO ISLAM AND HAS NO CURRENT PLANS OR DESIRE TO TRAVEL OVERSEAS TO PARTICIPATE IN ISLAMIC RELIGOUS ACTIVITIES.

উপরের দু'টি চিঠি একত্রে পাওয়া যাবে এখানে -
http://www.wikiislam.com/wiki/Neil_Armstrong

(৩) Journal Arabia, The Islamic World Review, Issue June 1985/Ramadan 1405, পৃষ্ঠা ৫ এ সম্পাদকের কাছে প্রেরিত এই চিঠিটি প্রকাশিত হয়েছে।

A MUSLIM OVER THE MOON?

"Arabia" (জার্নাল) is by far the superior newsmagazine regarding what is going on in the Muslim world today. Your reporting is extremely thorough and seeks to be as objective as possible. Your willingness to criticize political policies as well as religious happenings in the Muslim world is refreshing. As an American I would feel your slant on the West is basically fair. It would be most helpful if you would dispel a misconception prevalent in almost all Muslim countries. From Morocco to the Philippines it is commonly believed that Neil Armstrong heard the Azan on the moon, converted to Islam and is now engaged in the full-time propagation of the Muslim faith.

The US State Department has issued a memo saying that the story about Armstrong's conversion was untrue. The memo said "While stressing his strong desire not to offend anyone or show disrespect for any religion, Armstrong has advised department that reports of his conversion to Islam are inaccurate." The memo further says, "if post receives queries on this matter, Armstrong requests that they politely but firmly inform querying party that he has not converted to Islam and has no current plans or desires to travel overseas to participate in Islamic religious activities."

N.B. The memo was sent to all our diplomatic and consular posts.

Dr Phil Parshall
Director, Asian Research Centre Manila, Philippines

ব্লগের কেউ কেউ হয়তো এখনো আমার তথ্যপ্রমাণকে অস্বীকার করার চেষ্টা করবেন কারন brainwashed মানুষের অভাব নেই। তাদের জন্য একটি সাম্প্রতিক তথ্যসূত্র উল্লেখ করছি। ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর ৬ তারিখে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত “গ্লোবাল লিডারশিপ ফোরাম” এ নীল আর্মষ্ট্রং অংশগ্রহণ করেন। মালয়েশিয়ার সর্বাধিক প্রচারিত ইংরেজী দৈনিক “স্টার মালয়েশিয়া” তখন তার একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে যা প্রকাশিত হয় ৭ ই সেপ্টেম্বর তারিখে। সেই সাক্ষাৎকারে সৌভাগ্যবশত একটি বাক্য ছিল যা নিম্নরূপ :

Armstrong, 75, also denied he had heard the Muslim call to prayer on the moon and had converted to Islam.
Click This Link

গুজব সম্পর্কিত বিস্তারিত খবর
Click This Link

শেষ কথা

এই গুজবের ডালপালা ছড়ায় সম্ভবত ১৯৮০ সালের শুরুতে এবং তখন থেকে আজ পর্যন্ত মানুষের মুখে মুখে এবং বিভিন্ন ইসলামিক নিউজগ্রুপ ও অন্যান্য মাধ্যমে গুজবের পাখায় আরো রং চড়িয়ে সারা বিশ্বের সাধারন মুসলমানদেরকে বোকা বানানো হচ্ছে। সম্ভবত একজন আমেরিকান কাফেরের চাঁদের পবিত্র ভূমিকে অপবিত্র করে দেওয়ার ক্ষত ঐসব ইসলামী ধর্মব্যবসায়ীরা ভুলতে পারেনি। তারই ক্ষতিপূরণ তারা করতে চাইছে নীল আর্মষ্ট্রং কে মুসলিম প্রতীয়মান করার মাধ্যমে। ধর্ম ব্যবসা চাঙ্গা রাখার জন্যই তাদের এই নির্লজ্জ্ব দাবি “চাদেঁর বুকে প্রথম পা রেখেছে একজন মুসলমান”।

অশিক্ষিত সমাজের মানুষকে ব্যবহার করার জন্য গুজব/কুসংস্কার একটি প্রধান হাতিয়ার এবং এসব গুজব দ্রুত ছড়ানোর এক উর্বর ভূমি হল পৃথিবীর মুসলিমপ্রধান দেশগুলো যেখানে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ লোকই হয় অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত। দুঃখজনকভাবে এ দাবি অস্বীকার করার পর দুই দশক পার হয়ে গেলেও মানুষের মুখে, সংবাদপত্র, মুসলিম রেডিও স্টেশনগুলোতে এখনো এটি প্রচারিত হয়েই চলেছে যার প্রমাণ দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত ঐ লেখাটি। এখানে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য তা হল বাংলাদেশের মানুষেরা “ফাটল কাহিনী” বিশ্বাস করলেও ইন্টারনেটে “আযান কাহিনী” বেশি প্রচলিত।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন মুসলিম দেশ বিশেষ করে বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে পীর ব্যবসা, তাবিজ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ধর্মব্যবসায়ীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসক গুজব ছড়ায়। আলু, লাউ, মাংস, ডিমের খোসা, মাছের লেজে বা কাশ্মীরের আকাশে আল্লাহর নাম দেখা যাওয়ার মতো গুজব ছড়ানো হয় নিত্যনৈমিত্তিকভাবে। এবং আশ্চর্য হলেও সত্যি এসব “রাবিশ” বিশ্বাস করার মতো মানুষের অভাব নেই আমাদের সমাজে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28776416 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28776416 2008-03-04 21:04:32
সহজ কথায় বিবর্তন ও বিগ ব্যাং থিওরী
আজ এই পৃথিবীতে আমরা যা কিছু দেখছি বিভিন্ন পদার্থ, গাছপালা, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, মানুষ ইত্যাদি সমস্ত কিছু কতগুলো পরমাণুর সমষ্টি। তবে মানুষের ক্ষেত্রে শুধু পরমাণুর সমষ্টি বললে সম্পূর্ণ বলা হয় না তাই বলতে হবে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল কতগুলো পরমাণুর সমষ্টি। কারণ প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট জীব, মানুষই এসেছে সবার শেষে।

বিজ্ঞান বলে এই পৃথিবী যেমন একদিনে সৃষ্টি হয়নি তেমনি মানুষও একদিনে সৃষ্টি হয়নি। আবার বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডও শূণ্য থেকে সৃষ্টি হয়নি। একটি বিশ্ব ছিল, যার মধ্যে ছিল তেজপূর্ণ প্রচন্ড শক্তি। কেমন তার শক্তি, কি তার বৈশিষ্ট্য তা আজো বিজ্ঞানের অজানা। তবে বিজ্ঞান জানে ঐ তেজপূর্ণ প্রচন্ড শক্তিতে পরিপূর্ণ বিশ্বে আমাদের পরিচিত কোন পদার্থ ছিল না। তারপর হঠাৎই এক সময় ঐ তেজপুঞ্জ বিস্ফোরিত হল। বিস্ফোরণের সময় এক হাজার থেকে দু'হাজার কোটি বছর আগে। গড় ধরে বলা যায়, আনুমানিক দেড় হাজার কোটি বছর আগে। সেই বিস্ফোরনের নাম দেওয়া হয়েছে "বিগ ব্যাং" বা মহা বিস্ফোরণ।

বিস্ফোরণের প্রথম ৩ মিনিটের মধ্যে যা ঘটেছিল, বিশ্বব্রহ্মান্ডের গোটা ইতিহাসে আর কখনো তা ঘটেনি। বিশ্বসৃষ্টির রহস্য ঐ ৩ মিনিট সময়ের মধ্যেই ধরা আছে। তখনই প্রকৃত অর্থে বিশ্ব সৃষ্টি হয়েছিল। আজকের বিশ্বে আমরা যা কিছু দেখি তার বীজ সৃষ্টি হয়েছিল তখন। তখন নিউক্লিয়ন ইত্যাদি বহু কণিকা গঠিত হয়েছিল এবং কণিকাগুলো পরস্পরের সাথে ক্রিয়া করতে আরম্ভ করেছিল। এই যে পারস্পরিক ক্রিয়া, বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে মিথস্ক্রিয়া। বহুকাল ধরে বিভিন্নভাবে এই মিথস্ক্রিয়া হওয়ার ফলে বিভিন্ন পদার্থের সৃষ্টি। এইভাবেই আস্তে আস্তে উদ্ভিদ, পশু, পাখি, মানুষ প্রভৃতি জীব সৃষ্টি হয়েছে।

বিস্ফোরণের পর বিশ্ব যেমন আয়তনে বাড়তে লাগল, তেমনই একসময় তার উত্তাপ কমতে শুরু করলো। বিশ্ব সম্প্রসারিত আর শীতল হতেই থাকলো। একটা পর্যায়ে সৃষ্টি হল হাইড্রোজেন। হাইড্রোজেন তারকা সৃষ্টির ক্ষেত্রে অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। এইভাবেই সৃষ্টি হল তারার। সৃষ্টি হল আবার ধ্বংসও হল। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উদ্ভব হল বিভিন্ন ভারী পদার্থের ইংরেজীতে যাকে বলে হেভি এলিমেন্ট।

ঐ যে "বিগ ব্যাং" - এর পর নিউক্লিয়ন ইত্যাদি কিছু কণিকা সৃষ্টি হয়েছিল সে তো শূণ্য থেকে হয়নি। নিশ্চয় কিছু ছিল যা থেকে হয়েছিল। কারণ বিজ্ঞানের গোড়ার কথাই হল - matter cannot be created nor can it be destroyed। শুধু ম্যাটার নয়, এনার্জীর বেলায়ও এই কথা। তাহলে দেখা যাচ্ছে, ম্যাটার আর এনার্জী বিশ্বসৃষ্টির আগেও ছিল, বিশ্ব যদি কোনদিন ধ্বংস হয়ে যায় তখনো থাকবে। তবে আজ যেভাবে আছে সেইভাবে হয়তো থাকবে না। হয়তো আবার "ব্ল্যাক হোল"- এর মতো কিছু একটা হয়ে ম্যাটারগুলো সব এক জায়গায় জড়ো হয়ে যাবে, যেমন দেড় হাজার কোটি বছর আগে "বিগ ব্যাং"-এর আগে যেমন ছিল। তার মানে ম্যাটার আর এনার্জী আগেও ছিল, পরেও থাকবে-চিরকালই থাকবে। কেবল রূপ বদলাবে হয়তো।

ম্যাটার আর এনার্জীর মূল উপাদান হল প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি মৌলিক কণা আর ফোটন। আগেই বলেছি, ম্যাটার হচ্ছে কিছু এটমের সমষ্টি। এটমের আবার নিজস্ব জগৎ আছে। তার মধ্যে ইলেকট্রন আছে, নিউক্লিয়ন আছে। নিউক্লিয়নের মধ্যেও আবার অতিক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সব কণিকা আছে। ম্যাটার আর এনার্জী ভিন্ন ইউনিটে, ভিন্ন লেভেলে এবং ভিন্ন ফর্মে অর্গানাইজড হয়ে যাচ্ছে। এইভাবে অর্গানাইজড হয়ে যখন একটা নতুন এটম তৈরি হচ্ছে তখন তার নতুন ধর্ম দেখা যাচ্ছে। এইভাবে কতগুলো এটম মিলে মলিকিউল তৈরি হল। আবার কতগুলো মলিকিউল মিলে ম্যাক্রোমলিকিউল তৈরি হল। শেষে রেপ্লিকেটিং মলিকিউল এল। রেপ্লিকেটিং মলিকিউল মানে সেই ধরনের মলিকিউল, যা থেকে ঠিক একই ধরণের মলিকিউল তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এক সময় এল ইউক্যারিয়োটিক সেল। এই সেল বা কোষের মধ্যে এল জেনেটিক কোষ। এই কোষ থেকেই প্রাণের সৃষ্টি হল। প্রথমে এল এককোষী প্রাণী, তারপর বহুকোষী।

প্রথমে সৃষ্টি উদ্ভিদের তারপর প্রাণীর। পৃথিবীতে জীবসৃষ্টির পর দু'টি ধারায় জীবজগৎ বিভক্ত হয়ে গেল-একটি উদ্ভিদজগৎ আর একটি প্রাণীজগৎ। উদ্ভিদজগৎ আর প্রাণীজগৎ মিলে জীবজগৎ। মানুষ এসেছে সবার শেষে। মানুষের আগমণ মাত্র ত্রিশ লক্ষ বছর আগে। মানুষও একেবারে পৃথিবীতে আসেনি। এককোষী প্রাণীর থেকে যে রূপান্তর সৃষ্টি হয়েছিল, তারই শেষ পরিণতি মানুষ। সৃষ্টির এই যে তত্ত্ব, বিজ্ঞানের ভাষায় একেই বলে বিবর্তনবাদ।

প্রকৃতির রাজ্যে যে রূপান্তর জন্ম-লগ্ন থেকেই শুরু হয়েছিল, তা সম্পূর্নই উদ্দেশ্যহীনভাবে এবং আজো তা ক্রিয়াশীল। "বিগ ব্যাং" এর পর কোটি কোটি বছর ধরে পরিবর্তন হতে হতে সৃষ্টি আজ এই অবস্থায় এসে দাড়িয়েছে। কোষের মধ্যেও উদ্দেশ্যহীনভাবে মিউটেশন হচ্ছে। এই মিউটেশনই মূল কথা। এই মিউটেশনের জন্যই এককোষী প্রাণী থেকে বিবর্তনের পথ ধরে আজ এসেছি আমরা কোটি কোটি কোষের প্রাণী - মানুষ। এই মিউটেশনের জন্যই বিবর্তন সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ঈশ্বর নেই। বিবর্তনের এই ধারায় ঈশ্বরের কোন প্রয়োজন হয়নি।

ঈশ্বর সম্পূর্ণ কাল্পনিক ব্যাপার। ঈশ্বর জীবজগৎ সৃষ্টি করেননি। জীব জন্তু পশু পাখি কীটপতঙ্গ, মানুষ কিছুই ঈশ্বরের সৃষ্টি নয়। এসবই হয়েছে সৃষ্টির নিয়মে, বিবর্তনের হাত ধরে। প্রাণের ইউনিট যে অ্যামিনো এসিড তা এখন ল্যাবরেটরীতে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, অর্থ্যাৎ প্রাণের ইপাদান ইতোমধ্যেই ল্যাবরেটরীতে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। কে জানে হয়তো একদিন প্রাণও তৈরি করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞান যে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে, তাতে ল্যাবরেটরীতে প্রাণ তৈরির সম্ভাবনা অসম্ভব নয়। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, যে জিনিস এখন ল্যাবরেটরীতে হতে চলেছে, সুদূর অতীতে এইভাবেই সে জিনিস প্রকৃতিতে সৃষ্টি হয়েছিল, এর সঙ্গে ঈশ্বরের কোন সম্পর্ক নেই। ঈশ্বর প্রাণ সৃষ্টি করেননি।

বাইবেলে বলা হয়েছে, "God created man in His own image"। বাইবেলের কথাটা বদলে বলা যায়, "Man created God in his own image"। প্রায় সব ধর্মেই তাই। তাই ঈশ্বরও মানুষের মতো। তিনি জীবের দুঃখে কাতর হন, আনন্দে উল্লসিত, ক্রোধে উন্মাদ।

তাই বলা যায় ঈশ্বর আসলে সৃষ্টির সেরা গুজব।

আরো জানতে উইকিপিডিয়ার মহা-বিস্ফোরন তত্ত্ব নিবন্ধটি দেখুন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28774561 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28774561 2008-02-27 17:04:19
একুশের প্রথম কবিতা
কবি মাহবুবুল আলম চৌধুরী রচিত একুশের প্রথম কবিতাঃ

'আজ আমি এখানে কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি...'

ওরা চল্লিশজন কিংবা আরো বেশি
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে—রমনার রৌদ্রদগ্ধ কৃষ্ণচূড়ার গাছের তলায়
ভাষার জন্য, মাতৃভাষার জন্য—বাংলার জন্য।
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে
একটি দেশের মহান সংস্কৃতির মর্যাদার জন্য
আলাওলের ঐতিহ্য
কায়কোবাদ, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের
সাহিত্য ও কবিতার জন্য
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে
পলাশপুরের মকবুল আহমদের
পুঁথির জন্য
রমেশ শীলের গাথার জন্য,
জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাটের’ জন্য।
যারা প্রাণ দিয়েছে
ভাটিয়ালি, বাউল, কীর্তন, গজল
নজরুলের “খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
আমার দেশের মাটি।”
এ দুটি লাইনের জন্য
দেশের মাটির জন্য,
রমনার মাঠের সেই মাটিতে
কৃষ্ণচূড়ার অসংখ্য ঝরা পাপড়ির মতো
চল্লিশটি তাজা প্রাণ আর
অঙ্কুরিত বীজের খোসার মধ্যে
আমি দেখতে পাচ্ছি তাদের অসংখ্য বুকের রক্ত।
রামেশ্বর, আবদুস সালামের কচি বুকের রক্ত
বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সেরা কোনো ছেলের বুকের রক্ত।
আমি দেখতে পাচ্ছি তাদের প্রতিটি রক্তকণা
রমনার সবুজ ঘাসের উপর
আগুনের মতো জ্বলছে, জ্বলছে আর জ্বলছে।
এক একটি হীরের টুকরোর মতো
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ছেলে চল্লিশটি রত্ন
বেঁচে থাকলে যারা হতো
পাকিস্তানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ
যাদের মধ্যে লিংকন, রকফেলার,
আরাগঁ, আইনস্টাইন আশ্রয় পেয়েছিল
যাদের মধ্যে আশ্রয় পেয়েছিল
শতাব্দীর সভ্যতার
সবচেয়ে প্রগতিশীল কয়েকটি মতবাদ,
সেই চল্লিশটি রত্ন যেখানে প্রাণ দিয়েছে
আমরা সেখানে কাঁদতে আসিনি।
যারা গুলি ভরতি রাইফেল নিয়ে এসেছিল ওখানে
যারা এসেছিল নির্দয়ভাবে হত্যা করার আদেশ নিয়ে
আমরা তাদের কাছে
ভাষার জন্য আবেদন জানাতেও আসিনি আজ।
আমরা এসেছি খুনি জালিমের ফাঁসির দাবি নিয়ে।

আমরা জানি ওদের হত্যা করা হয়েছে
নির্দয়ভাবে ওদের গুলি করা হয়েছে
ওদের কারো নাম তোমারই মতো ওসমান
কারো বাবা তোমারই বাবার মতো
হয়তো কেরানি, কিংবা পূর্ব বাংলার
নিভৃত কোনো গাঁয়ে কারো বাবা
মাটির বুক থেকে সোনা ফলায়
হয়তো কারো বাবা কোনো
সরকারি চাকুরে।
তোমারই আমারই মতো
যারা হয়তো আজকেও বেঁচে থাকতে
পারতো,
আমারই মতো তাদের কোনো একজনের
হয়তো বিয়ের দিনটি পর্যন্ত ধার্য হয়ে গিয়েছিল,
তোমারই মতো তাদের কোনো একজন হয়তো
মায়ের সদ্যপ্রাপ্ত চিঠিখানা এসে পড়বার আশায়
টেবিলে রেখে মিছিলে যোগ দিতে গিয়েছিল।
এমন এক একটি মূর্তিমান স্বপ্নকে বুকে চেপে
জালিমের গুলিতে যারা প্রাণ দিল
সেই সব মৃতদের নামে
আমি ফাঁসি দাবি করছি।

যারা আমার মাতৃভাষাকে নির্বাসন দিতে চেয়েছে তাদের জন্যে
আমি ফাঁসি দাবি করছি
যাদের আদেশে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তাদের জন্যে
ফাঁসি দাবি করছি
যারা এই মৃতদেহের উপর দিয়ে
ক্ষমতার আসনে আরোহণ করেছে
সেই বিশ্বাসঘাতকদের জন্যে।
আমি তাদের বিচার দেখতে চাই।
খোলা ময়দানে সেই নির্দিষ্ট জায়গাতে
শাস্তিপ্রাপ্তদের গুলিবিদ্ধ অবস্থায়
আমার দেশের মানুষ দেখতে চায়।

পাকিস্তানের প্রথম শহীদ
এই চল্লিশটি রত্ন,
দেশের চল্লিশ জন সেরা ছেলে
মা, বাবা, নতুন বৌ, আর ছেলে মেয়ে নিয়ে
এই পৃথিবীর কোলে এক একটি
সংসার গড়ে তোলা যাদের
স্বপ্ন ছিল
যাদের স্বপ্ন ছিল আইনস্টাইনের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে
আরো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার,
যাদের স্বপ্ন ছিল আণবিক শক্তিকে
কী ভাবে মানুষের কাজে লাগানো যায়
তার সাধনা করার,

যাদের স্বপ্ন ছিল রবীন্দ্রনাথের
‘বাঁশিওয়ালার’ চেয়েও সুন্দর
একটি কবিতা রচনা করার,
সেই সব শহীদ ভাইয়েরা আমার
যেখানে তোমরা প্রাণ দিয়েছ
সেখানে হাজার বছর পরেও
সেই মাটি থেকে তোমাদের রক্তাক্ত চিহ্ন
মুছে দিতে পারবে না সভ্যতার কোনো পদক্ষেপ।

যদিও অগণন অস্পষ্ট স্বর নিস্তব্ধতাকে ভঙ্গ করবে
তবুও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ঘণ্টা ধ্বনি
প্রতিদিন তোমাদের ঐতিহাসিক মৃত্যুক্ষণ
ঘোষণা করবে।
যদিও ঝঞ্ঝা-বৃষ্টিপাতে—বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভিত্তি পর্যন্ত নাড়িয়ে দিতে পারে
তবু তোমাদের শহীদ নামের ঔজ্জ্বল্য
কিছুতেই মুছে যাবে না।

খুনি জালিমের নিপীড়নকারী কঠিন হাত
কোনো দিনও চেপে দিতে পারবে না
তোমাদের সেই লক্ষদিনের আশাকে,
যেদিন আমরা লড়াই করে জিতে নেব
ন্যায়-নীতির দিন
হে আমার মৃত ভাইরা,
সেই দিন নিস্তব্ধতার মধ্য থেকে
তোমাদের কণ্ঠস্বর
স্বাধীনতার বলিষ্ঠ চিৎকারে
ভেসে আসবে
সেই দিন আমার দেশের জনতা
খুনি জালিমকে ফাঁসির কাষ্ঠে
ঝুলাবেই ঝুলাবে
তোমাদের আশা অগ্নিশিখার মতো জ্বলবে
প্রতিশোধ এবং বিজয়ের আনন্দে।

চট্টগ্রাম, ১৯৫২]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28772167 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28772167 2008-02-20 02:02:58
সহজ প্রশ্ন : নবী-পয়গম্বররা কেন খালি আরব ভূমিতে আর অবতাররা কেন খালি ভারতে জন্মান?
একইভাবে হিন্দুদের বিশ্বাস পৃথিবীর মানুষ যখন নানা পাপ কাজে পৃথিবীর পরিবেশকে দূষিত করে তোলে, তখন মানুষদের উদ্ধারের জন্য অবতাররা পৃথিবীতে জন্মান। অবতাররা দেবতারই অংশ। মানুষকে উদ্ধারের জন্য এ পর্যন্ত পৃথিবীতে জন্মেছেন মোট দশজন অবতার। তারা হলেন - মৎস, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন, পরশুরাম, রামচন্দ্র, বলরাম, বুদ্ধ ও কল্কি। কিন্তু এরা সবাই ভারতে জন্মালেন কেন? পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মানুষরা কি তবে তখনও খুব সৎ ছিল? নাকি এই অবতাররা জন্মানো পর্যন্ত ভারত ছাড়া পৃথিবীর আর কোন দেশেই মানুষ বাস করতো না? বুদ্ধের জন্মাবার সময় কি ভারত ছাড়া আর কোন দেশেই মানুষ বাস করতো না?

আছে কারো জবাব জানা?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28771710 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28771710 2008-02-18 16:16:23
হুজুর সাইদাবাদীর লাখ কথার এক কথা - "বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর!"
প্রবীর ঘোষ উত্তরে বলেন, "এপার বাংলায় বা ওপার বাংলায় বিঘে প্রতি যে পরিমাণ ফসল হয়, তার বহুগুণ বেশি ফসল হয় ইউরোপের প্রতিটি দেশে, আমেরিকায়, অস্ট্রেলিয়ায়, এমনকি এই মহাদেশের জাপানেও। ওরা কেউই আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। তবু আল্লায় বিশ্বাসী দু'বাংলার মুসলিম চাষীদের চেয়ে বেশি ফসল ফলায়। এমন কি মজা হল এই যে, ইউরোপে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে বিশ্বাসহীন ব্যক্তিরা সংখ্যাগুরু হওয়া সত্ত্বেও ঐসব দেশে বিপুল সংখ্যক আস্তিক অধ্যুষিত এলাকয় দু'বাংলার চেয়ে ফসল উৎপাদন অনেক বেশি এবং মহামারীর সংখ্যাও অনেক কম। এর কারণ, বিজ্ঞানকে ওসব দেশ কৃষিকাজে ও শরীরবিজ্ঞানে বেশি বেশি করে কাজে লাগিয়েছে। উৎপাদনহীনতা, অভাব, শোষণ, রোগ, মহামারি-এর কোনটির জন্যই ঈশ্বরজাতীয় কোন কিছুতে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের সামান্যতম ভূমিকা নেই।"
এরপর প্রবীর ঘোষ হুজুরকে প্রশ্ন করেন, "হুজুর সাহেব, আপনি মক্কায় গিয়েছেন?"
- "হ্যাঁ, হুজুর সাহেবের তৎপর উত্তর।"
- "কিসে গিয়েছিলেন? জাহাজে না প্লেনে?"
- "প্লেনে।"
- "কেন, প্লেনে যেতে গেলেন কেন? আপনি আল্লাহ প্রিয় ভক্ত। আপনি আল্লাহে পরম বিশ্বাসী, কেন এই বিশ্বাস রাখলেন না, আপনি চাইলে চোখের নিমেষে আল্লাহ আপনাকে মক্কায় পৌছে দেবেন? বেশ তো, সেই সময় যদি অমন সোজা কথাটা মনে নাই পড়ে থাকে, এবার বাংলাদেশে ফেরার সময় আল্লাহের কাছে আবেদন রাখুন না, সপারিষদ আপনাকে চোখের নিমেষে ঢাকায় পৌছে দেবার। এতে বিশ্বাসের ক্ষমতার পরীক্ষা নেবার পাশাপাশি প্লেনের ভাড়া ও সময় দুই-ই বাঁচবে।"

তারপরও কিন্তু হুজুর সাইদাবাদী প্লেনেই ঢাকা ফিরেছেন। আল্লাহে বিশ্বাসের ক্ষমতার দৌড় হুজুর সাহেবের ভাল মতই জানা আছে। মুখে যা বলেন, সে কথায় আদৌ বিশ্বাস করেন না।

[উপরোক্ত আলাপচারিতা প্রবীর ঘোষের বই থেকে সংগৃহীত]
_______________________
যারা প্রবীর ঘোষ-কে চেনেন না তাদেরকে বলছি, প্রবীর ঘোষ কলকাতা কেন্দ্রিক ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির প্রধান। বিগত কয়েক বছরে একের পর এক ভন্ড ধর্মগুরুদের জারিজুরি ফাঁস করে দিয়ে তাদের যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এমনকি কোন ধর্মগুরু তাকে কোন অলৌকিক ঘটনা দেখাতে পারলে তাকে ৫০,০০০ ডলার আর্থিক পুরস্কার প্রদান সহ নিজে আস্তিক হয়ে যাবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। এবং আজ পর্যন্ত কেউ তাকে পরাস্ত করতে পারেননি।

উইকিপিডিয়ায় প্রবীর ঘোষ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28771104 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28771104 2008-02-16 10:36:32
গল্পটি না পড়লে মিস করবেন
রজনী হ'ল উতলা - বুদ্ধদেব বসু (ছোট গল্প)

বুদ্ধদেব বসু সম্পর্কে এই ব্লগে আমার পোস্ট
বুদ্ধদেব বসু - আমার প্রিয় লেখক ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28768702 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28768702 2008-02-10 00:23:06
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চিত্রকর্ম - ২ : পার্সিসটেন্স অফ মেমোরী (সালভাদর দালি)






বিস্তারিত এখানে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28765369 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28765369 2008-01-29 21:13:14
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চিত্রকর্ম - ১ : ক্রুসিফিকেশন (সালভাদর দালি)

Crucifixion (Corpus Hypercubus) was painted in 1954 by Salvador Dalí, and depicts the crucified Jesus upon the net of a hypercube. Gala (Dalí's wife), is the figure in the bottom left, who stands looking up to the crucified Jesus. The scene is depicted in front of the Bay of Port Lligat.

The painting is in the Metropolitan Museum of Art in New York, USA.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28765119 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28765119 2008-01-29 00:15:35
আল্লাহর নাম কাশ্মীরের আকাশে বনাম প্রকৃতি এবার আমি আপনাদের দেখাই প্রকৃতিকে।

কি বলবেন এবার?
একটি ভদ্র ছবি দিলাম এখানে। বাকীগুলো দেখতে -
http://haha.nu/funny/nature-is-sexy/

বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদদের মাইন্ডে লাগলে নিজগুনে ক্ষমা করবেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28763750 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28763750 2008-01-24 10:25:44
তবে কি টাইটানিক ডুবলো মমির অভিশাপে?
গল্পটি এরকম - ১৮৯০ সালের শেষার্ধে এক ধনী ইংরেজ লুক্সরের কাছে এক প্রত্নতাত্নিক খননকাজ দেখতে যান। তিনি সেখান থেকেই কেনেন কফিনশুদ্ধ রাজকুমারীর এই মমিটি। এরপর তিনি জাহাজে করে মমিটি দেশে পাঠাবার ব্যবস্থা করেন কিন্তু বন্দরে মমিটি গ্রহণ করার জন্য আর উপস্থিত থাকতে পারলেন না। তিনি অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন। বাস্তবিকই তাকে আর কোনদিনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গী অপর তিন জনের একজন কিছুদিন পরেই মারা যান, দুর্ঘটনায় একজনের হাত কাটা পড়ে আর অপরজন ব্যাংক ফেল করায় সর্বসান্ত হন।

কফিনটি ইংল্যান্ডে পৌছলে একজন ব্যবসায়ী তা কিনে নেন। এর ফলে সেই ব্যবসায়ীর পরিবারের তিনজন মোটর দুর্ঘটনায় আহত হন এবং তার বাড়ীতে আগুন লাগে। মমিটিকে অভিশপ্ত মনে করে সেই ব্যক্তি এটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে দান করে দেন।

মিউজিয়াম এটিকে সাদরে গ্রহণ করলো। কিন্তু মিউজিয়ামের কর্মচারীরা রাত্রিবেলা শুনতে পেল কফিনের ভেতর থেকে তীব্র কান্নাস্বর। প্রদর্শনী কক্ষের জিনিসপত্রগুলো সব এলোমেলোভাবে পড়ে থাকতে দেখা গেল। মারা গেল এক প্রহরী। এ কথা জানতে পেরে এক ফটোগ্রাফার কফিনের ছবি তুলে আনলেন। ছবি ডেভেলপ করার পর ছবিতে যে বীভৎস রূপ তিনি দেখলেন তাতে আত্নহত্যা করেই তিনি মুক্তির পথ খুঁজলেন।

ব্রিটিশ মিউজিয়ামও আর এসব সহ্য করতে পারছিল না। কিন্তু মমিটির কুখ্যাতি এতটাই ছড়িয়েছিল যে এ থেকে তারা সহজে মুক্তি পাননি। অবশেষে একজন আমেরিকান প্রত্নতত্ত্ববিদ এসব কিছুকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে কিনে নিলেন মমিটি আর টাইটানিকে চড়িয়ে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন। আর এরপরের ঘটনা তো সবারই জানা।

তবে এই গল্পের আরেকটি ভার্সনে বলা হয় সেই প্রত্নতত্ত্ববিদ টাইটানিকের এক নাবিককে ঘুষ দিয়ে মমিটি লাইফবোটে তোলেন এবং এটি আমেরিকা পৌছায়। এরপর মমিটি আবার হাতবদল হয়ে আরো কয়েকবার সমুদ্রবিহার করে অবশেষে সাগরতলে আশ্রয় নেয়।

এটি কি সত্যি? না কোন ফালতু কাহিনী?

তবে শিপিং রেকর্ডে খোঁজ করে টাইটানিকে কোন মমি তোলার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে এর বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে বলা হয় যে সেই প্রত্নতত্ত্ববিদ নাকি এটি গোপনে বিদেশে পাচার করছিলেন। আবার দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া কোন যাত্রীও লাইফবোটে মমি ওঠানোর কথা উল্লেখ করেননি। তাছাড়া কোন উদ্ধারকারীও মমির কথা তাদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করেননি।

সম্ভবত এই গল্পের সূচনা হয় ডগলাস মুরে ও টি. ডব্লিউ. স্টিড নামক দুই ইংরেজের কাছ থেকে। তারা দাবি করেন যে তাদের এক সহযোগী ইজিপ্ট থেকে একটি মমি কিনে তার বাসার বসার ঘরে এটি সাজিয়ে রাখে। পরদিন সকালে দেখা গেল ঘরের সব ভঙ্গুর বস্তুগুলো হয়েছে ভেঙ্গে চুড়মাড়। এবার ঘর পাল্টে দেয়া হল। কিন্তু পরের সকালে দেখা গেল ফল সে একই।

দুজনেই ব্রিটিশ মিউজিয়ামে মমির কফিনটি দেখতে গিয়েছিলেন। শুধুই কফিন, আসলে সেখানে কোনদিনই কোন মমি ছিল না। তাদের মনে হল কফিনের ডালার গায়ের ছবিটি ভীতিকর। এরপর ভাংচুর আর ভয়ংকর ডালার গল্প দুটি জোড়া দিয়ে নতুন গল্পটি বিক্রি করে দিলেন পত্রিকার কাছে। পরে এই কাহিনীতে ঘটে টাইটানিকের অর্ন্তভুক্তি। এই খবর প্রকাশিত হয় ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউ ইয়র্ক টাইমস সহ আরো অনেক পত্রিকায়।

সম্ভবত এই গল্পে টাইটানিকের অংশটুকু ঢোকানোর প্রেরণা দিয়েছিল ১৮৩৮ সালে মেনকরের কফিন হারিয়ে যাওয়া। প্রাচীন রাজত্বকালের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসাবে বিবেচিত হওয়া এই কফিনটি আনা হচ্ছিল ইজিপ্ট থেকে ইংল্যান্ডে। দ্য বিট্রাইস নামের জাহাজটির কার্টাগিনার কাছে কোথাও সলিল সমাধি হলে এটিও সাগরতলে নিমজ্জিত হয়।

তবে ব্রিটিশ মিউজিয়াম এ সকল কাহিনী সবসময়ই অস্বীকার করে আসছে। আর রাজকুমারী আমের রা-এর কফিনটি এখনো ব্রিটিশ মিউজিয়ামে শান্তিতেই আছে। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শক আসে শুধু এই অভিশপ্ত মমির কফিনটি দেখতে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28763731 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28763731 2008-01-24 09:08:00
সম্প্রতি দেখা শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র - ওসামা
Osama," the first film made in post-Taliban Afghanistan, is a gripping small story with big implications about what happens when a desperate family commits the unthinkable crime — sending a daughter out in boy's clothing to earn a living.

ছবিটা সকলেরই দেখা উচিত। তালেবান শাসন পরবর্তী আফগানিস্তানে প্রথম চলচ্চিত্র এটি। গোল্ডেন গ্লোব সহ বহু চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত।

রিভিউ তুলে দিলাম নেট থেকে।

In the cinema of witness, a movie's merit lies largely in its fidelity to the reality of oppression. Yet the film has to have more — else it would only be journalism. In the first film made in post-Taliban Afghanistan, writer/director/editor Siddiq Barmak succeeds, skillfully and without a false note, in making an engrossing drama of life under the Taliban. It is an Ockham's razor of narrative and image which reaches out from the screen and cuts the viewer; more than the heart bleeds as the twelve-year old protagonist (Marina Golbahari) negotiates her impossible world.

The film takes place sometime after the rise of the Taliban, and opens with a scene of a demonstration. Women clad in blue burqas cascade down a dusty hill, demanding the right to work to feed their families. These are women without men, who were taken over years of war and chaos. Notwithstanding the chanted qualification to the women's demands, "We are not political!" the Taliban know what Western feminists teach: the personal is the political. Through weapon and water cannon, the Taliban break up the demonstration.

Barmak conveys the violence obliquely. The agents of the Taliban are left out of frame, and the carnage is mostly symbolic. A ruined burqa washes down the street as the demonstrators scream and flee pell-mell. Barmak's indirect approach evokes the nature of Taliban repression. It is not excessive; no massacre is needed. Just enough to sow fear and terror. Throughout the film, Taliban agents are omnipresent to police even the slightest departure from prescribed gender conduct, even in private spaces. Their malevolence, even without violence, is strongly felt.

The young protagonist, not named, gets caught up in the demonstration, and she is terrified. To her pre-adolescent eyes, the ubiquitous Taliban men are inexplicable bogeymen, raw representives of menace. But for lack of any other option, the mother (Khwaja Nader) insists that her understandably trepid daughter pass as a boy, and go out among the bogeymen to work. Although the request seems extreme, the mother is simply applying the logic of deception that allows every woman to survive. Throughout the film, women must dissemble constantly, pretending that they are mourning when they are celebrating, and pretending that they are with a male relative when they are not. Passing, in one form or another, is the norm.

However, the girl's act of deception is made difficult when she is drafted, along with every other village boy, into the local madrassa, a religious school. Her inability to execute boyish rites of masculinity — she can't even tie a turban — begins to give her away to her schoolmates. In a desperate attempt to allay suspicion, the girl's one ally, a beggar child (Arif Herati) who is in on the deception, christens her Osama. Yes, she is named after Osama bin Laden, who is deemed an ideal of manhood, a warrior. But even one of the madrassa's clerics (or rather, a satyr in cleric's clothing) intuits the girl's femininity, likening her to a nymph.

Without giving away too much, the remainder of the film follows the logic of its premises faithfully and creatively. The narrative unspools amidst a sequence of striking and symbolic imagery: an abyss of a well, a ruined lawcourt, a thread of locks. It is a looking-glass world where womanhood is a tragic flaw, but nonetheless has utility for the men in charge. The resolution of the film brings this home, proving that gender disempowerment, no matter what ideology sustains it, ultimately keeps women where men prefer them most.

Osama benefits from its spare production (it is the first post-Taliban film, made on the only 35mm camera in the country). Cinematic minimalism provides the perfect feel to a story about lack of freedom in a spartan nation. The performance of the young girl — a non-professional found in the street — is natural, conveying all the terror and confusion of her situation. Most importantly, the story is gripping and unflinching, and Barmak (who cites Russia's Andrei Tarkovsky and Iran's Abbas Kiarostami as influences) deploys a subtle symbolism, and memorable imagery, which reinforces the narrative arc. The result is a film of power, with its despair on its sleeve.

Of course, a detached observer might cast a wary eye towards this film's reception in America, given the political establishment's interest in Afghanistan and reductive view of Islam. Will this film contribute to the new Orientalism which demonizes Islam and rationalizes armed intervention? Will this film contribute to the idea that Taliban Afghanistan was merely a unique aberration — now an artifact — in squashing the rights of women beneath a reign of men?

These questions and others must be asked, but Barmak can likely be absolved from any complicity. His film is a local one, concerned with the specific techniques of fear and control through which the Taliban ruled. He makes no generalization of Islam, but condemns a police society where women must surrender any semblance of life upon pain of death. To the extent that his film is a well-imagined dramatization of a life under that poisoned social model, it deserves its accolades, and an audience.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28763486 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28763486 2008-01-23 13:29:03
গৌতম বুদ্ধ ও তার জীবন দর্শন
এবার নজর দেই তার ব্যক্তিজীবনের দিকে। গৌতম ছিলেন ছোট্ট একটি রাজ্যের রাজপুত্র। তার জন্মের সময়ই পন্ডিতেরা তার মধ্যে ভবিষ্যতে একজন অসাধারন জ্ঞানী অথবা পরাক্রমশালী শাসক হয়ে উঠবার চিহ্ন দেখতে পান। তার পিতাও তাকে একজন পরাক্রমশালী যোদ্ধা ও শাসক হিসাবেই দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার মধ্যে খুব অল্প বয়সেই ধ্যানের প্রতি আগ্রহ দেখা যায় যা তাকে পরবর্তীতে একজন ধার্মিক দার্শনিকে পরিণত করে। পিতার ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে খুব অল্প বয়সেই তিনি বিয়ে করেন। তার বিয়ে সমন্ধে অবশ্য দুধরনের মত আছে। প্রথম মত অনুসারে ১৬ বছর বয়সে তিনি একটি প্রতিযোগিতায় তার স্ত্রীকে লাভ করেন। আর একটি মত অনুসারে ২৮ বছর বয়সে তাকে সংসারের প্রতি মনযোগী করার জন্য তার পিতামাতা তাকে রাজকন্যা যশধরার সাথে বিয়ে দেন। অতঃপর পুত্র রাহূল জন্মগ্রহণ করে। তিনি নিজের এই নিশ্চিন্ত বিলাসী ক্ষয়িষ্ণু জীবন যাপনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন। বুঝতে পারেন কি অন্তঃসারশূণ্য তার এই জীবন। তাই পুত্র রাহূলের বয়স যখন মাত্র ৭ দিন তখন গৌতম বুদ্ধ যাবতীয় মানবীয় বন্ধন ছিন্ন করে শান্তি আর পুর্নজন্মের শিকল হতে মুক্তির খোঁজে সংসার ত্যাগ করেন। বিশ বছর বয়সে তার পিতা গৌতম বুদ্ধ বুদ্ধত্ব অর্জন করে কপিলাবস্তু তে ফিরে আসলে পুত্র পিতার কাছ থেকে দীক্ষিত হয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুতে পরিণত হন।

বৌদ্ধ ধর্ম গৌতম বুদ্ধ কর্তৃক প্রচারিত একটি ধর্ম বিশ্বাস এবং জীবন দর্শন আর এর ধর্মগ্রন্থের নাম "ত্রিপিটক"। এটি মূলত বুদ্ধের নিজস্ব দর্শন এবং উপদেশের সংকলন। এটি কোরান বা বাইবেলের মত ঈশ্বরপ্রদত্ত ধর্মগ্রন্থ নয়। বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান অনুশাসন হিসাবে এটিকে গণ্য করা যায়। বুদ্ধ কোনো গ্রন্থের মাধ্যমে তার উপদেশাবলি রেখে যাননি। তার মৃত্যুর পরে শিষ্যরা উপদেশগুলো ত্রিপিটক আকারে সংরক্ষন করেন। মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে শিষ্যরা গৌতম বুদ্ধকে তার উত্তরাধিকারী মনোনীত করার অনুরোধ তিনি তা অস্বীকার করে তাদেরকে অধ্যবসায়ের সাথে মুক্তির জন্য কাজ করে যেতে বলেন।

বুদ্ধের দর্শনের প্রধান অংশ হচ্ছে দুঃখের কারণ ও তা নিরসনের উপায়। বাসনা সর্ব দুঃখের মূল। বৌদ্ধমতে সর্বপ্রকার বন্ধন থেকে মুক্তিই হচ্ছে প্রধান লক্ষ্য। বুদ্ধ দুঃখের কারণ, দুঃখ দূর করার উপায় সমন্ধে উপদেশ দিয়েছেন। তার মতে জীবন দুঃখপূর্ণ। দুঃখের হাত থেকে কারও নিস্তার নেই। জন্ম, জরা, রোগ, মৃত্যু সবই দুঃখজনক। আর বাসনাই হল সব দুঃখের মূল। মাঝে মাঝে যে সুখ আসে তাও দুঃখমিশ্রিত। অবিমিশ্র সুখ বলে কিছু নেয়। নিবার্ণ লাভে এই দুঃখের অবসান। বাসনার নিস্তারের মাঝে অজ্ঞানের অবসান। এতেই পূর্ণ শান্তি। বুদ্ধ পরকাল সমন্ধে বিশদ ব্যাখা না দিলেও পরকালের অস্তিত্ব অস্বীকার করেননি। দেহ কি আত্মা হতে অবচ্ছিন্ন বা মৃত্যুর পর আত্মা থাকে কিনা, এইসব প্রসংগ তিনি এড়িয়ে গেছেন।

এবার একটা গল্প শোনা যাক; অবশ্য সত্যিও হতে পারে। সাধারনত প্রত্যেক ধর্মেই কিছু গল্প থাকে। সত্য-মিথ্যা যাই হোক কথিত আছে, একদিন রাজকুমার সিদ্ধার্থ বেড়াতে বের হলে ৪ জন ব্যাক্তির সাথে তার সাক্ষাত হয়। প্রথমে তিনি একজন বৃদ্ধ মানুষ, অতঃপর একজন অসুস্থ মানুষ এবং শেষে একজন মৃত মানুষকে দেখতে পান। তিনি তার সহিস চন্নকে এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে চন্ন তাকে বুঝিয়ে বলে যে এটিই সকল মানুষের নিয়তি। আবার আরেকদিন তিনি চন্নকে নিয়ে বের হলেন। এবারে তিনি দেখা পেলেন একজন সাধুর, যার মাথা মুড়ানো এবং হলুদ রং এর জীর্ন পোশাক পরা। চন্নকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে উনি একজন সন্নাসী, যিনি নিজ জীবন ত্যাগ করেছেন মানুষের দুঃখের জন্য। সেদিন রাত্রেই ঘুমন্ত স্ত্রী, পুত্র, পরিবারকে নিঃশব্দ বিদায় জানিয়ে তিনি প্রাসাদ ত্যাগ করেন। সাথে নিলেন চন্নকে। প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে বনের শেষ সীমায় পৌছে তিনি থামলেন। তলোয়ার দিয়ে কেটে ফেললেন তার লম্বা চুল। অতঃপর চন্নকে বিদায় জানিয়ে যাত্রা শুরু করলেন আলোকের খোঁজে, মাত্র ২৯ বছর বয়সে। দুঃখ ও দুঃখের কারণ সমন্ধে জানতে সিদ্ধার্থ যাত্রা অব্যাহত রাখেন। প্রথমে তিনি আলারা নামক একজন সন্নাসীর কাছে যান। তার উত্তরে সন্তুষ্ট হতে না পেরে তিনি যান উদ্দক নামক আর একজনের কাছে। কিন্তু এখানেও কোনো ফল পেলেন না। এভাবে কিছু দিন যাবার পর তিনি মগধের উরুবিল্ব নামক স্থানে একটি গাছের নিচে ধ্যান শুরু করেন। কঠোর সাধণার ফলে তার শরীর ক্ষয়ে যায়। কিন্তু এ তপস্যায় তিনি ভয়, লোভ ও লালসাকে অতিক্রম করে নিজের মনের উপর সম্পুর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে সক্ষম হলেন। সহসা তিনি বুঝতে পারলেন এভাবে আলোকলাভ হবেনা। তিনি তাই আবার খাদ্য গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেন। সুগত নাম্নী এক নারীর কাছ হতে তিনি এক পাত্র দই আহার করলেন। অতঃপর তিনি নদীতে স্নান করে পুনরায় ধ্যাণে বসেন। অবশেষে কঠোর তপস্যার পর তিনি আলোকপ্রাপ্ত হলেন। তিনি দুঃখ, দুঃখের কারন, প্রতিকার প্রভৃতি সমন্ধে জ্ঞান লাভ করলেন।

বুদ্ধের মৃত্যুর পরে ভারতীয় উপমহাদেশ সহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মের প্রসার হয়। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, মায়ানমার, চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কোরিয়া সহ পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে এই ধর্মবিশ্বাসের অনুসারী রয়েছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28753828 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28753828 2007-12-25 17:18:30
নতুন বিতর্ক: যীশু কি মেরী ম্যাগদালিনকে বিয়ে করেছিলেন, তার কি সন্তান ছিল?
এই চার্চেই অক্টোবরের ২৭ তারিখে দ্য ভিঞ্চির মাস্টারপীস "দ্য লাস্ট সাপার" বিশাল স্ক্রীনে দেখানো হয়। কর্তৃপক্ষ এই ছবিটির ১৬ বিলিয়ন পিক্সেলের ইমেজটি অনলাইনে প্রকাশ করেছে। এর ফলে সাধারন দর্শকরা ছবিটিকে আরো নিখুঁতভাবে দেখতে পাবেন, এমনকি ভিঞ্চি ম্যুরালটি তৈরি করার পূর্বে যে ড্রয়িং করেছিলেন তার ছাপও দেখতে পাওয়া যাবে। ১৬ বিলিয়ন পিক্সেলের এই ছবিটি কিন্তু একটি বিশ্বরেকর্ড। ১০ মিলিয়ন পিক্সেলের একটি ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে তোলা যে কোন ফটোগ্রাফের তুলনায় এটি ১৬০০ গুন বেশি শক্তিশালী। আশা করা হচ্ছে কয়েক বিলিয়ন দর্শক এই ছবিটা অনলাইনে দেখবেন।

সর্বকালের সবচেয়ে বিখ্যাত ছবিগুলোর মধ্যে "দ্য লাস্ট সাপার" অন্যতম। মূল ছবিটি ভিঞ্চি একেঁছিলেন সান্তা মারিয়া ডেল্লি গ্রেজি চার্চের ডাইনিং হলের পেছনের দেয়ালে, ১৪৯৫ হতে ১৪৯৭ সালের মধ্যে। ইতালিতে এটি পরিচিত Cenacolo II নামে। ভিঞ্চির বিখ্যাত এই ছবিতে ক্রুসবিদ্ধ হবার পূর্ব রাত্রিতে অনুসারীদের নিয়ে যীশু'র জীবনের শেষ খাবার খেতে বসার মুহূর্তটি দেখানো হয়েছে। এর ঠিক পরের মুহূর্তেই যীশু তার অনুসারীদের কাছে নাটকীয়ভাবে ঘোষণা করেন “One of you shall betray me.”

পেসসি দাবি করেন তিনি ছবিটির মধ্যে একটি নতুন লুকানো নারীমূর্তি দেখতে পেয়েছেন। তার ভাষ্য মতে, তিনি যখন ভিঞ্চির মূল ছবিটির একটি বিপরীত প্রায় স্বচ্ছ ছবি তৈরি করে একটি অপরটির উপরে বসান তখন যীশুর কাছে এক হাতে সন্তান ও অপর হাতে পাত্র নিয়ে এক নারীমূর্তি দেখতে পান।

অনেক চিত্র সমালোচক এর সমালোচনা করলেও পেসসির এই আবিস্কার মানুষের মধ্যে প্রচন্ড কৌতুহল সৃষ্টি করেছে, ১৫ শতাব্দীর এই ম্যুরালটি দেখার জন্য খোঁজাখুজি শুরু হয়েছে অনলাইনে, এর ফলে ক্রাশ করেছে কয়েকটি ওয়েবসাইট।

যুক্তিবাদীরা পেসসির এই আবিস্কারের সাথে আমেরিকান লেখক ড্যান ব্রাউনের সর্বাধিক বিক্রীত বিখ্যাত উপন্যাস "দ্য ভিঞ্চি কোড" এর যুক্তির সাথে মিল খুঁজে পেয়েছেন। "দ্য ভিঞ্চি কোড" এই উপন্যাসটি নিয়ে এরই মধ্যে একটি ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে। ড্যান ব্রাউনের মতে ম্যুরালে যীশুর ঠিক ডানপাশের পুরুষটি আসলে মেরী ম্যাগদালিন। বলা হয়েছে যীশু তার অনুসারী মেরী ম্যাগদালিনকে বিয়ে করেছেন এবং তাদের একটি সন্তানও রয়েছে আর তাছাড়া যীশুর রক্তধারা এখনো প্রবাহিত হচ্ছে। কিন্তু তৎকালীন ক্যাথলিক চার্চগুলো বিয়ের এ খবর চেপে যায়।

কিন্তু কথা হচ্ছে প্রাচীন কোন লেখাতেই কিন্তু যীশুর বিয়ে সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। Luke 8:1-3 এ বলা হয়েছে যীশুর সাথে থাকতেন তিন জন নারী - মেরী, জোয়ান্না ও সুসান্না; কিন্তু তাই বলে যীশু ও মেরীর মধ্যে কোন রোমান্টিক সম্পর্ক ছিল তা ভাববার কোন কারনই ঘটেনি। আবার তথাকথিত Gospel of Philip থেকে জানা যায় যীশু মেরীকে চুমু খেয়েছিলেন। তবে এটিকে শক্ত কোন প্রমাণ বলা যাবে না কারণ Gospel of Philip লেখা হয়েছিল যীশুর সময়ের প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় পরে। তাছাড়া এ চুমু তো হতে পারে হাতে বা ঘাড়ে বন্ধুতার নিদর্শন হিসেবে। লেখার সে অংশ পড়া না যাওয়ায় যীশু চুমু কোথায় খেয়েছিলেন তা অজানা রয়েছে এখনো। তাছাড়া চরম সন্দেহজনক এই লেখাটিতেও কিন্তু তাদের মধ্যে বিয়ে হয়েছে এমনটি দাবী করা হয়নি।

বিতর্কের সূত্রপাত তো হয়ে গেছে এখন অবসান কবে হবে তাই দেখার বিষয়।

অনেক কথা বললাম। যাই হোক, দ্য ভিঞ্চি কোড মুভিটি আমার এখনো দেখা হয়ে ওঠেনি, দেখি দু-এক দিনের মধ্যে বায়তুল মোকাররমে হানা দেব এর ডিভিডি'র খোঁজে। আরেকটা তথ্য, বর্তমানে ড্যান ব্রাউনের Angels And Demons অবলম্বনে "দ্য ভিঞ্চি কোড" এর প্রিক্যুয়েল তৈরির কাজ চলছে, এটি মুক্তি পাবে ২০০৮ এর ডিসেম্বর মাসে।

১৬ বিলিয়ন পিক্সেলের ছবিটি দেখতে চাইলে নীচের লিংকে ক্লিক করুন।
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28753096 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28753096 2007-12-21 18:21:56
ইউএফও রহস্য জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকী বিবেচনা করে মার্কিন বিমানবাহিনী ১৯৪৭ সালে ইউএফও তদন্তে নামে। তদন্তকাজ শেষ হয় ১৯৬৯ সালে। এ সময়ে প্রাপ্ত সর্বমোট ১২,৬১৮ টি ঘটনার মধ্যে ৭০১ টি ঘটনার কোন ব্যাখ্যা তারা দিতে পারে নি। মার্কিন বিমানবাহিনী তাদের তদন্ত শেষ করে এই বলে যে “no UFO reported, investigated, and evaluated by the Air Force has ever given any indication of threat to our national security”। ১৯৬৯ সালের পর আর কোন মার্কিন সংস্থা ইউএফও তদন্ত কাজে সরাসরি হাত দেয়নি। এরপর ১৯৯৭ সালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ মার্কিন সামরিক বাহিনীর উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গোয়েন্দা বিমান ব্যবহারের কথা ফাঁস করে দেয়। ১৯৫০ হতে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত যতগুলো ইউএফও দেখা গেছে তার মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগ ঘটনার জন্য দায়ী Lockheed U-2A এবং Lockheed SR-71 নামের এই বিমান দুটি।
যদিও কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নি, তারপরও অনেকেই এটিকে ভিনগ্রহের বাসিন্দাদের আকাশযান বলে মনে করেন। আর এটিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবার উপায় নেই। অধিকাংশ বিজ্ঞানীই এই মহাশূণ্যে কোথাও না কোথায় অতিমানবীয় বুদ্ধিমান প্রানীর অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন।

ইউএফও এর আরো ছবি দেখতে চাইলে
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28752856 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28752856 2007-12-20 12:53:49
৬ টি সহজ ধাপ অনুসরণ করে ঈশ্বরে বিশ্বাস করুন
১. প্রথমে আপনাকে অবশ্যই ঈশ্বর বিশ্বাস করতে চাইতে হবে।
২. এরপর ভাবুন, কোন প্রমাণ ছাড়াই ঈশ্বরে বিশ্বাস করার মতো মহৎ কাজ আর নেই।
৩. তারপর চিন্তা করুন, কোন প্রমাণ ছাড়াই ঈশ্বরে বিশ্বাস করার কথা মানুষ যে ভাবতে পারছে এটাই তো ঈশ্বরের অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
৪. এরপরও যদি কোন প্রমাণের দরকার হয় তবে (আপনার ও অন্যদের) প্রলোভন, ধর্মে অবিশ্বাস, নৈতিক পতন এগুলোকে বিবেচনা করুন।
৫. ২-৪ নং ধাপগুলো জোর করে বিশ্বাস করার চেষ্টা করুন।
৬. আবার ২ নং ধাপটি বিবেচনা করুন।

এরপরও যদি ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ থাকে হবে আপনি ঘোর নাস্তিক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28752853 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28752853 2007-12-20 12:35:23
ত্রিশ লক্ষ শহীদ : মিথ নাকি বাস্তবতা ?
একাত্তর সালে পাকিস্তানের জঙ্গি সদরে রিয়াসৎ জেনারেল ইয়াহিয়া খান সদম্ভে কইছিলেন, “ওদের ত্রিশ লক্ষ হত্যা কর, বাকীরা আমাদের থাবার মধ্যে থেকেই নিঃশেষ হবে।” (১)

কিছু বিতর্ক আছে ইচ্ছা কৈরা টিকায় রাখা হয়। আসলে বিতর্ক ফিতর্ক কিছু নাই, হুদাহুদি একটা গ্যানজাম লাগায় রাখন আর কি। স্বাধীনতার ৩৫ বছর পরেও একখান বিতর্ক ইদানিংকালে নয়া পাকিপ্রেমী রাজাকার-আলবদর গো মৈদ্দে দানা বাঁধছে আর তা হৈল, মুক্তিযুদ্ধে নাকি ত্রিশ লক্ষ লোক শহীদ হয় নাই, ব্যাপারটি নাকি হুদাই চাপাবাজি।

কয়েকটা পান্ডা রাজাকার আবার কৈতে চায় যে, ত্রিশ পয়ত্রিশ লক্ষ ত দূরের কথা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ গো সংখ্যাডা নাকি কয়েক হাজার, খুব বেশি হৈলে কয়েকশ হাজারের হৈব। কেন্ আৎকা হালারা শহীদ গো সংখ্যা লৈয়া হুদাই ফাল পারন শুরু কোরছে? যুক্তিডা কি? হেগো যুক্তি হৈল, নব্বই হাজার পাক বাহিনীর পক্ষে নাকি একাত্তুরের নয় মাসে ত্রিশ লক্ষ (বা থ্রি মিলিয়ন) বাংগালী গো মাইরা ফালানো সম্ভব না। হাছাই নাকি? আসেন আমরা কিছু অংক-সংক কৈরা দেহি হ্যাগো কথায় কতটুকুন লজিক আছে! অংকের কথা হুইনা ডরাইয়েন না ভাইজানেরা। এই অংক করতে আপনেগো ফিবোনক্কি সিরিজও জানোন লাগব না, যাদবের তৈলাক্ত বাঁশের উপরে দিয়া বান্দরের উডা-নামাও ছলভ করতে হৈব না। প্রাইমারী স্কুল লেভেলের যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগের জ্ঞান, আর কিছুডা কমন সেনস্ থাকলেই সারব। অংক করন শ্যাষ হৈলে আমরা আমগো বিশ্লেষণডা আরেকডা জেনোসাইডের ভিকটিম কম্বোডিয়ার লগে তুলনা কৈরা দেখুম ত্রিশ লাখ শহীদের ব্যাপারডা অযৌক্তিক কিনা!

বাংলাদেশের গণহত্যা : ফ্যাক্টস এন্ড ডকুমেন্টস:

১৯৮১ সালে ইউ এন ইউনির্ভাসাল হিউম্যান রাইটসের ডিকলারেশনে কৈছে (২) :

মানব ইতিহাসে যত গণহত্যা হয়েছে এর মধ্যে বাংলাদেশের ১৯৭১’ এর গণহত্যায় স্বল্পতম সময়ে এই সংখ্যা সর্ববৃহৎ। গড়ে প্রতিদিন ৬,০০০ - ১২,০০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। .. .. .. এটি হচ্ছে গণহত্যার ইতিহাসে প্রতিদিনে সর্ব্বোচ্চ নিধনের হার।

তার মানে দাঁড়াইতাছে, পাক বাহিনী এই নাপাক কামডা (দিনপ্রতি ৬০০০-১২০০০ বাঙালী নিধন) করছে মোটামুটি ২৬০দিনে (একাত্তুরের ২৫-এ মার্চ থেইক্যা শুরু কৈরা ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত)। আওয়ামী বাকশালী ভারতের দালাল গো দেওয়া তথ্য না, ইউ এন এর নিরপেক্ষ ডাটা লৈয়া একটু হিসাব করণ যাক। আহেন ভাইসব, একটু ক্যালকুলেটর লৈয়া বসি:

বাঙালী নিধনের লোওয়ার লিমিট: ৬০০০ x ২৬০ = ১৫,৬০,০০০ (১৫ লক্ষ ৬০ হাজার)। আর নিধনের আপার লিমিট: ১২০০০ x ২৬০ = ৩১,২০,০০০ (৩১ লক্ষ ২০ হাজার)।

যদি আমরা “হ্যার মাঝামাঝি” লৈয়া হিসাব করি, তাইলে সংখ্যাডা দাঁড়ায়: ২৩,৪০,০০০ (তেইশ লাখ চল্লিশ হাজার)।

একাত্তুরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা আছিল মোটামুটি সাত কোটি পঞ্চাশ লাখ। গড়ে প্রত্যেক পরিবারে ৫জন কৈরা সদস্য আছিল। সাত কোটি পঞ্চাশ লাখরে ৫ দিয়া ভাগ কোরলে খাড়ায় - ১ কোটি পঞ্চাশ লাখ। অর্থাৎ, ১ কোটি পঞ্চাশ লাখ পরিবার আছিল তখন দেশে। প্রত্যেক পরিবারে মারা গেছে: ০.১৬ জন। অর্থাৎ, একাত্তুরে গড়ে একশটা পরিবার খুঁজলে এর মৈদ্যে ষোলডা পরিবার পাওন যাইত যারা পাক বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হৈছে। ১৬টা পরিবার-এইডা তা এমন আহামরি কোন বড় সংখ্যা না যে ঘটবার পারব না।

তার মানে অন্তত ১৬% বাঙালী পরিবার একাত্তুরে আছিল যাগো কেউ না কেউ না-পাক বাহিনীর হাতে শহীদ হৈছিল। ‘অন্তত’ শব্দডা ইচ্ছা কৈরাই এইখানে বসাইছি কারণ হাজার হাজার পরিবারের উদাহরণ আমরা জানি যারা ম্ুিক্তযুদ্ধে একাধিক সদস্য হারাইছে। পুরা পরিবার হুদ্দা নিশ্চিহ্ন হৈয়া গেছে এইরকম উদাহরণও কৈলাম আছে ঢের! আমরা না হয় নিও-রাজাকারগো একটু ছার দিয়া ঐ মর্মান্তিক উদাহরণগুলা এই ক্যালকুলেশনে না আনি।

পাক বাহিনীর সংখ্যা আছিল নব্বই হাজার। একাত্তুরের ২৬০ দিনে একেক জন পাকি আর্মির হাতে ২৬ জন কৈরা বাঙালী মারা গেছে (তেইশ লাখ চল্লিশ হাজার’রে নব্বই হাজার দিয়া ভাগ করেন)। মনে রাইখেন, আমি এইখানে পাকবাহিনীর দোসর রাজাকার আলবদর গো সংখ্যা গোনায় লৈ নাই। প্রায় লাখ খানেক রাজাকার গো সংখ্যা যোগ করলে একেক পাকির হাতে শহীদের সংখ্যা দশ-বারোর মৈদদে নাইম্যা আইব। আমরা আপাতত: ছাব্বিশ ধৈরাই আগাইয়া যাই।

কাজেই একেক পাকিস্তানীর হাতে প্রতি দিনে খুন হৈছে শূণ্য দশমিক এক জন কৈরা (২৬ রে ২৬০ দিয়া ভাগ করেন)। কাজেই বুঝা যাইতাছে, (০.১) শূন্য দশমিক এক-মানে একেক পাক-বাহিনীর হাতে প্রতি দশ দিনে একজন কৈরা বাংগালী মারা গ্যাছে ঐ সময়। এইডা যুদ্ধের সময় কোন “মিশন ইম্পসিবল” জব নাকি? আইজক্যা ফকরুদ্দিন ছাবের আর্মি ব্যাকড গর্ভমেন্ট যে দ্যাশডারে “শান্তির নীড়” বানায় রাখছে, সেই “শান্তির নীড়ে”ও তো পেপার খুললেই দিনে বিশ পঁচিশটা কৈরা খুনের খবর পাওন যায়। আর সেইখানে একাত্তুরে যখন পাক-বাহিনী প্ল্যান প্রোগ্রাম কৈরা গণহত্যা করতে নামছে, তখন দশ দিনে মারছে একজন কৈরা।

কাজেই বুঝা জাইতাছে ত্রিশ লাখ শহীদের ব্যাপারটা কোন অতিরঞ্জন না, কোন “অবাস্তব ফিগার” না। আসলেই ত্রিশ লাখ লোক শহীদ ঐ যুদ্ধে। আরো এক কোটির মতন হৈছে শরণার্থী। আপনেগো যদি স্মরণে থাকে, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ১৯৭২-এর ইস্যুতে লেখা হৈছিল বাংলাদেশে একাত্তুরে তিন মিলিয়ন (বা ত্রিশ লাখ)-এর বেশি লোক মারা গ্যাছে (৩)। আরও অনেক নিরপেক্ষ ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়াতেই তখন “থ্রি মিলিয়ন” উল্লেখ করা হৈছিল। যেহেতু যুদ্ধের দুই-তিন বছরের মৈদ্দে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ায় যে তথ্যগুলান নিরপেক্ষভাবে উইঠা আইছিল সেইগুলান যে স্বাধীনতার পয়ত্রিশ বছর পরে নিও-রাজাকার গো “গবেষণাধর্মী” প্রোপাগান্ডার চাইতে অনেক বেশি অথেন্টিক, তা বোধ হয় কওনের অপেক্ষা রাখে না। জেনোসাইড ডট অরগে’ও (http://www.genocide.org)সেই সত্যের উচ্চারণ শুনি (৪) ঃ

একাত্তরের ২২শে ফেব্র“য়ারী তারিখে পশ্চিম পাকিস্তানের জেনারেলরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে আওয়ামী লীগ ও তার সমর্থকদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হবে। প্রথম থেকেই স্থির করা হয় যে (এদের) হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনকে নির্মূল করতে হলে সামরিক গণহত্যার অভিযান শুরু করতে হবে ঃ ‘ওদের ত্রিশ লক্ষকে হত্যা কর’, ফেব্র“য়ারী সম্মেলনে নির্দেশ দিয়েছিলেন সদরে রিয়াসৎ ইয়াহিয়া খান, ‘এবং বাকীরা আমাদের থাবার মধ্যে থেকেই নিঃশেষ হবে।’ (রবার্ট পেইন, ম্যাসাকার, ১৯৭২, পৃ ৫০)। ২৫শে মার্চ তারিখে গণহত্যার রকেট উৎক্ষিপ্ত হল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয় আক্রান্ত হল এবং শত শত ছাত্রকে নির্মূল করা হল (পাকিস্তানী বর্বর সেনাদের হাতে)। দলে দলে এই নৃশংস হত্যাকারীরা সারা ঢাকা শহরের রাজপথ অলি গলি চষে বেড়িয়ে একই রাতে কম করেও ৭,০০০ নিরীহ মানুষকে হত্যা করল। কিন্তু এটা তো ‘শুরু’ মাত্র। এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকার জনসংখ্যার অর্ধেক পালিযে বাঁচল, এবং অন্তত ৩০,০০০ মানুষ এর মধ্যে পাক বাহিনীর হতে নিহত হল। চট্টগ্রামেও জনসংখ্যার অর্ধেক নিশ্চিহ্ন হল। সারা পূর্ব পাকিস্তানে জনগণ পালিয়ে বেড়াচ্ছিল, এবং হিসাব থেকে দেখা গেছে এপ্রিলেই সারা পূর্ব পাকিস্তানে অন্তত তিন কোটি মানুষ সামরিক নর পিশাচদের হাত রক্ষা পাওয়ার জন্য গ্রাম-গ্রামান্তরে পালিয়ে বেড়িয়েছে (রবার্ট পেইন, ম্যাসাকার, পৃ ৪৮)। এক কোটিরও ওপর পূর্ব পাকিস্তানবাসী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল- যা তাদের অর্থনীতির ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে পরিণামে উদ্ভুত পরিস্থিতি ভারতকে সামরিক হস্তক্ষেপে বাধ্য করেছিল (গণহত্যার শুরুতে পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল ৭.৫ কোটি) ।

আমি পরের অংশে কম্বোডিয়া নামের রাষ্ট্রের আরেকখান গণহত্যার শিকার খতিয়ান দিয়া দেখামু যে খেমাবুজরা সেখানে যেই গণহত্যা চালাইছিল সেই তুলনায় বাংলাদেশের গণহত্যার ফিগার (ত্রিশ লাখ) অনেক রিয়ালিস্টিক। কম্বোডিয়ায় চার বছরের (১৯৭৫-১৯৭৯) গণহত্যায় খেমারুজেরা প্রতিদিন মারছিল একজনের উপরে, আর বাংলাদেশে পাক বাহিনী প্রতি দশ দিনে মারছে একজন কৈরা। বাংলাদেশের গণহত্যায় শূন্য দশমিক ছয় জন ফ্যামিলি ভিকটিমাইজড হৈছে, সেখানে কম্বোডিয়ায় হৈছে এক দশমিক এক আট জন। তারপরও নিও-রাজাকার আবালেরা ফাল পারে - “থ্রি মিলিয়ন” নাকি আনরিয়ালিস্টিক ফিগার!



আমরা এখন অন্য একটা রাষ্ট্রের গণহত্যার খতিয়ান হাজির করমু। এইডার উদ্দেশ্য হৈল, যে গাণিতিক যুক্তি আগে হাজির করা হৈছে ঐতিহাসিক বাস্তবতার নিরিখে সেই দাবিটা পর্যালোচনা করা। এইডাই প্রকৃত গবেষণার পদ্ধতি। যারা বিজ্ঞানের জার্নালে দুই-চাইরটা পেপার পাবলিশ করছে তারা সবাই এই পদ্ধতির কতাডা জানে।
আমরা আইজক্যা ইতিহাসের আরেকখান গণহত্যা লৈয়া আলোচনা করমু, যে গণহত্যাডা নির্মমতা আর ভয়াবহতায় সম্ভবত বাংলাদেশরেও ছাড়ায় গেছে গা। পলপটের খেমারুজ বাহিনী কম্বোডিয়ায় বুর্জোয়া নিমূর্ল করবার লাইগ্যা কি ভাবে পংগপালের মত মানুষরে কচুকাটা করছে তার একটু নমুনা দেই।

খেমারুজ বাহিনী ক্ষমতায় আছিল ১৯৭৫ থিকা ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত, চাইর বছর। এর মৈদ্দে নিজস্ব আদর্শের নামে মাইরা সাফা করছে প্রায় ১৭ লাখ থিকা ৩০ লাখ লোক (৫,৬)। ভাবতাছেন, কৈ এইডা তা বাংলাদেশের গণহত্যারে সংখ্যায় অন্তত: অতিক্রম কৈরা যায় নাই। হাছাই ধরছেন, তয় খাড়ান, কথা আছে! কম্বোডিয়ার জনসংখ্যা বাংলাদেশের একাত্তুরের লাহান সাড়ে সাত কোটি আছিল না। খেমারুজরা ক্ষমতায় যাওনের সময় কম্বডিয়ার জনসংখ্যা আছিল মোটামুটি ৭৬ লাখ (৭)। তাইলে চিন্তা করেন, ছিয়াত্তুর লাখের মৈদ্দে ১৭-৩০ লাখ মাইরা সাফা কৈরা ফালাইছে। আমরা ১৭ লাখ মারছে এইডা ধৈরাই হিসাব করি আপাতত: কাজেই খেমারুজেরা মুল জনসংখ্যার ২২ ভাগের বেশি মাইরা সাফা করছে। আর অন্যদিকে পাকবাহিনী সাফা করতে পারছে আমগো জনসংখ্যার ৪ ভাগ (৩০ লাখরে ৭.৫ কোটি দিয়া ভাগ কইরা ১০০ দিয়া গুণ দিলে পাওন যায়)।

আমার অবশ্য কম্বোডিয়ার ফ্যামিলি সাইজ সম্বন্ধে কোন ধারণা নাই। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যা আগে ধরছি (প্রত্যেক পরিবারে পাঁচ জন সদস্য) তা ধৈরাই আগাইয়া যাই। হেই হিসাবে ১৯৭৪ সালে কম্বোডিয়ায় পরিবারের সংখ্যা আছিল মোটামুটি ১৫ লাখ ২০ হাজার। কাজেই প্রত্যেক পরিবারে মারা গেছে: এক দশমিক এক আট (১.১৮) জন কৈরা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হিসাবডা আছিল শূণ্য দশমিক ছয় (০.৬)। সাধারণ বাংলায় কৈলে কৈতে হয়, কম্বোডিয়ার গণহত্যায় এভারেজে প্রত্যেক পরিবারই কাউরে না কাউরে হারাইছে, যা বাংলাদেশে ঘটে নাই। বাংলাদেশে একাত্তুরে একশটা পরিবার খুঁজলে ষোলডা পরিবার পাওন জাইত যাগো কেউ না কেউ পাকবাহিনীর হাতে মরছে। কাজেই বাংলাদেশের পরিসংখ্যান আনরিয়ালিস্টিক কিছু না।

এইখানে একটা ব্যাপার আছে। খেমারুজরা গণহত্যা করছে চার বছর ধৈরা। আর পাক বাহিনী করছে নয়মাসে। হের লাইগ্যা পাকিরা আমগো জনসংখ্যার বাইশ তেইশ ভাগ সাফা কৈরা দেওনের সময় পায় নাই, যা খেমারুজেরা করবার পারছে। এখন যদি খেমারুজেরা চাইর বছরে না মাইরা পাকবাহিনীর মতৈ ২৬০ দিনে লোকগুলানরে মারত, তাইলে দিনপ্রতি মারত প্রায় ৭০০০ জন কৈরা। ঐ সংখ্যাডাও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ইউএন-এর দেওয়া পরিসংখ্যানের সাথে খাপ খায় (৬,০০০ থেকে ১২,০০০)। কাজেই বাংলাদেশে শহীদের সংখ্যাডা হুদাই বানাইন্যা না।

ব্যাপারডারে আরেকটু ঘুরায়া দেখন যায়। আমরা ছোট বেলায় স্কুলে শিখা ঐকিক নিয়মে হিসাব করণের চেষ্টা করি, জনসংখ্যার ২২ ভাগ সাফা করতে খেমারুজরা চার বছর (৪৮ মাস) সময় নিছিল। তাইলে জনসংখ্যার ৪ ভাগ সাফা করতে (যা পাকিস্তানীরা করছিল) তারা কয় মাস সময় নিত? এইডা তা সোজা ঐকিক নিয়ম, রাম, রহিম, যদু, মদু হ¹লতেরই পারন উচিত। হের জন্য ৪৮ রে ২২ দিয়া ভাগ করেন, তারপর ৪ দিয়া গুণ করেন। কি বাইর হৈল? সাড়ে আট মাসের কিছু বেশি। তাইলে আবারও দেখা যাইতাছে নাপাক কামডা পাক বাহিনী নয় মাসে করছে, খেমারুজেরা হয়ত সেইটা সাড়ে আট মাসেই কম্পলিট করতে পারত। কাজেই নয় মাসে ত্রিশ লাখ মারনটা আকাশ কুসুম কল্পনা না, কোন আনরিয়ালিস্টিক ফিগারও না। আর কতভাবে প্রমাণ করমু?

“থ্রি মিলিয়ন” বা ত্রিশ লাখের ব্যাপারটা কোন হাওয়া থেইকা পাওয়া না। আমার মতে এইডা খুবৈ রিয়ালিস্টিক একটা ফিগার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর বেশ কয়েক বারই যুদ্ধে শহীদগো সংখ্যা “থ্রি মিলিয়ন” বা ত্রিশ লক্ষ উল্লেখ করছিলেন (তথ্যসূত্র ৮)। অহন কোন কোন নিও-রাজাকার কৈবার লাগছে যে “অশিখ্যিত” শেখ মুজিব নাকি মিলিয়ন আর লক্ষের পার্থক্য বুজত না, হের লাইগ্যা নাকি গুবলেট কৈরা ফেলাইছিল। হেগো (কু) যুক্তি হুনলে হাসুম না কান্দুম বুজবার পারি না। আমি তো আগেই কৈছিলাম অনেক ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়াতেই তিন মিলিয়ন বা ত্রিশ লাখ মারা যাওনের পরিসংখ্যান ছাপা হৈছিল। যেমন, ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফিকের ১৯৭২ ইস্যু। এছাড়াও The Portsmouth Herald (Monday, January 17, 1972), Y C Rossiter Curriculum as Destiny: Forging National Identity in India, Pakistan, and Bangladesh সহ অনেক ম্যাগাজিন আর পত্র পত্রিকাতেই “থ্রি মিলিযন” কতাডা বাইর হৈছিল (৮)। এ ছাড়াও সেসময় লিখা অনেক ইংরেজী বই-পত্রে ত্রিশ লক্ষ শহীদের উল্লেখ আছে (৯)। ছাগু গো কথা হুইনা মনে হয় ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফক, পোর্টসমাউথ হেরাল্ডসহ হ¹লতেই বুজি শেখ মুজিবের লাহান “অশিখ্যিত” বৈনা গেছিল না! যুক্তির বলিহারি!

আবারও পরিসংখ্যানে ফির‌্যা যাই। তুলনামূলক বিচারে কম্বোডিয়ার গণহত্যা, পাকবাহিনীর গণহত্যার চাইতে অনেক অনেক বেশি নৃশংস আছিল। আগেই কৈছি কম্বোডিয়ার গণহত্যায় পরিবারে মারা গেছে এক দশমিক এক আট (১.১৮) জন কৈরা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হিসাবটা আছিল শূণ্য দশমিক ছয় (০.৬)। কাজেই ভাগ দিলে পাওন যায় যে কম্বোডিয়ার গণহত্যার ভয়াবহতা বাংলাদেশের তুলনায় অন্তত: সাত গুণ বেশি আছিল। কিন্তু কম্বোডিয়ার কেউ গণহত্যার ভয়াবহতা লৈয়া চিক্কুর পাড়তাছে না, কিংবা গণহত্যার ফিগার লৈযা জল ঘোলা করতাছে না, অন্তত: আমার ত চোখে পড়ে নাই।

আরও একখান বিষয়ে বোধ হোয় পার্থক্য আছে হেগো সাথে আমগো চরিত্রের। পলপটের জামানার পরিবর্তনের পর পলপটের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বিচারের আয়োজন করা হৈচ্ছিল। ঐডা আছিল ইউ এন-এর পলিসির উপর ভিত্তি কৈরা প্রথম গণহত্যার বিচার। যদিও বিচার শুরুর আগেই পলপট পটল তুলছিল (কেউ কেউ কয় আত্মহত্যা), কিন্তু বিচারের আয়োজনের ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা রাজাকার আলবদরগো বিচার কোরতে পারি নাই। পাকি’গো কাছ থাইক্যা কোন খেতিপূরণও আদায় করবার পারি নাই। জাহানারা ইমাম একসময় অসুস্থ শরীর লৈয়া শুরু করছিল একডা আন্দোলন, মাগার শেষ কৈরা জাইতে পারে নাই। বিচার কোরতে পারি আর না পারি, অন্তত: এইডা যেন আমরা ভুইলা না যাই যে, পাক বাহিনীর গণহত্যাডা ইতিহাসের অন্যতম বর্বর হত্যাকান্ড। ত্রিশ লাখ লোক আমগো স্বাধীনতার লাইগ্যা প্রাণ দিছে। এই ব্যাপারডা লৈয়া এরপর থেইক্যা কোন নিও-রাজাকার জানি এই লৈয়া জল ঘোলা করবার না পারে। আমার প্রবন্ধের উদ্দেশ্য এইডা না যে বাংলাদেশের গণহত্যার তুলনায় কম্বডিয়ার গণহত্যা কত বড় বা ছোট হেইডা দেখানো, বরং ইতিহাস ঘাইটা এইডা ও অঙ্কের হিসাবে দেখানো নয় মাসে পাক বাহিনী যে ত্রিশ লাখ লোকরে মাইরছে- এইডা কোন “মিশন ইম্পসিবল” জব আছিল না, তাগো কাছে।

(মুক্তমনা হতে নেয়া)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28751887 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28751887 2007-12-16 10:25:36
একটি পরিসংখ্যান : পৃথিবীতে কোন ধর্মের মানুষ কত? Islam: 1.3 billion
Secular/Nonreligious/Agnostic/Atheist: 1.1 billion
Hinduism: 900 million
Chinese traditional religion: 394 million
Buddhism: 376 million
Primal-indigenous: 300 million
African Traditional & Diasporic: 100 million
Sikhism: 23 million
Juche: 19 million
Spiritism: 15 million
Judaism: 14 million
Baha'i: 7 million
Jainism: 4.2 million
Shinto: 4 million
Cao Dai: 4 million
Zoroastrianism: 2.6 million
Tenrikyo: 2 million
Neo-Paganism: 1 million
Unitarian-Universalism: 800 thousand
Rastafarianism: 600 thousand
Scientology: 500 thousand
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28751686 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28751686 2007-12-15 10:19:39
কিভাবে বন্ধুত্বকে জয় করবেন এবং মানুষকে প্রভাবিত করবেন
নীচে ডেল কার্নেগীর লেখা অনুসরনে যে নিয়মগুলোর কথা লিখেছি তা মনে হয়না কারো পক্ষেই মেনে চলা সম্ভব। মানুষ কি কখনো এতটা সদাচারী, নিস্বার্থ, পরোপকারী, উদার আর বন্ধুবৎসল হতে পারে?

বন্ধুত্বকে জয় করে মানুষকে প্রভাবিত করার উপায়ঃ

১. হাসুন।
২. সমালোচনা, অনুযোগ ও অভিযোগ না করে সত্যিকারের সঠিক প্রশংসাটুকুই করুন।
৩. অপরের মধ্যে জানার আগ্রহ জাগিয়ে তুলুন এবং আপনি নিজেও অপরকে জানতে আগ্রহী হোন।
৪. মনে রাখবেন একজন ব্যক্তির কাছে তার নামই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মধুর শব্দ, তাই তার নাম নিয়ে কখনো ব্যঙ্গ করবেন না।
৫. একজন ভালো শ্রোতা হোন। নিজের সম্পর্কে কথা বলতে অপরকে উৎসাহিত করুন এবং তার আগ্রহের বিষয়গুলোতেই কথা বলুন।
৬. অন্যকেও নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে দিন এবং তাকে বেশি কথা বলার সুযোগ দিন।
৭. অপরের মতামতকে শ্রদ্ধা করুন। কখনোই বলবেন না "আপনি ভুল"। বরং যদি আপনি নিজে ভুল হয়ে থাকেন, তবে দ্রুত সাহস করে তা স্বীকার করুন।
৮. বন্ধুভাবাপন্ন হয়ে আলোচনা শুরু করুন এবং তার কথায় তাৎক্ষনিকভাবে সায় দিন।
৯. অপরের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করুন। ধারনা বা বুদ্ধিটা যেন তার নিজেরই তাকে এমনটিই ভাবতে দিন।
১০. অন্যের চিন্তা বা ধারনার উপর সংবেদনশীল হোন।
১১. প্রতিদ্বন্দ্বিতা পরিবহার করে প্রশংসার সাথে শুরু করুন এবং যথাযোগ্য মূল্যায়ন করুন।
১২. অন্যের ভুলগুলোর প্রতি ইঙ্গিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করুন। অন্যের সমালোচনা না করে নিজের ভুলগুলো নিয়ে কথা বলুন।
১৩. সরাসরি আদেশ দেওয়ার পরিবর্তে প্রশ্ন করুন।
১৪. ভুলগুলো সহজে শুধরে নিতে উৎসাহিত করুন এবং সামান্য উন্নতি হলেও প্রশংসা করুন।
১৫. আপনার নির্দেশিত উপায় যেন তাদের মনমতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। আন্তরিকভাবে প্রশংসা করুন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28751573 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28751573 2007-12-14 20:17:35
ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার - ব্রাজিলের প্রতীক
মূর্তিটি তৈরি করেছেন ফরাসী ভাস্কর পল ল্যান্ডোস্কি। ১৯২১ সালে তাকে মূর্তিটি তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়। উদ্দেশ্য পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের প্রথম শতবার্ষিকী উদযাপন। ১৯৩১ সালে শেষ হয় এর নির্মানকাজ। গ্রানাইটের তৈরি এই মূর্তিটি ৩০ মিটার বা ১০০ ফুট উঁচু। যে বেদীটির উপর মূর্তিটি স্থাপন করা হয় তারই উচ্চতা ৬ মিটার বা ২০ ফুট।

মূর্তিটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন যীশু তার দুই হাত প্রসারিত করে শহরটিকে আলিঙ্গন করছেন। পাহাড় আর পানি দিয়ে ঘেরা রিও ডি জেনিরো শহরের সবচাইতে দর্শনীয় জায়গাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। যিশুখ্রিস্ট যেমন খ্রিস্টধর্মের প্রতীক, এই মূর্তিটিও তেমনি রিও এবং ব্রাজিলের প্রতীক।


(এই লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে আমার ব্যক্তিগত ব্লগে এবং পরবর্তীতে বাংলা উইকিপিডিয়াতে সংযুক্ত করা হয়েছে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28751473 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28751473 2007-12-14 09:33:03
মুক্তিযুদ্ধের কিছু বই
১. একাত্তরের দিনগুলি - জাহানারা ইমাম
২. মূলধারা '৭১ - মঈদুল হাসান
৩. গেরিলা থেকে সম্মুখ যুদ্ধে - মাহবুব আলম
৪. স্মৃতি : ১৯৭১ - রশীদ হায়দার
৫. একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায় - মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্র হতে প্রকাশিত
৬. উইটনেস টু সারেন্ডার - সিদ্দিক সালিক
৭. লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে - রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম
৮. জোছনা ও জননীর গল্প - হূমায়ুন আহমেদ
৯. জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা - মেজর কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া
১০. তালাশ - শাহীন আখতার

হূমায়ুন আহমেদের 'জোছনা ও জননীর গল্প' সহ উপরের আরো বেশ কয়েকটি বই আমি পড়েছি। 'জোছনা ও জননীর গল্প' কোন ভাবেই সেরা বইয়ের তালিকায় আসতে পারে বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না। এখানে একজন সস্তা বইয়ের জনপ্রিয় লেখকের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে বলে আমার ধারনা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28751157 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28751157 2007-12-12 18:38:48
তাজমহলের পানে চেয়ে শাহজাহান
তাজ মহলের নির্মাণ কাজ মুমতাজের মৃত্যুর পরপরই শুরু হয়। সৌধটি নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে যা সম্পূর্ণ হয়েছিল প্রায় ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে এবং এর চারদিকের ইমারত এবং বাগান আরও পাঁচ বছর পরে তৈরি হয়। এটি ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো ‘বৈশ্বিক ঐতিহ্যবাহী স্থান’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তখন একে বলা হয়েছিল "universally admired masterpiece of the world's heritage।"

তাজ মহল দেয়াল ঘেরা আগ্রা শহরের দক্ষিণ অংশের একটি জমিতে তৈরি করা হয়েছিল যার মালিক ছিলেন মহারাজা জয় সিং। শাহজাহান তাকে আগ্রার মধ্যখানে একটি বিশাল প্রাসাদ দেওয়ার বদলে জমিটি নেন। তাজ মহলের কাজ শুরু হয় সমাধির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে। সম্পূর্ণ এলাকাকে নদীর পাড় থেকে প্রায় ৫০ মিটার উঁচু করা সমান করা হয়।

তাজ মহলের মূলে হল তার সাদা মার্বেল পাথরের সমাধি। সমাধিটি একটি বর্গাকার বেদিকার উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রধান কক্ষটিতে মুমতাজ মহল ও শাহজাহানের স্মৃতিফলক বসানো হয়েছে, তাদের কবর রয়েছে এক স্তর নিচে। সমাধির উপরের মার্বেল পাথরের গম্বুজই সমাধির সবচেয়ে আকর্ষনীয় বৈশিষ্ট। এর আকার প্রায় ইমারতের ভিত্তির আকারের সমান, যা প্রায় ৩৫ মিটার। এই গম্বুজকে কখনো পেয়াজ গম্বুজ অথবা পেয়ারা গম্বুজ বলেও ডাকা হয়। বড় গম্বুজের উপর মুকুটের মত একটি পুরনো মোচাকার চূড়া রয়েছে। চূড়াটি ১৮০০ শতকের আগে স্বর্ণের নির্মিত ছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি। তাজ মহলের প্রতিটি মিনারই বেদিকার থেকে বাইরের দিকে কিঞ্চিৎ হেলানো আছে যাতে এ মিনার কখনও ভেঙ্গে পড়লেও যেন তা মূল সমাধির উপরে না পড়ে।

তাজমহলের সামনের চত্বরে একটি বড় চারবাগ (মুঘল বাগান পূর্বে চার অংশে বিভক্ত থাকতো) করা হয়েছিল। মাজার অংশ এবং দরজার মাঝামাঝি আংশে এবং বাগানের মধ্যখানে একটি উচু মার্বেল পাথরের পানির চৌবাচ্চা বসানো আছে এবং উত্তর দক্ষিণে একটি সরল রৈখিক চৌবাচ্চা আছে যাতে তাজ মহলের প্রতিফলন দেখা যায়।

তাজ মহল কোন একজন ব্যক্তির দ্বারা নকশা করা নয়। এ ধরণের প্রকল্পে অনেক প্রতিভাধর লোকের প্রয়োজন। তাজ মহল তৈরি হয়েছে সারা এশিয়া এবং ভারত থেকে আনা বিভিন্ন উপাদান সামগ্রী দিয়ে। তাজ মহল নির্মাণে তৎকালীন আনুমানিক ৩২ মিলিয়ন রুপি খরচ হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

তাজ মহলের নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই শাহ জাহান তাঁর পুত্র আওরঙ্গজেব দ্বারা ক্ষমতাচ্যুত ও আগ্রার কেল্লায় গৃহবন্দী হন। কথিত আছে জীবনের বাকী সময়টুকু শাহ জাহান আগ্রার কেল্লার জানালা দিয়ে তাজ মহলের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়েই কাটিয়েছিলেন। শাহ জাহানের মৃত্যুর পর আওরঙ্গজেব তাঁকে তাজ মহলে তাঁর স্ত্রীর পাশে সমাহিত করেন।

তাজ মহল সাম্প্রতি যে হুমকির মুখে পরেছে তা হল যমুনা নদীর তীরের পরিবেশ দূষণ। সাথে আছে মাথুরাতে তেল পরিশোধনাগারের কারণে সৃষ্ট এসিড বৃষ্টি। এর ফলে তাজ মহল হলদেটে হয়ে যাচ্ছে।

তাজ মহলের নির্মাণের পর থেকেই তাজ মহল বহু পর্যটককে আকর্ষিত করেছে। এমনকি তাজ মহলের দক্ষিণ পাশে ছোট শহর তাজ গঞ্জি বা মুমতাজাবাদ আসলে গড়ে তোলা হয়েছিল পর্যটকদের জন্য সরাইখানা ও বাজার তৈরির উদ্দেশ্যে যাতে পর্যটক এবং কারিগরদের চাহিদা পূরণ হয়। বর্তমানে তাজ মহলে প্রতি বছর প্রায় ২ থেকে ৩ মিলিয়ন পর্যটক আসে যার মধ্যে ২,০০,০০০ পর্যটক বিদেশী।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28751146 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28751146 2007-12-12 17:25:56
যত দূরে দূরে দূরে যাবে বন্ধু
যত দূরে
সুমন চট্টোপাধ্যায়

যত দূরে দূরে দূরে যাবে বন্ধু
একই যন্ত্রণা পাবে, একই ব্যাথা ডেকে যাবে;
নেভা নেভা আলো যত বার জ্বালো
ঝড়ো হাওয়া লেগে তার শিখা নিভে যাবে।।
যত দূরে দূরে দূরে যাবে বন্ধু।

কিছু কিছু কথা আছে যার মানে
বুঝিনি এখনো তবু সন্ধানে।।
কাটে সকাল বিকেল যেন নেভাবী স্বভাবে
যত দূরে দূরে দূরে যাবে বন্ধু।

গোছানোর কথা ছিল এমনই সময়
সব অগোছালো কথা জমা নীরবতা।।
যত ভাব ভুলে যাবে যা ছিল বেদনা
যতই ভুলোনা যতই বোঝনো
দেখ হঠাৎ ফেরারী কোন স্মৃতি কাঁদাবে।

যতদূরে দূরে দূরে যাবে বন্ধু
একই যন্ত্রণা পাবে, একই ব্যাথা ডেকে যাবে;
নেভা নেভা আলো যত বার জ্বালো
ঝড়ো হাওয়া লেগে তার শিখা নিভে যাবে।।
যত দূরে দূরে দূরে যাবে বন্ধু।

_________________________________
আচ্ছা, কেউ আমাকে কবিতা আবৃত্তি ডাউনলোড করা যায় এমন কোন সাইটের সন্ধান দিতে পারেন?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28750335 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28750335 2007-12-09 08:08:06
যীশু আর সক্রেটিস : শেষ পর্ব
: সত্যিই যদি তুমি ঈশ্বরকে জানতে চাও, তার সৃষ্টিকে জানতে চাও, আমাদের এই জীবনের উদ্দেশ্য জানতে চাও, তাহলে এর সোজা একটা উপায় আমার জানা আছে। তোমাকে যা করতে হবে তা হল ঈশ্বরকে তোমার হৃদয়ে আসার আহবান করতে হবে। তোমার যদি সত্যিই ঈশ্বরকে জানার ইচ্ছা থাকে তাহলে তোমার মধ্যে এক পবিত্র আত্না প্রবেশ করবে, তুমি ঈশ্বরের সাথে একীভূত হবে। সেই সময়ই তুমি সত্যিকারের জ্ঞান লাভ করবে, শান্তি পাবে। তারপর তোমার মৃত্যুর পর চিরদিনের জন্য সুখ আর আনন্দ লাভের জন্য তোমাকে স্বর্গে নিয়ে যাওয়া হবে।
: বুঝতে পারছি, ঈশ্বরের স্বরূপ জানতে আমাকে আরো বহু পথ পাড়ি দিতে হবে। বলুন এই জ্ঞানলাভের জন্য আমাকে কি করতে হবে? কি বললে আমি এই বিদ্যা লাভ করতে পারব? কিভাবে আমি তাকে খুঁজে পাব?
: শুধু বল, "হে ঈশ্বর তুমি আমার হৃদয়ে প্রবেশ কর, এই সত্য বুঝতে পারার মতো জ্ঞান আমাকে দাও।"
: এই কথাগুলোই বারবার বললেই আমি জীবনের উদ্দেশ্য জানতে পারার মতো জ্ঞান লাভ করতে পারব?
: হ্যাঁ, তিনিই তো বলেছেন, যদি তুমি খোঁজ কর তবেই তুমি পাবে; যদি প্রশ্ন কর তবেই উত্তর পাবে; আর কড়া নাড়ার পরই দরজা খুলবে।
: হে ঈশ্বর তুমি আমার হৃদয়ে প্রবেশ কর, এই সত্য বুঝতে পারার মতো জ্ঞান আমাকে দাও।
: হ্যাঁ, হয়েছে। এবার তোমাকে অনন্ত জীবন দান করার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাও।
: কিন্তু কিছুই তো হল না। জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আগে যা জানতাম এখনো তো তার চেয়ে বেশি কিছু জানতে পারলাম না।
: তাহলে নিশ্চয়ই তুমি ঠিক ছিলে না। তুমি চাওনি সত্যিসত্যিই ঈশ্বর তোমার হৃদয়ে প্রবেশ করে তোমাকে সেই সত্যটা জানাক। ঈশ্বর যে তোমার অন্তরে প্রবেশ করতে পারেন তাই তুমি বিশ্বাস করতে পারছ না।
: সত্যি করে বলছি আমি সেই সত্য জানতে চাই। আমার পুরোটা জীবন আমি আমার দর্শনবিদ্যার কাজে উৎসর্গ করেছি। জীবনের চেয়েও আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করা। বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না যেদিন আমি প্রথম আমি সূর্য দেখেছি সেদিন থেকেই আমি এর উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছি। মৃত্যুর পূর্বমূহূর্ত পর্যন্ত আমি এর উত্তর খুঁজতে থাকব। আমার মনে হয় ঈশ্বর আমার ডাক শুনতে পাননি, আমি কি আরেকটু জোরে ডাকব?
: তুমি এর উত্তর খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হয়েছ কারন ঈশ্বরের প্রতি তোমার বিশ্বাস নেই। কোন ব্যক্তি যদি কোন কিছুতে প্রকৃত অর্থেই বিশ্বাস করে তবে তার সামনে পাহাড়সমান বাধাও আসলেও সে অনায়াসে তা দূর করতে পারে।
: না, এ অসম্ভব। আচ্ছা, আপনার তো অনেক অনুসারী। তাদের আত্নীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের কেউ না কেউ কখনো না কখনো নিশ্চয়ই অসুস্থ ছিল? অবশ্যই ছিল। তখন সে নিশ্চয়ই চেয়েছে তার ঐ আত্নীয়টি বা বন্ধুটি যেন আবার আগের মতোই সুস্থ হয়ে ওঠে। তার ঘনিষ্ট বন্ধুটি মারা যাক তা নিশ্চয়ই সে চায়নি। এর মানে বিগত কয়েকশ বছরেও কোন খ্রীস্টান কখনোই কিন্তু ঈশ্বরকে বিশ্বাস করেনি। তারা জানত ঈশ্বর মিথ্যা।
: ঈশ্বরই দেন আবার তিনিই তা ফিরিয়ে নেন। ঈশ্বরকে ডাকলেই পুণ্য হবে।
: এখন আপনাকে একটা গল্প বলি শুনুন। এই গল্পটাই প্রমাণ করবে কখনোই কোন খ্রীস্টান সত্যিকার অর্থে ঈশ্বরবিশ্বাসী ছিল না। এটিই প্রমাণ করবে যে মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করে তাকে জীবনের উদ্দেশ্য জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঈশ্বর আসলে ভাওতাবাজি করেছেন। তবে তার আগে আমাকে বলুন নরকই যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জায়গা সে সম্পর্কে আপনি একমত কিনা?
: হ্যাঁ, অবশ্যই।
: এবং আপনি বলেছেন যে প্রত্যেক মানুষই পাপী আর তারা ঈশ্বরের কৃপা হতে বঞ্চিত?
: হ্যাঁ, বলেছি।
: ঈশ্বরবিশ্বাসী প্রত্যেক ব্যক্তিই কিন্তু বিশ্বাস করে যে যদি সে পাপ করে তবে সে নরকে যাবে। এখন গল্পটা বলি। প্রত্যেক খ্রীস্টানই হল পাহাড়ের চূড়ায় দাড়িয়ে থাকা একজন ব্যক্তি। সে জানে যদি সে পাপ করে তবে সে মৃত্যু আর আজীবনের অত্যাচারের মুখে পড়বে। আপনি বলেছেন নরক হল পৃথিবীতে যত দুঃখ-দুর্দশা আছে তার চেয়েও খারাপ জায়গা। তাহলে তো কোন ঈশ্বরবিশ্বাসী কোন ব্যক্তিই পাপ করত না, আমি বলতে চাচ্ছি শাস্তি পাবে জেনেও পাহাড়ের চূড়া থেকে লাফ দিত না অর্থাৎ পাপের পথে পা বাড়াতো না। আপনি বলেছেন প্রত্যেক ব্যক্তিই পাপী, এমনকি যারা ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে তারাও পাপী। এর মানে হচ্ছে সৃষ্টির শুরু থেকেই কখনোই কোন খ্রীস্টান সত্যিই বিশ্বাস করেনি যে তারা নরকে যাবে। কারন যদি সে সত্যিই বিশ্বাস করত তাহলে সে পাপই করত না, নীচে নরকে তার জন্য আজীবন শাস্তি অপেক্ষা করছে জেনেও সে পাহাড় থেকে লাফ দিত না। ঠিক এমনিভাবেই এই কয়েকশ বছরেও তারা কখনোই আপনাকে বিশ্বাস করেনি। এর মানে দাড়াল যে ঈশ্বর কখনোই তাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি, ঠিক যেমনি একটু আগে ঈশ্বর আমার অন্তরেও প্রবেশ করেনি। তাই ঈশ্বরকে আমাদের বিশ্বাস করতেই হবে এমনটি আশা করার কোন অধিকার তার নেই। একইভাবে তার কোন অধিকার নেই তাদেরকে শাস্তি দেবার, তাদেরকে নরকে পাঠাবার। আপনার ঈশ্বর ভুল। আপনার ঈশ্বর আসলে কোন ঈশ্বর নয়।
: তোমার চারপাশের এই পৃথিবীর দিকে তাকাও। ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য এটাই কি যথেষ্ট নয়? এই অপরূপ প্রকৃতির দিকে তাকাও, এই প্রকৃতিই তোমাকে শক্তি দিয়েছে, স্বাস্থ্য দিয়েছে, আরামের জন্য সূর্যকিরণ দিয়েছে, খাবারের চাহিদা পূরনের জন্য গাছপালা আর শস্যক্ষেত দিয়েছে। ঈশ্বর তোমার জন্য এতকিছু করল তার জন্য কি তুমি তাকে ধন্যবাদ দেবে না।
: আমি জানি প্রকৃতি দয়ালু, তাহলে আমার ঘরের জানালা ভাঙ্গল যে শিলাখন্ড, সেটা কার?
: এর কারণ প্রকৃতিতে ভালর পাশাপাশি খারাপও আছে। এর জন্য ঈশ্বরকেই তোমার ধন্যবাদ দিতে হবে। ঈশ্বর বলে অবশ্যই কেউ আছেন, তিনি যদি সৃষ্টি না করে থাকেন তবে এই পৃথিবী আসল কোথা থেকে?
: বিন্তু আপনার ঈশ্বরই যে এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তার প্রমাণ কোথায়? এই পৃথিবীতে হাজার হাজার ধর্ম আছে, সেসব ধর্মের মানুষরাও দাবী করেন যে তাদের দেবতারাই নাকি এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। এর উত্তর আমার জানা নেই, কিন্তু তাই বলে ভাববেন না পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই আপনার সব কথা আমি মেনে নেব। আমিও তো আপনার মতো দাবী করতে পারতাম যে জিউসই এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। তাছাড়া আমি যদি মেনেও নেই যে আপনার ঈশ্বরই এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তাহলে এতো গেল মাত্র একটা দিক, ঈশ্বরের অন্য যে সব দিকের কথা আপনি বলেছেন সেগুলো কিন্তু যুক্তি দিয়ে সত্য বলে মেনে নেওয়ার উপায় নেই।
: দাড়াও, যেও না। নিজেকে রক্ষা কর, নইলে তোমাকে নরকে পঁচতে হবে। ঈশ্বরকে তোমার হৃদয়ে প্রবেশ করতে দাও। যতক্ষন পর্যন্ত না তুমি আমার কথা মেনে নেবে ততক্ষন পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না।
: ঠিক আছে, আপনার কথাই মেনে নিলাম। ধরে নিন, এগুলো সবই একটা বুড়োমানুষের অলস চিন্তা। আপনার এত অনুসারী, হয়তো আপনিই ঠিক। আর কে আমি? বোকাসোকা এক বুড়ো। এত লোকের মতামত উপেক্ষা করে সবাইকে আমার যুক্তি মানতে বাধ্য করাতে পারব তার যোগ্যতাই কি আছে আমার!
: ঈশ্বরকে অসংখ্য ধন্যবাদ, শেষপর্যন্ত তিনি জ্ঞান দিয়েছেন।
সক্রেটিস চলে গেল।

(সমাপ্ত)

বিঃ দ্রঃ ইংরেজী মূল লেখাটির মতো এই বাংলা অনুবাদটি পিডিএফ ফরম্যাটে পড়তে চাইলে নীচের অ্যাড্রেসটি কপি করে অ্যাড্রেসবারে পেস্ট করুন।
Click This Link ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28750329 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28750329 2007-12-09 07:50:17
ব্লগীয় রাজাকারগুলোর একটা তালিকা তৈরি করুন।
স্বাধীনতার এত বছর পরেও তো রাজাকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হয়নি, অন্তত ব্লগে মুখোশধারী এসব রাজাকারদের একটা তালিকা হোক।

এদেরকে তো চিনে রাখা দরকার। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28750244 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28750244 2007-12-08 19:52:34
যীশু আর সক্রেটিস : পর্ব - ৪
: ঈশ্বর মানুষকে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেদেরই নেবার ক্ষমতা দিয়েছিলেন কারন তিনি চাননি মানুষ তার হাতের পুতুল হয়ে থাকুক। তিনি চাননি মানুষ পাপ করুক। কিন্তু মানুষ যখন পাপ করল তখন তিনি হতাশ হয়ে পড়লেন।
: হতাশ হবার প্রশ্নই ওঠে না, কারন তিনি মানুষের স্বভাব জানতেন। তিনি তো ক্ষমতাবান, মানুষ পাপ করুক এটা তিনিই চেয়েছিলেন। বরং আমি বলব মানুষকে এসব আকাঙ্খা আর দুর্বলতা দিয়ে তৈরি করে তিনি মানুষকে পাপ করতে বাধ্য করেছেন।
: কি সব আজেবাজে বকছ! ঈশ্বর এই পৃথিবী, গাছপালা, পশু-পাখি এসব তৈরি করেছেন শুধুমাত্র মানুষকে আনন্দ দেবার জন্য। তোমার চারপাশের এই অপরূপ পৃথিবীর দিকে তাকাও। এতকিছু তোমাকে দেবার পরও কি করে এসব বলতে পারলে?
: আমি এসব বিশ্বাস করি না। আমি তো ভেবেই পাই না তার মতো একজন নিষ্ঠুর, ঘৃন্য দেবতা কিভাবে এত অপরূপ করে এই পৃথিবী তৈরি করতে পারেন। একজন মানুষ যত খারাপই হোক না কেন সেও কিন্তু জীবনে কখনো না কখনো অবিশ্বাস্য দৃঢ়তা আর আত্নত্যাগের পরিচয় দেয়, মায়া-মমতা দেখায়। আপনার ঈশ্বরের তো এগুলোর কোনটিই নেই। শুধুমাত্র তাকে শ্রদ্ধা করে না, তাকে মানে না এর জন্য কি কোন মানুষ কখনো কাউকে এরকম নির্দয়ভাবে চিরজীবন শাস্তি দিতে পারে। কিন্তু আপনার এই তথাকথিত ঈশ্বর এভাবেই শয়তানকে অত্যাচার করছেন।
: আমিই তো সেই পথ, সেই সত্য, সেই আলো। পিতার কাছে আমি ছাড়া আর কেউই যেতে পারে না। আমার কথা বিশ্বাস করলে তুমি স্বর্গে চিরজীবন লাভ করবে আর যদি অবিশ্বাস কর তবে পাবে নরক যন্ত্রণা।
: আপনার পদ্ধতি যদি আমি গ্রহণও করি তারপরও কিন্তু আমি শয়তানের পক্ষেই থাকব। ঈশ্বর হয়তো এজন্য আমাকে চিরদিন শাস্তি দেবেন, তারপরও আমি ঈশ্বরের বিপক্ষে। কি ভয়ানক নিষ্ঠুর আপনার ঈশ্বর! কি নিদারুন অবিচার করছেন তিনি আমাদের উপর। আমি সমুদ্র তীরবর্তী অসভ্য বর্বর মানুষের অত্যাচারের কথা শুনেছি, কিন্ত আমি নিশ্চিত তারাও শত্রুদের এরকম আজীবন অত্যাচার করার কথা চিন্তাও করতে পারে না। আমি সাইক্লপ, গর্গন, মেডুসাসের মতো দানবের অত্যাচারের কথা শুনেছি। কিন্তু তারাও আপনার ঈশ্বরের কাছে কিছুই না। আর আপনি আমাকে বলছেন তিনি দয়াবান, তিনি শান্তি চান, তিনি মাফ করে দিতে পছন্দ করেন!
: আমরা সবাই ঈশ্বরের সন্তান। তিনিই আমাদের পিতা। তিনি কখনোই চান না আমরা পাপ করি কিন্তু যদি আমরা পাপ করি তবে অবশ্যই তিনি আমাদেরকে শাস্তি দেবেন। তিনি এমনিতে দয়ালু, তিনি আমাদেরকে শাস্তি দেবার জন্য শুধু তখনই নরকে পাঠান যখন আমরা নিজেরাই পাপ করি। যখন আমরা পাপ করি, যখন আদম আর ঈভের মতো আমরাও যৌনতার জন্য লালিত হই, লালসা করি তখন আমাদেরকে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করে শাস্তি দেওয়া ছাড়া তার আর কোন উপায় থাকে না।
: আপনি বললেন আমরা তার সন্তান? আমি বলি কি জানেন তিনি আসলে একটা দানব। তার সন্তানদের তিনি নিজেই চোখ, পা আর কামনা-বাসনা দিয়েছেন আবার এগুলোর জন্যই তিনি তাদেরকে হয়রানি করছেন। না কোন কারন, না উদ্দেশ্য, না সত্য, না দয়া, না বিচার; কোন কিছুই আমি দেখতে পাচ্ছি না। শুধু দেখতে পাচ্ছি একজন নিষ্ঠুর ব্যক্তির ক্ষমতার স্বৈরাচারী নগ্ন ব্যবহার। মানুষ যতই স্বার্থপর আর ধূর্ত হোক না কেন এসকল গুনগুলো ঈশ্বরের চেয়ে মানুষেরই বেশি আছে।
: আমরা সামান্য মানবসন্তান। আমাদের কি সাধ্য যে তার এই রহস্য বুঝতে পারার। আমাদের দায়িত্ব হল তার অনুগত হওয়া, তাকে বিশ্বাস করা, তাকে অনুসরন করা। কেন তা জানার দরকার নেই। আমাদের উচিত শুধু আমাদের কাজ করে যাওয়া আর তারপর মৃত্যু আসলে তাকে বরণ করে নেয়া।
: কেন প্রশ্ন করতে পারব না? তাহলে আমাদেরকে মন দেওয়ার কি দরকার ছিল? তাহলে আমরা কিভাবে বাঁচব আর আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য কি তাই বা আমরা জানব কিভাবে? তাহলে এতক্ষন ধরে আমরা কি আলোচনা করছি? কেন আপনি সারাজীবন ধরে মানুষকে নীতিবাক্য শুনিয়ে যাচ্ছেন? রোমানদের আদেশ অমান্য করে কেনই বা আপনি আপনার নিজের জীবনকে বিপদে ফেলছেন?
: বিশ্বাসের জোরেই তো আমরা টিকে আছি। এখানে বড়াই করার কিছু নেই।
: বিশ্বাস! আচ্ছা, আপনার কাছে বিশ্বাস মানে কি?
: প্রমাণ না চেয়েই তাকে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে। তার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের সন্দেহ করা উচিত নয়। এখন যদি আমরা তাকে বিশ্বাস করি তাহলে আমরা যখন স্বর্গে যাব তখন এই যে এত কষ্ট করলাম, এত পরীক্ষা দিলাম এর জন্য তিনি আমাদের এর হাজারগুন উপহার ফিরিয়ে দেবেন।
: যা বলা হবে তাই বিশ্বাস করতে বলছেন? কোন সন্দেহ করা যাবে না, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে না। আমরা কি এতই বোকা? যদি তাই হত, তাহলে তো আমার উচিত আমাকে লাভের প্রতিশ্রুতি দেবে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকেই বিশ্বাস করে তাদের কাছে টাকা জমা রাখা। আপনার কথামতো চললে আমি নিজেই বোকা বনে যাব। আর এখানে আপনি টাকা চাচ্ছেন না, বরং আমি জানি না চিনি না এমন কারো কাছে আমার জীবন উৎসর্গ করতে বলছেন। ডাকাত যেমন প্রাণের ভয় দেখিয়ে টাকা নিতে চায়, তেমনি আপনি শাস্তির ভয় দেখিয়ে, স্বর্গলাভের লোভ দেখিয়ে আমার কাছ থেকে আমার জীবন নিতে চাচ্ছেন। কিন্তু আমি এত সরল নই যে আপনার এসব ফাঁকা বুলিতে বিশ্বাস করব।
: যারা সোজা সরল তারাই তো পৃথিবীতে টিকে থাকবে।
: ভুল। ওরাই সবার আগে মারা পড়ে। পরাধীন দেশের নারী আর শিশুদের মতো ওদের কপালেও দাসত্বই লেখা থাকে।
: ঈশ্বরকে অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ করো না।
: এই ভদ্রলোকটির সাথে তো আমার কখনো দেখা হয়নি, তাই আমি তাকে সন্দেহ করছি না। আমি সন্দেহ করছি আপনাকে-আপনিই তো নিজেকে ঈশ্বরের দূত বলে দাবি করেন, কি করা উচিত আর কি উচিত নয় তা নাকি একমাত্র আপনিই জানেন।
: তোমাকে অবশ্যই বাইবেল মানতে হবে। বাইবেলেই ঈশ্বরের সব কথা লেখা আছে। কোন কিছু বুঝতে না চেয়ে, কোন প্রমাণ না চেয়েই তোমাকে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে।
: এ অসম্ভব। আপনি জানেন এই পৃথিবীতে কত হাজার ধর্ম আছে? যদি আমরা শুধু অন্ধবিশ্বাসের কারনেই বিশ্বাস করি তবে তো আমাদের সবগুলো ধর্মই মানা উচিত। কিন্ত যেহেতু প্রত্যেকটি ধর্মই আলাদা তাই এটা অসম্ভব ব্যাপার, যেন অনেকটা বিশ্বাস করতে হবে যে পৃথিবীটা একই সময়ে গোল আর চ্যাপ্টা। আমি নিশ্চিত, আপনি যা কিছূ বলছেন তা আপনি নিজেও মানেন না; আপনার তো উচিত ছিল জীউশ ধর্মে বিশ্বাস করা, প্রাচীন ধর্মশাস্ত্রই যে সঠিক ছিল তা মেনে নেওয়া কিন্তু আপনি তা না করে প্রচলিত ধর্মমতের বিরুদ্ধে যেয়ে নিজেই নতুন আরেকটি ধর্ম প্রচার করছেন। তাছাড়া যখন এথেন্সের ধর্মযাজকেরা আপনার ধর্ম প্রচার বন্ধ করার জন্য আপনাকে হুমকী দিল তখন তো আপনার উচিত ছিল অলিম্পিক দেবতাদের এই গ্রীক ধর্মই বিশ্বাস করা। গ্রীক ধর্মই তো সর্বপ্রথম ধর্ম, তাহলে যখন তারা বলল যে গ্রীক ধর্মই আসল ধর্ম, তখন আপনি তাদের কথা মেনে নেননি কেন? আপনারও তো তাদের কথা বিশ্বাস করা উচিত ছিল।
: বিশ্বাসের জোরেই এখনো আমরা টিকে আছি।
: আচ্ছা, আপনাকে আরেকটা উদাহরণ দেই। ধরুন একদিন আকাশ থেকে একটা দৈববানী আসল। আমাকে বলল, "ঐ লোকটাই আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যার জন্য দায়ী; এখন আমি যদি তাকে না খুন করি তবে সেই আমাকে খুন করবে"। একথা শুনে ভয় পেয়ে আমি নিশ্চয়ই ঐ লোকটাকে খুন করব কিন্তু আপনিই আবার বলেছেন, হত্যা করা পাপ। আপনি আমাকে যা বলা হবে তাই বিশ্বাস করে মেনে নিতে বলেছেন। তাহলে এখন আপনার কথা মতো ঐ দৈববানী বিশ্বাস করে আমি লোকটাকে খুন করব আবার আপনার ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস করে লোকটিকে খুন করব না। কিন্তু এ দুটি তো একে অপরের বিপরীত, তাই আমি একইসাথে লোকটিকে খুন করতে পারি না আবার লোকটিকে ছেড়ে দিতে পারি না। তার মানে দৈববানী আর ঈশ্বর এ দুটোকে একসাথে বিশ্বাস করা সম্ভব নয়। অর্থ্যাৎ শুধুমাত্র বিশ্বাসের জোরে কোনকিছু মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আপনি আমি সবাই যা করি তা হল যা বিশ্বাস করি তাই সত্য বলে মেনে নেই। এক্ষেত্রে আমরা দুটো কাজ করতে পারি, হয় চিন্তা-ভাবনা করে, আলোচনা করে, সমস্যার প্রতিটি দিক ভালো করে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারি অথবা শুধুমাত্র অন্ধবিশ্বাসের কারনে কোন সিদ্ধান্ত নেবার দরকার নেই ভেবে সবকিছু অস্বীকার করতে পারি। এখানে সিদ্ধান্ত নেয়াটা খুবই জরুরী কেননা আমাদের তো জানা প্রয়োজন এই "জীবনের উদ্দেশ্য কি?" শুধুমাত্র এই একটি প্রশ্নের উত্তরের উপরই মানবজীবনের সবকিছু নির্ধারিত হয়। আপনার কথামতো যদি ধর্মমতেই আমাদের সব কাজ করতে হয়, তাহলে কোন ধর্ম বেছে নেবার আগে প্রয়োজন এ সম্পর্কে ভালভাবে চিন্তা করা। আপনাকে আরো একটা ছোট্ট গল্প বলব, ধরুন জীবনের তাগিদে আপনি এক শহর থেকে আরেক শহরে যাবেন, তো যাবার আগে আপনি কোন পথে যাবেন, পথে ডাকাতের ভয় আছে কিনা, কোন পথে গেলে সহজে আর নিরাপদে পৌছানো যাবে, আর সত্যিকারেই ঐরকম কোন শহরই বা আছে কিনা তা জেনে নেওয়া কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে না?

(আগামী পর্বে সমাপ্য)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28750127 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28750127 2007-12-08 04:47:48
বুদ্ধদেব বসু - আমার প্রিয় লেখক
গত ৩০শে নভেম্বর ছিল অসম্ভব প্রতিভাবান এই সাহিত্যিকের জন্মদিন। দেরিতে হলেও তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

বুদ্ধদেব বসু, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ধাত্রীদেবতা। তার পরিচয় অনেক - বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক এবং সম্পাদক। বিংশ শতাব্দীর বিশ ও ত্রিশের দশকের নতুন কাব্যরীতির সূচনাকারী কবি। রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর মতো সব্যসাচী প্রতিভা আর কেউ আসেনি। এ কথা আমি জোর গলায় বলতে পারি।

বুদ্ধদেব বসুর জন্ম ১৯০৮ সালে। জন্মস্থান কুমিল্লা। পৈতৃক আদি নিবাস বিক্রমপুরের মালখানগর গ্রাম। শৈশব কেটেছে কুমিল্লা, নোয়াখালী আর ঢাকায়। ছাত্রজীবনে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ঢাকা বোর্ডে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। এরপর ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (বর্তমানে ঢাকা কলেজ) থেকে প্রথম বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে আই. এ. পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ.পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান গ্রহণ করার জন্য পদক পান এবং এরপর এম.এ. পরীক্ষাতেও আবার প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান লাভ করেন। ১৯৩১ এর পর তিনি কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। শিক্ষকতাই ছিল তার পেশা। রিপন কলেজে অধ্যাপনা করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। একবছর অধ্যাপনা করেছেন আমেরিকার পিটসবার্গের পেনসিলভেনিয়া কলেজ ফর উইমেন্স - এ। পেয়েছেন জাতীয় সন্মান পদ্মভূষণ পুরস্কার। তিনি মারা যানা ১৯৭৪ সালের ১৮ই মার্চ, কলকাতায়।

তার বইগুলো এখন আমাদের দেশে অত্যন্ত দুর্লভ। কারন তার অধিকাংশ বই পুনঃমুদ্রিত হয়নি। আজকাল প্রকাশনী উদ্যোগ নিয়ে তার শ্রেষ্ঠ উপন্যাস আর শ্রেষ্ট গল্প প্রকাশ করেছে। সংগ্রহে রাখার মতো দুটি বই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28750000 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28750000 2007-12-07 16:15:41
যীশু আর সক্রেটিস : পর্ব - ৩
: আপনি আগেই বলেছেন যে ঈশ্বর সর্বজ্ঞ, কোন কিছু ঘটার আগে থেকেই নাকি তিনি তা জানতে পারেন। তাহলে কোন পরিস্থিতিতে মানুষ কিরকম আচরন করবে তাও নিশ্চয়ই তিনি আগে থেকেই জানতেন?
: কিন্তু ঈশ্বর তো মানুষকে নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন। মানুষ যেমন নীতিবান এবং ঈশ্বরের অনুগত হতে পারে তেমনি আবার পাপী আর অবাধ্যও হতে পারে। এটা সম্পূর্ণই সেই ব্যক্তির উপর নির্ভর করে।
: আচ্ছা, মানুষ যে পাপ করতে পারে তা কি ঈশ্বর জানতেন?
: তিনি জানতেন যে মানুষ পাপ করতে পারে তারপরও তিনি তাদেরকে নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন যেন তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারে।
: আচ্ছা, কোনভাবেই পাপ করতে পারবে না বা এই ধরনের পরিস্থিতিতে তারা পাপী হবে না এমনভাবে কি ঈশ্বর মানুষকে সৃষ্টি করতে পারতেন না?
: হ্যাঁ, যেহেতু ঈশ্বর সর্বক্ষমতাবান, তাই নিশ্চয়ই তিনি তা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি চাননি মানুষ শুধুমাত্র তার হাতের পুতুল হয়ে থাকুক, মানুষের নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি থাকুক এটাই তিনি সবসময় চেয়েছেন।
: আচ্ছা, দুইটি মাথা আর তিনটি পা বা তার মর্জিমতো অন্য যেকোনভাবে কি ঈশ্বর মানুষকে সৃষ্টি করতে পারতেন?
: ঈশ্বর যেভাবে চান সেভাবেই তিনি মানুষকে সৃষ্টি করতে পারতেন।
: ঈশ্বর যেভাবে চেয়েছিলেন সেভাবেই কি তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন? আজ মানুষ দেখতে যেমন অর্থাৎ একটি মাথা, দুইটি পা, এভাবেই কি ঈশ্বর মানুষকে তৈরি করতে চেয়েছিলেন?
: অবশ্যই। ঈশ্বর নিখুঁত ও সর্বক্ষমতাবান। তার কোন ভুল হতে পারে না।
: তার মানে ঈশ্বর কোন ভুল করেননি, বরং সর্বক্ষেত্রে ঠিক যেমনটি তিনি চেয়েছিলেন তেমনিভাবেই তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন?
: হ্যাঁ।
: তাহলে আপনি আর আমিও কি স্রষ্টা যেভাবে চেয়েছেন সেভাবেই তৈরি হয়েছি? আর আদম আর ইভও স্রষ্টা তাদেরকে ঠিক যেভাবে চেয়েছেন সেভাবেই তৈরি হয়েছে?
: হ্যাঁ, আমি তো এটাই বললাম।
: মানুষের সবকিছুই কি ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন?
: হ্যাঁ, ঈশ্বরই সব কিছুর নির্মাতা।
: শয়তান বা অন্য কোন শক্তি কি মানুষের কোনকিছু তৈরি করেছে?
: না। ঈশ্বর সবকিছু একাই তৈরি করেন।
: তাহলে শুনুন, যদি ঈশ্বরই মানুষের চোখ, পা আর মন তৈরি করে থাকেন তাহলে মনোকামনাও তিনিই তৈরি করেছেন, সেই সাথে মানুষের সব কামনা এমনকি জ্ঞানপিপাসা আর যৌনাকাঙ্খা এগুলোও তিনিই তৈরি করেছেন। আপনি বলুন, মানুষের কেন পাপ করেছে? তার অপরাধটা কোথায়?
: সে অপরাধ করেছে তার দুর্বলতা আর বদস্বভাবের কারনে।
: আচ্ছা, হাত আর পা যেমন মানুষের একটা অংশ তেমনি মানুষের চরিত্রও কি মানুষের একটা অংশ?
: হ্যাঁ, মানুষের চরিত্রও মানুষেরই একটা অংশ।
: কে মানুষকে সৃষ্টি করেছে?
: ঈশ্বর।
: কে মানুষের হাত-পা তৈরি করেছে?
: ঈশ্বর।
: কে মানুষকে দুই হাত আর দুই পা দিয়েছেন? আজ মানুষ ঠিক যেমনটি দেখতে আর যেমনটি ছিল আদম আর ইভের সময়, এমনভাবে কে মানুষকে তৈরি করেছেন?
: ঈশ্বর।
: মানুষের স্বভাব তৈরি করেছেন কে?
: ঈশ্বর।
: তাহলে এবার বলুন, কে মানুষকে তার এই বদস্বভাব আর দুর্বলতা দিয়েছে? দিয়েছেন ঈশ্বরই, কারন একটু আগে আপনিই বলেছেন মানুষের যাবতীয় অংশ তিনি একাই তৈরি করেছেন।
: কিন্তু ঈশ্বর তো মানুষকে তাদের নিজেদের মত করে চিন্তা করার ক্ষমতা দিয়েছেন।
: মানুষের দুইটিই হাত থাকুক তা কে চেয়েছিল? শয়তান চেয়েছিল?
: না, ঈশ্বর চেয়েছিল মানুষের দুইটি হাত থাকুক।
: কে চেয়েছিল মানুষের দুর্বলতা থাকুক, বদস্বভাব থাকুক? বলুন শয়তান চেয়েছিল? না, মানুষের দুর্বলতা, বদস্বভাব এগুলো থাকুক তা ঈশ্বরই চেয়েছিল। মানুষ যদি আজ ধূর্ত, খারাপ বা দূর্বল হয়ে থাকে তবে তা ঈশ্বরের কারনেই কারন ঈশ্বরই এগুলো দিয়েছেন আমাদের; তিনি চেয়েছেন বলেই আজ আমরা এরকম হয়েছি।
: কিন্তু মানুষের তো নিজস্ব চিন্তাশক্তি আছে, নিজের সিদ্ধান্ত নিজেরই নেওয়ার ক্ষমতা আছে। ঈশ্বর তো আর তাকে পাপ করতে বাধ্য করেননি। তিনি মানুষকে নীতিবান অথবা পাপী যেমন ইচ্ছা তেমনই হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। ভাল ছাড়া যে কোন কিছু করতে পারে না এমন পুতুল করে মানুষকে সৃষ্টি করলে মানুষের তো কোন মূল্যই থাকতো না। ঈশ্বর আমাদেরকে নিজের মর্জিমাফিক নীতিবান বা পাপী হওয়ার সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন।
: এর কোন মানে নেই। একবার সৃষ্টি করার পর তিনি আবার মানুষকে শাস্তি দিতে পারেন না। হোমার একবার একটা কবিতা লিখেছিলেন একটা শুকরছানা নিয়ে। লেখা শেষ হবার পর তিনি আবার কবিতাটি পড়লেন আর তারপর হঠাৎই কাগজটিকে দুমড়ে মুচড়ে আগুনে ফেলে দিলেন। কেন জানেন? কারন শূকরছানাটির যে সকল বৈশিষ্ট্যের কথা তিনি লিখেছিলেন সেগুলো এখন তার নিজেরই আর পছন্দ হচ্ছে না। আপনার ঈশ্বর এখন আমাদের সাথেও কি একই কাজ করছেন না?
: ঈশ্বর মানুষকে অপরাধী করে তৈরি করেননি। তিনি এমনভাবে আমাদের তৈরি করেননি যে আমরা পাপ করবই।
: তাহলে কে করেছে?
: ঈশ্বর মানুষকে ভাল আর নিষ্পাপ করেই সৃষ্টি করেছিলেন। ঈশ্বর মানুষকে স্বর্গে অর্থ্যাৎ ইডেন গার্ডেনে রেখে আসেন। তিনি মানুষকে নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন। মানুষকে পরীক্ষা করার জন্যই তিনি শয়তানকে ইডেন গার্ডেনে আসার অনুমতি দিয়েছিলেন। মানুষ পাপ করবে কিনা তা তিনি আগে থেকেই ঠিক করে রাখেননি।
: কিন্তু ঈশ্বর তো মানুষকে পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝেই তৈরি করেছেন। যখন তিনি একটি একটি করে সবকিছু তৈরি করছিলেন তখনই তিনি জানতেন কিভাবে এগুলো পরস্পরের সাথে খাপ খাওয়াবে। কারন তিনি তো সবজান্তা। তিনি সবকিছুই ঠিক যেমনটি চেয়েছিলেন ঠিক তেমনটিই তৈরি করেছেন কারন তার তো কোন ভুল হতে পারে না। ধরুন, একজন বিজ্ঞানী সাধারন কিছু রাসায়নিক উপাদান দিয়ে একটি ওষুধ তৈরি করলেন। যেসব উপাদানগুলো দিয়ে এই ওষুধটি তৈরি করেছেন সেগুলো ছিল সাধারন কিন্তু যখন তিনি এগুলোকে একসাথে মেশালেন তখন এটি ভয়ংকর হয়ে উঠল। তারপর ওষুধটি রোগীর শরীরে প্রয়োগ করার পর যখন রোগী মারা গেল তখন তিনি সবকিছু অস্বীকার করলেন। ঠিক একইভাবে, ঈশ্বরও নিষ্পাপ মানুষ, জ্ঞানবৃক্ষ, স্বর্গের বাগান আর দেবদূত এ সবকিছু একত্র করেছেন।
: এরা সব পাপী, এরা ঈশ্বরের করুনা পাওয়ার যোগ্য নয়।
: আমার এখন মনে হচ্ছে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে শুধুমাত্র এটা দেখার জন্যই আপনার ঈশ্বর মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। এই শয়তানের কাহিনী, ইডেনের বাগান আর নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি এগুলো সবই বাজে কথা। মানুষকে নির্যাতন করার জন্য তিনি শুধু একটি অজুহাত খুঁজছিলেন। মহাক্ষমতাবান সবজান্তা কেউ যদি সবকিছূ তৈরি করে থাকেন, তার সৃষ্টি কখন কেমন আচরন তাও যদি তিনিই ঠিক করে দেন তাহলে ফলাফলের জন্যও তিনিই দায়ী থাকবেন।
: সাবধান, ঈশ্বর তোমার ব্যঙ্গ করার পাত্র নয়। এসব বললে তিনি তোমাকেও ঐ ভয়ংকর অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করবেন।
: আমি ভেবেছিলাম আমাদের অলিম্পিক দেবতারাই শুধু নিষ্ঠুর কিন্তু এখন দেখছি তারা আপনার ঈশ্বরের কাছে নিতান্তই নগন্য। তিনি নিজেই আমাদের দিয়ে এসব অপরাধ করিয়ে নিয়ে এখন আবার এগুলোর জন্যই আমাদের শাস্তি দিচ্ছেন।
: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দাও। ভাল বলেই এখনো তিনি এসব সহ্য করছেন।
: কেন? আপনিই বলেছেন তার অজান্তে কিছুই ঘটতে পারে না, যদি তাই হয় আর যদি তিনি সত্যিই দয়ালু হতেন, যদি সত্যিই তিনি শান্তি চাইতেন তবে মানবজাতিকে এত কষ্ট তিনি দিতে পারতেন না, পৃথিবীতে এত রক্তপাত চাইতে পারতেন না, মানুষকে অত্যাচার করার জন্য শয়তানকে তিনি অনুমতি দিতেন না। কিস্তু সত্য হচ্ছে তিনি এটাই চেয়েছেন।

(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28749927 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28749927 2007-12-07 08:20:00
পেত্রা - পাথরের শহর
পেত্রা নগরী ছিল অত্যন্ত সুরক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। পেত্রার চারধারে ছিল উঁচু পাহাড় আর একটি অফুরন্ত ঝরনাধারা। পশ্চিমের গাজা, উত্তরের বসরা ও দামাস্কাস, লোহিত সাগরের পাশের আকুয়াবা ও লিউস এবং মরুভূমির উপর দিয়ে পারস্য উপসাগরে যাওয়ার প্রধান সব বানিজ্যিক পথগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতো পেত্রা।

রোমান শাসনের সময় সমুদ্রকেন্দ্রিক বানিজ্য পুরোদমে শুরু হলে পেত্রা দ্রুত ধ্বংস হতে থাকে। ১০৬ এডি তে রোমানরা এটিকে দখল করে তাদের ‘আরব পেত্রাইয়া’ প্রদেশের অংশীভূত করে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতকে শহরটির প্রভুত উন্নতি হলেও পরবর্তীতে প্রতিদ্বন্দী শহর ‘পামিরা’ পেত্রার অধিকাংশ বানিজ্যই দখল করে নিলে তখন পেত্রার গুরুত্ব কমে যায়। মুসলমানেরা এটিকে তাদের দখলে নেয় সপ্তম শতকে এবং পরবর্তীতে দ্বাদশ শতকে আবার ক্রুসেডাররা এটিকে দখল করলে ক্রমেক্রমে এটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এছাড়া ৩৬৩ সালে এক ভূমিকম্প ধ্বংস করে দেয় এর দালানগুলো, নষ্ট করে দেয় এর পানি সঞ্চালন ব্যবস্থাকে। মধ্যযুগে পেত্রার ধ্বংসাবশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, ত্রয়োদশ শতকের দিকে পেত্রা দেখতে যান ইজিপ্টের সুলতান বাইবারস।

বহু বছর অজানা থাকার পর এই প্রাচীন শহরটিকে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে উন্মোচন করেন সুইস পরিব্রাজক জোহান লুডিগ বুর্খার্দত, ১৮১২ সালে। জন উইলিয়াম বার্গন তার নিউডিগেট পুরস্কার বিজয়ী বিখ্যাত এক সনেটে একে বর্ননা করেছেন “a rose-red city half as old as time” বলে। বার্গন কিন্তু পেত্রাতে যাননি। বলা যেতে পারে যেতে পারেননি। কারন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পর্যন্ত শুধুমাত্র ইউরোপীয়ানরাই সেখানে যেতে পারতেন। স্থানীয় লোক আর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যেতে হত সেখানে। ইউনেস্কো এটিকে ‘বৈশ্বিক ঐতিহ্যবাহী স্থান’ ঘোষনা করে ১৯৮৫ সালে। ঘোষনায় পেত্রাকে বলা হয় “one of the most precious cultural properties of man's cultural heritage”। পেত্রা সংস্কৃতি, সম্পদ আর ক্ষমতায় একসময় যে কত সমৃদ্ধ ছিল তা প্রমাণ করতে পেত্রার ধ্বংসাবশেষই যথেষ্ট।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28749854 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28749854 2007-12-06 22:37:01
যীশু আর সক্রেটিস : পর্ব - ২
: পাপ কি?
: ঈশ্বরের প্রতি অবমাননাকর যে কোন কাজই পাপ।
: আমি জানি ঈশ্বর নিজে কখনো পাপ করতে পারেন না। আর পাপ করবেনই বা কি করে? তিনি তো আর নিজেই নিজের অবাধ্য হতে পারেন না। এজন্যই তিনি নিষ্পাপ, তাই বলে এটিকে তার একটি বড় গুন বলে মনে করারও কোন কারন নেই। এতে তার কোন কৃতিত্ব নেই। যেমন ধরুন একখন্ড পাথর। পাথর কি নড়াচড়া করতে পারে? পারে না, কারন পাথরের সেই ক্ষমতাই নেই। এবার বলুন এই দেবদূতেরা কি করে?
: দেবদূতেরা ঈশ্বরের দৈনন্দিন কাজগুলোই করে।
: ঈশ্বর নাকি সর্বশক্তিমান। তাহলে নিজের সব কাজ তো তিনি নিজেই করতে পারেন। নিজের কাজ করতে তার আবার অন্যদের দরকার হয় কেন?
: তিনি এভাবেই করতে পছন্দ করেন।
: তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন যে দেবদূতেরা হল ঈশ্বরের দাস?
: না, তা নয়। তারা স্বেচ্ছায় ঈশ্বরের সেবা করে।
: আচ্ছা, ধরুন তারা যদি স্বেচ্ছায় তার সেবা করতে না চায়, তখন কি হবে?
: অনেক দেবদূত আছে যারা শয়তানের ইঙ্গিতে চলে। একবার শয়তান ঈশ্বরের বিরূদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল, তখন ঈশ্বর তাকে যাবজ্জীবন শাস্তি দিয়ে স্বর্গ থেকে তাড়িয়ে দেন।
: স্বর্গ কি?
: স্বর্গ আছে আকাশের অনেক উপরে। দারুন একটা জায়গা। এর রাস্তাগুলো সোনা দিয়ে মোড়ানো। সবকিছুই খুব সুন্দর আর শান্তিময়। ঈশ্বর তো সেখানেই থাকেন। তাছাড়া যারা ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে, তারাও মৃত্যুর পর স্বর্গে যেতে পারে। মানুষ সেখানে অমরত্ব লাভ করে। তাদেরকেও ডানা দেয়া হয়। তারা ঈশ্বরের এবাদত-বন্দেগি করে। মৃত্যুর পর সেখানে যাওয়া প্রত্যেক মানুষেরই জীবনের উদ্দেশ্য আর লক্ষ্য।
: মানুষের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য যদি স্বর্গে যাওয়াই হয়, তাহলে তো তারা আত্নহত্যা করেই স্বর্গে যেতে পারে।
: বাইবেলে বলা আছে, "আত্নহত্যা মহাপাপ"।
: মানুষকে স্বর্গে পাঠানোই যদি ঈশ্বরের উদ্দেশ্য হত তবে কেন তিনি মানুষকে এই পৃথিবীতে পাঠাতে গেলেন? তিনি তো আমাদেরকে একবারেই স্বর্গে পাঠাতে পারতেন। সত্যিই আমার ভাবতে খুব কষ্ট হচ্ছে, মানুষকে এত কর্মক্ষমতা, এত ইচ্ছা আর জটিলতা দিয়ে বানানো হয়েছে শুধুমাত্র ঈশ্বরের কাছে মাথা নত করে তার এবাদত-বন্দেগি করার জন্য! না, অসম্ভব! আমি নিশ্চিত কোন পাষানও চাইবে না তার চাকর আজীবন সকাল-সন্ধ্যা শুধুমাত্র তারই কাছে মাথা নত করে থাকুক। এবার আমি বুঝতে পারছি শয়তান কেন এই নির্দয়, নিষ্ঠুর, দয়া-মায়াহীন সমাজে বিদ্রোহ করতে চেয়েছিল। আপনি এখন পর্যন্ত যা বললেন তাতে আমি শয়তানের এই বিদ্রোতে তার সাথেই আছি। যদিও নিজেকে আমি অন্যদের মতোই যথেষ্ট ভদ্র মনে করি, তারপরও কথার নড়চড় হলেই যে কেবল শাস্তির ভয় দেখায়, তার কাছে মাথা নত করে সারাদিন কেবল তার গুনগান করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তারপর বলুন, শয়তান কেন বিদ্রোহ করেছিল? সে কি জানত না ঈশ্বর মহাশক্তিধর, ঈশ্বরের সাথে সে কিছুতেই পেরে উঠবে না?
: ঈশ্বরের মতো ক্ষমতা না থকেলেও তার একটা জিনিস খুব বেশি ছিল, আর তা হল আত্নবিশ্বাস। তাছাড়া সে একাই স্বর্গকে শাসন করতে চেয়েছিল। ঈশ্বরের ক্ষমতা সম্পর্কে সে কিছুটা জানত, জানত যে ঈশ্বরের ক্ষমতা তার চেয়েও বেশি কিন্ত ক্ষমতার লোভে সে এতটাই অন্ধ হয়ে গিয়েছিল যে যেকোন ঝুঁকি নিতে সে রাজি ছিল।
: শয়তানকে তো তাহলে খুবই সাহসী বলতে হয়, ঈশ্বরকে পরাজিত করতে পারবে না জেনেও সে তারই সাথে শত্রুতা করেছিল!
: সে ঈশ্বরের অবাধ্য হয়েছিল। সে পাপী।
: তাহলে বোঝা যাচ্ছে যে শয়তান আর ঈশ্বরের মধ্যে পার্থক্য কেবলমাত্র তাদের ক্ষমতায়।
: ঈশ্বর নির্ভূল। তার অসীম ক্ষমতা। তিনি সর্বজ্ঞানী, তিনি নিষ্পাপ।
: তা তো অবশ্যই, তিনি নিষ্পাপ কেননা তিনি তো নিজেই নিজের বিরুদ্ধে যেতে পারেন না। আসল কথা হল এই দুজনের মধ্যে মূল্য পার্থক্য তাদের ক্ষমতায়। আমার কি মনে হচ্ছে জানেন? শয়তান ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে কোন ভুল করেননি, ভুল করেছেন তার কাছে হেরে গিয়ে। ধরুন যদি শয়তানই জিতে যেত, তখন কিন্তু ঈশ্বরই পাপী হতেন কেননা তিনি তার চেয়েও ক্ষমতাবান শয়তানের বিরূদ্ধাচরন করেছিলেন। তার মানে যদি শয়তান জয়ী হতো তাহলে সেই ঈশ্বর হতো, তাই না? কিন্তু এমনটিই যে হয়নি তাইবা কে বলতে পারে? আপনার কাছে ঈশ্বরের যে বর্ণনা শুনলাম তাতে আমার কিন্তু এমনটিই সন্দেহ হচ্ছে।
: ঈশ্বরের ক্ষমতা অনেক বেশি, তিনি পাপের উর্ধ্বে। তিনি ন্যায়পরায়ন। অসীম ক্ষমা, শান্তি আর দয়ামায়া ধারক তিনি। শয়তান নিষ্ঠুর, সে স্বার্থপর, সে ধ্বংসকারী।
: তারপর স্বর্গ থেকে ছুড়ে ফেলার পর শয়তানের কি হল?
: ঈশ্বরের তাকে নরকে নিক্ষেপ করেন, সেখানেই সে আজীবন শাস্তি ভোগ করছে।
: নরক কি? মানে বলতে চাচ্ছি এই নরক জায়গাটা ঠিক কেমন? আর নরক যদি এতই কষ্টের জায়গা হয় তবে শয়তান ওখানে থাকে কেন?
: শয়তান নরকে বন্দী। সে বাইরে যেতে পারে না। শয়তান আর যেসব মানুষ ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে না অর্থ্যাৎ নাস্তিক - তাদের সবাইকে শাস্তি দেওয়ার জন্যই ঈশ্বর নরক বানিয়েছেন। এটা অনন্ত জ্বলতে থাকা এক অগ্নিকুন্ড। ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক পাপী ব্যক্তিকেই তিনি এখানে আটকে রেখে প্রেতাত্নাদেরকে দিয়ে শাস্তি দেন।
: আপনি বলেছেন ঈশ্বর দয়ালু, তিনি যদি সত্যিই দয়ালু হয়ে থাকেন তবে তার সাথে যুদ্ধ হেরে যাওয়া একজন শত্রুকে তিনি এত শাস্তি দিচ্ছেন কেন? বলুন কেন তিনি শয়তানকে ক্ষমা করে দিচ্ছেন না? আপনি মানুষের কথাই ধরুন, তারা কোন দেশকে পরাজিত করার পর বন্দীদের ক্ষমা করে দেয়। তাহলে দেখা যাচ্ছে মানুষই ঈশ্বরের চেয়ে বেশি ক্ষমাশীল, ঈশ্বরের মতো তারা পরাজিতকে আজীবন শাস্তি দেয় না। আপনি তার ন্যায়বিচার, দয়া-মায়া, ক্ষমা আরো কত গুনের কথা বললেন, তাহলে ঈশ্বর তার এই গুনগুলো শয়তানের প্রতি দেখাচ্ছেন না কেন? আপনিই তো বলেছেন ঈশ্বর শান্তিপ্রিয়, ক্ষমাশীল; ঈশ্বরের এই যুদ্ধংদেহী আচরন কিন্তু আপনার কথার সত্যতা প্রমাণ করে না।
: ঈশ্বরের এক আশ্চর্য উপায়ে তার কাজকর্ম করেন।
: তাছাড়া শয়তান যদি নরকে বন্দী হয়েই থাকে তবে মানবজাতিকে এত দুঃখ:দুর্দশা, মহামারী সে দিচ্ছে কি করে? আর ঈশ্বর সত্যিই যদি সর্বক্ষমতাবান হয়ে থাকেন, তিনি যদি সত্যিই ভাল হয়ে থাকেন তবে কেনইবা তিনি শয়তানকে বাধা দিচ্ছেন না? বলুন, শয়তান কেন এখনো টিকে আছে? কেন ঈশ্বর শয়তানকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন না?
: পাপের শাস্তি। ইডেন গার্ডেনের সেই পাপের শাস্তি মানুষকে দেবার জন্যই তিনি শয়তানকে বাধা দিচ্ছেন না। শয়তানের মাধ্যমে তিনি দিয়ে মানবজাতিকে শাস্তি দিচ্ছেন।
: ইডেন গার্ডেন কি?
: ঈশ্বর প্রথম পুরুষ আদম আর নারী ইভ-কে সৃষ্টি করে এই ইডেন গার্ডেনে রেখে দেন। সৃষ্টির আদিতে তারা ছিল নিষ্পাপ, ঠিক শিশুর মতো। এমনকি দৈহিক ভালবাসা সম্পর্কেও বিন্দুমাত্র ধারনা ছিল না তাদের। ঈশ্বর তাদের এইভাবেই সৃষ্টি করেছিলেন। এক অপরূপ স্বর্গ এই ইডেন গার্ডেন। প্রয়োজনীয় সবকিছুই তারা এই বাগান থেকে পেত। গাছ থেকে ফল পেড়ে খাওয়া ছাড়া বলতে গেলে তাদের কোন কাজও করতে হতো না। তারা দু'জন ছিল একে অপরের সঙ্গী। ঈশ্বর মাঝেমধ্যে যখন তাদেরকে দেখতে ইডেন গার্ডেনে আসত তখন তারা ঈশ্বরের পূজা করত।
: এবার বলুন, ঈশ্বর কেন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন?
: কারন ঈশ্বর নিসঙ্গ ছিলেন।
: যদি নিজেকে তার একা-একাই লাগত, তবে তো তিনি আরো কয়েকটি অ্যাঞ্জেল সৃষ্টি করলেই পারতেন। এরা তো প্রায় তারই মতোন। অ্যাঞ্জেল মানুষের চেয়ে এত উন্নত হওয়া সত্ত্বেও কেন তিনি অনেক নীচু শ্রেণীর এই মানবজাতিকে সৃষ্টি করতে গেলেন? কারনটা কি এই যে, তার প্রয়োজন হয়েছিল কতগুলো তোষামদকারী চাকরের, যারা তাকে শুধুমাত্র ভক্তি-শ্রদ্ধা করবে, ভয় করবে?
: তিনি আমাদের স্রষ্টা, এজন্যই আমরা তাকে ভক্তি-শ্রদ্ধা, ভয় করি।
: সত্যি করে বলুন তো যদি কোন সন্তান জানতে পারে যে তার পিতা অপরাধী, তবুও কি সে তার পিতাকে মানতে বাধ্য থাকবে আর তাছাড়া কোনটা ঠিক কোনটা ভুল তা বিচার করার অধিকারই কি সেই ব্যক্তির আছে? আজ আপনাকে বলতে হবে ইডেনের বাগানে মানুষ কি এমন পাপ করেছে, কেন সে ঈশ্বরের অবাধ্য হয়েছে?
: ইডেনের বাগানের মাঝখানে ঈশ্বর জ্ঞানবৃক্ষ রোপন করেন। ঈশ্বর আদম আর ইভ-কে সাবধান করে দেন যেন তারা সেই গাছের ফল না খায়। তখন শয়তান সাপের ছদ্মবেশ ধরে ইডেনের বাগানে যায়। এই ফল খেলে অসাধারন জ্ঞান লাভ করা যাবে - এই বলে সে প্ররোচিত করে ইভকে। শয়তান বলে ঈশ্বর তাদেরকে এই ফল খেতে বারন করেছেন কেননা তিনি ভয় পাচ্ছেন যদি তারা এই ফল খায় তবে তারা ঈশ্বরের সমকক্ষ হয়ে যাবে। এরপর ইভ আদমকেও এই ফল খেতে রাজী করায়। ফল খাওয়ার পরই তারা জানতে পারে দৈহিক ভালবাসা কি। এটাই ছিল তাদের অপরাধ।
: কিন্তু জ্ঞান তো কোন খারাপ জিনিস নয়, তবুও ঈশ্বর কেন চাইলেন না যে আমরা জ্ঞানলাভ করি? বলুন, ঈশ্বর কেন আমাদের জ্ঞানলাভ করা থেকে বিরত রাখতে চেয়েছিলেন? চিরদিন আমাদেরকে তার পদতলে একান্ত অনুগত চাকর করে রাখাই কি ছিল তার উদ্দেশ্য? বরং আমার মনে হচ্ছে আমাদেরকে সাহায্য করার জন্য শয়তানকেই আমাদের ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। শয়তান হচ্ছেন অনেকটা দেবতাদের আদেশ অমান্য করে মানুষকে আগুনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া সেই গ্রীক পুরানের দৈত্য প্রমিথিউসের মতো, মানুষকে সাহায্য করার জন্য শয়তানের মতো তাকেও আজীবন শাস্তি দেওয়া হয়। আপনিই বলুন না, জ্ঞান, আগুন, ভালবাসা ছাড়া মানুষের জীবন কি এতো মূল্যবান হতো?
: কিন্তু শয়তান তো ইভকে মিথ্যা বলেছিল, ফল খেয়ে আমরা কখনোই ঈশ্বরের সমকক্ষ হতে পারতাম না। শুধুমাত্র ঈশ্বরের কৃতিত্ব নষ্ট করার জন্যই শয়তান আমাদেরকে মিথ্যা বলেছিল।
: আপনার কথামতো ঈশ্বর যদি সত্যিই সর্বক্ষমতাবান হয়ে থাকেন তবে কেন তিনি শয়তানকে বাগানে এসে ইভকে প্রলুব্ধ করতে দিলেন? মানুষ ঐ ফল খাক তা যদি তিনি না চেয়েই থাকেন তবে কেন তিনি বাগানে ঐ গাছটি রোপন করলেন? যদি না চেয়ে থাকেন যে মানুষের যৌনজীবন থাকুক তবে যৌনতার জন্য প্রয়োজনীয় অঙ্গগুলো তিনি কেন দিয়েছেন আমাদের? যদি না চেয়ে থাকেন যে মানুষ এই পাপ করুক তবে কেন তিনি মানুষকে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, রোমাঞ্চ আর যৌনাকাঙ্খা দিয়েছেন?
: ঈশ্বরের উদেশ্যে ছিল মানবজাতিকে পরীক্ষা করা। এজন্যই তিনি শয়তানকে বাগানে আসার অনুমতি দিয়েছিলেন।

(চলবে)


[wjsK= Click This Link আর সক্রেটিস : পর্ব - ১]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28749679 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28749679 2007-12-06 07:36:29
যীশু আর সক্রেটিস : পর্ব - ১
অন্যদিকে সক্রেটিস ছিলেন একজন গ্রীক দার্শনিক ও শিক্ষক। যীশুর জন্মের ৪০০ বছর পূর্বে তিনি এথেন্সে বাস করতেন। তিনি তার যুক্তি দিয়ে পশ্চিমা দর্শন খন্ডন করেছিলেন। তার ছাত্র প্লেটো ও অন্যান্যদের উপর ছিল প্রচন্ড প্রভাব। সক্রেটিস বলেছিলেন, আসল সত্যটি সবাই জানে, আমাদের আত্নার মধ্যেই এটি আছে, বোঝার জন্য প্রয়োজন শুধু সচেতন উপলব্ধি। পরবর্তীতে এথেন্সের সামাজিক ব্যবস্থার সমালোচনা এবং তরুন সমাজকে প্রভাবিত করার দায়ে তাকে বিচারে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। নিজ যুক্তি-দর্শন তুলে নিয়ে নিজেকে মৃত্যুদন্ডের হাত থেকে রক্ষা করার সুযোগ তাকে দেয়া হলেও তিনি তা অস্বীকার করেন। তাছাড়া তার বন্ধু ক্রিটো তাকে জেলখানা থেকে পালিয়ে যাবার সুযোগ এনে দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি কারন তিনি নিজেকে ভন্ড প্রমাণ করতে চাননি, নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাননি।

যীশু আর সক্রেটিসের মধ্যে অমিল অনেক কিন্তু মিলও আছে - দুজনকেই তৎকালীন শাসকেরা ঈশ্বর, ধর্ম ও সামাজিক রীতি নষ্টের দায়ে হত্যা করে। দুজনেই ছিলেন দৃঢ়চেতা, তারা কেউই শাসকগোর্ষ্ঠীর চাপের কাছে নতিস্বীকার করেননি। যীশু আর সক্রেটিস এ দুজন ধারন করেন সম্পূর্ণ বিপরীত ধ্যান-ধারনা, দর্শন। যীশু কেবলি বিশ্বাসের জোরে ঈশ্বর মান্য করার কথা বললেও সক্রেটিস চান বাস্তব প্রমাণ। সক্রেটিস তার যুক্তি দিয়ে ভুল প্রমাণ করেন এই ঈশ্বর তত্ত্ব। তিনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেন খ্রীস্টধর্মের মূলগ্রন্থ বাইবেলে বর্ণিত ঈশ্বর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো কি অস্বাভাবিক রকম পরস্পরবিরুদ্ধ।

যীশু আর সক্রেটিসের মধ্যে কখনো দেখা হইনি, অবশ্য তার কোন সুযোগও ছিল না। কিন্তু কেমন হতো তাদের প্রথম সাক্ষাৎটি? সক্রেটিস কি প্রশ্ন করতেন আর যীশুই বা কি উত্তর দিতেন? তা অনুমান করেই লেখা হয়েছে যীশু আর সক্রেটিসের মধ্যে এই কাল্পনিক আলাপচারিতা।

: শুভ সকাল, যীশু। আমি দার্শনিক সক্রেটিস। আপনার তো অনেক জ্ঞান, বহু ভক্ত। অসাধারন আপনার শিক্ষাদান পদ্ধতি। আপনার হাতে যদি কিছুটা সময় থাকে তবে আমার কয়েকটা দুবোর্ধ্য প্রশ্নের জবাব দিন, সারাজীবন ধরে আমি এই কয়েকটা প্রশ্নের জবাব হাতড়ে বেরিয়েছি।
: মানুষকে ঈশ্বরের কথা জানানোই তো আমার কাজ। মনে রাখবে, যদি সত্যিই পেতে চাও তবেই খুঁজে পাবে, যদি প্রশ্ন কর তবেই জবাব পাবে, আর যদি দরজার কড়া নাড় তবেই দরজা খুলবে। বল তুমি কি জানতে চাও।
: প্রশ্ন মূলত একটাই আর এই প্রশ্নটাই আমাকে ভাবিয়ে রেখেছে বছরের পর বছর ধরে। আপনার তো অগাধ জ্ঞান; এর উত্তর নিশ্চয়ই আপনার অজানা নয়। দেখুন, আমি সবসময়ই সন্মানের সাথে, মহত্ত্বের সাথে বাঁচতে চেয়েছি, কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আমি সারাজীবন ধরেই হোঁচট খেয়ে চলেছি কারন আমি সত্যিই জানিনা সন্মানজনক কি, মহত্ত্বম কি। আমার সীমিত জ্ঞান নিয়ে আমার মাঝেমধ্যেই মনে হয়েছে, এত সব ভাল-মন্দ থাকা সত্ত্বেও জীবনের আসলে কোন মানে নেই। দয়া করে আমাকে বলুন: একজন মানুষের কিভাবে বাঁচা উচিত, তার জীবনের উদ্দেশ্য কি?
: সৃষ্টিকর্তার সেবা করা। তার এবাদত বন্দেগি করা।
: কিন্তু কে আমাদের সৃষ্টিকর্তা?
: সৃষ্টিকর্তা তো একজনই, তিনি ঈশ্বর।
: উফ! আপনার এথেন্সেই থাকা উচিত। আপনি বোধহয় জানেন না আমাদের এথেন্সে অনেক দেবতা।
: কিন্তু সত্যিকারের দেবতা একজনই।
: অবশ্যই। তাহলে সত্যিকারের দেবতা কে?
: তিনি মহান ঈশ্বর।
: তা তো বুঝলাম। কিন্তু কে তিনি?
: তার অসীম জ্ঞান। তিনি ভালবাসা, শান্তি আর দয়ার আধার। স্বর্গ, এই পৃথিবী, বলতে গেলে পৃথিবীর সবকিছুই তার তৈরি।
: সবকিছুই!
: হ্যাঁ, সবকিছুই। তার যে অনেক ক্ষমতা। এই পৃথিবীর সব কিছুই নিয়ন্ত্রন করেন তিনি। তিনি সর্বজ্ঞ, কোনকিছুই তার অজান্তে ঘটতে পারে না।
: তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন, এই যে মহামারী, পৃথিবী জুড়ে যুদ্ধ, অকাল মৃত্যু, অসহায় মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, অপরাধ - এগুলো সব তিনিই তৈরি করেছেন?
: না না। এর জন্য দায়ী শয়তান আর মানুষের বদস্বভাব। ঈশ্বরের সব কিছুই ভাল, তিনি নিশ্পাপ। তিনি শুধুমাত্র ভালগুলোই দেন।
: কে এই শয়তান? আপনি এইমাত্র বলেছেন ঈশ্বর একজনই, কিন্তু যে মানুষকে এত কষ্ট দিতে পারে, যার এত ক্ষমতা, সে নিশ্চয়ই একজন দেবতা। আপনি বলেছেন ঈশ্বরই সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা, কিন্তু এখন আবার বলছেন যা কিছু ভাল তা দেন ঈশ্বর আর খারাপগুলো দেন শয়তান। আপনার কথায় আমি বেশ অসঙ্গতি দেখতে পাচ্ছি। স্পষ্ট করে বলুন, শয়তান কে আর কোনগুলো ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে আর কোনগুলো নয়।
: শয়তান একজন খারাপ অ্যাঞ্জেল, দেবদূতও বলতে পারো। প্রবল উচ্চাকাঙ্খী। ঈশ্বরের শত্রু। ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল শয়তান, ঈশ্বরের সব অর্জন সে নষ্ট করে ফেলতে চেয়েছিল।
: দেবদূত মানে কি?
: দেবদূত মানে দেবদূত।
: অবশ্যই, এটা একটা পরিচয়, যেমন সক্রেটিস হল সক্রেটিস। কিন্তু আপনি তো জানেন আপনার ধর্ম সম্পর্কে আমার ধারনা নিতান্তই সামান্য। তাই আমার বুঝতে সুবিধা হবে এমন কোন কিছুর সাথে এদের তুলনা করুন।
: দেবদূত মানে দেবদূত।
: আমার অজ্ঞতার জন্য আমাকে ক্ষমা করুন, যীশু। দেখুন, আমি তো আপনার মতো জ্ঞানী নই। আমি কখনোই কোন দেবদূতকে দেখিনি, এমনকি এদের কথা কোনদিন শুনিনি পর্যন্ত। আচ্ছা, অভূক্ত অবস্থায় আপনি যখন ৪০ দিন পর্যন্ত মরুভূমিতে ঘুরে বেরিয়েছিলেন তখন নাকি অদ্ভুত সব জিনিস দেখতে পেয়েছিলেন? সত্যি নাকি? বলুন না, এই দেবদূতেরা দেখতে কেমন?
: ওদের ডানা থাকে।
: মশার মতো? আরেকটু খোলাসা করুন।
: ডানা ছাড়া আর বাকী সব কিছূ ওদের মানুষের মতই।
: আর? ওরা নিশ্চয়ই উড়তে পারে?
: অবশ্যই। ডানা আছে তো সেজন্যই।
: আচ্ছা ঠিক আছে, আপনি বললেন ওরা প্রায় মানুষের মত দেখতে। তাহলে ওরা মানুষের থেকে আলাদা হল কিভাবে? মানে, আমি বলতে চাচ্ছি আমাদের সাথে ওদের পার্থক্যটা কোথায়।
: ওরা মানুষের চেয়ে অনেক উন্নত। ওদের মৃত্যু নেই।
: অনেক উন্নত! কিভাবে?
: ওদের নীতিবোধ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। তাছাড়া ওদের ক্ষমতাও অনেক।
: এবার আমি বুঝতে পারছি। নিশ্চয়ই ওরা মহামানব?
: অবশ্যই!
: তাহলে এর মানে দাড়াল যে ওরা মহামানব আর ওদের মৃত্যু নেই। এথেন্সে আমরা কিন্তু এদেরকেই দেবতা বলি।
: ঈশ্বর ওদের চেয়েও অনেক বেশি ক্ষমতাবান।
: ঠিক একইভাবে জীউস আমাদের কাছে অলিম্পিক দেবতাদের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতার অধিকারী, কিন্তু তারপরও বাকীদের কিন্তু আমরা দেবতাই বলি। আচ্ছা, আপনার কাছে ঈশ্বর কথাটির মানে কি?
: ঈশ্বরই সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা। তার অসীম শক্তি, তিনি মহাজ্ঞানী। তিনি ন্যায়বিচারক, তিনি দয়ালু।
: কিন্তু কখনোই কারো মধ্যে একসাথে এতগুলো গুন থাকতে পারে না। আমি মনে করি একজন ব্যক্তি কখনোই একাধারে শান্তিপ্রিয় আর ক্ষমাশীল হতে পারেন না। যেমন ধরুন, একজন ব্যক্তি যদি বিচারে শাস্তি পাওয়ার উপযুক্ত হয় তবে অবশ্যই তাকে নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি দিতে হবে কিন্তু এটি আবার তার ক্ষমাশীল বৈশিষ্ট্যের লংঘন। কোন ব্যক্তি যেমন একইসাথে ডানে ও বামে যেতে পারে না তেমনি কোন ব্যক্তিরও একসাথে এতগুলো গুন থাকতে পারে না, কারন এগুলো একে অপরের বিপরীত।
: ঈশ্বরের কাজকর্ম রহস্যময়।
: তার মানে আমাদের এই এথেন্সে যেমন অনেক দেবতা আছে তেমনি আপনারও অনেকগুলো দেবতা আছে কিন্তু তাদের সবাইকে আপনি ঈশ্বর বলে মানতে রাজী নন।
: না না! ঈশ্বর সর্বশক্তিমান।
: শুধু পার্থক্য তাদের ক্ষমতায়?
: শুধু তাই নয়। ঈশ্বর তাদের চেয়েও অনেক বেশি নীতিবান, তিনি অনেক ভাল। তিনি পাপ করতে পারেন না।

(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28749597 http://www.somewhereinblog.net/blog/Lighthousebdblog/28749597 2007-12-05 20:11:08