আর কত নিপীড়ন?
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:২৭
মেয়েদের নিপীড়নের কি কোন শেষ আছে? একটা মেয়ে, শিশু বয়স থেকেই এই আভিজ্ঞতার যাত্রা শুরু করে পঞ্চাসের কোঠায় যেয়েও সেই আভিজ্ঞতার কোন অংশে কমতি হয় না।
কোন মহিলাই এর বাইরে নয়। বাড়ির বাইরে বেরলেই, রাস্তায় ইভটিজিং, চোখ দিয়ে নোংরা চাহনি, বাজে অঙ্গভঙ্গি, ধাক্কা খাওয়া, ভীড়ের মাঝে গায়ে হাত, আর কত কি দেখতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ছুঁতোয় মেয়েদের নিপীড়ন তো এখন খুবই সাধারন একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে নিপীড়ন প্রযুক্তিরও আরেকটা অভিনব কায়দা যোগ হয়েছে এখন- এস এম এস এর মাধ্যমে নিপীড়ন। আমার ধারনা প্রায় সব মেয়েরিই এই অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনেক ধরনের নোংরা কথা থাকে এস এম এস গুলিতে, শরীরের মাপ থেকে শুরু করে, কত টাকায় পাওয়া যাবে পর্যন্ত। কতরকম অশোভন ইঙ্গিত যে বহন করে এস এম এস গুলি তা বলে বোঝানো যাবে না । কেউ কেউ আবার আজে বাজে অ্যাডাল্ট জোকস্ পাঠান- এটা যে কতটা মানসিক যন্ত্রনা, মানসিক নিপীড়ন তা একটি মেয়ে না হলে বোঝা সম্ভব নয়। লজ্জায় ঘৃণায় শরীর কুচকে যায়, এসব পড়ে। ভীষণ অসহায় বোধ হয়। মনে হয় নারী নামের এক অদ্ভুত প্রাণী আমরা। আমাদের শরীর একটা দর্শনীয় বস্তু এবং আমরা শুধু ভোগের সামগ্রী, এটা ছাড়া আমাদের আর কোন পরিচয় নাই। দিনের পর দিন এস এম এস এ, নোংরা কথায় মানষিক নিপীড়ন কিমবা ভয় ভীতি দেখানো এখন নিত্যকার কাজ হয়ে গেছে । কোন মেয়ে প্রতিবাদ করলে আরও বেড়ে যায় নিপীড়নের মাত্রা । ইদানিং ব্লক করার সিস্টেম আছে কিন্ত তাতেও কি রক্ষা আছে, এত সস্তা সিম কার্ড যে আবার একটা নতুন নাম্বার দিয়ে ওই খেলা শুরু করতে দেরি হয়না। কি যে মজা এই খেলায় তা যারা এই খেলাতে মত্ত তারাই জানেন। আমার মনে হয় যারা কাপুরুষ বা বিকৃত পুরুষ তারাই এভাবে দূর থেকে মেয়েদেরকে নিপীড়ন করে আনন্দ পান। কটা নম্বর ব্লক করবেন আপনি? এদের সংখা তো অনেক। আমার মতে, আমাদের টেলিফোন কোম্পানি গুলি একটু সজাগ হলে আমরা কিছুটা শান্তি পাই। একটা নতুন নিয়ম করা যেতে পারে। যদি কোন গ্রাহক এরকম এস এম এস দেখাতে পারে তাহলে যিনি পাঠিয়েছেন তার মোবাইল নম্বরটি বাতিল করা যেতে পারে।
আমাদের প্রিয় ব্লগার ভাইরা আসুন না আপনার বোনেদের পাশে, সহমত হন । যে কোন প্রকার নিপীড়ন এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। আপনার মা বোনের জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করুন, যেন তারা নির্ভয়ে পথ চলতে পারে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): আমার প্রতিবাদ ;
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৪৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
কানা বাবা বলেছেন:
ভাল্লাগলো আপ্নের পোস্ট...
কিন্তু কথা হোলো সেলফোন কোম্পানিগুলো এই সহজ কাজটা করতে পারলেই বা করবে ক্যানো?
মুকুট বলেছেন:
মোবাইল ফোন অপারেটরদের এবিষয়ে দ্রুত এগিয়ে আসা দরকার! সেই সাথে দরকার সামাজিক সচেতনতা ও ধর্মীয় অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দোগ! ধন্যবাদ!~
মির্জা গালিব বলেছেন:
মোবাইল কোম্পানীগুলি কতটুকু আগ্রহী হবে সেটাই দেখার বিষয়। আমার মতে এ বিষয়ে আরো কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
যীশূ বলেছেন:
ইদানিং ব্লক করার সিস্টেম আছে কিন্ত তাতেও কি রক্ষা আছে, এত সস্তা সিম কার্ড যে আবার একটা নতুন নাম্বার দিয়ে ওই খেলা শুরু করতে দেরি হয়না।যদি কোন গ্রাহক এরকম এস এম এস দেখাতে পারে তাহলে যিনি পাঠিয়েছেন তার মোবাইল নম্বরটি বাতিল করা যেতে পারে।
------------------------------------------------------------------------------
আসলে বাতিল করেও লাভ নেই। ঐ যে বললেন, সস্তা সিম। ইদানীং বাংলা লিংক আর জিপি দুটাই তাদএর সিমের দাম বাড়িয়েছে। তবে ব্লক করার সিস্টেমটা সব অপারেটরের থাকলে ভালো হয়।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
খুবই সত্য কথা! বিষয়টা আসলে অপুরুষেরও নয় অমানুষের। চমৎকার ও একই সাথে নিষ্ঠুর অভিজ্ঞতা উপলব্ধি।
ত্রিভুজ বলেছেন:
এখন তো সিম তুলতে ন্যাশনাল আইডি দেখাতে হয়। খুব সহজেই বের করা সম্ভব কারা এসব নোংরা কাজ করছে। মোবাইলে বিরক্ত করার বিষয়ে মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রনয়ণ করা উচিত। সার্ভার থেকে কল রেকর্ড বের করে খুব সহজেই দোষীকে শাস্তি দেয়া সম্ভব....
অনিশ্চিত বলেছেন:
মোবাইল কোম্পানিগুলো করবে এর প্রতিকার? এ ধরনের একটি অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে পড়ুন Click This Link
দূরন্ত বলেছেন:
থানায় লিখিত অভিযোগ করা যায়। কিন্তু সেক্ষেত্রেও ঝামেলা কম না।
ফারহানা আহমেদ বলেছেন:
মোবাইল ফোন অপারেটরদের দিয়ে আসলে হবে না, ওরা ব্যবসা বোঝে, সার্ভিস বোঝে না। সামাজিক সচেতনতা ছাড়া আমি কোনো বিকল্প দেখি না।
সিটিজি৪বিডি বলেছেন:
পুরুষরা ও নিরাপদ নয়।।
ঠুনকো বলেছেন:
আপনার পোস্টটি পরে ভাল লাগলো। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মোবাইল অপারেটর রা আপনি যা বল্লেন তা এই জীবনে করবে নাকি সেই বিষয়ে যথেস্ট সন্দেহ আছে। তারা চাইবে না তাদের আরনিং কমাতে। এই বিষয়ে উল্লেখ্য, র্ধমিও সেন্টিমেন্ট নিয়ে অনেক অনাকাঙ্খিত এস এম এস আমাদের পেতে হয় অনেক সময়ে। যে গুলোকে আমরা না পারি অস্বীকার করতে, না পারি বিশ্বাস করতে। আমার মনে হয় সে গুলো মোবাইল অপারেটরদের এক রকম খেলা। সো, যারা র্ধমিও সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলতে পারে তাদের কাছে আপনার যেই কমপ্লেইন তা কতটা গ্রহনযৌগ্য হবে তা আমার কাছে রিতিমত ঘোলাটে! তবে আপনার এই ব্যাপার নিয়ে জন সচেনতা গড়ে তোলা উচিৎ। ][2o][\\][
ঠুনকো বলেছেন:
সিটিজি৪বিডি বলেছেন: পুরুষরা ও নিরাপদ নয়।।-------------------------------------------------------------------------
এই বিষয়ে একটু আলোকপাত করুন !!!!
][2o][\\][
লেখক বলেছেন: সিটিজি৪বিডি বলেছেন: পুরুষরা ও নিরাপদ নয়।-
কথাটা মানতে পারলাম না। পারলে প্রমাণ দেখান।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
ব্লগের নারীদের এই বিষয়ক আরো পোষ্ট আশা করছি। লীনাকে আবারো ধন্যবাদ।
ঠুনকো বলেছেন:
অনিশ্চিত বলেছেন: মোবাইল কোম্পানিগুলো করবে এর প্রতিকার? এ ধরনের একটি অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে পড়ু--------------------------------------------------------------------------
আপনার পোস্টটি পরলাম। আমি তো আগেই বললাম, কোন মোবাইল অপারেটর এই সব ব্যাপারে কিছুই করবে না। তারা আছে কেবল টাকা কামাই করতে ব্যস্ত! গ্রাহকদের কি হলো তা নিয়ে তাদের মাথাব্যাথা নেই।
][2o][\\][
এখনও গল্প লিখি বলেছেন:
সহমত। তবে নিয়ম কানুন দিয়ে এর প্রতিরোধ হয় না। বরং ছেলেমেয়েদের মেলামেশা আরো বাড়ানো উচিৎ। তাতে যদি কিছু হয়.....
মো: খায়রুল বাসার বলেছেন:
সিটিজি৪বিডি বলেছেন: পুরুষরা ও নিরাপদ নয়।।-একমত ।
স্ত্রীর মোবাইলে স্বামীর চরিত্র নিয়ে উল্টাপল্টা এসএমএস পাঠায়
অথবা
স্বামীর মোবাইলে স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে উল্টাপল্টা এসএমএস পাঠায়,
তা হলে সংসারে ধাক্কা তো কম-বেশী লাগে ? তাই না ?
সক্রেটিস বলেছেন:
সহমত আর নোংরা মানুষগুলার জন্য শুধুই ঘৃনা...
এম. হাবীব বলেছেন:
পোষ্টটি পড়ে ভালো লাগলো। তাই আধা কলম লিখলাম-এটি একটি সামাজিক সমস্যা। দুর করার জন্য সবার আন্তরিকতা প্রয়োজন। এ ধরনের অশ্লিলতা প্রতিরোধ বা দুরিভূত করার জন্য যে, বিষয়টি সবার আগে দরকার তা হলো ব্যক্তি ও সামাজিক সচেতনতা। এক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা নিতে হবে মেয়েদের। আধূনিকতার নাম করে যেসব মেয়েরা সেমি ড্রেস/ অর্ধ ড্রেস/ সেম্পল ডেস পরে শরীরের আকৃতি ও অঙ্গভঙ্গি দেখিয়ে চলাচল করে এবং ছেলেদের অশ্লিলতায় উৎসাহিত/ আকর্ষিত করে তাদের এ থেকে বিরত হতে হবে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের মতো মুসলিম দেশে বসে ওপেন সেক্স দেশের ষ্টাইলে পোশাক না পরাই বেটার। কারণ আপনি হয়তো লক্ষ্য করবেন, অবশ্যই সুসজ্জিত পোশাক বা বোরখা পরিহিত মেয়ে/ মহিলারা চলা পেরায় এ ধরনের সমস্যায় অনেক কম পরেন।
সিটিজি৪ বিডিঃ
ভাইয়ের সাথে আমি ও একমত। পুরুষরা আসলেই নিরাপদ নয়।
লেখক এতে প্রমাণ চেয়েছেন তাই দেওয়ার চেষ্টা করালাম।
আপনি নিশ্চয় ঢাকার ফার্মগেট, মহাখালি, মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে, শ্যামলি সিনেমা হলের সামনে, এসব এলাকা গুলো চিনে থাকবেন বা এ সম্মন্ধে আপনার অভিজ্ঞতা থাকতে পারে।
এসব এলাকাগুলোতে চলাচলের সময় বা বাসে উঠার উদ্দেশ্যে একটু দাড়ালে দেখা যায় কিছু মেয়ে/ মহিলা এখানে দাড়িয়ে থাকে তারা বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গির মাধ্যমে কখোনোবা চোখের ইশারায় ছেলেদের/ পুরুষদের ডাকছে তাদের অসৎ কাজের উদ্দেশে। এদের কাছে পুরুষ সমাজ নিরাপদ নয়। অনেক পুরুষ এদের খপ্পরে পরে লাঞ্চিত হয় বিভিন্ন ভাবে।
আমার মতে সামাজিক অশ্লিলতা ও মেয়েদের বিভিন্ন লাঞ্চনার জন্য মেয়েরাই অনেকাংশে দ্বায়ি। হতে পারে খারাপ করছে একজন লাঞ্চিত হচ্ছে আর একজন, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। একজনের পাপের কারনে গজব নাজিল হলে তা অনেককেই ভোগ করতে হয়।
লেখক বলেছেন: হা হা হা। মনের কথাটি বলেছেন ভাই।
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
একই কাজগুলো অনেকাংশে অনেক মেয়েরাও কিন্তু করছে..না , আমি আপনার কথার বিরুদ্ধাচারণ করছি ভাববেন না আবার।
আপনি ঠিকই বলেছেন।
তবে সমাধান খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন....জটিল।
মানুষ আজীব জিনিস....ইহা কি করে অনেকসময় নিজেরাই বোঝেনা....
এই আজীব জিনিস কে সিস্টেম বদ্ধ করার জন্য সিস্টেম যথেষ্ট উন্নত মানের হোয়া উচিৎ
উন্নত বিশ্বে সিস্টেম অনেক উন্নত....একটাই কারন মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্তার স্থিতিশীলতা।
তারপরো সেখানে নারী নির্যাতন কোন অংশে কম না।
তাইলেই বোঝেন....
তাই আমরা সবচেয়ে সহজ সমাধানটা এইমুহূর্তে আশা করতে পারি.....সেটা হলো মানুষ হিসাবে অন্য মানুষকে সঠিক মুল্যায়ন....সেটা নারী পুরষ সবার ক্ষেত্রে....
তারপরো কথা থাকে.....মানুষ এমন এক আজীব জিনিস যে নিজে ভুল করার সময় হাজার টা যুক্তি দিয়ে দেয় অপকর্মের....আত্ম ভুল স্বীকার করতে পারলে ....ভুল থেকে পরিত্যান পাওয়া যায়....
কেউ কি সেটা করে সাধারণত?
কালপুরুষ বলেছেন:
এমন একটা পোস্টের জন্য সাধুবাদ জানাই। আপনার বক্তব্যের সাথে সহমত পোষন করছি।
অচন্দ্রচেতন বলেছেন:
অফ-টপিকঅনুমতি ছাড়াই আপনের ছড়া নিয়া একটা গান আপলোড করছি। দয়া করে অনুমতি দেন।
Click This Link
লেখক বলেছেন: ভাই, এটা দিয়ে আমি একটা গান লিখে ফেলেছিলাম। অন্য একজন চেয়েছিল। প্রীতম আহমেদ চেয়েছিল। আমারই তো দোষ। আমি বলেছিলাম যোগাযোগ করব আপনার সাথে, কিন্ত করিনি। ঠিক আছে আমি গানটা আপনাকেই দিচ্ছি, কারন আপনি সুর করে ফেলেছেন। । তাকে না হয় অন্য গান দেব। এই জোড়াতালি গানটা দিয়েন না। গানটা কে গাইছে, জানলে ভাল হত, মানে শুনতে পারতাম।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















গুড আইডিয়া। মোবাইল কোম্পানীগুলো এটা অনায়েসে করতে পারে।