মেয়েদের নিপীড়নের কি কোন শেষ আছে? একটা মেয়ে, শিশু বয়স থেকেই এই আভিজ্ঞতার যাত্রা শুরু করে পঞ্চাসের কোঠায় যেয়েও সেই আভিজ্ঞতার কোন অংশে কমতি হয় না।
কোন মহিলাই এর বাইরে নয়। বাড়ির বাইরে বেরলেই, রাস্তায় ইভটিজিং, চোখ দিয়ে নোংরা চাহনি, বাজে অঙ্গভঙ্গি, ধাক্কা খাওয়া, ভীড়ের মাঝে গায়ে হাত, আর কত কি দেখতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ছুঁতোয় মেয়েদের নিপীড়ন তো এখন খুবই সাধারন একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে নিপীড়ন প্রযুক্তিরও আরেকটা অভিনব কায়দা যোগ হয়েছে এখন- এস এম এস এর মাধ্যমে নিপীড়ন। আমার ধারনা প্রায় সব মেয়েরিই এই অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনেক ধরনের নোংরা কথা থাকে এস এম এস গুলিতে, শরীরের মাপ থেকে শুরু করে, কত টাকায় পাওয়া যাবে পর্যন্ত। কতরকম অশোভন ইঙ্গিত যে বহন করে এস এম এস গুলি তা বলে বোঝানো যাবে না । কেউ কেউ আবার আজে বাজে অ্যাডাল্ট জোকস্ পাঠান- এটা যে কতটা মানসিক যন্ত্রনা, মানসিক নিপীড়ন তা একটি মেয়ে না হলে বোঝা সম্ভব নয়। লজ্জায় ঘৃণায় শরীর কুচকে যায়, এসব পড়ে। ভীষণ অসহায় বোধ হয়। মনে হয় নারী নামের এক অদ্ভুত প্রাণী আমরা। আমাদের শরীর একটা দর্শনীয় বস্তু এবং আমরা শুধু ভোগের সামগ্রী, এটা ছাড়া আমাদের আর কোন পরিচয় নাই। দিনের পর দিন এস এম এস এ, নোংরা কথায় মানষিক নিপীড়ন কিমবা ভয় ভীতি দেখানো এখন নিত্যকার কাজ হয়ে গেছে । কোন মেয়ে প্রতিবাদ করলে আরও বেড়ে যায় নিপীড়নের মাত্রা । ইদানিং ব্লক করার সিস্টেম আছে কিন্ত তাতেও কি রক্ষা আছে, এত সস্তা সিম কার্ড যে আবার একটা নতুন নাম্বার দিয়ে ওই খেলা শুরু করতে দেরি হয়না। কি যে মজা এই খেলায় তা যারা এই খেলাতে মত্ত তারাই জানেন। আমার মনে হয় যারা কাপুরুষ বা বিকৃত পুরুষ তারাই এভাবে দূর থেকে মেয়েদেরকে নিপীড়ন করে আনন্দ পান। কটা নম্বর ব্লক করবেন আপনি? এদের সংখা তো অনেক। আমার মতে, আমাদের টেলিফোন কোম্পানি গুলি একটু সজাগ হলে আমরা কিছুটা শান্তি পাই। একটা নতুন নিয়ম করা যেতে পারে। যদি কোন গ্রাহক এরকম এস এম এস দেখাতে পারে তাহলে যিনি পাঠিয়েছেন তার মোবাইল নম্বরটি বাতিল করা যেতে পারে।
আমাদের প্রিয় ব্লগার ভাইরা আসুন না আপনার বোনেদের পাশে, সহমত হন । যে কোন প্রকার নিপীড়ন এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। আপনার মা বোনের জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করুন, যেন তারা নির্ভয়ে পথ চলতে পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

