somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"হাতুড়ে আর ফাতুড়ে ডাক্তার তো ডাক্তারই"

১০ ই আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৪:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


চিকিৎসাশাস্ত্রে জ্ঞান ও দক্ষতা আছে বলে দাবি করে কিন্তু রোগ নির্ণয়ে হাতড়ে বেড়ায় এমন ডাক্তারদের আমরা হাতুড়ে ডাক্তার বলে জানি।
ওষুধের দোকানে বা চিকিৎসকের ডিসপেনসারিতে ওষুধ তৈরি ও বিক্রির কাজ করার মাধ্যমে এদের অধিকাংশই চিকিৎসার অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এ সময় কতকগুলি সাধারণ রোগের উপসর্গের সঙ্গে ক্রমে এদের পরিচিয় হয়। এসব রোগের চিকিৎসায় ব্যবহূত ওষুধ ও অন্যান্য দ্রব্যের নাম শিখে নেয় এবং ক্রমে থার্মোমিটার, স্টেথোস্কোপ, রক্তচাপ মাপার যন্ত্র ইত্যাদির ব্যবহার শেখে। সেসঙ্গে শরীরে ইনজেকশন ও আন্তঃশিরায় তরল পদার্থ প্রবেশ করানোর কৌশলও রপ্ত করে। অধিকাংশ হাতুড়ে ডাক্তার এ ধরনের জ্ঞান সম্বল করে তাদের পেশা শুরু করে। অনেকের এ ধরনের প্রাথমিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাও থাকে না, বিশেষ করে যারা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসা পেশায় নিযুক্ত থাকে।
এবার নিজের সাথে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা আপনাদের শেয়ার করি।
মাথার চুলে পাক ধরেছে,বড় খারাপ দেখাচ্ছে তাই ভাবলাম মেহেদি লাগাব।দোকানে গিয়ে দোকনদার কে বললাম ভাই পাঁচ মিনিটের মধ্যে যে কালার হয়ে যায় সেই মেহেদি একটা দিন।
দাম কত?
৩০ টাকা।
এই নিন।
বাসায় গিয়ে এবার চুলে মাখা শুরু করলাম।দুই মিনিট পর দেখলাম হাত পুরো রক্তের মতো লাল।অর্থাৎ প্রতিক্রিয়া শুরু।চুল গুলোও কালার হয়ে গেছে।বেশ ভালোই লাগছিল।শান্তিতে এবার একটু ঘুমাই গিয়ে।

ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘাড়,কপাল,মাথা এবং হাতের মধ্যে চুলকাচ্ছে।এ কি!!!ঘামাচির মত লাল লাল গোটা ও দেখতে পারছি হাত ও কপালের মধ্যে।
প্রচন্ড জ্বলছেও।
আর দেরি নয়।
ছুটে গেলাম বন্ধু সালমান কে নিয়ে বাংলাদেশের নামিদামী হাসপাতালে।নাম বলব না।তবে সাহাবাগে এর অবস্থান।বুদ্ধিমানরা বুঝতে পারবে।
৩০ টাকা দিয়ে চর্ম বিভাগের টিকিট কিনলাম।সালমান বলল দোস্ত আমি মেডিসিনের ডাক্তার দেখাব।ওর শরীর অনেক চিকন।অনেক খায় কিন্তু যেই লাউ সেই কদু।

সালমান কে বললাম ডাক্তার দেখিয়ে আমরা অমুক জায়গায় মিলিত হব বলে চলে গেলাম যার যার সমস্যা নিয়ে।

চর্ম ও যৌন বিভাগের সামনে দাড়ালাম আমি।লম্বা সিরিয়াল।
আমার সামনে প্রায় ৬৫-৭০ বছর বয়স্ক একজন বৃদ্ধ চাচা দাঁড়িয়ে আছেন।
আগ্রহ নিয়ে বললাম চাচা কি সমস্যা?
আমার যৌন সমস্যা বলে চাচা হাসলেন।
আমি বললাম
এই বয়সেও?
চাচা বলেন,
জীবনে আর আছে কি?
হাসি ঠাট্টা করতে করতে সিরিয়াল চলে আসল।
চাচা,বেস্ট অভ লাক।
চাচা হাসি দিয়ে চলে গেলেন।
এরপর আমার পালা।অনেক্ষন পর চাচা বেরিয়ে এলেন।
কথা বলার আর সময় হয়নি আমি ভিতরে চলে গেলাম।
ডাক্তার সাহেব বসতে বললেন।
আমি বসলাম।
কি সমস্যা?
পুরো ঘটনা বললাম।
ডাক্তার সাহেব হালকার উপর ঝাপসা দেখলেন।
উনি কি যেন লিখা শুরু করলেন।
হাতে দিয়ে বললেন এ ঔষধ গুলো ওমুক জায়গায় পাবেন।
আমি বেরিয়ে আসলাম সেখান থেকে।
দূরে দেখছি সালমান আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
আমি সেখানে গেলাম।
কিরে ডাক্তার দেখাইছিস?
হুম চল ঔষধ কিনব।
আমরা ঔষধ কিনতে গেলাম।
ডিসপেনসারিতে গিয়ে প্রেসক্রিপশন দেখালাম।
আমারটায় বিল আসছে ৯৫০ আর সালমানের টায় ১৫০০।
আমার কেমন একটা খটকা লাগলো।
সালমানকে নিয়ে আবার গেলাম হাসপাতালে।
টিকিট কিনলাম আবার।
সালমানকে বললাম তুই যা গিয়ে আবার ডাক্তার দেখা।
বলল কেন?
পরে বলব আগে যা।
২০-৩০ মিনিট পর।
ডাক্তার দেখিয়ে আগের যায়গায় আসলাম।
একটু পর সালমান ও আসলো।
ওকে নিয়ে ডিসেপেনসারিতে আবার গেলাম।
এবার দোকানের এক সহকারীকে বললাম ক্যালকুলেট করতে।
বিল শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম।
আমার আসছে ১৫৭৫ আর সালমান ৩৫০০ প্রায়।
বললাম বুঝলি কিছু?
বুঝা শেষ।
তখন দূর দুরান্ত থেকে আসা ওই মানুষগুলার কথা মনে পড়ে গেল।
এরকম আরো কতো মানুষ আছে যারা এমন হাতুড়ে ডাক্তারদের প্রতারনার শিকার হচ্ছে প্রতিদিন।
৩০ টাকার টিকিটে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা।
হঠাত দেখি মুরুব্বী যাচ্ছে।
দৌড়ে গেলাম।
চাচা শুনেন এই প্রেসক্রিপশনের ঔষধ খাইয়েন না।সমস্যা হতে পারে।
মানে?
আরে চাচা এরা হাতুড়ে ডাক্তার।অল্প খরচের নামে হাজার হাজার টাকা আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যাচ্ছে আপনি জানেন না।
প্রতিউত্তরে চাচা বললেন
"হাতুড়ে আর ফাতুড়ে ডাক্তার তো ডাক্তারই"।এ কথা বলে চলে গেলেন।
কিন্তু চাচা জানেন না আগামী সপ্তাহে নতুন আরেকটা সমস্যা নিয়ে তাকে আবার আসতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৪:০৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিশাচর

লিখেছেন কথার ফুলঝুরি!, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১:০৩



রাত ১১-৫০ । বেস্ট ফ্রেন্ড কে অনলাইন এ ম্যাসেজ দিলাম

কি করিস ?
এইতো এখন ঘুমুতে যাবো। তুই কি করিস ?
মিস করি, তাকে :#|

ফ্রেন্ড এর রিপ্লাই
দূরে গিয়া মর... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবকাশ

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৩:২১






হুইসেল মিলিয়ে যাওয়া ইথার তরঙ্গে-
উত্তরের হিমেল হাওয়ায় সাথে পাল্লা দিয়ে চলে - রাতের অন্ধ ট্রেন।
হাতঘড়ির ডায়ালে তির্যক কাটায় কিসের যেন বিমুখী টান-
একটা ট্রেন যেন চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝরে পড়া এক তারার প্রতি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১২:২৩

তোমার কন্ঠ আমাদের অন্তর ছুঁয়ে যেত।
তোমার আঙুলগুলোর যাদুর পরশে
রূপোলী গীটারের কয়েকটি তারে
যে সুরের ঝংকার উঠতো নিশিরাতে,
সে আঙুলগুলো আজ
কি যেন এক মৌন অভিমানে
অসাড়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম ও কোরআন

লিখেছেন ফরিদ আহমদ চৌধুরী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩৮



কোরআন সঠিক হলে ইসলাম সঠিক। কারণ কোরআনে ইসলামের সঠিকতার কথা বলা হয়েছে। প্রায় সাড়ে চার হাজারের মত ধর্ম ও মতের অন্য কোনটিকে কোরআন সঠিক বলেনি।
কোরআনের বেঠিকতা কেউ প্রমাণ করতে পারেনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাতের লেখায় চিনি তোমায় - গ্রাফোলজীর তন্ত্র মন্ত্র

লিখেছেন শায়মা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৯:০৯

শুধুমাত্র সুন্দর হাতের লেখার চর্চা ছেড়ে মন গিয়েছে যখন লেখালিখির নানান দিকে। একদিন হঠাৎ একটা গল্পের বই, সম্ভবত হুমায়ুন আহমেদের একটা গল্প পড়েই জানতে পারি হাতের লেখা দিয়ে নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×