'যদি তুমি সৎ ( Honest) ও সরল মানুষ হও, তাহলে মানুষ তোমাকে ধোঁকা দেবে । কিন্তু তার পরও তুমি সৎ (Honest) ও সরল থেকো । বছরের পর বছর ধরে তুমি যা গড়ে তুললে, এক রাতের মধ্যেই কেউ তা ভেঙ্গে দিতে পারে , তার পরও গড়ে তুলতে থাকো । জীবনে শান্তির খোঁজ পেলে অন্যরা তোমার প্রতি ঈর্ষান্বিত হবে । তার পরও সুখী হও । মানুষের জন্য তুমি যে ভাল কাজ করছো আজ , কালই মানুষ তা ভুলে যাবে । তার পরও ভাল কাজ করে যাও ।'
গত ২৬শে আগষ্ট মাদার তেরেসার জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁর উপরের কথাগুলো পত্রিকায় পড়ে আব্বাজীর কথা মনে পড়ল যে মানুষটা যোগ্য উদাহরন এ সব বাণীর। উনি নেই আমাদের মাঝে, চলে গেছেন অনেকদিন আগে । তারপর মনে পড়ল একজন মানুষের কথা যিনি আছেন উদাহরন হয়ে, আমার এবং আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় একজন শিক্ষক তিনি । ভোগ - বিলাস আর উচ্চাকাঙ্খা যেখানে প্রবল প্রতাপে মনুষ্যত্বকে শাসন করছে সেখানে ওনার মত একজন অসাধারন মানুষের নিরন্তর সাধারন মানুষ হবার প্রচেষ্টা, মানবিক মূল্যবোধের জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত তিনি । ইচ্ছে করছিল তাঁকে দেবার পেপার কাটিংটা । দমন করতে হোল পারিপাশ্বিক অনেক কিছু বিবেচনা করে । রেখে দিলাম পেপার কাটিং ভবিষ্যতে কোন একদিন তাঁকে দেব বলে ।
কিছুদিন ধরে পেশাগত কারনে একটু খারাপ যাচ্ছে সময় । পরিচিত জনেরা , বন্ধুরা সব সময়ের মত দাড়িয়ে আছে পাশে আমার মঙ্গলের জন্য । সেই শিক্ষকের কাছে আজ গেলাম, সাথে ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু । প্রয়োজনীয় কথা শেষ করবার পরে জানতে পারি ওনার মা আছেন পাশের ঘরে । যে শিক্ষকের জন্য শ্রদ্ধায় প্রান ভরে ওঠে ( বর্তমানে সত্যিকার অর্থে শ্রদ্ধা করবার মত লোক বেশী খুঁজে পাই না ), তাঁর মা ! স্থান কাল পাত্র চিন্তা না করে স্যারকে বলে ফেললাম , ' স্যার একটু দেখা করা যাবে আপনার মায়ের সাথে ?' দেখা হোল ; মনটা ভরে গেলে । নিজের পেশার ক্ষেত্রে জটিলতার কথা কিছু মাথায় থাকলো না । সাধারন বাঙালী বর্ষীয়ান একজন মহিলা । অন্য সব মায়েদের মত দেখতে । তবে আমার চোখের ভেতরের চোখে ধরা পড়ল এক অসাধারন মাকে । যিনি এমন একজন পুত্রের গর্ভধারীনি জননী । আশা করতে ইচ্ছে করছে আমার ছেলে কোন একদিন অমন হবে । আমার সাথের বন্ধুটি সাধারন কথা বার্তা বলছিল সেই মায়ের সাথে । আমি তাকিয়ে দেখছিলাম সেই মাকে, ইচ্ছে করছিল টিপস্ নিতে সেই স্যারের মত ছেলে তৈরী করতে হলে কি কি করতে হয় । জানি না কেন যেন ওনার নাম জানতে ইচ্ছে করছিল । জিজ্ঞেস করা হয় নি ।
চলে এসেছি নিজ ঘরে , নিজ পরিবেশে । ভবিতব্য জানে কেমন হবে আমার সন্তানেরা । সেই মায়ের মুখ বার বার চোখে ভাসছিল, যিনি নিজেও জানেন না কত উচুঁতে তাঁর স্থান ।
(ধন্যবাদ সাথে করে নিয়ে যাওয়া সেই বন্ধুকে, যাকে স্যারের জ্বরের কথা জানিয়ে বলেছিলাম, কেন বিরক্ত করা ওনার অসুস্থতায়, বন্ধুটি প্রায় জোর করে নিয়ে গিয়েছিল; ভাগ্যিস নিয়ে গেল এমনি করে , তা না হলে কি সুযোগ হোত দেখা পাওয়ার সেই রত্নগর্ভা মায়ের!)
**** এই স্যারের প্রসঙ্গে প্রায় তিন বছর আগে আমেরিকায় পড়ুয়া এক ছোট ভাইকে লিখেছিলাম
' ফার্মগেট এলাকায় একটা বাস থেকে নেমে সাধারন মানুষের ভীড়ে কোথায় মিশে গেলেন স্যার রাত আটটার দিকে ; বাংলাদেশের বিখ্যাত এক প্রতিষ্ঠানের সন্মানজনক পদে আসীন ব্যক্তি তিনি । যখন তাঁর সমকক্ষ ব্যক্তিরা এ ধরনের জীবন যাপনের কথা কল্পনাও করতে পারে না । তিনি সব পারেন , সবচেয়ে বেশী যা পারেন তা হোল মানুষকে ভালবাসতে ।'
শেষে লিখেছিলাম সেই ভাইটিকে , " দেশে চলে এস ; দেশে এখনও ভাল মানুষ আছে" ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



