somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন মাকে দেখে এসেছি , তিনি নিজেও হয়তো জানেন না কত উচুঁতে তাঁর আসন ।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'যদি তুমি সৎ ( Honest) ও সরল মানুষ হও, তাহলে মানুষ তোমাকে ধোঁকা দেবে । কিন্তু তার পরও তুমি সৎ (Honest) ও সরল থেকো । বছরের পর বছর ধরে তুমি যা গড়ে তুললে, এক রাতের মধ্যেই কেউ তা ভেঙ্গে দিতে পারে , তার পরও গড়ে তুলতে থাকো । জীবনে শান্তির খোঁজ পেলে অন্যরা তোমার প্রতি ঈর্ষান্বিত হবে । তার পরও সুখী হও । মানুষের জন্য তুমি যে ভাল কাজ করছো আজ , কালই মানুষ তা ভুলে যাবে । তার পরও ভাল কাজ করে যাও ।'
গত ২৬শে আগষ্ট মাদার তেরেসার জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁর উপরের কথাগুলো পত্রিকায় পড়ে আব্বাজীর কথা মনে পড়ল যে মানুষটা যোগ্য উদাহরন এ সব বাণীর। উনি নেই আমাদের মাঝে, চলে গেছেন অনেকদিন আগে । তারপর মনে পড়ল একজন মানুষের কথা যিনি আছেন উদাহরন হয়ে, আমার এবং আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় একজন শিক্ষক তিনি । ভোগ - বিলাস আর উচ্চাকাঙ্খা যেখানে প্রবল প্রতাপে মনুষ্যত্বকে শাসন করছে সেখানে ওনার মত একজন অসাধারন মানুষের নিরন্তর সাধারন মানুষ হবার প্রচেষ্টা, মানবিক মূল্যবোধের জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত তিনি । ইচ্ছে করছিল তাঁকে দেবার পেপার কাটিংটা । দমন করতে হোল পারিপাশ্বিক অনেক কিছু বিবেচনা করে । রেখে দিলাম পেপার কাটিং ভবিষ্যতে কোন একদিন তাঁকে দেব বলে ।

কিছুদিন ধরে পেশাগত কারনে একটু খারাপ যাচ্ছে সময় । পরিচিত জনেরা , বন্ধুরা সব সময়ের মত দাড়িয়ে আছে পাশে আমার মঙ্গলের জন্য । সেই শিক্ষকের কাছে আজ গেলাম, সাথে ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু । প্রয়োজনীয় কথা শেষ করবার পরে জানতে পারি ওনার মা আছেন পাশের ঘরে । যে শিক্ষকের জন্য শ্রদ্ধায় প্রান ভরে ওঠে ( বর্তমানে সত্যিকার অর্থে শ্রদ্ধা করবার মত লোক বেশী খুঁজে পাই না ), তাঁর মা ! স্থান কাল পাত্র চিন্তা না করে স্যারকে বলে ফেললাম , ' স্যার একটু দেখা করা যাবে আপনার মায়ের সাথে ?' দেখা হোল ; মনটা ভরে গেলে । নিজের পেশার ক্ষেত্রে জটিলতার কথা কিছু মাথায় থাকলো না । সাধারন বাঙালী বর্ষীয়ান একজন মহিলা । অন্য সব মায়েদের মত দেখতে । তবে আমার চোখের ভেতরের চোখে ধরা পড়ল এক অসাধারন মাকে । যিনি এমন একজন পুত্রের গর্ভধারীনি জননী । আশা করতে ইচ্ছে করছে আমার ছেলে কোন একদিন অমন হবে । আমার সাথের বন্ধুটি সাধারন কথা বার্তা বলছিল সেই মায়ের সাথে । আমি তাকিয়ে দেখছিলাম সেই মাকে, ইচ্ছে করছিল টিপস্ নিতে সেই স্যারের মত ছেলে তৈরী করতে হলে কি কি করতে হয় । জানি না কেন যেন ওনার নাম জানতে ইচ্ছে করছিল । জিজ্ঞেস করা হয় নি ।
চলে এসেছি নিজ ঘরে , নিজ পরিবেশে । ভবিতব্য জানে কেমন হবে আমার সন্তানেরা । সেই মায়ের মুখ বার বার চোখে ভাসছিল, যিনি নিজেও জানেন না কত উচুঁতে তাঁর স্থান ।

(ধন্যবাদ সাথে করে নিয়ে যাওয়া সেই বন্ধুকে, যাকে স্যারের জ্বরের কথা জানিয়ে বলেছিলাম, কেন বিরক্ত করা ওনার অসুস্থতায়, বন্ধুটি প্রায় জোর করে নিয়ে গিয়েছিল; ভাগ্যিস নিয়ে গেল এমনি করে , তা না হলে কি সুযোগ হোত দেখা পাওয়ার সেই রত্নগর্ভা মায়ের!)

**** এই স্যারের প্রসঙ্গে প্রায় তিন বছর আগে আমেরিকায় পড়ুয়া এক ছোট ভাইকে লিখেছিলাম
' ফার্মগেট এলাকায় একটা বাস থেকে নেমে সাধারন মানুষের ভীড়ে কোথায় মিশে গেলেন স্যার রাত আটটার দিকে ; বাংলাদেশের বিখ্যাত এক প্রতিষ্ঠানের সন্মানজনক পদে আসীন ব্যক্তি তিনি । যখন তাঁর সমকক্ষ ব্যক্তিরা এ ধরনের জীবন যাপনের কথা কল্পনাও করতে পারে না । তিনি সব পারেন , সবচেয়ে বেশী যা পারেন তা হোল মানুষকে ভালবাসতে ।'
শেষে লিখেছিলাম সেই ভাইটিকে , " দেশে চলে এস ; দেশে এখনও ভাল মানুষ আছে"

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:২৪
৫৬টি মন্তব্য ৫৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×