‘অজু, অদু বলতে কোরানে কোন শব্দ নেই; আছে ‘অজহু’ অর্থ মূখ, দিক বা মূখমন্ডল; সুতরাং ‘অজু কর’ বাক্যটির শরিয়তিক বা আধ্যাত্বিক কোনই অর্থ বহন করে না। প্রার্থনায় রত হওয়ার পূর্বে নিম্ন বর্ণিত শর্তমত মূখমন্ডল ধৌত করার নামই ‘অজু।’ অতএব প্রচলিত ‘অজু’ শব্দটির স্ব স্ব ভাষায় সংস্কার করা দরকার, যাতে সাধারণগণ সহজেই বিষয়টি উপলব্দি করতে পারে।
১. ইয়া আইয়ুহাল্লাজীনা আমানু-তাশকুরুন্ [ ৫: ৬] অর্থ: হে বিশ্বস্থগণ! যখন তোমরা র্প্রাথনার জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমরা মূখমন্ডল, হাতের কনুই ও পায়ের গিরা পর্যন্ত ধৌত করবে এবং তোমাদের মাথা মুছবে; যদি তোমরা বিশেষ অপবিত্র থাক তবে বিশেষভাবেই পবিত্র হবে। তোমরা যদি পীড়িত থাকো বা সফরে থাক অথবা মল ত্যাগ কর, অথবা তোমরা স্ত্রী সঙ্গত হও এবং পানি না পাও, তবে মাটিদ্বারা মুছবে, হাত-মূখ মুছবে; আল্লাহ তোমাদের কষ্ট দিতে চান না বরং পবিত্র করতে চান ও তোমাদের প্রতি তার দয়া পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
২. ইয়া - গাফুরান। [ ৪: ৪৩]- এবং যদি তোমরা পথিক না হও তবে অপবিত্র অবস্থাতেও নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা গোসল কর। আর যদি তোমরা পীড়িত হও বা সফরে থাক অথবা মল ত্যাগ কর অথবা নারী সম্ভোগ কর এবং পানি না পাও তবে মাটির দ্বারা মুছবে এবং উহাদ্বারা হাত-মূখ মুছবে। আল্লাহ পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।
উল্লিখিত আয়াতে চারটি মাত্র শর্ত: ১, মূখমন্ডল ধোয়া ২. হাতদ্বয়ের কনুই পর্যন্ত ধোয়া ৩. পায়ের গিরা পর্যন্ত ধোয়া ৪. মাথা মোছা। ইহাই কোরানে বর্ণিত মূখমন্ডল ধৌত করার সহজ, সরল, প্রাঞ্জল ও নির্ধারিত সুঠাম বিধি বিধান। কিন্তু শুধু কোরানে যারা বিশ্বাসী নন তারা একটি মাত্র প্রশ্ন তুলতে পারেন যে ‘প্রতিটি অঙ্গ কতবার করে ধৌত করতে হবে! কোরানে তার ফয়শালা নেই; সুতরাং হাদিছ দরকার!’ উহার উত্তরও সহজ, সরল এবং প্রাকৃতিক। যেমন: আমরা ঘুম থেকে উঠে মূখ ধুতে, গোসল করতে, শৌচ করতে, জামা-কাপড় ধুতে, সাংসারিক আসবাবপত্র ধুতে কতবার মুঁছি, পানি ঢালি বা ঢালতে হয় তা অবস্থা ভেদে স্ব স্ব সাধারণ জ্ঞান নির্ধারণ করে দেয় (দ্র: ১৭: ৩৬)। এ নিয়ে হাজার হাজার বছরের মধ্যে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টান বা আস্তিক-নাস্তিক সমাজে কোন প্রকার মতভেদ বা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়নি।
পক্ষান্তরে মাত্র ৪টি বিষয়ের বিপরীতে কোরানের দুর্বলতা (?) বা অপূর্ণতা (?) পুরণের জন্য অসংখ্য হাদিছ রচিত আছে! তাতেও কতবার ধৌত করতে হবে! তার নির্দিষ্ট বা যৌক্তিক সমাধান নেই।
নানা কারণ অকারণে অজু ভাঙ্গা-গড়া, ঘন্টার পর ঘন্টা পূর্বে অজু বানানো বা এক নামাজ থেকে আর এক নামাজ পর্যন্ত অজু ধরে রাখা, দৈবক্রমে অজু ছুটে যাওয়া, অজু দূর্বল বা মাকরুহ হওয়ার সময় সুযোগ বা বিধান কোরানে উল্লেখ নেই হেতু দরকারও নেই। নবিগণ আল্লাহ প্রদত্ত্ব বিধানের উপর উপ-বিধান রচনা করেন না এবং করেননি!
নামাজের ঠিক পূর্বক্ষণে ৪টি শর্ত পুরণ করেই নামাজে দাড়িয়ে যাবে। অজুর সঙ্গে সঙ্গেই ছালাতে যোগদান অর্থাৎ মধ্যবর্তী সময় থাকে না বললেই চলে। তবুও মাঝে প্রাকৃতিক বা দৈবক্রম অর্থাৎ উর্দ্ধ-অধ বায়ু, হাচি ইত্যাদি ঘটলে কোরানের কোথাও কোন অজু ভাঙ্গার ওজর-আপত্তি নেই।
পক্ষান্তরে ২টি আয়াতে চারটি মাত্র সাধারণ শর্তের উপর কোরানের বিপরিতে শরিয়ত মহানবির নামে জুড়ে দিয়েছে প্রায় শ’ খানিক হাদিছে অসংখ্য উপশর্ত, যাতে স্বয়ং রাছুলকেই নানাভাবে বিতর্কীত ও বেইজ্জতি করেছে। এবং যা সাধারণ মুছল্লীদের অহেতুক সন্দেহ, কষ্ট-দূর্ভোগ বহুগুণে বর্ধিত করেছে! কোরানের আলোতে যা মোটেই সঙ্গত নয়।
বিনীত।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৮:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



