(পূর্বাপর)
কোরানের আলোতে প্রচলিত হজ্জ, তারিখ এবং বিশ্বব্যপী পশু হত্যা বৈধ নয়।
হজ্জ অর্থ : সংকল্পবদ্ধ হওয়া, শপথ করা;
কোরবানী অর্থ: ত্যাগ করা, উতসর্গ করা। অর্থাত লোভ, হিংসা, মোহ, ক্রোধ, যাবতিয় মিথ্যা, অন্যায়, অশ্লীল, অপস্বভাব-কর্ম ত্যাগ করার শপথ করাকেই আরবিতে কোরবানীর হ্জ্জ বলা হয় (তথ্যসুত্র: ২: ৯৭)।
৫. [৩: ৯৬, ৯৭] মানব জাতির জন্য সর্বপ্রথম যে গৃহ প্রতিষ্ঠিত হয় তা এই বাক্বায় ইহা বরকতময় ও বিশ্ব জগতের দিশারী। উহাতে অনেক সুস্পষ্ট স্মৃতি জড়িত আছে ইব্রাহিমের আস্তানায়। এবং যে কেহ সেথায় প্রবেশ করে সে নিরাপদ। মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ্জ করা তার অবশ্য কর্তব্য এবং কেহ প্রত্যাখ্যান করলে সে জেনে রাখুক আল্লাহ বিশ্ব জগতের মুখাপেক্ষী নহে।
সহজ কথা: ইট-পাথরের একটি ঘর বিশ্ব মানবের শান্তি ও মুক্তির দিশারীর অর্থ মূলতঃ ঐ ঘরখানাকেই বুঝায়নি, কারণ তাতে আল্লাহর একত্ববাদে, নবি-রাছুল, কোরান ইত্যাদি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে এবং পাথর বা মুর্তিবাদে অনুপ্রাণীত করে; অতএব ঐ ঘরখানাকে কেন্দ্র করে ইব্রাহিমের যাবতিয় ধর্মা-ধর্ম, কর্মা-কর্ম, রীতি-নীতির ইতিহাস রোমন্থন ও তার প্রণীত গঠনতন্ত্র বা সংবিধান অনুসরণ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠাই বিশ্ব জগতের দিশারী বলে অভিহিত করা হয়েছে।
ধারাটি এরূপ যে, জাতিসংঘে যেই ঢুকলো সেইই নিরাপদ হলো। তার অর্থ এ নয় যে, জাতিসঙ্ঘের দালানে একবার ঢুকলেই আজীবণ নিরাপদ থাকা যায়। আরো পরিস্কার ও নিশ্চিত করেই বলে দেয়া হয়েছে যে, কাবা বিশ্ব জগতের দিশারী, ইহ জগতের বাস্তব কল্যাণকামী; বেহেস্ত, বা পরজগতের ছোয়াব বা দিশারী বলেনি!
শুধু ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলেই পাপ ক্ষমা ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কোন বৈজ্ঞানিক, আধ্যাত্বিক বা কোরানিক যুক্তি প্রমান নেই। কারণ ঐ ঘরেই পৌত্তলীকদের ৩৬০টি মূর্তি ছিল অথচ মুর্তিগুলি কোন নবির আমলেই নিরাপদ ছিল না; আবুযেহেলগণ অহরহ ঐ ঘরে প্রবেশ করতেন এবং পৌত্তলিকদেরই অধিকারে ছিল; কিন্তু তাদেরকে রক্ষা করেনি! তাছাড়া প্রতিষ্ঠিত এজিদ গোষ্ঠির শাষণামলের কোন এক সময় থেকে অদ্যাবধি ঐ ঘরে কোন হাজির প্রবেশ নিশিদ্ধ; একমাত্র সৌদি রাজা ব্যতিক্রম হলেও তিনি কোন অবস্থাতে নিরাপদ নন বলেই আপণ জীবন-যৌবন, ভোগ ও ক্ষমতার নিরাপত্তার জন্য, স্ব-জাতি থেকে আত্ম রক্ষার জন্য তাদেরই রচিত শরিয়তের দৃষ্টিতে কাফের (?)ভাড়া করে ভীত-সন্ত্রস্থ ও হতাস জীবণ যাপন করছেন!
সেখানে যাওয়ার সামর্থ থাকার মূল অর্থ প্রধানতঃ অর্থ-সম্পদই নয় বরং জ্ঞানে, গুণে ধর্মভীরুতা এবং শপথ রক্ষা করার শক্তি-সামর্থ বা মনোবল। টাকা-পয়সার কথা বলা হলে অবশ্যই হারাম/হালাল উপার্জনের প্রশ্ন থাকতো।
৬. [৫: ৯৭] পবিত্র কাবাগৃহ, পবিত্র মাস, কুরবানীর জন্য কাবায় প্রেরিত পশু ও গলায় মালা পরিহিত পশুকে আল্লাহ মানুষের কল্যাণের জন্য নির্ধারিত করেছেন; ইহা এই হেতু যে, তোমরা যেন জানতে পার যা কিছু আসমান ও জমীনে আছে আল্লাহ তা জানেন এবং আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।
সহজ কথা: এখানেও ‘কোরবানী’ শব্দ নেই! পবিত্র শব্দটিও নেই আছে হারাম অর্থ: সংরক্ষিত/নিষিদ্ধ; ‘কুরবানীর জন্য প্রেরিত পশু, গলায় মালা পরিহিত পশু’ আদৌ সেখানে নেই, আছে ‘হাদিয়া’ অর্থ: দান/চাঁদা ও ‘কালাআয়েদা’ অর্থ: পুষ্প, পত্রমালা, হার বা বেড়ী। অর্থাত নির্দিষ্ট মাসে সংরক্ষিত কাবায় প্রাপ্ত দান সামগ্রী সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। উদাহরণ স্বরূপ: ‘-আমি কি উহাদের এক নিরাপদ সংরক্ষণ (হারামে) প্রতিষ্ঠিত (কিয়ামান) করিনি? যেখানে সর্বপ্রকার ফলমূল আমদানী হয় আমার দেয়া (দান হিসাবে প্রাপ্ত) রিজ্জিকরূপে। কিন্তু উহারা অধিকাংশই তা জানে না। (২৮: ৫৭)। উপহার হিসাবে টাকা-পয়সা, সোনা-গয়না, মালা-হার, ফল-মূল ইত্যাদির মত পশু দানও স্বাভাবিক; তবে উল্লিখিত আয়াতে পশুর কথা উল্লেখ নেই।
(চলবে-৪/১০)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



