somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসংগ: কোরান কি অলৌকিক গ্রন্থ? (আমু: সজীব আকিব, তাং- ১২ই নভেম্বর, ২০১০)

২২ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৮:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতিবেদনটি সজীব আকিব, এস এম রায়হানসহ সকল মৌলবাদী নাস্তিক/আস্তিকদের সৌজন্যে উতসর্গ করা হলো।
শিরোনামের লেখাটি (এখানে) প্রধানত ধর্ম নয়, ইসলাম/মুসলিম নয় বরং প্রচলিত শরিয়ত তথা মৌলবাদী ধর্মের হিন্দু/খৃষ্ঠান/ইহুদি অতপর শিয়া/ছুন্নী/হানাফি/কাদিয়ানী ইত্যাদি প্রযুক্ত উপদলীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে সু-চিন্তিত, গবেষণামূলক সুঠাম যুক্তিপূর্ণ একটি মার্জিত চ্যালেঞ্জ। কিন্তু উহা মোকাবেলা করার মত শরিয়তী আলেম-আল্লামা দুনিয়ায় আছে বলে মনে হয় না। তবে শতভাগ না হলেয়ো কিছুটা নিরপেক্ষ জ্ঞানের দৃষ্টিতে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, লেখক মূল কোরানের মৌলিক দর্শন উপেক্ষা করে অথবা হৃদংগম না করেই প্রচলিত বিতর্কীত অনুবাদ আর ২ নম্বরী কেতাবের (হাদিছ, ফতোয়া ইত্যাদি)আলোকে সমালোচনাগুলি করেছেন। শুধু তিনিই নন, বরং মিস্‌ আলি সিনা, সালমান রুশদিসহ নাস্তিক্য জগতের প্রায় সকলেই অনুরূপ কাজটি করেছেন! যা নিতান্ত কিশোরীসুলভ অথবা দুরন্ত উদ্যেশ্য প্রণোদিত বলেই মনে হয়।
সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক/প্রতারণাভিত্তিক, বিজ্ঞানভিত্তিক বা গাণিতিক গ্রন্থগুলির সাধারণত অনুবাদের উপর ভিত্তি করে গ্রহণ/বর্জন বা আলোচনা/সমালোচনা করা সম্ভব এবং সংগত হলেয়ো বিশেষত (প্রধানত) ধর্মীয়, ভাববাদী, দর্শন গ্রন্থাবলী শুধুমাত্র অনুবাদ বা উপগ্রন্থভিত্তিক সামালোচনা করা অনুচিতই নয় বরং অন্যায়! কারণ উহার ৮০ ভাগই ভাব্বাদি অর্থে ভরপুর, যার সংগে বাস্তবতা, আভিধানিক অর্থের কোনই সম্পর্ক থাকে না। কোরানসহ সকল ঐশী গ্রন্থের মূল দর্শনগুলি এই শ্রেণীর। আর ভাববাদী গ্রন্থের সরলার্থ উদ্ধার ভাব্বাদী ব্যতীত উচ্চ শিক্ষিত বা ভাষাবিদ্দের পক্ষে সম্ভব নয়। নজরুল, রবিন্দ্রনাথ বা লালনের মত ভাববাদীরা কোরানের অনুবাদ করলে সমাজের বৃহত কল্যাণ হতো। নীচের দু-একটি উদাহরণ দেখলেই জ্ঞানীগণ ভাবুক/বৈজ্ঞানিক হয়ে উঠবেন:
গগনে গর্জে মেঘ ঘন বর্ষা/কুলে একা বসে আছি নাহি ভরসা-(**)।কানন গিরি সিন্ধু পার ফিরিনু পথিক দেশ-বিদেশ/ভ্রমিনু কতইরূপে এই সৃজন ভুবন অশেষ-(**)। চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখী-। -হাতের কাছে ভরা কলস তৃষ্ঞা মেটে না- (**)। যেথা হইতে আসে সুর সেথায় বিরাজে নূর/জ্ঞান চক্ষে দেখিলে রূপ হইবে মন ভরপুর (**)
উল্লিখিত আযাতগুলির আভিধানিক অর্থ আর ভাববাদী অর্থের আকাশ পাতাল পার্থক্য। শুধু পার্থক্যই নয় বরং আভিধানিক অর্থে মৌলবাদী বা নাস্তিক্যমতে লেখকদেরকে মিথ্যাবাদী, উন্মাদ ইত্যাদি বলে চরমভাবে সমালোচনা, অপদস্থ করা যায়।
যাহোক লেখকের বিশাল প্রতিবেদনের পুরো সমালোচনা সম্ভব নয়। সুতরাং মাত্র কয়েকটি বিষয় সংক্ষেপে আলোকপাত করলেই বাকীগুলি নিষ্প্রয়োজন হয়ে যেতে পারে।
১. কোরান কি অলৌকিক গ্রন্থ!
শরিয়ত ‘অলৌকিক’ অর্থে যা বুঝে! নাস্তিকগণ ঠিক সেই অর্থে প্রশ্নটি বা সমালোচনা না করে বরং স্ব ঘোষিত জ্ঞানে শব্দটির মুলার্থ বর্ণনা করা উচিত ছিল।
লৌকিক: সাধারণত, সচরাচর, সামাজিক, প্রাকৃতিক বা জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিচারে বা অভিজ্ঞতার আয়োতায় অনবরত যা ঘটে থাকে, উহাই লৌকিক।
পক্ষান্তরে বর্ণিত ধারাবাহিক ঘটনাদির মধ্যেয়ো হঠাত কিছু ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটে যায়, যা সচরাচর ঘটে না, জ্ঞান বিজ্ঞানে যতক্ষণ পর্যন্ত ঘটার কারণ, ধারাবাহিকতা প্রমান করা না যায় ততখনই তাকে অলৌকিক বলা হয়। তবে প্রকৃতির মধ্যে ঘটে বলে উভয়ই প্রাকৃতিক। এই অজানা ঘটনা বা অনুরূপ অলৌকিকত্বয়ো বিবর্তনশীল এবং অকারনিক নয়।
নজরুল, রবিন্দ্রনাথ, লালন, মাইকেল যা-যেমন লিখেছেন! তার চেয়ে উন্নত বা অনুরূপ এযাবত আর কেহ লিখতে পারেন্নি হয়তোবা আরো শত হাজার বছরে কেহ লিখতে পারেন, না য়ো পারেন; তবে আজ পর্যন্ত তাদের স্বতন্ত্র অলৌকিকত্ব বজায় আছে।
তার চেয়েয়ো সূক্ষ্ম জ্ঞানপ্রাপ্ত, সাধক-ভাবুক, চৈতন্যপ্রাপ্ত বা প্রেরণাপ্রাপ্তগণের লেখা তুলনায় সর্বোচ্য কল্যাণধর্মী হেতু বশ্যই অলৌকিক এবং অবশ্যই প্রাকৃতিক; কিন্তু পূর্বে অসংখ্য নবি রাছুলদের ক্ষেত্রে অনুরূপ ঘটেছে বিধায় কোরান অবশ্যই লৌকিক গ্রন্থ। তবে শরিয়ত, আস্তিক-নাস্তিক ‘অলৌকিক অর্থে যা বুঝেন! মূলত: কোরানসহ ঐশীগ্রন্থগুলি ঠিক সেভাবে আসেনি।আমি/আপনি, পৃথিবী বা চন্দ্র-সূর্যয়ো অলৌকিক নয়। আর ‘ঠিক সেভাব’ বলতে যা বুঝাতে চাচ্ছি তা সম্ভবত আস্তিক/নাস্তিক সকলেই এবার উপলব্দি করতে পারছেন।
কোরান/অহি আর কোরানগ্রন্থ এক বিষয় নয়। ‘কোরান’ অলৌকিক কিন্তু কোরানগ্রন্থ নিছক লৌকিক। উহা মানুষের: ১. মূখ নি:সৃত ২. মানুষের কলম, কাগজ-কালী ৩. মানুষের ভাষা ৪. মানুষের হস্ত লিখিত লক্ষ-কোটী হারাম/হালাল আস্তিক/নাস্তিক সংকলিত লৌকিক বাস্তবিক গ্রন্থ বা বই। কিন্তু ইহার ভাব, চেতনা বা প্রেরণা সাধারণ থেকে শুরু করে নজরুল, রবিন্দ্রনাথ, অনুরূপ দুনিয়ার অন্যান্যদের তুলনায় সর্বোন্নত বিধায় স্পেশাল অলৌকিক বটে!
গ্রন্থ/সুত্র/ রচনাদি কে করলো! কার বাপ! কোথায জন্ম! কিভাবে আসলো! কার কাছে শিখলো! আকাশ থেকে পড়লো কি পাতাল থেকে ফুড়লো ইত্যাদি বিষয় আলোচনা/সমালোচনা না করে বরং রচনাগুলি সুদুর প্রসারী বিবর্তিত মানব কল্যাণে কতখানি ভূমিকা রাখে! কাহাতক প্রয়োজন উহার মুল্যায়ণ করাই পবিত্র আত্মাধারী, জ্ঞানী নিরপেক্ষ লোকের দায়িত্ব য়ো কর্তব্য। আর এজন্য মূল গ্রন্থখানিই একমাত্র উপপাদ্য; অন্য কোন গ্রন্থের আলোকে নয়। তবে হতাসার বিষয় যে, এমন কোন মহান নাস্তিকের অদ্যাবধি জন্ম হয়েছে বলে খবর পায়োয়া যায়নি।
আলোচনাটি এখানেই শেষ করা যেত; কিন্তু মৌলবাদী নাস্তিক/আস্তিকদের চুড়ান্ত সেবার জন্য সংক্ষেপে আরো কিছু আলোচনা করা হলো:
২. অহি অবতরণ:
অহি সম্বন্ধে লেখক ৮টি ধারা উপস্থাপন করেছেন। যার অধিকাংশই বিতর্কীত অনুবাদ এবং ২ নম্বরী কেতাবাদির বরাতেই সমালোচনা করেছেন; যা সংগত নয়। ‘অবতরণ’ শব্দটির ব্যবহার বিভ্রান্তকর! পরিবর্তে জাগ্রত, চৈতন্য বা প্রেরণা শব্দ ব্যবহারই সংগত।
আল্লাহ, ফেরেস্তা, অহি, নাজিল, রাছুল, নবি, জিব্রাইল, ইস্রাফিল, বেহেস্ত-দোযখ প্রভৃতি ধর্ম বিষয় অতি-অত্যাধিক/মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলি আপন ভাষায় না বুঝা পর্যন্ত প্রচলিত মৌলবাদী তফসির ব্যাখ্যার উপর যাবতিয় সমালোচনাদি হয় সাম্প্রদায়িক বর্বরতা নতুবা ষড়যন্ত্র, যাকে মার্জিত ভাষায় উদ্যেশ্য প্রণোদিত বলা হয়। এজন্যই প্রচিলত মৌলবাদ আর নাস্তিক্যবাদ পরস্পর মুদ্রার এপিঠ-য়োপিঠ প্রমানিত।
আশ্চর্য্যজনকভাগে লক্ষনীয় যে, পরস্পর বিপরীতমূখী দলদ্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শতভাগ একমত যে, শরিয়তীগণ হাদিছ ছাড়া কোরানকে স্বীকার করে না! পক্ষান্তরে নাস্তিকগণ হাদিছ ছাড়া কোরানের বিরুদ্ধে সমালোচনা করতে সাহস পায় না। নিরপেক্ষ জ্ঞানী বা একমাত্র মুসলিমদের এই রহস্য বুঝা খুবই সহজ।

যাহোক এ সম্বন্ধে লেখকের কোট করা কয়েকটি বিষয় আলোকপাত করা যাক:
ক. স্বপ্ন:
ক. -আল্লাহ তার রাছুলের স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছেন যে তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে—(সূরা আল ফাতহ্‌)
খ. হযরত ইব্রাহিম (আা) তার পুত্র ইসমাঈল (আ) কে কুরবানী করার আদেশো লাভ করেছিলেন স্বপ্নের মাধ্যমে-

সমালোচনা: ক নং স্বপ্নের অর্থ ইচ্ছা, লক্ষ্য, স্বাধ, আকাংখা বা নিয়ত; যেমন মা. ভাসানী, শেখ সাহেব বাংলার স্বাধিনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সুতরাং উহা যে, নাইট মিরর নয় তা প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পবিত্র জ্ঞানীদের কাজে লাগানো উচিত। আর এই সংগত সুযোগ যারা স্বেচ্ছায় হারায় তারাই ফেতনা-ফাসাদী।
খ. হ. ইব্রাহীম ঠিকই নাইট মিরর/স্বপ্নে বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন! কিন্তু তিনি চুড়ান্ত নিবেদিত সত কর্মী ছিলেন বলেই আল্লাহ তাকে পাশবিক বিশ্বাস/বিভ্রান্ততা থেকে উদ্ধার করেছিলেন। প্রচলিত শরিয়ত আয়াতটির অপব্যাখ্যা করেছে। তার কারণ:
• একজন নবি ভুল বা বিভ্রান্ত হতে পারেন এমন শক্ত-সলিড কোরানী ঈমান শরিয়তের নেই, ছিল না। (যদিয়ো নবি-রাছুলদের অসংখ্য ভুলের সাক্ষি-প্রমান কোরানেই আছে)।
• সত্যিই যদি পুত্র হত্যা আল্লাহর আদেশ হতো তবে আল্লাহ সে আদেশ বরখেলাপ করতেন্না। কোরানে বহু সাক্ষি আছে যে, আল্লাহর বিধানে/ছুন্নত বা য়োয়াদা কখনো কোন রদবদল বা পরিবর্তন পাবে না (দ্র: ১৭: ৭৭; ৩৩: ৬২; ৩৫: ৪৩; ৪৮: ২৩)।
৩. ওহী অবতরণ পদ্ধতি সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন:
কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় যে আল্লাহ তার সংগে বাক্যালাপ করবেন সরাসরী ওহী ব্যতীত কিংবা পর্দার অন্তরাল ব্যতীত কিংবা দূত প্রেরণ ব্যতীত- (৪২: ৫১)
আয়াতটি আল্লাহ, নবি-রাছুল, শেষ নবি ইত্যাদি গুরুতর বিষয় সম্বন্ধে শরিয়ত, মারেফাত বা আস্তিত-নাস্তিক, হিন্দু, মুসলিম, জ্ঞানী-বিজ্ঞানীদের সংশয়, সন্দেহ বা বিভ্রান্ততা থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম:
• মিরাজে (কল্পিত) আল্লাহ দর্শন মিথ্যা, ভুল, অট্টহাস্যকর এবং কোরান বিরুদ্ধ সাক্ষি দেয়।
আল্লাহ উপলব্দি এবং বাক্যপ্রাপ্ত হয় ৩টি পদ্দতীতে:
ক. অহির মাধ্যম: অর্থ প্রেরণা, চেতনা বা চৈতন্যপ্রাপ্ত। দুধ-দুধের অনবরত ঘর্ষণে এক সময় মাখন উতপাদন হয়, পাথর পাথরে ঘর্ষণে আগুন, পানি পানির ঘর্ষনে বিদ্যুত। তদ্রুপ বাতাস বা শ্বাস-প্রশ্বাসে, ধ্যান, ধারণার অনবরত ঘর্ষণে নূর বা আলো উতপন্ন হয় সেই আলোতে আপনা জীবন দর্শন হয় এবং বাক্যালাপো হয়; তাতে ইহ/পরকালের নিশ্চিত তথ্যতত্ত্ব সমৃদ্ধ বাণী থাকে। এরা প্রধানত অবতার, দেবতা, ব্রাম্মন, চৈতণ্যপ্রাপ্ত, প্রেরণাপ্রাপ্ত বা নবি-রাছুল বলা হয়।
খ. পর্দার অন্তরাল: ১ নং এ বর্ণিত প্রায় সকল জ্ঞান-গুণই পায় কিন্তু আপন জীবনের সংগে দর্শন করতে সক্ষম হয় না। অর্থাত কোথা থেকে পায়! তা তারা নিশ্চিত নন। এদেরকে প্রকৃত কবি, সাহিত্যিক, সাধক, ভাববাদী বা দার্শনিক বলা হয়।
গ. দূতের মাধ্যমে: প্রকৃতি বা সৃষ্ট সকল বস্তু অবস্তুই দূত। মাটি, পানি, আলো, বাতাস, পাহাড় পর্বত, গাছ-পালা, গ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদি থেকে যে জ্ঞান-গুণ পায়োয়া যায় এবঙ ঠিক সে অনুযায়ীই সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজ জীবন পরিচালিত হয়। সহজ কথায় বস্তুর গুনাগুণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান প্রাপ্তি; হতবাক হয়োয়া কথাটি হলো এরাই বৈজ্ঞানিক নামে পরিচিত।
বর্ণীত ৩ শ্রেণীর ব্যক্তিত্ব সমাজ, প্রকৃতি বা আল্লাহর দরবারে সমভাবে মূল্যায়িত/সমাদৃত। এবিষয় বিশদ আলোচনা নিষ্প্রয়োজন। কারণ বর্ণিত ৩ শ্রেণীর মহা মানবদের অর্জন বিভক্ত করে দেখা বা স্বতন্ত্র অনুসরণ করা হিন্দু, মুসলিম, খৃষ্টান, আস্তিক-নাস্তিক দল উপ-দল দূরের কথা এমনকি ১টি মানুষের পক্ষেয়ো ১দিনের জন্যয়ো সম্ভব নয়।
৪. ‘পুন: পুন: পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা গবেষণার অপরিবর্তিত ফলকেই বিজ্ঞান বলে’ সুত্রটি অবৈজ্ঞানিক তথা স্ব বিরোধী হেতু অট্ট হাস্যকর! কেননা:
• পুন: পুন: পুনে:’র অনির্দিষ্ট সংখ্যা এবং অনিশ্চিত মেয়াদী ফলাফলের কোন কথা-বাক্য কিছুতেই নির্দিষ্ট সুত্র বা মন্ত্র হতে পারে না। অর্থাত নিশ্চিতভাবে অনিশ্চিত সাইড এ্যাফেক্ট/ইফেক্টিভ বিষয়কে একটি ‘সুত্র, ফরমুলা বা কনসেপ্ট বলা যায় না; বরং রাস্তা-ঘাটের টোকাইর কথা বলে উড়িয়ে দেয়া যায়। এই সুত্রের আবিস্কারক কে? কেহ জানেন কি? শরিয়তের হাদিছের সুত্র, ছুন্নীদের জন্মদাতার নামো আজ পর্যন্ত কেহ জানে না।
‘বিজ্ঞান’ শব্দের সুত্র হলো:
(অবাস্তব/অদৃশ্য) জ্ঞানের বাস্তব রূপকেই বিজ্ঞান বলে।
উদাহরণ:
এ্যটমবোম/সুইটি যখন ব্যক্তির হৃদয়/মাথার মধ্যে আসলো (নাজিল/উদয়) তখন সে একাই দেখতে পেল! অমনিই সে জ্ঞানী হলো! মাথা থেকে বের করে যখনই বাস্তবে রূপ দিল (তৈরী করলো) এবং সকলেই তা দেখতে পেল! তখনই সে বৈজ্ঞানিক। আর বোম/সুইটি হলো বিজ্ঞান বা বৈজ্ঞানিকের দান। সুতরাং জ্ঞান-বিজ্ঞান-বৈজ্ঞানিক উপরে ক, খ, গ’র সংগে অংগাংগীভাবে বিজড়িত; অতএব উহাদের ভিন্নভাবে দেখা বা দলাদলির সুযোগ নেই।
আল্লাহর অনস্তিত্ব:
আর সুইটি যখন এমনকি মাথার মধ্যেয়ো আসেনি! তখনো যে সুইটি ছিল তা সুইটি তৈরী করেই বাস্তবে প্রমান করলো। জন্মের পূর্বে আমি ছিলাম বলেই না আমার জন্ম হয়োয়া সম্ভব হলো!
সকল জাতির মৌলবাদ বিশ্বাসী অস্তিত্ত্বধারী, ৭ম আসমানের আসমানে বরই বাগানের (ছেদ্রতুল মোন্তাহা) পাশে বসবাসকারী! বছরে ২ বার ১/২ আসমানে ভ্রমনকারী (শবে বরাত/শবে কদর রাত, দিনে নয়!) দেহত্ব/বস্তুত্ব/অস্তিত্ত্বশীল আল্লাহ দর্শনে নেই! বিজ্ঞানে নেই! কোরানে নেই! সৃষ্টি-অসৃষ্টিতেয়ো নেই! নেই! নেই।
সুতরাং:
ক. আগে হাজার-দশ হাজার বছর টিকে থাকার বিজ্ঞান করা উচিত।
খ. বাতাস খেয়ে (যার মধ্যে ডাল-ভাত, কোর্মা-পরাটা, কলা-কচু, মদ-বিড়ি, পান-সুপারী আছে) বেচে থাকার বিজ্ঞান কর। অতপর স্রষ্টা আছে কি নেই’র ক্যাচাল করা উচিত।
গ. ৮০/৯০ বছর বয়সী আজকের পরিচিত গ্যালাক্সির তুলনায় আপন ১ ফোটা বীর্যের ২০ মিলিয়ন কীটের ১টি মাত্র কীটের ট্রিলিয়ণ ভাগের ১ ভাগেোরো সমান অস্তিত্ত্বশীল নয়! এমন মানুষ অহরহ ফুস ফুস করে স্রষ্টা সম্বন্ধে ফাল্তু মন্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত।
ঘ. ১টি গ্যালাক্সির তুলনায় অস্তিত্ত্বহীন আস্তিক/নাস্তিকটি কোন আক্বেলে হাজার গ্যালাক্সির স্রষ্টার অস্তিত্ত্ব খোজে?? আমরা/তোমরা কি উন্মাদ? না মৃগী রোগগ্রস্থ?? না পৃথিবীটাই হেমায়েতপুর???
ঙ.অদৃশ্যে/আল্লাহর অনস্তিত্বে বিশ্বাস না করলেয়ো সুইটির জন্মের আগেয়ে যে তার অনস্তিত্ব ছিল তা অন্তত মৌখিক স্বীকার করা উচিত।
চ. উপলব্দি বা দর্শনের শত রকমের পন্থা আছে, তার মধ্যে স্বপ্ন একটি। স্বপ্ন যে সত্যই স্বপ্ন তা শিক্ষিত/অশিক্ষিত, আস্তিক/নাস্তিক প্রায় ৯৫ ভাগই স্বীকার করে। কিন্তু একের দেখা স্বপ্ন অন্যকে দেখানো যায় না। অর্থাত স্বপ্ন দেখা যায় কিন্তু দেখানো যায় না। আর নাস্তিক বলেন উহা পাকস্থলির অনিয়ম/অলৌকিক কারণে (রোগী) স্বপ্নে দেখে। এতে যদি নিশ্চিত হয়ো তবে এমন একটি ঔষধ কেন বানায়োনি যা খেলে মরা বাপ-মা, হাজার-লক্ষ্য বছর পূর্বের নবি রাছুলদের স্বপ্নে দেখা যায়? মরা প্রিয়তমাকে নিয়ে রোজ রোজ হানিমুন করা যায়?
ছ. সৃষ্টি মানেই ধর্মের অধীন। নিউট্রন, প্রোটন, ইলেক্ট্রন এবং ইহার হাজারবার পুন বিভাজনসহ যাবতিয় সৃষ্টির ধর্ম আছে। আর তাই বলেই বিজ্ঞানীগণ উহাদের ধর্মের উপর অগ্রীম নিশ্চিত বিশ্বাস রেখেই উহাদের ব্যবহার করতে সক্ষম হচ্ছেন।
নাস্তিক্যবাদো একটি অনস্বীকার্য ধর্ম, এরা নবি মোহাম্মদ মৃগী রোগী ছিলেন বলেয়ো অবৈজ্ঞানিক সন্দেহ করেন। কিন্তু তাদের বৈজ্ঞানিক সুত্রেই গবেষণা করা উচিত যে, মুহাম্মদের পরে ১৪শ বছরে লক্ষ লক্ষ লোক মৃগীরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এখনো হচ্ছেন কিন্তু কেহই ২/১ পৃষ্ঠা অহি রচনা করতে সক্ষম হন্নি কেন?
৫. নিজ আকৃতিতে ফেরেস্তার আগমন:
‘-নিজ আকৃতিতে স্থির হয়েছিল।‘ (৫৩: ৬)
আয়াতটির অনুবাদসহ যাবতিয় তফসির ব্যাখ্যা ভুল/বিভ্রান্তকর। উহার উল্লেখ্যযোগ্য শব্দটি ‘মির্রাতুন’ অর্থ মিরর, আরশি বা আয়না; আর ‘নিজ’ অর্থ ফেরেস্তা নয় বরং রাছুল স্বয়ং নিজে। অর্থাত আয়নায় যেমন নিজ চেহারা দর্শন হয় তদ্রুপ রাছুলের নিজ জীবনদেহটি দর্শন করেছিলেন! এমনকি বাক্যালাপো করেছিলেন। অর্থাত রাছুলের বস্তু দেহের সামনে রাছুলের নূর বা জীবনদেহের সাক্ষাত বা পরিচয় হয়েছিল। Know thyself সক্রেটিস, বুদ্ধসহ সকল নবি রাছুল এবং সকল ধর্ম বা ঐশী গ্রন্থের মুল বানীই ‘নিজকে চেন/আবিস্কার কর।‘ (৮: ২৪; ২৪: ৩৫)।
রাজ রাজত্ব, লোভ, হিংসা মোহ, ক্রোধ ত্যাগ করে একাধারে ৬টি বছর একক ধ্যান তপস্যায় বুদ্ধ নিজকে অর্থাত দেহের ‘আমি বা আমিত্ব’কে আবিস্কার করে বলেছিলেন ‘আমি ঈশ্বর’ অর্থাত স্ব স্ব দেহের আমিত্ব বা জীবন দেহই ঈশ্বর, আল্লাহ, ভগবান। মুনসুর হেল্লাজো আমিত্বের সন্ধান পেয়ে একই কথা বলেছিলেন। বুদ্ধবাদীরা ‘আমি’ বলতে ভুল বশত: বুদ্ধের দেহটা বুঝে সদলবলে বিভ্রান্ত হয়েছে! নবি বুদ্ধকে শিরকী পাপে অভিযুক্ত করেছে।
হেরা পর্বতের গুহায়ো রাছুল নিজকেই দর্শন করেছিলেন! উহারই অপর নাম জিব্রাইল, কর্মভেদে উহাই মিকাইল, আজরাইল, ইস্রাফিল বা ফেরেস্তা।
বিনীত।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১২:৩৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×