(পূর্বাপর)
ক. তাছাড়া (৩৩: ৪০)—আল্লাহর রাছুল ও শেষ নবি/(নবি আর আসবে না)।
বনাম
খ. নিম্ন বর্ণিত অসংখ্য আয়াত:
[দুটি দলের কোন্টি ভুল বিভ্রান্তকর/সত্য, গ্রহণযোগ্য অথবা পরস্পর বিপরীত/সাংঘর্ষিক কিনা! তা এক্ষণে হাদিছ/ফতোয়া ছাড়াই কোরানের বিষয় কোরানের আলোকেই গ্রহণ/বর্জন করতে পারেন]
৪. (৬: ৮৪)-এবং তাকে দান করেছিলাম ইসহাক, ইয়াকুব তাদের প্রত্যেককে সত্ পথে পরিচালিত করেছিলাম; পূর্বে নুহকেও এবং তার বংশধর দাউদ, সুলায়মান, আয়ুব, য়ুসুফ, মুসা ও হারূনকেও; আর এভাবেই সত্ পরিশ্রমীদের পুরস্কৃত করি/করবো।
[আয়াতটি আমাদের শিখাচ্ছে যে, নবি/রাছুল হওয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ যোগ্যতা হলো সত্ পরিশ্রম; অত:পর আল্লাহর ইচ্ছ]
৫. (৬: ৮৮) ইহা আল্লাহর পথ (নীতি)! স্বীয় বান্দাদের (সত্ পরিশ্রমীদের) মধ্যে যাকে ইচ্ছা তিনি ইহা দ্বারা (অহি দ্বারা) সত্ পথে পরিচালিত করেন/করবেন।
৬. (৬: ৮৯)যাদেরকে কেতাব, কর্তৃত্ব, নুবয়াত প্রদান করি/করব; তারা ঐগুলি প্রত্যাখ্যান করে, তবে অন্য সম্প্রদায়ের উপর দায়িত্ব ভার অর্পণ করব যারা এগুলি প্রত্যাখ্যান করবে না।
৭. (১৬: ২) তিনি তার পবিত্র আত্মাধারী দাশদিগের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকেই সতর্কস্বরূপ নির্দেশ প্রকাশ করান এ যে, ‘আমি (আমিত্ব) ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই-।‘
৮. (২৮: ৬৮) তোমার প্রতিপালক--যাকে ইচ্ছা তাকেই মনোনীত করেন/করবেন, এতে কারো কোন কর্তৃত্ব নেই-।
৯. (৪৪: ৩-৫) আমি ইহা অবতীর্ণ করি/করব অন্ধকারে (অবক্ষয়ের যুগে) আশির্বাদ (বরকত) স্বরূপ।-- আমিই রাছুলগণকে মনোনীত করি/করব।
[সমাজ যখন চরম অবক্ষয়, অধঃপতন বা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়, তখনই উদ্ধারকল্পে আশীর্বাদ স্বরূপ নবি-রাছুল পাঠিয়ে সতর্ক এবং চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইহাই ১০ নং আয়াতসহ ছুরা কদরের (৯৭ নং) বিষয়বস্তু]
১০. (৪৭: ৩৮) তোমরা বিমূখ হলে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতি বহাল করেন/করবেন-।
পুনঃ পুনঃ নবি-রাছুল মনোনয়নের মৌলিক ও স্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও কোন কালেই পরবর্তী নবিদের স্বীকার করা তো দূরের কথা বরং অমানুষিক অত্যাচার, অবিচার করেছে ; দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। এমনকি প্রকাশ্যে হত্যা পর্যন্ত করেছে। বিশ্বের এমন কোন নবির ইতিহাস নেই, যাকে জনসাধারণ স্বতঃর্ফূতভাবে গ্রহণ করেছে।
আল্লাহর অনুমোদিত ইবলিস শুধুমাত্র আকার-আকৃতিতে পরহেজগার সেজে (সকলে নয়) সর্বকালের সংখ্যা গরিষ্ঠ পাদ্রি, পন্ডিত, পুরোহিত ও আলেম-মাওলানাদের (আমরা/আমাদের প্রভু) অণু-পরমাণুতে অবস্থান করে সত্যকে মিথ্যা ভেবে সত্যের বিরুদ্ধে আমরণ সংগ্রাম করেছে। মিথ্যাকে সত্য ভেবে বাপ-দাদার প্রচলিত শরিয়তকে আকড়ে রয়েছেন। পরবর্তি নবি-রাছুলদের প্রকাশ হওয়ার পথই পূর্ব থেকেই বন্ধ করে রেখেছে। প্রত্যেক নবির মৃত্যুর পরেই ঘোষণা করেছে যে, “এই শেষ নবি, আর নবি আসবে না!” বলে সমাজকে বিভ্রান্ত করত: ভোগবাদী রাজনীতিক, ঠাকুর, পন্ডিত, ইমাম-মাওলানাগণ (?) রাছুল/নবিদের স্বঘোষিত সচিব-সেক্রেটারী/উত্তরাধিকারী (নায়েবে রাছুল/অরেছাতুল আম্বিয়া) নাম ধারণ করে নবি-রাছুলদের পদ দখল করেছে!
পক্ষান্তরে, মরানবি ফিরে আসবেন, মরা/গুম হওয়া মি: ‘মেহদী নামের’ হবু কিশোর ইমাম ফিরে আসবেন, কলির অবতার আসবেন; মরা ইমাম মেহেদী ও মরা ঈসা একই সঙ্গে আকাশ থেকে পতিত হবেন, মাটি ফুরে জন্তু নাজিল হবেন ইত্যাদি ভ্রান্ত বিশ্বাস কায়েম করে সমগ্র সমাজকে বিভ্রান্ত করেছে!
‘ইমাম মেহদি’ অর্থ সত্যের নেতা, ধারক ও বাহক, পথ প্রদর্শক বা সংস্কারক। কোরানের পাতায় পাতায় সাক্ষি আছে যে, প্রত্যেক নবি-রাছুলগণই ইমাম, ইমাম মেহদি এবং কেহই আকাশ থেকে বজ্র-শিলার মত ধপাস করে পড়েননি! সুতরাং ভবিষ্যতে পড়ার বিশ্বাস চুড়ান্ত বিভ্রান্তকর!প্রতারণামূলক!!
(চলবে-৩/৫)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০১১ রাত ১০:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



