২য় পর্ব
১১. কোরান: মোসলেমসহ সকল জাতির মধ্যেই ধার্মিক/অধার্মিক. ভালো-মন্দ উভয়ই আছে। স্ব-স্ব কর্মফল অনুযায়ী সকল জাতি পাপ-পুণ্য বেহেস্ত-দোযখের সমাধিকারী। [দ্র: ২: ৬২, ১১১, ১১৩; ৩: ৭২, ৭৫; ৫: ৬৯, ৮২; ৭: ১৫৯]
হাদিছ: একমাত্র দল-উপদলিয় মোসলমান ছাড়া অন্য জাতির দোযখ ছাড়া বেহেস্তের অধিকার নেই। বলা বাহুল্য প্রত্যেক জাতিরই অনুরূপ শতভাগ অট্টহাস্যকর দাবি।
১২. কোরান: সকল মানুষের প্রতিটি কর্মের চুলচেরা হিসাব নিকাশ, বিচার-বিবেচনা করে বেহেস্ত-দোযখ প্রদান করা হয়। [দ্র: ৪: ৪৯; ৯৯: ৭, ৮; ২৯: ২, ৩; ৬:: ১৩২; ১০:৪]
হাদিছ: একমাত্র শেরেকী গুণা ছাড়া যতই অপকর্ম করুক মৃত্যুর পূর্বক্ষণে ‘লাই-লাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাছুলাল্লাহ’ বললেই বিনা বিচারে বেহেস্ত প্রদান করা হবে।
১৩. কোরান: কোরান ঘোষণা করে: একমাত্র খ্রিষ্টানগণই মোসলেমদের ঘনিষ্ট বন্ধু। [দ্র: ৫: ৮২]
হাদিছ: বাকি সকল জাতিসহ খ্রিস্টানদেরকে কাফের, মোরতাদ এবং চির শত্রু মনে করে; কারণ অকারণে তাদের হত্যা করলেই বেহেস্ত অবশ্যম্ভাবি মনে করে।
১৪. কোরান: ন্যাশনালিজম, ক্যাপিটালিজম, কমিউনিজম বা মনার্কিজম হারাম বলে ঘোষণা করে। সাম্যবাদ সমর্থন করে। [দ্র: ৪২: ৩৮; কোরানের মৌলিক বিষয়বস্তু]
হাদিছ: বিশ্বের অধিকাংশ মোসলমান দেশ, এমনকি নবির জন্মভূমি সমগ্র আরবদেশে প্রত্যক্ষ রাজতন্ত্র বলবৎ রয়েছে।
১৫. কোরান: ধর্ম নিরপেক্ষতা ইসলামের প্রধান,মূল ও মৌলিক ভিত্তি। [দ্র: ৯০: ১০; ৭৩: ৩; ২: ২৫৬; ৯২: ১২; ৬: ৫২, ৬৯, ১০৮; ৪: ১৭১; ১০৯: ৬; ২২: ৭৮]
হাদিছ: সাপ্রদায়িকতা শরিয়তের প্রধান ও মৌলিক ভিত্তি।
১৬. কোরান: সব ভাষাই আল্লাহর ভাষা।
[দ্র: ১৪:৪; ২৬: ১৯৮, ১৯৯; ৩০: ২২; ৪১: ৪৪]
হাদিছ: একমাত্র আরবি ভাষাকেই আল্লাহর ভাষা এবং বাকিগুলি কাফের, বে-দ্বীন তথা মানুষের ভাষা মনে করে।
১৭. কোরান: কোরানের আয়াত সংখ্যা ৬২৩৬টি।
[যে কোন কোরান গ্রন্থের আয়াত গুণে নিশ্চিত হতে পারে]
হাদিছ: কোরানের আয়াত সংখ্যা ৬৬৬৬টি বলে ১৪ শত বৎসর যাবৎ বিশ্বাস করে আসছে।
১৮. কোরান: মানুষ মাত্রই পাপ বা ভুলের উর্দ্ধে নয়; কোরান সংকলন/রাছুলও ভুলের উর্ধে নয়।
[দ্র: ২: ১০৬; ৩৫: ৪৫; ৪০: ৫৫; ৪১: ৩৬;৭: ২০০;৮০: ১-৪; ৯: ৪৩]
হাদিছ: তাদের অন্ধ বিশ্বাস যে, রাছুল ও কোরান সংকলন ভুল বা সন্দেহের উর্ধে।
১৯. কোরান: হযরত ঈসার মাতা বিবি মরিয়ম নারী জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ। [দ্র: ৩: ৪২]
হাদিছ: হযরত মুহাম্মদের কন্যা বিবি ফাতেমা নারী জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ; মতা্ন্তরে বিবি খাদিজা।
২০. কোরান: প্রধানত: সত্য, সঠিক ও মানব কল্যাণ বা নেক অ-নেক কাজে নারী-পুরুষ পার্থক্য করে না।
[দ্র: ৩: ১৯৫; ৪: ৩২, ১২৪; ৯: ৭১; ১৬: ৯৭; ১৮: ৩০; ৪০:৪০]
হাদিছ: যেকোন অবস্থাতেই নারী কর্ম, নেতৃত্ব হারাম এবং সকল ক্ষেত্রেই পুরুষের অর্ধেক মনে করে; কিন্তু ব্যক্তি/দলের স্বার্থে কখনও কখনও হালাল মনে করে। যেমন: শিয়াগণ বিবি ফাতিমাকে, মুয়াবীয়া বিবি আয়শাকে, জামাত বিবি খালেদা-হাছিনাকে।
কোরানে সহজ, সরল স্বচ্ছ ফয়শালা থাকতে বোখারীদের হাদিছ রচনার উদ্দেশ্য যা ছিল তা আজকের বিভ্রান্ত শিয়া/ছুন্নী/কাদিয়ানী সমাজ!!
(চলবে-৪)
বিনীত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


