সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হলে বাংলাদেশ মুসলিম রাষ্ট্রের পরিচিতি হারাবে : আল্লামা শাহ আহমদ শফী
সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের সরকারি উদ্যোগের যে সংবাদ পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনা করে এক বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কওমী মাদরাসা দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম, হাটহাজারীর মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)-এর চেয়ারম্যান পীরে কামেল হযরত আল্লামা শাহ আহমদ শফী (দা. বা.)।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ আস্খা ও বিশ্বাসের ঘোষণা থাকবে না, সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহ থাকবে না, রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে ইসলামকে বাতিল করা হবে। পররাষ্ট্র নীতিতে মুসলিম বিশ্বের গুরুত্ব কমে যাবে, ধর্মের পরিবর্তে ধর্মনিরপেক্ষতারই পৃষ্ঠপোষকতা করবে রাষ্ট্র ও সরকার, ইসলামের নামে কোন আন্দোলন-প্রতিবাদ ও মিছিল মিটিং করা যাবে না এবং এভাবে একদিন বাংলাদেশ মুসলিম রাষ্ট্রের পরিচিতি হারাবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের পুরো আশংকা কামাল আতাতুর্কের তুরস্কের ন্যায় এদেশ থেকেও মক্তব-মসজিদ-আযান ও মাদরাসা বìধ করা, আলেম-উলামাকে কোণঠাসা করা, ওয়াজ-নসীহতসহ ধর্মীয় সভা-সমাবেশ চিরতরে বìধ করা, দাড়ি-টুপিসহ মা-বোনদের পর্দা-পুষিদা এবং ইসলামী লেবাস-পোশাককে নিষিদ্ধ করা, সর্বোপরি এ দেশের ধর্মভীরু মুসলমানদের ক্বলব থেকে ইসলামের আওয়াজকে চিরতরে বìধ করার আন্তর্জাতিক চক্রান্তের বাস্তবায়নের জন্যই সরকার একের পর এক ধর্মবিরোধী এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
শিক্ষা নীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, নতুন শিক্ষা নীতি প্রণয়নের নামে ইসলামী শিক্ষাকে নিষিদ্ধ করার চক্রান্তও প্রায় পাকাপোক্ত করে নিয়েছে সরকার, যা জাতির জন্য চরম বিধ্বংসী হবে। বিবৃতিতে তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে গত ১৮ এপ্রিল এ দেশের নেতৃস্খানীয় ৬২ জন ওলামা-মাশায়েখের বৈঠকের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬২ জন ওলামা-মাশায়েখের সামনে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, আমার সরকার কখনো ইসলাম এবং কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন পাস করবে না।’
তিনি বলেন, আমরা সে দিন দিন প্রধানমন্ত্রীর কথা বিশ্বাস করে আমাদের প্রতিবাদ বিবৃতি বìধ রেখেছিলাম।
সরকার যদি সংশোধনের নামে সংবিধান থেকে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্খা ও বিশ্বাস’ সেই সঙ্গে মূল সংবিধান থেকে ধর্ম বিশ্বাসের ভিত্তিতে সভা, সংঘ, সমিতি ও রাজনীতি করার অধিকার এবং ইসলাম ধর্মকে রাষ্ট্্রধর্মের মর্যাদা প্রদান সংবলিত অনুচ্ছেদ দুটিও তুলে দেয়, তা হবে প্রধানমন্ত্রীর ৬২ জন আলেমের সামনে দেয়া প্রতিশ্রুতির সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। সরকার যদি দেশের জনসাধারণের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এ ধরনের ন্যক্কারজনক পদক্ষেপ নেয়া অব্যাহত রাখে, এ দেশের মুসিলম জনতা তা প্রতিহত করবে, ইনশাআল্লাহ |

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

