তিন
তিন মাস হতে চলল নেমীর ডায়রিটা শুভর ঘরে পড়ে আছে। ইতিমধ্যে সে ভার্সিটিতে দ্বিতীয় বর্ষের গন্ডি পেরিয়ে তৃতীয় বর্ষে পড়েছে। এর মধ্যে একবারও নেমীর সাথে কথা হয়নি। প্রথমদিকে মন নরম থাকাতে দু-চারবার চেষ্টা করেছে কথা বলার জন্য কিন্তু মেয়েটি মাথা নিচু করে চলে গিয়েছে ডাকের জবাব দেয়নি। পরে এ নিয়ে শুভ আর ব্যাতিব্যস্ত হয়নি। আর একটি কারনে এটি ঘটেছে, মেয়েদের এড়িয়ে চলা সত্বেও আরো তিনটি মেয়ে অপমান সয়েও ওকে আকড়ে ধরে বসে আছে। একটি হচ্ছে তামান্না চৌধুরী শুভর ডিপার্টমেন্টের। শিল্পপতি মারুফ চৌধুরী এবং লেডি ক্লাবের সেক্রেটারি নীলু চৌধুরীর একমাত্র সুন্দরী তন্বী। দ্বিতীয়টি ব্যবসায়ী কায় খসরুর আধুনিকা সুন্দরী তন্বী ফাহিমা ফেরদোস সুহী। এবং তৃতীয়টি কয়েকদিন আগ পর্যন্ত পিছু পিছু ঘুরে শুভকে তালাক দিয়ে লাশ কাটা ঘরে ফিরে গিয়েছে ঢাকা মেডিকেলের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শরীফা ইন্নাম রুনী। শুভ সেদিন রুনীকে ডেকে বলল- রুনী কাজ আছে ?
: না তেমন নেই।
: তাহলে চল একটু বসি।
শুভর এভাবে ডাকা দেখেই রুনীর কেমন যেন সন্দেহ হোল। যতদুর জানে ওতো কখনো কোন মেয়েকে ডাকে না বরং ওরাই ওকে বিরক্ত করে। ওর পাশে গন্ডা খানেক টপ মস্তান ছাড়া এ পর্যন্ত কোন মেয়েকে ও হাটতে দেখেনি। রুনী এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল, না ভার্সিটির সেরকম কোন চিন্হিত মুখ চোখে পড়ল না। একটু কাপা গলায় রুনী বলল-
ঐ লাইব্রেরির কোনটায় বসি।
এবার সে ভালভাবে শুভর চোখের দিকে তাকাল। ডাক্তার পুরোপুরি না হলেও বুঝল এ ছেলে আজ স্বাভাবিকতার গন্ডিতে নেই। রুনী একটু ভয় পেল, ফ্যাকাসে মুখে চোখ দুটোকে তুলে ধরে সরাসরি প্রশ্ন করল-
: তোমার কি হয়েছে । চোখ এত লাল কেন।
শুভ সে কথায় প্রতিউওর না ঘটিয়ে বলল-
: তোমার ভয় নেই। খালিদ মাহমুদ আর যাই করুক, চাদাবাজি আর মেয়েনিয়ে টানাটানি করে না।
: সে আমি জানি । রুনী উওর দিল।
: শাহেদের কাছে কি বলেছ। রুনীর চোখের দিকে তাকিয়ে শুভ বলল।
: না তেমন কিছু বলিনি তো। শুভ তোমার মাথা ঠিক নেই। শান্ত হয়ে একটু বস।
: প্রেম করেছ আগে কখনো।
: কি ব্যাপার বলোতো। তোমার মাথা-টাথা খারাপ হয়নি তো।
: বুকটা খোলো।
এবার আর রুনী না হেসে পারল না। শুভর একটা হাত ধরে হাসতে হাসতে বলল- ক্যান কি দেখবা। আমি ওয়ার্লড বিউটি সাইজের নই, একটু বড়ই। শুভর গালে চিমটি কেটে বলল- তুমি কি প্রেমের ডাক্তার নাকি। অপেক্ষাকৃত জোরেই সে খিল খিল করে হাসতে লাগল। শুভ একটু ধমকের সাথে বলল-
: থামো। হাসার কি হয়েছে। বুকটা খোলো আমি দেখবো। শুভ এখানে বসে আছে, কোন ছেলের তোমার দিকে তাকনোর সাহস নেই।
রুনী যেন একটু শক্ত হোল। বলল-
: কি দেখবে।
: দেখবো তোমার স্তনের বোটা লাল না কাল। প্রেমে পড়ার আগ পর্যন্ত নাকি ওটা লাল থাকে।
রুনী এবার অপমানটা বুঝতে পারল। আড় চোখে রাগত স্বরেই বলল-
আমি প্রেমে পড়েছি। তার আগে বল তুমি ডাক্তারদের ঘৃনা কর কেন।
শুভর চোখ যেন রাগেতে ছিটকে পড়ছিল। রুনীকে লক্ষ্য করে বলল-
: পিচাশ। ডোম এর জাত। দশটা ওষুধের নাম লিখতে পারলেই নিজেদের কেউকাটা মনে কর।
: শুভ উওজিত হয়ো না। তোমার মতো মস্তিস্ক বিকৃতির লোক বুঝবে না আমরা কি, কি সেবার আদর্শে নিয়োজিত।
লাইনটা শেষ না হতেই রুনীর মুখ থেকে টেনে নিয়ে কথাটা শুভ বলল- আমরা নই, কালে ভদ্রে একজন।
-চলবে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

