জানুয়ারি কি ফেব্রুয়ারি হবে আমার ঢাকায় পড়তে আসার প্রস্ততি চলছে । আমি আমার ঘরে কি যেন একটা বই পড়ছি, রাত ন'টার মত হবে হঠাৎ জানালায় টোকা পেলাম। খুলে দেখলাম রেনু। ও বলল খুব বিপদ বাইরে এসো। ওর গলায় আতংক দেখে আমি তাড়াতাড়ি বাইরে আসলে রেনু বলল - ছয় সাতজন লোক আমাকে দেখতে এসেছে, মেয়ে তাদের পছন্দ হলে বিয়ে করে নিয়ে যাবে। কাকা কাজী আনতে গেছে, বলেই রেনু আমার পায়ে জড়িয়ে ধরে বলল- আমাকে বাচাঁও - আমি চলে এসেছি কি করবে আমি জানিনা । তুমি ফিরিয়ে দিলে আমি আত্মহত্যা করব।
আমি বললাম রেনু চিন্তা করোনা -দাঁড়াও দেখি কি করা যায়। ঘরে গিয়ে প্যান্ট শার্ট পরে যে কয়টা টাকা ছিল তাই নিয়েই বললাম চল।
পরের দিন রাজবাড়িতে ওর এক আত্মিয়ের বাড়িতে আমাদের বিয়ে হোল। ভাবলাম একমাত্র ছেলে আমি, আব্বা কয়দিন পরেই মেনে নেবে। তিনদিন পরে আব্বা কোর্টে গিয়ে আমাকে তাজ্য পুত্র করলেন । ওদের বাড়িতে যে কি হোল তা বলার
নয়। শেষ হুমকি থাকল আমার সাথে যে কোন প্রকার যোগাযোগ তারা রাখলে গ্রাম ছাড়া হবে। নিরুপায় হয়েই আমি রেনুকে নিয়ে ঢাকায় চলে এলাম। আমি একটা গার্মেন্টসের চাকরিতে ঢুকলাম। প্রথমে যা পাই তাই দিয়ে কোন মতে সংসার চালালাম একবেলা খেয়ে না খেয়ে । একবছর পরে রেনুকে ঈস্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলাম। ইসফাক সাহেব কিছুক্ষন চুপ করে থাকাতে নেমী বলল- তারপর।
তারপর ও এস এস সি পাস করল প্রথম বিভাগে। ছোট্ট একটা আন্ধকার রুমে মোহাম্মদপুরে আমরা ভাড়া থাকতাম। কি যে আনন্দ ছিল আমাদের সংসারে। একদিন রেনু আমাকে বলল- ওগো তুমি এবার কলেজে ভর্তি হও । আমি ওর সামনে সার্টিফিকেটের চৌধুরী নামটা কাটতে কাটতে বললাম- রেনু টাকা দেবে কে ? আমি এখন কষ্ট করি তুমি পড়, তোমার পড়া শেষ হলে আমি পড়ব। ওর মুখটা তুলে ধরে বললাম- তোমাকে কিন্তু ডাক্তারি পড়তে হবে। তুমি চাকরি করলে তখন আমি প্রাইভেট পরিক্ষা দেব। ও আই এস সি তে ভর্তি হোল। রেনু পড়ত আমি ওর পাসে বসে থাকতাম। ও আমাকে ওর ইচ্ছে মত বসিয়ে রেখে বলত নড়বে না তারপর টেবিল থেকে বই নিয়ে এসে আমার দু'পায়ের মাঝে বসে হেলান দিয়ে বুকের উপর মাথা রেখে পড়ত। রেনু বলত এভাবে যদি পড়তে দাও তাহলে আমি ডাক্তারি পড়তে পারি। আজান্তেই আমি কখন ঘুমিয়ে পড়তাম, বেশীর ভাগ রাতই আমরা এভাবে ঘুমিয়েছি। কোন কোন দিন দেখতাম জেগেই ভোর হয়ে গিয়েছে।
নেমী মাথা নীচু করেই বলল- এ আপনি একটু বাড়িয়ে বলছেন।
ইসফাক সাহেব বললেন-তাহলে শোন- ওকে একটা টেবিল কিনে দিয়েছিলাম । একদিন রাগ করে বললাম- টেবিল চেয়ারে যাও আমি ঘুমাব। এবং ওকে রেখে আমি ঘুমিয়েও পড়লাম। ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম রেনু ফ্লোরে শোয়া। চোখ মুখ ফোলা, কাদতে কাদতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি ওকে টেনে তুলে অনেক বুঝিয়ে আফিসে গেলাম। রাতে এসে দেখলাম - ও তিনখানা ইট বিছিয়ে টেবিল ভেংগে জ্বাল দিয়ে ভাত রেধেছে। আমি হেসে বললাম- রেনু রাগতো গেল - তুমি ওভাবেই পড়, যাও বই নিয়ে এস।
-চলবে
আলোচিত ব্লগ
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।