---------------------
দুই মাস হতে চলল নেমীর চোখে ঘুম নেই। চোখের নীচ দিয়ে কালি পড়েছে। চেহারার এ কি ভয়ংকর অবস্হা নিজেই আয়না দেখে ও কেদে ফেলল। এই দুই মাসে ও একদিনও ক্লাশের বই ধরেনি ক্লাশে ও যায়নি। ও এখন কি করবে - যেন কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছে যাচ্ছে। আত্মহত্যার সবগুলো কারনই ওর প্রায় এসে গেছে।
প্রতিদিন শোয়ার আগে ও একবার শুভর বাবাকে টেলিফোন করে। আজও করেছে। ভদ্রলোকের শরীর ভাল না , ক'দিন থেকে প্রেশারটা বেড়েছে। নেমী সারাদিন প্রায় শুভর বাসায়ই থাকে , বাবার পাশে বসে থাকে।
দু মাস আগে ইসফাক সাহেব তার সমস্ত সম্পত্তি নেমীকে লিখে দিয়েছেন। নেমী বাবার পায়ে ধরেছে - কত কান্নাকাটি করেছে কিন্ত ইসফাক সাহেব তার সিদ্ধান্তে অটল। বলেছে এ ছাড়া তার আর কোন উপায় নেই। নেমী কত যুক্তি দেখিয়েছে । বুঝিয়েছে আপনার ছেলে আমাকে বিয়ে করবে না , আমাকে আত্মহত্যার পথে ফেলে দিবেন না কিন্ত কে শোনে কার কথা। ইসফাক সাহেবের একই কথা - তুমি আমার ছেলের বউ না শুধু - আমার মা ও । যুক্তি দিও না মা , আইন করে তো আমি তোমার শাশুড়িকে রাখতে পারিনি কিন্ত তুমি রয়েছ কিসে ? কোন আইনে ? ।
আমার শেয কথা আমার শরীরের অবস্হা ভাল না , কখন কি হয় জানিনা। আমি খোকাকে তোমার হাতে রেখে গেলাম। এটা তো সত্যি যে তোমার জন্যই খোকা আমাকে বাবা বলেছে। আমার আর কিছু অপূর্ন নেই মা । ওকে তুমি বাচাতে চেস্টা কোর
নেমী চিন্তা করল - শুভ এখনো জানে না এ সম্পত্তি উইলের কথা। শুভ যদি জানে তাহলে কি ঘটনাই না ঘটে যাবে। এত ভালবাসা বিশ্বস্ততা টাকার জন্য নস্ট হয়ে যাবে ? । যে টাকাকে ও ঘৃনা করে তাই এখন ওর মৃত্যুর কারন হবে ? । শুভ যদি জেনে যায় আর কখনো বলে - নেমী এ জন্যই কি ভালবেসেছো ? ।
এ দুমাস ধরে ও কতই না দৌড়া দৌড়ি করেছে - কত প্লান করেছে , কিভাবে সম্পত্তিটা ও শুভর নামে লিখে দিবে কিন্ত প্রতিবারেই ব্যর্থ। নেমী যেন কিছু ভাবতেই পারে না। শুভকে ও ভালভাবেই চেনে , ও যদি একবার জানতে সম্পত্তি উইলের কথা কিছুতেই ও আর এ বাসায় থাকবে না। নেমীর সমস্যা ও কাকে বলবে কাকে বুঝাবে। দু মাসে একবারও শুভকে প্রানভরে আদর করতে পারে নি। পরে হয়তো বলবে - নেমী জন্যই পাগল হয়েছিলে। আবার কমও করতে পারেনি, যদি বলে নেমী সবতো পেয়েই গিয়েছ। এ মুহুর্তে নেমী চিন্তা করল- বিজ্ঞানীরা কত কিনা আবিস্কার করে - ওর মনের মত একটা যন্ত্র আবিস্কার করে ফেলত, রিমোট টিপে দিলেই এ মুহুর্তেই শুভর সাথে ওর বিয়ে হয়ে যেত, আর একবার টিপলেই একটা বাচ্চা। নেমী সেই বাচ্চার নামে সব সম্পত্তি উইল করত তারপরে শুয়ে শুয়ে শুভকে বলত সব ঘটনা। কিন্ত বাস্তবে। এযে কত দেরী। হয়তোবা এরই মধ্যেই শুভকে না হারাতে হয়।
- চলবে
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



