আমার বাবা-মায়ের কাছে শুনেছিলাম তৎকালিন পশ্চিম পাকিস্তানের প্রবাস জীবন নিয়ে অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা - বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে (বাবার চাকুরীর সুবাদে করাচীতে) আমার জন্ম হয়েছিল - বঙ্গবন্ধু রেডক্রসের মাধ্যমে, হানাদার বন্দীদের বিনিময়ে আমাদের এদেশে নিয়ে আসে - আমার বাবা একজন সাধারণ ব্যাংক কর্মচারী - আমাদের মতো অনেকেই যারা আঁটকে গিয়েছিল সেখানে - যুদ্ধাবস্থায় বাঙ্গালী সরকারী কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক ছাটাই - কোথাও কেউ কাজ দেয় না - আমাদের বাড়ির চালে ঢিল ছুড়তে ছুড়তে পাথরের স্তুপ করে ফেলেছিল - বিবিসি শোনার অপরাধে আমাদের ঘরে ঢুকে রেডিও নিয়ে যেতো ওরা - আমাদের পরশী একটি বাঙ্গালী নৌবাহিনীর পরিবার ছিল - আমার বড় ভাই মাঝ রাতে লুকিয়ে লুকিয়ে তাকে খাবার দিয়ে আসতো নৌবাহিনী কেম্পে - তাদেরকে প্রতিদিন পিঠে ইট বেঁধে মাঠে চক্কর দেয়াতো ওরা - আমার বাবা জুম্মার নামাজ আদায় করে ফেরার সময় পিঠে আঘাত করেছিল পাকিস্তানীরা - আমাদের বাড়ীতে ডাকাতী হয়েছিল - তখন প্রায় বাঙ্গালীদের বাড়ীতেই চুরি ডাকাতী লুট-তরাজ হতো সে সময় - আমার বাবার মতো অনেকে পালিয়ে যুদ্ধে যাবার চেষ্ঠা করেছিল - যারা ধরা পড়েছিল - তাদের কোন খোঁজ আর কখনোই মেলেনি - আমার মেঝ ভাই বেলকুনিতে ঘুমন্ত অবস্থায় তার একটি চোখ হাড়িয়েছিল ঐ পাকিস্তানীদের খেলনা পিস্তলের গুলিতে (তখন একধরণের করর্কের ভেতর দ্রুত লক্ষ্য ভেদ করে এমন বারুদ সম্বলিত খেলনার গুলি ও পিস্তল দোকানে পাওয়া যেত) -বাঙ্গালীরা ওদের কাছে পানির দরে সম্পদ বিক্রী করে নাড়ির টানে এদেশে এসেছে - আমরা বাবা থাকার জন্য রিফিউজি কেম্প খ্যাত (মিরপুর বদ্ধ ভুমির পেছনে) একটি বাসার ব্যবস্থা করেন - সেখানে জহির রায়হানের মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব ভাইকে খুজতে এসে নিখোঁজ হয়েছিল - আমার বাবা বাড়ি কেনার জন্য মিরপুর কাজীপাড়া, ৬, ১১, ১২ নং সেকশন ঘুরে অনেক বাঙ্গালীর ঝুলন্ত লাস দেখে ছিল - আমিও দেখেছি জল্লাদখানা - টিলা বহুল এ এলাকার লোক জন চাষাবাদ করতো - ক্ষেতে খামারে মানুষের হার মাথার খুলি বন্দুকের গুলি পেত, আপনারা হয়তো জেনে থাকবেন মিরপুর ১৯৭২ সালের ৩১শে ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় - এত রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা - এত স্বজন হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছে বাঙ্গালী - মাত্র সারে তিন বছরের মাথায় সব ভুলে গেল - নাকি মুখ বুজে সয়ে গেল এই - চোখের সামনে দিয়ে হানাদারদের দোষররা যারা ঘাপটি মেরে বসেছিল সুদিনের আশায় - কেমন তরতাজা হয়ে গেল - শুধু ঐ ক্ষমতা লোভী আর্মিদের বদৌলতে - সেটাও দেখতে হলো এত কেন্টনমেন্টের পাশে থেকে - আধো আধো চোখে বিবস্ত্র আর্মিরা বিল সাতার দিয়ে প্রান ভয়ে পালানোর দৃষ্য - খরকুটার মাঝে ভুড়ি বেড় হওয়া মুক্তিযোদ্ধের বীর খালেদ মোশার রফের লাশ - দেখলাম অভাগা দেশের নিয়ন্ত্রণহীন আর্মিদের লালসার স্বীকার - তারপর দলগঠন - দেখলাম কিভাবে পাকিস্তানপ্রেমীদের এদেশে এস্টাবলিস্ট করা হলো - বঙ্গবন্ধু - স্বাধীনতা - মুক্তিযোদ্ধ - রাজাকার - এই সকল শব্দ গুলির উপর সরকারী নিয়ন্ত্রন - কালে কালে আরও অনেক কিছুই দেখবো হয়তো - তোমাদের কে জানালাম - এভাবেই তোমরাও - যুদ্ধ চালিয়ে যাও - নতুন প্রজন্মের আমরা না হয় এভাবেই . . . . . . . .. .......................
আমরাতো এমন বাংলাদেশ চাইনি - সেই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মতো শোষক আর শোষিতের ধনী আর গরীবের শিক্ষা-দীক্ষায় এমন বিভেদ-বিদ্বেষ - দুনীতি - পাকি দালাল মৌলবাদ ও রাজাকারের আস্ফালোন -
যেখানেই রাজাকার সেখানেই এখন প্রথম প্রতিরোধ প্রয়োজন - তারপর একের পর এক প্রতিশোধে প্রতিরোধে ৩৮ বছরের আবর্জনা ঘেঁটে ঘুটে আবার খুঁজে পাবো হয়তো একদিন তোমার আমার সেই স্বাধীনতার সোনার বাংলাকে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

