পাকিস্তান সম্পর্কে কিছু শোনা কথা
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩০
আমার বাবা-মায়ের কাছে শুনেছিলাম তৎকালিন পশ্চিম পাকিস্তানের প্রবাস জীবন নিয়ে অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা - বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে (বাবার চাকুরীর সুবাদে করাচীতে) আমার জন্ম হয়েছিল - বঙ্গবন্ধু রেডক্রসের মাধ্যমে, হানাদার বন্দীদের বিনিময়ে আমাদের এদেশে নিয়ে আসে - আমার বাবা একজন সাধারণ ব্যাংক কর্মচারী - আমাদের মতো অনেকেই যারা আঁটকে গিয়েছিল সেখানে - যুদ্ধাবস্থায় বাঙ্গালী সরকারী কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক ছাটাই - কোথাও কেউ কাজ দেয় না - আমাদের বাড়ির চালে ঢিল ছুড়তে ছুড়তে পাথরের স্তুপ করে ফেলেছিল - বিবিসি শোনার অপরাধে আমাদের ঘরে ঢুকে রেডিও নিয়ে যেতো ওরা - আমাদের পরশী একটি বাঙ্গালী নৌবাহিনীর পরিবার ছিল - আমার বড় ভাই মাঝ রাতে লুকিয়ে লুকিয়ে তাকে খাবার দিয়ে আসতো নৌবাহিনী কেম্পে - তাদেরকে প্রতিদিন পিঠে ইট বেঁধে মাঠে চক্কর দেয়াতো ওরা - আমার বাবা জুম্মার নামাজ আদায় করে ফেরার সময় পিঠে আঘাত করেছিল পাকিস্তানীরা - আমাদের বাড়ীতে ডাকাতী হয়েছিল - তখন প্রায় বাঙ্গালীদের বাড়ীতেই চুরি ডাকাতী লুট-তরাজ হতো সে সময় - আমার বাবার মতো অনেকে পালিয়ে যুদ্ধে যাবার চেষ্ঠা করেছিল - যারা ধরা পড়েছিল - তাদের কোন খোঁজ আর কখনোই মেলেনি - আমার মেঝ ভাই বেলকুনিতে ঘুমন্ত অবস্থায় তার একটি চোখ হাড়িয়েছিল ঐ পাকিস্তানীদের খেলনা পিস্তলের গুলিতে (তখন একধরণের করর্কের ভেতর দ্রুত লক্ষ্য ভেদ করে এমন বারুদ সম্বলিত খেলনার গুলি ও পিস্তল দোকানে পাওয়া যেত) -বাঙ্গালীরা ওদের কাছে পানির দরে সম্পদ বিক্রী করে নাড়ির টানে এদেশে এসেছে - আমরা বাবা থাকার জন্য রিফিউজি কেম্প খ্যাত (মিরপুর বদ্ধ ভুমির পেছনে) একটি বাসার ব্যবস্থা করেন - সেখানে জহির রায়হানের মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব ভাইকে খুজতে এসে নিখোঁজ হয়েছিল - আমার বাবা বাড়ি কেনার জন্য মিরপুর কাজীপাড়া, ৬, ১১, ১২ নং সেকশন ঘুরে অনেক বাঙ্গালীর ঝুলন্ত লাস দেখে ছিল - আমিও দেখেছি জল্লাদখানা - টিলা বহুল এ এলাকার লোক জন চাষাবাদ করতো - ক্ষেতে খামারে মানুষের হার মাথার খুলি বন্দুকের গুলি পেত, আপনারা হয়তো জেনে থাকবেন মিরপুর ১৯৭২ সালের ৩১শে ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় - এত রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা - এত স্বজন হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছে বাঙ্গালী - মাত্র সারে তিন বছরের মাথায় সব ভুলে গেল - নাকি মুখ বুজে সয়ে গেল এই - চোখের সামনে দিয়ে হানাদারদের দোষররা যারা ঘাপটি মেরে বসেছিল সুদিনের আশায় - কেমন তরতাজা হয়ে গেল - শুধু ঐ ক্ষমতা লোভী আর্মিদের বদৌলতে - সেটাও দেখতে হলো এত কেন্টনমেন্টের পাশে থেকে - আধো আধো চোখে বিবস্ত্র আর্মিরা বিল সাতার দিয়ে প্রান ভয়ে পালানোর দৃষ্য - খরকুটার মাঝে ভুড়ি বেড় হওয়া মুক্তিযোদ্ধের বীর খালেদ মোশার রফের লাশ - দেখলাম অভাগা দেশের নিয়ন্ত্রণহীন আর্মিদের লালসার স্বীকার - তারপর দলগঠন - দেখলাম কিভাবে পাকিস্তানপ্রেমীদের এদেশে এস্টাবলিস্ট করা হলো - বঙ্গবন্ধু - স্বাধীনতা - মুক্তিযোদ্ধ - রাজাকার - এই সকল শব্দ গুলির উপর সরকারী নিয়ন্ত্রন - কালে কালে আরও অনেক কিছুই দেখবো হয়তো - তোমাদের কে জানালাম - এভাবেই তোমরাও - যুদ্ধ চালিয়ে যাও - নতুন প্রজন্মের আমরা না হয় এভাবেই . . . . . . . .. .......................
আমরাতো এমন বাংলাদেশ চাইনি - সেই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মতো শোষক আর শোষিতের ধনী আর গরীবের শিক্ষা-দীক্ষায় এমন বিভেদ-বিদ্বেষ - দুনীতি - পাকি দালাল মৌলবাদ ও রাজাকারের আস্ফালোন -
যেখানেই রাজাকার সেখানেই এখন প্রথম প্রতিরোধ প্রয়োজন - তারপর একের পর এক প্রতিশোধে প্রতিরোধে ৩৮ বছরের আবর্জনা ঘেঁটে ঘুটে আবার খুঁজে পাবো হয়তো একদিন তোমার আমার সেই স্বাধীনতার সোনার বাংলাকে
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: অফিসে বসে কাজের ফাঁকে ফাঁকে করেছি - আপনাদের মন্তব্যে উৎসাহ বোধ করছি - জুবায়ের ভাই ভাল থাকেন - ধন্যবাদ
অরণ্য আনাম বলেছেন:
পুরো লেখাটা পড়লাম.......আবারো কল্পনার জগতে ফিরে গেলাম......দেখতে থাকলাম ঝুলন্ত লাশ..
ওফ....সে কী ভীবৎস.......
২৬ ও ২৭ শে মার্চের ঘটনার বর্ণনা গুলো যখন পড়েছি তখন আরো খারাপ লেগেছিল ( জোছনা ও জননীর গল্প)...
লেখক বলেছেন: ভাই অরণ্য আনাম আপনি দমে যাবেন না - আপনি শক্তি হাড়ালে ওদের মনোবল বেড়ে যাবে - আসুন আমরা ছড়িয়ে দেই স্বাধীনতার আলো - আমাদের ঐক্যের আলোয় - ওরা ঝলসে - ছাই হয়ে যাবে
কোবরা বলেছেন:
এই লেখা পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম শুধু পাকিস্তানী সেনাবাহিনী না পাকিস্তানী সাধারন মানুষও যে কতটা নৃশংস ছিলো ১৯৭১ সালে! সে সময় মিরপুরের অধিকাংশ এলাকাতেই বড়ো বড়ো কুয়া ছিল। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের সহযোগী বিহারি ও রাজাকাররা বিভিন্ন জায়গা থেকে বাঙালিদের ধরে এনে নির্মমভাবে হত্যা করে ঐসব কুয়ায় ফেলে দিতো যার কারণেই মিরপুর এলাকার মানুষ কুয়ার পানি খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল
আর মিরপুর স্বাধীন হয় ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি৷
পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ!
লেখক বলেছেন: কেন জানি মনে হচ্ছে আপনি জানেন মিরপুরের বিহারিদের অত্যাচারের ইতিহাস - আমি এখানকার আদি স্থানীয় লোকেরা যারা প্রত্যক্ষ করেছেন - তারাই আমাকে বলেছে - যখন সারা দেশ শত্রুমুক্ত - তখন পাক হানাদাররা মিরপুরকে অবরুদ্ধ করে - আশপাশের নিরিহ মানুষকে ধরে এনে মুরগির মতো জবাই করেছে - স্যুয়ারেজ কুপ গুরোর মধ্যে ফেলেছে - তারা সেখানে গোঁঙ্গানোর শব্দ পিপাসায় পানি পানি করেছে - হয়তো এদের মধ্যে আমাদের জাতির সেরা সন্তানরা যেমন জহির রায়হানদের মতো অনেকেই ছিল
নাঈম বলেছেন:
যতদিন এ দেশে সরকারী ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় রাজাকার তোষণ অব্যাহত থাকবে, ততদিন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধাদের সেই স্বপ্নের বাংলাদেশে রূপ নেবে না।আপনার লেখাটি অনেক ভালো হয়েছে........
সুরভিছায়া বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ এমন একটা লেখা উপহার দেয়ায় ।
লেখক বলেছেন: যারা আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যকে ধর্মের মোড়কে - চিড়িয়াখানার গরাদে পুরতে চেয়েছে - মুক্ত হাওয়াকে বিষাক্ত করতে চায় আজও - আপনারা সোচ্চার হোন - আপনাদের ভিতরের বাসনাগুলোকে - ঐক্যের বাধঁন দিয়ে - সূর্যের তীব্র আলো মতো ছড়িয়ে দেই - ওদের ভন্ডামীর অবসান ঘটাই - সুরভিছায়া আপনাকে ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: ভাই ওদের উপর আক্রমন হবে যুক্তি দিয়ে - ওরা চায় শক্তি দিয়ে - কিন্তু আপনার আলোর কাছে কিছুই না - ধন্যবাদ - অরণ্য আনাম - আপনাদের মতো একজন নতুন গেরিলা যোদ্ধা হতে ভিষন উৎসাহ বোধ করছি
যেখানে রাজাকার সেখানেই গেরিলা প্রতিরোধ
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন:
এসব ইতিহাস হতাশার জন্য নয়, এগুলো বারবার আমাদের মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতা বিরোধীদের রুখে দাঁড়াবার প্রয়োজন এখনই।
লেখক বলেছেন: এক হাতে আস্তে আস্তে যেভাবেই হোক আপনাদের মন্তব্য গুলোর উত্তর দিচ্ছি আর আবেগ প্রবন হয়ে পড়ছি যে - আপনাদের মতো যোদ্ধাদের উৎসাহ পেয়ে - জয় হোক আপনার - এবার যেখানেই রাজাকার ঐক্যবদ্ধ ভাবে ভোটদিয়ে চুরান্ত প্রতিরোধ - তা নাহলে আমরা সবাই হেরে যাব
লেখক বলেছেন: যে শহীদেরা আমাদের এদেশকে দিয়ে গেল - তাকে প্রান দিয়ে আগলে দায়িত্ব আপনার - শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও - যদি আমরা আপনা পাশে নাও থাকি - ধন্যবাদ - এবার ঐক্য চাই প্রতিরোধের - হে বন্ধু আপনার সাথে অন্তত আমি আছি
পাকিস্তানীরা মানুষ না। আর রাজাকাররা ... এখন মুখ খারাপ করতে ইচ্ছে করছে না।
লেখক বলেছেন: আপনার মতো সাহসীরাই এদেশ করেছে স্বাধীন - তাই আপনার কলমেই হোক ওদের বিলোপ
লেখক বলেছেন: আমার মেঝ ভাই মোটামুটি আমাদের মধ্যে ভালই ছাত্র ছিল - তার নষ্ট চোখটা নিয়ে অনেক কষ্টে ৩বার চেষ্ঠা করে এস এস সি কমপ্লিট করতে পারেননি - পরীক্ষা আসলেই তার প্রচন্ড প্রেসারে অনর্গল পানি পড়তো- অবশেষে ইসলামীয়া হাসপাতালে অপারেশন করে ফেলে দেয় - তারপর তার শিক্ষা জীবন শেষ করে - যুদ্ধ এভাবে অনেক পরিবারের উপর আঁচড় দিয়ে গেছে - হয়তো সর্বোহারা করেদিয়ে দেছে - কেউ কি খোঁজ নেয় তাদের - যেই আসে - যারা যুদ্ধ করেছে - তাতো তাদের পকেটে কি আসবে - তাভেবে জীবন হাতের মুঠোতে করে যায়নি - কিংবা পরিবারকে কোথায় রেখে গেল - সে দিকেও ভাবে নি - নিঃস্বার্থ ভাবে দেশকে নিজে কি দিতে পারবে তা ভেবে
চলুন আমরাও যেখানে রাজাকার সেখানেই প্রতিরোধ
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন:
খুবই সহজ সরল সাধারণ ভাষায় লেখা ব্যাক্তিগত কথন, পড়ে খুব আবেগাক্রান্ত হলাম। খুব অল্প পরিসরে বিশাল স্ন্যাপশট। আশা করি আরো লিখবেন বিস্তারিত, বিশেষত সাধারণ পাকিস্তানীদের মনোভাব।আপনার ভাইয়ের চোখের শেষে কি হয়েছিলো?
লেখক বলেছেন: আমার ভাই এম এ করার পর - সাংবাদিকতায় কিছু দিন - শট্ ফিল্ম নিয়ে কত দিন - শেষ মেশ ব্যবসা করছে বড় ভাইয়ের সাথে - তারা সবাই স্বাধীন দেশে স্বাধীন পাখির মত ঢানা মেলে সবার মাঝে বেস আছে - আমি তাদের সবচেয়ে ছোট - ও একটা কথা বলিনি - আমরা শেষ তিন ভাই বোন করাচীতে জন্ম - আমাদের এক ভাই মারা গেছে সরক দুর্ঘটনায় - যার কবিতা এবং গল্প এখানে ছেপেছি - ১৯৮৬ সালের ১১ই ডিসেম্বর আমার ইমিডিয়েট বড় ভাই গাজী ফরিদ আহমেদ কলেজে ফাস্ট ইয়ারে পড়া অবস্থায় ওদের কলেজের বহু পুরাতন একটি দাবী - যা প্রত্যেক সরকার মুলা দেখিয়ে যেত - এমনই এক দাবী নিয়ে অনসনরত ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রেস ক্লাব থেকে বের হয়ে রাস্তা পাড় হচ্ছিল - এমনই সময় বেপরোয়া গতির এক মিনিবাস নিয়ন্ত্রন হাড়িয়ে ফুটপাতের উপর উঠে যায় - এটা দুপুর ১১টা হবে - আমার ভাই বিকেল ৬ টায় শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করে - তোমরা ওর কবিতা গুলো পড়ে দেখো - এ দুঘটনা নিয়ে একটি আইন বিষয়ক মেগাজিন অনুষ্ঠানে (আইন আদালত - রেজাউর রহমান উপস্থাপিত) আমাদের পরিবারের সাক্ষাতকার গ্রহন করে - আরেকটি বিষয় - ও যেদিন মারা যায় সেদিন ওরি টেবিলের উপর - গল্পটির (শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস উপলক্ষ্যে লিখেছিল) পান্ডুলিপি পরে ছিল -
লেখক বলেছেন: আমার মেঝ ভাইয়ের চোখটা ফেলেদিতে হয়েছিল - কারণ ওনার পড়াশুনায় মনযোগ দিলেই অনবরত জল আসতো / মাথা ব্যথা হতো- ফেলে দেবার পরই তিনি একটানা এম এ কমপ্লিট করে ফেলে
লেখক বলেছেন: এক সময় আমার এই ভাই ও বড় ভাই ব্রার্দাস ইউনিয়ন ক্লাবের যুনিয়র টিমে ফুটবল খেলতে - মিরপুরের শ্রেষ্ঠ প্লেয়ার ছিল এবং (মোহামেডান ক্লাবের) সাব্বিরদের সাথে খেলেছে
রাজর্ষী বলেছেন:
আমরা প্রতিরোধ করে যাবো। আর রাজাকারদের এমন শাস্তি দেবো যে ভাবিষ্যতে কেউ এমন চিন্তা না করে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ - যেখানে রাজাকার সেখানেই প্রতিরোধ
মিশু মিলন বলেছেন:
অসাধারণ একটি লেখা। ধন্যবাদ ভাই আপনার এই অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে শেয়ার করার জন্য। সময় করে যদি আরও বিস্তারিত লিখেন তো আমাদের জানার ভান্ডার সমৃদ্ধ হবে। ভল থাকুন।
লেখক বলেছেন: ভাল থাকুন - আপনাদের পাশে যেন সব সময় থাকতে পারি - এই ঐক্য ভাঙ্গুক এটায় কার লাভ - সবাই তা জানে - ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধেই আরেক টি বিজয় - এবার দেখা যাক কারা রাজাকারের বিচারের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং - পাহারের মত স্থায়িত্ব নিয়ে অবিচল অপেক্ষা করবো - দেখবো - যদি না হয় - আমরা এ প্রজন্মের যোদ্ধারা কলমের আচঁরে ওদের বা ঐদলগুলোকে নিশ্চিন্হ করে দিবো - এ যুদ্ধে তোমরা আমাকেও পাবে বন্ধু
সতেজ বলেছেন:
আমি আমার বাবার কাছে ৭১ এ পাকিস্তানিদের অনেক নির্যাতনের কথা শুনছিলাম। তবে আমার বাবা দেশে আসার পর স্বাধীনতাটার স্বরুপ তেমন উপভোগ করতে পারেননি। যেদিন দেশে আসছিলেন ঐদিনের শীর্ষ সংবাদ ছিল বংগবন্ধুর পোলা ব্যান্ক ডাকাতি করছে। লেখক বলেছেন: এটা পরে মিথ্যা প্রমানিত হয় - তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তো বের হয়ে ছিল - ট্রাকে ট্রাকে সোনা পাওয়া গেছে তার বাসায় - যা হোক বন্ধু
যেখানে যেখানেই রাজাকার
লেখক বলেছেন: প্রস্তুত থাবো
অচেনা সৈকত বলেছেন:
টাইটেনিয়ামের বাচ্চার এই পোস্টটা পড়া উচিত। বিহারীরা কি জিনিস জানি আমি।
লেখক বলেছেন: ভাই অচেনা সৈকত আপনাকে আমার সংগ্রামী সালাম
অচেনা সৈকত বলেছেন:
সতেজ@শুধু পাকিস্তানীরাই না, তাদের সাথে ছিল "অবাঙালি বিহারী"রা আর বাঙালি রাজাকার-আলবদররা। সেটাও আপনার জানা উচিত।
লেখক বলেছেন: আমার বাবার মুখে শুনেছি - স্পাই দের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বাঙ্গালীরা সেখানে রাতের আঁধারে ঘরে বাতি জ্বালিয়ে (যাতে পাকিস্তানীরা বোঝে বাসাতেই আছে) যাছিল হাতের কাছে - বেড়িয়ে পরেছে যুদ্ধকরতে - যাদের অনেকের আর কোন খবর পাওয়া যায়নি - বহু বাঙ্গালী খাইবার গিড়ি পথে পালাবার প্রান দিয়েছে - আর মাত্র সারে তিন বছরেই - কিছু লোভি আর্মি অফিসাদের লালসার শিকার হলো আমাদের কর্ষ্টাজিত স্বাধীনতাকে / সদ্য মাথা উচু করে দাড়ানো শত লাঞ্ছনা সওয়া দেশটিকে - বেইনি ভাবে কেন - এত মিথ্যে অপবাদের মাধ্যমে কেন - যার নির্দেশে সল্প সময়ে মিত্র বাহিনী বাড়ি ফিরে গেল - এসবে তো সেই পরাজিত শক্তিই তো লাভবান হয়েছে
সতেজ বলেছেন:
লেখক বলেছেন: এটা পরে মিথ্যা প্রমানিত হয় ।জিনিষটা নিয়ে আমি বিতর্কে যাচ্ছিনা । আপনার এই কমেন্টটা "এত রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা - এত স্বজন হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছে বাঙ্গালী - মাত্র সারে তিন বছরের মাথায় সব ভুলে গেল - নাকি মুখ বুজে সয়ে গেল" লক্ষ্য করে বলছিলাম। শেখের ৭১-৭৫ দুঃশাসনামলে বাংলাদেশীরা আসলেই অতিষ্ঠ হয়ে গেছিল।
@অচেনা সৈকত: ৭১ এ আমার বাবা পাকিস্তানের জেলে ছিল। ওখানে বাঙালি রাজাকার-আলবদর ইস্যু ছিল না।
লেখক বলেছেন: ঐ সারে তিন বছরের ইতিহাস আমরা জানি ভাইয়া - মুক্তিযুদ্ধ করেছে টগবগে তরুন - যাদের গায়ে ছিল গরম রক্ত - বাড়ি ফিরে স্বজনহারা আবেগ - প্রতিশোধ স্পৃহা থেকে বহু রাজাকার নিধন - জ্বালাও পোড়াও -বিদ্ধস্ত - ধ্বংশ - অভাব - আর সবখানে শুধু নাই নাই - এজন্যই কাদের সিদ্দিকী বলে ছিল আর এক সপ্তাহ দেরিতে আসলে দেশ রাজাকার মুক্ত হয়ে যেত - মহানুভব মুজিব বললো না - এখন আমরা স্বাধীন - যার যা প্রাপ্য সে তার বিচার আইনের মাধ্যমেই হবে - আবেগ দিয়ে নয় - সারা বিশ্ব একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত চষে বেড়িয়েছেন স্বীকৃতির জন্য - একটি শিক্ষিত দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন - আর সে জন্যই আপনার বাবার মতো যারা ঐখানে আটকে ছিল - তাদের আনার জন্য কুটনৈতিক কর্ম জোরদার করে - আপনি যদি তার কোন অন্যায়পেয়ে থাকেন - সাভাবিক বিচারের অথবা ভোটের মাধম্যে - সভ্য কোন উপায় অবলম্বন করতেন - কিন্তু এভাবে কেন - আবার করলেন করলেন - সে গুলোর বৈধ্যতার জন্য ভুয়া নির্বাচন - টাকা দিয়ে নেতা কেনা - বিরোধীদের নিষিদ্ধ করা - রাজাকারদের পুণঃপ্রতিষ্ঠা করা - খুনিদের পুরোস্কৃত করা - কেন্টনমেন্টে মুক্তিযোদ্ধা অফিসার নিধন - কেন ? - তাই আমরা জানি - সবাই জানে - যে আজ জানে না সেও একদিন জানবে - সত্য আগুনের মতই - চাপা রাখা কঠিন
বেয়াকুফ বলেছেন:
সতেজ রাজাকার কি বলে?
লেখক বলেছেন: আপনাকে সংগ্রামী সালাম - জানি না কে কি - তবে বন্ধু আপনাকে এই মুহুতে অনেক দরকার এযুদ্ধে - এবার না হয় কিছু ভিন্ন মতাবলম্বীই আমাদের পাশে থাক - প্রথম টার্গেট টাকেই না হয় ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ করি - যেখানে রাজাকার সেখানেই গেরিলা আক্রমন হবে
নয়ন বলেছেন:
৭১ এ আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়।৭১ র যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে অন্তত তার কিছুটা সান্তনা পেতে পারি। এইটুকুতো আমাদের সাধ্যে রয়েছে। যেভাবেই হোক এদের বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। অতীতের মতো এবার কোন ভুল করা চলবে না। রাজাকারের কোন ক্ষমা নেই। পাকি চামচাদের কঠোর শাস্তি চাই। আসুন সবাই মিলে এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।
লেখক বলেছেন: যেখানে রাজাকার সেখানেই প্রতিরোধ - ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: ঠিক বলেছেন
অবাঞ্চিত বলেছেন:
++++++++++
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















আমার মেঝ ভাই বেলকুনিতে ঘুমন্ত অবস্থায় তার একটি চোখ হাড়িয়েছিল ঐ পাকিস্তানীদের খেলনা পিস্তলের গুলিতে (তখন একধরণের করর্কের ভেতর দ্রুত লক্ষ্য ভেদ করে এমন বারুদ সম্বলিত খেলনার গুলি ও পিস্তল দোকানে পাওয়া যেত) -বাঙ্গালীরা ওদের কাছে পানির দরে সম্পদ বিক্রী করে নাড়ির টানে এদেশে এসেছে - আমরা বাবা থাকার জন্য রিফিউজি কেম্প খ্যাত (মিরপুর বদ্ধ ভুমির পেছনে) একটি বাসার ব্যবস্থা করেন -... আমার বাবা বাড়ি কেনার জন্য মিরপুর কাজীপাড়া, ৬, ১১, ১২ নং সেকশন ঘুরে অনেক বাঙ্গালীর ঝুলন্ত লাস দেখে ছিল - আমিও দেখেছি জল্লাদখানা - টিলা বহুল এ এলাকার লোক জন চাষাবাদ করতো - ক্ষেতে খামারে মানুষের হার মাথার খুলি বন্দুকের গুলি পেত ...
স্বাধীনতাবিরোধীরা কি মানুষ!